নুরের বিশ্বাস, রাশিয়ার টিকা আনতে লাগবে তাকে

নুরের বিশ্বাস, রাশিয়ার টিকা আনতে লাগবে তাকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি নুরুল হক নুর

‘প্রথম কথা হচ্ছে, ওই কোম্পানির সঙ্গে শুরু থেকেই জাফরুল্লাহর সংযোগ ছিল। বলতে পারেন যে গণস্বাস্থ্য রাশিয়ার ভ্যাকসিনের এখানকার লোকাল এজেন্ট। এ কারণে সরকারকে যদি ভ্যাকসিন আনতে হয় তাহলে তার (জাফরুল্লাহ) সঙ্গে একটা যোগাযোগ রাখতে হবে।…‘আমি যেহেতু তাদের কার্যক্রমে ইনভলভড আছি, তাই আমিও অনেক কিছুই জানি। তাই আমি বলেছি, ভ্যাকসিন আনতে হলে আমাকে বা জাফরুল্লাহকে কন্টাক্ট করতে হবে। আমাদের বললে একটা ব্যবস্থা হতে পারে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি বা ভিপি নুরুল হক নুরের একটি দাবিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে হাস্যরস তৈরি হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী থেকে কট্টর সরকারবিরোধী অবস্থান নেয়া এই ছাত্রনেতা দাবি করেছেন, তার সহযোগিতা ছাড়া রাশিয়া থেকে সরকার করোনার টিকা আনতে পারবে না।

নুরের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ইউটিউব ও তার নিজের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে পোস্ট হয়েছে। এতে তিনি দাবি করেছেন, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং তার সহযোগিতা ছাড়া সরকার রাশিয়া থেকে টিকা আনতে পারবে না। আর সরকার চাইলে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত টিকা দিয়ে শুরু হয় গণটিকা কর্মসূচি। এই টিকা ঢাকা কিনেছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট।

সে সময় জানানো হয়েছিল, সিরাম প্রতি মাসে দেবে ৫০ লাখ করে, সব মিলিয়ে পাঠাবে ৩ কোটি ৪০ লাখ। আর বিশ্বজুড়ে টিকা বিতরণে গড়ে উঠা জোট কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া যাবে আরও সাত কোটির বেশি টিকা। ফলে টিকা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা সরকারে ছিল না।

তবে ভারতে করোনার নতুন ধরন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর সে দেশের সরকার সিরামকে টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। আর এ কারণে বাংলাদেশ সরকারও পরিকল্পনা পাল্টাতে বাধ্য হয়।

সিরামের বিকল্প হিসেবে সরকার যোগাযোগ করে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে। চীনের কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ কোটি টিকা কেনার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে রাশিয়া থেকে কত টিকা আসবে, সে বিষয়ে এখও কিছু চূড়ান্ত হয়নি।

এরই মধ্যে চীন থেকে কেনা টিকার একটি চালান ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। তবে রাশিয়া থেকে টিকার চালান এখনও আসেনি। আর সরকার দুই দেশের টিকা দেশেই উৎপাদনের যে পরিকল্পনা করছে, সেটিও চূড়ান্ত হয়নি।

রাশিয়া থেকে টিকা আনতে তাকে বা জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে কেন লাগবে, সেই প্রশ্নে নুরের কাছেই রাখে নিউজবাংলা।

জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি অনেক আগে থেকেই জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং গণস্বাস্থ্যের সাথে জড়িত। এর নানান সব কাজের সাথে জড়িত৷

“যখন ওরা (রাশিয়া) টিকা আবিষ্কার করে তখনই জাফরুল্লাহ বলেছিলেন যে, ‘আমার জন্য দুই কোটি রাখবে’ এবং জাফরুল্লাহ চৌধুরী আসলে বলতে গেলে কিছু পেমেন্টও করে রেখেছে।”

নুরের বিশ্বাস, রাশিয়ার টিকা আনতে লাগবে তাকে
সম্প্রতি জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও নুরুল হক নুর বেশ কিছু কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সরকার এটা প্রাইভেটাইজেশন করে দিয়েছে। সরকার চাইলে কিন্তু জি টু জি চুক্তি করে ভ্যাকসিন আনার সুযোগ নাই।

‘প্রথম কথা হচ্ছে, ওই কোম্পানির সঙ্গে শুরু থেকেই জাফরুল্লাহর সংযোগ ছিল। বলতে পারেন যে গণস্বাস্থ্য রাশিয়ার ভ্যাকসিনের এখানকার লোকাল এজেন্ট। এ কারণে সরকারকে যদি ভ্যাকসিন আনতে হয় তাহলে তার (জাফরুল্লাহ) সঙ্গে একটা যোগাযোগ রাখতে হবে।’

বিদেশ থেকে ওষুধ আমদানিতে বিশ্বজুড়ে যে পদ্ধতি চালু আছে, সেটি হলো স্থানীয় একটি কোম্পানিকে উৎপাদকরা লোকাল এজেন্ট বানায়। এবং এই লোকাল এজেন্টই ওষুধ আমদানির মধ্যস্ততা করে। আর কোনো সমস্যা হলে সরকার বা অন্য প্রতিষ্ঠান সেই লোকাল এজেন্টের সঙ্গেই কথা বলে।

গত জানুয়ারিতে সিরাম থেকে টিকা আনতে এই লোকাল এজেন্টের ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। সে সময় কেন বেক্সিমকোর মধ্যস্ততায় টিকা আনতে হবে, সে নিয়ে প্রশ্ন তুলে নুর সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

আবার জাফরুল্লাহ চৌধুরীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র যে রাশিয়ার টিকা স্পুৎনিক ভির উৎপাদক প্রতিষ্ঠান দেশটির গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির লোকাল এজেন্ট, এমন দাবি কখনও কেউ করেনি।

যদি সেটা হয়েও থাকে, তাহলে না নয় জাফরুল্লাহ চৌধুরীর একটি সম্পৃক্ততা থাকলে থাকতে পারে। কিন্তু আপনার কথা বলেছেন কেন?-এমন প্রশ্ন ছিল নুরের প্রতি।

এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু তাদের কার্যক্রমে ইনভলভড আছি, তাই আমিও অনেক কিছুই জানি। তাই আমি বলেছি, ভ্যাকসিন আনতে হলে আমাকে বা জাফরুল্লাহকে কন্টাক্ট করতে হবে। আমাদের বললে একটা ব্যবস্থা হতে পারে।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী তো এই দাবি করেননি, আপনি কেন এ কথা বলছেন-এমন প্রশ্নে ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, ‘আমি এটা বলছি যে দেশের বৃহত্তম স্বার্থের জন্য। মানুষের কল্যাণের জন্য। এই মুহূর্র্তে দেশের যে অবস্থা এর থেকে উত্তরণে কিন্তু ভ্যাকসিনের কোনো বিকল্প নেই। সরকার যদি তাদের রাজনৈতিক ইগো থেকে তারা যদি এই ভ্যাকসিনটাকে হাত ছাড়া করে, তাহলে দেশের জন্য চরম ক্ষতি হয়ে যাবে।’

নুরের দাবি, তাদেরকে এখনই সম্পৃক্ত করলে রাশিয়া থেকে ৮ ডলারে টিকা পাওয়া যাবে। নইলে এই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘ওই ভ্যাকসিন কোম্পানি আগে থেকেই বলেছিল যে, ২৮ জুনের মধ্যে যদি ভ্যাকসিন না নেয় তাহলে তারা তা অন্য কাউকে দিয়ে দেবে। তারপর জাফরুল্লা চৌধুরী বলেছিলেন যে, ৮/১০ দিন একটু সময় নিতে।

‘এই ৮/১০ দিনের তাও ৪/৫ দিন চলে গিয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে যে এই ৪/৫ দিনের মধ্যে সরকারের কাছ থেকে যদি কোনো পজিটিভ রেসপন্স না আসে, তাহলে ভ্যাকসিনটা অন্য কারও হাতে চলে যাবে। কারণ ওরা বাংলাদেশকে ৮ ডলারে দিতে চেয়েছিল।’

এই বক্তব্য শুনে সরকার সাড়া দেবে বলে মনে করেন কি না-এই প্রশ্নও ছিল নুরের কাছে। জবাবে তিনি নিজেই জবাব দেন নেতিবাচক।

তিনি বলেন, ‘এখন সরকার আসলে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে বা মানুষের জীবনের চেয়ে রাজনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তারা ভাবছে, জাফরুল্লাহ চৌধুরী সরকারের একজন বড় সমালোচক। সরকারের তার কাছ থেকে, তার মাধ্যমে ভ্যাকসিন নিলে এখানে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কৃতিত্ব। এই কারণে আসলে ওনারা জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে এড়িয়ে সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। কিন্তু সেটা কাজ হবে না।’

আরও পড়ুন:
নুর-রাশেদের দ্বন্দ্বের পেছনে ‘কমল বড়ুয়া’
নিজেরা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে অন্যের মুখে ছাই নুরের
রাশেদের পেছনে গোয়েন্দা, সমঝোতার আগে নুরের অভিযোগ
বিরোধ জমিয়ে নুর-রাশেদের ইউটার্ন
ছাত্র অধিকার থেকে রাশেদকে বের করে দিলেন নুর

শেয়ার করুন

মন্তব্য