বোনকে বাঁচাতে কুমিরকে ঘুষি তরুণীর

মেলিসা লরিকে (বামে) কুমিরের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন বোন জর্জিয়া লরি। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

বোনকে বাঁচাতে কুমিরকে ঘুষি তরুণীর

হ্রদে সাঁতার কাটতে নেমে কুমিরের আক্রমণের শিকার হন মেলিসা। দূর থেকে তাকে মুখ উল্টো করে পানিতে ভাসতে দেখেই অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে বলে বুঝতে পেরেছিলেন জর্জিয়া।

কুমিরের আক্রমণ থেকে বোনকে বাঁচাতে সরীসৃপটির সঙ্গেই লড়াই করেছেন এক ব্রিটিশ তরুণী। মানুষখেকো কুমিরটিকে ঘুষির পর ঘুষি মেরে বোনকে উদ্ধার করেছেন তিনি।

তবে তরুণীর চেষ্টার পরও ঝুঁকিতে আছে তার বোন। হাসপাতালে কোমায় আছেন তিনি।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কুমিরের আক্রমণের শিকার দুই তরুণী ২৮ বছর বয়সী মেলিসা ও জর্জিয়া লরি যমজ। যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ার থেকে মেক্সিকোতে যান তারা।

কুমিরের হামলাস্থল মেক্সিকোর দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে পুয়ের্তো এস্কন্দিদোর ১০ মাইল দূরের একটি হ্রদ। সেখানে যমজ বোনকে নিয়ে গিয়েছিলেন এক ট্যুর গাইড।

হ্রদে সাঁতার কাটতে নেমে কুমিরের আক্রমণের শিকার হন মেলিসা। দূর থেকে তাকে মুখ উল্টো করে পানিতে ভাসতে দেখেই অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে বলে বুঝতে পেরেছিলেন জর্জিয়া।

দক্ষ ডুবুরি জর্জিয়া দ্রুত পৌঁছে দেখেন যে মেলিসাকে একটি কুমির টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সে সময় বোনকে ছাড়াতে কুমিরটির মাথায় ঘুষি মারতে শুরু করেন জর্জিয়া।

একপর্যায়ে কুমিরের মুখ থেকে বোনকে ছুটিয়ে নৌকা পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হন জর্জিয়া। এরপর দুইজনকেই নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

চিকিৎসাধীন জর্জিয়া আঘাত পেয়েছেন হাতে। অন্যদিকে গুরুতর আহত মেলিসা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তিনি চলে গেছেন কোমায়।

তাদের বাবা শন লরি জানিয়েছেন, ডুবুরি হিসেবে জর্জিয়ার অভিজ্ঞতার কারণেই তারা বেঁচে ফিরতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ‘হ্রদের গভীরে বায়োলুমিনসেন্ট পানিতে সাঁতার কাটছিল মেলিসা ও জর্জিয়া। হঠাৎ মেলিসার চিৎকারের শব্দ শোনে জর্জিয়া। পানির নিচে তাকে খুঁজে না পেয়ে উপরে ভেসে উঠলে সেখানে মেলিসাকে উল্টো হয়ে ভাসতে দেখে জর্জিয়া।

‘বোনকে নিয়ে নৌকার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় কুমিরটি আবারও আক্রমণ চালায় তাদের ওপর। সে সময় আবারও সেটিকে মেরে তাড়ায় জর্জিয়া।’

এভাবে তিনবার কুমিরের সঙ্গে মারামারি করে মেলিসাকে বাঁচিয়েছেন তিনি।

মেক্সিকোতে প্রাণীকল্যাণ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কর্মরত মেলিসা ও জর্জিয়া ঘটনার সময় ছুটিতে ছিলেন। রোমাঞ্চপ্রেমী দুই বোন ছুটির জন্য বেছে নেন পুয়ের্তো এস্কন্দিদোরকে।

যুক্তরাজ্য থেকে যমজের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, যে হোস্টেলে থাকতেন দুই বোন, সেখান থেকেই তাদের একজন ট্যুর গাইড ঠিক করে দেয়া হয়।

বিভিন্ন সময় পর্যটকদের নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কারণে ওই ট্যুর গাইডের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব জানা ছিল না মেলিসা বা জর্জিয়ার।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে মেক্সিকোতে দুই বোনের কাছে এখনই যেতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। তাদের সার্বক্ষণিক তথ্য সরবরাহ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

আরও পড়ুন:
করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার
এবারও ডিম দিয়েছে কালাপাহাড়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন

চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন

সুজুকি জিক্সার ব্র্যান্ডের একটি চোরাই মোটরসাইকেলের ভাগ নিয়ে বিরোধে ৯৯৯ এ ফোন করা সাইদুল ইসলাম ইমরান।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিন মিলন বলেন, ‘চোরের ওপর বাটপাড়ি করতে গিয়েছিল একজন। আর তাতেই পুরো ঘটনাটি বেরিয়ে এসেছে।’

চুরি করা মোটরসাইকেলের ভাগ না পাওয়ার শঙ্কায় ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিসের নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে ফেঁসে গেছেন সাইদুল ইসলাম ইমরান নামের এক যুবক। ধরা পড়েছেন চোরাই গাড়ি কেনাবেচা চক্রটির আরও তিন সদস্যও।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিন মিলন।

তিনি বলেন, ইমরানসহ আটক চারজনের বিরুদ্ধে গাড়ি চুরির অভিযোগে মামলা হয়েছে। শনিবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে।

‘চোরের ওপর বাটপাড়ি করতে গিয়েছিল একজন। আর তাতেই পুরো ঘটনাটি বেরিয়ে এসেছে’, বলেন তিনি।

ওসি জানান, ৯৯৯-এর একটি কল পেয়ে এসআই মাইনুল ইসলাম ও এএসআই ইমদাদুল বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মোটরসাইকেল আটক করেন। এ সময়ে মোটরসাইকেলের সঙ্গে থাকা চারজনই এর মালিকানা দাবি করেন। কিন্তু কেউই সেটির মালিকানার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

আটক চারজন হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার আবদুল্লাহ আল আজাদ, মেহেদী হাসান শাকিল, নলছিটির সাইদুল ইসলাম ইমরান এবং পটুয়াখালীর বদরপুর ইউনিয়নের রিপন মৃধা।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিন জানান, পরে এই চারজন এক ব্যক্তির কাছ থেকে চোরাই গাড়ি কেনার কথা স্বীকার করেন। ওই লোককেও আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।

চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন

ওসি জানান, শুক্রবার দুপুরে চারজনে বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে গাড়ির ভাগাভাগি করছিলেন। একপর্যায়ে বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় চক্রের সদস্য আব্দুল্লাহ আল আজাদ ও মেহেদী হাসান শাকিল মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন- এমন সন্দেহে ৯৯৯-এ ফোন করেন দলেরই আরেক সদস্য সাইদুল ইসলাম ইমরান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।

ওসি আলাউদ্দিন মিলন বলেন, ‘পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাই মোটরসাইকেল কেনা-বেচায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের সঙ্গে আরও চার-পাঁচজন আছেন।’

তিনি জানান, উদ্ধারকৃত গাড়িটি প্রথম যিনি কেনেন, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ গাড়িটির প্রকৃত মালিকের সন্ধান করছে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার
এবারও ডিম দিয়েছে কালাপাহাড়

শেয়ার করুন

তিমির মুখের ভেতর থেকে ফিরলেন জেলে

তিমির মুখের ভেতর থেকে ফিরলেন জেলে

সমুদ্রবিষয়ক বিজ্ঞানীরা বলেন, পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে গিলে খাওয়া হ্যাম্পবেক তিমির পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ছবি: সংগৃহীত

৫৬ বছর বয়সী প্যাকার্ড মনে করেছিলেন, তাকে সাদা হাঙর মুখে পুরে নিয়েছে। কিন্তু তিনি অনুভব করেন সেখানে কোনো দাঁত নেই। তিনি বুঝতে পারেন তাকে হাঙর নয়, গিলে নিচ্ছে কোনো বিশালাকার তিমি। হঠাৎ বিশাল জলজপ্রাণীটি পানির উপরিভাগে আসে এবং তাকে উগরে ফেলে দিতে মাথা সজোরে ঝাঁকাতে থাকে এবং শূন্যে ছুড়ে ফেলে তাকে।

জলযান থেকে বিশেষ পোশাক পরে সমুদ্রের পানিতে ঝাঁপ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক জেলেকে মুখে পুরে নেয় এক বিশালাকার তিমি।

মাইকেল প্যাকার্ড নামের ওই লবস্টারম্যান এ সময় প্রচণ্ড ধাক্কা অনুভব করেছিলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে তিনি গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যান। ৩০-৪০ সেকেন্ড তিমির মুখগহ্বরে ছিলেন তিনি।

এ সময় ৫৬ বছর বয়সী প্যাকার্ড মনে করেছিলেন, তাকে সাদা হাঙর মুখে পুরে নিয়েছে। কিন্তু তিনি অনুভব করেন সেখানে কোনো দাঁত নেই। তিনি বুঝতে পারেন তাকে হাঙর নয়, গিলে নিচ্ছে কোনো বিশালাকার তিমি।

উপকূলবর্তী হায়ানিসের কেপ কড হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সাংবাদিকদের এমন বিরল ঘটনার বর্ণনা দেন চিংড়ি শিকারি এই জেলে।

তিনি বলেন, ‘তিমিটি আমাকে গিলে ফেলার চেষ্টা করেছিল। আমি মনে করেছিলাম, আমি মরতে যাচ্ছি। আমার স্ত্রী, ১২ ও ১৫ বছর বয়সী দুই ছেলের মুখ আমার সামনে ভেসে আসতে লাগল।

‘ঠিক সেই সময় বিশাল জলজপ্রাণীটি পানির উপরিভাগে আসে এবং আমাকে উগরে ফেলে দিতে তার মাথা সজোরে ঝাঁকাতে থাকে। আমাকে শূন্যে ছুড়ে ফেলে সে। আমি মুক্ত হয়ে যাই এবং পানিতে আছড়ে পড়ি।’

তিমির মুখের ভেতর থেকে ফিরলেন জেলে

মাইকেল প্যাকার্ড নামের ওই লবস্টারম্যান ৩০-৪০ সেকেন্ড সময় তিমির মুখগহব্বরে ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমার হাঁটু প্রাণীটি তার দন্তহীন চোয়াল দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পরে বুঝতে পারলাম, সেটা তেমন কোনো বড় ধরনের আঘাত ছিল না। কেবল কিছুটা স্থানচ্যুত হয়েছিল হাঁটু।’

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন ঘটনার বর্ণনা।

ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের প্রোভিন্সটাউনের উপকূলে স্থানীয় সময় শুক্রবার এটি ঘটেছিল। পরে ঘটনাস্থলের কাছে থেকেই জলযানে থাকা সহকর্মীরা প্যাকার্ডকে উদ্ধার করেন।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার অবস্থা ভালো ছিল এবং পানির অন্তত ২০ ফুট পর্যন্ত সূর্যের আলোয় আলোকিত ছিল।

হ্যাম্পবেক প্রজাতির এমন তিমি সর্বোচ্চ ৫০ ফুট লম্বা হয় এবং ওজন ৩৬ টন হয়ে থাকে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের তথ্যমতো এমন তিমির সংখ্যা পৃথিবীতে ৬০ হাজারের মতো।

সমুদ্রবিষয়ক বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘হ্যাম্পবেক তিমি বিশালাকার হাঁ করে অনেক পরিমাণে ছোট মাছ (বিশেষত ক্রিল) পানির সঙ্গে মুখে পুরে নেয়। প্যাকার্ডের সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা কেবল দুর্ঘটনা ছিল। বাস্তবিক পক্ষে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে গিলে খাওয়া হ্যাম্পবেক তিমির পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

৫৬ বছর বয়সী প্যাকার্ড চার দশকের বেশি সময় সমুদ্রের জলে লবস্টার শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। যদিও তার স্ত্রী বহুবার তাকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পেশা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেছেন।

আরও পড়ুন:
করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার
এবারও ডিম দিয়েছে কালাপাহাড়

শেয়ার করুন

৩ লাখ টাকার জন্য ভাঙল ৫ কোটির বাড়ি

৩ লাখ টাকার জন্য ভাঙল ৫ কোটির বাড়ি

নতুন বাড়িতে নেয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ, নতুন ছাদ তৈরিও করা হয়। আর নানা কিছু করে একেবারে নতুনের আদল দেয়া হয় বাড়িটিকে।

ইংল্যান্ডের লেস্টারের স্টোনিগেট শহরে নতুন একটি বাড়ি কেনেন জে কুর্জি। ৪০ বছর বয়সী কুর্জি বাড়ি কেনার পর তা বসবাসযোগ্য করতে এক রাজমিস্ত্রির সঙ্গে কথা বলেন।

পরে বাড়িটি মেরামত করে বাসযোগ্য করতে কাজ শুরু করেন মিস্ত্রি। বাড়ির মেরামতে কাজ সম্পন্ন করতে কুর্জির খরচ করতে হয় পাঁচ কোটি টাকার মতো।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়িটি মেরামতের কাজ শুরু করেন রাজমিস্ত্রি। বাড়িটির দোতলার সঙ্গে আরও কিছু নতুন করে কাঠামো তৈরি করেন মিস্ত্রি।

নতুন বাড়িতে নেয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ, নতুন ছাদ তৈরিও করা হয়। আর নানা কিছু করে একেবারে নতুনের আদল দেয়া হয় বাড়িটিকে।

কিন্তু নিজের মন মতো কাজ করিয়ে নিয়ে পারেননি কুর্জি। অথচ সেই মিস্ত্রি কুর্জিকে মোটা অংকের টাকার বিল ধরিয়ে দেন। কুর্জি মিস্ত্রিকে পরিশোধ করেন চার কোটি ৮৮ লাখ টাকার বেশি।

সেই মিস্ত্রি সে টাকা নেয়ার পর কুর্জির কাছে আরও তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন।

কুর্জি সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। তবে কোনোভাবেই টাকা দিতে রাজি হননি কুর্জি।

টাকা না পেয়ে প্রতিশোধ নিতে বিভিন্ন উপায় খুঁজতে থাকেন সেই মিস্ত্রি।

এর মধ্যেই সুযোগ পেয়েও যান। কুর্জি পরিবারসহ বেড়াতে যান বাড়ি থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে। সে সংবাদ জেনে লোকজন নিয়ে কুর্জির বাড়িতে হানা দেন মিস্ত্রি।

ফাঁকা বাড়ি পেয়ে ছাদ, বর্ধিত অংশসহ অনেকটাই ভেঙে দেন মিস্ত্রি।

খবর পেয়ে কুর্জি ছুটে যান পুলিশের কাছে। অভিযোগ করেন মিস্ত্রির বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ জানায়, তারা ঘটনার তদন্ত করবে।

আরও পড়ুন:
করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার
এবারও ডিম দিয়েছে কালাপাহাড়

শেয়ার করুন

১১ বছর প্রেমিকাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন যুবক

১১ বছর প্রেমিকাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন যুবক

যুবক আইলুর রহমান নিজের ঘরে ১১ বছর লুকিয়ে রেখেছিলেন প্রেমিকা সাজিতাকে। ছবি: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মা-বাবার ঘর ছাড়েন সাজিতা। পালিয়ে আশ্রয় নেন আইলুরের ঘরে। আইলুরের মা-বাবাও টের পাননি কিছু। সে সময় থানায় মেয়ে নিখোঁজ বলে সাজিতার মা-বাবা ডায়েরি করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল আইলুরকে। কিন্তু আইলুর কিছু স্বীকারও করেনি। পুলিশের অনুসন্ধানেও কিছু বের হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় মেয়েকে ভুলেই বসেছিলেন সাজিতার মা-বাবা।এভাবেই বদ্ধ ঘরে প্রায় এক যুগ পার হয়ে যায় সাজিতার।

পরিবারের কাছ থেকে লুকিয়ে ১১ বছর নিজের ঘরে প্রেমিকাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন এক যুবক। রীতিমতো সংসার পেতে বসলেও ঘুণাক্ষরেও তা টের পেতে দেননি বাড়ির বাকি সদস্যদের।

অদ্ভুত এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কেরালায়।

দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত যুবক পালাক্কাড় শহরের কাছে একটি গ্রামের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী আইলুর রহমান। তার সঙ্গে থাকছিলেন বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা প্রেমিকা ২৮ বছর বয়সী সাজিতা।

মা-বাবা, ভাইবোনের সঙ্গে যে বাড়িতে থাকতেন আলিয়ুর, সে বাড়িতেই নিজের ঘরে সাজিতাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

ঘরটি সার্বক্ষণিক বন্ধ থাকতো। আইলুর ঘরে থাকলে ভেতর থেকে, আর বাইরে গেলে তালা দিয়ে দরজা বন্ধ রাখা হতো। এভাবে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় স্বেচ্ছায় সেখানে থেকেছেন সাজিতা।

হাত-মুখ ধুতে শুধু রাতের বেলা এক বার ঘর থেকে তিনি বের হতেন সবার অলক্ষ্যে, আবার ঢুকেও যেতেন।

নিনমারা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইলুর আর সাজিতার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একে অপরকে ভালোবেসে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তারা। কিন্তু সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করতে গেলে পরিবারের বাধার মুখে পড়বেন ভেবে ভয় পেয়েছিলেন।

এ অবস্থায় ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মা-বাবার ঘর ছাড়েন সাজিতা। পালিয়ে আশ্রয় নেন আইলুরের ঘরে। আইলুরের মা-বাবাও টের পাননি কিছু।

সে সময় থানায় মেয়ে নিখোঁজ বলে সাজিতার মা-বাবা ডায়েরি করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল আইলুরকে। কিন্তু আইলুর কিছু স্বীকারও করেনি। পুলিশের অনুসন্ধানেও কিছু বের হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় মেয়েকে ভুলেই বসেছিলেন সাজিতার মা-বাবা।

এভাবেই বদ্ধ ঘরে প্রায় এক যুগ পার হয়ে যায় সাজিতার। ওই ঘরেই তাকে খাবার এনে দিতেন আইলুর। কেটে যাচ্ছিল দিন।

তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় তিন মাস আগে।

চলতি বছরের ৩ মার্চ আইলুর নিখোঁজ বলে তার মা-বাবা থানায় ডায়েরি করেন। তিন মাসেও তারা সন্ধান পাননি ছেলের।

পরিস্থিতি উল্টে যায় মঙ্গলবার যখন আইলুর রাস্তায় দেখে ফেলেন তার ভাই। তখনই চাঞ্চল্যকর মোড় নেয় পুরো ঘটনা।

দুই ভাইয়ের ঝগড়ার সময় হস্তক্ষেপ করে কাছেই টহলরত পুলিশ। ঘটনার বর্ণনা শুনে আইলুরকে থানায় নেয়া হয়। ডেকে পাঠানো হয় সাজিতাকেও।

জানা যায়, প্রেমিকাকে ১১ বছর এক ঘরে লুকিয়ে রাখতে রাখতে হতাশ আইলুর স্বস্তিতে বাঁচতেই তিন মাস আগে কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘর ছাড়েন। সঙ্গে নিয়েছিলেন সাজিতাকে।

সবার অলক্ষ্যে যখন সংসার সাজিয়ে বসেছেন, তখনই ভাই দেখে ফেলায় বাঁধে বিপত্তি।

আদালতে দাঁড়িয়ে এই যুগল জানান, বর্তমানে ভিথুনাসারি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন তারা।

একে অপরকে ভালোবেসে স্বেচ্ছায় এক সঙ্গে থাকছেন বলে আদালতকে জানানোর পর বাড়িতে ফিরতে দেয়া হয়েছে তাদের।

নিনমারা থানার উপ-পরিদর্শক কে নুফাল বলেন, ‘আইলুর-সাজিতার এ ঘটনা তাদের মা-বাবা বিশ্বাসই করতে পারছেন না। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আমরা তাদের বাড়িতে গিয়েছি, তল্লাশি চালিয়েছি, আলাদা করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। দুজনই একই গল্প বলেছে।

‘আইলুর জানিয়েছেন যে তিন মাস পর তিনি এই বাড়ি থেকে চলে যাবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু টাকার অভাবে তা ঘটেনি।’

ইচ্ছে করে নিখোঁজ হওয়ার আগে মা-বাবার কাছে পুরো বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পাগলের মতো আচরণ করতে আইলুর। মা-বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে তার কিছু ভালো লাগে না, তিনি হতাশ।

তিনি পছন্দ করতেন না বলে বাড়ির কেউ তার ঘরের আশপাশে যেতো না।

পুলিশ জানিয়েছে, আইলুরের মা-বাবাসহ নিম্নবিত্ত পরিবারের সব সদস্যই প্রতিদিন কাজের জন্য বের হতেন। কিন্তু আইলুর নিজে নিয়মিত কাজ করতেন না। রংমিস্ত্রী বা বিদ্যুৎমিস্ত্রী হিসেবে কাজ পেলে কখনো-সখনো বের হতেন তিনি। বাকি সময় নিজের ঘরেই থাকতেন।

আর সাজিতার মা-বাবা ধরেই নিয়েছিলেন যে তাদের মেয়ে মারা গেছেন।

দুটি নিখোঁজ মামলারই সমাপ্তি ঘোষণা করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার
এবারও ডিম দিয়েছে কালাপাহাড়

শেয়ার করুন

ক্লান্ত হাতিদের শান্তির ঘুম

ক্লান্ত হাতিদের শান্তির ঘুম

চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের কাছে পৌঁছেছে বুনো হাতির দলটি। ছবি: এএফপি

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন হাতির দলটি লক্ষ্য করে এগিয়ে চলেছে, সেই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টাই টেলিভিশনটিতে তাদের কর্মকাণ্ড লাইভ সম্প্রচার করা হচ্ছে।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের একদল বুনো হাতি ৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রমের পর ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের পাশে একটি বনে বিশ্রাম নেয়ার ছবি আলোড়ন তুলেছে।

হাতিগুলো এই পথ আসতে অন্তত ১০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন হাতির দলটি লক্ষ্য করে এগিয়ে চলেছে, সেই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টাই টেলিভিশনটিতে তাদের কর্মকাণ্ড লাইভ সম্প্রচার করা হচ্ছে।

ইউনান প্রদেশে ১৫ সদস্যের হাতির দলটি চলার পথে বাড়িঘর, ফসল ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলে জানায় চীন।

সোমবারের প্রকাশ করা চীনের টেলিভিশন সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছে, হাতির পালটি ক্লান্ত হয়ে প্রদেশের রাজধানী শহর কুনমিং থেকে কিছু দূরের একটি বনে শুয়ে পড়েছে।

একটি ছবিতে দেখা যায়, একটি বাচ্চা তিনটি বড় হাতির মাঝখানে দুই পা উপরের দিকে তুলে ঘুমাচ্ছে। অন্যরাও শুয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছে।

আরেকটি ছবিতে সাতটি হাতিকে একসঙ্গে পড়ে ঘুমাতে দেখা যাচ্ছে। এই ছবি নেট দুনিয়ায় অসংখ্যবার শেয়ার হয়েছে।

যখন থেকে বুনো হাতির দলটি রওনা হয়, তখন থেকেই আলোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যাত্রার ছবি হাজার হাজার শেয়ার হতে থাকে। নেট দুনিয়ায় অনেকটা আলোচনার জন্ম দেয় চীন সরকারের নেয়া পদক্ষেপেরও।

ক্লান্ত হাতিদের শান্তির ঘুম
৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রমের পর শান্তির ঘুমে বুনো হাতির দল। ছবি: এএফপি

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, হাতির দলটিকে তাদের যাত্রাপথে দেখভালের জন্য কর্তৃপক্ষ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। এ জন্য চার শতাধিক মানুষকে ভ্রাম্যমাণ হিসেবে তাদের আশপাশে থাকার জন্য নিয়োগ দিয়েছে চীন সরকার।

হাতির গতিবিধি সার্বক্ষণিক নজরে রাখতে ও টেলিভিশনে সম্প্রচার করতে ২৪ ঘণ্টা ড্রোন ব্যবহার হচ্ছে।

জনবহুল কুনমিং শহর থেকে হাতির পালটিকে দূরে রাখতে রাস্তার পাশে কনভয় ট্রাকগুলো সারিবদ্ধ করে অনেকটা ব্যারিকেড তৈরি করে রেখেছেন নিরাপত্তায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা।

ক্লান্ত হাতিদের শান্তির ঘুম
বুনো হাতির দলটির ওপর নজর রাখতে চীন সরকার চার শতাধিক লোক নিয়োগ দিয়েছে। ছবি: এএফপি

স্থানীয় সরকার গ্রামবাসীকে সতর্ক করে বলেছে, তারা যেন বাড়ির আশপাশে ভুট্টাগাছ বা অন্য কোনো ফসল না ফেলে, যেগুলো হাতিদের আকৃষ্ট করে।

কর্তৃপক্ষ হাতিদের এগোনোর সম্ভাব্য পথ থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে। সেই সঙ্গে হাতিদের এরই মধ্যে অন্তত ২০০ টন খাবার সরবরাহও করেছে।

বিশেষজ্ঞরা এখনও কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না, কেন জন্মস্থান বা মূল আবাসস্থল থেকে হাতির দলটি সরে অন্য কোথাও যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার
এবারও ডিম দিয়েছে কালাপাহাড়

শেয়ার করুন

সাক্ষ্য দিতে থানার সামনে গরু

সাক্ষ্য দিতে থানার সামনে গরু

দুই কৃষককে গ্রেপ্তারের ঘটনার সাক্ষ্য দিতে থানায় নেয়া হয় এই গরুকে। ছবি: এনডিটিভি

আন্দোলনরত কৃষকদের একজন বলেন, ‘দেশের বর্তমান সরকার নিজেদের গরু পূজারি বা গরুপ্রেমী হিসেবে দাবি করে। পবিত্র প্রাণীটিকে প্রতীক হিসেবে আমরা থানায় এনেছি। গরুটির উপস্থিতি সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় ঘটাতে পারে।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দেবে গরু। থানা প্রাঙ্গণে ছোট খুঁটিতে তাই তাকে বাঁধা হয়েছে। তার সামনে খাওয়ার জন্য পানি ও ঘাস রাখা। পাশে দাঁড়িয়ে হতভম্ব পুলিশ কর্মকর্তা।

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ফতেহাবাদ জেলায় রোববার এ বিচিত্র ঘটনা ঘটেছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফতেহাবাদের তোহানা শহরে বিধায়কের বাড়ি ঘেরাও করার অপরাধে দুই কৃষককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সাথিদের মুক্তির দাবিতে থানার বাইরে অবস্থান নেন আন্দোলনে নামা কৃষকেরা। তাদের সঙ্গে ছিল গরুটিও। কৃষকদের ভাষ্য, ওই গরু দুই কৃষককে গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রত্যক্ষ করার ৪১তম সাক্ষী।

গ্রেপ্তার কৃষকদের মুক্তির দাবিতে হরিয়ানাজুড়ে থানা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেয় সংযুক্ত কিষান মোর্চা। তবে রোববার রাতের দিকে জামিনে দুই কৃষককে মুক্তি দেয়ায় তা বাতিল করা হয়। অবশ্য তোহানায় আন্দোলন জারি থাকবে বলে জানান তারা।

কৃষকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গরুটিকে খাবার ও পানি খাওয়ানোর দায়িত্ব পুলিশ কর্মকর্তাদের।

আন্দোলনরত কৃষকদের একজন বলেন, ‘দেশের বর্তমান সরকার নিজেদের গরু পূজারি বা গরুপ্রেমী হিসেবে দাবি করে। পবিত্র প্রাণীটিকে প্রতীক হিসেবে আমরা থানায় এনেছি। গরুটির উপস্থিতি সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় ঘটাতে পারে।’

ফতেহাবাদের তোহানা শহরে থানার বাইরে অবস্থান ধর্মঘটের নেতৃত্বে ছিলেন আলোচিত কৃষক রাকেশ তিকাইত। কৃষক নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের টানা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় ফতেহাবাদে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কৃষকেরা।

বিক্ষোভের কর্মসূচি হিসেবে বুধবার হরিয়ানায় বিজেপির মিত্র সংগঠন জননায়ক জনতা পার্টির (জেজেপি) বিধায়ক দেবেন্দ্র সিং বাবলির বাসভবন ঘেরাও করেন কৃষকেরা। ওই সময় বিকাশ সিসার ও রবি আজাদ নামে দুই কৃষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ভারতের বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের নিয়ে বিধায়ক বাবলি কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সে সময় তার বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। পরে কৃষকদের নামে ‘অসংগত‘ কথা বলায় দুঃখপ্রকাশ করেন বাবলি।

আরও পড়ুন:
করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার
এবারও ডিম দিয়েছে কালাপাহাড়

শেয়ার করুন