ছাগল ছানার আট পা

ছাগল ছানার আট পা

সিদ্দিক আলী জানান, তার একটি ছাগল দুপুরে তিনটি বাচ্চা প্রসব করে। এর মধ্যে প্রথম দুটি বাচ্চা স্বাভাবিক। তবে তৃতীয় বাচ্চাটির পায়ের সংখ্যা আটটি।

পাবনার ঈশ্বরদীতে আট পায়ের একটি ছাগল ছানার জন্ম হয়েছে।

উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের আটঘরিয়া গ্রামের সিদ্দিক আলী মোল্লার বাড়িতে মঙ্গলবার দুপুরে ছাগলের বাচ্চাটির জন্ম হয়।

সিদ্দিক আলী জানান, তার একটি ছাগল দুপুরে তিনটি বাচ্চা প্রসব করে। এর মধ্যে প্রথম দুটি বাচ্চা স্বাভাবিক। তবে তৃতীয় বাচ্চাটির পায়ের সংখ্যা আটটি।

দ্বিতীয় বাচ্চাটি জন্মের কিছুক্ষণ পর মারা গেলেও আট পায়ের ছাগল ছানাটি সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন সিদ্দিক।

এদিকে আট পায়ের ছাগল ছানা জন্মের খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর কয়েক শ মানুষ ছাগলের বাচ্চাটি দেখতে দুপুর থেকেই সিদ্দিকের বাড়ি ভিড় জমান।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, গর্ভধারণের সময় একাধিক শুক্রানু গর্ভাশয়ে প্রবেশ করার ফলে এমন অস্বাভাবিক বাচ্চার জন্ম নেয়। এ ধরনের বাচ্চা অনেক সময় জন্মের পরপরই মারা যায়। কিছু বাচ্চা বেঁচে গেলেও কিছু দিনের ব্যবধানে মারা যায়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বেশি সন্তান জন্ম দিলে পাবেন লাখ টাকা

বেশি সন্তান জন্ম দিলে পাবেন লাখ টাকা

মিজোরামে সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দিতে লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দিলে লাখ টাকা প্রণোদনার পাশাপাশি দম্পতিকে সনদ ও ট্রফি দেয়া হবে।

যারা সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেবেন সেই পিতা-মাতাকে উৎসাহিত করতে এক লাখ টাকা করে প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মিজোরামের এক মন্ত্রী।

ভৌগোলিকভাবে ক্ষুদ্র মিজো সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে উৎসাহ দিতেই এমন ঘোষণা দেন তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মিজোরামের ক্রীড়ামন্ত্রী রবার্ট রোমাভিয়া রয়তে অবশ্য তার ঘোষণায় সন্তান জন্মের সর্বনিম্ন সংখ্যা উল্লেখ করেননি।

ঘোষণাটি এমন একসময় এলো যখন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে রাজ্যসরকারগুলো। এমনকি স্থানীয় সরকারগুলো বিষয়টি নিয়ে নীতিমালাও প্রকাশ করছে।

বিশ্ব বাবা দিবসে রোববার রয়তে ঘোষণা দেন, তার আইজোয়াল পশ্চিম-১ সংসদীয় এলাকায় যেসব নারী-পুরুষ বাস করেন তাদের এই এক লাখ টাকার প্রণোদনা দেবেন।

পরের দিন সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, বেশি সন্তান জন্ম দেয়া দম্পতিকে প্রণোদনার পাশাপাশি সনদ ও ট্রফিও দেয়া হবে।

এই প্রণোদনার ব্যয় বহন করবে রয়েতের ছেলের একটি নির্মাণ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।

মন্ত্রী রয়তে বলেন, ‘মিজো সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধ্যত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে কমে যাচ্ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার; এটা খুব উদ্বেগের।

‘মিজোরামে জন্মহার অব্যাহতভাবে নিম্নমুখী। তাই বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে যে পরিমাণ লোকবল দরকার, তা থেকে অনেক পিছিয়ে মিজোরাম। কম জনসংখ্যা খুব গুরুতর একটি সমস্যা। বিশেষ করে মিজোদের মতো নৃগোষ্ঠী ও অন্য ক্ষুদ্র সম্প্রদায়গুলোর উন্নয়ন, এমনকি অস্তিত্বরক্ষার পথেও বড় বাধা এটি।’

মিজোরামে বিভিন্ন মিজো উপজাতীর বসবাস।

মন্ত্রী জানান, ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশন, কিছু গির্জা, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন সংস্থাও সেখানে জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য অন্তত একটি করে সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করতে প্রচার চালাচ্ছে।

২০১১ সালের আদমশুমারির হিসাবে মিজোরামের জনসংখ্যা ১০ লাখ ৯১ হাজার ১৪ জন। রাজ্যটির আয়তন ২১ হাজার ৮৭ বর্গকিলোমিটার।

সেখানে গড়ে ৫২ জন লোক প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করেন। অরুণাচল প্রদেশের পর মিজোরাম দেশটির দ্বিতীয় কম জনঘনত্বের রাজ্য। অরুণাচলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করেন মাত্র ১৭ জন। আর পুরো ভারতে গড়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করেন ৩৮২ জন করে।

মিজোরামের পাশের রাজ্য অসমেই আবার ঠিক উল্টো চিত্র। অসমের মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি রাজ্যটিতে জনসংখ্যা কমাতে দুইয়ের অধিক সন্তান জন্মদানে নিরুৎসাহিত করার কথাও জানান। এমনকি দুই সন্তানের বেশি হলে তাদের সরকারি সুবিধা বন্ধ করে দেয়ার কথাও জানানো হয়।

২০১৯ সালে অসম রাজ্য প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রাজ্যটিতে কোনো পরিবার থেকে দুইয়ের অধিক সন্তান সরকারি চাকরির সুযোগ পাবে না।

শেয়ার করুন

বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ

বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ

মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে বেসরকারি সংস্থা এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের কর্মকর্তা তাজকিয়া দিলরুবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থানায় করা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আমরা বুধবার সকাল ১১টার দিকে বসব পল্লবী থানা পুলিশের সঙ্গে। এ সময় পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকেও ডাকা হবে।’

রাজধানীর পল্লবী থানায় বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগে করা দুটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পক্ষকে ডেকেছে পুলিশ।

এক পক্ষে আছেন, অভিযুক্ত বিড়ালের কর্মকাণ্ড নিয়ে পরিচালিত ফেসবুক-ইউটিউব চ্যানেল ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী দাশ। আরেক পক্ষে আছেন, বেসরকারি সংস্থা এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দ্বীপান্বিতা রীদি।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থানায় করা দুটি লিখিত অভিযোগের তদন্ত করছেন এসআই শরিফুল ইসলাম। তদন্তের স্বার্থেই তিনি মিরপুর ডিওএইচএসের পরিষদে দুই পক্ষকে ডেকেছেন। আশা করছি বিড়াল নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি হবে।’

মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে বেসরকারি সংস্থা এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের কর্মকর্তা তাজকিয়া দিলরুবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থানায় করা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আমরা বুধবার সকাল ১১টার দিকে বসব পল্লবী থানা পুলিশের সাথে। এ সময় পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকেও ডাকা হবে।’

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রীদির সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ১৩ জুন পল্লবী থানায় করা দুটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাপসী দাশের ডিওএইচএসের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিষ্ঠুরতার শিকার বিড়ালগুলোকে উদ্ধার করার কথা ছিল।

কিন্তু অভিযান পরিচালনার আগে ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন আছে জানিয়ে অভিযান পরিচালনা করেনি পুলিশ। তা ছাড়া ওইদিনই থানায় অভিযোগের খবর পেয়ে তাপসী দাশ দুটি বিড়াল নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। সেসংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রচার করে বলেন, তারা ঢাকার বাইরে ঘুরতে গেছেন। তারপর থেকে বাসায় ফেরেননি। এ জন্য বিড়ালগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এই প্রসঙ্গে জানতে ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী দাশ ও তার স্বামী পার্থ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে নিউজবাংলা। তাদের ফোন সচল থাকলেও তারা কেউই ফোন ধরেননি।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক - ইউটিউবে বিড়ালের নানা কর্মকান্ডের ভিডিও প্রচার নিয়ে আলোচিত- সমালোচিত 'পুচি ফ্যামিলি' র তাপসী দাশের বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগে গত ১৩ জুন পল্লবী থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের তাজকিয়া দিলরুবা ও বিড়ালপ্রেমী আরেক নারী। ওই দুটি লিখিত অভিযোগে বিড়ালের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়।

বলা হয়, তাপসী দাশ ভিডিও করার সময় এক বিড়ালের মূত্র আরেক বিড়ালকে দিয়ে পান করান। ছোট ছোট বিড়াল ছানার লেজ কিংবা গলায় ধরে টান মারেন। অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করেন। সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে অনেক বিড়ালের মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগও আনা হয়েছে তাপসীর বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া আরেকজনের বিড়াল আটকে রেখে ফিরিয়ে না দিয়ে বিড়াল পালকের চরিত্র নিয়েও বাজে মন্তব্য করেন তার ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের লাইভে।

পুচি ফ্যামিলির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টার বলছে, তাপসী দাশ ফেসবুকে বিড়ালকে নিয়ে যাচ্ছেতাই আচরণ করে থাকেন। নির্মম আচরণের ভিডিও ধারণ করে তার প্রায় ৯ লাখ ফেসবুক ফলোয়ার ও দেড় লাখ ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারকে নিষ্ঠুরতা শেখাচ্ছেন। এদিক থেকে আইসিটি অ্যাক্টেও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।

তাপসীর নিষ্ঠুরতার উদাহরণ দিতে গিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রিদি বলেন, এক বিড়ালের মূত্র মেশানো পানি আরেক বিড়ালকে পান করানো হয়। এটি খুবই অস্বাস্থ্যকর। শুধু ভিডিও বানানোর জন্য তিনি চরম অস্বাস্থ্যকর ও নির্মমতার আশ্রয় নিয়ে থাকেন।

তাপসী দাশ মাছের নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার না করে কেবল সেদ্ধ করে বিড়ালকে খাওয়ান। এভাবে খাওয়াতে উৎসাহ দেন অনুসারীদের। এতে বিড়ালের বদহজম, ডায়রিয়া ও পেটে ক্রিমি জন্ম নেয়ার শঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া তার অনেক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি প্রায়ই বিড়ালের ছোট ছোট বাচ্চার লেজ বা গলা ধরে টান মারেন। এতে ছানাদের মেরুদণ্ড থেকে লেজ আলাদা হয়ে যেতে পারে। সেটা জোড়া লাগানোর চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। ফলে বিড়াল সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

তার দেখাদেখি অনুসারীরাও এসব শিখছেন এবং বিড়ালের ওপর এমন নিষ্ঠুর আচরণ করছেন। এসবের প্রমাণও আছে। তার ভিডিওতে ক্রমাগত মেটিংকে (মিলন) উৎসাহ দেয়া হয়। কীভাবে মেটিং করাতে হয় তার প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন তিনি। তবে টানা মেটিংয়ের ফলে মরণব্যাধি হওয়ার শঙ্কা থাকে বিড়ালের।

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রিদি আরও অভিযোগ করেন, ‘পিওর পার্শিয়ান বিড়ালগুলোর কখনোই স্পে, নিউটার করান না তাপসী দাশ। কিন্তু ফলোয়ারদের দেখান, তিনি স্টেরিলাইজেশন করান। এভাবে তিনি তার অনুসারীদের ভুল ধারণা দেন। এ ছাড়া ব্রিডিং করে পিওর ব্রিড বলে মিক্সড ব্রিড সেল করেন বিড়ালপ্রেমীদের কাছে। এভাবে অনেক মানুষ তার মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।’

তিনি বলেন, তাপসী যেসব টিস্যু দিয়ে বিড়ালের মূত্র পরিষ্কার করেন, সেগুলো দিয়েই বিড়ালের মুখ পরিষ্কার করেন। এ ছাড়া ছোট ছোট বাচ্চাকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করিয়ে অনেক ছানার মৃত্যু ঘটিয়েছেন তাপসী দাশ।

বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ

‘আলো’র বিরুদ্ধে অপয়া অপবাদ! কী হয়েছিল আলোর?

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের কর্মী ও প্রাণিপ্রেমিকরা নিউজবাংলাকে বলছেন, আলো নামের একটি অন্ধ বিড়াল ছিল তাপসী দাশের কাছে। সেটির সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণিপ্রেমীদের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেন তাপসী। আলোকে মেন্টাল টর্চার করা হয়।

তাপসীর হেফাজতে থাকা যত বিড়াল মারা যায়, তার সব দায় চাপানো হয় আলো নামের এই বিড়ালের ওপর।

তাপসী দাশের ফেসবুক লাইভে ভেটেরেনারি চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলা হয়, আলো এমন এক অসুখ বহন করে, যার জন্য আলো সুস্থ থাকলেও আশপাশের সবাই মারা যায়। যদিও চিকিৎসককে বলতে শোনা গেছে, আলোর পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব না তার থেকে অসুখ ছড়িয়েছে কি না।

বিড়ালপ্রেমীদের দাবি, আলোকে কোনো রকম চেকআপ করানো হয়নি। অনেকেই আলোর চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাপসী দেননি। শুধু তা-ই নয়, আলোকে তার আসল মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার পর সেই মালিককে পুচি ফ্যামিলি থেকে ভয় দেখানো হয়েছিল, যাতে কোনো চিকিৎসা না করান। একপর্যায়ে আলো মারা যায়।

বিড়ালপ্রেমীরা জানান, পুচি ফ্যামিলি থেকে আলোর ব্যাপারে যা যা বলা হয়েছে, তার বেশির ভাগই মিথ্যা। তাপসী দাশ টেস্ট না করিয়েই সবকিছু বলেছেন। আলোর মৃত্যুর জন্য তাপসী দাশ দায়ী এবং অবশ্যই এটা অ্যানিমেল অ্যাবিউস ও ক্রুয়েলটি।

পুচি ফ্যামিলি পেজের স্বত্বাধিকারীর বক্তব্য

পুচি ফ্যামিলি পেজের মালিক তাপসী দাশের স্বামী পার্থ চৌধুরী। তাপসী দাশের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন তিনি।

পার্থ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনারা আমাদের ভিডিওগুলো দেখেন। একেবারে স্বচ্ছ। আমার স্ত্রী তাপসী দাশ অনেক আগে থেকেই বিড়াল পালন করে। কয়েকজনের পরামর্শে পেজ খোলে। অল্প সময়ের মধ্যে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ফলোয়ার হয়েছে। এটা অনেকেরই পছন্দ হচ্ছে না।

‘তাপসী একটি লাইভে এক হাতে মোবাইল ফোন ধরে রাখার কারণে আরেক হাত দিয়ে বিড়ালের লেজ বা গলা ধরেছিল। এটা অনেক আগের ঘটনা। সামুদ্রিক মাছ সেদ্ধ করে কাঁটা ছাড়িয়ে বিড়ালকে খাবার দেয়া হয়। কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার দেয়া হয় না। নির্যাতনও করা হয় না।’

থানার পুলিশের কাছে করা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পার্থ দাশ বলেন, ‘ওরা যদি মামলা করে, আমরাও আইনজীবী নিয়োগ করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

শেয়ার করুন

করোনা টিকার প্রতিক্রিয়া নিয়ে অদ্ভুত দাবি

করোনা টিকার প্রতিক্রিয়া নিয়ে অদ্ভুত  দাবি

করোনা টিকা নেয়ার পর শরীর চুম্বকক্ষেত্র হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কলকাতার বেশ কয়েকজন।

ভারতের মহারাষ্ট্রের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় তেমন ম্যাগনেট ম্যানের সন্ধান মিলেছে। করোনার টিকা নেয়ার পর শরীরে আটকে যাচ্ছে হাতা, খুন্তি, চামচ, যেকোনো লোহার বস্তু, এমনই চাঞ্চল্যকর তাদের দাবি।

করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার পর ভারতের বেশ কিছু মানুষের শরীর চুম্বকের মতো হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বেশ কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে শরীরে লোহার বিভিন্ন সরঞ্জাম আটকে থাকার।

ভারতের মহারাষ্ট্রের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় তেমন ম্যাগনেট ম্যানের সন্ধান মিলেছে। করোনার টিকা নেয়ার পর শরীরে আটকে যাচ্ছে হাতা, খুন্তি, চামচ, যেকোনো লোহার বস্তু, এমনই চাঞ্চল্যকর তাদের দাবি।

সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নাসিকে এক ব্যক্তি দাবি করেন, করোনা টিকা নিয়ে তার শরীর চুম্বক হয়ে গেছে। বাড়িতে বসে সেই খবর দেখছিলেন শিলিগুড়ির বাসিন্দা নেপাল চক্রবর্তী। খবর দেখে, কৌতূহলবশত ৭ জুন করোনা টিকা নেয়া নেপাল নিজের বুকে একটা চামচ ঠেকাতেই দেখেন, তা শরীরে আটকে যাচ্ছে। এরপর হাতা, খুন্তি, খুচরা পয়সা, যেকোনো লোহার বস্তু শরীরে ঠেকালেই তা আটকে যাচ্ছে তার।

বিস্মিত নেপাল সেই দৃশ্য ভিডিও করে আত্মীয়দের পাঠাতেই শোরগোল পড়ে যায়।

নেপাল জানিয়েছেন, টিকা নেয়ার পর তার জ্বর, গা-হাত-পা ব্যথা কিছু হয়নি। সব আগের মতো স্বাভাবিক। শুধু শরীর হয়ে গেছে চুম্বক।

পরে নেপালকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

করোনা টিকার প্রতিক্রিয়া নিয়ে অদ্ভুত  দাবি
ভারতের মহারাষ্ট্রের পর পশ্চিমবঙ্গেও বেশ কয়ে ব্যক্তির শরীর চুম্বকক্ষেত্র হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

একই রকম ঘটনা ঘটেছে আসানসোল, বসিরহাট, পলাশীপাড়ায়। আসানসোল পৌরসভার কর্মী, সুকান্তপল্লির বাসিন্দা ২৭ বছরের অঙ্কুশের দাবি, ৮ জুন করোনার টিকা নেয়ার পর নাসিকের ঘটনা পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, তার শরীরেও আটকে যাচ্ছে হাতা, খুন্তি, খুচরা পয়সা, গাড়ির চাবি যেকোনো লোহার জিনিস।

বসিরহাটের ম্যাগনেট ম্যানের নাম শংকর প্রামানিক। হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের মামুদপুর এলাকার বাসিন্দা, দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী শঙ্করেরও টিকা নেয়ার পর শরীর চুম্বকে পরিণত হয়েছে বলে দাবি। শরীরে আটকে যাচ্ছে যেকোনো লোহার বস্তু।

ম্যাগনেট ম্যানের খোঁজ মিলেছে নদীয়ার পলাশীপাড়া থানা এলাকায়। সেখানেও আশ্চর্যজনকভাবে শরীর চৌম্বকীয় শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। শরীরে আটকে যাচ্ছে যেকোনো লোহার জিনিস।

আজব এই খবরে স্বাভাবিকভাবে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, কোনোভাবেই এটা সম্ভব নয়। টিকার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

আবার কিছু চিকিৎসক এটা টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিনা, সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

কেউ আবার দাবি করেছেন, টিকা নেয়ার পর একেকজনের শরীরে একেক রকম সমস্যা হতে পারে। পরীক্ষা করে নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলা যায় না।

করোনা রুখতে টিকার কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান চিকিৎসকরা।

দেশের কোটি কোটি মানুষ টিকা নিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। টিকা নেয়াতে ভয়ের কিছু নেই বলেও আশ্বস্ত করেন চিকিৎসকরা।

শেয়ার করুন

‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ

‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ

অভিযোগকারীরা রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসে তাপসী দাশের বাসায় অভিযান চালিয়ে সেখানে থাকা বিড়ালগুলোকে তার কবল থেকে বাঁচানোর অনুরোধ করেছেন। তাপসীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তারা বলছেন, পুচি ফ্যামিলির ফেসবুক পেজে ফলোয়ার প্রায় ৯ লাখ। ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার আছে ১ লাখ ৪০ হাজার। এসব ফলোয়ারকে ভুল তথ্য দিয়ে বিড়ালের প্রতি নিষ্ঠুরতা শেখাচ্ছেন তাপসী দাশ।

বিড়ালদের নিয়ে ফেসবুক-ইউটিউবে আলোচিত ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী দাশের বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। বিড়ালপ্রেমীদের চরিত্র নিয়ে কুৎসা রটনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ জানিয়ে মামলার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে লিখিত আবেদনও জমা পড়েছে।

অভিযোগকারীরা রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসে তাপসী দাশের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে সেখানে থাকা বিড়ালগুলোকে তার কবল থেকে বাঁচানোর অনুরোধ করেছেন। তাপসীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তারা বলছেন, পুচি ফ্যামিলির ফেসবুক পেজে ফলোয়ার প্রায় ৯ লাখ। ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার আছে ১ লাখ ৪০ হাজার। এসব ফলোয়ারকে ভুল তথ্য দিয়ে বিড়ালের প্রতি নিষ্ঠুরতা শেখাচ্ছেন তাপসী দাশ।

তাপসীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে প্রাণীদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারও। সংস্থাটির কর্মীরা নিষ্ঠুরতার শিকার প্রাণীদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে সারিয়ে তোলেন।

সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রিদি রোববার নিউজবাংলাকে জানান, পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশের ডিওএইচএসের বাসায় অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। এই বাসায় অভিযান পরিচালনার আগে পরিষদের অনুমতি নিতে হয়। সেটার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। থানা-পুলিশের কাছে আগেই অভিযোগ করা হয়েছে।

‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের লিখিত অভিযোগ

রোববার এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের পক্ষে তাজকিয়া দিলরুবা পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে তাপসী দাশ বিড়ালদের নিয়ে ফানি ভিডিও তৈরির নামে অ্যানিমেল অ্যাবিউজ অ্যাক্টের যত ধারা আছে, সব ধারাতেই অপরাধ করে যাচ্ছেন। অভিযোগে বিষয়টির আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিড়াল ফিরে পেতে পুলিশের দারস্থ মনিরা

রোববারই মনিরা আক্তার নামে এক নারী তার বিড়াল ফিরে পেতে পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ

এতে তিনি বলেছেন, ‘২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি পুচি ফ্যামিলি নামের ফেসবুক পেজের মালিক মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসিন্দা তাপসীর কাছে আমার এক মাস বয়সী বিড়ালছানাকে লালন-পালনের জন্য দিই। তাপসী ফেসবুক লাইভে এসে আমার বিড়ালছানাটিসহ অন্য বিড়ালছানাদের মারধর করে আসছেন। বিষয়টি দেখে তাপসীর কাছে আমার বিড়ালছানাটি ফেরত দিতে বলি। তিনি না দিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, চরিত্র নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন।’

‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ

পুচি ফ্যামিলির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টার বলছে, তাপসী দাশ ফেসবুকে বিড়ালকে নিয়ে যাচ্ছেতাই আচরণ করে থাকেন। নির্মম আচরণের ভিডিও ধারণ করে তার প্রায় ৯ লাখ ফেসবুক ফলোয়ার ও দেড় লাখ ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারকে নিষ্ঠুরতা শেখাচ্ছেন। এদিক থেকে আইসিটি অ্যাক্টেও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।

তাপসীর নিষ্ঠুরতার উদাহরণ দিতে গিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রিদি বলেন, এক বিড়ালের মূত্র মেশানো পানি আরেক বিড়ালকে পান করানো হয়। এটি খুবই অস্বাস্থ্যকর। শুধু ভিডিও বানানোর জন্য তিনি চরম অস্বাস্থ্যকর ও নির্মমতার আশ্রয় নিয়ে থাকেন।

তাপসী দাশ মাছের নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার না করে কেবল সেদ্ধ করে বিড়ালকে খাওয়ান। এভাবে খাওয়াতে উৎসাহ দেন অনুসারীদের। এতে বিড়ালের বদহজম, ডায়রিয়া ও পেটে ক্রিমি জন্ম নেয়ার শঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া তার অনেক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি প্রায়ই বিড়ালের ছোট ছোট বাচ্চার লেজ বা গলা ধরে টান মারেন। এতে ছানাদের মেরুদণ্ড থেকে লেজ আলাদা হয়ে যেতে পারে। সেটা জোড়া লাগানোর চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। ফলে বিড়াল সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

তার দেখাদেখি অনুসারীরাও এসব শিখছেন এবং বিড়ালের ওপর এমন নিষ্ঠুর আচরণ করছেন। এসবের প্রমাণও আছে। তার ভিডিওতে ক্রমাগত মেটিংকে (মিলন) উৎসাহ দেয়া হয়। কীভাবে মেটিং করাতে হয় তার প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন তিনি। তবে টানা মেটিংয়ের ফলে মরণব্যাধি হওয়ার শঙ্কা থাকে বিড়ালের।

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রিদি আরও অভিযোগ করেন, ‘পিওর পার্শিয়ান বিড়ালগুলোর কখনোই স্পে, নিউটার করান না তাপসী দাশ। কিন্তু ফলোয়ারদের দেখান, তিনি স্টেরিলাইজেশন করান। এভাবে তিনি তার অনুসারীদের ভুল ধারণা দেন। এ ছাড়া ব্রিডিং করে পিওর ব্রিড বলে মিক্সড ব্রিড সেল করেন বিড়ালপ্রেমীদের কাছে। এভাবে অনেক মানুষ তার মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।’

তিনি বলেন, তাপসী যেসব টিস্যু দিয়ে বিড়ালের মূত্র পরিষ্কার করেন, সেগুলো দিয়েই বিড়ালের মুখ পরিষ্কার করেন। এ ছাড়া ছোট ছোট বাচ্চাকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করিয়ে অনেক ছানার মৃত্যু ঘটিয়েছেন তাপসী দাশ।

‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ

‘আলো’র বিরুদ্ধে অপয়া অপবাদ! কী হয়েছিল আলোর?

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের কর্মী ও প্রাণিপ্রেমিকরা নিউজবাংলাকে বলছেন, আলো নামের একটি অন্ধ বিড়াল ছিল তাপসী দাশের কাছে। সেটির সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণিপ্রেমীদের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেন তাপসী। আলোকে মেন্টাল টর্চার করা হয়।

তাপসীর হেফাজতে থাকা যত বিড়াল মারা যায়, তার সব দায় চাপানো হয় আলো নামের এই বিড়ালের ওপর।

তাপসী দাশের ফেসবুক লাইভে ভেটেরেনারি চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলা হয়, আলো এমন এক অসুখ বহন করে, যার জন্য আলো সুস্থ থাকলেও আশপাশের সবাই মারা যায়। যদিও চিকিৎসককে বলতে শোনা গেছে, আলোর পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব না তার থেকে অসুখ ছড়িয়েছে কি না।

আরও পড়ুন: বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ, দুই পক্ষকে ডেকেছে পুলিশ

বিড়ালপ্রেমীদের দাবি, আলোকে কোনো রকম চেকআপ করানো হয়নি। অনেকেই আলোর চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাপসী দেননি। শুধু তা-ই নয়, আলোকে তার আসল মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার পর সেই মালিককে পুচি ফ্যামিলি থেকে ভয় দেখানো হয়েছিল, যাতে কোনো চিকিৎসা না করান। একপর্যায়ে আলো মারা যায়।

বিড়ালপ্রেমীরা জানান, পুচি ফ্যামিলি থেকে আলোর ব্যাপারে যা যা বলা হয়েছে, তার বেশির ভাগই মিথ্যা। তাপসী দাশ টেস্ট না করিয়েই সবকিছু বলেছেন। আলোর মৃত্যুর জন্য তাপসী দাশ দায়ী এবং অবশ্যই এটা অ্যানিমেল অ্যাবিউস ও ক্রুয়েলটি।

পুচি ফ্যামিলি পেজের স্বত্বাধিকারীর বক্তব্য

পুচি ফ্যামিলি পেজের মালিক তাপসী দাশের স্বামী পার্থ চৌধুরী। তাপসী দাশের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন তিনি।

পার্থ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনারা আমাদের ভিডিওগুলো দেখেন। একেবারে স্বচ্ছ। আমার স্ত্রী তাপসী দাশ অনেক আগে থেকেই বিড়াল পালন করে। কয়েকজনের পরামর্শে পেজ খোলে। অল্প সময়ের মধ্যে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ফলোয়ার হয়েছে। এটা অনেকেরই পছন্দ হচ্ছে না।

‘তাপসী একটি লাইভে এক হাতে মোবাইল ফোন ধরে রাখার কারণে আরেক হাত দিয়ে বিড়ালের লেজ বা গলা ধরেছিল। এটা অনেক আগের ঘটনা। সামুদ্রিক মাছ সেদ্ধ করে কাঁটা ছাড়িয়ে বিড়ালকে খাবার দেয়া হয়। কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার দেয়া হয় না। নির্যাতনও করা হয় না।’

থানার পুলিশের কাছে করা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পার্থ দাশ বলেন, ‘ওরা যদি মামলা করে, আমরাও আইনজীবী নিয়োগ করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

পুলিশের বক্তব্য

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিড়াল নির্যাতন নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু ঘটনাস্থল ডিওএইচএস এলাকা, তাই সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে অভিযোগটি পোষ্য প্রাণী রক্ষা বা নিরাপত্তা আইনে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।’

শেয়ার করুন

চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন

চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন

সুজুকি জিক্সার ব্র্যান্ডের একটি চোরাই মোটরসাইকেলের ভাগ নিয়ে বিরোধে ৯৯৯ এ ফোন করা সাইদুল ইসলাম ইমরান।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিন মিলন বলেন, ‘চোরের ওপর বাটপাড়ি করতে গিয়েছিল একজন। আর তাতেই পুরো ঘটনাটি বেরিয়ে এসেছে।’

চুরি করা মোটরসাইকেলের ভাগ না পাওয়ার শঙ্কায় ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিসের নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে ফেঁসে গেছেন সাইদুল ইসলাম ইমরান নামের এক যুবক। ধরা পড়েছেন চোরাই গাড়ি কেনাবেচা চক্রটির আরও তিন সদস্যও।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিন মিলন।

তিনি বলেন, ইমরানসহ আটক চারজনের বিরুদ্ধে গাড়ি চুরির অভিযোগে মামলা হয়েছে। শনিবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে।

‘চোরের ওপর বাটপাড়ি করতে গিয়েছিল একজন। আর তাতেই পুরো ঘটনাটি বেরিয়ে এসেছে’, বলেন তিনি।

ওসি জানান, ৯৯৯-এর একটি কল পেয়ে এসআই মাইনুল ইসলাম ও এএসআই ইমদাদুল বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মোটরসাইকেল আটক করেন। এ সময়ে মোটরসাইকেলের সঙ্গে থাকা চারজনই এর মালিকানা দাবি করেন। কিন্তু কেউই সেটির মালিকানার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

আটক চারজন হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার আবদুল্লাহ আল আজাদ, মেহেদী হাসান শাকিল, নলছিটির সাইদুল ইসলাম ইমরান এবং পটুয়াখালীর বদরপুর ইউনিয়নের রিপন মৃধা।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিন জানান, পরে এই চারজন এক ব্যক্তির কাছ থেকে চোরাই গাড়ি কেনার কথা স্বীকার করেন। ওই লোককেও আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।

চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন

ওসি জানান, শুক্রবার দুপুরে চারজনে বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে গাড়ির ভাগাভাগি করছিলেন। একপর্যায়ে বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় চক্রের সদস্য আব্দুল্লাহ আল আজাদ ও মেহেদী হাসান শাকিল মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন- এমন সন্দেহে ৯৯৯-এ ফোন করেন দলেরই আরেক সদস্য সাইদুল ইসলাম ইমরান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।

ওসি আলাউদ্দিন মিলন বলেন, ‘পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাই মোটরসাইকেল কেনা-বেচায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের সঙ্গে আরও চার-পাঁচজন আছেন।’

তিনি জানান, উদ্ধারকৃত গাড়িটি প্রথম যিনি কেনেন, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ গাড়িটির প্রকৃত মালিকের সন্ধান করছে বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন

তিমির মুখের ভেতর থেকে ফিরলেন জেলে

তিমির মুখের ভেতর থেকে ফিরলেন জেলে

সমুদ্রবিষয়ক বিজ্ঞানীরা বলেন, পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে গিলে খাওয়া হ্যাম্পবেক তিমির পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ছবি: সংগৃহীত

৫৬ বছর বয়সী প্যাকার্ড মনে করেছিলেন, তাকে সাদা হাঙর মুখে পুরে নিয়েছে। কিন্তু তিনি অনুভব করেন সেখানে কোনো দাঁত নেই। তিনি বুঝতে পারেন তাকে হাঙর নয়, গিলে নিচ্ছে কোনো বিশালাকার তিমি। হঠাৎ বিশাল জলজপ্রাণীটি পানির উপরিভাগে আসে এবং তাকে উগরে ফেলে দিতে মাথা সজোরে ঝাঁকাতে থাকে এবং শূন্যে ছুড়ে ফেলে তাকে।

জলযান থেকে বিশেষ পোশাক পরে সমুদ্রের পানিতে ঝাঁপ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক জেলেকে মুখে পুরে নেয় এক বিশালাকার তিমি।

মাইকেল প্যাকার্ড নামের ওই লবস্টারম্যান এ সময় প্রচণ্ড ধাক্কা অনুভব করেছিলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে তিনি গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যান। ৩০-৪০ সেকেন্ড তিমির মুখগহ্বরে ছিলেন তিনি।

এ সময় ৫৬ বছর বয়সী প্যাকার্ড মনে করেছিলেন, তাকে সাদা হাঙর মুখে পুরে নিয়েছে। কিন্তু তিনি অনুভব করেন সেখানে কোনো দাঁত নেই। তিনি বুঝতে পারেন তাকে হাঙর নয়, গিলে নিচ্ছে কোনো বিশালাকার তিমি।

উপকূলবর্তী হায়ানিসের কেপ কড হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সাংবাদিকদের এমন বিরল ঘটনার বর্ণনা দেন চিংড়ি শিকারি এই জেলে।

তিনি বলেন, ‘তিমিটি আমাকে গিলে ফেলার চেষ্টা করেছিল। আমি মনে করেছিলাম, আমি মরতে যাচ্ছি। আমার স্ত্রী, ১২ ও ১৫ বছর বয়সী দুই ছেলের মুখ আমার সামনে ভেসে আসতে লাগল।

‘ঠিক সেই সময় বিশাল জলজপ্রাণীটি পানির উপরিভাগে আসে এবং আমাকে উগরে ফেলে দিতে তার মাথা সজোরে ঝাঁকাতে থাকে। আমাকে শূন্যে ছুড়ে ফেলে সে। আমি মুক্ত হয়ে যাই এবং পানিতে আছড়ে পড়ি।’

তিমির মুখের ভেতর থেকে ফিরলেন জেলে

মাইকেল প্যাকার্ড নামের ওই লবস্টারম্যান ৩০-৪০ সেকেন্ড সময় তিমির মুখগহব্বরে ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমার হাঁটু প্রাণীটি তার দন্তহীন চোয়াল দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পরে বুঝতে পারলাম, সেটা তেমন কোনো বড় ধরনের আঘাত ছিল না। কেবল কিছুটা স্থানচ্যুত হয়েছিল হাঁটু।’

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন ঘটনার বর্ণনা।

ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের প্রোভিন্সটাউনের উপকূলে স্থানীয় সময় শুক্রবার এটি ঘটেছিল। পরে ঘটনাস্থলের কাছে থেকেই জলযানে থাকা সহকর্মীরা প্যাকার্ডকে উদ্ধার করেন।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার অবস্থা ভালো ছিল এবং পানির অন্তত ২০ ফুট পর্যন্ত সূর্যের আলোয় আলোকিত ছিল।

হ্যাম্পবেক প্রজাতির এমন তিমি সর্বোচ্চ ৫০ ফুট লম্বা হয় এবং ওজন ৩৬ টন হয়ে থাকে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের তথ্যমতো এমন তিমির সংখ্যা পৃথিবীতে ৬০ হাজারের মতো।

সমুদ্রবিষয়ক বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘হ্যাম্পবেক তিমি বিশালাকার হাঁ করে অনেক পরিমাণে ছোট মাছ (বিশেষত ক্রিল) পানির সঙ্গে মুখে পুরে নেয়। প্যাকার্ডের সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা কেবল দুর্ঘটনা ছিল। বাস্তবিক পক্ষে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে গিলে খাওয়া হ্যাম্পবেক তিমির পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

৫৬ বছর বয়সী প্যাকার্ড চার দশকের বেশি সময় সমুদ্রের জলে লবস্টার শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। যদিও তার স্ত্রী বহুবার তাকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পেশা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেছেন।

শেয়ার করুন

৩ লাখ টাকার জন্য ভাঙল ৫ কোটির বাড়ি

৩ লাখ টাকার জন্য ভাঙল ৫ কোটির বাড়ি

নতুন বাড়িতে নেয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ, নতুন ছাদ তৈরিও করা হয়। আর নানা কিছু করে একেবারে নতুনের আদল দেয়া হয় বাড়িটিকে।

ইংল্যান্ডের লেস্টারের স্টোনিগেট শহরে নতুন একটি বাড়ি কেনেন জে কুর্জি। ৪০ বছর বয়সী কুর্জি বাড়ি কেনার পর তা বসবাসযোগ্য করতে এক রাজমিস্ত্রির সঙ্গে কথা বলেন।

পরে বাড়িটি মেরামত করে বাসযোগ্য করতে কাজ শুরু করেন মিস্ত্রি। বাড়ির মেরামতে কাজ সম্পন্ন করতে কুর্জির খরচ করতে হয় পাঁচ কোটি টাকার মতো।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়িটি মেরামতের কাজ শুরু করেন রাজমিস্ত্রি। বাড়িটির দোতলার সঙ্গে আরও কিছু নতুন করে কাঠামো তৈরি করেন মিস্ত্রি।

নতুন বাড়িতে নেয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ, নতুন ছাদ তৈরিও করা হয়। আর নানা কিছু করে একেবারে নতুনের আদল দেয়া হয় বাড়িটিকে।

কিন্তু নিজের মন মতো কাজ করিয়ে নিয়ে পারেননি কুর্জি। অথচ সেই মিস্ত্রি কুর্জিকে মোটা অংকের টাকার বিল ধরিয়ে দেন। কুর্জি মিস্ত্রিকে পরিশোধ করেন চার কোটি ৮৮ লাখ টাকার বেশি।

সেই মিস্ত্রি সে টাকা নেয়ার পর কুর্জির কাছে আরও তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন।

কুর্জি সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। তবে কোনোভাবেই টাকা দিতে রাজি হননি কুর্জি।

টাকা না পেয়ে প্রতিশোধ নিতে বিভিন্ন উপায় খুঁজতে থাকেন সেই মিস্ত্রি।

এর মধ্যেই সুযোগ পেয়েও যান। কুর্জি পরিবারসহ বেড়াতে যান বাড়ি থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে। সে সংবাদ জেনে লোকজন নিয়ে কুর্জির বাড়িতে হানা দেন মিস্ত্রি।

ফাঁকা বাড়ি পেয়ে ছাদ, বর্ধিত অংশসহ অনেকটাই ভেঙে দেন মিস্ত্রি।

খবর পেয়ে কুর্জি ছুটে যান পুলিশের কাছে। অভিযোগ করেন মিস্ত্রির বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ জানায়, তারা ঘটনার তদন্ত করবে।

শেয়ার করুন