লিচুগাছে আম!

লিচুগাছে আম!

গাছের মালিক আবদুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে বসতবাড়িতে লিচুগাছের চারাটি রোপণ করি। তিন বছরের মাথায় ফল আসে। এবার গাছ পরিচর্যা করতে গিয়ে চোখে পড়ে লিচু সঙ্গেই একই ডালে একটি আমও হয়েছে।’

লিচুগাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে ছোট ছোট লিচু। একটি থোকায় লিচুর সঙ্গে দেখা গেল একটি আম। ঠাকুরগাঁওয়ে এমন একটি ঘটনার ছবি ছড়িয়েছে ফেসবুকে।

গাছটি সদর উপজেলার ছোটবালিয়া সিংগিয়া কোলনীপাড়া গ্রামের আবদুর রহমান মটকির। লিচুগাছে আম ধরার ঘটনা দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকেও যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

নিউজবাংলার প্রতিবেদকও রোববার যান ওই গাছ দেখতে।

বাড়ির আঙিনায় লাগানো গাছটিতে লিচুর থোকায় ওই আমটি সবচেয়ে আগে আবদুর রহমানের নাতি হৃদয়ের চোখে পড়ে। তার কাছ থেকেই পাড়ার লোকজন এই বিরল গাছের বিষয়টি জানতে পারে।

খবরটি সত্যি কি না, তা দেখতে এসেছেন ওই গ্রামের মোকারক আলী। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম হামরা শুনলাম যে লিচুগাছত আম ধরছে। প্রথমে আমি বিশ্বাস করিনি। নিজের চোখেত দেখে বিশ্বাস করছি।’

ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য হাসান আলী বলেন, ‘প্রথমে গাছের মালিক যখন আমাদের বলে আমরা বিশ্বাস করিনি। বরং উল্টা তাকে পাগল বলছি। পরে তার বাড়ি গিয়ে দেখি ঘটনাটি সত্যি।’

বিরল লিচু গাছটির মালিক আবদুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে বসতবাড়িতে লিচুগাছের চারাটি রোপণ করি। তিন বছরের মাথায় ফল আসে। এবার লিচুগাছে মনমতো মুকুল আসছে। গাছ পরিচর্যা করতে গিয়ে চোখে পড়ে লিচুর পাশে একই ডালে একটি আমও হয়েছে। এ যেন আল্লাহর নিয়ামত।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনে গাছটি দেখতে গেছিলাম। আমি প্রথমে মনে করছি হয়তো লিচুগাছে কলম করে আমগাছের চারা রোপণ করেছে। কিন্তু তা নয়।

‘সত্যিই লিচুগাছে লিচুর সঙ্গে আম ঝুলছে। পুরো গাছে একটি আমই ধরেছে। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব।’

তবে এলাকার অনেকের সন্দেহ, বিশেষ কৌশলে ওই গাছে আমটি ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
২০০ বছরের আমগাছ
রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কাটল ৩০০ গাছ
বনভোজনে গিয়ে গাছচাপায় দুইজন নিহত
গাছের মাথায় গাছ
লাউয়াছড়া থেকে গাছ চুরির চেষ্টা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে

ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে

গর্ভনর প্রার্থী হতে প্রচারের সময় ভালুক নিয়ে হাজির জন কক্স। ছবি: এএফপি

কক্সের প্রচারের পুরোটা সময় খুব শান্ত অবস্থায় বসে থেকে ‘বক্তব্য শুনেছে’ ট্যাগ নামের ভালুকটি। সেখানে জনসম্মুখেই তাকে নাস্তা করায় তার প্রশিক্ষক।

দলের পতাকায় প্রতীক হিসেবে স্থান পেয়েছে ভালুক। তবে প্রচারের মাঠে জ্যান্ত ভালুক নিয়ে হাজির হবেন কেউ এটা কল্পনা করাও একটু কঠিনই। তবে এমনই হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবে ভোটের লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে। তার আগে চলছে প্রার্থী নির্বাচনের কাজ। আর প্রার্থী হতে অনেকেই চালাচ্ছেন নানা ধরনের প্রচার।

সেই নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হতে জন কক্স নামের এক রাজনীতিবিদ প্রচারের সময় ৫০০ কেজি ওজনের এক ভালুক নিয়ে র‍্যালিতে অংশ নেন।

‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট’ স্লোগানে জন কক্স প্রচার শুরু করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া হলিউডের রাজ্য হিসেবেও পরিচিত। তবে জন কক্স লোকজনের কাছে খুব বেশি পরিচিত মুখ নন।

রাজ্যেটির বর্তমান গভর্নর ডেমোক্র্যাট দলের ডেভিড নিউজম। তিনি সমাধিক পরিচিতও বটে।

কক্স রাজ্যটির বাসিন্দাদের বিভিন্ন আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাকে নির্বাচিত করতে সমর্থন আদায়ের চেষ্টায়।

এরপরই তিনি নতুন এক জনসভায় হাজির হয়েছেন কোডিয়াক ভালুক নিয়ে। এটি আরসিন প্রজাতির ভালুক, যা খুব বড় হয়।

ভালুকটির নাম ট্যাগ। তাকে অবশ্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে সিনেমা, টিভি সিরিজ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অভিনয়ের জন্য।

কক্সের প্রচারের পুরোটা সময় খুব শান্ত অবস্থায় বসে থেকে ‘বক্তব্য শুনেছে’ ট্যাগ। সেখানে জনসম্মুখেই তাকে নাস্তা করায় তার প্রশিক্ষক।

অবশ্য এমন কর্মকাণ্ডের জন্য এরই মধ্যে সমালোচিত হতে শুরু করেছেন জন কক্স। বিভিন্ন প্রাণী অধিকার সুরক্ষা সংস্থাগুলো কক্সের বিরুদ্ধে আইন অমান্যের অভিযোগ এনেছেন।

প্রাণীদের অধিকার সুরক্ষার সংগঠন পিপলস ফল দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্টস অফ অ্যানিমেলস (পিআইটিএ) বলছে, ‘এভাবে একজন রাজনীতিকের কোডিয়াক ভালুক ব্যবহার করা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক।’

বন্যপ্রাণীকে এসব প্রচারকাজ থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি এক টুইটে রাজনীতিবিদদের আহ্বান জানান।

মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর করোনা মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার পরিচয় দেয়ায় চাপে পড়ে চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
২০০ বছরের আমগাছ
রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কাটল ৩০০ গাছ
বনভোজনে গিয়ে গাছচাপায় দুইজন নিহত
গাছের মাথায় গাছ
লাউয়াছড়া থেকে গাছ চুরির চেষ্টা

শেয়ার করুন

করোনা শনাক্ত করবে মৌমাছি

করোনা শনাক্ত করবে মৌমাছি

ভাইরাসবিষয়ক অধ্যাপক উইম ভ্যান ডার পোয়েল বলেন, ‘সাধারণ মৌমাছি সংগ্রহ করছি আমরা। এরপর যে মৌমাছিগুলো করোনা পজিটিভ নমুনা চিহ্নিত করত পারছে, তাদের শূল বের করে পাশে রাখা চিনি মেশানো পানি নিতে দেয়া হচ্ছে। ভুল করলে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।’

ঘ্রাণশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্তে মৌমাছিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে নেদারল্যান্ডসে।

ডাচ গবেষকদের দাবি, নমুনা পরীক্ষার ফল আসতে আসতে যেখানে কয়েক ঘণ্টা বা দিন লেগে যায়, সেখানে প্রখর ঘ্রাণশক্তির অধিকারী মৌমাছিরা কয়েক সেকেন্ডেই বুঝে যায় ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত কি না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৌমাছিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বাফেনিঙেন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। করোনার উপস্থিতি আছে, এমন নমুনা শনাক্তে পুরস্কারস্বরূপ তাদের দেয়া হচ্ছে চিনি মেশানো পানি। ভুল নমুনা শনাক্তে পুরস্কার দেয়া হচ্ছে না।

এ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত করে তোলা হচ্ছে মৌমাছিগুলোকে।

এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ভাইরাসবিষয়ক অধ্যাপক উইম ভ্যান ডার পোয়েল বলেন, ‘সাধারণ মৌমাছি সংগ্রহ করছি আমরা। এরপর যে মৌমাছিগুলো করোনা পজিটিভ নমুনা চিহ্নিত করত পারছে, তাদের শূল বের করে পাশে রাখা চিনি মেশানো পানি নিতে দেয়া হচ্ছে। ভুল করলে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।’

করোনা শনাক্তের এ পদ্ধতি দ্রুতগতির, সস্তা এবং যেসব দেশে পর্যাপ্ত টেস্ট কিট নেই, সেসব দেশে ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

তবে বেলজিয়ামের ঘ্যেঁত ইউনিভার্সিটির মৌমাছি, কীটপতঙ্গ ও প্রাণী রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডার্ক ডে গ্রাফ জানান, করোনা শনাক্তের প্রচলিত পদ্ধতির বদলে মৌমাছি ব্যবহার বাস্তবসম্মত সমাধান নয়।

তিনি বলেন, ‘মৌমাছিদের করোনা শনাক্তের বিষয়টি চমৎকার। কিন্তু আমি নিজে এ কাজের জন্য মৌমাছি নয়, বরং প্রচলিত নমুনা পরীক্ষাই ভালো বলে মনে করি। মৌমাছিকে বরং অন্য কোনো কাজে লাগানো যায় কি না, সেটাই ভেবে দেখা উচিত।’

আরও পড়ুন:
২০০ বছরের আমগাছ
রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কাটল ৩০০ গাছ
বনভোজনে গিয়ে গাছচাপায় দুইজন নিহত
গাছের মাথায় গাছ
লাউয়াছড়া থেকে গাছ চুরির চেষ্টা

শেয়ার করুন

হাজার মানুষকে ইফতারি দিচ্ছে মেহমানখানা

হাজার মানুষকে ইফতারি দিচ্ছে মেহমানখানা

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে অর্থ ও খাবারের সংকটে দিশেহারা অসহায়, ছিন্নমূল, দরিদ্র, গৃহকর্মীসহ খেটে খাওয়া এই মানুষগুলোকে মেহমান বলেই গণ্য করেন স্বেচ্ছাসেবীরা। যেকোনো মানুষই সেখানে বিনা মূল্যে ইফতার করতে পারেন। কেউ চাইলে নিয়েও যেতে পারেন। আবার যে কেউ চাইলে বিতরণের জন্য এই স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে ইফতারসাগ্রমী দিতে পারেন।

ইফতারের আগে আগে রাজধানীর লালমাটিয়ার-ডি ব্লকে একে একে আসতে থাকেন রিকশাওয়ালা, পথশিশু, ছিন্নমূলসহ শ্রমজীবী মানুষরা।

সেখানে সারি বেঁধে অপেক্ষা করেন। এদিকে তাদের জন্য থালায় ইফতারসামগ্রী সাজাতে থাকেন ‘মেহমানখানার’ একদল স্বেচ্ছাসেবী।

প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার গরিব মানুষের হাতে তুলে দেয়া হয় ইফতারির থালা। এর মধ্যে থাকে খিচুরি, ছোলা, জিলাপি, চিড়া, খেজুর, শসা, মুড়িসহ আরও অনেক কিছু। এ ছাড়া রয়েছে লেবুর শরবত।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে অর্থ ও খাবারের সংকটে দিশেহারা অসহায়, ছিন্নমূল, দরিদ্র, গৃহকর্মীসহ খেটে খাওয়া এই মানুষগুলোকে মেহমান বলেই গণ্য করেন স্বেচ্ছাসেবীরা। আর এজন্য মেহমানখানা নামে তারা একত্র হয়েছেন।

যে কোনো মানুষই সেখানে বিনা মূল্যে ইফতার করতে পারেন। কেউ চাইলে নিয়েও যেতে পারেন। আবার যে কেউ চাইলে বিতরণের জন্য এই স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে ইফতারসাগ্রমী দিতে পারেন।

উদ্যোগক্তারা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তাদের ৩০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। তারা প্রতিদিন সকাল থেকে ইফতার তৈরির কাজ করেন।

অন্যতম উদ্যোক্তা আসমা আক্তার লিজা বলেন, ‘আমরা আসলে গত বছর যখন করোনার জন্য লকডাউন হলো তখন শুরু করেছিলাম এটা। একেবারে পারিবারিক উদ্যোগে শুরু করি। লকডাউন মানে তো ঘরে থাকা, কিন্তু যাদের ঘর নাই, সেই শিশুগুলো পথে থাকে, যে মানুষরা পথে থাকে তারা কোথায় যাবে! তারা কোথায় খাবে, এটা চিন্তা করেই আসলে এই কাজটা করা।

‘তার পরে দেখি যে শ্রমজীবী মানুষরাও আস্তে আস্তে যুক্ত হচ্ছে, যারা রিকশা চালায় কিংবা দিনমজুরি করে, আর যারা বাসাবাড়িতে কাজ করত, তাদের কাজ চলে গেছে।

‘এবার আবার যখন লকডাউন হলো শুরু থেকে আমরা প্রতিদিন খাবার দিচ্ছি। মাঝখানে রোজা চলে আসল, রোজা লকডাউন দুইটা মিলিয়ে এখন ইফতারের সময় আমরা খাবার দিচ্ছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খাবারের জোগান হয়ে যাচ্ছে। বড় বড় করপোরেট হাউজ ফান্ড দিচ্ছে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা নিচ্ছি না। কারণ এখন যতটুকু দরকার, তা সবার ছোট ছোট সহযোগিতায় হয়ে যাচ্ছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় যে একটা যুদ্ধ জয় করা যায়, এটা এখানেই প্রমাণ।’

অসহায় মানুষদের হাতে একবেলা অন্তত ইফতার তুলে দিতে পারার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের সেবা করে আসলে আমরা খুব আনন্দ পাচ্ছি। বিষয়টা আসলে ক্ষুধার্ত মানুষের। যার ক্ষুধা লাগবে, সে এসে এখানে খাবে। আত্মীয়স্বজন পরিচিত মানুষ সবার সহযোগিতায় আমাদের চলছিল। কিন্তু এখন বাইরের কিছু মানুষও আমাদের সহযোগিতা করছেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা যেন আমাদের কাজটা ভালো করে করে যেতে পারি। পৃথিবী ভালো হয়ে উঠুক, সবাই সবার কর্মে ফিরে যাক। আমি প্রতিদিন স্বপ্ন দেখি যে কালকেই যেন মেহমানখানা বন্ধ হয়ে যায়। এটা আমার ইচ্ছা। কারণ আমি চাই প্রতিটি মানুষ তাদের নিজ নিজ কাজে ফিরে যাক। তারা স্বাবলম্বী হোক।’

স্বেচ্ছাসেবী আয়শা ফেরদৌসি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি স্কুলে চাকরি করি। কিন্তু এখন অনেক দিন যাবৎ স্কুল বন্ধ, আমার সময় কাটছিল না। সেই সময় আমি ফেসবুকের মাধ্যমে মেহমানখানা সম্পর্কে জানতে পারি। প্রতিদিন মেহমানখানায় সময় দিই। মানুষের হাতে ইফতারি তুলে দিতে আমার খুব ভালো লাগে।’

খাবার পেয়ে ধানমন্ডি এলাকার রিকশাচালক লোকমান হোসেন বলেন, ‘করোনার মধ্যে হ্যারা খাবার দিতাছে। যা খাওয়ায় আল্লাহ দিলে ভালাই। আজকে খিচুড়ি, জিলাপি, বুট, মুড়ি দিছে। শরবতও দিছে।’

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন ছয়টার দিকে লালমাটিয়ার ডি ব্লকের এই সড়কে আসেন। এর পর সারিতে দাঁড়িয়ে খাবার নেন।

রিকশাচালক মোহাম্মদ সুমন বলেন, ‘প্রায়ই এদিকে আসি (লালমাটিয়ার-ডি ব্লক)। দেখি অনেক লোক ইফতার খায়। যার যার খাবার তারা আইন্যা দেয়, খাবার আনা লাগে না। আর প্রত্যেক শুক্রবার হ্যারা খিচুড়ি খাওয়ায়। হ্যাগো যেন আল্লায় তৌফিক দেয়, যে আমরা খাইতে পারি।

আরও পড়ুন:
২০০ বছরের আমগাছ
রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কাটল ৩০০ গাছ
বনভোজনে গিয়ে গাছচাপায় দুইজন নিহত
গাছের মাথায় গাছ
লাউয়াছড়া থেকে গাছ চুরির চেষ্টা

শেয়ার করুন

দানব গর্ত যে কারণে

দানব গর্ত যে কারণে

তুরস্কের কনিয়া রাজ্যের একটি সিংকহোল

তুরস্কের কনিয়া টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির সিংকহোল রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক ফেতুল্লাহ আরিক বলেন, তিনি রাজ্যটিতে গণনা করে ৬০০টি সিংকহোলের অস্তিত্ব পেয়েছেন। যা ২০২০ সালে ছিল ৩৬০টি। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ে সিংকহোল। যাকে অনেকেই প্রকৃতির দানবগর্ত বলেন।

কিন্তু এই সিংকহোল আসলেই কী? কীভাবে সৃষ্টি হয় এই দানবাকৃতির গর্ত?

সম্প্রতি সিংকহোল নিয়ে সবচেয়ে উদ্বেগে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ তুরস্ক। বিশ্বে যে কয়েকটি দেশে সিংকহোল রয়েছে তার অন্যতম তুরস্ক। দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সিংকহোল দেখা গেছে।

যেভাবে সৃষ্টি হয় গর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, সিংকহোল প্রকৃতিতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বিশালাকার গর্ত। সাধারণত, বৃষ্টি হলে মাটির উপরিতলের পানি মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এরপর সেখানে একটি স্তরে পানি জমা থাকে। সেই পানি যখন সেচ কাজ বা অন্যকোনো কারণে উত্তোলন করা হয় তখন উপরিভাগে ভূমিধস হয়ে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়।

সিংকহোল প্রকৃতিতে খুব সাধারণ ঘটনা। একে ভূতত্ত্ববিদরা বলেন, ‘কারস্ট ট্রেইন’।

ইউএসজিএস বলছে, শুধু পানি উত্তোলনের জন্য নয়, যেসব এলাকায় মাটির অভ্যন্তরে কঠিন শিলা রয়েছে সেখানে মাটির উপরিভাগের পানি নিচে প্রবেশ করে। সেখানে থাকে লবণ, চুনাপাথর, কপার ও জিপসামের মতো খনিজের স্তর।

এসব স্তরের খনিজ তোলা হলেও মাটির অভ্যন্তরে ফাঁপা জায়গা তৈরি হতে থাকে। এরপর নির্দিষ্ট সেই এলাকায় মাটি নিচে ধসে গিয়ে তৈরি হয় সিংকহোল।

সিংকহোল একেবারে নাটকীয়ভাবে তৈরি হয়। অনেকেই ভূমিধসকেই সিংকহোল মনে করেন। কিন্তু দুটি সম্পূর্ণ আলাদা।

সিংকহোলে ঝুঁকিতে তুরস্ক

সিংকহোল নিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে তুরস্কের কনিয়া রাজ্য। গত এক যুগে নতুন করে সবচেয়ে বেশি সিংকহোল তৈরি হয়েছে এই রাজ্যে।

কনিয়া টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির সিংকহোল রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক ফেতুল্লাহ আরিক বলেন, তিনি রাজ্যটিতে গণনা করে ৬০০টি সিংকহোলের অস্তিত্ব পেয়েছেন। যা ২০২০ সালে ছিল ৩৬০টি।

দেশটিতে সিংকহোল বেড়ে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা সরকারের পানি ব্যবস্থাপনা নীতিমালাকে দায়ী করেছেন।

কৃষকরা অনেক জোর করেই অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি তুলে নেয়ায় এই বিশাল বিশাল গর্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

মালভূমির অঞ্চল কনিয়া রাজ্যকে বলা হয় পাউরুটির দেশ। সেখানে যতদূর চোখ যাবে দেখা মিলতে গমের আবাদ।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অঞ্চটিতে বেড়েছে খরা। সেই সঙ্গে ফসলের পানির জন্য অঞ্চলটিকে নির্ভর করতে হয় ভূগর্ভস্থ সেচের ওপর। জমিতে সেচ দিতে তাই কোটি কোটি লিটার পানির প্রয়োজন হয়। সেই পানি উঠানোর ফলে নেমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর।

পানির স্তর নেমে যাওয়ায় মাটির অভ্যন্তরে ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে। আবার ওই অঞ্চলের কৃষকরা সেচের সুবিধায় পানি তুলে মাটির উপরেও বিশাল জলাধার বা ডোবা তৈরি করে জমা রাখেন।

চীনে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে গভীর দানব গর্ত বা সিংকহোল

অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি তোলায় মাটির শক্তি কমে গিয়েও ডোবার স্থানে হয় ভূমিধস। এতেও তৈরি হয় দানবগর্ত।

দীর্ঘদিন থেকে চাষাবাদ করেন তাহসিন গুনদোগদু। তিনি জানান, ১০ থেকে ১৫ বছরে এই অঞ্চলে খরা বেড়েছে। কৃষকরা যে পরিমাণ সেচ দিচ্ছেন তা আগে কখনও দিতে হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পেপসিকোর কাছে নিজের উৎপাদিত ফসল আলু বিক্রি করেন গুনদোগদু। আলুর মান ভালো রাখতেও সেচ বেশি দিতে হয় বলে জানান তিনি।

ওই অঞ্চলের ৫৭ বছর বয়সী কৃষক হাজাম সেজার বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির সেচ কমাতে তারা বিকল্প পথ বেছে নেন। তবে বিদ্যুৎ বিল এতো পরিমাণ আসে যে সেটি আর কূলিয়ে উঠতে পারেননি।

হাজাম বলেন, ‘আমরা সাধারণত বছরে দুইবার জমিতে সেচ দিতাম। এখন সেচ দিতে হয় পাঁচ থেকে ছয়বার। তাই ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়েছে।’

তুরস্কের চেম্বার অফ এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ার্সের (জেডএমও) প্রধান বাকী রিমজি সুয়েমেজ বলেন, ‘কারা সেচের জন্য অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করছে তা তদন্ত করা হবে। এই অবস্থা বিরাজ থাকলে, অসংখ্য সিংকহোলে তুরস্ক আরেক মহামারির দিকে এগোবে। তখন খাবারের ওপর করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা লাগতে বাধ্য।’

ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, অনেকেই এই দানব গর্ত সৃষ্টির জন্য প্রকৃতিকে দায়ী করেন। তবে এটা প্রাকৃতিক নয়, বরং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।

তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি তোলায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সিংকহোল বা দানবগর্ত তৈরি হচ্ছে।

বিশ্বের বড় কিছু সিংকহোল

সিংকহোল গড়ে ১০ মিটার চওড়া ও ১৫০ মিটার গভীয় হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে দানবগর্ত বা সিংকহোল।

চুকুইচামাতা সিংকহোলটি চিলিতে অবস্থিত। এটি এখন কপার খনি হিসেবে ব্যবহার হয়। ২৭৯০ ফুট গভীর সিংকহোলটি সৃষ্টি হয়েছে ১৯১০ সালে।

বাহামাসের লং আইল্যান্ডে ডিনস ব্লু হোল অন্যতম বড় একটি সিংকহোল। এর গভীরতা ৬৫০ ফুট।

চীনের চংকিং পৌরসভার অধীনে বিশ্বের বৃহত্তম সিংকহোলটির নাম জিয়াওজাই তিয়ানকেনগ। এটি ৬৬২ মিটার গভীর।

আরও পড়ুন:
২০০ বছরের আমগাছ
রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কাটল ৩০০ গাছ
বনভোজনে গিয়ে গাছচাপায় দুইজন নিহত
গাছের মাথায় গাছ
লাউয়াছড়া থেকে গাছ চুরির চেষ্টা

শেয়ার করুন

একসঙ্গে ৯ সন্তানের জন্ম দিলেন মালির নারী

একসঙ্গে ৯ সন্তানের জন্ম দিলেন মালির নারী

এএফপির প্রতীকী ছবি

হালিমার গর্ভে এত সন্তান থাকার খবরে উৎফুল্ল ছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদেরও নজর কাড়েন এই নারী।

একসঙ্গে ২, ৩ কিংবা ৬ সন্তানের জন্মের ঘটনা অনেকেই শুনেছেন। তবে এক নারীর ৯ সন্তান জন্মদানের কথা শুনলে হয়তো অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে।

বাস্তবে এমনটি ঘটেছে মরক্কোতে। সেখানকার একটি হাসপাতালে মঙ্গলবার একে একে ৯টি শিশুর জন্ম দেন মালির ২৫ বছর বয়সী নারী হালিমা সিসে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মরক্কো ও মালিতে যে আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়েছিল, তাতে হালিমার গর্ভে ৭ শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। দেশ দুটির পরীক্ষাতে ধরা পড়েনি বাকি ২ শিশু।

হালিমার গর্ভে এত সন্তান থাকার খবরে উৎফুল্ল ছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদেরও নজর কাড়েন এ নারী।

চলতি বছরের মার্চে চিকিৎসকরা হালিমার বিশেষায়িত সেবা দরকার বলে জানিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে বিমানে করে মরক্কোতে নিয়ে যায়।

ওই নারীর সন্তান জন্মদানের পর দেয়া এক বিবৃতিতে মালির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফান্তা সিবি বলেন, ‘৯ নবজাতক (পাঁচ মেয়ে ও চার ছেলে) ও তাদের মা সুস্থ আছে।’

মাতৃগর্ভ থেকে ৯ শিশুর সবাইকে বের করা হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

একসঙ্গে ৯ সন্তান জন্মদান একেবারে বিরল। এ ধরনের ঘটনায় চিকিৎসা-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে প্রায়ই অপরিণত সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।

আরও পড়ুন:
২০০ বছরের আমগাছ
রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কাটল ৩০০ গাছ
বনভোজনে গিয়ে গাছচাপায় দুইজন নিহত
গাছের মাথায় গাছ
লাউয়াছড়া থেকে গাছ চুরির চেষ্টা

শেয়ার করুন

মালিশ আর গানের সুরে জাপানি বাঙ্গির ফলন!

মালিশ আর গানের সুরে জাপানি বাঙ্গির ফলন!

মালয়েশিয়ায় উৎপাদিত জাপানিজ মাস্কমেলন। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠানটির কৃষকরা বাগানের প্রতিটি বাঙ্গিকে গাছে থাকা অবস্থায় নিয়মিত নরম কাপড় দিয়ে মুছতেন ও ডলতেন বা বলা যায়- মালিশ করতেন; ঠিক যেভাবে আরামের জন্য কিংবা শরীর ও মনের ক্লান্তি কাটাতে ‘বডি ম্যাসাজ’ করান অনেক মানুষ। ‘তামা-ফুকি’ নামে পরিচিত এ পদ্ধতিতে ফলের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ে বলে জানান কৃষকরা। অন্যদিকে প্রতিটি ফলের বৃদ্ধি বাড়ানোর কৌশল হিসেবে স্পিকারের মাধ্যমে তাদের আশপাশে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেয়া হতো নিয়ম করে।

বিশ্বের অন্যতম দামি ফল জাপানিজ মাস্কমেলন, যা আদতে বিশেষ জাতের বাঙ্গি। জাপানের উন্নতমানের এই বাঙ্গি ভিন দেশের মাটিতে ফলানোর চেষ্টা চলছিল অনেকদিন ধরেই। শেষ পর্যন্ত সাফল্য মিলেছে মালয়েশিয়ায়। তবে সেজন্য অভিনব সব পদ্ধতি যোগ করতে হয়েছে ফল উৎপাদন প্রক্রিয়ায়।

প্রতিটি ফলে বিশেষ মালিশ আর সেগুলোকে নিয়মিত গান ‘শোনানো’ হয়েছে মালয়েশিয়ার একটি জাপানি বাঙ্গির খামারে।

মালয়েশিয়ার মাটিতে উৎপাদিত বাঙ্গিতে একই গুণমান ও পুষ্টি উপাদান অক্ষুণ্ন রাখতে সাহায্য করেছে মালিশ আর গান শোনানোর পদ্ধতি, দাবি কৃষকদের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশকের বেশি সময় ধরে পরীক্ষা চালানোর পর সাফল্যের মুখ দেখেছে মালয়েশিয়ার কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মোনো প্রিমিয়াম মেলন।

প্রতিষ্ঠানটির কৃষকরা বাগানের প্রতিটি বাঙ্গিকে গাছে থাকা অবস্থায় নিয়মিত নরম কাপড় দিয়ে মুছতেন ও ডলতেন বা বলা যায়- মালিশ করতেন; ঠিক যেভাবে আরামের জন্য কিংবা শরীর ও মনের ক্লান্তি কাটাতে ‘বডি ম্যাসাজ’ করান অনেক মানুষ।

‘তামা-ফুকি’ নামে পরিচিত এ পদ্ধতিতে ফলের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ে বলে জানান কৃষকরা।

অন্যদিকে প্রতিটি ফলের বৃদ্ধি বাড়ানোর কৌশল হিসেবে স্পিকারের মাধ্যমে তাদের আশপাশে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেয়া হতো নিয়ম করে।

মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় অবস্থিত মোনো প্রিমিয়াম মেলন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা সেহ শেং সিয়াং বলেন, ‘আমাদের বাগানের প্রতিটি জাপানিজ মাস্কমেলনকে একেকটি শৈল্পিক নিদর্শন বললেও ভুল হবে না।’

কারণ গত শতাব্দী থেকেই জাপানের কৃষকরা বিশেষ জাতের এই বাঙ্গি উৎপাদনের পুরো পদ্ধতিকে নিয়ে গেছেন শিল্পের পর্যায়ে। দারুণ স্বাদ ও পুষ্টির পাশাপাশি নিখুঁত আকৃতির জন্য বিখ্যাত এই ফল জাপানের বিলাসবহুল পণ্যের তালিকায় অন্যতম, যা বিক্রি হয় কেবল দামি ব্র্যান্ড শপে।

জাপানের আরামদায়ক নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশে উৎপাদিত এ ফলের গুণমান অক্ষুণ্ন রাখতে মালয়েশিয়ার উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে কৃষকদের।

সেহ জানান, জাপানে উৎপাদিত ১০টির বেশি প্রজাতির বাঙ্গি মালয়েশিয়ায় উৎপাদনের চেষ্টা করেছেন তারা। অসংখ্য প্রচেষ্টার পর মালয়েশিয়ার আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর মতো উপযুক্ত ধরনটি খুঁজে পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় উৎপাদিত জাপানিজ মাস্কমেলনের শতভাগ পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করেছি আমরা। এ জন্য ঘড়ির কাঁটা ধরে এতে পানি ও সার দেয়া হয়েছে কঠোর নিয়ম মেনে।’

জাপান থেকেই বিশেষ প্রজাতির এই বাঙ্গির বীজ কিনে আনা হয়েছে। এরপর জাপানে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হয় মালয়েশিয়ার কৃষকদের। সেখানে তারা বাঙ্গি চাষের সব পদ্ধতি শিখে এসে মালয়েশিয়ায় শুরু করেন ফলটির উৎপাদন।

কিন্তু সাফল্যের দেখা পেতে নিজেদের মেধা ও মস্তিষ্ককেও কাজে লাগাতে হয়েছে তাদের। অবিকল জাপানিজ মাস্কমেলন মালয়েশিয়ায় উৎপাদন তারা করতে পেরেছে অসংখ্য ভুলত্রুটির পর।

পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল বাঙ্গির গাছে পুষ্টি সরবরাহের সঠিক অনুপাত খুঁজে বের করা।

সব বাধা পেরিয়ে লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে মোনো। বাছাইকৃত ২০০টি বাঙ্গি বিক্রিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটির দাম ৪০ ডলারের বেশি, মালয়েশিয়ার মুদ্রায় ১৬৮ রিঙ্গিত।

জাপানে এ ধরনের একেকটি ফলের দাম অবশ্য এর তিন থেকে পাঁচ গুণেরও বেশি। আর নিলামে তোলা হলে একেকটি ফলের দাম ২২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ারও নজির রয়েছে দেশটিতে।

আরও পড়ুন:
২০০ বছরের আমগাছ
রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কাটল ৩০০ গাছ
বনভোজনে গিয়ে গাছচাপায় দুইজন নিহত
গাছের মাথায় গাছ
লাউয়াছড়া থেকে গাছ চুরির চেষ্টা

শেয়ার করুন

ডাকাতের জন্য খাবারে লোভ 'ক্ষতিকর'

ডাকাতের জন্য খাবারে লোভ 'ক্ষতিকর'

ডাকাতির অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত রুডি ব্যাটেন। ছবি: ফক্স নিউজ

দোকান থেকে বের হওয়ার সময়েই মনে পড়ে খাওয়ার কথা। কিন্তু যুবক একটু সকাল সকালই ডাকাতি শুরু করেছিলেন আর চিকেন নাগেটস ম্যাকডোনাল্ডসে দুপুরের পর থেকে বিক্রি হতো বলে তার আবদার পূরণ করতে পারেননি ম্যানেজার। তবে এর বদলে ওই যুবককে একটি ডাবল সসেজ ম্যাকমাফিন খাওয়ানো হয়।

ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন একটি খাবারের দোকানে। ভেতরে ঢোকার পর খাবারের সুঘ্রাণে লোভ সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বন্দুক ঠেকিয়ে শেষ পর্যন্ত খাবার আদায় করতে পারলেও তারপর কারাগারে ঢোকানো হয়েছে তাকে।

বিচিত্র এ ঘটনা ঘটেছে ইংল্যান্ডে বহুজাতিক ফাস্ট ফুড চেইন ম্যাকডোনাল্ডসের একটি শাখায়।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাবারের দোকানে ডাকাতি করার সময় হঠাৎ ক্ষুধা পেয়ে যায় ডাকাত রুডি ব্যাটেনের। এ সময় দোকানের ম্যানেজারের দিকে খেলনা বন্দুক তাক করে ভয় দেখিয়ে ম্যাকডোনাল্ডসের জনপ্রিয় চিকেন নাগেটস খেতে চান তিনি।

এ ঘটনায় ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

জানা গেছে, ২২ বছরের যুবক ব্যাটেন একটি ভেজাল বন্দুক নিয়ে দোকানে ঢোকেন। এরপর ম্যানেজারকে ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনতাই করেন তিনি। ম্যানেজারের মাথায় বন্দুকের নল ঠেকিয়ে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগভর্তি কয়েনসহ নগদ অর্থ হাতিয়ে নেন।

দোকান থেকে বের হওয়ার সময়েই মনে পড়ে খাওয়ার কথা।

কিন্তু যুবক একটু সকাল সকালই ডাকাতি শুরু করেছিলেন আর চিকেন নাগেটস ম্যাকডোনাল্ডসে দুপুরের পর থেকে বিক্রি হতো বলে তার আবদার পূরণ করতে পারেননি ম্যানেজার। তবে এর বদলে ওই যুবককে একটি ডাবল সসেজ ম্যাকমাফিন খাওয়ানো হয়।

তিনি খেয়েদেয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে গেলেও পরে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত করা হয় তাকে। এরপর সেদিনই ব্যাটেন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

৬০০ ডলারের বেশি ছিনতাই করেছিলেন ব্যাটেন। আদালতে তিনি জানান, পুরোনো দেনা পরিশোধে বাধ্য হয়ে ডাকাতির পথ বেছে নেন তিনি।

এ ঘটনায় তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে স্থানীয় আদালত।

ঘটনাটিকে হলিউড অভিনেতা ও প্রযোজক মাইকেল ডগলাসের ১৯৯৩ সালের চলচ্চিত্র ‘ফলিং ডাউন’-এর একটি দৃশ্যের সঙ্গে মিলিয়েছেন অনেকে।

আরও পড়ুন:
২০০ বছরের আমগাছ
রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কাটল ৩০০ গাছ
বনভোজনে গিয়ে গাছচাপায় দুইজন নিহত
গাছের মাথায় গাছ
লাউয়াছড়া থেকে গাছ চুরির চেষ্টা

শেয়ার করুন