স্যান্ডউইচ খাচ্ছে মহিষ

স্যান্ডউইচ বানিয়ে মহিষকে খাওয়াচ্ছেন ফুড ব্লগার অমর। ছবি: এনডিটিভি

স্যান্ডউইচ খাচ্ছে মহিষ

ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি পোস্ট করে অমর ‘ফুডি ইনকারনেট’ অর্থাৎ খাবারের অবতার আখ্যা দিয়ে লিখেছেন, ভিটামিন এইচসমৃদ্ধ স্যান্ডউইচ। শুধু মানুষই কেন মজা করবে?

অনেকের, বিশেষ করে ছোটদের পছন্দের খাবারের তালিকায় উপরের দিকে থাকে স্যান্ডউইচের নাম। এর আছে আবার হরেক পদ। কেউ চিকেন স্যান্ডউইচ পছন্দ করেন, তো কেউ ভেজিটেবল, কারও আবার পছন্দ চিজ স্যান্ডউইচ।

তবে চোখ কপালে উঠবে মানুষের বদলে একটি মহিষের স্যান্ডউইচ খাওয়া দেখে। অবাক হলেও সত্যি। মহিষের স্যান্ডউইচ খাওয়ার এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ভারতে।

দেশটির একজন ফুড ব্লগার বিশেষ স্যান্ডউইচ তৈরি করে সেটি মহিষকে খাওয়াচ্ছেন।

বিশেষ পুষ্টিসমৃদ্ধ স্যান্ডউইচটি মহিষকে খাওয়ানোর পাশাপাশি সেটি তৈরির রেসিপিও শেয়ার করেছেন অমর শেরোহি নামের ওই ফুড ব্লগার।

ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি পোস্ট করে অমর ‘ফুডি ইনকারনেট’ অর্থাৎ খাবারের অবতার আখ্যা দিয়ে লিখেছেন, ভিটিামিন এইচসমৃদ্ধ স্যান্ডউইচ। শুধু মানুষই কেন মজা করবে?

ভিডিও দেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, দেখুন কীভাবে পশু-প্রাণীদের জন্য পুষ্টিকর স্যান্ডউইচ তৈরি করতে হয়। মহিষ স্যান্ডউইচটি কতটা মজা করে খাচ্ছিল, তা বোঝা যাচ্ছিল তার চেহারা দেখে।

মহিষকে খাওয়া স্যান্ডউইচের রেসিপি দিয়েছেন ফুড ব্লগার অমর শেরোহি। তিনি এটি তৈরি করতে দুই টুকরা পাউরুটি নিয়েছেন। এর ভেতরে তিনি চানাচুর, সয়াবিন ফ্লেক্স, ময়দার ফ্লেক্স, ওটস, দেশি ঘি, খৈলসহ আরও কিছু দিয়েছেন।

পাশাপাশি পুরো ব্রেডজুড়ে ভিটামিন এইচ সিরাপ ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর সেটি হালকা আঁচে তৈরি করা হয়েছে।

ভিডিওটি শেয়ার করে তার একেবারে শেষে অমর বলেছেন, মানুষের ভালোবাসা শুধু কুকুর, বিড়াল বা এমন প্রাণীদের জন্য হওয়া উচিত নয়। এটি মহিষসহ অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও সমান হওয়া উচিত।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সুপারমার্কেটে বিশাল গুইসাপ

সুপারমার্কেটে বিশাল গুইসাপ

চোখের সামনে দৈত্যাকৃতির গুইসাপ দেখে হইচই পড়ে যায় সুপারমার্কেটে। দৃশ্যটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পরপরই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

সুপারমার্কেটে কোলাহলহীন পরিবেশে চলছিল কেনাকাটা। এমন সময় হঠাৎই পণ্যবোঝাই শেলফ বেয়ে উঠতে দেখা গেল বিশাল আকৃতির এক গুইসাপকে। চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল ক্রেতা-বিক্রয়কর্মীসহ সবার।

এমন ঘটনা ঘটেছে থাইল্যান্ডের একটি সুপারমার্কেটে। চোখের সামনে দৈত্যাকৃতির গুইসাপ দেখে হইচই পড়ে যায় সেখানে।

দৃশ্যটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পরপরই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ডে বহুজাতিক ফুড চেইন সেভেন ইলেভেনের একটি শাখায়। দোকানটিতে গুইসাপের ঘোরাফেরার দৃশ্য ধারণ করে টুইটারে ছেড়েছে থাই ট্রাভেল এজেন্সি মুন্ডো নোমাডা।

ভিডিওতে শেলফ বেয়ে উঠতে দেখা যায় টিকটিকি সদৃশ বিশাল সরীসৃপটিকে। পণ্য ফেলতে ফেলতে উপরে উঠছিল সেটি।

এ দৃশ্যে বিস্মিত, আতঙ্কিত ক্রেতাদের কেউ কেউ চিৎকার করতে শুরু করেন। অনেকে আবার বিষয়টিকে মজার ছলেই নিয়েছেন। ভিডিওতে তাদের হাসির শব্দও বেশ স্পষ্ট।

গুইসাপটি একদম উপরে পৌঁছে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ সেখানেই বিশ্রাম নেয়। ভিডিওটি শেষও হয়েছে সেখানেই। এরপর সেটিকে কী করা হয়েছে, সে বিষয়ে অবশ্য আর কিছু জানা যায়নি।

টুইটারে বুধবার বিকেলে ভিডিও প্রকাশের পর থেকে ৬০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী দেখেছেন সেটি। হয়েছে লাখ লাখ রিটুইট।

এক ব্যবহারকারী লিখেন, ‘গডজিলা মিথ্যা কিছু নয় বন্ধুরা।’ আরেক ব্যবহারকারী একে আখ্যা দিয়েছেন ‘দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে।

আবার অনেকে ‘খাবার খুঁজতে শেলফ হাতড়ানো’ গুইসাপটিকে বেশ মজার ছলেই নিয়েছেন। ভিডিও রিটুইট করা এক ব্যবহারকারী লিখেন, ‘এভাবে শেলফে না চড়ে একটু অপেক্ষা করে কোনো বিক্রয়কর্মীকে বললেই তো হতো।’

ব্যাংককসহ থাইল্যান্ডের সব জায়গাতেই গুইসাপ অহরহ দেখা যায়। সাধারণত মৃত প্রাণীর মাংস গুইসাপের প্রিয় খাবার।

থাইল্যান্ডে ‘গুইসাপ’ বলে গালি দেয়ার প্রচলন আছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞানীকে ‘পিটিয়ে’ লাল বানালো অক্টোপাস

বিজ্ঞানীকে ‘পিটিয়ে’ লাল বানালো অক্টোপাস

ক্ষিপ্ত অক্টোপাস ও সেটির আঘাতের শিকার ল্যান্স কার্লসন। ছবি: সংগৃহীত

আঘাতের দৃশ্যের ভিডিও বা ছবি তুলতে পারেননি কার্লসন। তবে সাঁতরে তীরে আসার সময় যখন সেখানেও তাকে ধেয়ে যায় অক্টোপাসটি, তখন স্মার্টফোনে সেটির ভিডি ধারণ করেন তিনি। ভাইরাল হওয়া সে ভিডিওতেও তেড়ে আসতে দেখা গেছে অক্টোপাসটিকে। সেটির রাগের কারণ অজানা।

অস্ট্রেলিয়ার এক সমুদ্র সৈকতে সাঁতার কাটার সময় হঠাৎই অক্টোপাসের আক্রমণের শিকার হয়েছেন এক ব্যক্তি। বেঁচে ফিরে জানিয়েছেন, ‘ভীষণ রাগী এক অক্টোপাস’ পিটিয়ে লাল করেছে তাকে!

অদ্ভুত শোনালেও প্রমাণ হিসেবে ‘রাগী অক্টোপাস’টির ভিডিও’ ধারণ করেছেন তিনি। সঙ্গে আছে ঘাড়ে ও পিঠে অক্টোপাসের আঘাতের দাগ।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ল্যান্স কার্লসন নামের ওই ব্যক্তি পেশায় ভূতত্ত্ববিদ। ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান সৈকতে।

দুই বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তীরের কাছেই সাঁতার কাঁটছিলেন তিনি। এমন সময় দূর থেকে পানিতে কোনোকিছুর নড়াচড়া দেখেন তিনি। প্রথমে ভেবেছিলেন লম্বা লেজের স্ট্রিংরে মাছ লেজ দিয়ে বুঝি পানির কাছে আসা কোনো পাখিকে ধরার চেষ্টা করছে। সেটি দেখতে কাছে যাওয়ার পরই অক্টোপাসের অস্তিত্ব চোখে পড়ে তার। এমন সময় হঠাৎই তার হাতে আঘাত করে অক্টোপাসটি।

এ ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গেই মেয়েকে নিয়ে সাগর থেকে উঠে আসেন কার্লসন। এরপর মেয়েকে রেখে একাই সাঁতার কাঁটতে নামলে আবারও তেড়ে আসে অক্টোপাসটি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কার্লসনের ঘাড়ে আর পিঠের ওপরের অংশে আট পেয়ে জীবটির শুঁড়ের ‘থাপ্পড়ের বন্যা’ শুরু হয়ে যায় রীতিমতো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে কার্লসন বলেন, ‘অক্টোপাসটিকে চড়াও হতে দেখে চমকে গিয়েছিলাম আমি। আমার গগলস ঝাপসা আর পানি ময়লা হয়ে গিয়েছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে গেছিলাম।’

আঘাতের দৃশ্যের ভিডিও বা ছবি তুলতে পারেননি কার্লসন। তবে সাঁতরে তীরে আসার সময় যখন সেখানেও তাকে ধেয়ে যায় অক্টোপাসটি, তখন স্মার্টফোনে সেটির ভিডি ধারণ করেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া সে ভিডিওতেও তেড়ে আসতে দেখা গেছে অক্টোপাসটিকে। সেটির রাগের কারণ অজানা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে আহত কার্লসন জানান, এ ধরনের ক্ষতে ভিনেগার ঢাললে দ্রুত স্বস্তি পাওয়া যায়। কিন্তু ঘটনার সময় হাতের কাছে ভিনেগার না থাকায় আঘাতের জায়গায় ঠাণ্ডা কোক ঢেলেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

রাজপথে ফারাও সম্রাটদের ‘মমিযাত্রা’ শনিবার

রাজপথে ফারাও সম্রাটদের ‘মমিযাত্রা’ শনিবার

মিসরের ফারাও সম্রাটদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতাপশালী ছিলেন দ্বিতীয় রামেসিস। ছবি: সংগৃহীত

মমিযাত্রার শুরুতেই থাকবে যিশুখ্রিস্টের জন্মেরও ১৬শ’ বছর আগে রাজত্ব করা সম্রাট দ্বিতীয় সেকেনেনরে তাও। আর একদম শেষে থাকবে খ্রিস্টপূর্ব ১২ শতকের সম্রাট নবম রামেসিস।

প্রাচীন মিসরের ২২ জন রাজা-রানীর মমিযাত্রা দেখতে যাচ্ছে কায়রোবাসী। মনোমুগ্ধকর রাজকীয় আয়োজনে নতুন ঠিকানায় আশ্রয় নেবে মমিগুলো।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ‘ফারাও’স গোল্ডেন প্যারেড’ শিরোনামে মমি নিয়ে কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। এটি অনুষ্ঠিত হবে শনিবার।

জাঁকজমকপূর্ণ যাত্রার পুরোটাই সাজানো হয়েছে প্রাচীন মিসরীয় কায়দায়। ১৮ জন রাজা এবং চারজন রানীর শাসনকালের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী মমিগুলোকে সোনালী কফিনে করে পরপর সারি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হবে নতুন গন্তব্যে।

কায়রোর তাহরির এলাকায় অবস্থিত ইজিপ্শিয়ান মিউজিয়ামে গত কয়েক দশক ধরে ছিল মমিগুলো। সেখান থেকে তাদের নেয়া হবে রাজধানীর দক্ষিণে ২০১৭ সালে চালু হওয়া ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ ইজিপ্শিয়ান সিভিলাইজেশনে।

এই মমিযাত্রার প্রথমেই থাকবেন যিশুখ্রিস্টের জন্মেরও ১৬শ’ বছর আগে রাজত্ব করা সম্রাট দ্বিতীয় সেকেনেনরে তাও। আর একদম শেষে থাকবেন খ্রিস্টপূর্ব ১২ শতকের সম্রাট নবম রামেসিস।

সবচেয়ে প্রভাবশালী ফারাও সম্রাট দ্বিতীয় রামেসিস ও সম্রাজ্ঞী হাৎশেপসুতের মমিও থাকবে এ শবযাত্রায়।

৪০ মিনিটের যাত্রায় মমিগুলো যেন কোনোরকম আঘাত না পায়, তা নিশ্চিতে আঘাত প্রতিরোধক থাকবে সব কফিনবাহী গাড়িতে।

১৮৮১ সালে লুক্সরের কাছে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় আবিষ্কৃত মমিগুলো ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই তাহরিরের ইজিপ্শিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ছিল।

৫০’র দশকের শুরুতে জাদুঘরের ছোট একটি কক্ষে মমিগুলোকে প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সিটির মিসরতত্ত্বের গবেষক অধ্যাপক সেলিমা ইকরাম জানান, নতুন জাদুঘরে আরও উন্নতমানের বাক্সে রাখা হবে মমিগুলোকে। থাকবে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত আরও ভালো পরিবেশে।

মূলত মমিগুলোকে আরও দীর্ঘদিন সুরক্ষিত রাখতে এবং দর্শনার্থীদের জন্য সুন্দর পরিবেশে মমি দেখার ব্যবস্থা নিশ্চিতে নেয়া হয়েছে এ পদক্ষেপ।

নতুন জাদুঘরে স্থানান্তরের ১৫ দিন পর আবারও প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে মমিগুলো।

কয়েক মাসের মধ্যে গিজার পিরামিডের কাছে গ্র্যান্ড ইজিপ্শিয়ান মিউজিয়াম নামে একটি বিশালাকৃতির জাদুঘর চালু করবে মিসর সরকার। সেখানে থাকবে কিশোর সম্রাট তুতেনখামেনসহ ফারাও সাম্রাজ্যের অনেক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।

শেয়ার করুন

কামড়ে চলছে বাইডেনের কুকুর

কামড়ে চলছে বাইডেনের কুকুর

জো বাইডেনের পোষা কুকুর মেজর। ছবি: স্কাই নিউজ

ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের‍ প্রেস সেক্রেটারি মাইকেল লারোসা জানান, জো বাইডেনের পোষা জার্মান শেফার্ড জাতের দুই কুকুরের মধ্যে ছোটটি স্থানীয় সময় সোমবার পায়চারি করার সময় কোনো একজনকে কামড়ায়।

জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যারে তার পৈতৃক বাড়িতে ছিল ‘মেজর’। তখন তার বয়স মাত্র কয়েক মাস। সময়ের পরিক্রমায় বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিন বছর বয়সী কুকুরটিকে নিয়ে আসেন হোয়াইট হাউজে।

১৮ একরের এই কমপ্লেক্সে এসে বিচরণের বিশাল জায়গা পায় মেজর। কিন্তু নতুন পরিবেশকে আপন করে নিতে পারেনি সে। এর প্রমাণ মিলছে হোয়াইট হাউজের কর্মীদের কামড়ে দেয়ার ঘটনায়।

স্কাই নিউজের বুধবারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউজের কর্মীকে কামড়েছে প্রেসিডেন্টের কুকুর।

ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের‍ প্রেস সেক্রেটারি মাইকেল লারোসার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জো বাইডেনের পোষা জার্মান শেফার্ড জাতের দুই কুকুরের মধ্যে ছোটটি স্থানীয় সময় সোমবার পায়চারি করার সময় কোনো একজনকে কামড়ায়।

লারোসা বলেন, নতুন পরিবেশের সঙ্গে এখনও পুরোপুরি মানিয়ে উঠতে পারেনি কুকুরটি। ব্যাপক সতর্কতার অংশ হিসেবে তার কামড়ের শিকার ব্যক্তিকে দেখেছেন হোয়াইট হাউজের চিকিৎসাকর্মীরা। তবে কোনো আঘাত ছাড়াই কাজে ফিরেছেন ওই কর্মী।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মেজর হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তাদলের একজনকে কামড়ায় বলে খবর ছাপিয়েছিল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

ওই সময় হোয়াইট হাউজের এক নারী মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, কামড়ের শিকার ব্যক্তি ‘সামান্য আঘাত’ পেয়েছেন।

প্রথম ঘটনার পর গত সপ্তাহে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল কুকুরটিকে। কিন্তু এরপরও তার আচরণে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ডেলাওয়্যারে বাইডেনের পারিবারিক বাড়িতে ১২ বছর বয়সী কুকুর চ্যাম্পের সঙ্গে ছিল মেজর।

চলতি মাসের শুরুতে এবিসি নিউজকে বাইডেনের দেয়া সাক্ষাৎকারে উঠে আসে মেজরের প্রসঙ্গটি। সে সময় বাইডেন এবিসিকে বলেছিলেন, বেশির ভাগ সময়ে ‘মিষ্টি স্বভাবের কুকুর’ হিসেবেই আচরণ করেছে মেজর।

কামড় দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সে সময় বাইডেন বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে দুজন মানুষ ছিল, যারা মেজরের কাছে অপরিচিত ছিল। তাদের চলাচলের সময় সে নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, হোয়াইট হাউজে ৮৫ ভাগ মানুষই মেজরকে পছন্দ করে।

ডেলাওয়্যার হিউম্যান সোসাইটি নামের একটি সংগঠনের কাছ থেকে ২০১৮ সালে মেজরকে দত্তক নেন বাইডেন।

শেয়ার করুন

ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১

ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১

লাল ডাকবাক্সকে ময়লা ফেলার বাক্স ভেবে ভুল করেছিলেন বলে দাবি আটক হওয়া ব্যক্তির। ছবি: এএফপি

জাপানের লাল রঙের ডাকবাক্সে জাপানি ও ইংরেজি- দুই ভাষাতেই ‘পোস্ট’ শব্দটি লেখা থাকে। কিন্তু তাও ডাকবাক্সে ময়লা ফেলার ঘটনা দেশটিতে অহরহ ঘটে থাকে।

ডাকবাক্সকে ময়লার ঝুড়ি ভেবে নিয়মিত আবর্জনা ফেলে গেছেন তাতে। আর এ অপরাধেই জাপানে আটক হয়েছেন এক ব্রিটিশ নাগরিক।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী টোকিওর দক্ষিণ উপকূলীয় কানাগাওয়া অঞ্চলের কামাকুরা এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরে প্রথম কামাকুরার ডাকঘর থেকে একটি অভিযোগ পান তারা। বলা হয়, ডাকবাক্সের ভেতরে নানাবিধ ময়লা-আবর্জনা ফেলায় চিঠি সংগ্রহ ও সরবরাহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি মাসের মাঝামাঝিতে একই এলাকা থেকে এ রকম আরো ছয়টি অভিযোগ পায় পুলিশ। সবগুলো ডাকবাক্সই কামাকুরা সিটি হলের কাছে হওয়ায় শুরু হয় নজরদারি। শিগগিরই খোঁজ মেলে দুষ্কৃতিকারীর।

একটি ডাকবাক্সে খালি কন্টেইনার আর চপস্টিক ফেলার সময় সোমবার হাতেনাতে এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করে পুলিশ।

আটক হওয়া ৩৭ বছর বয়সী অ্যান্টনি তানাকার বরাত দিয়ে স্থানীয় একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, ডাকবাক্সগুলোকে ময়লার বাক্স ভেবে ভুল করেছিলেন বলে দাবি ওই ব্যক্তির।

তানাকা তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

অভিযোগ গঠন হলে এবং চিঠি নষ্টের অপরাধ প্রমাণ হলে জাপানের ডাক বিষয়ক আইনে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড আর পাঁচ লাখ ইয়েন জরিমানা হতে পারে তার। আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা আইনে অভিযোগ গঠন করা হলে সাজা আরও বাড়তে পারে।

জাপানের লাল রঙের ডাকবাক্সে জাপানি ও ইংরেজি- দুই ভাষাতেই ‘পোস্ট’ শব্দটি লেখা থাকে। কিন্তু তাও ডাকবাক্সে ময়লা ফেলার ঘটনা দেশটিতে অহরহ ঘটে থাকে।

জাপানের রাস্তাঘাটে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা খুব একটা না থাকলেও, কঠোর বর্জ্য নিষ্কাশন আইনের ফলে দেশটিতে প্রশংসনীয় পরিচ্ছন্নতা লক্ষ্যণীয়।

পণ্যকে পুনঃব্যবহারযোগ্য করাকে উৎসাহিত করতে ইচ্ছে করেই দেশটিতে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা সীমিত রেখেছে জাপান সরকার।

একই সঙ্গে সন্ত্রাসীরা যেন ময়লার বাক্সকে গোপন অস্ত্র বা বোমা লুকাতে ব্যবহার না করতে পারে, তা-ও নিশ্চিত করা লক্ষ্য। ১৯৯৫ সালে টোকিওর সাবওয়ে ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থায় সারিন গ্যাস ছড়িয়ে ১৪ জনকে হত্যা করেছিল এক ব্যক্তি। ওই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ।

এসব কারণে ময়লা বহন করে নিজ বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াই জাপানের প্রচলিত নিয়ম। অলিখিত সে নিয়ম ভেঙে অনেকেই লাল ডাকবাক্সে ময়লা ফেলার লোভ সামলাতে পারেন না জাপানে।

শেয়ার করুন

সাগরের তিমির উদ্ভব মাটির হরিণ থেকে!

সাগরের তিমির উদ্ভব মাটির হরিণ থেকে!

প্রায় পাঁচ কোটি বছর আগে এখনকার তিমির পূর্বসূরী ‘ইন্দোইয়াস’। ছবি: সংগৃহিত

৪ কোটি ৭০ লাখ বছর আগের ওই ফসিলের দেহের গড়ন বেশ গোলগাল, দৈর্ঘ্যে এ কালের শেয়ালের মতো, সঙ্গে আছে লম্বা লেজ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তিমি বর্গভুক্ত জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের উদ্ভবের ‘মিসিং লিংকটি’ হচ্ছে এই ‘ইন্দোহিয়াস’।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণীর নাম কী- এমন প্রশ্নের উত্তর প্রায় সবার জানা। সাগরতলের স্তন্যপায়ী অতিকায় এই নীল তিমির নাম আমরা সবাই জানি। তবে যেটা শুনলে যে কেউ বিষম খেতে পারেন তা হলো, এই নীল তিমির পূর্বসূরী এক কালে ছিল অতি ক্ষুদ্রকায়, মানে ছোটখাটো এক ধরনের ‘হরিণ’ মাত্র!

বিবর্তন নিয়ে কাজ করেন এমন এক দল বিজ্ঞানী বলছেন, এখন থেকে প্রায় পাঁচ কোটি বছর আগে এখনকার তিমির পূর্বসূরীর বসবাস ছিল ডাঙায়, আকারের দিক থেকে তখনকার অন্য সব প্রাণীর তুলনায় এরা ছিল একেবারেই ‘নগণ্য’।

চার পেয়ে সেই প্রাণীর নাম বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন ‘ইন্দোহিয়াস’। যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হান্স থুইসনের আবিষ্কার করা একটি ‘ইন্দোহিয়াস’-এর ফসিল বিশ্লেষণ করে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা। থুইসনের দল কিছুদিন আগে পাকিস্তানে খুঁজে পেয়েছে এই ফসিল।

৪ কোটি ৭০ লাখ বছর আগের ওই ফসিলের দেহের গড়ন বেশ গোলগাল, দৈর্ঘ্যে এ কালের শেয়ালের মতো, সঙ্গে আছে লম্বা লেজ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, তিমি বর্গভুক্ত জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের (যাদের মধ্যে জলহস্তিও অন্তর্ভুক্ত) উদ্ভবের ‘মিসিং লিংকটি’ হচ্ছে এই ‘ইন্দোহিয়াস’।

ডারউইনের সময় থেকেই বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, তিমির মতো জলজ স্তন্যপায়ীদের পূর্বসূরী কোনো এক কালে বিচরণ করত মাটিতে, তবে এর পরিচয়টি এতদিন ছিল এক রহস্য।

সাগরের তিমির উদ্ভব মাটির হরিণ থেকে!

থুইসেন ও তার দল ‘ইন্দোহিয়াস’ ফসিল আবিষ্কারের পর এই রহস্যের সমাধান হয়েছে বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা।

থুইসেন বলছেন, স্থলের শিকারিদের এড়াতে মাটি থেকে জলবাসী হতে থাকে ইন্দোহিয়াসেরা। একপর্যায়ে এরা স্থলভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে জলজ জীবনধারায় অভিযোজিত হয়।

খুঁজে পাওয়া ফসিলটির বিশ্লেষণে ইন্দোহিয়াস ও তিমির খুলি এবং কানের সামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। ইন্দোহিয়াসের কঙ্কালের হাড়ের বাইরের দিকে একটি পুরু স্তর ছিল। এই বৈশিষ্ট্য এ সময়ের জলচর স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়।

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, শরীরের আকৃতির তুলনায় ইন্দোহিয়াসের হাড় বেশ ঘন ও ওজনে ভারী, এ কালের জলহস্তির হাড়ের মতোই। এই বৈশিষ্ট্য পানিতে থাকার সময়ে প্রাণীটিকে স্রোতে ভেসে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দিত।

সাগরের তিমির উদ্ভব মাটির হরিণ থেকে!
‘ইন্দোইয়াস’-এর হাড়ের বৈশিষ্ট্য এ কালের জলচর স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মতো

তিমির মতোই ইন্দোহিয়াসের মাথার ঠিক ওপরের দিকে ছিল দুটি অক্ষিকোটর। পুরাকালের এই প্রাণীর জলজ অভিযোজনের বিষয়টি দাঁতের রাসায়নিক গঠন থেকেও নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেছে, আর সব জলজ প্রাণীর দাঁতের মতোই সমান অনুপাতের অক্সিজেন আইসোটোপ রয়েছে ইন্দোহিয়াসের দাঁতে। এতে পরিষ্কার, এই প্রাণীর বেশিরভাগ সময় কাটত পানিতে।

থুইসেন বলছিলেন, ‘কোটি কোটি বছর আগে জলচর ইন্দোহিয়াসেরা সম্ভবত পানিতে গা ভাসিয়ে শিকারের অপেক্ষায় থাকত, এখনকার দিনের কুমির যেভাবে ভেসে থাকে।’

ইন্দোহিয়াস কী খেত, সেটিও বোঝার চেষ্টা করেছে থুইসেনের দল। স্থলচর ও জলচর প্রাণীর দাঁতে কার্বন ও অক্সিজেনের বিন্যাসের তফাৎ রয়েছে। দুই ধরনের প্রাণীর খাবার ও পানীয়র কার্বন ও অক্সিজেনের বিন্যাস আলাদা হওয়াই এর মূল কারণ।

সাগরের তিমির তুলনায় ইন্দোহিয়াসের দাঁতে উচ্চমাত্রায় কার্বন- ১৩ আইসোটোপ রয়েছে, এর অর্থ হলো প্রাগৈতিহাসিক এই প্রাণী স্থলের লতাগুল্মও খেত। গবেষক দলটি বলছে, ইন্দোহিয়াসের খাদ্যাভ্যাসের বিস্তারিত জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবে দাঁতের গঠনে বোঝা যাচ্ছে এটি পুরোপুরি স্থলের লতাগুল্মনির্ভর প্রাণীও ছিল না।

ফসিল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে থুইসেন মনে করছেন, মূলত স্থলের শিকারি প্রাণী থেকে রক্ষার তাগিদেই ইন্দোহিয়াস পানির জীবন বেছে নিয়েছিল, প্রথম পর্যায়ে জলজ খাবার সংগ্রহ এই অভিযোজনের লক্ষ্য ছিল না। তবে অনেক পরে এর খাদ্যাভ্যাস পুরোপুরি পানিনির্ভর হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, তিমির প্রথম পূর্বসূরীর উদ্ভব ঘটেছিল এখন থেকে ৪ কোটি ২০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৮০ লাখ বছর আগে। এরপর ৪ কোটি ১০ লাখ বছর আগে এখনকার হাম্পব্যাকস ও নীল তিমির পূর্বসূরী বালেন তিমির উদ্ভব হয়। আর সাগরের বুকে এখনকার আকৃতির বিভিন্ন তিমির উদ্ভব ঘটতে শুরু ৭০ লাখ বছর আগে।

শেয়ার করুন

সিংহের সঙ্গে মশকরা, অল্পে প্রাণে রক্ষা

সিংহের সঙ্গে মশকরা, অল্পে প্রাণে রক্ষা

কলকাতা চিড়িয়াখানায় সিংহের ডেরায় ঢুকে পড়েন এক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

আলিপুর চিড়িয়াখানায় সাধুবেশী এক ব্যক্তিকে ঢুকতে দেখেন চিডি়য়াখানার কর্মীরা। কেউ কিছু বোঝার আগেই তিনি ঢুকে পড়েন সিংহের ডেরায়। অবাঞ্ছিত অতিথিকে দেখেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সিংহটি।

কলকাতায় সিংহের ডেরায় ঢুকে আহত হওয়ার পর এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে বনকর্মীরা।

শুক্রবার সকালে কলকাতা চিড়িয়াখানায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তির নাম গৌতম গুছাইত। তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের বাসিন্দা। বনকর্মীরা সন্দেহ করছেন ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন।

শুক্রবার সকালের দিকে আলিপুর চিড়িয়াখানায় সাধুবেশী এক ব্যক্তিকে ঢুকতে দেখেন চিডি়য়াখানার কর্মীরা। কেউ কিছু বোঝার আগেই তিনি ঢুকে পড়েন সিংহের ডেরায়। অবাঞ্ছিত অতিথিকে দেখেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সিংহটি। লোকটি বিপদে পড়তেই বিষয়টি নজরে আসে চিড়িয়াখানার নিরাপত্তারক্ষীদের।

উদ্ধারের পর হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জখম গুরুতর হলেও মৃত্যুর আশঙ্কা নেই। প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি।

এর আগে কলকাতা চিড়িয়াখানাতেই বাঘের ডেরায় ঢুকে পড়েছিলেন এক ব্যক্তি। শিবা নামের বাঘটিকে মালা পড়াতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ যায় তার।

অসমের গুয়াহাটি চিড়িয়াখানায় বেশ কয়েক বছর আগে বাঘের ডেরায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন এক তরুণ।এরপরই সেখানে বাঘের ডেরা আরও নিশ্ছিদ্র করা হয়।

শেয়ার করুন