বিলুপ্ত পাখি ফিরে এলো ১৭২ বছর পর

‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ পাখি। ছবি: সংগৃহীত

বিলুপ্ত পাখি ফিরে এলো ১৭২ বছর পর

‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ নামের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম মালাকোচিনকলা পার্সপিসিলাতা; এটিকে বিশেষজ্ঞরা ইন্দোনেশিয়ান পাখি বিজ্ঞানের সবচেয়ে রহস্যময় পাখি হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

১৭২ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে ধারণা করা একটি প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও রেনফরেস্টে। এমনই এক ঘোষণা দিয়েছে পাখি সংরক্ষণে একটি সংগঠন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পাখি সংরক্ষণে চ্যারিটি সংগঠন ‘ওরিয়েন্টাল বার্ড ক্লাব’ গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ নামের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম মালাকোচিনকলা পার্সপিসিলাতা; এটিকে বিশেষজ্ঞরা ইন্দোনেশিয়ান পাখি বিজ্ঞানের সবচেয়ে রহস্যময় পাখি হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

ওয়েন্টাল বার্ড ক্লাবের দাবি, সম্প্রতি এই প্রজাতির পাখি দেখতে পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ কালিমান্তান রাজ্যের স্থানীয় দুই বাসিন্দা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুহাম্মাদ সুরান্তো ও মুহাম্মাদ রিজকি ফাউজান নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দা তাদের আবাসস্থলের অদূরে বন্য সামগ্রী জড়ো করছিলেন। হঠাৎ একটি অপরিচিত পাখির প্রজাতি দেখে থমকে যান তারা। পাখিটি ধরার পর কয়েকটি ছবি তোলেন, এরপর ছেড়ে দেন।

ছবিগুলো নিয়ে দুইজন পাখি গবেষণায় জড়িত স্থানীয় দুটি সংগঠন ‘বিডব্লিউ গ্যালিটাস’ ও ‘বার্ডপ্যাকার’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পাখিটি প্রায় পৌনে দুইশ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ হতে পারে বলে ধারণা করে সংগঠন দুটি। এরপর ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের পাখিবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পাখিটি বিলুপ্ত সেই ‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’।

পাখিটি ধরে ছবি তোলা রিজকি ফাউজান বলেন, ‘এটা জেনে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল, আমরা এমন একটি পাখির প্রজাতি পেয়েছিলাম, যেটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

‘আমরা যখন পেয়েছিলাম তখন ভাবিনি যে, এটা আদৌ বিশেষ কিছু হতে পারে। আমরা ভেবেছিলাম, এটা কেবল আগে কখনও দেখিনি এমন একটি পাখির প্রজাতি হতে পারে।’

সুরেলা ‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ পাখিটি বর্ণনা পাওয়া যায় ১৮৫০ সালে রচিত বিখ্যাত ফরাসি প্রাণিবিদ ও পাখিবিদ চার্লস লুসিয়ান বোনাপার্ট রচিত প্রাণীর নমুনা নথিতে। এটি তিনি লিখেছিলেন ১৮৪০ এর দশকে ইস্ট ইন্ডিজ অঞ্চলে জার্মান ভূতাত্ত্বিক ও প্রকৃতিবিদ কার্ল এ.এল.এম শোয়ানারের সফরের ওপর ভিত্তি করে।

এরপর পাখিটি নিয়ে কোনো নমুনা বা সন্ধানের খবর পাওয়া যায়নি। পাখিটির উৎসস্থলের বিষয়টি এখন পর্যন্ত রহস্যঘেরা। এমনকি যে দ্বীপে এই পাখিটির সন্ধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল নমুনা পুস্তকে, সেই দ্বীপটির অবস্থান নিয়েও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি।

তবে দ্বীপটি ইন্দোনেশিয়ার জাভা অঞ্চলেই হতে পারে জোর ধারণা পাখিবিজ্ঞানীদের। ১৮৯৫ সালে সুইস পাখিবিদ জোহান বাটিকোফার জানিয়েছিলেন, অন্বেষণ অভিযানের সময় জার্মান প্রকৃতিবিদ শোয়ানার বোর্নিওতেই ছিলেন।

পাখিটির পুনরায় দেখা পাওয়া নিয়ে লেখা প্রতিবেদনটির মূল লেখক ইন্দোনেশিয়ান পাখি সংরক্ষণ সংগঠন বার্ডপেকারের পানজি গুস্তি আকবর। তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রোমাঞ্চকর এই আবিষ্কারে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার এসেছে দক্ষিণ-পূর্ব বোর্নিও থেকে। এর ফলে এই পাখিটির উৎপত্তি নিয়ে শতাব্দী দীর্ঘ বিভ্রান্তির অবসান হলো।’

আরও পড়ুন:
পোশাক ব্যবসা ছেড়ে পাখির প্রেমে
জলাশয়ের বিলুপ্তপ্রায় কালিম বাড়ির আঙিনায়
ভালোবাসার দিনে ‘পাখির জন্য ভালোবাসা’
কুঞ্জবনে এখন শুধুই পরিযায়ী পাখি
ওড়ার অপেক্ষায় লক্ষ্মীর সেই চার ছানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনার টিকা না নিয়েই মিলল সনদ!

করোনার টিকা না নিয়েই মিলল সনদ!

টিকা না নিয়েও অনলাইনে সনদ পেয়েছেন এস এম নূরুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা

নিবন্ধনের পর টিকা না নিলেও মঙ্গলবার এস এম নূরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে কোভিড১৯ ভ্যাক্সের মেসেজ আসে। সেখানে উল্লেখ ছিল,  ‘আপনার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।  www.surokkha.gov.bd অথবা অ্যাপ থেকে ভ্যাকসিন সনদ গ্রহণ করুন।’

করোনাভাইরাসের টিকার কোনো ডোজ না নিয়েই টিকা গ্রহণের সনদ মিলেছে। কেবল নিবন্ধন করায় অনলাইনে চলে এসেছে এই সনদ।

বিস্ময়কর এই ঘটনাটি ঘটেছে নিউজবাংলার প্রতিবেদক এস এম নূরুজ্জামানের ক্ষেত্রে।

এই প্রতিবেদক করোনাভাইরাসের টিকা নিতে গত ২৭ জানুয়ারি অনলাইনে নিবন্ধন করেন। পরে তিনি রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ কেন্দ্রীয় হাসপাতাল থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি টিকা গ্রহণের জন্য মেসেজ পান। তবে সে সময়ে ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় টিকা নিতে পারেননি।

এরপর ১২ এপ্রিল টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের নির্দেশনা আসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘কোভিড১৯ ভ্যাক্স’ এর পক্ষ থেকে। ততদিনে নূরুজ্জামান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন। ফলে ওই তারিখেও টিকা নিতে পারেননি।

এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার কোভিড১৯ ভ্যাক্সের আরেকটি মেসেজ আসে। সেখানে উল্লেখ ছিল, ‘আপনার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। www.surokkha.gov.bd অথবা অ্যাপ থেকে ভ্যাকসিন সনদ গ্রহণ করুন।’

এই মেসেজ পেয়ে অনলাইনের লিঙ্কে প্রবেশ করে নিজের নামে টিকা গ্রহণের সনদ পান এস এম নূরুজ্জামান।

টিকা না নিলেও এই সনদ কীভাবে পাওয়া গেল, সেই প্রশ্নের কোনো জবাব নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি শুরুতে দাবি করেন, এটা অসম্ভব। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকা না নিয়ে সনদ নেয় কীভাবে? এটা অসম্ভব, সনদ নিতেই পারে না, যারা এসব কথা বলছেন তারা বিভ্রান্তি অথবা গুজব ছড়াচ্ছেন।’

এরপর প্রমাণ উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ‘আসলে কোথায় ভুল হলো বুঝতে পারছি না। বিষয়টি জানিয়েছেন এজন্য ধন্যবাদ। এই তথ্য জায়গা মতো জানিয়ে দিচ্ছি।’

হালনাগাদ তথ্যের ঘাটতির কারণে অনলাইনে এমন হতে পারে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো আইসিটি মন্ত্রণালয় দেখে, তাদের কাছে প্রশ্ন করেন।’

এ বিষয়ে জানতে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে তার একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ফোন ধরেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনার জিজ্ঞাসার বিষয়ে টেক্সট করেন, মন্ত্রী মহোদয় জবাব দেবেন।’

কিছুক্ষণ পর প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক নিজেই ফোন করেন। প্রতিবেদকের কথা শুনে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলোই আমরা সংরক্ষণ ও ব্যবহার করে থাকি। এক্ষেত্রে কী হয়েছে সেটি তথ্য প্রদানকারী কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।’

টিকা না নিয়েও ‘সনদ পাওয়া’ এস এম নূরুজ্জামান সামনে কখনও সত্যি টিকা নিতে পারবেন কিনা- সেটি জানার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমও দিতে পারেননি এর উত্তর। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই, আপনারা এমআইএস পরিচালকের (অধ্যাপক মিজানুর রহমান) সঙ্গে কথা বলুন।’

আরও পড়ুন:
পোশাক ব্যবসা ছেড়ে পাখির প্রেমে
জলাশয়ের বিলুপ্তপ্রায় কালিম বাড়ির আঙিনায়
ভালোবাসার দিনে ‘পাখির জন্য ভালোবাসা’
কুঞ্জবনে এখন শুধুই পরিযায়ী পাখি
ওড়ার অপেক্ষায় লক্ষ্মীর সেই চার ছানা

শেয়ার করুন

জেন্ডার নেই বেল পেপারের

জেন্ডার নেই বেল পেপারের

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া রিভারসাইডের পমোলজিস্ট ডেভিড কার্প বলেন, ‘বিভিন্ন জাতের মরিচের নারী, পুরুষের ধারণা প্রচলিত থাকলেও তা ভুল। নারী-পুরুষ উভয় অঙ্গই আছে, এমন ফুল থেকে মরিচ হয়। এর কোনো জেন্ডার নেই।’

ক্যাপসিকাম গাছে জন্ম নেয়া ফল বেল পেপারের নিচের দিকটি কত ভাগে বিভক্ত, তা দিয়েই সেটি নারী নাকি পুরুষ বোঝা যাবে বলে একটি পোস্টে দাবি করা হয়।

গত ২৯ মার্চ ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, একটি বেল পেপার উল্টে দেখলেই সেটির জেন্ডার বোঝা যাবে।

পোস্টে লেখা হয়, ‘বেল পেপারের জেন্ডার জানতে সেটি উল্টে দেখুন। যেগুলোর নিচের দিক চার ভাগে বিভক্ত, সেগুলো স্ত্রী বেল পেপার। যেগুলোর নিচে তিনটি ভাগ, সেগুলো পুরুষ বেল পেপার।

‘স্ত্রী বেল পেপারে বিচিতে পূর্ণ থাকে, অধিক মিষ্টি হয় এবং কাঁচা খেলেই বেশি স্বাদ মেলে। অন্যদিকে পুরুষ বেল পেপার রেঁধে খাওয়াই উত্তম।’

তবে ইউএসএ টুডের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, বেল পেপারের জেন্ডার বলে কোনো কিছুর ভিত্তি বিজ্ঞানে নেই।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেসবুকের ওই পোস্টটি ৩০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। অবশ্য এর আগে কয়েক বছর ধরেই পিন্টারেস্ট, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের একটি তথ্য ছড়াতে দেখা গেছে। যদিও সেগুলো ভাইরাল হয়নি।

২০১৩ সালের কিছু টুইটবার্তায় ব্যবহারকারীরা বেল পেপারের জেন্ডার আছে বলে দাবি করেছিলেন। তারা বেল পেপারের জেন্ডার বুঝতে উল্টে পেছনের দিক পরীক্ষা করার কথাও বলেছিলেন।

গুগল ট্রেন্ডস সার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালের অক্টোবর ও ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুগলে সর্বাধিক খোঁজা হয়েছে ‘বেল পেপার জেন্ডার’।

ক্যাপসিকাম হিসেবে ফলটি পরিচিত হলেও ক্যাপসিকাম মূলত গাছের নাম, যার ফল হলো বেল পেপার।

ফ্যাক্টচেকে কী বেরিয়ে এসেছে

শুধু বেল পেপারই নয়, কোনো ফলেরই জেন্ডার নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া রিভারসাইডের পমোলজিস্ট ডেভিড কার্প বলেন, ‘বিভিন্ন জাতের মরিচের নারী, পুরুষের ধারণা প্রচলিত থাকলেও তা ভুল। নারী-পুরুষ উভয় অঙ্গই আছে, এমন ফুল থেকে মরিচ হয়। এর কোনো জেন্ডার নেই।’

এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ফ্রুট অ্যান্ড নাটসের তথ্য অনুযায়ী, বেল পেপার গাছ ‘নিখুঁত ফুলের’ জন্য সুপরিচিত। কারণ এর ফুলে বৃতি বা আবরণ, পুষ্পমণ্ডল এবং নারী ও পুরুষ প্রজনন অংশ সবই একটি করে থাকে।

ওই তথ্য অনুযায়ী, বেল পেপারের যে উৎস (ফুল), সেটিতে নারী-পুরুষ প্রজনন অঙ্গ আছে। কিন্তু ফলে তা নেই।

ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ ফুড, এগ্রিকালচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের গবেষক ট্রেসি টার্নার ২০১৯ সালে এ সংক্রান্ত একটি ব্যাখ্যা দেন।

তিনি জানান, প্রতিটি বেল পেপারেই ডিম্বাশয় থাকে যেখান থেকে বিচির জন্ম এবং প্রতিটি মরিচই স্বনিষিক্ত। প্রতিটি বেল পেপারে বিচি তৈরি হয় পরাগায়নের পর। সেসব বিচি থেকেই নতুন গাছ হয়, যেখান থেকে আবার ফল হিসেবে আসে বেল পেপার।

অরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির এক্সটেনশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বেল পেপারের ভাগগুলো কেবল এর বৈচিত্র্য আর এটি উৎপাদনের পরিবেশ সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য দিতে সহায়ক। এর বেশি কিছু নয়।

বেল পেপারে বিচির পরিমাণ দিয়ে কী বোঝা যায়

ভাইরাল পোস্টে স্ত্রী বেল পেপারে বেশি বিচি থাকার উল্লেখ রয়েছে।

কৃষিবিদরা বলছেন, যে বেল পেপার বড় বা যেগুলোতে চার-পাঁচটি ভাগ আছে, সেগুলোতে বিচি বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। তিনটি ভাগের বেল পেপারে বিচি কম থাকবে তাও নয়।

বেল পেপারটি কত বড়, তার ওপরই নির্ভর করে বিচির সংখ্যা। আবার ছোট হলেও কখনো কখনো বেল পেপারে বেশি বিচি দেখা যায়।

কোন বেল পেপার বেশি মিষ্টি

ভাইরাল পোস্টে বলা হচ্ছে, ‘স্ত্রী’ বেল পেপার বা চার ভাগের বেল পেপারগুলো তিন ভাগের ‘পুরুষ’ বেল পেপারের চেয়ে বেশি মিষ্টি।

ট্রেসি টার্নার বলছেন, বেল পেপারের বাইরের আবরণ কেমন হবে তা নির্ভর করে এটি উৎপাদনের পরিবেশ ও এর জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর। কাজেই এর সঙ্গে বেল পেপারের মিষ্টতা বা স্বাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্য যেকোনো ফল বা সবজির মতোই বেল পেপারেরও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রং বদলে যায়। এটি কাঁচা নাকি পাকা, তার ওপর নির্ভর করে এর স্বাদ-ঘ্রাণ।

সব বেল পেপারই জন্ম নেয় সবুজ রঙে। সময়ের সঙ্গে এটি পাকতে থাকে। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রথমে হলুদ, তারপর কমলা রং ধারণ করে। আর সবচেয়ে পাকা বা বুড়ো বেল পেপারের রং লাল বা বেগুনিও হতে পারে।

অন্য সব রঙের বেল পেপার সবুজ রঙের বেল পেপারের চেয়ে স্বাদে বেশি মিষ্টি।

আরও পড়ুন:
পোশাক ব্যবসা ছেড়ে পাখির প্রেমে
জলাশয়ের বিলুপ্তপ্রায় কালিম বাড়ির আঙিনায়
ভালোবাসার দিনে ‘পাখির জন্য ভালোবাসা’
কুঞ্জবনে এখন শুধুই পরিযায়ী পাখি
ওড়ার অপেক্ষায় লক্ষ্মীর সেই চার ছানা

শেয়ার করুন

স্কুল না পেরিয়েই ভারতের কনিষ্ঠতম বিলিওনিয়ার নিখিল

স্কুল না পেরিয়েই ভারতের কনিষ্ঠতম বিলিওনিয়ার নিখিল

ভারতের কনিষ্ঠতম ধনী নিখিল কামাথ। ছবি: সংগৃহীত

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগে সহায়তা করার জন্য নিখিল কামাথ গড়ে তোলেন নিজের প্রতিষ্ঠান জিরোধা। শেয়ার বাজারের পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড এবং বন্ড কেনাবেচায় দালালির কাজ করে তার প্রতিষ্ঠান।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে শুরু করেন নিজের ব্যবসা। পুরোনো ফোন কিনে তা আবার বেশি দামে বিক্রি করতেন নিখিল। বন্ধুর সঙ্গে সেই কাজ করতে গিয়ে স্কুলে ঠিকমতো যাননি তিনি।

কিন্তু বিধি বাম। একদিন ধরা পড়লেন স্কুলশিক্ষক মায়ের কাছে। কাছে থাকা ফোন কেড়ে নিয়ে ফেলে দেন টয়লেটে। মার খান মায়ের হাতে।

জোর করে ঘরে আটকে রাখা হলো নিখিলকে। সোজা রাস্তায় চলতে বাধ্য করা হয় তাকে। করা হলো ডিগ্রি অর্জনে জোরাজুরি। তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে নিখিল হয়তো সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেন ব্যবসা করবেন।

একদিন বিরক্ত হয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন তিনি। সেই নিখিলই এখন ভারতের কনিষ্ঠতম বিলিওনিয়ার। ২৪ হাজার কোটি রুপি সম্পদের মালিক নিখিল কামাথের বয়স মাত্র ৩৪ বছর।

আনন্দবাজারের খবর থেকে জানা গেছে, নিখিল কামাথ পড়াশোনা ছেড়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বাড়ি থেকে চলে যান। প্রথমে কাজ শুরু করেন এক কল সেন্টারে। সেখানে তার বেতন ছিল ৮ হাজার টাকা।

কাজ করতে হতো বিকেল ৪টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত। দিনের অন্য সময়টা কাজে লাগাতে শুরু করেন নিখিল।

শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড- এসব নিয়ে বরাবরই কৌতূহল ছিল তার। বিষয়গুলোর গভীরে ঢুকতে প্রচুর পড়াশোনা শুরু করেন সে সময়টায়।

এরপর তিনি শেয়ার বাজার নিয়েই কাজ করার সংকল্প করেন। গড়ে তোলেন নিজের প্রতিষ্ঠান জিরোধা। মূলত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে সাহায্য করে তার সংস্থা। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড এবং বন্ড কেনাবেচায় দালালির কাজও করে।

নিখিলেন বাবা রঘুনাথ কামাথ ছিলেন ব্যাংক কর্মী। ছেলের ইচ্ছা পূরণে অবশ্য অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন তিনি। শুধু বাবা নয়, তার উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন কল সেন্টারের সহকর্মীরাও।

জিরোধা ছাড়াও তার রয়েছে আরেকটি প্রতিষ্ঠান, ট্রু বেকন। বর্তমানে জিরোধার দৈনিক টার্নওভার প্রায় ১ কোটি ডলার।

২০২০ সালে ফোর্বসের প্রথম ১০০ ধনীর তালিকায় জায়গা করে নেন নিখিল। আর ২০২১ সালে হুরানের বৈশ্বিক ধনীর তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে ভারতের তরুণ ধনী হিসেবে স্থান পেয়েছেন নিখিল। শুধু ব্যবসায়ী হিসেবে নয়, একজন সফল দাবাড়ুও নিখিল। খেলেছেন জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ।

আরও পড়ুন:
পোশাক ব্যবসা ছেড়ে পাখির প্রেমে
জলাশয়ের বিলুপ্তপ্রায় কালিম বাড়ির আঙিনায়
ভালোবাসার দিনে ‘পাখির জন্য ভালোবাসা’
কুঞ্জবনে এখন শুধুই পরিযায়ী পাখি
ওড়ার অপেক্ষায় লক্ষ্মীর সেই চার ছানা

শেয়ার করুন

লিচুগাছে আম!

লিচুগাছে আম!

গাছের মালিক আবদুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে বসতবাড়িতে লিচুগাছের চারাটি রোপণ করি। তিন বছরের মাথায় ফল আসে। এবার গাছ পরিচর্যা করতে গিয়ে চোখে পড়ে লিচু সঙ্গেই একই ডালে একটি আমও হয়েছে।’

লিচুগাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে ছোট ছোট লিচু। একটি থোকায় লিচুর সঙ্গে দেখা গেল একটি আম। ঠাকুরগাঁওয়ে এমন একটি ঘটনার ছবি ছড়িয়েছে ফেসবুকে।

গাছটি সদর উপজেলার ছোটবালিয়া সিংগিয়া কোলনীপাড়া গ্রামের আবদুর রহমান মটকির। লিচুগাছে আম ধরার ঘটনা দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকেও যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

নিউজবাংলার প্রতিবেদকও রোববার যান ওই গাছ দেখতে।

বাড়ির আঙিনায় লাগানো গাছটিতে লিচুর থোকায় ওই আমটি সবচেয়ে আগে আবদুর রহমানের নাতি হৃদয়ের চোখে পড়ে। তার কাছ থেকেই পাড়ার লোকজন এই বিরল গাছের বিষয়টি জানতে পারে।

খবরটি সত্যি কি না, তা দেখতে এসেছেন ওই গ্রামের মোকারক আলী। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম হামরা শুনলাম যে লিচুগাছত আম ধরছে। প্রথমে আমি বিশ্বাস করিনি। নিজের চোখেত দেখে বিশ্বাস করছি।’

ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য হাসান আলী বলেন, ‘প্রথমে গাছের মালিক যখন আমাদের বলে আমরা বিশ্বাস করিনি। বরং উল্টা তাকে পাগল বলছি। পরে তার বাড়ি গিয়ে দেখি ঘটনাটি সত্যি।’

বিরল লিচু গাছটির মালিক আবদুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে বসতবাড়িতে লিচুগাছের চারাটি রোপণ করি। তিন বছরের মাথায় ফল আসে। এবার লিচুগাছে মনমতো মুকুল আসছে। গাছ পরিচর্যা করতে গিয়ে চোখে পড়ে লিচুর পাশে একই ডালে একটি আমও হয়েছে। এ যেন আল্লাহর নিয়ামত।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনে গাছটি দেখতে গেছিলাম। আমি প্রথমে মনে করছি হয়তো লিচুগাছে কলম করে আমগাছের চারা রোপণ করেছে। কিন্তু তা নয়।

‘সত্যিই লিচুগাছে লিচুর সঙ্গে আম ঝুলছে। পুরো গাছে একটি আমই ধরেছে। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব।’

তবে এলাকার অনেকের সন্দেহ, বিশেষ কৌশলে ওই গাছে আমটি ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
পোশাক ব্যবসা ছেড়ে পাখির প্রেমে
জলাশয়ের বিলুপ্তপ্রায় কালিম বাড়ির আঙিনায়
ভালোবাসার দিনে ‘পাখির জন্য ভালোবাসা’
কুঞ্জবনে এখন শুধুই পরিযায়ী পাখি
ওড়ার অপেক্ষায় লক্ষ্মীর সেই চার ছানা

শেয়ার করুন

নগ্ন হয়ে জুম কলে, ক্ষমা চাইলেন এমপি

নগ্ন হয়ে জুম কলে, ক্ষমা চাইলেন  এমপি

কানাডার কুইবেকের সংসদ সদস্য উইলিয়াম আমোস। ছবি: সংগৃহীত

ভার্চুয়াল সেশন চলা অবস্থায় ল্যাপটপের ক্যামেরা চালু হওয়ার পর লিবারেল পার্টির এমপি উইলিয়াস আমোস নগ্ন অবস্থায় হাজির হন। এ সময় তার হাতে মোবাইল ফোন ছিল। দুই পাশে ছিল কুইবেক ও কানাডার পতাকা।

কানাডার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের অনলাইন বৈঠকে নগ্ন হয়ে হাজির হয়েছেন এক সংসদ সদস্য (এমপি)।

অসাবধানতাবশত এমনটি হয়েছে জানিয়ে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভার্চুয়াল সেশন চলা অবস্থায় ল্যাপটপের ক্যামেরা চালু হওয়ার পর লিবারেল পার্টির এমপি উইলিয়াস আমোস নগ্ন অবস্থায় হাজির হন। এ সময় তার হাতে মোবাইল ফোন ছিল। দুই পাশে ছিল কুইবেক ও কানাডার পতাকা।

পরে বিষয়টি নিয়ে আমোস ক্ষমা চান সহকর্মীদের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই বড় ভুল করে ফেলেছি; আমি বিব্রত।’

৪৬ বছর বয়সী আমোস এ ঘটনায় একটি টুইটও করেছেন। এতে তিনি বলেন, ‘আমি জগিং করে এসে অফিসের পোশাক পরার সময় ভুলক্রমে ক্যামেরা অন হয়ে যায়।

‘সহকর্মীদের কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা চাই। এটা সত্যিই খুব বড় ভুল এবং এমন ভুল আর ভবিষ্যতে হবে না।’

কিন্তু কুইবেকের ওই এমপি কোন সেশন কিংবা কোন বিষয়ে ও কোন সময়ের মিটিংয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা জানা যায়নি।

দেশটিতে পোশাক পরার ‘বিধি ও ডেকোরামে’ সংসদ বা কোনো মিটিংয়ে বসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে সমসাময়িক পোশাককে উৎসাহিত করা হয়। এর মধ্যে বিজনেস জ্যাকেট, শার্ট ও টাই রয়েছে।

এদিকে এমপির নগ্ন হওয়ার বিষয়টি জানাজানি শুধু হাউস অব কমন্স সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বিরোধী দলের হুইপ ক্লড ডিবেলেফিউল বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে মন্তব্য করেন, দুর্ঘটনাবশত এমন কর্মকাণ্ড হলেও নিজেকে আবৃত রাখা উচিত।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো পোশাকে বাধ্যবাধকতা না থাকলেও পুরুষের ক্ষেত্রে যে পোশাকের কথা বলা আছে, শার্ট, প্যান্ট-স্যুট, তা-ই পরা উচিত। কোনোভাবেই বক্সার পরে আসা উচিত নয়। সেটা শোভনও নয়।

আরও পড়ুন:
পোশাক ব্যবসা ছেড়ে পাখির প্রেমে
জলাশয়ের বিলুপ্তপ্রায় কালিম বাড়ির আঙিনায়
ভালোবাসার দিনে ‘পাখির জন্য ভালোবাসা’
কুঞ্জবনে এখন শুধুই পরিযায়ী পাখি
ওড়ার অপেক্ষায় লক্ষ্মীর সেই চার ছানা

শেয়ার করুন

আপেলের দামে অ্যাপলের আইফোন

আপেলের দামে অ্যাপলের আইফোন

টেসকোর সপ্তাহব্যাপী ‘সুপার সাবস্টিটিউটস’ প্রচারের অংশ হিসেবে দেয়া হয়েছে এ উপহার। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সৌভাগ্যবান ৮০ জন ক্রেতাকে চমকে দিতে উপহারের তালিকায় রাখা হয়েছে এয়ারপড, স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাব এ-সেভেনের মতো পণ্য।

ব্রিটিশ বহুজাতিক অনলাইন সুপারমার্কেট চেইন টেসকোর ওয়েবসাইটে দিনের বাজারসদাই করতে ঢুকেছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নিক জেমস। আপেলসহ টুকটাক বিভিন্ন পণ্য অর্ডারও করেন তিনি। কল্পনাতেও ছিল না বাজারের থলেতে কী বিস্ময় অপেক্ষা করছে তার জন্য।

গত বুধবার বয়ে আনা ব্যাগ খোলার আগেই সুপারমার্কেট কর্মী তাকে বলেছিলেন, দারুণ এক ‘সারপ্রাইজ’ অপেক্ষা করছে। এতেও তেমন অবাক হননি নিক। ভেবেছিলেন বিনা মূল্যে ডিম বা এ-জাতীয় কিছু পেয়েছেন হয়তো।

কিন্তু নিককে চমকে দিয়ে ব্যাগ থেকে বের হয়ে আসে বক্সসমেত একটি আইফোন এসই। সঙ্গে টেসকোর দেয়া একটি ছোট্ট চিঠি। এ থেকে তিনি জানতে পারেন, যে আপেল কিনতে অর্ডার প্লেস করেছিলেন তিনি, তার বদলে দেয়া হয়েছে আইফোনটি।

এমন ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাজ্যের টুইকেনহ্যামে। ভুলে নয়, বাণিজ্যিক প্রচারের অংশ হিসেবে আপেল কেনার বিনিময়ে উপহার দেয়া হয়েছে ব্রিটিশ মুদ্রায় ৪০০ পাউন্ড মূল্যের স্মার্টফোনটি।

টেসকোর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য মিরর জানিয়েছে, সপ্তাহব্যাপী ‘সুপার সাবস্টিটিউটস’ প্রচারের অংশ হিসেবে দেয়া হয়েছে এ উপহার। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সৌভাগ্যবান ৮০ জন ক্রেতাকে চমকে দিতে উপহারের তালিকায় রাখা হয়েছে এয়ারপড, স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাব এ-সেভেনের মতো পণ্য।

আইফোনটি পাওয়ার পরপরই টুইটারে ছবিসহ এ খবর জানান নিক জেমস, যা ভাইরাল হয় মুহূর্তেই।

আরও পড়ুন:
পোশাক ব্যবসা ছেড়ে পাখির প্রেমে
জলাশয়ের বিলুপ্তপ্রায় কালিম বাড়ির আঙিনায়
ভালোবাসার দিনে ‘পাখির জন্য ভালোবাসা’
কুঞ্জবনে এখন শুধুই পরিযায়ী পাখি
ওড়ার অপেক্ষায় লক্ষ্মীর সেই চার ছানা

শেয়ার করুন

এমপির মায়ের শ্রাদ্ধে লকডাউন ভেঙে হাজারও মানুষ

এমপির মায়ের শ্রাদ্ধে লকডাউন ভেঙে হাজারও মানুষ

এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার মায়ের বাৎসরিক শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে অংশ নেন হাজারো মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

গণভোজে দীঘিনালা উপজেলার ত্রিপুরা-অধ্যুষিত জামতলী গ্রামের পাশাপাশি দূরদূরান্তের কয়েক হাজার মানুষ যোগ দেন। প্রতি ব্যাচে পাঁচ শতাধিক মানুষের খাবার মেন্যুতে ছিল মাছ, সবজি ও ডাল। অতিথির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বেলা ২টার পর তৈরি হয় খাবার-সংকট।

খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার মায়ের বার্ষিক শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধের মধ্যেই শনিবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জামতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার মা উমাদিনী ত্রিপুরা গত বছরের ২৯ মার্চ বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

মায়ের বার্ষিক শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান উপলক্ষে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার গ্রামের বাড়িতে শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয় বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় গণভোজ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণভোজে দীঘিনালা উপজেলার ত্রিপুরা-অধ্যুষিত জামতলী গ্রামের পাশাপাশি দূরদূরান্তের কয়েক হাজার মানুষ যোগ দেন। প্রতি ব্যাচে পাঁচ শতাধিক মানুষের খাবার মেন্যুতে ছিল মাছ, সবজি ও ডাল। অতিথির সংখ্যা বেড়ে যাওয়া বেলা ২টার পর তৈরি হয় খাবার-সংকট।

অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করতে দেখা যায়নি। প্রতিটি টেবিলে ১২ জন করে নারী, পুরুষ, শিশু একসঙ্গে বসে খাবার গ্রহণ করেন। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরীসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিও দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি অবশ্যই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যবিধির পরিপন্থি। যেহেতু তিনি একজন এমপি, তাই সে বিষয়টি প্রশাসন দেখবে।’

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসকে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। তবে দিঘিনালা থানার ওসি উত্তম চন্দ্র দেব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান হয়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’

অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনকার পরিস্থিতিতে এমন অনুষ্ঠান করা, এমনকি সেখানে আমার উপস্থিত হওয়া উচিত হয়নি। তবে ধর্মীয় ব্যাপার বলে সেখানে গিয়েছি।’

লকডাউনের সময়ে এ ধরনের আয়োজন নিয়ে এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার বক্তব্য জানা যায়নি। একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

আরও পড়ুন:
পোশাক ব্যবসা ছেড়ে পাখির প্রেমে
জলাশয়ের বিলুপ্তপ্রায় কালিম বাড়ির আঙিনায়
ভালোবাসার দিনে ‘পাখির জন্য ভালোবাসা’
কুঞ্জবনে এখন শুধুই পরিযায়ী পাখি
ওড়ার অপেক্ষায় লক্ষ্মীর সেই চার ছানা

শেয়ার করুন