এবারের হুম গুটি পুব্বার

এবারের হুম গুটি পুব্বার

হাজার হাজার খেলোয়াড় ১ মণ ওজনের গুটি টানাহেঁচড়া করে। একপর্যায়ে সেটি জনসমুদ্রে হারিয়ে যায়। গুটিটি আর চোখে পড়ে না। শুধু মানুষ আর মানুষের ভিড় দেখা যায়। এ কারণে খেলাটির নামকরণ হয়েছে হুম গুটি।

ময়মনসিংহের ফুলাবাড়িয়া উপজেলা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী হুম গুটি খেলা। ২৬২তম আসরের এই খেলায় বিজয়ী দল পুব্বা (পূর্ব এলাকার মানুষজন)।

বিকেলে উপজেলার ৪নং বালিয়ান ইউনিয়নের তেলীগ্রামের বরইআটার বিশাল এলাকাজুড়ে ধানখেতে এ খেলা হয়। ধানকাটা শেষে বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ফাঁকা। সেখানে ১ মণ ওজনের একটি বল দখলের এই খেলায় অংশ নেয় ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। খেলা চলে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

প্রতি বছর পৌষসংক্রান্তির দিন জমিদার আমলের তালুক-পরগনার সীমানায় এই খেলা হয়। এ খেলার নেই কোনো আয়োজক, নেই পুরস্কার। তার পরও এই খেলা ঘিরে এলাকার মানুষের আবেগের অন্ত নেই। লক্ষ্মীপুর গ্রামে দিনভর বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।

প্রতিবছর একই স্থানে পৌষের শেষ বিকেলে সমবেত হয় হাজার হাজার গুটি খেলোয়াড়। তাদের মুখে শোনা যায় ‘জিততই আবা দিয়া গুটি ধররে...হেইও’ স্লোগান।

স্থানীয় প্রবীণদের কাছ থেকে জানা গেছে, মুক্তাগাছার তৎকালীন জমিদার রাজা শশীকান্তের সঙ্গে ত্রিশাল বৈলরের হেমচন্দ্র রায় জমিদারের জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জমিদার আমলের শুরু থেকেই তালুকের প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল ১০ শতাংশে, আর পরগনার প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ করা হতো সাড়ে ৬ শতাংশে।

কথিত আছে, একই জমিদারের ভূখণ্ডে দুই নীতির তীব্র প্রতিবাদ হয়। জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসায় তেলীগ্রামের বড়ইআটা এলাকায়, তালুক-পরগনার সীমানায় এ গুটি খেলার আয়োজন করা হয়। শর্ত ছিল গুটিটি যে দিকে যাবে তা হবে তালুক, আর পরাজিত অংশ হবে পরগনা।

আজও তালুক-পরগনার জমির পরিমাপ একই ভাবে চলছে। ১ মণ ওজনের পিতলের গুটি ঢাক-ঢোলের তালে-তালে নেচে গেয়ে তালুক-পরগনার সীমানায় আনা হয়। এরপর শুরু হয় গুটি কারা দখলে নিয়ে সেই চেষ্টা।

এই খেলাকে ঘিরে লক্ষ্মীপুর, বড়ইআটা, ভাটিপাড়া বালাশ্বর, শুভরিয়া, কালীবাজাইল, চামারবাজাইল, তেলিগ্রাম, সারুটিয়া, গড়বাজাইল, বাসনা, দেওখোলা, কুকরাইল, বরুকা, আন্ধারিয়াপাড়া, দাসবাড়ী, কাতলাসেনসহ আশপাশের গ্রামে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।

ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা পরে নতুন নতুন জামা কাপড়। শতাধিক গরু জবাই হয় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে। গুটি খেলা এক নজর দেখার জন্য দূরান্তের আত্মীয়স্বজনরা বেড়াতে আসে। এসব গ্রামের মেয়েরা নায়র আসে তাদের বাবার বাড়ি।

খেলা শুরু হয় বিকেলে। কিন্তু সকাল থেকে পার্শ্ববর্তী মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, ভালুকা উপজেলা থেকে শত শত মানুষ সমবেত হয়।

তালুক-পরগনার সীমানা লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ইআটা নতুন ব্রিজ। সেখানে এক সময় জমিদারের প্রজারা শক্তি প্রদর্শনের এই খেলায় মেতেছিল। আজও তাই করা হয়।

হাজার হাজার খেলোয়াড় ১ মণ ওজনের গুটি টানাহেঁচড়া করে। একপর্যায়ে সেটি জনসমুদ্রে হারিয়ে যায়। গুটিটি আর চোখে পড়ে না। শুধু মানুষ আর মানুষের ভিড় দেখা যায়। এ কারণে খেলাটির নামকরণ হয়েছে হুম গুটি।

mymen

তেলীগ্রাম গ্রামের মামুনুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, অন্তত ২৬২ বছর আগে থেকে চলে আসছে এই খেলা। এই খেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের সব গ্রামে উৎসব হয়।

তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থাইক্যাই আমি এই খেলা দেখে আসতাছি। আমার মনে অয়, এই খেলা আমরার আবেগের জায়গা। মজার ঘটনা, এত এত মানুষ আসে। কাড়াকাড়ি করে। কিন্তু এই নিয়ে মারামারি অয় না। বরং সব ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া শক্তিপরীক্ষায় অংশ লই। খুব মজা হয়।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২ হাজার বছর আগের চার চাকার গাড়ি!

২ হাজার বছর আগের চার চাকার গাড়ি!

ইতালির পম্পেইয়ে পাওয়া প্রায় দুই হাজার বছর আগের চার চাকার গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

গাড়িটি পাওয়া যায় ইতালির পম্পেওর সিভিটা গিলিয়ানা এলাকায়, প্রাচীন নগরীটির উত্তর দিকের দেয়াল ঘেঁষা সে সময়ের ভবনের প্রবেশ পথের পাশে। গাড়িটিতে রয়েছে ‘লোহার উপাদান, পরিষ্কার ব্রোঞ্জ, টিনের সাজসজ্জা ও পুষ্পখচিত কারুকাজ। সবকিছুই ‘প্রায় অক্ষত’।

প্রাচীন রোমান নগর বর্তমান ইতালির নেপলসের পম্পেইয়ে সেই সময়ের চার চাকার একটি গাড়ির সন্ধান মিলেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, ঘোড়া টানার রথটি প্রায় দুই হাজার বছর আগের।

পম্পেইয়ের যে জায়গা থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তিনটি ঘোড়ার কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছিল তার ঠিক পাশেই পাওয়া যায় গাড়িটি।

এটি সম্ভবত উত্সব উপলক্ষে ও প্যারেডে ব্যবহার করা হতো বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এই আবিষ্কারকে ‘ব্যতিক্রমী’ উল্লেখ করে তারা বলছেন, গাড়িটি ‘সংরক্ষণের দারুণ একটি অবস্থায়’ আছে।

ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ৭৯ খ্রিস্টাব্দে ধ্বংস্তুপে পরিণত হয় পম্পেই। আগ্নেয়গিরির লাভার পুরো আস্তরণে ঢেকে যায় নগরীটি। চাপা পড়ে অনেক মানুষ ও ভবন। সেই পম্পেই এখন প্রত্নতাত্ত্বিক গুপ্তধনের ভান্ডার।

রথটি পাওয়া যায় পম্পেওর সিভিটা গিলিয়ানা এলাকায়, প্রাচীন নগরীটির উত্তর দিকের দেয়াল ঘেঁষা সে সময়ের ভবনের প্রবেশ পথের পাশে।

পম্পেই পার্কের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাড়িটিতে রয়েছে ‘লোহার উপাদান, পরিষ্কার ব্রোঞ্জ, টিনের সাজসজ্জা ও পুষ্পখচিত কারুকাজ। সবকিছুই ‘প্রায় অক্ষত’।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, খনন কাজের সময় ৭ জানুয়ারি গাড়িটির প্রথম সন্ধান পাওয়া যায়। নিরাপদে সেটি উদ্ধারে লেগেছে কয়েক সপ্তাহ। রথের উপকরণগুলো ভঙ্গুর হওয়ার শঙ্কায় উদ্ধারকাজটি ছিল জটিল। উদ্ধার নিখুঁত করতে প্লাস্টার মডিউলিংসহ অবলম্বন করা হয়েছে বিশেষ কিছু কৌশল।

অবৈধ টানেল ব্যবহার করে বা অন্য কোনো উপায়ে কোনো ধরনের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন চুরি ঠেকাতে পুরো কাজটির তদারকিতে ছিল স্থানীয় প্রসিকিউটর অফিস।

গাড়িটি অক্ষত অবস্থায় রাখতে প্রত্নতত্ত্ববিদদের চেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত

রথটিকে ইতালিতে পাওয়া অন্যান্য প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন থেকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে। পম্পেও পুরাকীর্তি এলাকার পরিচালক মাস্সিমো ওসানা। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এটা অসাধারণ এক আবিষ্কার, এটা প্রাচীন বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের জানাশোনা এগিয়ে নেবে।’

ওসানা জানান, গাড়িটির সাজসজ্জা দেখে মনে হচ্ছে, এটি সে সময়ের সেখানকার সম্প্রদায়ের বিয়ে বা এ জাতীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হতো। নববধূকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

গাড়িটিতে রয়েছে নানা ধরনের কারুকাজ। ছবি: সংগৃহীত

ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রী দারিও ফ্রানচেসিনি বলেন, ‘পম্পেই এসব আবিষ্কার দিয়ে আমাদের বিস্মিত করেই চলছে। এমনটা আরও অনেক বছর অব্যাহত থাকবে। কেননা, ২০ হেক্টর এলাকা এখনও খননের বাকি।’

নেপলসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ২৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত প্রাচীন পম্পেই নগরী। এটি ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত। এলাকাটি ইতালির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। তবে করোনা মহামারির কারণে পম্পেই এখন বন্ধ আছে।

শেয়ার করুন

বিলুপ্ত পাখি ফিরে এলো ১৭২ বছর পর

বিলুপ্ত পাখি ফিরে এলো ১৭২ বছর পর

‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ পাখি। ছবি: সংগৃহীত

‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ নামের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম মালাকোচিনকলা পার্সপিসিলাতা; এটিকে বিশেষজ্ঞরা ইন্দোনেশিয়ান পাখি বিজ্ঞানের সবচেয়ে রহস্যময় পাখি হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

১৭২ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে ধারণা করা একটি প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও রেনফরেস্টে। এমনই এক ঘোষণা দিয়েছে পাখি সংরক্ষণে একটি সংগঠন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পাখি সংরক্ষণে চ্যারিটি সংগঠন ‘ওরিয়েন্টাল বার্ড ক্লাব’ গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ নামের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম মালাকোচিনকলা পার্সপিসিলাতা; এটিকে বিশেষজ্ঞরা ইন্দোনেশিয়ান পাখি বিজ্ঞানের সবচেয়ে রহস্যময় পাখি হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

ওয়েন্টাল বার্ড ক্লাবের দাবি, সম্প্রতি এই প্রজাতির পাখি দেখতে পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ কালিমান্তান রাজ্যের স্থানীয় দুই বাসিন্দা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুহাম্মাদ সুরান্তো ও মুহাম্মাদ রিজকি ফাউজান নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দা তাদের আবাসস্থলের অদূরে বন্য সামগ্রী জড়ো করছিলেন। হঠাৎ একটি অপরিচিত পাখির প্রজাতি দেখে থমকে যান তারা। পাখিটি ধরার পর কয়েকটি ছবি তোলেন, এরপর ছেড়ে দেন।

ছবিগুলো নিয়ে দুইজন পাখি গবেষণায় জড়িত স্থানীয় দুটি সংগঠন ‘বিডব্লিউ গ্যালিটাস’ ও ‘বার্ডপ্যাকার’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পাখিটি প্রায় পৌনে দুইশ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ হতে পারে বলে ধারণা করে সংগঠন দুটি। এরপর ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের পাখিবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পাখিটি বিলুপ্ত সেই ‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’।

পাখিটি ধরে ছবি তোলা রিজকি ফাউজান বলেন, ‘এটা জেনে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল, আমরা এমন একটি পাখির প্রজাতি পেয়েছিলাম, যেটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

‘আমরা যখন পেয়েছিলাম তখন ভাবিনি যে, এটা আদৌ বিশেষ কিছু হতে পারে। আমরা ভেবেছিলাম, এটা কেবল আগে কখনও দেখিনি এমন একটি পাখির প্রজাতি হতে পারে।’

সুরেলা ‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ পাখিটি বর্ণনা পাওয়া যায় ১৮৫০ সালে রচিত বিখ্যাত ফরাসি প্রাণিবিদ ও পাখিবিদ চার্লস লুসিয়ান বোনাপার্ট রচিত প্রাণীর নমুনা নথিতে। এটি তিনি লিখেছিলেন ১৮৪০ এর দশকে ইস্ট ইন্ডিজ অঞ্চলে জার্মান ভূতাত্ত্বিক ও প্রকৃতিবিদ কার্ল এ.এল.এম শোয়ানারের সফরের ওপর ভিত্তি করে।

এরপর পাখিটি নিয়ে কোনো নমুনা বা সন্ধানের খবর পাওয়া যায়নি। পাখিটির উৎসস্থলের বিষয়টি এখন পর্যন্ত রহস্যঘেরা। এমনকি যে দ্বীপে এই পাখিটির সন্ধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল নমুনা পুস্তকে, সেই দ্বীপটির অবস্থান নিয়েও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি।

তবে দ্বীপটি ইন্দোনেশিয়ার জাভা অঞ্চলেই হতে পারে জোর ধারণা পাখিবিজ্ঞানীদের। ১৮৯৫ সালে সুইস পাখিবিদ জোহান বাটিকোফার জানিয়েছিলেন, অন্বেষণ অভিযানের সময় জার্মান প্রকৃতিবিদ শোয়ানার বোর্নিওতেই ছিলেন।

পাখিটির পুনরায় দেখা পাওয়া নিয়ে লেখা প্রতিবেদনটির মূল লেখক ইন্দোনেশিয়ান পাখি সংরক্ষণ সংগঠন বার্ডপেকারের পানজি গুস্তি আকবর। তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রোমাঞ্চকর এই আবিষ্কারে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার এসেছে দক্ষিণ-পূর্ব বোর্নিও থেকে। এর ফলে এই পাখিটির উৎপত্তি নিয়ে শতাব্দী দীর্ঘ বিভ্রান্তির অবসান হলো।’

শেয়ার করুন

৭৪ বছরের দাম্পত্য, ফের মালাবদল

৭৪ বছরের দাম্পত্য, ফের মালাবদল

৭৪ বছরের দাম্পত্য জীবন পার করে ফের বিয়ের পিঁড়িতে ৯২ বছর বয়সী বৈদ্যনাথ দেবশর্মা ও ৮০ বছরের পঞ্চবালা দেবশর্মা।। ছবি: নিউজবাংলা।

৭৪ বছর আগে বৈদ্যনাথের বয়স যখন ১৮ ছিল তখন ১৩ টাকা পণ (যৌতুক) দিয়ে ছয় বছর বয়সী পঞ্চবালাকে বিয়ে করে আনেন। বর্তমানে বৈদ্যনাথ ও পঞ্চবালার পিঁড়ির (প্রজন্ম) সদস্য মোট ৫৪ জন।

বিয়ের পর পঞ্চম পিঁড়ি (প্রজন্ম) ঘরে আসার পর ভেঙে যায় স্বামী-স্ত্রীর পুরোনো দাম্পত্য সম্পর্ক। এরপর একসঙ্গে থাকতে হলে নবায়ন করতে হয় বিয়ে। গোষ্ঠীগত এই বিধান মেনে ফের বিয়ের মালা বদল করলেন ৯২ বছরের বৈদ্যনাথ দেবশর্মা ও ৮০ বছরের পঞ্চবালা দেবশর্মা।

অশীতিপর বর ও কনের দাম্পত্য জীবন নবায়নের সাক্ষী হয়েছেন দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।

উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম দক্ষিণ মোড়গাঁওয়ে লৌকিক রীতি মেনে ২১ ফেব্রুয়ারি ফের বিয়ে করেন বৈদ্যনাথ ও পঞ্চবালা।

এই বিয়েতে অতিথি আমন্ত্রণে ছাপানো হয়েছিল ৫০০ কার্ড, তবে শেষ পর্যন্ত দর্শনার্থী ছিলেন হাজার মানুষ।

৭৪ বছর আগে বৈদ্যনাথের বয়স যখন ১৮ ছিল তখন ১৩ টাকা পণ (যৌতুক) দিয়ে ছয় বছর বয়সী পঞ্চবালাকে বিয়ে করে আনেন।

বর্তমানে বৈদ্যনাথ ও পঞ্চবালার পিঁড়ির (প্রজন্ম) সদস্য মোট ৫৪ জন, যাদের বেশির ভাগই কৃষিকাজে জড়িত।

তাদের একমাত্র মেয়ে ঝিলকো বালার তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। এই পরিবারে পঞ্চম প্রজন্মের শিশুটি জন্ম নিয়েছে প্রায় সাত মাস আগে।

বৈদ্যনাথ ও পঞ্চবালার পরিবারে পঞ্চম প্রজন্মের হিসাবটি এ রকম: তাদের মেয়ে ঝিলকো বালার মেয়ে যমুনা দেবশর্মা, যমুনার ছেলে প্রসেঞ্জিৎ সরকার, প্রসেঞ্জিৎ-এর মেয়ে (নবজাতক) তনুশ্রী সরকার।

আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ আসেন ব্যতিক্রমধর্মী বিয়ে দেখতে। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্জিকা মেনে রোববার রাতে শুভলগ্নে মালাবদল করেন বৈদ্যনাথ ও পঞ্চবালা। সত্যনারায়ণ পূজা, অধিবাস, বরানুগমনসহ হিন্দু রীতির বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতাই ছিল সেখানে। তবে দশকের পর দশক এক ঘরে থাকার কারণে বাদ দেয়া হয় শুভদৃষ্টির বিষয়টি।

বৈদ্যনাথ দেবশর্মা পেশায় একজন কৃষক। ১৯৭২ সাল থেকে টানা ১৪ বছর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যও ছিলেন।

ছয় যুগেরও আগে প্রথমবারের সাদামাটা বিয়ে নিয়ে এখনও আক্ষেপ আছে বৈদ্যনাথের। তবে এবার আগের স্ত্রীকেই নতুন করে ঘরে তুললেও ধুমধাম আয়োজনে তিনি উচ্ছ্বসিত।

বৈদ্যনাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলে আমার বিয়ে হওয়ায় সেই সময় ধুমধাম বা আনন্দ কিছুই ছিল না। এবারের বিয়েতে অনেক আনন্দ হচ্ছে।

‘শেষ সময়ে মেয়ে-নাতি-নাতনিরা আমাদের জন্য যা করেছে তা বলার মতো নয়। আমি পঞ্চবালাকে ছেড়ে কোনো দিন থাকতে পারিনি।’

পঞ্চবালাও খুশি আগের বর ফিরে পেয়ে। তিনি বলেন, ‘যখন আমার বিয়ে হয় সেই সময় আমি খুব ছোট ছিলাম। সেই সময়কার কথা কিছুই বলতে পারি না। তবে এখন নাতি-পুতিরা আবার বিয়ে দিল। আমার খুব ভালো লাগছে।’

বৈদ্যনাথ ও পঞ্চবালার একমাত্র মেয়ে ঝিলকো বলেন, ‘বিয়েতে আমরা আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছি। সবাই এসেছেন। এটা মূলত মঙ্গল ও পরিবারের ভালোর জন্য করেছি।’

বিয়ের আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা বৈদ্যনাথের নাতি ফটিক চন্দ্র সরকার বলেন, ‘এক মাস আগে দিদা-দাদুর বিয়ে নিয়ে আলোচনা করি। আমরা তার নাতি, আবার আমাদেরও নাতি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে মিলেই তাদের বিয়ের আয়োজন করেছি।’

পাশের কাহারোল উপজেলা থেকে আসা আত্মীয় লিপা রানী দেবশর্মা বলেন, ‘এ ধরনের বিয়ে আমি কখনও দেখি নাই। এখানে এসে খুব আনন্দ করেছি।’

বিয়ের পুরোহিতের দায়িত্বে থাকা মহাদেব ভট্টাচার্য বলেন, ‘এর আগে এমন বিয়ে দিইনি। তবে তারা যে আয়োজন করেছেন তা সত্যিই আনন্দের।’

শেয়ার করুন

এক বইয়ের দাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা!

এক বইয়ের দাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা!

লেখক, গবেষক ও আর্ট কিউরেটর এবাদুর রহমান। ফাইল ছবি

এবাদুর রহমানের তৃতীয় উপন্যাস মজনু শাহ ফকিরা মুদ্রিত হবে মাত্র ১৭ কপি। ইউরোপে প্রতি কপি বইয়ের দাম হবে ৩ লাখ টাকা। ইতালির এক শিল্পী মরক্কো চামড়ায় এটি বাঁধাই করবেন।

লেখক, গবেষক ও আর্ট কিউরেটর এবাদুর রহমান তার তৃতীয় উপন্যাস মজনু শাহ ফকিরা লিখেছেন প্রায় ১৬ বছর ধরে। উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে ব্রিটিশ শাসনপূর্ব উত্তর ভারতের রাজ্য আওয়াধের শেষ নবাব ওয়াজিদ আলী খাঁর রান্নাঘরে কাজ করা একজন তরুণ ফরাসি বাবুর্চিকে ঘিরে।

এবাদুর রহমান তার এক ফেসবুক পোস্টে ঘোষণা দিয়েছেন এই উপন্যাসটি ছাপা হবে মাত্র ১৭ কপি। প্রতি কপির আন্তর্জাতিক দাম ধরা হয়েছে ৩ লাখ টাকা। আর বাংলাদেশের কেউ কিনতে চাইলে দাম পড়বে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।

একটি বিশেষ প্রদর্শনী করে এ বই উন্মোচন করবেন তিনি।

শুধু সীমিত মুদ্রণই নয়, বইটির বাঁধাই ও অঙ্গসৌষ্ঠবেও অভিনবত্ব থাকবে। এটি নিজেই হয়ে উঠবে একটি শিল্পকর্ম।

এবাদুর রহমান তার ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, সাধারণ কোনো প্রেসে ছাপা হবে না বইটি। এর ফন্টের নকশাও করা হয়েছে বিশেষভাবে।

এবাদ লিখেছেন, হাতে বানানো এসিড-ফ্রি কাগজে, জাফরান ও মধু মেশানো তাবিজ লেখার একটি বিশেষ কালিতে বইটি ছাপা হবে। রেনেসাঁস আমলে উত্তর ইউরোপীয় পন্ডিতেরা, আলেপ্পো থেকে আসা বইকে যে মরক্কো লেদারের পুট খোলা বিশেষ বাঁধাইতে আবদ্ধ করতেন, তা প্রয়োগ করে বইটি বাঁধাই করবেন ইতালিতে বসবাসকারী এমন একজন শিল্পী, যার পরিবার ৬০০ বছর ধরে বাঁধাই পেশায় নিয়োজিত আছেন।

তবে উপন্যাসটির শেষ তিনটি পাতা এখনও লেখা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, বছরের একটি বিশেষ দিনে তিনি ‘মজনু শাহ ফকিরা’র শেষ তিনটি পাতা লিখবেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে এবাদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেষ তিন পাতা লিখব ৭ সেপ্টেম্বর, আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখেন। এই বইয়ের শেষ শব্দ ও প্রথম শব্দ এক। কিন্তু শব্দের ওজন আলাদা রাখতে ৭ সেপ্টেম্বরই লিখে শেষ করতে হবে।’

বই বিক্রির শর্তও জুড়ে দিয়েছেন এবাদ। তিনি লিখেছেন, ‘কাউকে ২ কপির বেশি বহি দিবো না। ভারতীয় নাগরিকদের কাছে বহি বেঁচবো না। যাঁরা বই কিনবেন তাঁরা যদি আমার অপরিচিত হন, আমি আপনাদের সাথে আলাপ করবো, অন্তত একবার একসাথে বসে খাওয়াদাওয়া করবো, তারপর যদি আমার ইচ্ছা না হয়, তাইলে বহি দিবো না।’

এই ১৭ কপির পরে আর কখনও বইটি ছাপা হবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

১৭ পাঠকের বাইরে বাকি পাঠকেরা কিভাবে বইটি পাবেন, জানতে চাওয়া হলে এবাদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাবেন না। ছাপা হওয়া জ্ঞানের ব্যবসা গণতান্ত্রিক নয়। কিন্তু গল্প বলা ও শোনা আমাদের সংস্কৃতিতে একটি গণতান্ত্রিক চর্চা। যারা লিখিত ও ছাপা বই সংগ্রহ করতে পারবেন না, তারা আমার করা প্রদর্শনীতে হয়তোবা আমার বা অন্য কথকের মুখে গল্প শুনে, আমাদের অভিনয় দেখে, প্রশ্ন করে গল্পের অভিজ্ঞতাটি অন্যভাবে নিতে পারবেন।’

উপন্যাসের কাহিনি সম্পর্কে এবাদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তির ৪০ বছর সময়কালে এই উপন্যাসের বেশির ভাগ ঘটনা বিস্তার পাবে। কিন্তু বদীউদ্দীন শাহ-ই-মাদারের সিলসিলাভুক্ত ফকির ও দরবেশগণ ও শাহ সুলতান বলখি মাহীসওয়ারির কেরামতি একজন বিধর্মী ও বিদেশি মনে যে উপলব্ধি ও প্রেম জাগিয়েছিল, তাই এই উপন্যাসের মূল উপপাদ্য।’

এবাদুর রহমানের প্রথম উপন্যাস দাস ক্যাপিটাল প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। ২০১১ সালে বেরিয়েছিল দ্বিতীয় উপন্যাসগুলমোহর রিপাবলিক

সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ফিল্যাক শহরে তার কিউরেশনে ‘দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন’ শিরোনামে একটি প্রদর্শনী হয়েছে। হীরালাল সেনের জীবনীভিত্তিক তার লেখা একটি ইংরেজি নাটক লন্ডনে শীঘ্রই মঞ্চায়িত হবে। হীরালালের চরিত্রে অভিনয় করছেন রেজ কবির। মুকুল আহমেদ নাটকটি পরিচালনা করবেন।

এবাদুর রহমানের চিত্রনাট্য অবলম্বনে বানানো চলচ্চিত্র আলফা কিছুদিন আগে বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে। এর আগে গেরিলা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য ও সংলাপের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

লেখক সম্প্রতি গবেষণার কাজে ভিয়েনা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থান করছেন।

নূতন উপন্যাস বিক্রি সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি: গত ১৬ বছর ধরে আমি একটি উপন্যাস শেষ করার চেষ্টা করছিলাম। উপন্যাসটির নাম "...

Posted by Ebad Ebad on Saturday, February 6, 2021

শেয়ার করুন

করোনা আক্রান্তদের কাছে এল শেষকৃত্যের বিজ্ঞাপন

করোনা আক্রান্তদের কাছে এল শেষকৃত্যের বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকা অনেকেই আঁতকে উঠেছেন নগর কর্তৃপক্ষের পাঠানো একটি চিঠির খাম দেখে। কারণ, ওই খামের ওপরেই ছিল মারা যাওয়ার পর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানের বড়সড় এক বিজ্ঞাপন।  

সরকারি কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যগত নানান পরামর্শ নিয়ে পাশে থাকবে, এমনটাই চান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ। সেরে উঠতে কোন ওষুধ খেতে হবে, কোয়ারেন্টিনের সঠিক নিয়ম কী অথবা অবস্থা খারাপ হলে কোথায় যেতে হবে, সেটাই জানতে চান সবাই।

তবে জাপানের ওসাকা শহরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছে সরকারিভাবে চলে এসেছে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিজ্ঞাপন!

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকা অনেকেই আঁতকে উঠেছেন নগর কর্তৃপক্ষের পাঠানো একটি চিঠির খাম দেখে। কারণ, ওই খামের ওপরেই ছিল মারা যাওয়ার পর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানের বড়সড় এক বিজ্ঞাপন।

গত মাসে এই কাণ্ডের পর ওসাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাপানের আশাহি শিম্বুন পত্রিকাকে বলেছেন, বিজ্ঞাপনটি ছিল ‘চরম গাফিলতিজনিত ত্রুটি’।

তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি চিঠির প্রাপকেরা কতটা আঘাত পেয়েছেন, এজন্য আমরা আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থী।’

তবে এই ক্ষমাপ্রার্থনায় মনের ধকল কাটেনি বহু প্রাপকের। তাদেরই একজন আশাহি শিম্বুনকে বলেছেন, ‘এমন দায়িত্বহীনতায় আমি মনের দিক থেকে ভেঙে পড়েছি।’

অর্থকড়ির জোগান বাড়াতে ওসাকার নগর সরকার ২০০৬ সাল থেকে তাদের অফিসিয়াল চিঠির খামের ওপরে বিজ্ঞাপনের জায়গা বিক্রি করছে। করোনা মহামারির সময়টিকে ‘উপযুক্ত’ বিবেচনা করে এই জায়গাটি সম্প্রতি বিজ্ঞাপনের জন্য কিনে নেয় ওসাকা নগর ফিউনেরাল হল কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে ছয় লাখ খামে ছাপা হয়েছে তাদের বিজ্ঞাপন।

বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা ফোন নম্বরটিও বেশ আতঙ্কজনক। পুরো নম্বরের মাঝখানে পাশাপাশি থাকা ৫-৬-৭ নম্বরটি জাপানি ভাষায় উচ্চারণ হয় গো-রো-না হিসেবে, যার সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে করোনার।

ওসাকা নগর কর্তৃপক্ষ অর্থের জন্য বিজ্ঞাপনের এই দরজা উন্মুক্ত করলেও তাতে খুব একটা আয় বাড়েনি। প্রতি দুই লাখ খামের বিজ্ঞাপন বাবদ তারা পাচ্ছে মাত্র এক লাখ ইয়েন, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ টাকা।

করোনা আক্রান্ত ওসাকার এক বাসিন্দা এই বিজ্ঞাপনসহ চিঠি পেয়ে প্রচণ্ড বিরক্ত। তিনি বলছিলেন, ‘আমি মোটেই মনে করি না, সামান্য কিছু অর্থের জন্য এ ধরনের বিজ্ঞাপন নেয়া ঠিক হয়েছে। প্রশাসনিক খামের জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের বিজ্ঞাপন একেবারেই অনুপযুক্ত।’

শেয়ার করুন

মোরগের দিন শেষ, ডিম ফুটে বের হবে শুধু মুরগি ছানা

মোরগের দিন শেষ, ডিম ফুটে বের হবে শুধু মুরগি ছানা

জন্মের পরপরই মোরগ ছানাদের মেরে ফেলা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আছে বিতর্ক। তবে খামারিদের কাছে শেষ বিচারে আর্থিক লাভ-ক্ষতিই গুরুত্বপূর্ণ। খামার ব্যবস্থাপনা ছাড়াও ডিম ফোটাতে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচের পর অর্ধেক ‘অপচয়’ মেনে নিতে একদমই রাজি নন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্বব্যাপী পোল্ট্রি শিল্পে লুকিয়ে আছে বড়সড় এক ব্যয়ের হিসাব। এই শিল্পে ডিম ফুটে বের হওয়া মোরগ ছানা একদম অপছন্দ খামারিদের কাছে। কারণ, ডিম দেয়া মুরগির বদলে কেবল মাংসের জন্য মোরগ পালন আর্থিক দিক থেকে অলাভজনক।

বাংলাদেশে পোল্ট্রি মোরগ কিছুটা আয়ু পেলেও উন্নত দেশগুলোতে আর্থিক লাভ-ক্ষতির হিসাব কষে ডিম ফুটে বের হওয়ার পরপরই মেরে ফেলা হয় তাদের। বিশ্বে প্রতিবছর এভাবে স্বল্পায়ু নিয়ে প্রাণ হারায় প্রায় সাতশ কোটি মোরগ ছানা।

জন্মের পরপরই মোরগ ছানাদের এভাবে মেরে ফেলা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আছে বিতর্ক। তবে খামারিদের কাছে শেষ বিচারে আর্থিক লাভ-ক্ষতিই গুরুত্বপূর্ণ। খামার ব্যবস্থাপনা ছাড়াও ডিম ফোটাতে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচের পর অর্ধেক ‘অপচয়’ মেনে নিতে একদমই রাজি নন ব্যবসায়ীরা। আর তাই দীর্ঘদিন ধরে খোঁজা হচ্ছে মুক্তির উপায়।

ফ্রান্সের মতো ইউরোপের কিছু দেশ ২০২১ সালের মধ্যে মোরগ ছানা মেরে ফেলার মতো নৃশংসতার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছে। এজন্য ডিম ফোটার আগেই মুরগির লিঙ্গ শনাক্ত করার কৌশল উদ্ভাবন করেছে বেশ কিছু গবেষণা সংস্থা।

এ ক্ষেত্রে ডিমে তা দেয়ার আগেই মোরগ ফুটবে যেসব ডিম থেকে সেগুলো চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলা হয়। অপটিক্যাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিমের ভেতরের তরল পর্যবেক্ষণ করে বাছাই করা হয় ‘মোরগ দেয়া ডিম’।

তবে ইসরায়েলের একটি প্রতিষ্ঠান এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যাতে বাড়তি ঝুট ঝামেলা ছাড়াই ডিমের ভেতরে ভ্রূণের লিঙ্গ বদলে দেয়া যাবে। এতে সব ডিম ফুটেই বের হবে শুধু মুরগির ছানা। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করলে হ্যাচারিতে ডিমের ভেতরের মোরগের ভ্রূণ শনাক্ত করে জন্মের আগেই সেগুলো ধ্বংসের প্রয়োজন পড়বে না।

২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা ইসরায়েলি স্টার্টআপ সুস টেকনোলোজি এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য এরই মধ্যে জিতে নিয়েছে ৩৩ লাখ ডলারের একটি পুরস্কার। উদ্ভাবনটি বাণিজ্যিকভাবে সারা বিশ্বের পোল্ট্রি খামারে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে তারা।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের প্রযুক্তি বিশেষ মাত্রায় শব্দ কম্পন তৈরি করে ডিমের ভেতরে লিঙ্গ নির্ধারণী জিনকে কেবল মুরগির ভ্রূণ তৈরিতে প্ররোচিত করবে। সুস-এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন ৬০ শতাংশ ডিম থেকে মুরগির ছানা পাওয়া যাচ্ছে। আগামীতে এই হার আরও বাড়বে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সুস টেকনোলজির প্রধান নির্বাহী ইয়ায়েল অল্টার বলছিলেন, ‘আমরা ভ্রূণের লিঙ্গ পরিবর্তন করে মোরগ ছানার সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমিয়ে আনতে চাই। এমনকি যদি সমস্ত ভ্রূণের লিঙ্গ নাও পরিবর্তন হয়, তারপরেও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় একটি পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হবে।’

ইসরায়েলের বেশ কিছু খামারে বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তি সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সুস টেকনোলজি। এর বাইরে ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের খামারিরাও তাদের সহযোগিতা চেয়েছে।

শেয়ার করুন

সেই প্যাঁচা আবার ১৩০ বছর পর

সেই প্যাঁচা আবার ১৩০ বছর পর

বরফের প্যাঁচার বাস মেরু অঞ্চলে। সম্প্রতি এই প্রজাতির একটি প্যাঁচাকে দেখা গেছে নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে। ছবি: টুইটার

মেরু অঞ্চলে বাস করায় পাখিটির নাম দেয়া হয়েছে বরফের প্যাঁচা। উত্তর আমেরিকায় একে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৮৯০ সালে।

মেরু অঞ্চলে বাস করায় নাম দেয়া হয়েছে বরফের প্যাঁচা। পাখিটিকে উত্তর আমেরিকায় সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৮৯০ সালে। বুধবার একই প্রজাতির একটি প্যাঁচার দেখা মিলেছে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে।

owl-NB

বিষয়টি নিয়ে ম্যানহাটন ব্লাড অ্যালার্ট নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টের পরই প্যাঁচাটিকে দেখতে সেন্ট্রাল পার্কে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ।

শুধু মানুষই নয়; পার্কের অন্য পাখিদের নজরও কেড়েছে প্যাঁচাটি।

snowy-owl-NB
বিরল বরফের প্যাঁচাকে দেখতে নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে উৎসুক মানুষের ভিড়

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্যাঁচাটিকে হেনস্তা কর‍তে পিছু নিয়েছে একদল কাক।

আলোকচিত্রীরা প্যাঁচাটির বেশ কিছু চমকপ্রদ ছবি তুলেছেন। সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

owl-NB

তবে বৃহস্পতিবার সকালে প্যাঁচাটিকে পার্কে দেখা যায়নি। মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে পেঁচাটি বিরক্ত হয়ে অন্য কোথাও চলে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির ব্যবস্থাপক পল সুইট।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg