20201002104319.jpg
ছদ্মবেশী ঘাতক পতঙ্গ

ছদ্মবেশী ঘাতক পতঙ্গ

আচরণগত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে জীববিজ্ঞানীদের আগ্রহের জায়গা নিতে পেরেছে অ্যাসাসিন বাগ বা ঘাতক পতঙ্গ। এটির সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো শিকারের মৃতদেহ পিঠে জড়িয়ে ছদ্মবেশ ধারণ।

ঘাতক এ পতঙ্গটির প্রায় সাত হাজার প্রজাতি রয়েছে। এরা চার থেকে ৪০ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এ প্রজাতির সব পতঙ্গেরই ধারালো, বাঁকানো, সুইয়ের মতো ভয়ানক এক অস্ত্র থাকে, যার নাম ‘রোস্ট্রাম’।

রোস্ট্রাম ব্যবহার করে শিকারদের ধরাশায়ী করে ঘাতক পতঙ্গ। এরপর শিকারের শরীরে বিষাক্ত লালা প্রবেশ করায় এটি। এতে শিকারের গোটা শরীর তরল হয়ে যায়। শিকার নিস্তেজ হয়ে গেলে তার শরীর থেকে তরল শুষে খেয়ে ফেলে এ পতঙ্গ। বাকি থাকে শুধু খোসাটি।

ছদ্মবেশ ধরতে কিছু কিছু ঘাতক পতঙ্গ শিকারের খোসা ব্যবহার করে থাকে। এমনও দেখা গেছে যে, কিছু ঘাতক পতঙ্গ মৃতদেহের স্তূপ বানিয়ে তার পিঠে জোড়া লাগিয়ে ঘুরছে।

তবে শিকারের খুব কাছে যেতে হলে ঘাতক পতঙ্গগুলোকে তাদের নামের সার্থকতা বজায় রেখে আচমকা আক্রমণ করতে হয়। কিছু প্রজাতি বাতাসে পাতার উড়ে যাওয়ার ধরণকে অনুকরণ করে নিঃশব্দে শিকারের কাছে এগিয়ে যায়।

কিছু সময় ঘাতক পতঙ্গ রোস্ট্রাম দিয়ে তার শিকারকে আঁকড়ে ধরে। শরীরে বিষাক্ত লালা প্রবেশ করানোর ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে শিকারের মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞানীরা এখনও ব্যাখ্যা করতে পারেনি যে কীভাবে ঘাতক পতঙ্গটি তার পিঠে শিকারের খোসাগুলো আটকিয়ে রাখে। কারণ তারা কোনো অঙ্গের সাহায্যেই তাদের পিঠ পর্যন্ত পৌছাতে পারে না। এখন পর্যন্ত শুধু এটুকু জানা যায় যে, শরীর থেকে আঠালো পদার্থ নিঃসরণ করে মৃতদেহগুলো পিঠে আটকে রাখে পতঙ্গটি।

স্পষ্টতই, এ মারাত্মক ছদ্মবেশ ঘাতক পতঙ্গের এ প্রজাতিকে শিকারের কাজে অনেক সাহায্য করে। তারা তাদের চারপাশের পরিবেশের সাথে খুব সহজেই মিশে যেতে পারে, এমনকি তাদের গন্ধের সাথেও। এ ছদ্মবেশ তাদের অন্য পোকার (যেমন: টিকটিকি বা মাকড়সা) আক্রমণ থেকে বাঁচাতে এক ধরনের বর্ম হিসেবে কাজ করে।

এ বিষয়ে জীববিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান ওয়েইরাউক ওয়াইয়ার্ড সাময়িকীকে বলেন, 'একটা টিকটিকি যখন আক্রমণ করতে আসে তখন একটা রসালো ঘাতক পতঙ্গের বদলে তার মুখে আসে একদলা মৃত পিঁপড়া।'

ঘাতক পতঙ্গের ছদ্মবেশ নিয়ে একটি পরীক্ষা চালান বিজ্ঞানীরা। সে পরীক্ষার অংশ হিসেবে কাচের বাক্সে মাকড়সা ও ঘাতক পতঙ্গ রাখা হয়।

বিজ্ঞানীরা প্রথমে মাকড়সার বিপরীতে ছদ্মবেশহীন ঘাতক পতঙ্গ রাখেন। পরে তারা মাকড়সার সঙ্গে রাখেন ছদ্মবেশী পতঙ্গকে।

তারা দেখেন, ছদ্মবেশহীন পতঙ্গের চেয়ে ছদ্মবেশীকে বেশি ভয় পায় মাকড়সা।

সূত্র: অডিটিসেন্ট্রাল ডটকম

শেয়ার করুন