ঢালিউড চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা দিলদারের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৩ জুলাই। ২০০৩ সালের এই দিনে মাত্র ৫৮ বছর বয়সে অগণিত ভক্তকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি পরলোকগমন করেন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি।
১৯৪৫ সালে চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করা দিলদারের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ১৯৭২ সালে ‘কেন এমন হয়’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি চার শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’ এবং ‘আম্মাজান’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলোতে তাঁর অসাধারণ কমিক টাইমিং দর্শকদের হাসির খোরাক জুগিয়েছে। নব্বইয়ের দশকে তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই আকাশচুম্বী ছিল যে, স্রেফ তাঁর নাম দেখেই দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করতেন। তাঁর জনপ্রিয়তার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মূল নায়ক করে ‘আব্দুল্লাহ’ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছিল, যা বাণিজ্যিকভবে ব্যাপক সফল হয়।
অসামান্য অভিনয়ের জন্য ২০০৩ সালে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, পুরস্কার পাওয়ার ওই বছরই তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর সিনেমার ক্লিপগুলো নতুন প্রজন্মের কাছেও ব্যাপক জনপ্রিয়। ঢাকাই চলচ্চিত্রের বোদ্ধাদের মতে, দিলদারের প্রয়াণের পর কৌতুক অভিনয়ে যে খরা সৃষ্টি হয়েছে, তা আজও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুবার্ষিকীতে এই চিরসবুজ অভিনেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছে তাঁর অগণিত ভক্ত ও চলচ্চিত্র পরিবার।
ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রকস্টার’ সিনেমা দিয়ে দর্শকমহলে দারুণ সাড়া ফেলার পর নতুন আরেকটি সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন শাকিব খান। আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’ সিনেমায় একজন পেশাদার মিউজিশিয়ানের চরিত্রে হাজির হয়েছিলেন তিনি। চরিত্রটির প্রয়োজনে ওজন কমানোর পাশাপাশি নিজের লুকেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিলেন এই তারকা। সিনেমা মুক্তির আগে থেকেই তার এই নতুন লুক ও গল্প নিয়ে দর্শকদের মাঝে বাড়তি আগ্রহ ছিল, যা পর্দায় শাকিবের অভিনয়ের এক ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরেছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন সিনেমার খবর দিলেন তিনি।
‘রকস্টার’ মুক্তির পরপরই ‘সোলজার’ নামের আরেকটি সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে গিয়েছিলেন শাকিব। সেখানে টানা প্রায় এক সপ্তাহ দৃশ্যধারণের কাজ শেষে দেশে ফিরেই নতুন এই সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। রিয়াল এনার্জি প্রডাকশনের ব্যানারে নির্মিতব্য এই সিনেমাটি পরিচালনা করবেন মেহেদী হাসান হৃদয়, যার মাধ্যমে আবারও এই নির্মাতার সঙ্গে জুটি বাঁধছেন শাকিব। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পর বাংলাদেশসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে।
নতুন এই সিনেমায় শাকিবের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে কে থাকছেন, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের প্রথম পছন্দ টালিউড অভিনেত্রী ইধিকা পাল, কারণ শাকিবের সঙ্গে তার অভিনীত আগের দুটি সিনেমাই বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করেছিল। অন্যদিকে, পরিচালকের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন সাবিলা নূর, যিনি এর আগে ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় শাকিবের সঙ্গে জুটি বেঁধে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত কে চূড়ান্ত হবেন, সে বিষয়ে পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় এখনই কিছু স্পষ্ট না করে জানিয়েছেন, সময় হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে সবকিছু প্রকাশ করা হবে।
বর্তমানে শাকিব খান যুক্তরাষ্ট্রে অবকাশ যাপনে রয়েছেন এবং সেখানে প্রায় দেড় মাস অবস্থান করার কথা রয়েছে তার। এই লম্বা ছুটিতে বিশ্রামের পাশাপাশি প্রযোজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নতুন বেশ কিছু প্রকল্প নিয়েও তিনি বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ এই সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি মেহেদী হাসান হৃদয়ের নতুন সিনেমার শুটিং শুরু করার পাশাপাশি ‘সোলজার’ সিনেমার বাকি কাজও এগিয়ে নেবেন। একইসঙ্গে ২০২৭ সালের ঈদুল আজহায় মুক্তির লক্ষ্যে নতুন সিনেমার পরিকল্পনাও এখন থেকেই সাজাচ্ছেন ঢালিউডের এই শীর্ষ তারকা।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গন পেল নতুন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ক্রাউনিং সেরেমনিতে এবারের বিজয়ী হিসেবে সামানজার সাঈদের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়। এই বিজয়ের মাধ্যমে আসন্ন ৭৫তম ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন তিনি।
এবারের প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে গ্র্যান্ড ফিনালেতে জায়গা করে নিয়েছিলেন সেরা পাঁচ প্রতিযোগী। তারা হলেন আয়শা রহমান, যুক্তা ভৌমিক, লাবিবা মনজুর, সামানজার সাঈদ এবং স্বাগতা সাহা ঐশী। অনুষ্ঠানে একে একে তারা চূড়ান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন এবং সেখান থেকেই মেধা ও সৌন্দর্যের ভিত্তিতে বেছে নেওয়া হয় চূড়ান্ত বিজয়ীকে। এবারের আসরে প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হয়েছেন স্বাগতা সাহা ঐশী এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন লাবিবা মনজুর।
প্রতিযোগিতার এই আসরে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন শোবিজ ও লাইফস্টাইল জগতের পরিচিত মুখেরা। বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০১৯’ শিরিন আক্তার শিলা, ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯’ রাফা নানজীবা তোরসা এবং ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ২০২৪’ এফা তাবাসসুম। তাদের পাশাপাশি বিচারক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ‘হালফ্যাশন’–এর কনসালট্যান্ট ও হেরিটেজ টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ শেখ সাইফুর রহমান এবং ডেইলি স্টারের ‘স্টার লাইফস্টাইল’-এর সম্পাদক মেহরিন আফরোজ চৌধুরী।
গ্র্যান্ড ক্রাউনিং সেরেমনির শুরুতে বক্তব্য রাখেন ‘আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর আজরা মাহমুদ। তিনি জানান, তরুণদের মডেলিং ও প্রেজেন্টিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে তাদের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ইতিমধ্যে মডেলিংয়ের ১০টি ব্যাচ সম্পন্ন হয়েছে, যেখান থেকে অনেকেই এখন দারুণ কাজ করছেন। উল্লেখ্য, আগামী ৯ আগস্ট ভিয়েতনামের হো চি মিন শহরে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার মূল আসর ‘মিস ওয়ার্ল্ড’। নানা ধাপ পেরিয়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে।
ছবি: সংগৃহীত
গত বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের প্রথম ছবি ‘দেলুপি’ দর্শক ও সমালোচকদের বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত হওয়ার পর এবার ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত ‘কারাওয়ান ফেস্টিভ্যাল’-এ অংশ নিয়েছে ছবিটি। উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হিসেবে ‘দেলুপি’ প্রদর্শিত হওয়ার পাশাপাশি ফেস্টিভ্যালের মূল পোস্টারেও জায়গা করে নিয়েছে এই সিনেমার দৃশ্য। বাংলা সিনেমার জন্য এটি একটি অনন্য সম্মান।
রোমের তর পিগনাতারা প্রাঙ্গণে ছবিটির এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় খোলা মাঠে, যা নির্মাতাকে খুলনায় অনুষ্ঠিত ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। মূলত ‘দেলুপি’র শুটিং হয়েছিল খুলনার দেলুটি গ্রামে এবং স্থানীয় মানুষজনই এতে অভিনয় করেছিলেন। তাদের সিনেমাটি দেখানোর জন্য সেসময় কালীনগর দারুণ মল্লিক স্কুলের মাঠে আকাশের নিচে উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে অসংখ্য মানুষ হাজির হয়েছিলেন।
ইতালির রোমেও ঠিক তেমনই এক আনন্দঘন দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। খোলা মাঠে বহু বিদেশি দর্শক বেশ আগ্রহ নিয়ে ‘দেলুপি’ উপভোগ করেন। উৎসবে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা তাওকীর ইসলাম নিজেই। প্রদর্শনী শেষে তিনি উপস্থিত দর্শকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। নিজের ফেসবুকে বিশেষ এই প্রদর্শনীর কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, রোমের এই আয়োজন তাকে খুলনার সেই প্রিমিয়ারের স্মৃতির কথাই পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘দেলুপি’র এই সাফল্যের যাত্রায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে আরও একটি বড় নাম। বলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার অনুরাগ কাশ্যপ সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এখন থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছবিটির নিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি, যা সিনেমাটির বৈশ্বিক যাত্রাকে আরও প্রসারিত করবে।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষার পর গত ১০ জুলাই বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ধামাল’-এর চতুর্থ কিস্তি ‘ধামাল ৪’। মুক্তির পর সিনেমাটির দুর্বল চিত্রনাট্য এবং ভিএফএক্স নিয়ে দর্শকমহলে কিছুটা সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে এই নেতিবাচক আলোচনার কোনো প্রভাব বক্স অফিসে পড়েনি। বরং অজয় দেবগন, আরশাদ ওয়ার্সি ও রিতেশ দেশমুখদের এই অ্যাডভেঞ্চার কমেডি দেখতে সিনেমা হলগুলোতে রীতিমতো দর্শকদের ঢল নেমেছে।
বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করার সুবাদে মাত্র দুই দিনেই বিশ্বব্যাপী ৫০ কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করেছে সিনেমাটি। বক্স অফিস ট্র্যাকার ‘স্যাকনিল্ক’-এর তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির দ্বিতীয় দিনে ১০ হাজার ৯৫৪টি শো থেকে ‘ধামাল ৪’ শুধুমাত্র ভারতেই ২২ দশমিক ৫০ কোটি রুপি নেট আয় করেছে। এর ফলে প্রথম দুই দিনে ভারতে সিনেমাটির মোট গ্রস কালেকশন দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৮০ কোটি রুপি, যার মধ্যে নেট কালেকশন হলো ৩৬ দশমিক ৫০ কোটি রুপি।
দেশের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও সিনেমাটি বেশ ভালো ব্যবসা করছে। দ্বিতীয় দিনে ভারতের বাইরের ওভারসিজ মার্কেট থেকে সিনেমাটি ঘরে তুলেছে আরও ৫ কোটি রুপি। এর ফলে সিনেমাটির মোট বিদেশি গ্রস কালেকশন দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি রুপিতে। সব মিলিয়ে ভারত ও ওভারসিজ মার্কেট হিসাব করে মাত্র দুই দিনের মাথাতেই বিশ্বব্যাপী ‘ধামাল ৪’–এর মোট গ্রস বক্স অফিস কালেকশন ৫৩ দশমিক ৮০ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।
২০০৭ সালে ‘ধামাল’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যাপক জনপ্রিয় যাত্রার পর ২০১১ সালে ‘ডাবল ধামাল’ এবং ২০১৯ সালে ‘টোটাল ধামাল’ মুক্তি পেয়েছিল। এবারের চতুর্থ কিস্তিটি পরিচালনা করেছেন ইন্দ্র কুমার। একদল লোভী ও অদ্ভুত মানুষের একটি দুর্গম দ্বীপে লুকিয়ে রাখা গুপ্তধন খোঁজার প্রতিযোগিতা এবং সেখানে একদল আনাড়ি জলদস্যুর মুখোমুখি হওয়ার মজার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। এতে অভিনয় করেছেন অজয় দেবগন, আরশাদ ওয়ার্সি, রিতেশ দেশমুখ, জাভেদ জাফরি, রবি কিষাণ, সঞ্জয় মিশ্র, উপেন্দ্র লিমায়ে, অঞ্জলি আনন্দ, সঞ্জীদা শেখ এবং এষা গুপ্তার মতো একঝাঁক তারকা।
ছবি: সংগৃহীত
বাইবেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক চরিত্র কিং ডেভিড বা রাজা দাউদের জীবনকাহিনি নিয়ে নির্মিত জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘হাউস অব ডেভিড’ এবার তৃতীয় সিজনে পা রাখতে যাচ্ছে। প্রথম দুই সিজনের অভাবনীয় সাফল্যের পর সম্প্রতি আমাজন এমজিএম স্টুডিওস ও ওয়ান্ডার প্রজেক্ট যৌথভাবে সিরিজটির তৃতীয় সিজন নির্মাণের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
সিরিজটির প্রেক্ষাপট ও মূল কাহিনি ‘হাউস অব ডেভিড’ সিরিজের গল্পটি যিশুখ্রিস্টের জন্মের প্রায় এক হাজার বছর আগের প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের পটভূমিতে সাজানো। প্রাচীন ইসরায়েলের প্রথম রাজা শৌল যখন নিজের অহংকার ও ক্ষমতার লোভে ঈশ্বরের কৃপা হারিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারাতে বসেন, তখন প্রত্যন্ত গ্রামের এক সাধারণ রাখাল বালক ডেভিডকে পরবর্তী রাজা হিসেবে গোপনে মনোনীত করেন স্যামুয়েল। এরপর সেই সাধারণ বালকের মহান যোদ্ধা হয়ে ওঠা, দানব গোলিয়াতকে পরাজিত করা এবং রাজপ্রাসাদের ভেতরের হিংসা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ডেভিডের ইসরায়েলের রাজা হয়ে ওঠার মহাকাব্যিক জার্নিই এই সিরিজের মূল উপজীব্য।
সাফল্যের পেছনের কারিগর সিরিজটির মূল রূপকার ও নির্মাতা জন আরউইন এটিকে গতানুগতিক কোনো ধর্মীয় কাহিনির মতো করে নির্মাণ করেননি। বরং বর্তমান যুগের টানটান রাজনৈতিক থ্রিলার ও অ্যাকশন ড্রামা হিসেবে তিনি এটিকে পর্দায় উপস্থাপন করেছেন। আধুনিক নির্মাণশৈলীর কারণে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া প্রথম সিজনটি বিশ্বব্যাপী ৪ কোটির বেশি দর্শক উপভোগ করেন। একই বছরের অক্টোবরে মুক্তি পাওয়া দ্বিতীয় সিজনটিও সেই সফলতার ধারা বজায় রাখে, যার ওপর ভর করেই এবার তৃতীয় সিজনের ঘোষণা এল।
তৃতীয় সিজনে যা থাকছে নতুন সিজনের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মাতারা জানিয়েছেন, সমাজচ্যুত এক মেষপালক থেকে দুর্দান্ত যোদ্ধা এবং অবশেষে ইসরায়েলের রাজা হিসেবে ডেভিডের জীবনযাত্রা এই সিজনেই পূর্ণতা পাবে। তবে সিংহাসনে বসার আগে তাকে এক কঠিন নির্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে শত্রুদের মধ্যে লুকিয়ে থেকে এবং একের পর এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে তাকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। নির্মাতা জন আরউইনের মতে, তৃতীয় সিজনে ডেভিডের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে, যা দর্শকদের বোঝাতে সক্ষম হবে কেন তার জীবনকাহিনি যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে আসছে।
নির্মাতারা প্রত্যাশা করছেন, আগের দুই সিজনের মতো তৃতীয় সিজনটিও বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।
ছবি: সংগৃহীত
মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শক ও সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছে কৌশিক গাঙ্গুলী পরিচালিত নতুন চলচ্চিত্র ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। গত ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সিনেমাটি মুক্তি পায় এবং প্রথম দিনেই এর একাধিক প্রদর্শনী হাউজফুল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সম্পর্ক, বিচ্ছেদ, স্মৃতি ও মানুষের আবেগের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই সিনেমার মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান ও চূর্ণী গাঙ্গুলী।
মুক্তির দিন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নন্দন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী ও দর্শক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলী, অভিনেত্রী চূর্ণী গাঙ্গুলী, জয়া আহসান এবং সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনী শেষে তারা দর্শকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। সিনেমাটি দেখার পর অনেক দর্শকই নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। অনেকেই কেঁদে ফেলেন এবং প্রিয় অভিনয়শিল্পীদের জড়িয়ে ধরে সিনেমাটি তাদের কতটা গভীরভাবে স্পর্শ করেছে, সেই অনুভূতি ব্যক্ত করেন, যা সিনেমাটির সাফল্যের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিনেমাটি দেখে চলচ্চিত্র নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায় এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, গত দুই দশক ধরে কৌশিক গাঙ্গুলী বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যতিক্রমী মানবিক সম্পর্কের যে গল্পগুলো তুলে ধরেছেন, ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সেই ধারাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার মতে, সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়ার পাশাপাশি সমালোচকদের কাছেও সমানভাবে প্রশংসিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এছাড়া অম্বরীশ, কৌশিক সেন ও ইন্দ্রাশিসসহ পার্শ্বচরিত্রের প্রতিটি শিল্পীর অভিনয় অত্যন্ত সংযত, পরিণত এবং চরিত্রনির্ভর ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চলচ্চিত্রটির পেছনের কারিগরদের কাজও দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। চিত্রগ্রাহক গোপী ভগত, সংগীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র, সম্পাদক অমিত চট্টোপাধ্যায় এবং অনুপম রায়, ইমন চক্রবর্তী ও লগ্নজিতা চক্রবর্তীর সংগীতায়োজন পুরো সিনেমা জুড়ে এক অসাধারণ আবহ তৈরি করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন ছবির প্রধান দুই অভিনেত্রী জয়া আহসান ও চূর্ণী গাঙ্গুলী। ইন্দ্রনীল রায় এই দুই অভিনেত্রীর অভিনয়কেই সিনেমাটির সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং বিশেষ করে চূর্ণী গাঙ্গুলীর অভিনয়কে একটি ‘মাস্টারক্লাস’ বলে অভিহিত করেছেন, যা বর্তমান দর্শকদের অসাধারণ অভিনয়ের প্রকৃত মানদণ্ড সম্পর্কে মনে করিয়ে দেবে।
মন্তব্য