প্রয়াত প্রখ্যাত নাট্যকার, শিক্ষক ও বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জিয়া হায়দারের স্মৃতি ও কর্মকে উৎসর্গ করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে এক বর্ণাঢ্য নাট্যমেলা। আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) বিকেল ৫টা থেকে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী এই বিশেষ নাট্যোৎসব, যা চলবে আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত। ‘আগামীর মঞ্চ: জিয়া হায়দার নাট্যমেলা ২০২৬’ শীর্ষক এই মেগা উৎসবের মূল আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নাট্যকলা বিভাগ। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নাট্যপ্রেমী দর্শকদের জন্য মেলার দরজা খোলা থাকবে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণ নাট্যকর্মীদের সুপ্ত সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো, প্রাতিষ্ঠানিক ও গবেষণাভিত্তিক নাট্যচর্চাকে সাধারণ মানুষের মাঝে সম্প্রসারণ করা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করাই এই মেলার মূল লক্ষ্য। এই মেলায় কেবল মূল মঞ্চের নাটকই নয়, পাশাপাশি পুতুলনাট্য (পাপেট শো), বিশেষ তথ্যচিত্র এবং নাটকের পোস্টার, সেট ও কস্টিউম (পোশাক) প্রদর্শনীর মতো বৈচিত্র্যময় আয়োজন রাখা হয়েছে। উৎসবের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, মেলায় প্রদর্শিত হতে যাওয়া সবকটি নাটকের সার্বিক নির্দেশনা দিয়েছেন চবি নাট্যকলা বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের একঝাঁক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী।
আজ সোমবার বিকেল ৫টায় এই নাট্যমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমিন এবং উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনের ঠিক পর পরই সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চস্থ হবে উৎসবের উদ্বোধনী নাটক—জিয়া হায়দার রচিত এবং ঋজু লক্ষ্মী অবরোধের নব-নাট্যরূপে নির্মিত ‘উম্মাদ সাক্ষাৎকার’। একই দিন রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হবে সাঈদ আহমদ রচিত নাটক ‘তৃষ্ণায়’।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ৩০ জুন সন্ধ্যা ৬টায় পরিবেশিত হবে জিয়া হায়দারের আরেকটি জনপ্রিয় নাটক ‘শুভ্র সুন্দর কল্যাণী আনন্দ’ এবং রাত ৮টায় দেখা যাবে ইয়ারোস্লাভা পুলিনোভিচ রচিত ও সনজিত কুমার দে’র নব-নাট্যরূপে নির্মিত নাটক ‘আকাশ কেন ডাকে’। মেলার সমাপনী দিন ১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন আন্তন চেখভের বিশ্বখ্যাত কালজয়ী নাটক ‘দ্য বিয়ার’। এরপর রাত ৮টায় নিকোলা এরডম্যান রচিত ‘দ্য সুইসাইড’ নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে তরুণ প্রাণের এই তিন দিনব্যাপী জমকালো নাট্যোৎসবের।
বিয়ে, ডিভোর্স এবং সাবেক ও বর্তমানের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কালজয়ী পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় যে ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমাটি বানিয়ে তিন বছর আগে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও বক্স অফিস সাফল্য পেয়েছিলেন, এবার তারই বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল আসতে যাচ্ছে। কলকাতার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির দ্বিতীয় কিস্তির নাম রাখা হয়েছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। ইতিমধ্যে সিনেমাটির অফিশিয়াল ট্রেইলার বা ঝলক প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে ওপার বাংলার চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও কৌশিক সেনের পাশাপাশি আবারও এপার বাংলার জয়া আহসানের দুর্দান্ত অভিনয় সম্পর্কের এক জটিল ও ‘ভয়ংকর’ ধাঁধাকে সামনে এনেছে।
এবারের সিক্যুয়েলের চিত্রনাট্যে জয়া আহসান, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় এবং কৌশিক সেনের যার যার জীবন সামলে চলার এক কঠিন মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ট্রেইলারে দেখা যায়, জয়া আহসান অভিনীত চরিত্র ‘মেঘনা’ এক তীব্র মানসিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তার মনে এক গভীর ধারণা বাসা বেঁধেছে যে, পরিবারের সবাই মুখে কিছু না বললেও তার স্বামী ‘সুমন’ (কৌশিক সেন অভিনীত চরিত্র) সবসময় তার কাজের সঙ্গে তাঁর প্রথম পক্ষের স্ত্রী ‘শুভ্রা’র (চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়) তুলনা টানে।
অন্যদিকে, সিনেমার গল্পে সুমনের ভেতরের দ্বন্দ্বও বেশ জটিল। সে মেঘনাকে বিয়ে করে নতুন ঘর বাঁধলেও মানসিকভাবে সুখী নয়, বরং দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করলেও বারবার তার বিবেকে দাগ কাটে অতীত ও প্রথম স্ত্রীর স্মৃতি। সম্পর্কের এই জটিলতা আরও চরম রূপ নেয় যখন স্বামী সুমনের বিরুদ্ধে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ নিয়ে বর্তমান স্ত্রী মেঘনা স্বয়ং হাজির হয় সাবেক স্ত্রী শুভ্রার দরজায়। কিন্তু শুভ্রার শরণাপন্ন হলেও মেঘনার ভাগ্যে কোনো সহানুভূতি বা সমর্থন মেলে না। তিন বছর আগের সেই অমীমাংসিত আবেগের ওপর দাঁড়িয়ে সাবেক ও বর্তমানের এই ‘ভয়ংকর পুনর্মিলন’ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তাই নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। জয়া আহসান ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিনয়ের এই তীব্র সংঘাত রুপালি পর্দায় দেখার জন্য দর্শকরা এখন মুখিয়ে আছেন।
আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ আর বর্ষার আগমনী বার্তার আবহকে সুরের মূর্ছনায় রাঙিয়ে তুলতে কোক স্টুডিও বাংলা সিজন ৪-এ মুক্তি পেতে যাচ্ছে নতুন গান ‘মেঘ’। শ্রোতাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কোক স্টুডিও বাংলার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলসহ সব ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে গানটি একযোগে অবমুক্ত করা হবে। আর এই বিশেষ গানের হাত ধরেই কোক স্টুডিওর মঞ্চে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করছেন দেশের প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও সুরকার মোহাম্মদ শোয়েব। তাঁর সঙ্গে সমকালীন কণ্ঠের জাদু ছড়াতে এবার যুক্ত হয়েছেন তরুণ প্রজন্মের দুই জনপ্রিয় মুখ মাশা ইসলাম ও মৌসুমি।
বর্ষার চিরচেনা রূপকে কেন্দ্র করে তৈরি ‘মেঘ’ গানটি মূলত বাংলা শাস্ত্রীয় সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং সমকালীন আধুনিক পপ-ফিউশনের এক অনন্য মেলবন্ধন। গানটির নেপথ্যে সংগীত পরিচালক হিসেবে রয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণব। এই গানের অন্যতম বড় চমক হলো বাংলা সংস্কৃতির চিরায়ত উপাদানকে একেবারে নতুন ঘরানায় উপস্থাপন করা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী সাহিত্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে, এর সঙ্গে আধুনিক ‘স্পোকেন ওয়ার্ড’ বা কথ্য রূপের চমৎকার সংযোজন করা হয়েছে। ফলে চেনা বর্ষার পরিচিত ভাবনাটিই শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন এক আধুনিক আঙ্গিকে।
বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিতে বর্ষা বরাবরই কবি-শিল্পীদের বিশেষ অনুপ্রেরণার উৎস। সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক সংগীতের ভাষায় নতুনভাবে তুলে ধরেছে ‘মেঘ’। এই গানের শাস্ত্রীয় সুরের পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক গল্প। মোগল সম্রাট আকবরের রাজসভার নবরত্নের অন্যতম সংগীতসম্রাট তানসেন প্রাচীন মল্লার রাগের পরিমার্জন করে ‘মিয়াঁ কি মল্লার’ রাগটি সৃষ্টি করেছিলেন। লোকগাথা রয়েছে, তানসেন যখন এই রাগ গাইতেন, তখন নাকি মেঘ জমে আকাশ ভেঙে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামত! মল্লার পরিবারের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও কঠিন এই রাগের ছোঁয়াতেই ‘মেঘ’ গানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানুষের অন্তহীন প্রতীক্ষা, নতুন শুরুর আশা এবং জীবনের পুনর্জাগরণের এক অলৌকিক অনুভূতি। শাস্ত্রীয় প্রভাব ও সমকালীন সংগীতের নিখুঁত সংমিশ্রণে তৈরি এই গানটি শ্রোতাদের জন্য বর্ষাকে নতুনভাবে অনুভব করার এক অনন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের শিল্পকলা, টেলিভিশন মাধ্যম ও পুতুলনাট্যের (পাপেট্রি) কিংবদন্তি রূপকার, বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) সকালে ফুসফুসের মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ও নিউমোনিয়াজনিত জটিলতা নিয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে এই কালজয়ী গুণী শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়ার তীব্র সংক্রমণ নিয়ে গত ১৪ জুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল মুস্তাফা মনোয়ারকে। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায়, বিশেষ করে রক্তচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে আজ সকালে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।
মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি গোলাম মোস্তফা এবং জমিলা খাতুনের সন্তান। শৈশবে নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে সফলভাবে ম্যাট্রিক পাসের পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন। তবে শিল্পকলার প্রতি গভীর টান থাকায় পরবর্তীতে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হন এবং ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টস (চারুকলা) বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদকসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
কলকাতা থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরার পর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের দূরদর্শী পরামর্শে চারুকলা ইনস্টিটিউটে (তৎকালীন আর্ট কলেজ) শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষকতায় সফলতার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের (এনআইএমসি) মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বসমূহ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।
মুস্তাফা মনোয়ার কেবল ক্যানভাসেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বাংলাদেশে আধুনিক পাপেট বা পুতুলনাট্যের বিকাশ ও প্রসারের পেছনে একমাত্র তাঁর হাত ধরেই এক নতুন বিপ্লব ঘটেছিল, যার কারণে তাঁকে দেশের ‘পাপটেম্যান’ বা পুতুলনাটের জনক বলা হয়। চিত্রকলার পাশাপাশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, শিশুতোষ বিনোদন, পাপেট থিয়েটার এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশে অসামান্য, যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করে। এছাড়া সুদীর্ঘ কর্মজীবনে দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা, একাডেমি পুরস্কার ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন এই মহান প্রচারবিমুখ সাধক। তাঁর এই প্রস্থান দেশের সাংস্কৃতিক জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।
ছবি: সংগৃহীত
ছোটপর্দার জনপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা মেয়েদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা ও পরামর্শ দিয়েছেন। সংসারে অশান্তির অজুহাত দেখিয়ে যেসব বিবাহিত পুরুষ অন্য মেয়েদের সঙ্গে সখ্য বা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন, তাদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি ভিডিওবার্তা ও পোস্টের মাধ্যমে ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে প্রভা সাফ জানিয়েছেন, বিবাহিত পুরুষদের ফাঁদে পড়ে প্রেম তো দূরে থাক, কখনো বন্ধুত্ব করাও উচিত নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার ওই পোস্টে প্রভা মেয়েদের অনুরোধ করে লিখেছেন, “মেয়েরা শোনো, আমার ছোট-বড় প্রত্যেককে একটা অনুরোধ করি, যত কিছুই হোক, কোনোভাবেই একটা বিবাহিত ছেলের প্রেমে পড়া যাবে না।” তিনি বিবাহিত পুরুষদের সাধারণ মনস্তত্ত্ব ও চাতুরতা উল্লেখ করে বলেন, “যতই কোনো ছেলে বলুক— ‘বউ ভালো না, সমাজের জন্য বা সন্তানের জন্য সংসার টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে’; মনে রাখবে এদের সবার স্ক্রিপ্ট বা অজুহাত একই রকম হয়। এসব কথা কখনো শুনবে না এবং বিশ্বাসও করবে না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ফাঁদে পা দিলে সারাজীবন আফসোস করতে হবে।
অভিনেত্রী প্রভা জানান, সম্প্রতি তিনি নিজেও বাস্তব জীবনে ঠিক এমনই এক প্রতারণামূলক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। নিজের সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে আমাকেও এক বিবাহিত পুরুষের কাছ থেকে এমন সব কথা শুনতে হয়েছে। এসব কথা শুনতে শুনতে আমার অলরেডি মুখস্থ হয়ে গেছে যে এরা আসলে কী কী বলে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে।” তিনি সেই পুরুষকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি সংসারে এতই সমস্যা থাকে তবে আগে ডিভোর্সের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আসতে, তারপর অন্য কিছু ভাবা যাবে।
প্রভার এমন অনড় ও যৌক্তিক অবস্থানের পর সেই ব্যক্তি এখন সমাজে প্রভাকে নিয়ে নানা কুৎসা রটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। প্রভা বলেন, “এখন সেই লোক চারদিকে বলে বেড়ায়, আমি নাকি সাইকো! তবে আমি বলব— আই অ্যাম হ্যাপি টু বি আ সাইকো। আমি অন্তত গ্ল্যাড যে, ওই প্রতারণামূলক সংসারে আমি পা বাড়াইনি।” প্রভার এই সাহসী এবং বাস্তবসম্মত ভিডিওবার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং অসংখ্য নারী প্রভার এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে নিজেদের সহমত প্রকাশ করছেন।
নেটফ্লিক্সের অন্যতম সফল ও কালজয়ী সায়েন্স ফিকশন সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এ বাবা-মেয়ের ভূমিকায় বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছিলেন অভিনেতা ডেভিড হারবার ও মিলি ববি ব্রাউন। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ বছর ধরে সিরিজটির টানা পাঁচটি সিজনে তাঁদের অন-স্ক্রিন রসায়নই ছিল বিশ্বজুড়ে দর্শকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। গত বছর এই তুমুল জনপ্রিয় সিরিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভক্তদের জন্য নতুন সুখবর নিয়ে এসেছে ওটিটি জায়ান্ট নেটফ্লিক্স। প্রিয় এই বাবা-মেয়ে জুটিকে আবারও পর্দায় ফিরিয়ে আনছে তারা।
ডেভিড হারবার ও মিলি ববি ব্রাউন এবার নেটফ্লিক্সের সম্পূর্ণ নতুন আরেকটি সিরিজে একসঙ্গে অভিনয় করতে চলেছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে, বিশ্বখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘এ টুয়েন্টিফোর’ (A24)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তারা একটি হাই-ভোল্টেজ স্পাই থ্রিলার সিরিজ তৈরি করতে যাচ্ছে। এই মেগা প্রজেক্টে মিলি ও ডেভিড কেবল প্রধান চরিত্রেই অভিনয় করবেন না, বরং তাঁরা দুজনে যৌথভাবে সিরিজটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
নাম চূড়ান্ত না হওয়া এই নতুন সিরিজের চিত্রনাট্য লেখার ভার দেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় লেখক জ্যাক থর্নকে। এর আগে মিলির সুপারহিট ‘এনোলা হোমস’ ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ‘অ্যাডোলেসেন্স’ প্রজেক্টের চিত্রনাট্য লিখে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি ও প্রশংসা পেয়েছেন। ফলে নতুন এই স্পাই থ্রিলারেও তিনি দর্শকদের একটি দুর্দান্ত ও টানটান গল্পের অভিজ্ঞতা উপহার দিতে পারবেন বলে আশা করছেন ওটিটি সংশ্লিষ্টরা।
‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ সিরিজে ডেভিড হারবার ও মিলি ববি ব্রাউনের মধ্যে একটি গভীর পারিবারিক ও আবেগঘন বন্ধন দেখা গেলেও, এবার তাঁরা পর্দায় হাজির হচ্ছেন বাবা-মেয়ের সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আরও এক জটিল সমীকরণ নিয়ে। নতুন এই সিরিজের মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে ‘ম্যাট উলফ’ নামের একজন সাবেক এফবিআই (FBI) এজেন্টকে কেন্দ্র করে। তার শান্ত ও অবসরপ্রাপ্ত জীবন আচমকা ওলটপালট হয়ে যায়, যখন সে জানতে পারে তার মেয়ে ‘রেবেকা’ একটি বিপজ্জনক গোপন মিশনে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। মূলত নিজের আদরের মেয়েকে উদ্ধারের জন্য সমস্ত বিপদ মাথায় নিয়ে আবারও গোয়েন্দা হিসেবে মাঠে নামে ম্যাট উলফ, যা দর্শকদের রোমাঞ্চিত করবে।
দীর্ঘ ২৬ বছর পর আবারও বাংলা চলচ্চিত্রের আঙিনায় ফিরছেন বলিউডের বরেণ্য ও বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খের। তবে এবার তিনি রুপালি পর্দায় অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন ভূমিকায় অর্থাৎ প্রযোজক হিসেবে হাজির হচ্ছেন। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নির্মিত হতে যাচ্ছে নতুন বাংলা সিনেমা ‘শুরু থেকে শুরু’। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে প্রখ্যাত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘বাড়িওয়ালি’ চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে বাংলা সিনেমা জগৎ থেকে দূরে থাকার পর এই নতুন প্রজেক্টের মাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তন ঘটছে।
মাঝের সময়ে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ চলচ্চিত্রের মুক্তিকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন সরকারের সঙ্গে তৈরি হওয়া আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় বেশ হতাশ হয়েছিলেন অনুপম খের। তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আবারও বাংলায় কাজ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। কলকাতায় পৌঁছেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনুপম খের নতুন রাজ্য সরকারের প্রতি নিজের পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং বাংলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের অ্যাক্টিং স্কুল বা অভিনয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছার কথা জানান, যে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীও তাকে পূর্ণ সমর্থন ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
অনুপম খের প্রযোজিত নতুন ছবি ‘শুরু থেকে শুরু’ যৌথভাবে প্রযোজনা করছেন ফিরদৌসুল হাসান এবং এটি পরিচালনা করবেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকা শমীকের জন্য এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এই সিনেমার প্রধান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রূপদান করবেন টোটা রায়চৌধুরী, পাওলি দাম এবং রাহুল বোস। ছবির মূল গল্পের বুননও বেশ ব্যতিক্রমী হতে যাচ্ছে, যেখানে একদিকে বাবা-মেয়ের আবেগঘন সম্পর্ক এবং অন্যদিকে এক দম্পতির জীবনের কঠিন বাস্তবতার দুটি সমান্তরাল কাহিনী একসাথে ফুটিয়ে তোলা হবে।
সিনেমার একটি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশের দৃশ্যধারণ করা হবে পাহাড়ের শান্ত ও নৈসর্গিক পরিবেশে। বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধাবোধের কথা উল্লেখ করে অনুপম খের জানান, সিনেমা ও পরিচালনার অনেক কিছুই তিনি এই বাংলা থেকে শিখেছেন, তাই এখানকার চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে তিনি কাজ করে যাবেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে ছবিটির আনুষ্ঠানিক শুটিং শুরু হবে এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিনেমাটি বড় পর্দায় মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য