বাংলা পপ গানের অন্যতম কিংবদন্তি ফেরদৌস ওয়াহিদ ও প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পী সাঈদা শম্পার গাওয়া নতুন দ্বৈত গান ‘মন বোঝে না’মুক্ত হয়েছে। এই গানটির কথা লিখেছেন দেশের অন্যতম প্রথিতযশা গীতিকবি গোলাম মোর্শেদ এবং সুর ও সংগীতে ছিলেন শহীদ মাহমুদ।
গানটি নিয়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, প্রথমেই বলবো বেশ ভালো একটি কাজ হয়েছে এটি। হবারই কথা। কারণ এর গীতিকার গোলাম মোর্শেদ অত্যন্ত গুণী একজন মানুষ। যার লেখা গান আমার খুব পছন্দের। এছাড়া আমার সহশিল্পী সাঈদা শম্পাও গানটি ভালো গেয়েছেন। সবমিলিয়ে শ্রোতাদের মনে ছুঁয়ে যাওয়ার মতো একটি গান ‘মন বোঝে না’। আশা করছি সবার ভালো লাগবে গানটি।’
গানটির আরেক শিল্পী সাঈদা শম্পা তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন,’আমার প্রথম আনন্দের বিষয় হচ্ছে, গানটিতে আমার সাথে কন্ঠ দিয়েছেন, বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। উনার সাথে দ্বৈত কণ্ঠে গান গাওয়ার আনন্দই আলাদা রকমের। ‘মন বোঝে না’ গানটি ওনার সাথে গাওয়া আমার দ্বিতীয় গান।
প্রথম গানটির মতো এই গানের বেলাতেও আমার মনে হয়েছে, আমি যেন ওনার সাথে বহু বছর ধরে গান করছি। এমনই আন্তরিকতার সাথে উনি নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন, ভয়েস নেয়া এবং শুটিং করার সময়। আর গোলাম মোর্শেদ ভাইয়ের অনবদ্য লিরিকে মিষ্টি রোমান্টিক সুর এবং সঙ্গীত সাজিয়েছেন শহীদ মাহমুদ।
গানটি করার সময় আমি যেভাবে উপভোগ করেছি ,আশা করছি শ্রোতারাও সেরকম ভাবেই উপভোগ করবেন গানটি।’
এই গানটির গীতিকার দেশের অন্যতম প্রথিতযশা গীতিকবি গোলাম মোর্শেদ বললেন,’ফেরদৌস ওয়াহিদ ভাই কিংবদন্তিতো বটেই,একইসাথে একজন অসাধারণ মানুষ তিনি। উনার সাথে কাজ করাটা সবসময়ই আনন্দের। আর তা গায়কী নিয়ে আমি কি বলবো ! উনার তুলনা উনি নিজেই। আর সাঈদা শম্পাও গানটিতে আমার কথার সাথে যে আবেগ দরকার তা দেয়ার চেষ্টা করেছে পুরোপুরি। আমার ভালো লেগেছে ব্যাপারটি। সবমিলিয়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ ভাই ও শম্পার এই প্রাণবন্ত গানটি সবার মনে পৌঁছে যাবে বলে আশা করছি।’
প্রযোজনা সংস্থা গান জানালার ইউটিউব চ্যানেলে মুক্ত হওয়া গানটির মিউজিক ভিডিও পরিচালনায় ছিলেন রুমকী রুসা ও মাশরুর হোসাইন। আর মডেল হিসেবে দেখা গেছে খুশী ও রাহাতকে।
ছবি: সংগৃহীত
আমির খানের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েলের জন্য যারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, তাদের জন্য অত্যন্ত খুশির সংবাদ। সিনেমাটির দ্বিতীয় কিস্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন খোদ পরিচালক রাজকুমার হিরানি। সম্প্রতি তিনি এই জনপ্রিয় ছবির পরবর্তী গল্পের গতিপথ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। হিরানি জানিয়েছেন, ‘থ্রি ইডিয়টস ২’-এ র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুর জীবন এবার সম্পূর্ণ নতুন এক প্রেক্ষাপটে দেখা যাবে।
‘দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজকুমার হিরানি প্রকাশ করেছেন যে, তিনি এবং তার সহযোগী লেখক অভিজাত জোশি বর্তমানে ছবিটির চিত্রনাট্য তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজকুমার হিরানি বলেছেন, “ছবির গল্পে দেখানো হবে, ১৫ থেকে ২০ বছর পর এই চরিত্রগুলোর জীবন কেমন হয়েছে। এবার গল্প আর কলেজজীবনকে ঘিরে আবর্তিত হবে না। র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজু এখন বিবাহিত, তাদের সন্তান রয়েছে এবং তারা মধ্য জীবনের সংকটের (মিডলাইফ ক্রাইসিস) মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের জীবন কোন দিকে এগোবে, সেটিই হবে ছবির মূল গল্প।”
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে সঞ্জয় দত্তের ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালনায় হাতেখড়ি হয় রাজকুমার হিরানির। এরপর তিনি ‘লাগে রাহো মুন্না ভাই’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘পিকে’ ও ‘সঞ্জু’র মতো ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন এবং প্রতিটি ছবির জন্য প্রায় ৮০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন। ‘থ্রি ইডিয়টস’ কেবল বিনোদন নয়, বরং জীবনকে ভিন্নভাবে দেখার এক নতুন দর্শন দিয়েছিল। দ্বিতীয় পর্বেও সেই ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিয়ে হিরানি তার ভাষ্যে জানান, “গল্পটি বেশ আলাদা এবং মজার হবে। এতে প্রথম ছবির মতোই হাস্যরস থাকবে, তবে এবার বার্তাটি আরও বড় হবে।” তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, চিত্রনাট্যটি নিখুঁত ও শক্তিশালী করতে তারা পর্যাপ্ত সময় নিচ্ছেন।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে আমির খানও ‘থ্রি ইডিয়টস ২’ নিয়ে আশাপ্রদ তথ্য দিয়েছিলেন। অমর উজালাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “গল্পটি দারুণ। এতে প্রথম ছবির মতোই হাস্যরস রয়েছে, তবে গল্পটি একেবারেই নতুন এবং আলাদা।” ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘থ্রি ইডিয়টস’ হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ছবি হিসেবে বিবেচিত। আমির খান, আর মাধবন এবং শরমন যোশির সেই কালজয়ী রসায়ন আবারও পর্দায় দেখার অপেক্ষায় দর্শকরা। কারিনা কাপুর, বোমান ইরানি এবং ওমি বৈদ্যর মতো শিল্পীরাও প্রথম কিস্তিতে বিশেষ দাগ কেটেছিলেন। শোনা যাচ্ছে, নতুন এই কিস্তিতে এই ত্রয়ীর সঙ্গে বলিউড তারকা ভিকি কৌশলও যুক্ত হতে পারেন।
ছবি: সংগৃহীত
নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ আজ ২০ জুন মুক্তির এক বছর পূর্ণ করেছে। মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে অভূতপূর্ব উন্মাদনা সৃষ্টি করা এই সিনেমাটি টানা ৫২ সপ্তাহ ধরে নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকার প্রথম দশে অবস্থান করে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছে। এটি বর্তমানে নেটফ্লিক্সের ইতিহাসের অন্যতম সর্বাধিক দেখা চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে। কেবল ভিউয়ারশিপ নয়, বরং সিনেমাটির জনপ্রিয় গান ‘গোল্ডেন’ সেরা মৌলিক গানের ক্যাটাগরিতে অস্কার ও গ্র্যামি পুরস্কার জয় করে বিশ্ব সংগীতেও নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছে।
এই অভাবনীয় সাফল্য সম্পর্কে সিনেমার সহ-পরিচালক ও নির্মাতা ম্যাগি কাং জানিয়েছেন যে, শুরুতে তারা কেবল দর্শকদের সঙ্গে একটি যোগসূত্র তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু এটি যে বৈশ্বিক পরিসরে এমন আলোড়ন সৃষ্টি করবে, তা ছিল তাদের কল্পনার বাইরে। তার ভাষায়, “এটি এখন আর শুধু একটি চলচ্চিত্র নয় বরং একটি বৈশ্বিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।”
নেটফ্লিক্সের বিপণন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভক্তদের প্রবল চাহিদা ও উদ্দীপনাকে গুরুত্ব দিয়েই তারা পরবর্তী পরিকল্পনাগুলো সাজিয়েছে। বর্তমানে ভিডিও গেম, পোশাক ও খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এই চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে। শুরুতে বড় ব্র্যান্ডগুলো এই প্রজেক্ট নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছানোর পর এখন অনেক প্রতিষ্ঠানই এতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে এই সিনেমাটি ঘিরে নতুন সব খেলনা ও বিপণন সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। এমনকি ভক্তদের জন্য বিশেষ লাইভ কনসার্ট ও অভিজ্ঞতা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যেখানে দর্শকরা সিনেমার জগতকে সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
এই প্রকল্পের বিশাল সাফল্য সংশ্লিষ্ট কণ্ঠশিল্পীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনেও বড় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। তাদের অনেকেই এখন নতুন সংগীত অ্যালবাম প্রকাশ এবং বড় বড় চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছে যে, আগামী দিনেও এই চলচ্চিত্রটি ঘিরে আরও বড় পরিসরে আয়োজন ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং এটি দীর্ঘকাল দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের হায়দ্রাবাদের একটি আদালত দক্ষিণ ভারতীয় মেগাস্টার আল্লু অর্জুনকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তার অভিনীত ‘পুষ্পা টু: দ্য রুল’ সিনেমার প্রিমিয়ার শো চলাকালীন ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়িতে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার তাকে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি হায়দ্রাবাদ পুলিশ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিনেতা আল্লু অর্জুন প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত থাকবেন—এমন তথ্য জানা সত্ত্বেও সন্ধ্যা থিয়েটার কর্তৃপক্ষ দর্শকদের নিরাপত্তা ও ভিড় সামাল দিতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। জমা দেওয়া ওই চার্জশিটে আল্লু অর্জুন ছাড়াও তার ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপক, কর্মীদল, আটজন বাউন্সার এবং প্রেক্ষাগৃহের মালিকসহ মোট ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত অভিযুক্তদের তলব করেছে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লু অর্জুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তেলেঙ্গানা হাই কোর্ট ওই দিনই তার জামিন মঞ্জুর করায় তাকে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়নি; যদিও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তাকে এক রাত পুলিশি হেফাজতে কাটাতে হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ৫ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পায় বহুল আলোচিত সিনেমা ‘পুষ্পা টু: দ্য রুল।’ এর ঠিক আগের দিন ৪ ডিসেম্বর হায়দ্রাবাদের সন্ধ্যা থিয়েটারে আয়োজিত বিশেষ প্রিমিয়ার শো-তে প্রিয় তারকাকে দেখতে হাজার হাজার ভক্ত ভিড় জমান। একপর্যায়ে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে রেবতী নামের এক নারী প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় নিহতের ৯ বছর বয়সী সন্তান তেজও মারাত্মকভাবে আহত হয়ে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন ছিল।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে বিটিএস ভক্তদের বাঁধভাঙা জোয়ারে তাদের চলমান ‘আরিরাং’ বিশ্ব সফরের কলেবর আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং ফিলিপাইনের বুলাকানে নতুন করে দুটি অতিরিক্ত কনসার্ট যুক্ত করার পর এই ঐতিহাসিক সফরের মোট প্রদর্শনীর সংখ্যা এখন ৮৮টিতে দাঁড়িয়েছে। বিটিএসের অফিসিয়াল ফ্যান প্ল্যাটফর্ম উইভার্সের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে দ্য কোরিয়া টাইমস।
উইভার্স থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, জাকার্তায় আগামী ২৯ ডিসেম্বর একটি বাড়তি শো অনুষ্ঠিত হবে। এর পাশাপাশি আগামী বছরের ১৬ মার্চ ফিলিপাইনের বুলাকানে দর্শকদের জন্য আরও একটি নতুন কনসার্ট যোগ করা হয়েছে। মূলত জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো মেইন স্টেডিয়ামে ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর দুটি কনসার্ট হওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু টিকিটের পাহাড়সমান চাহিদার মুখে আয়োজকরা ২৯ ডিসেম্বর তৃতীয় দিনের শো ঘোষণা করতে বাধ্য হন। একইভাবে ফিলিপাইন স্পোর্টস স্টেডিয়ামে ১৩ ও ১৪ মার্চের পূর্বনির্ধারিত দুই শোর সাথে ১৬ মার্চের অতিরিক্ত আয়োজনটি যুক্ত করা হয়েছে।
কোরিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী লোকগান ‘আরিরাং’-এর নামানুসারেই এই বিশ্ব সফরের নামকরণ করা হয়েছে। এই গানটি কোরিয়ান সংস্কৃতির গভীর আবেগ ও দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। যুগ যুগ ধরে সেদেশের মানুষ আনন্দ-উৎসবে, পরিশ্রমে কিংবা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এই গানটিকে নিজেদের প্রাণের স্পন্দন হিসেবে গেয়ে আসছে।
সম্প্রতি বুসান আসিয়াদ মেইন স্টেডিয়ামে দুই দিনের ‘হোমকামিং’ কনসার্ট সম্পন্ন করেছে বিটিএস, যেখানে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর মাদ্রিদ থেকে শুরু হবে এই ট্যুরের ইউরোপীয় পর্ব। পাঁচটি শহরে নির্ধারিত ১০টি শোর সব টিকিট ইতিপূর্বেই নিঃশেষ হয়ে গেছে।
বিটিএসের ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি বিগহিটের দাবি অনুযায়ী, ‘আরিরাং’ সফরটি কোনো কে-পপ ব্যান্ডের ইতিহাসে এযাবতকালের সবচেয়ে বৃহৎ একক বিশ্ব ভ্রমণ। কোরিয়া থেকে শুরু করে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়াজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল কর্মযজ্ঞ গত এপ্রিল মাসে শুরু হয়েছে এবং চলবে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত।
ছবি: সংগৃহীত
অস্কারজয়ী জনপ্রিয় হলিউড তারকা অ্যান হ্যাথাওয়ে আবারও মাতৃত্বের স্বাদ পেতে চলেছেন। ৪৩ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের আগমনের অপেক্ষায় থাকা এই অভিনেত্রী বর্তমানে ফ্রান্সের রিভিয়েরায় পরিবারের সদস্যদের সাথে অবকাশ যাপন করছেন। সম্প্রতি জার্দিন ট্রোপেজিনা সৈকতে স্বামী অ্যাডাম শুলম্যান, তাদের দুই পুত্র এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে দেখা গেছে তাকে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স-এর প্রকাশিত কিছু বিশেষ ছবিতে অ্যান হ্যাথাওয়েকে সমুদ্রসৈকতে বেশ উৎফুল্ল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভঙ্গিতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভক্তদের এই খুশির সংবাদটি নিজেই নিশ্চিত করেছেন হ্যাথাওয়ে। সাদা রঙের একটি পোশাকে ক্যামেরার সামনে এসে নিজের 'বেবি বাম্প' প্রদর্শন করার পাশাপাশি তিনি ক্যাপশনে আবেগঘনভাবে লেখেন, “সোনা, আমি তোমার।” এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্ত ও সহকর্মীদের অগণিত শুভেচ্ছাবার্তায় সিক্ত হন এই তারকা।
২০১২ সালে ব্যবসায়ী ও প্রযোজক অ্যাডাম শুলম্যানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অ্যান হ্যাথাওয়ে। এই দম্পতির জোনাথন ও জ্যাক নামে ইতোমধ্যে দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এর আগে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সময় গর্ভধারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা ও ব্যক্তিগত চড়াই-উতরাইয়ের কথা অকপটে শেয়ার করেছিলেন তিনি। মাতৃত্বকে জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সন্তান আসার পর জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে গেছে এবং তিনি মানসিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনের এই আনন্দের খবরের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন এই হলিউড ডিভা। বর্তমানে তিনি ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’, ‘মাদার মেরি’, ‘দ্য ওডিসি’, ‘দ্য এন্ড অফ ওক স্ট্রিট’ এবং ‘ভেরিটি’র মতো বেশ কিছু আলোচিত ও বড় মাপের চলচ্চিত্রের প্রজেক্টে যুক্ত রয়েছেন। অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রীর জীবনের নতুন এই অধ্যায় নিয়ে উচ্ছ্বসিত তার বিশ্বজুড়ে থাকা অগণিত অনুরাগী।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় পর্দায় ফিরছে জনপ্রিয় রোমান্টিক কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ককটেল’। ২০১২ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ককটেল’-এর সিক্যুয়াল ‘ককটেল ২’ ঘিরে দর্শক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যার প্রমাণ মিলছে ছবিটির অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিস্ময়কর পরিসংখ্যানে।
নতুন এই কিস্তিতে আগের তারকাদের জায়গায় দেখা যাবে শাহিদ কাপুর, কৃতি শ্যানন এবং রাশমিকা মন্দানার মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের। প্রেম, বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের নতুন গল্প নিয়ে নির্মিত এই ছবির ট্রেলার ও গান ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মুক্তির আগেই ভারতজুড়ে ছবিটির অগ্রিম টিকিট বিক্রি থেকে ২ কোটি ৪৯ লাখ রুপিরও বেশি আয় হয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রি ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ব্লকড সিটগুলো যোগ করলে এই অঙ্ক প্রায় ৪ কোটি ৬৬ লাখ রুপিতে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ৭০ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। অগ্রিম বুকিংয়ের ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র সবচেয়ে এগিয়ে আছে; সেখানে ১ হাজার ৪৯১টি শোর জন্য টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ৬২ লাখ ১৫ হাজার রুপি আয় হয়েছে, যা ব্লকড সিটসহ ৯৭ লাখ ২৪ হাজার রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা অগ্রিম বুকিংয়ের এই জোরালো প্রবণতা দেখে অনুমান করছেন যে, ‘ককটেল ২’ মুক্তির প্রথম দিনেই ৪ কোটির বেশি আয় করতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে টিকিট বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে প্রথম দিনে ছবিটি ৫ থেকে ১০ কোটি রুপির মধ্যে আয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দিল্লি-এনসিআর, মুম্বাই, পুনে, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো বড় শহরগুলোতে দর্শকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয়।
যদিও অগ্রিম বুকিংয়ের পরিসংখ্যান কোনো ছবির চূড়ান্ত সাফল্য নির্ধারণ করে না, তবে মুক্তির আগে দর্শকদের আগ্রহের মাত্রা বোঝার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে।
মন্তব্য