স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করেছেন ছোট পর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে জাহের আলভী। তিনি জামিনের আবেদনও করেছেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম কামাল উদ্দীনের আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী শেখ রোবায়েত ইসলাম জামিন আবেদন করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আফরা ইভনাথ ইকরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে নিহত ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হন’ বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযুক্ত জাহের আলভীর পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, তিনি ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। এছাড়া তাদের একটি শিশু সন্তান রয়েছে এবং তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে এই মামলায় যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। এছাড়া উচ্চ আদালতে আগাম জামিনসংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফেরার পরামর্শ পান জাহের আলভী।
উল্লেখ্য, মামলার পর অভিনেতা জাহের আলভী বিদেশে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দেশে ফিরে আসেন।
ইতালির ইতিহাসের অন্যতম এক নাটকীয় অধ্যায় এবার রূপালি পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে। ১৯৪৬ সালের মে মাসে মাত্র ২৭ দিনের জন্য ইতালির রানি হওয়া মারিয়া হোসের জীবন ও তাঁর সময়কাল নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশেষ চলচ্চিত্র ‘মেইস্তা’ (Maestà)। বেলজিয়ামের রাজা প্রথম আলবার্টের কন্যা এবং ইতালির যুবরাজ দ্বিতীয় উমবের্তোর স্ত্রী মারিয়া হোসের এই অবিশ্বাস্য গল্পটি বড় পর্দায় নিয়ে আসছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা জিনেভ্রা এলকান। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি’র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটির চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখবেন ইতালির প্রখ্যাত নির্মাতা মার্কো বেলোচিও।
ইতিহাসে মারিয়া হোসে ‘মে কুইন’ (May Queen) বা ‘২৭ দিনের রানি’ হিসেবে বিশেষভাবে সমাদৃত। ১৯৪৬ সালের ৯ মে থেকে ২ জুন—মাত্র ২৭ দিনের জন্য রানির মর্যাদায় ভূষিত ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ ভাগে ফ্যাসিবাদ ও রাজতন্ত্রের তীব্র সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উমবের্তোর পরিবার তাঁকে মসনদে বসায় এবং সেই সুবাদে মারিয়া রানির মুকুট লাভ করেন। তবে রাজমুকুট পরার মাত্র ২৭ দিন পরই ইতালিতে এক ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেয়। ফলে রাজপরিবারকে বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়তে হয়। এই নাটকীয় প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি তৎকালীন ইতালির ফ্যাসিবাদী সমাজ ও রাজনীতির নানা দিকও এই সিনেমায় সমান্তরালভাবে উঠে আসবে।
চলচ্চিত্রটির গল্পে মারিয়া হোসের ব্যক্তিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ফুটিয়ে তোলা হবে। তিনি তৎকালীন রক্ষণশীল রাজপরিবারের সদস্য হলেও ছিলেন অত্যন্ত শিক্ষিত, আধুনিক ও ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী। তিনি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইতালিতে রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অনিশ্চিত। তাই তাঁর সহানুভূতি ও অবস্থান ছিল মূলত সাধারণ অধিকারকামী মানুষের পক্ষে। পরিচালক জিনেভ্রা এলকান ছবিটির মূল ভাবনা নিয়ে বলেন, “এই সিনেমাটি ১৯৪৬ সালের সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কয়েক সপ্তাহের ঘটনাকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করবে, যখন মারিয়া হোসে একদিকে রানির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, অন্যদিকে নিজের চোখে রাজতন্ত্রের একটি সুদীর্ঘ যুগের অবসানও প্রত্যক্ষ করেছিলেন।”
ঐতিহাসিক সত্যতা ও ড্রামাটিক আবহের সংমিশ্রণে নির্মিতব্য এই সিনেমাটির মূল কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এই কালজয়ী চলচ্চিত্রে মারিয়া হোসে, দ্বিতীয় উমবের্তো বা অন্যান্য ঐতিহাসিক চরিত্রে কারা অভিনয় করবেন, সে বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী ইউরোপের রাজনৈতিক উত্থান-পতন এবং এক রানির সংক্ষিপ্ততম রাজত্বকালের এই মনস্তাত্ত্বিক গল্পটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের ইতিহাস ও চলচ্চিত্র শিল্পের মেলবন্ধনে নতুন এক অনন্য স্বাদ দেবে বলে মনে করছেন সিনেমা বিশ্লেষকেরা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হওয়ার পর এবার দেশের সাধারণ দর্শকদের জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’। আগামী ১৭ জুলাই বড় পর্দায় আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত এই সিনেমাটি। মুক্তির ঠিক এক মাস আগে, গত বুধবার বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ধ্রুব এষের ডিজাইন করা প্রথম অফিশিয়াল পোস্টার প্রকাশের মধ্য দিয়ে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করা হয়েছে।
গত বছর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে সিনেমাটির প্রদর্শন পর্ব শেষ হওয়ার পর এ বছরের শুরুতেই এটি মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। এমনকি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকেও গত বছরেই এটি দেশজুড়ে প্রদর্শনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের মতে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নিজেদের প্রস্তুতি আরও জোরালো করতেই ‘মাস্তুল’ বড় পর্দায় নিয়ে আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে সিনেমাটি; এটি ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ এবং রাশিয়ার ১৮তম চেবোক্সারি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বেস্ট আর্টিস্টিক কন্ট্রিবিউশন’ পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া স্পেনের ২৬তম ইমাজিন ইন্ডিয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সেরা মানবিক চলচ্চিত্র’ বিভাগেও মনোনীত হয়েছিল ছবিটি।
‘মাস্তুল’ সিনেমাটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানীবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ রাঁধুনি মকবুল এবং নদী বন্দর এলাকার এক পথশিশু নূরাকে কেন্দ্র করে। তাদের নিবিড় সম্পর্কের ভেতর দিয়ে নদী ও বন্দরে ভাসমান সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবন, বিচ্ছিন্নতা, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাস্তবতার আবহ ধরে রাখতে সিনেমাটির দৃশ্যধারণ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ত জাহাজ, নদীবন্দর ও জনবহুল মাছবাজারের মতো বাস্তব লোকেশনে। নির্মাতা জানিয়েছেন, এই চলচ্চিত্রে পেশাদার অভিনেতাদের পাশাপাশি ট্যাংকারে কর্মরত প্রকৃত খালাসিদেরও অভিনয়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন এবং সিফাত বন্যাসহ আরও অনেকে। সিনেমাটির চিত্রগ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান, শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন হুসনাইন লিঙ্কন এবং সংগীতে কাজ করেছেন চৈতন্য রাজবংশী। এছাড়া কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে যুবরাজ শামীম এবং প্রচারণার গানের সুরকার হিসেবে লাবিক কামাল গৌরব কাজ করেছেন। ‘সিনেমাকার’ প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটির ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রচারণার দায়িত্বে রয়েছে ‘টঙ ঘর টকিজ’। আন্তর্জাতিক আঙিনায় দেশের সুনাম বয়ে আনা এই চলচ্চিত্রটি দেশের সাধারণ দর্শকদের হৃদয়েও বিশেষভাবে জায়গা করে নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের অত্যন্ত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ এবং অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জি যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই শো-টির সঞ্চালক হিসেবে প্রতিটি বাঙালি পরিবারের ঘরে ঘরে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তবে সম্প্রতি গণমাধ্যমে জোর গুঞ্জন উঠেছে, অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয় সঞ্চালকের আসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। রচনার পরিবর্তে নতুন সঞ্চালিকা হিসেবে খ্যাতনামা অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের নাম প্রায় চূড়ান্ত করার খবর চাউর হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ ও টিআরপির প্রভাবের কারণে রচনাকে নিয়ে অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে রচনা ব্যানার্জি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সংসদ সদস্য (এমপি)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই এই রিয়েলিটি শো-এর সঞ্চালকের আসন থেকে তাঁর বিদায়ের জল্পনা শুরু হয়। তাছাড়া রাজনৈতিক কাজে অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে ইদানীং দিদি নম্বর ওয়ানের জন্য পর্যাপ্ত সময় বা শিডিউল দিতে পারছিলেন না রচনা। তাঁর অনুপস্থিতিতে সাময়িকভাবে বেশ কিছু পর্বে শ্বেতা ভট্টাচার্য এবং রুবেল দাসকে সঞ্চালনা করতে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে রচনার পরিবর্তে স্বস্তিকাকে নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ফরমেটে শো-টি সাজানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পথে হাঁটছিল কর্তৃপক্ষ।
তবে আরেকটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, প্রথমে রচনাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সেখান থেকে কিছুটা পিছিয়ে এসেছে দিদি নম্বর ওয়ান কর্তৃপক্ষ। মূলত কদিন আগে তৃণমূলের বিদ্রোহী তালিকায় রচনার নাম আসার পর তাঁকে নিয়ে পুনরায় ভাবনাচিন্তা করছেন নির্মাতারা। এছাড়া অনুষ্ঠানটির ব্যবসায়িক লাভ ও দর্শকপ্রিয়তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ‘টিআরপি’ (TRP) একটি বড় বিষয়। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, রচনার মতো আইকনিক সঞ্চালিকাকে সরিয়ে দিলে শো-টির টিআরপি মারাত্মকভাবে ধসে পড়তে পারে। এখনও পর্যন্ত চ্যানেল বা অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হওয়ায় রচনার থাকা না থাকার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে দর্শকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জি বাংলায় প্রথম শুরু হয়েছিল ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ রিয়েলিটি শো-টি। শুরুর দিকে পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায় এটি সঞ্চালনা করতেন এবং পরবর্তীতে ২০১১ সালে এতে যুক্ত হন রচনা ব্যানার্জি। মাঝে কিছুদিন জুন মালিয়া এবং দেবশ্রী চক্রবর্তী এই শো-এর সঞ্চালিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও জনপ্রিয়তার দিক থেকে কেউই রচনার সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারেননি। স্বয়ং রচনা ব্যানার্জিও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, এই অনুষ্ঠানটি তাঁর জীবনের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ তার চেনা সঞ্চালিকা রচনা ব্যানার্জিকে ধরে রাখতে পারে নাকি নতুন স্বস্তিকার হাত ধরে নতুন যাত্রায় পা রাখে।
ভারতের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার দীপেন্দু বিশ্বাসের জীবনসংগ্রাম ও স্বপ্নযাত্রার গল্প নিয়ে টলিউডে নির্মিত হচ্ছে বিশেষ চলচ্চিত্র ‘দীপু’। জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক শ্রী প্রীতমের পরিচালনায় নির্মিতব্য এই বায়োপিকের জন্য দুটি রোমান্টিক গান লিখেছেন বাংলাদেশের সফল গীতিকার সুদীপ কুমার দীপ। ‘কেন জানি না’ এবং ‘ফেরে না দুচোখ’ শিরোনামের এই গান দুটির সুর করেছেন পরিচালক শ্রী প্রীতম নিজে এবং গানগুলোতে যৌথভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রীতম ও গায়িকা বর্ষা।
ফুটবলপ্রেমী সুদীপ কুমার দীপ কলকাতার সিনেমায় গান লিখতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। দীপেন্দু বিশ্বাসের ফুটবল ক্যারিয়ারের একজন ভক্ত হিসেবে তিনি জানান, তাঁর বায়োপিকের মতো চমৎকার একটি উদ্যোগে যুক্ত হওয়াটা তাঁর জন্য বেশ ভালো একটি অভিজ্ঞতা। উল্লেখ্য, ওপার বাংলার প্রখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে মুভিজের (SK Movies) সঙ্গে ইতোমধ্যে ৫০টি গানের বড় চুক্তি রয়েছে সুদীপ দীপের, যার মধ্যে কয়েকটি গান ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কলকাতার আরও ৬-৭টি সিনেমায় তাঁর লেখা নতুন গান দর্শকেরা শুনতে পাবেন।
সিনেমাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস নিজেই তাঁর এই বায়োপিকে অভিনয় করছেন। এছাড়া তাঁর তরুণ বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমান মুনশি এবং দীপুর শৈশবের ফুটবল কোচের চরিত্রে দেখা যাবে টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে। এই সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিনয়শিল্পী হিসেবে অভিষেক ঘটছে সংগীতশিল্পী বর্ষা সেনগুপ্তের। পাশাপাশি সিনেমাটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তিলাল বন্দ্য়োপাধ্যায়, তুলিকা বসু, মৌসুমী সাহা এবং বিশ্বনাথ বসুর মতো পশ্চিমবঙ্গের একঝাঁক শক্তিমান অভিনেতা।
নির্মাতা ও সুরকার প্রীতমের মতে, দেশের হয়ে মাঠ কাঁপানো ফুটবলার দীপেন্দুর জীবনের অনেক না বলা এবং অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প এই সিনেমার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে আসবে। গ্রামের কোচের হাত ধরে দীপুর ফুটবলার হওয়ার রঙিন স্বপ্ন দেখা, কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ময়দানে সুনামের সঙ্গে খেলা এবং জয় করে আনা সব গৌরবময় মুহূর্তকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ‘দীপু’ সিনেমার শুটিংয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে একযোগে মুক্তি পাবে এই চলচ্চিত্রটি।
প্রখ্যাত ভাষাসৈনিক, শিক্ষাবিদ ও নাট্যসংগঠন পদাতিকের আজীবন সভাপতি প্রয়াত নাট্যজন সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মরণে এ বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ নাট্যোৎসব। পদাতিক নাট্য সংসদের উদ্যোগে আগামী ২৫ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ছয় দিনব্যাপী ‘সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মৃতি নাট্যোৎসব ও স্মারক সম্মাননা’র আয়োজন করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়ে আসা এই বিশেষ উৎসবে এবার প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে দেশের প্রথম সারির ছয়টি নাট্যদলের ছয়টি ভিন্নধর্মী নাটক মঞ্চস্থ হবে।
উৎসবের প্রথম দিন (২৫ জুন) মঞ্চস্থ হবে কামাল আহমেদের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে দেশ নাটকের প্রযোজনা ‘দর্পণে শরৎশশী’। দ্বিতীয় দিন ২৬ জুন পরিবেশিত হবে পদাতিক নাট্য সংসদের প্রশংসিত নাটক ‘আলিবাবা এবং চল্লিশ চোর’, যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী। ২৭ জুন থিয়েটার ফ্যাক্টরি মঞ্চস্থ করবে অলোক বসুর নির্দেশনায় ‘কমলা রঙের বোধ’। ২৮ জুন এথিক নাট্যদলের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে মিন্টু সরদারের নির্দেশিত নাটক ‘সুড়ঙ্গ’। ২৯ জুন বাংলাদেশ পারফরমেন্স আর্ট গ্রুপ নিয়ে আসবে অপূর্ব কুমার কুন্ডু রচিত ও সুজন মাহবুব নির্দেশিত ‘জালালউদ্দিন রুমী’ এবং সমাপনী দিন ৩০ জুন প্রদর্শিত হবে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের নাটক ‘বিধিবাম’।
জাতীয় নাট্যশালার ভেতরে নাটক মঞ্চায়নের পাশাপাশি উৎসবের বহিরাঙ্গনেও থাকবে বিশেষ আয়োজন। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান’। এই উন্মুক্ত আয়োজনে দর্শকদের বিনোদনের জন্য থাকবে বৈচিত্র্যময় পথনাটক, আবৃত্তি, সংগীতানুষ্ঠান এবং চমৎকার নৃত্য পরিবেশনা, যা উৎসবের আমেজকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাবে।
প্রতিবছরের ঐতিহ্য বজায় রেখে এ বছরের উৎসবেও দেশের নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গুণীজনদের স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হবে। এবারের সম্মাননাপ্রাপ্তদের নাম আগামী ২৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত বছরে এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রয়াত চেয়ারম্যান ড. আফসার আহমদ এবং খ্যাতিমান মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পক মো. সাইফুল ইসলামকে। বৈচিত্র্যময় এই উৎসবের সামগ্রিক আয়োজন বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করতে ও প্রয়াত গুণীজনদের মূল্যায়নে প্রশংসনীয় অবদান রাখছে।
জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী সৃষ্টি মিসির আলি সিরিজের বিখ্যাত রহস্য ও মনস্তাত্ত্বিক গল্প ‘জ্বীন কফিল’ এবার মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে দূর পরবাসে। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে প্রবাসী বাঙালিদের নাটকের দল ‘রঙ্গমঞ্চ’ এই বিশেষ নাটকটি মঞ্চে নিয়ে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা ফরহাদ হোসেনের নির্দেশনায় ডালাসের একটি মঞ্চে দুই দিনব্যাপী এই নাটকটির প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ জুন সন্ধ্যা ৭টায় এবং দ্বিতীয় প্রদর্শনীটি হবে ২১ জুন সন্ধ্যা ৬টায়।
নির্দেশক ফরহাদ হোসেনের মতে, ‘জ্বীন কফিল’ মূলত একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারধর্মী নাটক, যেখানে রহস্য, ভয়, মানসিক টানাপোড়েন এবং ফ্ল্যাশব্যাকের জটিল রসায়ন এক ভিন্নধর্মী ও গা ছমছমে আবহের সৃষ্টি করবে। নাটকের গল্পে দেখা যায়, গ্রামের এক সাধারণ নারী তাঁর জীবনের একটি অদ্ভুত ও রহস্যময় ঘটনাকে অলৌকিক ‘জ্বীনের আসর’ বলে গভীরভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। তবে এই অন্ধবিশ্বাসের পেছনে লুকিয়ে থাকা মনস্তাত্ত্বিক সত্য ও আসল রহস্য উদ্ঘাটন করতে যুক্তিবাদী চরিত্র মিসির আলি তাঁর অসাধারণ অনুসন্ধানী মন নিয়ে এগিয়ে আসেন।
হুমায়ূন আহমেদের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং তাঁর জটিল সৃষ্টিগুলোকে মঞ্চের রূপ দেওয়ার কৌতূহল থেকেই এই নাটকের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই গল্পের নাট্যরূপ দিতে গিয়ে অডিও-ভিডিও, লাইটিং এবং লাইভ অভিনয়ের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। প্রথমে মনজুর চৌধুরী রাজীব গল্পটির খসড়া নাট্যরূপ তৈরি করেন; পরবর্তীতে দৃশ্যান্তর ও নাটকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে চূড়ান্ত চিত্রনাট্য তৈরি করেন ফরহাদ হোসেন। নাটকটি মঞ্চস্থ করার জন্য হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক জুয়েল রানার কাছ থেকে চিত্রনাট্য দেখিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
ডালাসের এই বিশেষ মঞ্চায়নে অংশ নিচ্ছেন ২৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নাট্যকর্মী ও অভিনয়শিল্পী। এছাড়া নাটকটির আবহ সংগীত পরিচালনা করছেন প্রখ্যাত সুরকার মকসুদ জামিল মিন্টু, যিনি পূর্বে হুমায়ূন আহমেদের একাধিক জনপ্রিয় নাটক ও চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালন করেছেন। অনেক সমালোচক নাটকটি মঞ্চে উপস্থাপনের উপযোগী নয় বলে আশঙ্কা করলেও, রঙ্গমঞ্চ দলের সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম ও চমৎকার পরিকল্পনা অবশেষে এই গল্পকে দর্শকের সামনে নিয়ে আসছে, যা উত্তর আমেরিকার প্রবাসী দর্শকদের জন্য এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।
মন্তব্য