প্রখ্যাত ভাষাসৈনিক, শিক্ষাবিদ ও নাট্যসংগঠন পদাতিকের আজীবন সভাপতি প্রয়াত নাট্যজন সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মরণে এ বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ নাট্যোৎসব। পদাতিক নাট্য সংসদের উদ্যোগে আগামী ২৫ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ছয় দিনব্যাপী ‘সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মৃতি নাট্যোৎসব ও স্মারক সম্মাননা’র আয়োজন করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়ে আসা এই বিশেষ উৎসবে এবার প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে দেশের প্রথম সারির ছয়টি নাট্যদলের ছয়টি ভিন্নধর্মী নাটক মঞ্চস্থ হবে।
উৎসবের প্রথম দিন (২৫ জুন) মঞ্চস্থ হবে কামাল আহমেদের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে দেশ নাটকের প্রযোজনা ‘দর্পণে শরৎশশী’। দ্বিতীয় দিন ২৬ জুন পরিবেশিত হবে পদাতিক নাট্য সংসদের প্রশংসিত নাটক ‘আলিবাবা এবং চল্লিশ চোর’, যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী। ২৭ জুন থিয়েটার ফ্যাক্টরি মঞ্চস্থ করবে অলোক বসুর নির্দেশনায় ‘কমলা রঙের বোধ’। ২৮ জুন এথিক নাট্যদলের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে মিন্টু সরদারের নির্দেশিত নাটক ‘সুড়ঙ্গ’। ২৯ জুন বাংলাদেশ পারফরমেন্স আর্ট গ্রুপ নিয়ে আসবে অপূর্ব কুমার কুন্ডু রচিত ও সুজন মাহবুব নির্দেশিত ‘জালালউদ্দিন রুমী’ এবং সমাপনী দিন ৩০ জুন প্রদর্শিত হবে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের নাটক ‘বিধিবাম’।
জাতীয় নাট্যশালার ভেতরে নাটক মঞ্চায়নের পাশাপাশি উৎসবের বহিরাঙ্গনেও থাকবে বিশেষ আয়োজন। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান’। এই উন্মুক্ত আয়োজনে দর্শকদের বিনোদনের জন্য থাকবে বৈচিত্র্যময় পথনাটক, আবৃত্তি, সংগীতানুষ্ঠান এবং চমৎকার নৃত্য পরিবেশনা, যা উৎসবের আমেজকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাবে।
প্রতিবছরের ঐতিহ্য বজায় রেখে এ বছরের উৎসবেও দেশের নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গুণীজনদের স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হবে। এবারের সম্মাননাপ্রাপ্তদের নাম আগামী ২৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত বছরে এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রয়াত চেয়ারম্যান ড. আফসার আহমদ এবং খ্যাতিমান মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পক মো. সাইফুল ইসলামকে। বৈচিত্র্যময় এই উৎসবের সামগ্রিক আয়োজন বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করতে ও প্রয়াত গুণীজনদের মূল্যায়নে প্রশংসনীয় অবদান রাখছে।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক উপহার দিলেও এবার এক নতুন রূপে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন অভিনেতা আ খ ম হাসান। ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ওয়েব ফিল্ম ‘তাজমহল’-এ ‘ভুনা ভাই’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি এখন প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ফোনে দর্শকদের অভাবনীয় সাড়া পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত এই অভিনেতা।
ওয়াহিদ আনাম পরিচালিত ‘তাজমহল’-এ তাঁর সাবলীল অভিনয় দেখে মুগ্ধ নেটিজেনরা। সম্প্রতি ‘বাংলা নাটক’ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপে তাঁর ছবি পোস্ট করে এক দর্শক মন্তব্য করেন, ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়।’ দর্শকদের এমন সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় অভিভূত আ খ ম হাসান বলেন, "এত এত ফোন আগে কোনো কাজে পাইনি। ফেসবুকেও অনেকেই লিখেছেন। মনে হচ্ছে যেন দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছি। আমার দর্শক তো ইউটিউব আর টেলিভিশনে, সেখানে ওটিটির দর্শকদের এই ভালোবাসায় প্রমাণ হয় আমি হয়তো ভালো অভিনয় করেছি।"
‘তাজমহল’-এর সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী ২২ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাঁর নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। কাজী আসাদ পরিচালিত এই প্রজেক্টে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। অভিনেতা জানান, নির্মাতা তাঁকে মাথায় রেখেই চরিত্রটি লিখেছেন, যা একজন শিল্পীর জন্য বড় এক প্রাপ্তি।
ওটিটি মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আ খ ম হাসান বলেন, "মঞ্চ থেকে টেলিভিশন ও ইউটিউবে কাজ করেছি। এখন ওটিটির নির্মাতারা ডাকছেন। অনেক তরুণ ওটিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা টেকনিক্যাল দিক দিয়ে অনেক বেশি পড়াশোনা করা। আর কাজের ক্ষেত্রে ওটিটিতে বাজেট বেশি। নির্মাতারা প্রতিটি দৃশ্য ধরে ধরে কাজ করেন। অন্য কাজের তুলনায় এখানে পরিশ্রম অনেক বেশি।"
তরুণ নির্মাতাদের কারিগরি জ্ঞান এবং কাজের প্রতি যত্নের প্রশংসা করে এই অভিনেতা আরও জানান, ওটিটির এই নতুন ধারা তাঁর অভিনয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করেছে। ‘ভুনা ভাই’ চরিত্রের অভাবনীয় সাফল্যের পর এখন তাঁর ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ‘লাইফলাইন’-এ তাঁর নতুন চমক দেখার জন্য। ওটিটির এই ব্যস্ততা আ খ ম হাসানের ক্যারিয়ারে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
ছবি কোলাজ- নিউজ বাংলা
জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেনস (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রুখতে এবং নিজের ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় এক শক্তিশালী আইনি লড়াই শুরু করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ও আইপিএল দল পাঞ্জাব কিংসের মালকিন প্রীতি জিনতা। তাঁর নাম ও অবয়ব ব্যবহার করে ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি এবং ভুয়া চ্যাটবট তৈরির অভিযোগে গুগল ও মেটাসহ শীর্ষস্থানীয় টেক জায়ান্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য মুম্বাই হাইকোর্টের সবুজ সংকেত পেয়েছেন তিনি।
বিচারপতি অভয় আহুজা প্রীতি জিনতার বিশেষ আবেদনটি মঞ্জুর করায় এখন বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর আইনি লড়াইয়ের পথ সুগম হলো। অভিনেত্রীর পক্ষে আইনজীবী রোহন কদম আদালতে যুক্তি দেখান যে, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রীতি জিনতার পরিচয় কার্যত চুরি করা হয়েছে। ১৯৫৭ সালের ভারতীয় কপিরাইট আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তাঁর নাম, কণ্ঠস্বর বা অবয়ব বাণিজ্যিক বা পাবলিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রীতি জিনতার অভিযোগ, তাঁর অজান্তেই তাঁর ডিজিটাল ইমেজকে অত্যন্ত আপত্তিকরভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে। ইন্টারনেটে এমন কিছু চ্যাটবট তৈরি করা হয়েছে যা হুবহু তাঁর নাম ও ব্যক্তিত্ব নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এছাড়া কুরুচিপূর্ণ ডিপফেক ভিডিও এবং বিকৃত মিম ছড়িয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। গুগল, মেটা, এক্স, জিফি এবং গোড্যাডির মতো ডজনখানেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হচ্ছে। যদিও এই সংস্থাগুলোর অনেকটির সদর দপ্তর দেশের বাইরে, তবে প্রীতি যেহেতু মুম্বাইয়ের বাসিন্দা এবং এখানেই তাঁর কর্মক্ষেত্র, তাই মামলাটি বোম্বে হাইকোর্টের এখতিয়ারভুক্ত বলে আদালতকে জানানো হয়।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের এই যুগে নিজের ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে প্রীতির এই মামলাটি একটি নতুন আইনি নজির হতে যাচ্ছে। এর আগে কার্তিক আরিয়ান, শত্রুঘ্ন সিনহা, শিল্পা শেঠি এবং অরিজিৎ সিংয়ের মতো তারকারাও আদালত থেকে ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের সুরক্ষামূলক আইনি স্বস্তি পেয়েছেন। প্রযুক্তির অপব্যবহারের হাত থেকে তারকাদের ইমেজ ও সম্মান রক্ষায় এই আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবি: সংগৃহীত
বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবুল বাশারের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘পবিত্র অসুখ’-এর ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে নতুন দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটক ‘চাওয়া পাওয়া’। নাটকটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন মনসুর রহমান চঞ্চল এবং এটি পরিচালনা করছেন রাকেশ বসু। বর্তমানে নাটকটির দৃশ্যধারণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে এবং খুব শিগগিরই এনটিভিতে এর প্রচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই ধারাবাহিকের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে দেশের তিন প্রজন্মের জনপ্রিয় তিন অভিনয়শিল্পী ডলি জহুর, মুনিরা ইউসুফ মেমী ও জাকিয়া বারী মমর একত্রে উপস্থিতি। নাটকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে নির্মাতা রাকেশ বসু জানান, "চাওয়া পাওয়া পারিবারিক গল্পের নাটক। পারিবারিক সম্পর্ক আর নানা টানাপোড়েনের গল্প দেখা যাবে এতে। আশা করছি, প্রচারে এলে ভালো লাগবে দর্শকের।" এই নাটকে ডলি জহুর অভিনয় করছেন মেমীর শাশুড়ির ভূমিকায়।
দীর্ঘদিন পর এমন একটি চমৎকার গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ডলি জহুর তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, "এই ধারাবাহিকের গল্পটা বেশ সুন্দর। এমনিতেই রাকেশ বেশ যত্ন নিয়ে নাটক নির্মাণ করে। এই নাটকেও বেশ যত্ন নিয়ে প্রতিটি দৃশ্যের শুটিং করছে। এখন তো ভালো গল্পের বেশ সংকট। কিন্তু রাকেশের গল্প নির্বাচন সব সময়ই খুব ভালো। প্রতিটি নাটকেই সে একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে।"
অন্যদিকে মুনিরা ইউসুফ মেমী এই নাটকটিকে একটি জীবনমুখী সৃষ্টি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এটি সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতিফলন হওয়ায় দর্শকরা সহজেই এর সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারবেন। মেমী বলেন, “ডলি আপার সঙ্গে বহুদিন পর কোনো ধারাবাহিক নাটকে কাজ করছি। সঙ্গে মম, দিনারসহ আরও অনেকেই আছেন। কাজটি করতে বেশ ভালো লাগছে।" পারিবারিক জটিলতা ও সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে নির্মিত এই ধারাবাহিকটি দর্শকপ্রিয়তা পাবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করেছেন ছোট পর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে জাহের আলভী। তিনি জামিনের আবেদনও করেছেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম কামাল উদ্দীনের আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী শেখ রোবায়েত ইসলাম জামিন আবেদন করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আফরা ইভনাথ ইকরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে নিহত ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হন’ বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযুক্ত জাহের আলভীর পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, তিনি ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। এছাড়া তাদের একটি শিশু সন্তান রয়েছে এবং তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে এই মামলায় যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। এছাড়া উচ্চ আদালতে আগাম জামিনসংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফেরার পরামর্শ পান জাহের আলভী।
উল্লেখ্য, মামলার পর অভিনেতা জাহের আলভী বিদেশে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দেশে ফিরে আসেন।
ইতালির ইতিহাসের অন্যতম এক নাটকীয় অধ্যায় এবার রূপালি পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে। ১৯৪৬ সালের মে মাসে মাত্র ২৭ দিনের জন্য ইতালির রানি হওয়া মারিয়া হোসের জীবন ও তাঁর সময়কাল নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশেষ চলচ্চিত্র ‘মেইস্তা’ (Maestà)। বেলজিয়ামের রাজা প্রথম আলবার্টের কন্যা এবং ইতালির যুবরাজ দ্বিতীয় উমবের্তোর স্ত্রী মারিয়া হোসের এই অবিশ্বাস্য গল্পটি বড় পর্দায় নিয়ে আসছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা জিনেভ্রা এলকান। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি’র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটির চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখবেন ইতালির প্রখ্যাত নির্মাতা মার্কো বেলোচিও।
ইতিহাসে মারিয়া হোসে ‘মে কুইন’ (May Queen) বা ‘২৭ দিনের রানি’ হিসেবে বিশেষভাবে সমাদৃত। ১৯৪৬ সালের ৯ মে থেকে ২ জুন—মাত্র ২৭ দিনের জন্য রানির মর্যাদায় ভূষিত ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ ভাগে ফ্যাসিবাদ ও রাজতন্ত্রের তীব্র সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উমবের্তোর পরিবার তাঁকে মসনদে বসায় এবং সেই সুবাদে মারিয়া রানির মুকুট লাভ করেন। তবে রাজমুকুট পরার মাত্র ২৭ দিন পরই ইতালিতে এক ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেয়। ফলে রাজপরিবারকে বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়তে হয়। এই নাটকীয় প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি তৎকালীন ইতালির ফ্যাসিবাদী সমাজ ও রাজনীতির নানা দিকও এই সিনেমায় সমান্তরালভাবে উঠে আসবে।
চলচ্চিত্রটির গল্পে মারিয়া হোসের ব্যক্তিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ফুটিয়ে তোলা হবে। তিনি তৎকালীন রক্ষণশীল রাজপরিবারের সদস্য হলেও ছিলেন অত্যন্ত শিক্ষিত, আধুনিক ও ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী। তিনি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইতালিতে রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অনিশ্চিত। তাই তাঁর সহানুভূতি ও অবস্থান ছিল মূলত সাধারণ অধিকারকামী মানুষের পক্ষে। পরিচালক জিনেভ্রা এলকান ছবিটির মূল ভাবনা নিয়ে বলেন, “এই সিনেমাটি ১৯৪৬ সালের সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কয়েক সপ্তাহের ঘটনাকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করবে, যখন মারিয়া হোসে একদিকে রানির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, অন্যদিকে নিজের চোখে রাজতন্ত্রের একটি সুদীর্ঘ যুগের অবসানও প্রত্যক্ষ করেছিলেন।”
ঐতিহাসিক সত্যতা ও ড্রামাটিক আবহের সংমিশ্রণে নির্মিতব্য এই সিনেমাটির মূল কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এই কালজয়ী চলচ্চিত্রে মারিয়া হোসে, দ্বিতীয় উমবের্তো বা অন্যান্য ঐতিহাসিক চরিত্রে কারা অভিনয় করবেন, সে বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী ইউরোপের রাজনৈতিক উত্থান-পতন এবং এক রানির সংক্ষিপ্ততম রাজত্বকালের এই মনস্তাত্ত্বিক গল্পটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের ইতিহাস ও চলচ্চিত্র শিল্পের মেলবন্ধনে নতুন এক অনন্য স্বাদ দেবে বলে মনে করছেন সিনেমা বিশ্লেষকেরা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হওয়ার পর এবার দেশের সাধারণ দর্শকদের জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’। আগামী ১৭ জুলাই বড় পর্দায় আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত এই সিনেমাটি। মুক্তির ঠিক এক মাস আগে, গত বুধবার বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ধ্রুব এষের ডিজাইন করা প্রথম অফিশিয়াল পোস্টার প্রকাশের মধ্য দিয়ে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করা হয়েছে।
গত বছর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে সিনেমাটির প্রদর্শন পর্ব শেষ হওয়ার পর এ বছরের শুরুতেই এটি মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। এমনকি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকেও গত বছরেই এটি দেশজুড়ে প্রদর্শনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের মতে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নিজেদের প্রস্তুতি আরও জোরালো করতেই ‘মাস্তুল’ বড় পর্দায় নিয়ে আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে সিনেমাটি; এটি ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ এবং রাশিয়ার ১৮তম চেবোক্সারি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বেস্ট আর্টিস্টিক কন্ট্রিবিউশন’ পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া স্পেনের ২৬তম ইমাজিন ইন্ডিয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সেরা মানবিক চলচ্চিত্র’ বিভাগেও মনোনীত হয়েছিল ছবিটি।
‘মাস্তুল’ সিনেমাটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানীবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ রাঁধুনি মকবুল এবং নদী বন্দর এলাকার এক পথশিশু নূরাকে কেন্দ্র করে। তাদের নিবিড় সম্পর্কের ভেতর দিয়ে নদী ও বন্দরে ভাসমান সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবন, বিচ্ছিন্নতা, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাস্তবতার আবহ ধরে রাখতে সিনেমাটির দৃশ্যধারণ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ত জাহাজ, নদীবন্দর ও জনবহুল মাছবাজারের মতো বাস্তব লোকেশনে। নির্মাতা জানিয়েছেন, এই চলচ্চিত্রে পেশাদার অভিনেতাদের পাশাপাশি ট্যাংকারে কর্মরত প্রকৃত খালাসিদেরও অভিনয়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন এবং সিফাত বন্যাসহ আরও অনেকে। সিনেমাটির চিত্রগ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান, শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন হুসনাইন লিঙ্কন এবং সংগীতে কাজ করেছেন চৈতন্য রাজবংশী। এছাড়া কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে যুবরাজ শামীম এবং প্রচারণার গানের সুরকার হিসেবে লাবিক কামাল গৌরব কাজ করেছেন। ‘সিনেমাকার’ প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটির ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রচারণার দায়িত্বে রয়েছে ‘টঙ ঘর টকিজ’। আন্তর্জাতিক আঙিনায় দেশের সুনাম বয়ে আনা এই চলচ্চিত্রটি দেশের সাধারণ দর্শকদের হৃদয়েও বিশেষভাবে জায়গা করে নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের অত্যন্ত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ এবং অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জি যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই শো-টির সঞ্চালক হিসেবে প্রতিটি বাঙালি পরিবারের ঘরে ঘরে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তবে সম্প্রতি গণমাধ্যমে জোর গুঞ্জন উঠেছে, অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয় সঞ্চালকের আসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। রচনার পরিবর্তে নতুন সঞ্চালিকা হিসেবে খ্যাতনামা অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের নাম প্রায় চূড়ান্ত করার খবর চাউর হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ ও টিআরপির প্রভাবের কারণে রচনাকে নিয়ে অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে রচনা ব্যানার্জি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সংসদ সদস্য (এমপি)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই এই রিয়েলিটি শো-এর সঞ্চালকের আসন থেকে তাঁর বিদায়ের জল্পনা শুরু হয়। তাছাড়া রাজনৈতিক কাজে অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে ইদানীং দিদি নম্বর ওয়ানের জন্য পর্যাপ্ত সময় বা শিডিউল দিতে পারছিলেন না রচনা। তাঁর অনুপস্থিতিতে সাময়িকভাবে বেশ কিছু পর্বে শ্বেতা ভট্টাচার্য এবং রুবেল দাসকে সঞ্চালনা করতে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে রচনার পরিবর্তে স্বস্তিকাকে নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ফরমেটে শো-টি সাজানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পথে হাঁটছিল কর্তৃপক্ষ।
তবে আরেকটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, প্রথমে রচনাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সেখান থেকে কিছুটা পিছিয়ে এসেছে দিদি নম্বর ওয়ান কর্তৃপক্ষ। মূলত কদিন আগে তৃণমূলের বিদ্রোহী তালিকায় রচনার নাম আসার পর তাঁকে নিয়ে পুনরায় ভাবনাচিন্তা করছেন নির্মাতারা। এছাড়া অনুষ্ঠানটির ব্যবসায়িক লাভ ও দর্শকপ্রিয়তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ‘টিআরপি’ (TRP) একটি বড় বিষয়। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, রচনার মতো আইকনিক সঞ্চালিকাকে সরিয়ে দিলে শো-টির টিআরপি মারাত্মকভাবে ধসে পড়তে পারে। এখনও পর্যন্ত চ্যানেল বা অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হওয়ায় রচনার থাকা না থাকার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে দর্শকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জি বাংলায় প্রথম শুরু হয়েছিল ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ রিয়েলিটি শো-টি। শুরুর দিকে পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায় এটি সঞ্চালনা করতেন এবং পরবর্তীতে ২০১১ সালে এতে যুক্ত হন রচনা ব্যানার্জি। মাঝে কিছুদিন জুন মালিয়া এবং দেবশ্রী চক্রবর্তী এই শো-এর সঞ্চালিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও জনপ্রিয়তার দিক থেকে কেউই রচনার সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারেননি। স্বয়ং রচনা ব্যানার্জিও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, এই অনুষ্ঠানটি তাঁর জীবনের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ তার চেনা সঞ্চালিকা রচনা ব্যানার্জিকে ধরে রাখতে পারে নাকি নতুন স্বস্তিকার হাত ধরে নতুন যাত্রায় পা রাখে।
মন্তব্য