হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যান তাঁর বর্ণিল ক্যারিয়ারে আরও একটি কালজয়ী চরিত্র যোগ করতে যাচ্ছেন। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক রবার্ট লুইস স্টিভেনসনের ক্ল্যাসিক উপন্যাস ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’-এর নতুন রূপান্তরে কুখ্যাত জলদস্যু লং জন সিলভারের ভূমিকায় অভিনয় করবেন তিনি। এর আগে উলভারিন, রবিন হুড, ভ্যান হেলসিং কিংবা জঁ ভালজঁ-এর মতো শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেতার জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক নতুন চ্যালেঞ্জ। বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই খলচরিত্রটি হিউ জ্যাকম্যান কীভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন, তা দেখতে এখন মুখিয়ে আছেন ভক্তরা।
এই বিশাল বাজেটের চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন কিংবদন্তি নির্মাতা রিডলি স্কট। সিনেমাটির চিত্রনাট্য তৈরির দায়িত্ব পেয়েছেন এমি পুরস্কারজয়ী ব্রিটিশ নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার জ্যাক থর্ন, যিনি সম্প্রতি ‘অ্যাডোলেসেন্স’ সিরিজের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। রিডলি স্কট এবং মাইকেল প্রুস যৌথভাবে এই ছবিটি প্রযোজনা করছেন এবং জ্যাক থর্ন নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে এর সাথে যুক্ত থাকবেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের বিরতির পর এমন এক ধ্রুপদী গল্প নিয়ে বিশ্বখ্যাত নির্মাতাদের এই সমন্বয় সিনেমাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আঙিনায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
অষ্টাদশ শতকের প্রেক্ষাপটে রচিত ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’ বিশ্বসাহিত্যের সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী জলদস্যুদের কাহিনী হিসেবে পরিচিত। এর কাহিনী আবর্তিত হয় জিম হকিন্স নামের এক তরুণ এবং ক্যাপ্টেন ফ্লিন্টের লুকিয়ে রাখা বিপুল গুপ্তধনের রোমাঞ্চকর অনুসন্ধানকে ঘিরে। হিউ জ্যাকম্যান যে লং জন সিলভারের চরিত্রে অভিনয় করছেন, সেটি মূলত একজন চতুর ও ছদ্মবেশী জলদস্যুর চরিত্র, যে জিমের দলে যোগ দিয়ে গুপ্তধন লুট করার পরিকল্পনা সাজায়। মজার বিষয় হলো, বর্তমানে পপ কালচারে জলদস্যুদের যে বিশেষ অবয়ব আমরা দেখি—যেমন চোখে কালো পট্টি, কাঁধে তোতা পাখি কিংবা কাঠের পা—তার অধিকাংশেরই উৎপত্তি হয়েছিল এই কালজয়ী উপন্যাস থেকে।
সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের বাড়তি আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো নির্মাতা ও প্রধান অভিনেতার বর্তমান ব্যস্ততা ও সাফল্য। রিডলি স্কট বর্তমানে তাঁর নতুন পোস্ট-আপোক্যালিপ্টিক সায়েন্স ফিকশন ‘দ্য ডগ স্টারস’ মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা আগামী আগস্টে বড় পর্দায় আসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, হিউ জ্যাকম্যান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দ্য ডেথ অব রবিন হুড’ আগামী ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেই ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’-এর এই নতুন প্রকল্পের ঘোষণা জলদস্যুদের এই মহাকাব্যিক গল্পটিকে পুনরায় বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য ও কারণ উন্মোচনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
লাশ উত্তোলনপূর্বক নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আনুষঙ্গিক আইনি কার্যক্রম শেষ করেই দ্রুত লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার ও তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমান শাহর মা নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরী, বাবা মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় সালমানের সাথে দেখা করতে যান। তখন সালমানের স্ত্রী সামীরা হক এবং কর্মচারী আবুল তাদের জানান যে সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। তারা গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে টেলিফোনে জানানো হয় যে সালমানের কিছু একটা হয়েছে। পরিবার দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, সালমান শাহ শয়নকক্ষে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয় এবং রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘদিন পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে এই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আদালতের এই নির্দেশনার পর ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় চিত্রনায়ক সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, লতিফা হক লুছি, আব্দুস সাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন সালমান শাহকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা গিয়েছিল।
সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী জীবিত থাকাকালীন ১৯৯৭ সালেই এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করে আদালতে দরখাস্ত দিয়েছিলেন এবং সিআইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর এখন সালমানের মামা বোনের পক্ষ থেকে এই মামলাটি পরিচালনা করছেন। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ও পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন।
থিয়েটারকে কেন্দ্র করে যাপিত জীবন এবং একজন শিল্পীর শৈল্পিক সংগ্রামের গল্প নিয়ে নির্মাতা নিয়ামুল মুক্তা নির্মাণ করেছেন তাঁর নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পথ’। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন পাবনার বিশিষ্ট নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান দুলাল। চিলেকোঠা ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমাটির কাহিনি, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনার পাশাপাশি এটি প্রযোজনাও করেছেন নিয়ামুল মুক্তা নিজেই। সম্প্রতি চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র লাভ করেছে, যা সিনেমাটি মুক্তির পথে প্রথম বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিনেমাটির মূল উপজীব্য হলো একজন থিয়েটার অন্তপ্রাণ মানুষের জীবনযাত্রা, যিনি আজীবন কাঁধে করে নাটকের সরঞ্জাম এবং থিয়েটারের দর্শন বয়ে বেরিয়েছেন। নির্মাতা নিয়ামুল মুক্তা বাস্তবধর্মী এই চরিত্রটিকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে স্থানীয় নাট্যচর্চার সাথে সম্পৃক্ত একজন প্রকৃত শিল্পীর খোঁজ করছিলেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি আসাদুজ্জামান দুলালকে বেছে নিয়েছেন। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে তৃণমূল পর্যায়ে নিবিড় নাট্যচর্চার সাথে জড়িত দুলালের জীবনের অভিজ্ঞতাই মূলত এই চরিত্রটিকে আরও প্রাণবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে বলে নির্মাতা মনে করেন।
আসাদুজ্জামান দুলাল দেশের নাট্য অঙ্গনে একটি পরিচিত নাম, বিশেষ করে লোকজ ও তৃণমূল পর্যায়ের নাট্য আন্দোলনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি দীর্ঘদিন প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদের ‘মুক্তনাটক’-এর সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ‘সমন্বয় থিয়েটার’ নামক একটি স্থানীয় নাট্যদলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক রচনা ও নির্দেশনায়ও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্মাতার মতে, দুলালের ব্যক্তিজীবন এবং পর্দার চরিত্রের মধ্যে এক ধরনের জাদুকরী মিল রয়েছে যা সিনেমাটিকে সাধারণ দর্শকদের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
‘পথ’ সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতার বড় ধরনের আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রেক্ষাগৃহে সাধারণ দর্শকদের জন্য মুক্তির আগে তাঁরা বেশ কিছু মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উৎসবের যাত্রা সফলভাবে শেষ করে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সিনেমাটি দেশজুড়ে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আসাদুজ্জামান দুলাল বাদে এই চলচ্চিত্রে আর কারা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, সে বিষয়ে নির্মাতা এখনো এক ধরনের গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন। খুব শীঘ্রই টিজার বা ট্রেলার প্রকাশের মাধ্যমে অন্যান্য কুশলীদের নাম জনসমক্ষে আনা হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, নিয়ামুল মুক্তা বর্তমানে তাঁর পরবর্তী প্রজেক্টগুলো নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। ‘পথ’ ছাড়াও তিনি ‘বৈদ্য’ নামে আরেকটি নতুন সিনেমার শুটিং সফলভাবে শেষ করেছেন। এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। নির্মাতা জানিয়েছেন যে, ‘বৈদ্য’ সিনেমাটিও খুব দ্রুত সেন্সরের জন্য জমা দেওয়া হবে। পর পর দুটি ভিন্নধর্মী এবং জীবনঘনিষ্ঠ কাজ নিয়ে নিয়ামুল মুক্তা এখন দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছেন, যা সুস্থ ধারার সিনেমা প্রেমীদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।
ছবি: সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র বাজারে বড় বাজেটের সিনেমার পাশাপাশি অল্প বাজেটের হরর সিনেমাগুলো অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। বড় তারকা বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণা ছাড়াই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে 'অবসেশন' ও 'ব্যাকরুমস' নামের দুটি চলচ্চিত্র। মজার বিষয় হলো, আলোচিত এই দুটি সিনেমার নেপথ্যে রয়েছেন দুই তরুণ ইউটিউবার। ২৬ বছর বয়সী ক্যারি বার্কার নির্মাণ করেছেন 'অবসেশন' এবং মাত্র ২০ বছর বয়সী কেন পারসনস পরিচালনা করেছেন 'ব্যাকরুমস'। ইউটিউবকে 'ফিল্ম স্কুল' হিসেবে ব্যবহার করে এই দুই তরুণ নির্মাতা প্রমাণ করেছেন যে মেধা আর সৃজনশীলতা থাকলে সীমিত সম্পদেও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া সম্ভব।
ক্যারি বার্কারের পথচলা শুরু হয়েছিল তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে, যেখানে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য গল্প ও ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে দর্শক মনস্তত্ত্ব আয়ত্ত করেন। ২০২৪ সালে মাত্র ৮০০ ডলার বাজেটে বন্ধুদের নিয়ে 'মিল্ক অ্যান্ড সিরিয়াল' বানিয়ে তিনি প্রথম চমক দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র 'অবসেশন' টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হওয়ার পর ফোকাস ফিচারস এর স্বত্ব কিনে নেয়। মুক্তির পর সিনেমাটি ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয় এবং এটি ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। ছবিটির রহস্যময় প্রচারণা এবং কাল্পনিক জাদুকরি বস্তুর বাণিজ্যিক বিপণন এই সাফল্যকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
অন্যদিকে, কেন পারসনস তাঁর 'ব্যাকরুমস' সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন। ইন্টারনেটের জনপ্রিয় একটি হরর কিংবদন্তিকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালে ইউটিউবে তাঁর তৈরি করা ভিডিও সিরিজটি ২০০ মিলিয়নের বেশি ভিউ অর্জন করে। এই প্রতিভা দেখে এ২৪ স্টুডিও তাঁকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের দায়িত্ব দেয়। মাত্র ২০ বছর বয়সে কেনের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহান্তেই ৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার আয় করে, যা এ২৪ স্টুডিওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড। বাস্তব জগতের পরিচিত সীমানা ছাড়িয়ে এক অন্তহীন হলুদ দেয়ালের গোলকধাঁধায় আটকা পড়ার ভীতি দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
এই সিনেমাগুলোর অভাবনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে আধুনিক দর্শকদের গতানুগতিক হলিউড ব্লকব্লাস্টারের প্রতি অনীহা। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, দর্শকরা এখন প্রথাগত রক্তারক্তি বা সস্তা চমকের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক ও আবহভিত্তিক ভীতি বেশি পছন্দ করছেন। 'ব্যাকরুমস'-এ নিঃসঙ্গতা আর অজানা শব্দের মাধ্যমে যে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে, তা দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যান কমিউনিটি ও মিম সংস্কৃতির কারণে এই ছবিগুলো দ্রুত পপ কালচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুই তরুণের সাফল্য হলিউডের বড় স্টুডিওগুলোকে এখন ইউটিউব ও স্বাধীন নির্মাতাদের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হতে বাধ্য করছে।
ছবি: এআই নির্মিত
দীর্ঘ ২৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে ফিরছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে আর্লিং হাল্যান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের হাত ধরে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকতে নরওয়ে দল ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এক বিচিত্র কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তারা। খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি মাথায় রেখে নরওয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট তাদের সাথে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী উড়িয়ে নিয়ে এসেছে।
আমেরিকার স্থানীয় খাবারের ওপর শতভাগ ভরসা না করে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর খাবারের ওপরই আস্থা রাখছে নরওয়েজিয়ানরা। তাদের এই অদ্ভুত রসদের তালিকায় রয়েছে ৩০০ কেজি তাজা লাল মাছ এবং ১১৬ কেজি বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ব্রাউন চিজ। মূলত মেগা টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদেশের মাটিতেও পরিচিত স্বাদের খাবার বজায় রাখাই এই বিশাল আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। ফুটবলারদের ডায়েট চার্টকে নিখুঁত রাখতে নরওয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট এই নজিরবিহীন ও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
খেলোয়াড়দের জন্য মানসম্মত খাবার তৈরির লক্ষ্যে দলের সাথে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন নরওয়ের দুই প্রখ্যাত রন্ধনশিল্পী অ্যারন এসপেল্যান্ড ও এইরিক তুফতে। শেফ অ্যারন এর আগে ২০২০ সালের অলিম্পিকেও নরওয়ে দলের খাবারের দায়িত্বে ছিলেন। এই দুই অভিজ্ঞ শেফ দলের দীর্ঘদিনের প্রধান শেফের সঙ্গে মিলে হাল্যান্ড ও ওডেগার্ডদের শারীরিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা তৈরি করছেন। তাঁরা মনে করেন, সঠিক ডায়েটই পারে মাঠের লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের ক্লান্তিহীন পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে।
নরওয়ে থেকে সুদূর আমেরিকায় প্রায় আধ টন মাছ ও অন্যান্য খাবার পরিবহন করা ছিল এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড জানান যে, খাঁটি নরওয়েজিয়ান উপাদানের গুণগত মানের ওপর তাদের অবিচল বিশ্বাসের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন যে, খাবারে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণের উৎস, এমনকি কোন কৃষক সেটি চাষ করেছেন কিংবা কোন জেলে মাছটি ধরেছেন—সে সম্পর্কেও তাঁরা নিশ্চিত থাকতে চান। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে দেশের সেরা উপকরণ দিয়ে ফুটবলারদের সেবা করতে পারাটা তাঁদের কাছে এক বড় প্রাপ্তি।
নরওয়ের এমন নিখুঁত ও পেশাদার প্রস্তুতি ফুটবল মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ডায়েটের প্রতি এই গভীর মনোযোগ খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক হবে। আর্লিং হাল্যান্ডের মতো গোলমেশিন এবং ওডেগার্ডের মতো মাঝমাঠের কারিগরদের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করে নিতেই এই সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে নরওয়ে কেবল তাদের ফুটবল দিয়েই নয়, বরং তাদের জীবনযাত্রা ও উন্নত ব্যবস্থাপনা দিয়েও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে প্রস্তুত।
শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কার্টুন ‘স্কুবি-ডু’ ও তার গোয়েন্দা দলটি এবার নতুন এক আঙ্গিকে ফিরছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে। সম্প্রতি ওটিটি জায়ান্টটি তাদের আসন্ন লাইভ-অ্যাকশন সিরিজ ‘স্কুবি-ডু: অরিজিনস’-এর একটি প্রাথমিক ঝলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। ছোট এই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের ঘন জঙ্গলে দৌড়ানোর সময় শ্যাগির সাথে প্রথমবার দেখা হয় গ্রেট ডেন জাতের কুকুর স্কুবি-ডুর। জনপ্রিয় এই কার্টুনটির আধুনিক ও বাস্তবসম্মত রূপান্তর ভক্তদের মাঝে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
সিরিজটির শুটিং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় পুরোদমে চলছে এবং এটি ২০২৭ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স টেলিভিশনের ব্যানারে সিরিজটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে বার্লান্টি প্রোডাকশনস ও মিডনাইট রেডিও। সিরিজের মূল গোয়েন্দা দল ‘মিস্ট্রি ইনক’-এর চিরচেনা চরিত্রগুলোতে দেখা যাবে একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ তারকাকে। এছাড়া জনপ্রিয় অভিনেতা পল ওয়াল্টার হাউজার এই সিরিজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করছেন। সিরিজটির লেখক ও প্রধান পরিচালক হিসেবে রয়েছেন জশ অ্যাপেলবাম ও স্কট রোজেনবার্গ, আর এর প্রথম পর্বটি পরিচালনা করছেন প্রখ্যাত পরিচালক টবি হেইন্স।
‘স্কুবি-ডু: অরিজিনস’-এর গল্পটি মূলত এই গোয়েন্দা দলের একদম শুরুর দিকের কাহিনী নিয়ে সাজানো হয়েছে। ক্যাম্পের শেষ গ্রীষ্মের ছুটিতে পুরনো দুই বন্ধু শ্যাগি ও ড্যাফনি একটি রহস্যময় ঘটনার মুখোমুখি হয়। কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি হারিয়ে যাওয়া গ্রেট ডেন কুকুরছানা, যে সম্ভবত একটি অতিপ্রাকৃত হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিল। পরবর্তীতে দলের বাকি দুই সদস্য ভেলমা এবং নতুন ছেলে ফ্রেডিকে সাথে নিয়ে তারা এই জটিল রহস্যের সমাধানে নামে। পুরো সিরিজ জুড়ে এই দলের গড়ে ওঠার পেছনে থাকা রোমাঞ্চকর সব অভিযান ফুটিয়ে তোলা হবে।
গল্পটি কেবল সাধারণ রহস্য সমাধান নয়, বরং গভীর এক মনস্তাত্ত্বিক মোড় নিতে যাচ্ছে বলে নির্মাতারা আভাস দিয়েছেন। তদন্ত করতে গিয়ে মিস্ট্রি ইনক দলটি এমন এক দুঃস্বপ্নের জালে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই আধুনিক রূপান্তরটি আগের অ্যানিমেশন সিরিজের তুলনায় অনেকটা রহস্যময় এবং রোমহর্ষক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছেলেবেলার প্রিয় চরিত্রগুলোকে রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে নতুনভাবে পর্দায় দেখার অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের জন্য নেটফ্লিক্সের এই উদ্যোগ একটি বড় উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকার শোবিজের অন্যতম জনপ্রিয় ও স্নিগ্ধতম অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত আফসান আরা বিন্দু দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পর্দায় ফিরছেন। অনিয়মিত কাজের ভিড়েও দর্শকপ্রিয়তা ধরে রাখা এই অভিনেত্রী এবার একটি ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে নতুন করে দর্শকদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন। সালেহ সোবহান অনীম পরিচালিত ‘হেডলাইন’ নামের এই সিরিজটি আগামী ২৫ জুন জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-তে মুক্তি পাবে। সোমবার বিকেলে সিরিজটির একটি টানটান উত্তেজনার টিজার প্রকাশের মাধ্যমে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিন্দুর ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, দীর্ঘ ১০ বছরের বিরতি কাটিয়ে তিনি ২০২৩ সালে ‘উনিশ ২০’ ওয়েব চলচ্চিত্র দিয়ে অভিনয়ে ফিরেছিলেন। এরপর আবারও তিন বছরের জন্য পর্দার আড়ালে চলে যান তিনি। তবে এবার ‘হেডলাইন’ সিরিজের মাধ্যমে তাঁর সেই দীর্ঘ নীরবতা ভাঙছে। এই সিরিজে বিন্দু অভিনয় করেছেন ‘আইরিন’ নামক একটি চরিত্রে, যাকে প্রকাশিত টিজারে মূলত একজন দক্ষ ‘সমস্যা সমাধানকারী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই রহস্যময় উপস্থিতি ও ভিন্নধর্মী চরিত্রটি দর্শকদের মাঝে নতুন করে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের এই টিজারে সিরিজের গল্পের একটি প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে সংবাদের পেছনে সাংবাদিকদের নিরন্তর ছুটে চলা এবং তার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের অন্ধকার জাল। সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে বিন্দুর পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও উদীয়মান তারকা ইয়াশ রোহান। অপূর্বকে এখানে একজন অভিজ্ঞ সিনিয়র সাংবাদিক এবং ইয়াশকে একজন উদ্যমী তরুণ রিপোর্টারের ভূমিকায় দেখা যাবে। পেশাদার সাংবাদিকতার পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও টানাপোড়েন এই গল্পের মূল উপজীব্য।
জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, ইয়াশ রোহান এবং বিন্দু ছাড়াও এই তারকাবহুল সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সারিকা সাবরিন, শ্যামল মাওলা, ফারহানা হামিদ ও ইন্তেখাব দিনারের মতো জনপ্রিয় সব শিল্পী। পরিচালক সালেহ সোবহান অনীম জানান, বর্তমান সময়ের অস্থিরতার মাঝে দর্শকদের একটি ভিন্নধর্মী ও স্বস্তির গল্প উপহার দিতেই ‘হেডলাইন’ নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি মূলত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আবহে তৈরি একটি ধ্রুপদী পারিবারিক ড্রামা। যে ধরনের গল্পে মানুষ সাধারণত অভ্যস্ত বা যা মনের খুব কাছের, ঠিক সেই ঘরানার আবহেই সিরিজটি তৈরি করা হয়েছে।
টিজার প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। বিশেষ করে অপূর্বর সাথে বিন্দুর নতুন রসায়ন এবং ইয়াশ রোহানের উপস্থিতি নিয়ে ভক্তরা ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই তাদের দর্শকদের জন্য এই মাসে অন্যতম আকর্ষণীয় কনটেন্ট হিসেবে ‘হেডলাইন’-কে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সাংবাদিকতা আর পারিবারিক রহস্যের এই মেলবন্ধন দর্শকদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার কতটুকু প্রতিফলন ঘটাতে পারে। আগামী ২৫ জুন থেকেই দর্শকরা পূর্ণাঙ্গ সিরিজটি উপভোগ করতে পারবেন।
মন্তব্য