জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সৃষ্টি ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ কবিতার শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে দেশের ১৪টি জাতীয় সাংস্কৃতিক, সাহিত্য ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সংগঠন। বুধবার বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে ১৯২৬ সালে রচিত এই ঐতিহাসিক সৃষ্টিকে জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ মর্যাদায় পালনের প্রস্তাব দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্ণাঢ্য উৎসব, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ কেবল একটি কবিতা বা গান নয়, বরং এটি যেকোনো জাতীয় সংকটকালে পথনির্দেশনা দেওয়া এক অনন্য চেতনার প্রতীক। ১৯২৬ সালে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার যে আহ্বান নজরুল জানিয়েছিলেন, তার অন্তরালে ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় সংকল্প। কবির সেই সাম্য ও ঐক্যের শক্তিশালী বার্তা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা এবং সামাজিক বিভাজনের বিরুদ্ধে নজরুলের এই দর্শন এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, শতবর্ষ পূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে নজরুলের মানবতাবাদী আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত যদি এই কবিতার অন্তর্নিহিত প্রগতিশীল দর্শন ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে একটি মানবিক ও সম্প্রীতিময় সমাজ গঠন সহজতর হবে। নজরুল তাঁর লেখনীর মাধ্যমে আজীবন মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মানবিক পরিচয়কে বড় করে দেখেছেন। তাঁর সেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের বাণী তরুণ সমাজের মধ্যে জাগ্রত করার লক্ষ্যেই এই সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থা, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরসহ আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী সংগঠন। এই সংগঠনগুলো মনে করে, দেশের প্রতিটি প্রান্তে নজরুল চর্চাকে ত্বরান্বিত করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে, জাতীয় কবির এই অনন্য সৃষ্টির শতবর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে দেশে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ আরও বেগবান হবে।
পরিশেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, নজরুলের চেতনা ধারণ করার মাধ্যমেই কেবল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’-এর শতবর্ষ উদযাপনে দেশব্যাপী আলোচনা সভা, সেমিনার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দিয়ে তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। নজরুলের সংগ্রাম ও সাম্যের দর্শনকে জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে গভীরভাবে চর্চা করার মাধ্যমেই কবির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হবে বলে বিবৃতিতে একমত প্রকাশ করেন ১৪ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কোলাজ-নিউজ বাংলা
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে শুরু হয় এক উৎসবমুখর আবহ। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন আর উন্মাদনায় মেতে ওঠে আপামর জনতা। এই উত্তেজনার ঢেউ থেকে বাদ পড়েন না বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখগুলোও। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে সমর্থন দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের কথা জানানো এখনকার সাধারণ চিত্র। বাংলাদেশের শোবিজ তারকাদের একটি বড় অংশ ঐতিহ্যগতভাবেই লাতিন আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক।
সাদা-কালো পর্দার আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অনেকেরই হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। জ্যেষ্ঠ অভিনেতা আবুল হায়াত থেকে শুরু করে এই প্রজন্মের জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও বিদ্যা সিনহা মিম—সবাই ব্রাজিলের খেলার ছন্দের ভক্ত। এই শিবিরে আরও রয়েছেন মোশাররফ করিম, জয়া আহসান, আফরান নিশো, শবনম বুবলী এবং অপু বিশ্বাস। সঙ্গীত জগতের আসিফ আকবর, বাপ্পা মজুমদার ও পড়শীর মতো তারকারাও ফুটবল শৈলীর কারণে ব্রাজিলকেই এগিয়ে রাখেন। এছাড়া মিশা সওদাগর, আনিসুর রহমান মিলন, বাপ্পি চৌধুরী, কোনাল ও সামিরা খান মাহিও হলুদ-সবুজ পতাকাধারীদের দলে।
অন্যদিকে নীল-সাদা জার্সির ভক্তদের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। এই দলে রয়েছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, জাহিদ হাসান এবং আব্দুন নূর সজল। কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে বর্তমানের মহাতারকা লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সের কারণে পরীমনি, মেহজাবীন চৌধুরী ও রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন। ঢালিউড তারকা মাহিয়া মাহি ও পূজা চেরী থেকে শুরু করে জায়েদ খান, মামনুন ইমন ও পূজা চেরীও এই শিবিরের অংশ। সঙ্গীত শিল্পী কর্ণিয়া ও ঝিলিকও আর্জেন্টিনার জয়ের জন্য প্রার্থনা করেন। ছোট পর্দার পরিচিত মুখ সজল ও মেহজাবীনের কাছে এটি কেবল একটি দল নয়, বরং ফুটবলীয় আবেগের নাম। এছাড়া এই তালিকায় আরও রয়েছেন দীপা খন্দকার, সুমাইয়া শিমু, নাদিয়া আহমেদ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, কচি খন্দকার ও মোনালিসার মতো জনপ্রিয় তারকারা।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দ্বৈরথের বাইরে ভিন্ন ধারার ফুটবল পছন্দ করেন এমন তারকার সংখ্যাও একেবারে কম নয়। অভিনেতা সিয়াম আহমেদ স্পেনের তিকিতাকা ফুটবলের অনুরাগী। আবার সাবেক ফুটবলার ও অভিনেতা আজিজুল হাকিম জার্মান ফুটবলের শৃঙ্খলা ও কৌশলগত দিকের কারণে দলটিকে সমর্থন করেন। তবে দেশের শীর্ষ চলচ্চিত্র তারকা শাকিব খানের সমর্থন নিয়ে ভক্তদের মাঝে সবসময় এক ধরনের কৌতূহল কাজ করে। বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ পাওয়ায় তার প্রকৃত পছন্দের দল কোনটি, তা নিয়ে এক ধরনের রহস্য আজও বিদ্যমান।
তারকাদের মধ্যে পছন্দের দল নিয়ে মতভেদ থাকলেও খেলার মাঠে সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতা দেখার বিষয়ে সবাই একমত। চার বছর পর পর বিশ্বমঞ্চের এই আসরকে কেন্দ্র করে শোবিজ অঙ্গনে তৈরি হওয়া এই বন্ধুত্বপূর্ণ রেষারেষি মূলত ফুটবলের প্রতি বাঙালির নিখাদ ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
মেক্সিকোতে ‘দাই দাই’ পরিবেশনায় শাকিরা। ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাইজেরিয়ার শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে এবারের অফিশিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ লাইভ পরিবেশন করে মঞ্চ মাতিয়েছেন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা।
২০১০ বিশ্বকাপের সেই কালজয়ী ‘ওয়াকা ওয়াকা’র পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে কলম্বিয়ান এই তারকার প্রত্যাবর্তন সন্ধ্যার সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হলেও, তা রূপ নিয়েছে এক নতুন বিতর্কে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক দর্শক দাবি করছেন যে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে পারফর্ম করা ব্যক্তিটি আসলে প্রকৃত শাকিরা ছিলেন না, বরং তাঁর কোনো ‘ডামি’ বা প্রতিরূপ (বডি ডাবল) ছিল।
মাদ্রিদভিত্তিক ক্রীড়া দৈনিক মার্কার এক প্রতিবেদনে এই গুঞ্জনের বিষয়টি উঠে এসেছে, যেখানে নেটিজেনরা গায়িকার চেনা শারীরিক ভঙ্গি ও চলাফেরার অমিল এবং পারফরম্যান্সের সময় একটি নির্দিষ্ট নাচের স্টেপ মিস করার বিষয়টিকে সন্দেহের কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।
এ ছাড়া পুরো পরিবেশন জুড়েই শাকিরার গাঢ় রঙের সানগ্লাস পরে থাকা এবং সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকায় তাঁর হুবহু সদৃশ ভেনেজুয়েলীয় ছদ্মবেশী শিল্পী ‘শাকিবেকা’র তুমুল জনপ্রিয়তার বিষয়টি এই জল্পনাকল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে; তবে এই গুঞ্জনের বিপরীতে এখন পর্যন্ত শাকিরা কিংবা তাঁর টিমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যশরাজ ফিল্মসের স্পাই ইউনিভার্সের নতুন ছবি ‘আলফা’। এর প্রধান চরিত্রে আছেন আলিয়া ভাট। এ খবর পুরনো। নতুন খবর হলো, বুধবার প্রকাশিত হয়েছে ছবিটির টিজার। আর প্রথম ঝলকে অ্যাকশন-গার্ল হিসেবে চমকে দিয়েছেন অভিনেত্রী।
তবে প্রশংসার সঙ্গে উঠেছে নকলের অভিযোগও। অনেকে বলছেন, ‘আলফা’ নির্মিত হয়েছে ১৯৯০ সালের ফরাসি থ্রিলার ছবি ‘লা ফেমে নিকিতা’ অবলম্বনে। টিজারে অধিকাংশ দৃশ্যের সঙ্গে ওই ছবির হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া গেছে।
শুরুতে দেখা যায়, তরুণী আলিয়া ভাটের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খাচ্ছেন তার বাবা ববি দেওল। আলিয়ার ১৮তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে একটি কার্ড দেন তিনি; যেখানে একটি কক্ষের নম্বর লেখা থাকে। ববি তাকে বলেন, এত বছর ধরে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, এবার সেটা কাজে লাগানোর সময় এসেছে। অতঃপর আলিয়ার ধুন্দুমার অ্যাকশনের কিছু দৃশ্য দেখানো হয় টিজারে।
এরকম দৃশ্য ‘লা ফেমে নিকিতা’ ছবিতেও রয়েছে। অনেকে ইনস্টাগ্রাম ও এক্স-এ দুই ছবির সামঞ্জস্যপূর্ণ দৃশ্যগুলো নিয়ে সমালোচনা করছেন। এখানেই শেষ নয়, ‘আলফা’র টিজারের একটি সংলাপ ২০১৪ সালের আমেরিকান ছবি ‘আমেরিকান স্নাইপার’-এর সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। এগুলো কাকতালীয় নাকি অনুপ্রেরণা, তা নিয়ে এখনো ‘আলফা’ টিম কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
‘আলফা’য় আলিয়া ও ববির সঙ্গে আরো থাকছেন শর্বরী ওয়াগ, অনিল কাপুর প্রমুখ। ৩ জুলাই ছবিটি মুক্তি পাবে প্রেক্ষাগৃহে।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের নন্দিত নাম স্টিভেন স্পিলবার্গ। ‘শিন্ডলারস লিস্ট’ থেকে শুরু করে ‘ইন্ডিয়ানা জোনস’, ‘জুরাসিক পার্ক’, ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’ কিংবা ‘দ্য টার্মিনাল’-এর মতো ছবি দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন চলচ্চিত্রের ইতিহাস। তার ছবির বক্স অফিস আয় ছাড়িয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার, যা এক অপরাজেয় রেকর্ড। অস্কার জিতেছেন তিনবার। ফলে কিংবদন্তি এ নির্মাতার নতুন ছবির খবরে উচ্ছ্বসিত হন দর্শক-ভক্তরা।
শুক্রবার বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে স্পিলবার্গের নতুন ছবি ‘ডিসক্লোজার ডে’। একই দিনে বাংলাদেশেও মুক্তি পাবে ছবিটি। মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সের বিভিন্ন শাখায় চলবে এটি।
মাঝে অনেকদিন ধরে তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল গল্পে ছবি বানিয়েছেন স্পিলবার্গ। ‘ডিসক্লোজার ডে’ দিয়ে তিনি ফিরছেন তার চেনা ময়দানে; যেখানে রহস্য, প্রযুক্তি, বিস্ময় আর অজানার আকর্ষণ মিলেমিশে একাকার। জানা গেছে, ভিনগ্রহের প্রাণী, তাদের পৃথিবীতে আগমন এবং সেই সত্যকে আড়াল করার এক বিশাল সরকারি ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ছবিটি।
এ ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এমিলি ব্লান্ট, জশ ও’কনার, কলিন ফার্থ, ইভ হসন, কলম্যান ডমিঙ্গো প্রমুখ। ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছবির প্রিমিয়ার। সেখানে ছবিটি দেখার পর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সাংবাদিক ও সমালোচকরা। অনেকে বলছেন, এটি গত দুই দশকে স্পিলবার্গের সেরা ছবি। এখন দেখার পালা, সে ছবি সাধারণ দর্শককে কতখানি ছুঁতে পারে।
‘নতুন নাটক, নতুন সময়—মঞ্চে জাগুক মানুষের কথা’ প্রতিপাদ্যে শুরু হতে যাচ্ছে ৮ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হল মিলনায়তনে ১২ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বিষয়টি জানিয়েছে একাডেমি।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রথম মঞ্চায়িত নাটকগুলো থেকে নির্বাচিত প্রযোজনা নিয়ে এই উৎসব সাজানো হচ্ছে। আট দিনের এ উৎসবে মোট আটটি নাটক মঞ্চায়িত হবে। প্রথম দিন থেকে যথাক্রমে থাকছে দিনাজপুর নাট্য সমিতির ‘চোরের নাম চরনদাস’, ইয়াং বংহুং থিয়েটারের ‘রিনা পুং’, দৃশ্যকাব্যের ‘ইডিপাস’, হান্ট থিয়েটারের ‘ক্যাফে দ্যা ভলতে’, প্রাচ্যনাটের ‘ব্যতিক্রম ও নিয়ম’, ঢাকা থিয়েটারের ‘রঙমহাল’, নাট্যায়ন সিলেটের ‘মহাকালের অন্তর্যাত্রা’ ও শব্দ থিয়েটারের ‘দি গ্রেট স্মাগলার’।
প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে মঞ্চায়ন। উপভোগ করা যাবে দর্শনীর বিনিময়ে। তবে এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের লবিতে বসবে বাংলা নাটকের গানের অনুষ্ঠান। সেটা বিনামূল্যে উপভোগ করা যাবে।
এই উৎসবের অংশ হিসেবে থাকছে উদীয়মান নাট্যনির্দেশকদের জন্য বিশেষ কর্মশালা। 'সমকালীন বিশ্ব বাস্তবতায় নাট্যসৃজন: দর্শন, নন্দন ও কৃৎকৌশল' শীর্ষক এই কর্মশালা ১৫ থেকে ১৯ জুন জাতীয় নাট্যশালায় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। কর্মশালায় তরুণ নির্মাতাদের নাট্যপ্রযোজনার দর্শন, নন্দনতত্ত্ব ও নির্মাণকৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ওটিটিতে মনোনিবেশ করেছেন বলিউডের নামি অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। ৪ জুন নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ছবি ‘মা বেহেন’। আর মুক্তির পর থেকে বিপুল সাড়া পাচ্ছে এটি। উঠে এসেছে ট্রেন্ডিংয়ে। হিন্দুস্তান টাইমসের খবর, নেটফ্লিক্সের গ্লোবাল নন-ইংলিশ ছবির তালিকায় ‘মা বেহেন’ অবস্থান করছে দ্বিতীয় স্থানে।
শীর্ষে রয়েছে স্প্যানিশ ছবি ‘দ্য মার্কড ওম্যান’। তবে যেভাবে ‘মা বেহেন’ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বাড়ছে, চর্চা হচ্ছে, তাতে এটিই এক নম্বরে উঠে আসার সম্ভাবনা প্রবল।
বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মাধুরী বলেন, ‘ছবিটি দর্শকদের কাছ থেকে যে সাড়া পাচ্ছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব। এ ছবির প্রতি আমি আকৃষ্ট হয়েছিলাম এর গল্প বলার ধরন দেখে, যেটা একইসঙ্গে হৃদয়স্পর্শী, হাস্যরসাত্মক এবং সৎ। দর্শকরা চরিত্রগুলোর সঙ্গে, তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের সঙ্গে এবং গল্পজুড়ে ঘটে যাওয়া সব বিশৃঙ্খলা ও নাটকীয়তার সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছেন; এটা আমার জন্য ভীষণ তৃপ্তিদায়ক।’
ছবিটিতে মাধুরীর সঙ্গে আছেন তৃপ্তি দিমরি। তার একটি মনোলগ প্রশংসা পাচ্ছে বেশ। তিনি বলেন, ‘ওই দৃশ্যটি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি এর জন্য অনেক সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, জয়ার (তৃপ্তির চরিত্রের নাম) আবেগময় যাত্রা এবং তার মনের ভেতরে জমে থাকা সব অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করেছি। দর্শকরা দৃশ্যটির সঙ্গে যেভাবে একাত্ম হচ্ছেন, তাতে আমি অনেক খুশি।’
সুরেশ ত্রিবেণী নির্মিত ‘মা বেহেন’ ছবির গল্প এক মধ্যবিত্ত পরিবারকে ঘিরে। গল্পের কেন্দ্রে আছে সিঙ্গেল মাদার রেখা (মাধুরী দীক্ষিত) এবং তার দুই মেয়ে জয়া (ত্রিপ্তি দিমরি) ও সুষমা (ধর্ণা দুর্গা)। একদিন হঠাৎ তাদের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় পাড়ার এক ব্যক্তিকে। এরপর মা-মেয়েরা ঘটনাটি সামাল দিতে গিয়ে একের পর এক হাস্যকর, বিশৃঙ্খল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন রবি কিষাণ, গীতাঞ্জলি কুলকার্নি, অরুণোদয় সিং এবং শার্দুল ভরদ্বাজ।
গত বছর বিখ্যাত কান উৎসবে ইতিহাস গড়েছিল আদনান আল রাজীবের ‘আলী’। প্রথম বাংলাদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি হিসেবে উৎসবে স্বর্ণপামের লড়াইয়ে সামিল হয়েছিল, জিতে নিয়েছিল স্পেশাল মেনশন। এরপর আরও একাধিক আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ছবিটি, জিতেছে পুরস্কারও।
এবার ‘আলী’র লন্ডন-জয়। ‘সাউথ বাই সাউথওয়েস্ট লন্ডন উৎসব’-এর শর্টফিল্ম প্রাইজ জিতেছে ছবিটি। গতকাল পুরস্কার ঘোষণা করে উৎসব কর্তৃপক্ষ। ওই বার্তায় লেখা হয়েছে, “দারুণ খবর! উপকূলীয় এক অঞ্চলে নারীদের গান গাওয়া নিষেধ, সে গল্পের ছবি আমাদের শর্ট ফিল্মের পুরস্কার জিতে নিয়েছে।’
পুরস্কার হিসেবে নির্মাতা আদনান তার পরবর্তী প্রজেক্টের জন্য পাবেন ১০ হাজার ডলার মূল্যের পোস্ট-প্রডাকশন সুবিধা। ছবিটি নিয়ে উৎসবটির জুরি সদস্যদের মতামত এরকম, ‘একজন নির্মাতার প্রথম নির্মাণ থেকে এরকম নতুন ধারার গল্প ও নির্মাণ সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
এদিকে পুরস্কার জয়ের খবরটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন আদনানও। সঙ্গে লিখেছেন, “আলী’ আবারও পুরস্কার জিতল। এটা অসাধারণ একটা খবর। ধন্যবাদ উৎসব কর্তৃপক্ষকে।”
উল্লেখ্য, ‘আলী’র নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আল আমিন।
মন্তব্য