দীর্ঘ সাত বছরের যাত্রার অবসান ঘটিয়ে পর্দা নামল এইচবিওর বিশ্বখ্যাত ড্রামা সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’র। গত ৩১ মে তৃতীয় সিজনের অষ্টম পর্ব মুক্তির পরপরই সিরিজের নির্মাতা, লেখক ও পরিচালক স্যাম লেভিনসন আনুষ্ঠানিকভাবে এর সমাপ্তি ঘোষণা করেন। ২০১৯ সালে একদল হাই স্কুল শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে শুরু হওয়া এই সিরিজটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি মাদকাসক্তি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আধুনিক সমাজের নানা জটিল ইস্যু চিত্রায়নের জন্য আলোচিত ও বিতর্কিত হয়েছে। তিন সিজনে মোট ২৬টি পর্বের মধ্য দিয়ে এই সিরিজটি তার দীর্ঘ পথচলা শেষ করল।
সিরিজটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় সিজনের মধ্যে প্রায় চার বছরের দীর্ঘ বিরতি দর্শকদের মনে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি করেছিল। এই সময়ের মধ্যে সিরিজের অনেক অভিনয়শিল্পী হলিউডের বড় বড় সিনেমায় কাজ করে তারকা বনে যাওয়ায় তাঁদের শিডিউল মেলানো নির্মাতাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারকাদের ব্যস্ততা এবং অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতায় তৃতীয় সিজনের কাজ শুরু হতে অনেক বিলম্ব হয়। গত এপ্রিল মাস থেকে প্রচার শুরু হওয়া এই চূড়ান্ত সিজনে চরিত্রগুলোকে কিশোর অবস্থা থেকে পাঁচ বছরের এক দীর্ঘ বিরতি দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সমাপ্তি সিজনের গল্পে মূল চরিত্র রু বেনেটের মৃত্যু দর্শকদের মধ্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। জেন্ডায়া অভিনীত এই চরিত্রটি মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত অবৈধ ড্রাগ কারবারের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং ফেন্টানিল মিশ্রিত পিলের ওভারডোজে প্রাণ হারায়। অন্যদিকে, ক্যাসি চরিত্রটিকে নেট জ্যাকবের সাথে বাগদান এবং বিয়ের খরচ মেটাতে প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তৈরির কাজে লিপ্ত হতে দেখা যায়। স্কুলশিক্ষার্থীদের নিয়ে শুরু হওয়া একটি সিরিজের মূল চরিত্রদের এমন চরম পরিণতি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের বিষয়গুলো যুক্ত করায় অনেক সমালোচকই নির্মাতার দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেছেন।
নির্মাতা স্যাম লেভিনসন এই সিজনে গল্পের নাটকীয় পরিবর্তনের কারণে ভক্ত ও সমালোচকদের তীব্র রোষানলে পড়েছেন। অনেক দর্শকই মনে করছেন, গল্পের এমন মোড় তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া সিরিজের সংগীত পরিচালনা নিয়েও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আগের সিজনগুলোতে সুরকার ল্যাব্রিন্থের কাজ প্রশংসিত হলেও এই সিজনে বিখ্যাত জার্মান সুরকার হ্যান্স জিমারের মিউজিক দর্শকদের খুব একটা মন জয় করতে পারেনি। মূলত এসব নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং সমালোচনার মুখেই নির্মাতা তড়িঘড়ি করে সিরিজের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চূড়ান্ত এই সিজনে জেন্ডায়া, সিডনি সুইনি, অ্যালেক্সা ডেমি ও জ্যাকব এলর্ডির মতো পরিচিত তারকাদের পাশাপাশি নতুন মুখ হিসেবে নজর কেড়েছেন স্প্যানিশ অভিনেত্রী প্রিসিলা দেলগাদো। যদিও সিরিজটি একটি বিষাদময় ও বিতর্কমূলক সমাপ্তির দিকে ধাবিত হয়েছে, তবুও আধুনিক কিশোর ও তরুণ সমাজের অন্ধকার দিকগুলো সাহসের সাথে তুলে ধরার জন্য ‘ইউফোরিয়া’ সমকালীন টেলিভিশন ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত সিরিজ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নির্মাতা স্যাম লেভিনসন তাঁর এই ড্রামা সিরিজের মাধ্যমে সমাজ ও সংস্কৃতির এক রূঢ় বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিত অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়ে শেষ হলো।
৩৪তম রেইনড্যান্স আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে যাচ্ছে দুটি চলচ্চিত্র। উৎসবের অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নিয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র ‘ইন দ্য পাথ অব জায়ান্টস’ এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আলী’। আগামী ১৭ জুন লন্ডনে শুরু হতে যাওয়া এই মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবটি চলবে ২৬ জুন পর্যন্ত। বিশ্বখ্যাত এই মঞ্চে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশীয় নির্মাতাদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও সৃজনশীলতার এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘ইন দ্য পাথ অব জায়ান্টস’ মূলত বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত একটি শক্তিশালী কাজ। এটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের ফায়াদ খান ও যুক্তরাজ্যের কার্স্টি ওয়েলস। উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় এটি ‘বেস্ট ফিচার ডকুমেন্টারি’ এবং ‘বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি ইউকে’—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে লড়াই করার গৌরব অর্জন করেছে। আগামী ২১ ও ২৩ জুন উৎসব প্রাঙ্গণে প্রামাণ্যচিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক ফায়াদ খান।
এই তথ্যচিত্রের মূল উপজীব্য হলো বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির সংলগ্ন এলাকার এক জটিল সংকট। ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে সেখানে মানুষ ও বন্য হাতির মধ্যে যে তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তা এখানে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে চিত্রিত হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী, স্থানীয় বাঙালি বাসিন্দা এবং আদিবাসী কৃষকদের জীবন সংগ্রাম, নিরাপত্তার অভাব ও বসতি রক্ষার লড়াইয়ের চিত্র এতে ফুটে উঠেছে। উল্লেখ্য যে, গত এপ্রিলে এটি ইন্টারন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে ‘লিভিং উইথ নেচার’ বিভাগে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান অর্জন করেছিল।
প্রামাণ্যচিত্রটির পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগেও বাংলাদেশের বলিষ্ঠ প্রতিনিধিত্ব থাকছে। জনপ্রিয় নির্মাতা আদনান আল রাজীবের স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘আলী’ এই বিভাগে প্রদর্শনের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। বড় পর্দার আন্তর্জাতিক এ আসরে একই সাথে দুটি ভিন্ন ধারার কাজের এই অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি গৌরবময় মাইলফলক। এই ধরনের বৈশ্বিক স্বীকৃতি আগামী দিনে তরুণ নির্মাতাদের জীবনঘনিষ্ঠ ও শৈল্পিক কাজ করতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে বলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মঞ্চে আবারও ফিরছে বিবেকানন্দ থিয়েটারের প্রশংসিত নাটক ‘ভাসানে উজান’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে আগামীকাল বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে নাটকটির নবম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের নভেম্বরে উদ্বোধনী প্রদর্শনীর পর থেকে এটি দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। ইতোমধ্যে আটটি সফল প্রদর্শনী সম্পন্ন হওয়া এই প্রযোজনাটি আবারও মঞ্চে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নাট্যপ্রেমীরা।
বিশ্ববিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক ফিওদর দস্তয়ভস্কির অমর ছোটগল্প ‘দ্য জেন্টেল স্পিরিট’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই নাটকটি। মানুষের অন্তর্নিহিত নীরবতা, গভীর অপরাধবোধ, ভালোবাসা ও একাকিত্বের সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বগুলোকে কেন্দ্র করেই এর কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। এটি মূলত একটি অন্তর্মুখী জীবনযাত্রা, যেখানে গতানুগতিক সংলাপের চেয়ে অনুভবের ভাষাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নাটকের কেন্দ্রীয় একক চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিজ্ঞ অভিনেতা মো. এরশাদ হাসান, যাঁর শক্তিশালী অভিনয় মানুষের অন্তর্লোকের জটিল রহস্যগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে।
‘ভাসানে উজান’ নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন বিশিষ্ট নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু এবং নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। নির্দেশকের মতে, দস্তয়ভস্কির জটিল মনস্তত্ত্বকে সংবেদনশীল নাট্যরূপের মাধ্যমে একটি একক চরিত্রের আধারে ফুটিয়ে তোলা ছিল বেশ বড় এক চ্যালেঞ্জ। নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু জানিয়েছেন, একজন মানুষ প্রকৃত অর্থে ভালো হয়ে শেষ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে কি না—সেই গভীর জীবনবোধের প্রশ্নই এই নাটকের মূল উপজীব্য। এরশাদ হাসানের অভিনয়ের মাধ্যমে সেই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
এই প্রযোজনাটিকে শিল্পমণ্ডিত করতে নেপথ্যে কাজ করেছেন একঝাঁক দক্ষ কুশলী। নাটকটির মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন পলাশ হেনড্রী সেন, সংগীত পরিচালনায় হামিদুর রহমান পাপ্পু এবং পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা সাকি। এছাড়া প্রপস পরিকল্পনায় ফজলে রাব্বি সুকর্ণো এবং কোরিওগ্রাফিতে রয়েছেন রবিন বসাক। শৈল্পিক কারুকার্যে সমৃদ্ধ এই নাটকটি ইতোমধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ নাট্যোৎসবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।
বিবেকানন্দ থিয়েটারের ২৫তম এই প্রযোজনাটি মূলত মানুষের আত্মিক সংকটের এক নিবিড় চিত্রায়ন। একক অভিনয়ের দাপট আর আধুনিক নির্মাণশৈলীর সংমিশ্রণে নাটকটি দর্শকদের এক ভিন্নধর্মী থিয়েটার অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি সর্বস্তরের দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা এই গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। নির্মাতারা আশা করছেন, পূর্বের প্রদর্শনীর মতো এটিও দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করবে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে ঈদ মানেই প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়া ভিড় আর রমরমা ব্যবসা। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় অন্তত এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে ঈদের সিনেমার রেশ থাকলেও, এবারের কোরবানির ঈদের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মুক্তির দুই সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রেক্ষাগৃহগুলোতে তীব্র দর্শক খরা দেখা দিয়েছে। বড় বড় প্রত্যাশা আর ব্যাপক প্রচারণা নিয়ে মুক্তি পাওয়া ৮টি সিনেমার কোনোটিই বক্স অফিসে কাঙ্ক্ষিত সাড়া জাগাতে পারেনি। ফলে সিনেমা হলগুলো থেকে দ্রুতই ঈদের আমেজ হারিয়ে যাচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও হল মালিকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এবারের ঈদে শাকিব খানের ‘রকস্টার’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, আরিফিন শুভর ‘মালিক’ এবং সৈকত নাসিরের ‘মাসুদ রানা’-সহ মোট আটটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। স্টার সিনেপ্লেক্স ও যমুনা ব্লকবাস্টারের মতো মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে সাধারণত ঈদের সময় দেশি সিনেমার চাপে বিদেশি সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ রাখতে হতো। কিন্তু এবার দর্শক উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সিনেপ্লেক্সগুলো পুনরায় ‘মাইকেল’ ও ‘সিকিন নাইন’-এর মতো বিদেশি সিনেমা প্রদর্শন শুরু করেছে। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের মতে, সাফল্যের যে ধারা গত কয়েক বছর ধরে চলছিল, তা এবার বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে।
স্টার সিনেপ্লেক্সের বিপণন ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, কোনো সিনেমাই তাঁদের প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সীমানা অতিক্রম করতে পারেনি। মন্দের ভালো হিসেবে হাতেগোণা দু-তিনটি সিনেমা চললেও তা ধারণক্ষমতার তুলনায় নগণ্য। একই সুরে হতাশা প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল। তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশের সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতেও দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে সিনেমাগুলো। এমনকি শাকিব খানের সিনেমাকে ঘিরে যে গণউন্মাদনা প্রতি বছর দেখা যায়, এবার মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন খুব একটা লক্ষ্য করা যায়নি।
এই ব্যবসায়িক মন্দার মাঝে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ মুক্তির মাত্র এক সপ্তাহ পরেই অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেছে। বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছবিটির ভিডিও লিংক ছড়িয়ে পড়ায় হলের আয়ে এর চূড়ান্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর আগে শাকিব খানের ‘বরবাদ’ ও ‘তাণ্ডব’ পাইরেসির শিকার হলেও শক্তিশালী ‘হাইপ’ থাকায় সেগুলো ভালো ব্যবসা করেছিল। কিন্তু ‘রকস্টার’-এর ক্ষেত্রে পাইরেসি সিনেমাটির ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশকরা।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চিত্রনাট্যের দুর্বলতা এবং দর্শকদের রুচির সাথে মিল না থাকা এই ভরাডুবির অন্যতম কারণ। রোজার ঈদে যেখানে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দীর্ঘ সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে দাপট দেখিয়েছিল, সেখানে কোরবানির ঈদের সিনেমাগুলোর এমন দ্রুত প্রস্থান ইন্ডাস্ট্রিকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং প্রেক্ষাগৃহে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে ভবিষ্যতে আরও মানসম্মত ও আধুনিক গল্পের সিনেমা নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সিনেমা বোদ্ধারা।
প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য ও কারণ উন্মোচনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
লাশ উত্তোলনপূর্বক নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আনুষঙ্গিক আইনি কার্যক্রম শেষ করেই দ্রুত লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার ও তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমান শাহর মা নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরী, বাবা মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় সালমানের সাথে দেখা করতে যান। তখন সালমানের স্ত্রী সামীরা হক এবং কর্মচারী আবুল তাদের জানান যে সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। তারা গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে টেলিফোনে জানানো হয় যে সালমানের কিছু একটা হয়েছে। পরিবার দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, সালমান শাহ শয়নকক্ষে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয় এবং রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘদিন পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে এই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আদালতের এই নির্দেশনার পর ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় চিত্রনায়ক সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, লতিফা হক লুছি, আব্দুস সাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন সালমান শাহকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা গিয়েছিল।
সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী জীবিত থাকাকালীন ১৯৯৭ সালেই এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করে আদালতে দরখাস্ত দিয়েছিলেন এবং সিআইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর এখন সালমানের মামা বোনের পক্ষ থেকে এই মামলাটি পরিচালনা করছেন। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ও পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন।
থিয়েটারকে কেন্দ্র করে যাপিত জীবন এবং একজন শিল্পীর শৈল্পিক সংগ্রামের গল্প নিয়ে নির্মাতা নিয়ামুল মুক্তা নির্মাণ করেছেন তাঁর নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পথ’। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন পাবনার বিশিষ্ট নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান দুলাল। চিলেকোঠা ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমাটির কাহিনি, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনার পাশাপাশি এটি প্রযোজনাও করেছেন নিয়ামুল মুক্তা নিজেই। সম্প্রতি চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র লাভ করেছে, যা সিনেমাটি মুক্তির পথে প্রথম বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিনেমাটির মূল উপজীব্য হলো একজন থিয়েটার অন্তপ্রাণ মানুষের জীবনযাত্রা, যিনি আজীবন কাঁধে করে নাটকের সরঞ্জাম এবং থিয়েটারের দর্শন বয়ে বেরিয়েছেন। নির্মাতা নিয়ামুল মুক্তা বাস্তবধর্মী এই চরিত্রটিকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে স্থানীয় নাট্যচর্চার সাথে সম্পৃক্ত একজন প্রকৃত শিল্পীর খোঁজ করছিলেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি আসাদুজ্জামান দুলালকে বেছে নিয়েছেন। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে তৃণমূল পর্যায়ে নিবিড় নাট্যচর্চার সাথে জড়িত দুলালের জীবনের অভিজ্ঞতাই মূলত এই চরিত্রটিকে আরও প্রাণবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে বলে নির্মাতা মনে করেন।
আসাদুজ্জামান দুলাল দেশের নাট্য অঙ্গনে একটি পরিচিত নাম, বিশেষ করে লোকজ ও তৃণমূল পর্যায়ের নাট্য আন্দোলনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি দীর্ঘদিন প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদের ‘মুক্তনাটক’-এর সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ‘সমন্বয় থিয়েটার’ নামক একটি স্থানীয় নাট্যদলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক রচনা ও নির্দেশনায়ও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্মাতার মতে, দুলালের ব্যক্তিজীবন এবং পর্দার চরিত্রের মধ্যে এক ধরনের জাদুকরী মিল রয়েছে যা সিনেমাটিকে সাধারণ দর্শকদের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
‘পথ’ সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতার বড় ধরনের আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রেক্ষাগৃহে সাধারণ দর্শকদের জন্য মুক্তির আগে তাঁরা বেশ কিছু মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উৎসবের যাত্রা সফলভাবে শেষ করে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সিনেমাটি দেশজুড়ে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আসাদুজ্জামান দুলাল বাদে এই চলচ্চিত্রে আর কারা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, সে বিষয়ে নির্মাতা এখনো এক ধরনের গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন। খুব শীঘ্রই টিজার বা ট্রেলার প্রকাশের মাধ্যমে অন্যান্য কুশলীদের নাম জনসমক্ষে আনা হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, নিয়ামুল মুক্তা বর্তমানে তাঁর পরবর্তী প্রজেক্টগুলো নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। ‘পথ’ ছাড়াও তিনি ‘বৈদ্য’ নামে আরেকটি নতুন সিনেমার শুটিং সফলভাবে শেষ করেছেন। এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। নির্মাতা জানিয়েছেন যে, ‘বৈদ্য’ সিনেমাটিও খুব দ্রুত সেন্সরের জন্য জমা দেওয়া হবে। পর পর দুটি ভিন্নধর্মী এবং জীবনঘনিষ্ঠ কাজ নিয়ে নিয়ামুল মুক্তা এখন দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছেন, যা সুস্থ ধারার সিনেমা প্রেমীদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যান তাঁর বর্ণিল ক্যারিয়ারে আরও একটি কালজয়ী চরিত্র যোগ করতে যাচ্ছেন। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক রবার্ট লুইস স্টিভেনসনের ক্ল্যাসিক উপন্যাস ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’-এর নতুন রূপান্তরে কুখ্যাত জলদস্যু লং জন সিলভারের ভূমিকায় অভিনয় করবেন তিনি। এর আগে উলভারিন, রবিন হুড, ভ্যান হেলসিং কিংবা জঁ ভালজঁ-এর মতো শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেতার জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক নতুন চ্যালেঞ্জ। বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই খলচরিত্রটি হিউ জ্যাকম্যান কীভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন, তা দেখতে এখন মুখিয়ে আছেন ভক্তরা।
এই বিশাল বাজেটের চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন কিংবদন্তি নির্মাতা রিডলি স্কট। সিনেমাটির চিত্রনাট্য তৈরির দায়িত্ব পেয়েছেন এমি পুরস্কারজয়ী ব্রিটিশ নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার জ্যাক থর্ন, যিনি সম্প্রতি ‘অ্যাডোলেসেন্স’ সিরিজের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। রিডলি স্কট এবং মাইকেল প্রুস যৌথভাবে এই ছবিটি প্রযোজনা করছেন এবং জ্যাক থর্ন নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে এর সাথে যুক্ত থাকবেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের বিরতির পর এমন এক ধ্রুপদী গল্প নিয়ে বিশ্বখ্যাত নির্মাতাদের এই সমন্বয় সিনেমাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আঙিনায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
অষ্টাদশ শতকের প্রেক্ষাপটে রচিত ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’ বিশ্বসাহিত্যের সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী জলদস্যুদের কাহিনী হিসেবে পরিচিত। এর কাহিনী আবর্তিত হয় জিম হকিন্স নামের এক তরুণ এবং ক্যাপ্টেন ফ্লিন্টের লুকিয়ে রাখা বিপুল গুপ্তধনের রোমাঞ্চকর অনুসন্ধানকে ঘিরে। হিউ জ্যাকম্যান যে লং জন সিলভারের চরিত্রে অভিনয় করছেন, সেটি মূলত একজন চতুর ও ছদ্মবেশী জলদস্যুর চরিত্র, যে জিমের দলে যোগ দিয়ে গুপ্তধন লুট করার পরিকল্পনা সাজায়। মজার বিষয় হলো, বর্তমানে পপ কালচারে জলদস্যুদের যে বিশেষ অবয়ব আমরা দেখি—যেমন চোখে কালো পট্টি, কাঁধে তোতা পাখি কিংবা কাঠের পা—তার অধিকাংশেরই উৎপত্তি হয়েছিল এই কালজয়ী উপন্যাস থেকে।
সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের বাড়তি আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো নির্মাতা ও প্রধান অভিনেতার বর্তমান ব্যস্ততা ও সাফল্য। রিডলি স্কট বর্তমানে তাঁর নতুন পোস্ট-আপোক্যালিপ্টিক সায়েন্স ফিকশন ‘দ্য ডগ স্টারস’ মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা আগামী আগস্টে বড় পর্দায় আসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, হিউ জ্যাকম্যান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দ্য ডেথ অব রবিন হুড’ আগামী ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেই ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’-এর এই নতুন প্রকল্পের ঘোষণা জলদস্যুদের এই মহাকাব্যিক গল্পটিকে পুনরায় বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ছবি: সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র বাজারে বড় বাজেটের সিনেমার পাশাপাশি অল্প বাজেটের হরর সিনেমাগুলো অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। বড় তারকা বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণা ছাড়াই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে 'অবসেশন' ও 'ব্যাকরুমস' নামের দুটি চলচ্চিত্র। মজার বিষয় হলো, আলোচিত এই দুটি সিনেমার নেপথ্যে রয়েছেন দুই তরুণ ইউটিউবার। ২৬ বছর বয়সী ক্যারি বার্কার নির্মাণ করেছেন 'অবসেশন' এবং মাত্র ২০ বছর বয়সী কেন পারসনস পরিচালনা করেছেন 'ব্যাকরুমস'। ইউটিউবকে 'ফিল্ম স্কুল' হিসেবে ব্যবহার করে এই দুই তরুণ নির্মাতা প্রমাণ করেছেন যে মেধা আর সৃজনশীলতা থাকলে সীমিত সম্পদেও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া সম্ভব।
ক্যারি বার্কারের পথচলা শুরু হয়েছিল তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে, যেখানে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য গল্প ও ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে দর্শক মনস্তত্ত্ব আয়ত্ত করেন। ২০২৪ সালে মাত্র ৮০০ ডলার বাজেটে বন্ধুদের নিয়ে 'মিল্ক অ্যান্ড সিরিয়াল' বানিয়ে তিনি প্রথম চমক দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র 'অবসেশন' টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হওয়ার পর ফোকাস ফিচারস এর স্বত্ব কিনে নেয়। মুক্তির পর সিনেমাটি ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয় এবং এটি ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। ছবিটির রহস্যময় প্রচারণা এবং কাল্পনিক জাদুকরি বস্তুর বাণিজ্যিক বিপণন এই সাফল্যকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
অন্যদিকে, কেন পারসনস তাঁর 'ব্যাকরুমস' সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন। ইন্টারনেটের জনপ্রিয় একটি হরর কিংবদন্তিকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালে ইউটিউবে তাঁর তৈরি করা ভিডিও সিরিজটি ২০০ মিলিয়নের বেশি ভিউ অর্জন করে। এই প্রতিভা দেখে এ২৪ স্টুডিও তাঁকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের দায়িত্ব দেয়। মাত্র ২০ বছর বয়সে কেনের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহান্তেই ৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার আয় করে, যা এ২৪ স্টুডিওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড। বাস্তব জগতের পরিচিত সীমানা ছাড়িয়ে এক অন্তহীন হলুদ দেয়ালের গোলকধাঁধায় আটকা পড়ার ভীতি দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
এই সিনেমাগুলোর অভাবনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে আধুনিক দর্শকদের গতানুগতিক হলিউড ব্লকব্লাস্টারের প্রতি অনীহা। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, দর্শকরা এখন প্রথাগত রক্তারক্তি বা সস্তা চমকের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক ও আবহভিত্তিক ভীতি বেশি পছন্দ করছেন। 'ব্যাকরুমস'-এ নিঃসঙ্গতা আর অজানা শব্দের মাধ্যমে যে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে, তা দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যান কমিউনিটি ও মিম সংস্কৃতির কারণে এই ছবিগুলো দ্রুত পপ কালচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুই তরুণের সাফল্য হলিউডের বড় স্টুডিওগুলোকে এখন ইউটিউব ও স্বাধীন নির্মাতাদের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হতে বাধ্য করছে।
মন্তব্য