× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিনোদন
Vallage songs about the beauty of men are taking the net world by storm
hear-news
player
google_news print-icon

পুরুষের সৌন্দর্য নিয়ে ‘ভাল্লাগে’ গানে নেট দুনিয়ায় ঝড়

পুরুষের-সৌন্দর্য-নিয়ে-ভাল্লাগে-গানে-নেট-দুনিয়ায়-ঝড়
ভাল্লাগে গানের শিল্পী সুমি শবনম (বাঁয়ে) এবং গানটির মডেল নয়ন ও মম। ছবি: সংগৃহীত
‘ভাল্লাগে’ গানটি গত জুলাইয়ে ইউটিউবে প্রকাশের আড়াই মাসে ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি ভিউ হয়েছে। দেশের দর্শকের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দর্শকরাও মেতেছেন এর সুর-কথায়। এত বিপুল সাড়ায় উচ্ছ্বসিত শিল্পী সুমি শবনম।  

‘ছেলে তোর কোঁকড়া কোঁকড়া চুলে যেন সমুদ্র ঢেউ খেলে/ সেই ঢেউ খেলা দেখিতে আমার ভাল্লাগে’- এই গানে উন্মাতাল ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

সংগীতশিল্পী সুমি শবনমের ‘ভাল্লাগে’ শিরোনামের গানটি গত জুলাইয়ে ইউটিউবে প্রকাশের আড়াই মাসে ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি ভিউ হয়েছে। টিকটক, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামেও ভাইরাল গানটির নানান রিল। ফেসবুকে #ভাল্লাগে হ্যাশট্যাগ রীতিমতো ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

দেশের দর্শকের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দর্শকরাও মেতেছেন গানটিতে। তৈরি করছেন রিল। পশ্চিমবঙ্গের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী অঙ্কিতা বর্মণ ফেসবুকে গানটির একটি রিল পোস্ট করে লিখেছেন, ‘অষ্টমীর দিন পাঞ্জাবিতে ছেলেদের দেখার পর আমরা।’

ফেসবুকে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরে রায়গঞ্জে এক অনুষ্ঠানে মঞ্চে গানটির সঙ্গে নাচছেন এক তরুণী।

#vallage দিয়ে গানটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সংগীতশিল্পী আরজীন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘ভাল্লাগে। ‘ছেলে তোর কোঁকড়া কোঁকড়া চুলে যেন সমুদ্র ঢেউ খেলে’ এই গান বাংলাদেশ ইন্ডিয়া কাঁপায় ফেলছে। টিকটকে তো ঝড়, সাথে ইন্সটাগ্রাম ফেইসবুক তো আছেই। ১৯৮৯ সালে শিল্পী ডলি সায়ন্তনি এর ‘হে যুবক/ রঙ চটা জিন্সের প্যান্ট পরা’ গানের পর ছেলেদেকে ভালো লাগা নিয়ে নারী কণ্ঠে এরকম গান বাংলাতে হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।’

অভাবনীয় এই সাড়া নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন গানটির শিল্পী সুমি শবনম। জানিয়েছেন, গানটি সৃষ্টির পেছনের গল্প।

পুরুষের সৌন্দর্য নিয়ে ‘ভাল্লাগে’ গানে নেট দুনিয়ায় ঝড়
ভাল্লাগে গানের শিল্পী সুমি শবনম। ছবি: সংগৃহীত

সুমি শবনম বলেন, ‘গানের সিলেকশন ওইভাবে হয়নি। গানটি আমার স্বামী আকরাম হোসেনের লেখা। উনি ব্যাংকে চাকরি করেন। মাঝে মধ্যে গান লেখেন। পাঁচ বছর আগে গানটি লিখেছিল।

‘আমি তো তখন ওভাবে গানে সময় দিতে পারিনি, আমার জমজ সন্তান। তাদেরকে দেখেশুনে রেখে গান গাওয়া অনেক ঝামেলা হয়ে গিয়েছিল। এখন তারা বড় হয়েছে।

‘এরই মধ্যে আমার স্বামী বলল এখন তো বাচ্চাদের চাপ নেই, তুমি এখন ফেসবুক পেজ করো, ইউটিউব চ্যানেল করো। আমি তখন বললাম তুমি এ রকম একটা গান লিখেছিলে এবং খুবই হেসেছিলাম গানটা শোনার পরে। তখন আমার হ্যাজবেন্ড বলল, গানটা তাহলে তোমার চ্যানেলে করে ফেল।’

এর পরের ঘটনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি গানটা নিয়ে গেলাম সজীবের কাছে (সংগীত পরিচালক)। তার অফিসে গিয়ে অনেকগুলো গান দেখালাম, সব শেষে এই গান দেখালাম।

‘গানটি দেখেই সজীব বলল, আপা এইরকম গানই তো দরকার। তখন এই গানটি আমাকে রেকর্ড করতে বলল। রেকর্ড শেষে তাকে বললাম, গানটার ভিডিও করব তোমার স্টুডিওতে, অত খরচ করতে পারব না, আমার চ্যানেলে দেব।

‘তখন সজীব বলল, আপা গানটা আপনার চ্যানেলে দেয়া যাবে না। এটা ভালো একটা গান, প্রমিনেন্ট কোনো একটা চ্যানেলে দিলে ভালো হবে।’

এরপর গানের মিউজিক ভিডিও তৈরি ও প্রচারের গল্প শোনান সুমি। বলেন, ‘গানটি আমি হানিফ ভাইকে (হানিফ সংকেত) পাঠালাম। উনি সঙ্গে সঙ্গে লিখে পাঠিয়েছেন এটা অসাধারণ একটা গান। উনি বললেন, কিছু কথা চেঞ্জ করতে, হানিফ ভাইয়ের ওখানে দিতে হলে কিছু কথা চেঞ্জ করে দিতে হবে, আমি বললাম দেব।

‘পরে উনাকে আর কানেক্ট করতে পারছিলাম না, উনি হয়ত দেশের বাইরে ছিলেন। উনাকে আর পেলাম না।

‘পরে আরেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তাকেও আর পরে পেলাম না। এরপর সজীব একদিন নয়ন ভাইকে (সৃষ্টি মাল্টিমিডিয়ার মালিক ও গানের মডেল) গানটি পাঠায়। সজীব জানাল গানটি নয়ন ভাই নেবে। ভিডিওর যত খরচ তিনি দেবেন, আপনি গানটা নয়ন ভাইকে দিয়ে দেন। এরপর চার-পাঁচদিনের মধ্যে ভিডিও সেরে ফেললাম। কোরবানি ঈদের পরদিন গানটি রিলিজ হয়েছে।’

পুরুষের সৌন্দর্য নিয়ে ‘ভাল্লাগে’ গানে নেট দুনিয়ায় ঝড়
ভাল্লাগে গানের মডেল নয়ন ও মম। ছবি: সংগৃহীত

একদম ছোটবেলা থেকে গান করেন বলেন জানালেন সুমি। তিনি বলেন, ‘আমি তো গান করি একদম ছোটবেলা থেকে। আমার পরিবার থেকেই গান গাওয়া শেখা। আমার ভাই-বোন, আমার বাবা-দাদা পুরো পরিবার গানের পরিবার। আমার গানের হাতেখড়িই হয়েছে বড় তিন ভাইয়ের কাছ থেকে।’

মেহেরপুরের গাংনীতে বাড়ি সুমির। স্বামীর চাকরির সুবাদে ঢাকাতেই থাকেন। তিনিও দুই বছর একটা চাকরি করেছেন। তবে গান-বাজনা আর সংসার সামলানোর জন্য সেই চাকরি ছেড়েছেন বলে জানান সুমি।

এ পর্যন্ত তার ৬-৭ টি অ্যালবাম বেড়িয়েছে সুমির। এর মধ্যে দুটি লালনগীতি ও বাকিগুলো মৌলিক গানের। এই অ্যালবামগুলো ২০০০ সাল থেকে ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ সালের দিকে করা। এ ছাড়া সেসময় ইত্যাদিতেও গান করেছেন তিনি।

‘ভাল্লাগে’ গানের মতো সাড়া আর কোনো গানে সাড়া পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে সুমি বলেন, “২০০১ সালে আমার একটা গান এসেছিল ‘আমার মাকে একটা চশমা কিনে দে/ আমার বাপকে একটা চশমা কিনে দে।’ সে সময় প্রচুর সাড়া ফেলেছিল গানটি। যদি সে সময় ইউটিউবের যুগ হতো তাইলে ওটাও ভাইরাল হতো।’’

দীর্ঘদিন ধরে গান করলেও জোরালোভাবে সংগীত জগতে খুব একটা শোনা যায়নি সুমির নাম। তবে ‘ভাল্লাগে’ গানে বিপুল সাড়া তাকে উজ্জীবিত করেছে। ভীষণ খুশি সুমি জানালেন, আগামীতে নিয়মিত হবেন গানের জগতে।

আরও পড়ুন:
‘জয় বাংলা স্লোগান বঙ্গবন্ধু নেন কবি নজরুল থেকে’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিনোদন
Men should be asked to build a safe world for women

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে নারীর প্রতি সহিংস আচরণ দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিয়েছেন অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা। ফাইল ছবি
প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তিন্নি (ছদ্মনাম)। স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ভালোবাসার বিয়ের দুই-তিন বছর পরই বদলে যায় স্বামীর আচরণ।

ছোটোখাটো বিষয়ে অকথ্য গালাগালি দিয়ে শুরু, দিনে দিনে তা গড়ায় মারধরে। ততদিনে তিন্নি দুই কন্যাসন্তানের জননী।

একপর্যায়ে তিন্নিকে চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেন স্বামী। বলা হয় শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ‘ভালো গৃহিণী’ হিসেবে সংসার করতে হবে। তবে ঘুরে দাঁড়ান তিন্নি। দুই সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন সংসার ছেড়ে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মেয়েকে একসঙ্গে ভালো স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় বড় মেয়েকে বাবার কাছে রেখেছি। সে ভিকারুননেসা নূন স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে। সুযোগ পেলেই সে আমার কাছে আসে।’

আর ছোট মেয়ে তিন্নির স্কুলেই তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষতান্ত্রিকতার কাছে একটা জায়গায় হার মেনেছি। তবে সংসার ছাড়লেও নিজের পরিচয় ছাড়িনি।’

মিরপুরের একটি এলাকায় সাবলেট বাসায় থাকেন রোজিনা আক্তার (ছদ্মনাম)। স্বামীর আগে বিয়ের কথা না জেনেই ভালোবেসে তাকে বিয়ে করেন। এরপর স্বামীর আগের স্ত্রীর সঙ্গে একই বাসায় থাকতে হচ্ছে রোজিনাকে।

স্বল্পশিক্ষিত এই নারী হাসপাতালে আয়ার চাকরি করেন। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় স্বামীর মারধর। আগের স্ত্রীও নিয়মিত স্বামীর মারধরের শিকার। এসব মেনে নিয়েই সংসার করছেন রোজিনা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষ মানুষ, রাগ উঠলে একটু আকটু গায়ে হাত তুলবোই। খাওন পড়োন তো দিতাছে।’

সোহানা আর মিথুনের (ছদ্মনাম) তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক। প্রায় এক বছর আগে মিথুন দেশের বাইরে চলে যান। সোহানার সঙ্গে কাটানো কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও রয়েছে তার কাছে।

সোহানা এই সম্পর্ক থেকে বের হতে চাইলে মিথুন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এই নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে সোহানার।

নারী সহিংসতা প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে।

এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদও দেয়া হয়েছে।

'আমরাই পারি' জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে- এটা বলা যাবে না। সহিংসতার ধরনে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এসেছে এবং এগুলোভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে এক ধরনের সহিংসতা ছিল যে মেয়েদের লেখাপড়া করতে দেয়া হতো না, বাইরে যেতে দেয়া হতো না অথবা অনেক ছোট বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়া হতো। ওই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন হয়েছে। তবে মেয়েদের ওপর নির্দেশনা চাপিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি রয়েই গেছে। একেক সময় একেক ধরনের নির্দেশনা সমাজ বা পরিবার মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সিস্টেমের তো চেঞ্জ হয়নি।’

জিনাত আরা বলেন, ‘আমাদের শিকড়েই সমস্যা রেখে দেয়া হলে ডাল কেটে বা ডাল ছেঁটে কোনো লাভ নেই। কারণ শিকড় থেকে আবার সেই জিনিসটাই বের হচ্ছে। এ কারণে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি কমছে না। এখন যখন মেয়েদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তারা বাইরে যাচ্ছে, চাকরি করছে। এত চাপের পরও মেয়েরা প্রতিবাদ করছে। তখন আরও বেশি শারীরিকভাবে তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি করেও যখন দেখছে কিছু হচ্ছে না, তখন তাদের মানসিক, সামাজিকভাবে বয়কটের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের কোণঠাসা করে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনের সামনের রাস্তায় এক তরুণীকে হেনস্তার ঘটনায় গত ১২ জুন প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘আগের দিনে মেয়েদের রান্নার জন্য মসলা বাটতে হতো। আধুনিকায়নের কারণে এখন গুঁড়া মসলা পাওয়া যাচ্ছে। সেটা সময় বাঁচিয়েছে, কিন্তু সেই মসলার নাম দেয়া হয়েছে রাঁধুনী। অর্থাৎ মেয়েরাই রান্না করবে- এটাই যেন নির্ধারিত। আধুনিকায়নের সঙ্গে মানসিকতার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।’

পুরুষ ও নারীর মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটানোর ওপর জোর দিয়ে জিনাত আরা বলেন, ‘ছেলেরা ঘরের কাজ করলে মেয়েরা সারপ্রাইজড হয়ে যায়। মেয়েরা কিন্তু বাইরে ঠিকই যাচ্ছে, আবার সমানভাবে ঘর সামলাচ্ছে। বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্কদের খেয়াল রাখছে।

‘তবে পুরুষ ঘরে আসেনি। তারা শুধু বাইরেই রয়ে গেছে। ঘরের কাজ যে শুধু মেয়েদের নয়- এই মানসিকতা পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই মেয়েদের ঘরের কাজের মূল্যায়ন হয়নি। অন্যদিকে নারীকে এখনও নারী হিসেবেই দেখতে চায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। মেয়েরা অফিসে কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং কাজ তাদের দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের অবস্থার পরিবর্তনে অনেক কাজ করছি, কিন্তু পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনে খুবই কম কাজ করেছি। পুরুষের পরিবর্তন হওয়াটা খুব জরুরি। দক্ষতা ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে পারে- এমন মানসিকতা পুরুষের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আনা গেলেই নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার শুভ্রা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে রয়েছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।’

তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের অনেক উদ্যোগ ও আইন রয়েছে; কিন্তু সেগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। জামিন অযোগ্য মামলার আসামি কোনো না কোনো প্রভাব খাটিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া তদন্তে গাফিলতি, উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে ব্যর্থতা, সাক্ষীর অপর্যাপ্ততা, পারিপার্শ্বিক চাপ ইত্যাদি কারণে মামলাগুলো গতি হারাচ্ছে।’

নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে ব্যারিস্টার শুভ্রা বলেন, ‘এ জন্য সবার নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ঠেকাতে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগ গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটি করতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে কিছুদিন প্রতিবাদ, শোভাযাত্রা করে সাময়িকভাবে থামানো গেলেও এটি তো শেষ হয়ে যায় না। কারণ সহিংসতার প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে, মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। আমরা মানসিকভাবে মানবিক পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে এসব ঘটতেই থাকবে।

‘শুধু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন বা লিঙ্গবৈষম্যের মানসিকতা পরিবার থেকেই শিখে বড় হয় অনেক শিশু। ভালোবাসা, বন্ধন, সমতা- এই শিক্ষাগুলো পরিবার থেকেই আসতে হবে।’

সহিংসতার পেছনে আধুনিক সময়ের প্রযুক্তিও কিছুটা দায় রয়েছে বলে মনে করেন ড. তানিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার মানুষকে পরিবার থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। সবাই ভার্চুয়ালি যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। এতে তো বন্ধন তৈরি হয় না। পরিবার থেকেই মানুষ সামাজিকতা শেখে। আর সঠিক সামাজিকতা নিয়ে বড় হলে সহিংস মনোভাব অনেক কমে আসবে।’

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে করণীয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত কোনো একটি সহিংস ঘটনা কেন হলো সেটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। একটা মানুষ এ রকম ঘটনা কেন ঘটাল, তার গোড়া পর্যন্ত যেতে হবে। প্রতিবাদ করেই থেমে যাওয়া যাবে না।

‘একেকটি ঘটনা একেকভাবে ঘটে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে মূল জায়গাটিতে পৌঁছাতে হবে। তারপর একেকটি কারণ ধরে সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে হবে। আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, আন্তরিকতা বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রতি তিনজন নারীর একজন সহিংসতার শিকার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মন্তব্য

বিনোদন
Cut back on the resentment and be a little man loving today

বিরাগ কমিয়ে খানিকটা পুরুষ-অনুরাগী হোন আজ

বিরাগ কমিয়ে খানিকটা পুরুষ-অনুরাগী হোন আজ
‘আগ্রাসী’ হিসেবে বছরজুড়ে সমালোচিত পুরুষের চাপা পড়ে থাকা অতি সাধারণ মানবীয় বৈশিষ্ট্যগুলোকে আজ অন্তত ভালোবাসতে পারেন, মন খুলে জানাতে পারেন সম্মান। কারণ আজকের দিনটি আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস।

সমাজে পুরুষের আধিপত্য নিয়ে অভিযোগ বিস্তর। নারীর ওপর পুরুষের খবরদারি নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই।

পুরুষের এই প্রচলিত ‘আগ্রাসী’ রূপের আড়ালে অনেক সময়েই ঢাকা পড়ে যায় তাদের সাধারণ মানবীয় বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্য কখনও নিবিষ্ট প্রেমিকের, কখনও সন্তানের প্রতি স্নেহময় পিতৃত্বের, কখনও বন্ধুত্বের অথবা কখনও সংসারের জোয়াল কাঁধে বয়ে বেড়ানো একজন ক্লান্ত মানুষের।

আগ্রাসী হিসেবে বছরজুড়ে সমালোচিত পুরুষের চাপা পড়ে থাকা অতি সাধারণ মানবীয় বৈশিষ্ট্যগুলোকে আজ অন্তত ভালোবাসতে পারেন, মন খুলে জানাতে পারেন সম্মান।

কারণ আজকের দিনটি আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস।

দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য পুরুষের সামাজিক মর্যাদার উন্নয়ন, লিঙ্গভিত্তিক সমতা বজায়, তাদের মানসিক-শারীরিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং সমাজে পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা।

পাশাপাশি পরিবারে পুরুষের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও জানানো হয় এদিন।

সভ্যতার শুরুর দিকে সমাজ নারীনিয়ন্ত্রিত থাকলেও ধীরে ধীরে জায়গাটি চলে গেছে পুরুষের দখলে। এতে নারী নিগ্রহ বাড়লেও ‘শাসক’ পুরুষকেও দিতে হচ্ছে মূল্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, বেহিসাবি জীবনযাপনে অভ্যস্ত পুরুষের অকালমৃত্যুর হার নারীর তুলনায় অনেক বেশি।

বিষয়টিকে এখন অতি স্বাভাবিক ‘প্রাকৃতিক ঘটনা’ হিসেবে বিচার করেন অনেকে। তবে একেও একধরনের ‘লিঙ্গ অসমতা’ হিসেবে মনে করছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি বলছে, ক্রমবর্ধমান প্রমাণগুলো দেখাচ্ছে পুরুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত লিঙ্গ সমতা নীতির ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। পুরুষ ও নারী সবার স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্যই লিঙ্গ সমতা নীতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ মৃত্যুর ৮৬ শতাংশ ক্ষেত্রে অসংক্রামক রোগ অথবা আঘাতজনিত কারণ দায়ী। হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও শ্বাসযন্ত্রের রোগের বেশি শিকার হন পুরুষ। নারীদের তুলনায় পুরুষ কম চিকিৎসকের কাছে যান এবং স্বাস্থ্যের দিকে তাদের নজরও অনেক কম।

ডব্লিউএইচও বলছে, ‘পুরুষত্বের ইমেজ’ ধরে রাখার আর্থসামাজিক চাপ পুরুষের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। আমরা সবাই জানি, সমাজে এখনও ব্যথিত পুরুষের চোখের জল ফেলতে মানা, কিংবা কর্মজীবন শেষে বেশি নিঃসঙ্গতার শিকার হন পুরুষ।

আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস পালনের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কানসাস সিটির মিসৌরি সেন্টার ফর মেস’স স্টাডিজের পরিচালক টমাস অস্টার ১৯৯২ সালে দিনটি পালন করেন। তিনি পুরুষকে ভালোবাসা জানানোর তারিখ ঠিক করেন ৭ ফেব্রুয়ারি। ১৯৯৪ সালে মাল্টা ও ১৯৯৯ সালে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতে অনুষ্ঠানিকভাবে এই দিন উদ্‌যাপন শুরু হয়।

ইন্টারন্যাশনাল মেন’স ডে ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতে ১৯৯৯ সালে পুরুষ দিবস উদ্‌যাপনের সূচনা করেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসের শিক্ষক ড. জেরম তেলুকসিং। তবে ২০০৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস প্রতিবছরের ১৯ নভেম্বর উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে বর্তমানে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কানাডা, ভারত, পাকিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, জ্যামাইকা, কিউবা, স্কটল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মাল্টা, কানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘পুরুষ ও ছেলে শিশুদের সাহায্য করুন’।

আরও পড়ুন:
‘নারীবেশী যুবক’ খুন, ৬ ট্রান্সজেন্ডার গ্রেপ্তার
বেতন আছে নারী ফুটবলারদের, পুরুষ এখনও ‘অবৈতনিক’  
ট্রান্সজেন্ডার সেজে গণপরিবহনে চাঁদাবাজি
পুরুষের যত বেশি আত্মপ্রেম, তত দ্রুত স্খলন
দেশের উন্নয়নে ট্রান্সজেন্ডারদের কাজে লাগানোর আহ্বান

মন্তব্য

বিনোদন
War Against God Iranian Rapper Faces Death Penalty

‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’, মৃত্যুদণ্ডের মুখে ইরানি র‍্যাপার  

‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’, মৃত্যুদণ্ডের মুখে ইরানি র‍্যাপার 

  সামান ইয়াসিন একজন কুর্দি র‍্যাপার। ইরানের শাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলায় তার বিরুদ্ধে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে বিচারের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের শাসকগোষ্ঠী। এর আগে ইরানি আইনপ্রণেতারা বিক্ষোভকারীদের কঠোর শাস্তি চান। স্বচ্ছতায় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় বিচারে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানে চলা বিক্ষোভে সংহতি জানানোর মূল্য জীবন দিয়ে মেটাতে যাচ্ছেন দেশটির সঙ্গীতশিল্পী ও আলোচিত র‍্যাপার সামান ইয়াসিন। তিন সপ্তাহে আগে নিজ বাড়িতে থেকে টেনে-হিঁচড়ে ইয়াসিনকা তুলে নিয়ে গিয়েছিল ইরানের পুলিশ। তরুণ এই কুর্দি শিল্পীর বিরুদ্ধে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর (মোহারাবেহ) অভিযোগ আনা হয়েছে; যার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড।

ইয়াসিনের ভাগ্য কদিনের মধ্যেই নির্ধারণ হবে ইরানের আদালতে। চলমান বিক্ষোভে সমর্থনের জন্য ইয়াসিনের মতো হাজার হাজার তরুণ-তরুণী জেলে বন্দী।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, তরুণদের বার্তা দিতে বিচারে ‘কঠোর দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করতে পারে ইরানের শাসকগোষ্ঠী।

জাতিসংঘের হিসাবে, হিজাব ইস্যুতে ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশি হেফাজতে ২২ বছরের কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে শিশুসহ আনুমানিক ১৪ হাজার মানুষকে সরকার আটক করেছে।

ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি জাভেদ রেহমান বলেন, ‘গত ছয় সপ্তাহে পুরুষ, নারী এবং শিশু মিলিয়ে ১৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের কর্মী।

‘নতুন উদ্বেগের খবর হলো- সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে তেহরানে গ্রেপ্তার ১ হাজারের বেশি ইরানির পাশাপাশি শহরের আশপাশ থেকে গ্রেপ্তার প্রায় একই সংখ্যক বিক্ষোভকারীর প্রকাশ্যে বিচার হবে। এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে কয়েকটির সাজা মৃত্যুদণ্ড। আর এই বিচারে জবাবদিহির সুযোগ কম। ইরানে এমন মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যে শক্ত ব্যবস্থা নেবে ইরান সরকার, তা আগেই ধারণা করা হচ্ছিল। কারণ বিক্ষোভটি চার দশকের বেশি সময় ধরে ইরানে চলা ইসলামিক শাসন ব্যবস্থাকে হুমকিতে ফেলছে। যে কয়েকটি ভিত্তির ওপর এই শাসন ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে, হিজাব তার অন্যতম স্তম্ভ।

২২৭ জন ইরানি আইনপ্রণেতা গত ৬ নভেম্বর বিচার বিভাগের কাছে একটি আর্জি জানান। তারা বিক্ষোভকারী, তাদের সহায়তা প্রদানকারী এবং ‘দাঙ্গায়’ উসকানিদাতাদেরকঠিন সাজার আবেদন করেছিলেন। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় আসতে পারে বিচারে।

নরওয়েভিত্তিক কুর্দি অধিকার গোষ্ঠী হেনগাও বলছে, প্রতিবাদকারীদের ভয় দেখাতে ইয়াসিনের মতো হাই-প্রোফাইল বন্দিদের ব্যবহার করতে পারে ইরানের সরকার।

উদীয়মান শিল্পী ইয়াসিন ইরানে সুপরিচিত এবং প্রশংসিত। ইসলামিক শাসনব্যবস্থার ঘোর সমালোচক তিনি। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বার্তা ও কয়েকটি প্রতিবাদী গান লিখেছেন ইয়াসিন।

হেনগাওয়ের কর্মকর্তা সোমা রোস্তামি বলেন, ‘আমরা জানি সরকার সহজেই মানুষকে হত্যা করে এবং বন্দীদের সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেয়। সামান ইয়াসিন গুরুতর বিপদে। আমাদের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো।’

অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইয়াসিনের পরিবারকে ভয় দেখিয়েছে সরকার। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়াসিনের বিরুদ্ধে ‘মোহারাবেহ’ (ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা) অভিযোগ গঠনের পরও তারা সাড়াশব্দ করেনি।

ইয়াসিনের মাথার ওপর যখন ফাঁসির দড়ি ঝুলছে, তখন কারাগারে ভালো নেই বিক্ষোভে আটক বন্দীরা। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে পশ্চিমের সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, জেলে তাদের বেধক পেটানো হচ্ছে।

ইয়াসিনের মতো বন্দী আছেন ৩২ বছরের সংগীতশিল্পী এবং র‌্যাপার তোমাজ সালেহি। ৩০ সেপ্টেম্বর দুই বন্ধুর সঙ্গে গ্রেপ্তার হন তোমাজ।

তোমাজের পরিবারের দাবি, বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে গান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্লোগানসম্বলিত ছবি পোস্ট করার অপরাধে পুলিশ তাকে ‘ভয়ংকরভাবে’ পিটিয়েছে।

জনপ্রিয় শিল্পীর মুক্তির দাবিতে অনলাইনে তার সমর্থকরা ব্যাপকভাবে হ্যাশট্যাগ #ফ্রিটুমাজ শেয়ার করছে।

‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’, মৃত্যুদণ্ডের মুখে ইরানি র‍্যাপার

সুপরিচিত ইরানি র‌্যাপার তোমাজ সালেহির গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে বার্লিনের ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটে একটি বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তোমাজের এক বন্ধু বলেন, ‘আমরা যখন তার গ্রেপ্তারের কথা শুনলাম, তখন বিধ্বস্ত হয়েছিলাম, তবে ভেঙে পড়িনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা যা যা করতে পারি তার সবই করছি। মানবতাবিরোধী অপরাধের জবাবদিহি করতে হবে ইসলামিক রিপাবলিককে। আর এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে কারাগারে বন্দী ও নির্যাতনের শিকার ইরানিদের মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ তারা ভুল কিছু করেনি, কেবল স্বাধীনতা চেয়েছে।’

‘আমরা জানি, আমাদের আরও শক্ত আঘাত করতে চায় সরকার। তারা আমাদের মধ্যে ভয় জাগিয়ে তুলতে চায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- সমালোচক এবং নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের গ্রেপ্তার করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শাসকরা নিজেরাই নিজেদের তৈরি আইনের লঙ্ঘন করছে।

‘নিজের পরিবারের পক্ষে আদালতে আসা আইনজীবীরাও গ্রেপ্তারের ঝুঁকিতে আছেন।’

মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনা প্রথম প্রকাশ করা দুই ইরানি নারী সাংবাদিককে গত সপ্তাহে ‘আমেরিকার গুপ্তচর’ অ্যাখ্যা দেয় ইরানি কর্তৃপক্ষ। এটি এমন একটি অভিযোগ যার সাজা মৃত্যুদণ্ড।

আরও পড়ুন:
ইরানে মাজারে বন্দুক হামলায় নিহত ১৫
ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিচার শুরু, হতে পারে মৃত্যুদণ্ড
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে ইরান
‘ইরান বিক্ষোভ কোনো প্রতিবাদ নয়, বিপ্লব’
আয়াতুল্লাহকে প্রশংসা করে গানে ‘অস্বীকৃতি’, স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মন্তব্য

বিনোদন
Eating biryani reduces virility shops closed

বিরিয়ানি খেয়ে কমছে পুরুষত্ব, দোকান বন্ধ

বিরিয়ানি খেয়ে কমছে পুরুষত্ব, দোকান বন্ধ
কোচবিহারের পৌরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘ফুড লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স... কিছুই নেই দোকানগুলোর। এসব দোকানের মসলাযুক্ত বিরিয়ানি খেয়ে পুরুষত্ব হারাচ্ছেন অনেকে। তাই দোকান দুটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

বিরিয়ানি খেয়ে নাকি কমে যাচ্ছে পুরুষত্ব। তাইতো পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার পৌরসভার প্রধান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দুটি দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। পৌর প্রধানের এমন সিদ্ধান্তে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

শহরের বিভিন্ন বিরিয়ানির দোকানে রোববার একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে কোচবিহার পৌরসভা অভিযান চালায়। তাদের নেতৃত্ব দেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

ভবানীগঞ্জ বাজারের কাছে পাওয়ার হাউজ চৌপতিতে দুটি দোকানে ঢুকতে কর্মচারীদের বাধার মুখে পড়েন পৌর প্রধান রবীন্দ্রনাথ। এসময় দোকান কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান তিনি। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ পৌরপ্রধান দোকান দুটি বন্ধ করে দেন।

রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও কোচবিহারের পৌরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘ফুড লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স... কিছুই নেই দোকানগুলোর। এসব দোকানের মসলাযুক্ত বিরিয়ানি খেয়ে পুরুষত্ব হারাচ্ছেন অনেকে। তাই দোকান দুটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

বাঙালির খাদ্য তালিকায় বিরিয়ানি উপরের দিকেই রয়েছে। বিরিয়ানি নিয়ে তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের এমন আজব মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। খাদ্য রসিকদের মধ্যে চলছে নানারকম টিকা, টিপ্পনি।

মন্তব্য

বিনোদন
Porn addiction is not responsible for male impotence

পুরুষের উত্থানহীনতায় দায়ী নয় পর্ন আসক্তি

পুরুষের উত্থানহীনতায় দায়ী নয় পর্ন আসক্তি পর্ন আসক্তির সঙ্গে লিঙ্গ উত্থানে সমস্যার কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাননি গবেষকরা। ছবি: সংগৃহীত
পর্নোগ্রাফি নিয়ে নানা জনের নানা মত রয়েছে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় মানুষ চাইলেই এখন পর্ন দেখতে পারে। যদিও পর্নোগ্রাফি নিয়ে সমাজে নানা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তবে পর্নগ্রাফিতে আসক্তির সঙ্গে পুরুষের যৌনাঙ্গ উত্থান সমস্যা ও যৌনতায় অতৃপ্তির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি গবেষণায়।

পর্নোগ্রাফি নিয়ে নানা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, পর্নগ্রাফি ব্যক্তিকে যৌনতায় আগ্রাসী করে তোলে। এ ছাড়া যৌনতায় অতৃপ্তি, বিলম্বিত বীর্যপাত, অস্বাভাবিক যৌন আচরণ এবং শরীর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়।

তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এসব ধারণার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা বলছেন, সঙ্গমের সময় পুরুষাঙ্গের অঙ্গের উত্থানের সঙ্গে পর্ন আসক্তির সম্পর্ক নেই। যৌনতায় অতৃপ্তির পেছনেও পর্নগ্রাফির ভূমিকা নেই। মূলত বয়স বৃদ্ধি, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, হস্তমৈথুন, যৌনতায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলার মতো বেশকিছু কারণে এ সমস্যায় ভোগেন পুরুষ।

আমেরিকার মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেভিড রোল্যান্ড ও তার দল সাড়ে ৩ হাজারের বেশি পুরুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এমন ফল পেয়েছেন। তাদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ইমপোটেন্স রিসার্চে।

পর্নোগ্রাফি নিয়ে নানা জনের নানা মত রয়েছে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় মানুষ চাইলেই এখন পর্ন দেখতে পারে। যদিও পর্নোগ্রাফি নিয়ে সমাজে নানা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তবে পর্নগ্রাফিতে আসক্তির সঙ্গে পুরুষের যৌনাঙ্গ উত্থান সমস্যার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি গবেষণায়।

এর আগে ইতালির অন্য এক দল গবেষকের গবেষণায় বলা হয়, পর্ন-আসক্তির কারণে অনেকে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ উত্থান সমস্যায় ভোগেন। তবে এই দাবির সঙ্গে একমত নন অধ্যাপক ডেভিড রোল্যান্ড। তিনি মনে করছেন, ওই গবেষণায় পদ্ধতিগত কিছু ত্রুটি থাকায় আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার।

পুরুষের উত্থানহীনতায় দায়ী নয় পর্ন আসক্তি

বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে রোল্যান্ড ও তার সহকর্মীরা ইংরেজিভাষী দেশ এবং হাঙ্গেরি থেকে অনলাইন মাধ্যমে ৩ হাজার ৫৮৬ জন পুরুষকে বেছে নিয়ে তাদের ওপর জরিপ চালান।

উত্তরদাতাদের মধ্যে যারা সঙ্গীর সঙ্গে যৌনমিলন করেননি বা যাদের কখনও সঙ্গী ছিল না তাদের বক্তব্য বাদ দেয়া হয়। বাকিদের সামনে জনসংখ্যা সংক্রান্ত প্রশ্ন, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা, চিকিৎসা পরিস্থিতি, যৌন মিলন, বর্তমান যৌন সঙ্গীর সংখ্যা, যৌনতায় আগ্রহ বা গুরুত্ব, সম্পর্ক, যৌন তৃপ্তি, হস্তমৈথুন, সঙ্গীর যৌনতা এবং পর্ন দেখার সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়। তারা দ্রুত বা দেরিতে বীর্যপাত এবং লিঙ্গ উত্থানজনিত প্রশ্নগুলোরও উত্তর দেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লিঙ্গ উত্থানে সমস্যার সঙ্গে পর্নগ্রাফির খুব একটা সম্পর্ক নেই। মূলত বয়স বৃদ্ধি, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা, চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যা, মাঝেমধ্যে যৌনমিলন, যৌনতায় কম গুরুত্ব দেয়া এবং যৌন ও সম্পর্কের তৃপ্তি কমে যাওয়ায় তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

জরিপে একইসঙ্গে উঠে এসেছে কেউ বেশি বেশি হস্তমৈথুনে আসক্ত থাকলে লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যায় পড়তে পারেন।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক রোল্যান্ড বলেন, ‘পর্নগ্রাফি ও যৌন তৃপ্তি বিষয়ক আগের গবেষণায় পদ্ধতিগত বেশকিছু সমস্যা ছিল। এবারের গবেষণায় সেসব কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়। তারপরও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

‘জরিপটি অনলাইনে চালানো হয়েছে। অনেকেই হয়ত বিষয়টিকে গুরুত্বসহ নেননি বা অনেকে যেনতেনভাবে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তাই এই জরিপ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

‘এছাড়া এই গবেষণা-জরিপে কেবল পশ্চিমা নাগরিকদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন সম্প্রদায়গুলোকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে যারা যৌনতা নিয়ে কথা বলতে খুব বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। তাদের বক্তব্য পেলে এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা মিলবে।’

আরও পড়ুন:
নারীর অর্গাজম বঞ্চনায় হলিউড, বিজ্ঞানের দায়
যৌন জীবনে প্রভাব ফেলছে জলবায়ু
নিজের শরীর সম্পর্কে নারীরও অজানা অনেক
দুজনের চরম যৌনাকাঙ্ক্ষায় আসে মধুর দাম্পত্য
পুরুষ তেলাপোকার কষ্ট ঘোচাবে কে?

মন্তব্য

বিনোদন
Children bring changes in the brains of fathers

সন্তান পরিবর্তন আনে বাবাদের মস্তিষ্কেও

সন্তান পরিবর্তন আনে বাবাদের মস্তিষ্কেও গবেষণায় দেখা গেছে, পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা পাওয়া বাবাদের মস্তিষ্কে পরিবর্তনের বিষয়টি সর্বজনীন। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা লাভ করা পুরুষদের কর্টেক্সে বিশেষ পরিবর্তন ঘটে থাকে। বিশেষ করে মনোযোগ, পরিকল্পনা এবং প্রয়োগ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মস্তিষ্কের বাইরের স্তরে এই পরিবর্তন সুস্পষ্ট। বিপরীতে নিঃসন্তান পুরুষদের গ্রুপে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।

সন্তান জন্মদান কেন্দ্র করে মায়ের শরীরের নানান পরিবর্তনের তথ্য কমবেশি সবার জানা। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে সন্তানের কারণে বাবার শরীরেও আসে পরিবর্তন। বিশেষ করে পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা লাভ করা বাবাদের মস্তিষ্কে ঘটে গঠনগত রূপান্তর।

মগজের এই পরিবর্তনের কারণে সন্তানের প্রতি বাবাদের বাৎসল্যের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, সেই সঙ্গে তৈরি হয় নতুন দায়িত্ববোধ।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন প্রমাণ পেয়েছেন স্নায়ুবিজ্ঞানীরা। সেরিব্রাল কর্টেক্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে তারা বলছেন, বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা লাভ করা পুরুষ সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও দৃশ্যমানতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মস্তিষ্কের কর্টিকাল অঞ্চলে স্পষ্ট পরিবর্তন অনুভব করেন।

মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাওয়া নারীদের মস্তিষ্কে পরিবর্তন পর্যালোচনার জন্য গবেষণাটি শুরু হয়েছিল। তবে পরে এর সঙ্গে পুরুষের মস্তিষ্কে পরিবর্তনের বিষয়টিও যাচাই করা হয়।

বিজ্ঞানী দলের সদস্য ছিলেন মাদ্রিদের ইনস্টিটিউটো ডি ইনভেস্টিগেশন স্যানিটরিয়া গ্রেগোরিও মারাননের স্নায়ুবিজ্ঞানী ম্যাগডালেনা মার্টিনেজ-গার্সিয়া।

তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল গর্ভাবস্থা ও প্রসবোত্তর পরিস্থিতির সঙ্গে মাতৃমস্তিষ্কের অভিযোজনকে পর্যবেক্ষণ করা। এ জন্য আমরা প্রজনন অভিজ্ঞতার বাইরের কারণ- যেমন শিশুর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের পরিবর্তনের দিকটি আলাদা করতে চেয়েছি। আর সেটি করতে গিয়েই বাবাদের মস্তিষ্ক নিয়ে অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি হয়।’

গবেষণায় ম্যাগডালেনা মার্টিনেজ ও তার সহকর্মীরা প্রথম সন্তানের জন্মের আগে ও পরে ৪০ জন পুরুষের স্ট্রাকচারাল নিউরোইমেজিং ডেটা পরীক্ষা করেছেন। পাশাপাশি নিঃসন্তান ১৭ পুরুষের মস্তিষ্কও পর্যবেক্ষণ করেছেন তারা।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা লাভ করা পুরুষদের কর্টেক্সে বিশেষ পরিবর্তন ঘটে থাকে। বিশেষ করে মনোযোগ, পরিকল্পনা এবং প্রয়োগ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মস্তিষ্কের বাইরের স্তরে এই পরিবর্তন সুস্পষ্ট। বিপরীতে নিঃসন্তান পুরুষদের গ্রুপে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাবাদের ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়াল সিস্টেম এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা কর্টিকাল উপাদানের মাত্রা কমে যায়। ফলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে বেশি মনোযোগী হন পুরুষ। অতীতের অভিজ্ঞতাকে বেশি মাত্রায় বিশ্লেষণে সক্ষম হয় মস্তিষ্ক। গবেষকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে নবজাতকের প্রতি মায়ের পাশাপাশি বাবাদের বাৎসল্যের মাত্রাও বাড়তে থাকে।

ম্যাগডালেনা মার্টিনেজ বলছেন, ‘মায়ের গর্ভাবস্থা এবং প্রসবোত্তর কাল- দুটি সময়েই বাবা-মায়ের মস্তিষ্কের একধরনের পুনর্গঠন হয়।’

বাবা হওয়া যে ৪০ জনের মস্তিষ্কের গঠন পর্যালোচনা করা হয়েছে তাদের মধ্যে অর্ধেক স্পেনের নাগরিক, বাকি ২০ জন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। মজার বিষয় হলো, দুটি মহাদেশের এবং দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির পুরুষদের বেছে নেয়া হলেও সবার ক্ষেত্রেই কর্টেক্সে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর মাধ্যমে বলা যায় পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা পাওয়া বাবাদের মস্তিষ্কে পরিবর্তনের বিষয়টি সর্বজনীন।

ম্যাগডালেনা মার্টিনেজ বলছেন, ‘কর্টিকাল অঞ্চলে এই পরিবর্তন সামাজিক জ্ঞান, মনোযোগ এবং সহানুভূতিবোধের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। আমরা বাবা-মা দুজনের ক্ষেত্রেই কর্টেক্সের পরিবর্তন খুঁজে পেয়েছি। এই পরিবর্তন সন্তানের প্রতি তাদের মনোযোগ আরও গভীর করতে সাহায্য করে।’

আরও পড়ুন:
মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো
শূন্য থেকে বস্তুকণা বানালেন বিজ্ঞানীরা
দস্যি শিশুকেও ১৩ মিনিটে ঘুম পাড়াবেন যেভাবে
মদে লবণ মেশালে কি সিরকা হয়?
৩১ হাজার বছর আগেই ছিল দক্ষ শল্যচিকিৎসা

মন্তব্য

বিনোদন
The city that runs under the rule of women men are inhuman

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর ব্রাজিলের নোইভা দো করদেইরো শহরের সব কিছু চলছে নারীদের তৈরি নিয়মে। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। এই শহরে বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’- কাজী নজরুল ইসলাম ‘নারী’ কবিতায় এভাবেই ‘মহান সৃষ্টি’র পেছনে নারী-পুরুষের যৌথ ভূমিকার কথা লিখেছেন।

তবে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ছিমছাম নোইভা দো করদেইরো শহরে নারীরা পুরুষদের একদম পাত্তা দিতে রাজি নন। গোটা বিশ্বে পুরুষ দাপিয়ে বেড়ালেও এই শহর চলে নারীদের নিয়মে। সেই নিয়ম এতটাই কড়া যে, রীতিমতো মানবেতর জীবনের মধ্যে আছেন পুরুষ।

বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। বাস্তবেও মনোরম শহরটি ছেয়ে আছে নানা ধরনের ফুল-ফলের গাছে।

শহরের অধিবাসীদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী, যাদের অনেকেই জীবনে কোনো পুরুষের সান্নিধ্যে আসেননি।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরো শহরে পুরুষের এই দুর্বিপাকের জন্য অবশ্য তাদের পূর্বপুরুষেরাই দায়ী। ইতিহাস বলছে, শহরটির পত্তন ঘটান মারিয়া সেনোরিনিয়িা দে লিমা নামে এক তরুণী। মারিয়াকে জোর করে বিয়ে দিয়েছিল পরিবার।

১৮৯১ সালে মারিয়া ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পরে নিজ শহর ছাড়তে বাধ্য হন। তিনিসহ তার পরিবারের পরবর্তী পাঁচ প্রজন্মকে ক্যাথলিক চার্চ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিপর্যস্ত মারিয়া পালিয়ে গিয়ে নোইভা দো করদেইরোতে বসবাস শুরু করেন। সমাজে একইভাবে নিগৃহীত আরও বেশ কয়েকজন নারীও ধীরে ধীরে আশ্রয় নেন সেখানে। এভাবেই গড়ে ওঠে নারীদের এক শহর, যেখানে বসবাসের সব নিয়ম-কানুন তৈরি করেছেন নারীরাই।

পরের প্রায় ৫০ বছর সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। তবে সমস্যা দেখা দেয় ১৯৪০ সালে। সে বছর অ্যানিসিও পেরেইরা নামে একজন ধর্মযাজক শহরের ১৬ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ে করে পুরুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। শহরে তিনি গড়ে তোলেন একটি গির্জা, সেই সঙ্গে নারীদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয় বিভিন্ন পদক্ষেপ। নারীদের মদ্যপান, গান শোনা, চুল কাটা বা গর্ভনিরোধক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

নারীদের ওপর এই খবরদারি একটানা চলে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। ওই বছর অ্যানিসিও মারা গেলে নোইভা দো করদেইরোর অতিষ্ঠ নারীরা সিদ্ধান্ত নেন, তারা আর কখনও পুরুষের কাছে মাথা নোয়াবেন না।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই পুরুষের নেতৃত্বে গঠিত ধর্মীয় সংগঠন ভেঙে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে জারি হয় শহরে পুরুষদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ রহিত করে আইন।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরোতে এখন সব মিলিয়ে ছয় শর মতো নারী আছেন। তাদের বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

কিছু নারী আছেন বিবাহিত, তাদের সন্তানও রয়েছে। তবে তাদের স্বামী এবং ১৮ বছরের বেশি ছেলে সন্তানদের সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নেই। সপ্তাহে মাত্র একবার তারা যেতে পারেন নিজেদের বাড়িতে। বাকি দিনগুলো কাটাতে হয় শহরের বাইরে অন্য কোথাও।

ওই শহরের আইন-কানুন তৈরি করা থেকে শুরু করে কৃষিকাজ, নগর পরিকল্পনা, এমনকি ধর্মীয় রীতিনীতিও পরিচালনা করেন নারীরা।

নোইভা দো করদেইরোর নারীরা বলছেন, নিজেদের মতো থাকতে পেরে তারা ভালোই আছেন। রোজালি ফার্নান্দেস নামে এক নারী বলেন, 'নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালোভাবে করতে পারে এমন অনেক কিছুই আছে। পুরুষেরা যখন ছিল তার চেয়ে আমাদের শহর এখন আরও সুন্দর ও ছিমছাম।

'নিজেদের মধ্যে কখনও মতভেদ হলে আমরা নিজেদের মতো করে মিটিয়ে নিই। ঝগড়া-ফ্যাসাদের পরিবর্তে ঐকমত্য খোঁজার চেষ্টা করি। আমরা সব কাজ ভাগ করে নিয়েছি। এখানে কেউ কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না।’

তবে এত শান্তির মধ্যেও ইদানীং কিছু নারীর আক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। এই আক্ষেপ না থাকার কারণও অবশ্য নেই।

দারুণ রূপবতী নেলমা ফার্নান্দেস ২৩টি বসন্ত পার করে ফেলেছেন, অথচ এখনও কাউকে চুমু খেতে পারেননি।

নেলমা স্বীকার করছেন, শহরের নারীরা অসাধারণ সুন্দরী হলেও পছন্দের জীবনসঙ্গী অনেকেই খুঁজে পাচ্ছেন না। এতসব নিয়ম-কানুন মেনে শহরটিতে পা রাখার মতো সাহসী পুরুষের সংখ্যা নগণ্য।

নেলমা বলেন, ‘এখানে আমরা যারা অবিবাহিত নারী রয়েছি তাদের সঙ্গে যেসব পুরুষের দেখা হয়, তারা হয় বিবাহিত নয়তো কোনো না কোনোভাবে আত্মীয়। আমি জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়েও কোনো পুরুষকে চুমু খাওয়ার সুযোগ পাইনি।

‘আমরা সবাই প্রেমে পড়তে চাই, বিয়ে করার স্বপ্ন দেখি। তবে স্বামী খুঁজতে এই শহর ছেড়ে চলে যেতে চাই না। আমরা এমন পুরুষের সান্নিধ্য চাই, যারা এখানকার নিয়ম মেনেই জীবনযাপনে রাজি হবে।’

আরও পড়ুন:
বীরের বেশে পাহাড়ে চারকন্যা
মালদ্বীপের লিগে খেলতে গেলেন সাবিনা
শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে নামছে বাংলাদেশ
ফুলেল ভালোবাসায় বাড়ি ফিরলেন সানজিদা-রূপনারা
চেনা মাঠে প্রত্যাশা পূরণ করতে চান সালমা-জ্যোতিরা

মন্তব্য

p
উপরে