অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে সাঈদ মাহাদী সেকেন্দারের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘প্রেয়সী’। বইটি প্রকাশ করছে বাবুই প্রকাশনী।
বইটির প্রকাশক মোরশেদ আলম হৃদয় বলেন, ‘‘‘প্রেয়সী’ গল্পগ্রন্থ কতগুলো গল্পের সমাহার। জীবনের গল্প, হাসি-কান্না, প্রেম-প্রকৃতির গল্প রয়েছে বইটিতে। এসব গল্পে জীবনের বিস্তার তুলে আনা হয়েছে। আশা করি গল্পগুলো পাঠকের হৃদয়কে নাড়া দেবে।’’
বইটির লেখক সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার বলেন, ‘বইটিতে মোট দশটি গল্প স্থান পেয়েছে। গল্পগুলো পুরোনো-নতুন মিলিয়ে। দু-চারটি গল্প গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বেশির ভাগই অপ্রকাশিত। অধিকাংশ গল্প মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে পড়াকালীন লেখা। প্রেম, সামাজিক অবস্থা এবং প্রকৃতি গুরুত্ব পেয়েছে গল্পে।’
মাহাদী সেকেন্দার সরকারি খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক, নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্মাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
তিনি দৈনিক অধিকার-এর ফিচার সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।
'প্রেয়সী' গল্পগ্রন্থটি রকমারি ডটকম থেকে প্রি-অর্ডার করা যাবে। প্রিতম পিতুর প্রচ্ছদে বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ১৮০ টাকা।
ছবি: নিউজবাংলা
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিরোজপুরের হুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ২:০০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রজেক্টের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই পরিবেশ সচেতন হতে হবে এবং বাড়িতে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "নিজেকে মাদকমুক্ত রাখতে হবে এবং মোবাইল গেমসের আসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে।"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বিদ্যালয়ের চারপাশের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করে।
আয়োজকরা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
উদ্ধারকৃত বিশাল আকৃতির অজগর সাপ । ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন একটি ব্যস্ত বাজারের হার্ডওয়্যার দোকানের ভেতর থেকে একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে নয়টায় শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বনবিভাগ ও কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
নীলডুমুর বাজারের সংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী হারুন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে দোকান খোলার পরপরই ভেতরে একটি বড় অজগর সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকতে দেখে তিনি ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন। তাঁর চিৎকার শুনে মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরবর্তীতে বাজারের লোকজন সাপটিকে ঘিরে রেখে দ্রুত বনবিভাগকে খবর দিলে বনকর্মীরা সিপিজি সদস্য ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অজগরটি খাঁচাবন্দি করতে সক্ষম হন।
বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নীলডুমুরের মতো একটি জনবহুল ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এত বড় অজগর সাপ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। সাপটি ঠিক কীভাবে রাতের আঁধারে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তীব্র তাপদাহ ও সুন্দরবনের আশপাশের বনাঞ্চল বা ঝোপঝাড়ে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ায় খাবারের সন্ধানে এটি লোকালয়ে চলে এসেছিল।
নীলডুমুর বনবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন সাপটির শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা অজগরটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে এটিকে আজই নিরাপদে সুন্দরবনের গভীর ও উপযোগী প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে। এর পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে এলে আতঙ্কিত না হয়ে কিংবা নিজেরা আইন হাতে তুলে নিয়ে প্রাণীর ক্ষতি না করে, দ্রুততম সময়ে বনবিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য বিশেষ আহ্বান জানান।
আকস্মিক এই ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করলেও বনবিভাগের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের যুবসমাজকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংযুক্ত করে কর্মসংস্থান ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন মেলা ।
সোমবার (২৯জুন) সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলা হলরুমে বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও অ্যাক্টিভিস্টা রামপালের আয়োজনে এ মেলার আয়োজনে করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিস আতিয়া খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় দত্ত, বাগেরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শংকর কুমার সরকার, বাগেরহাট মেরিন টেকনোলজির অধ্যক্ষ মো. মাজাহারুল হাসান খান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান, শহর
সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা নাজমুছ সাকিব, বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন এবং সহ-সভাপতি এস এম রাজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
আয়োজকরা জানান, বাগেরহাট জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুবক-যুবতী তথ্যের অভাব, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুর্বল যোগাযোগের কারণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে (TVET) অংশগ্রহণ করতে পারেন না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় তাদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেরিন একাডেমি এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর পৃথক বুথ স্থাপন করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স, ভর্তি প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের সময়কাল এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। পাশাপাশি বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নিবন্ধন বুথ থেকে আগ্রহী যুবকদের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয় এবং কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজে নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়।
বক্তারা বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধি,কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
ফাইল ছবি
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আদালতে নিজের আইনি লড়াই নিজে লড়ার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
সোমবার (২৯ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আহ্বান জানান। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, প্রসিকিউশনও আন্তরিকভাবে চায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুক এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোর আইনি মোকাবিলা নিজেই করুক। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফিরতে চাওয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্য বা ইচ্ছাকে রাজনৈতিক ‘স্টান্টবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যদি তাঁর প্রকৃত সাহস থাকে, তবে অবিলম্বে দেশে ফিরে জুলাই হত্যাযজ্ঞের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত।
একই সময়ে ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারিক কার্যক্রমের হালনাগাদ অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সব মিলিয়ে মোট ২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর বাইরে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, আমির হোসেন আমু এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ জুলাই হত্যাযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর ১০টি মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন টিমের হাতে এসে পৌঁছেছে।
তিনি জানান, এই তদন্ত প্রতিবেদনগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব দ্রুতই আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফরমাল চার্জ হিসেবে দাখিল করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন মরা ভদ্রা নদীতে এখন প্রায়শই বড় সাইজের কার্প ও দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের মৎস্য অভয়াশ্রম রক্ষা এবং নিয়মিত পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির সুফল সরাসরি পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও জেলেরা। দীর্ঘদিন পর নদীতে এমন বড় আকারের মাছের দেখা মেলায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মাছটি ধরেছেন গজেন্দ্রপুরের হান্নান গাজী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সময়ের প্রমত্তা ভদ্রা নদী কালক্রমে ভরাট হয়ে ‘মরা ভদ্রা’য় পরিণত হলেও বানিয়াখালী এলাকায় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করায় চিত্র বদলে গেছে। অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকা এবং নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় চারপাশের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের বংশবৃদ্ধি ঘটেছে বহুগুণ। রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড়, চিতলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির বড় বড় মাছ এখন ধরা পড়ছে স্থানীয় জেলেদের জালে। এতে স্থানীয়দের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন: “বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রমটি আমরা কঠোর নজরদারিতে রেখেছি। নিয়মিত পোনা অবমুক্তকরণ এবং অভয়াশ্রমের সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণেই আজ মরা ভদ্রা নদীতে কার্প ও দেশীয় প্রজাতির মাছের এত চমৎকার প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে। মা মাছ রক্ষা ও পোনা নিধন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণ সচেতন হওয়ায় এই উদ্যোগ পুরোপুরি সফল হয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেন: “ডুমুরিয়ার বানিয়াখালীর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে মরা বা বদ্ধপ্রায় জলাশয় থেকেও বিপুল পরিমাণ মৎস্য উৎপাদন সম্ভব। আমরা পুরো জেলা জুড়েই প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার এবং অভয়াশ্রমের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি, যাতে দেশীয় মাছের বিলুপ্তি রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মান্নান গাজী ও রহিমা বেগম জানান, কয়েক বছর আগেও এই নদীতে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যেত না। কিন্তু অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই মাছের আকার ও সংখ্যা বাড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, বানিয়াখালী অভয়াশ্রমটি শুধু মাছের উৎপাদনই বাড়ায়নি, বরং মরা ভদ্রা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন: “বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রমটি ডুমুরিয়ার মৎস্য সম্পদ রক্ষায় একটি রোল মডেল। নদী ও অভয়াশ্রমের সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সবসময় মৎস্য বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ সময়ে যেন কেউ অভয়াশ্রমে মাছ ধরতে না পারে, সেজন্য আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ধারা বজায় রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পেতে পারেন।”
ফাইল ছবি
রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রকল্পের স্থান নির্বাচনও হয়ে গেছে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
মন্ত্রী জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ৯৮ একর জমিতে এবং দেশের রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌর এলাকার ৩৭টি বস্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের উন্নত আবাসন নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে চউকের জমিতে ভাড়াভিত্তিক এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংসদের একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর শাস্তির মেয়াদ, জরিমানা এবং কারাদণ্ড সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন করা হবে।
এদিকে, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা দিতে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই অনিয়ম দূর করতে সারাদেশে প্রকৃত দুস্থদের তালিকাভুক্ত করা এবং ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে একটি শুদ্ধি অভিযান ও ডাটাবেজ যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার জন্য গত ১৯ এপ্রিল একটি পুনঃযাচাই-বাছাই কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, দেশে প্রবীণ জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ৬১ লাখ উপকারভোগী ৬৫০ টাকা হারে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন, যার মোট বরাদ্দ চার হাজার সাতশ ৯১ কোটি ৩১ হাজার টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ভাতা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে উপকারভোগীর সংখ্যা হবে ৬২ লাখ এবং বরাদ্দ থাকবে পাঁচ হাজার দুইশ ৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে ৩০ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীকে ৭০০ টাকা হারে মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ৩৮ লাখ উপকারভোগীর জন্য মোট ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় পাইলটিং হিসেবে এরইমধ্যে তিনটি পর্যায়ে ৬৯ হাজার তিনশ ৮৭ জন নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।
ফাইল ছবি
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২১ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়নের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। এদের মধ্যে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজি), ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি-পদায়ন করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত চারজন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি এবং এনএসআই-এর পরিচালক (ডিআইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনকে সিআইডি’র অতিরিক্ত আইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে পুলিশ টেলিকমের অতিরিক্ত আইজি এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি) ফারুক আহমেদকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি পদে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামানকে র্যাবে, এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) এ কে এম আক্তারুজ্জামানকে পুলিশ অধিদপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) এবং মুক্তাগাছা ২য় এপিবিএন-এর অধিনায়ক মো. কুতুব উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আল মামুনকে মুক্তাগাছা ২য় এপিবিএন-এর অধিনায়ক, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সরকার মোহাম্মদ কায়সারকে বেতবুনিয়া পিএসটিএস-এর কমান্ড্যান্ট এবং এন্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খানকে সারদা বিপিএ-এর অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আব্দুল ওয়ারীশকে রংপুর পিটিসির অতিরিক্ত ডিআইজি এবং কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ডিআইজি পদমর্যাদার চারজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। এপিবিএন-এর ডিআইজি (এফডিএমএন) এর কার্যালয়ের প্রলয় চিসিমকে নোয়াখালী পিটিসির ডিআইজি এবং সিআইডির ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিমকে এপিবিএন-এর ডিআইজি (এফডিএমএন) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণিকে রংপুর পিটিসির ডিআইজি এবং এসবির ডিআইজি একেএম মোশাররফ হোসেন মিয়াজীকে খুলনা পিটিসির ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচজন কর্মকর্তাকে নতুন স্থানে পদায়ন করা হয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীরকে পুলিশ অধিদপ্তরের পুলিশ সুপার এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহিদুর রহমানকে সারদা বিপিএ-এর পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার সালমা সৈয়দ পলি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছেন। সবশেষে, ঝিনাইদহ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মো. শহীদুল ইসলাম এবং পুলিশ টেলিকমের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মন্তব্য