তর্ক বাংলায় সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতা

player
তর্ক বাংলায় সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতা

অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। ছবিটি ফেসবুক থেকে নেয়া।

স্বাস্থ্যবিধি ও জনসচেতনতার জন্য সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতাটি অনলাইনে সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

তর্ক বাংলার প্রথম সাহিত্য বক্তৃতা হবে শুক্রবার।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘মার্কিন প্রাচ্য ব্যবসায় ও বাঙালি মুসলমান’ বিষয়ে বিকেল ৪টায় বক্তৃতা দেবেন লেখক, গণবুদ্ধিজীবী ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।

দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়ার কারণে বক্তৃতাটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।

এটি গত ৭ জানুয়ারি বাংলামোটরের রাহাত টাওয়ারের সপ্তম তলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

স্বাস্থ্যবিধি ও জনসচেতনতার জন্য সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতাটি অনলাইনে সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় রয়েছে বই বিক্রি ও বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘বাছাই বই’।

অনলাইনে বক্তৃতাটি সরাসরি দেখা যাবে তর্ক বাংলার ফেসবুক পেজ, তর্ক বাংলার অফিশিয়াল পেজ, অধ্যাপক সলিমুল্লাহর ফেসবুক পেজ ও তার ইউটিউব পেজে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘মাসুদ রানা’ উপন্যাসের বাকি অংশ শেষ করবেন কাজীদার ছেলে

‘মাসুদ রানা’ উপন্যাসের বাকি অংশ শেষ করবেন কাজীদার ছেলে

তুমুল পাঠকপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা চরিত্র নিয়ে চলছে উপন্যাস লেখার কাজ।

মাসুদ রানা চরিত্রটির কী হবে? বুধবার কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর এ প্রশ্ন এখন অনেকের। প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তার বড় ছেলে।

তুমুল পাঠকপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা চরিত্র নিয়ে উপন্যাস লেখার কাজ শুরু হয়েছে; এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। তবে কাজটি শেষ করে যেতে পারলেন না তিনি।

মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেনের এই উপন্যাসের বাকি অংশ শেষ করবেন তার ছোট ছেলে কাজী মায়মুর হোসেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে বনানী কবরস্তানে কাজী আনোয়ার হোসেনের দাফন শেষে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান তার বড় ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন।

শাহনূর বলেন, ‘মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে একটি উপন্যাস লেখার কাজ চলছে। এ উপন্যাস লেখায় বাবা যুক্ত ছিলেন। এখন এটা আমার ছোট ভাই কাজী মায়মুর হোসেন শেষ করবেন।’

মাসুদ রানা চরিত্রটির কী হবে? বুধবার কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর এ প্রশ্ন এখন অনেকের।

এ ব্যাপারে কাজী আনোয়ার হোসেনের চাচাতো ভাই কাজী রওনাক হোসেন, ছেলে শাহনূর হোসেন এবং পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর হাসান নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন যে, মাসুদ রানা চরিত্রটির ‘ট্রেড মার্ক’ করা আছে।

কাজী রওনাক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চরিত্রটির ট্রেডমার্ক করা আছে। তাই চাইলেই চরিত্রটি নিয়ে কাজী আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে ছাড়া অন্য কারও লেখার সুযোগ নেই।

‘হ্যাঁ, অন্য কেউ মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে লিখতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে নিতে হবে পরিবারের অনুমতি। একই সঙ্গে কেউ যদি মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে সিনেমা বানাতে চান, অনুমতি লাগবে সেক্ষেত্রেও।’

কাজী রওনাক হোসেন বলেন, ‘অনুমতি নেয়ার বিষয়টি তো এতদিন প্রয়োজন হয়নি। যদি কেউ আবেদন করেন, সেক্ষেত্রে পরিবার বিষয়টি ভেবে দেখবে।’

এদিকে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের কপিরাইট অফিসার জাফর রাজা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাসুদ রানা চরিত্রটির কপিরাইট করা নেই। মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে ১১টি পর্ব কাজী আনোয়ার হোসেনের লেখা। সেক্ষেত্রে তিনি চরিত্রটির স্রষ্টা, তিনি যেহেতু আবেদন করেননি, এখন চাইলে তার ছেলেরা সেটা করতে পারবেন।’

জাফর রাজা চৌধুরী জানান, চরিত্রটির ‘ট্রেড মার্ক’ করা থাকতে পারে। তবে মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের উপন্যাস নিয়ে কপিরাইট ইস্যু নিয়ে যে ঝামেলা তৈরি হয়েছিল, সে সময় কাজী আনোয়ার হোসেন বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

কাজী আনোয়ার হোসেন প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন। বুধবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বারডেম হাসপাতালে মারা যান তিনি।

সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসেবে কাজী আনোয়ার হোসেন ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামের স্পাই চরিত্র সৃষ্টি করেন। মাসুদ রানার চরিত্রটি মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রের বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মাসুদ রানা সৃষ্টির কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নেয়। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম দুটি ব্যবহার করতেন। তবে সেবা প্রকাশনীর ভক্ত পাঠকের কাছে তিনি কাজীদা নামেই বেশি পরিচিতি পান।

কাজী আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায়। পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম ‘নবাব’। তার বাবা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মা সাজেদা খাতুন।

বেশ কয়েক বছর রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের সংগীতশিল্পী ছিলেন। ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে।

শেয়ার করুন

কাজীদার শেষ শয্যা বনানীতে

কাজীদার শেষ শয্যা বনানীতে

মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন বলেন, ‘এখন ডেডবডি গোসল করানো হবে এবং রাতে বারডেমের মরচুয়ারিতে মরদেহ রাখা হবে। সকালে নিয়ে যাওয়া হবে সেগুনবাগিচার বাসায়। সেখানে জানাজা শেষে বাদ জোহর বা আসর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। কবরটি হবে কাজী আনোয়ার হোসেনের মায়ের কবরের ওপরে। এটাই তার শেষ ইচ্ছা ছিল।’

তুমুল পাঠকপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেনের দাফন হবে বনানীতে। এর আগ পর্যন্ত তার মরদেহ রাখা হবে শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের মরচুয়ারিতে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘এখন ডেডবডি গোসল করানো হবে এবং রাতে বারডেমের মরচুয়ারিতে মরদেহ রাখা হবে। সকালে নিয়ে যাওয়া হবে সেগুনবাগিচার বাসায়। সেখানে জানাজা শেষে বাদ জোহর বা আসর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। কবরটি হবে কাজী আনোয়ার হোসেনের মায়ের কবরের ওপরে। এটাই তার শেষ ইচ্ছা ছিল।’

একই সিদ্ধান্তের কথা জানান কাজী আনোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুরও। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাদ জোহর বনানীতে তাকে তার মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে। আমার কাছে তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন।’

প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত কাজী আনোয়ার হোসেন ১০ জানুয়ারি থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বুধবার তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

কাজীদার শেষ শয্যা বনানীতে

কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে বুধবার শেষ বিকেলের দিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন মাসুমা মায়মুর। তিনি লেখেন, ‘নিভে গেছে দীপ জনমের তরে জ্বলিবে না সে তো আর। দূর আকাশের তারা হয়ে গেছে আমার ছেলেটা। আমার ছোট্ট ছেলেটা। আর কোনো দিনও আমার পিছু পিছু ঘুরে খুঁজবে না মায়ের গায়ের মিষ্টি গন্ধ। কোনো দিনই না। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকবে কীভাবে, ওই অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেটা?

‘একা-শুধু একা? কী সব বকছি জানি না। আব্বা (কাজী আনোয়ার হোসেন) আর নেই। চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে।’

সেবা প্রকাশনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে তৌফির হাসান উর রাকিব নামে একজন লিখেছেন, ‘যার কাছ থেকে অপরিমেয় ভালোবাসা পেয়েছিলাম এবং যাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে বাধ্য হয়েছিলাম, সেই মানুষটি আর নেই! কাজী আনোয়ার হোসেন আঙ্কেল আর আমাদের মাঝে নেই!

‘মাসুদ রানার স্রষ্টা, এই নশ্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে আমাদের সবাইকে ছেড়ে অনেক দূরে কোথাও চলে গেছেন। আপনারা সবাই তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন, প্লিজ।’

সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসেবে কাজী আনোয়ার হোসেন ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামের স্পাই চরিত্র সৃষ্টি করেন। মাসুদ রানার চরিত্রটি মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রের বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মাসুদ রানা সৃষ্টির কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নেয়। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম দুটি ব্যবহার করতেন। তবে সেবা প্রকাশনীর ভক্ত পাঠকের কাছে তিনি কাজীদা নামেই বেশি পরিচিতি পান।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম ‘নবাব’। তার বাবা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মা সাজেদা খাতুন।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৫২ সালে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ এবং বিএ পাস করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন তিনি।

বেশ কয়েক বছর রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের সংগীতশিল্পী ছিলেন। ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের তিন বোন সনজীদা খাতুন, ফাহমিদা খাতুন ও মাহমুদা খাতুনও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৬৩ সালের মে মাসে বাবার দেয়া ১০ হাজার টাকা নিয়ে সেগুনবাগিচায় প্রেস চালু করেন। দুজন কর্মচারী নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রেসের নাম পরে পাল্টে হয় সেবা প্রকাশনী। সেবা প্রকাশনী বাংলাদেশে পেপারব্যাক বই প্রকাশ, বিশ্ব সাহিত্যের প্রখ্যাত উপন্যাসের অনুবাদ এবং কিশোর সাহিত্যের ধারা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শেয়ার করুন

বিদায় কাজীদা

বিদায় কাজীদা

মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কাজী আনোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘নিভে গেছে দীপ জনমের তরে জ্বলিবে না সে তো আর।- দূর আকাশের তারা হয়ে গেছে আমার ছেলেটা। আমার ছোট্ট ছেলেটা। আর কোনো দিনও আমার পিছু পিছু ঘুরে খুঁজবে না মায়ের গায়ের মিষ্টি গন্ধ। কোনো দিনই না। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকবে কীভাবে, ওই অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেটা?’

পাঠকপ্রিয় থ্রিলার চরিত্র মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন।

তার পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মাসুদ রানার স্রষ্টার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ক্যানসারে আক্রান্ত তার শ্বশুর ১০ জানুয়ারি থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বুধবার তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

স্ট্যাটাসে মাসুমা লিখেছেন, ‘নিভে গেছে দীপ জনমের তরে জ্বলিবে না সে তো আর।- দূর আকাশের তারা হয়ে গেছে আমার ছেলেটা। আমার ছোট্ট ছেলেটা। আর কোনো দিনও আমার পিছু পিছু ঘুরে খুঁজবে না মায়ের গায়ের মিষ্টি গন্ধ। কোনো দিনই না। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকবে কীভাবে, ওই অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেটা?

‘একা-শুধু একা? কী সব বকছি জানি না। আব্বা (কাজী আনোয়ার হোসেন) আর নেই। চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে।’

তিনি জানান, গত অক্টোবর মাসের ৩১ তারিখ প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে আনোয়ার হোসেনের। মাঝে পাঁচবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

মাসুমা লিখেছেন, ‘চিকিৎসার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায়নি। একটা ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক হয়ে সব শেষ হয়ে গেল।’

বিদায় কাজীদা

সেবা প্রকাশনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে তৌফির হাসান উর রাকিব নামে একজন লিখেছেন, ‘যার কাছ থেকে অপরিমেয় ভালোবাসা পেয়েছিলাম এবং যাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে বাধ্য হয়েছিলাম, সেই মানুষটি আর নেই! কাজী আনোয়ার হোসেন আঙ্কেল আর আমাদের মাঝে নেই!

‘মাসুদ রানার স্রষ্টা, এই নশ্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে আমাদের সবাইকে ছেড়ে অনেক দূরে কোথাও চলে গেছেন। আপনারা সবাই তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন, প্লিজ।’

পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার শ্বশুরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাদ জোহর বনানীতে তাকে তার মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে। আমার কাছে তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন।’

সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসেবে কাজী আনোয়ার হোসেন ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামের স্পাই চরিত্র সৃষ্টি করেন। মাসুদ রানার চরিত্রটি মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রের বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মাসুদ রানা সৃষ্টির কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নেয়। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম দুটি ব্যবহার করতেন। তবে সেবা প্রকাশনীর ভক্ত পাঠকের কাছে তিনি কাজীদা নামেই বেশি পরিচিতি পান।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম ‘নবাব’। তার বাবা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মা সাজেদা খাতুন।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৫২ সালে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ এবং বিএ পাস করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন তিনি।

বেশ কয়েক বছর রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের সংগীতশিল্পী ছিলেন। ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের তিন বোন সনজীদা খাতুন, ফাহমিদা খাতুন ও মাহমুদা খাতুনও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৬৩ সালের মে মাসে বাবার দেয়া ১০ হাজার টাকা নিয়ে সেগুনবাগিচায় প্রেস চালু করেন। দুজন কর্মচারী নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রেসের নাম পরে পাল্টে হয় সেবা প্রকাশনী। সেবা প্রকাশনী বাংলাদেশে পেপারব্যাক বই প্রকাশ, বিশ্ব সাহিত্যের প্রখ্যাত উপন্যাসের অনুবাদ এবং কিশোর সাহিত্যের ধারা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শেয়ার করুন

চলে গেলেন বাংলা কমিক্সের জনক

চলে গেলেন বাংলা কমিক্সের জনক

বাংলা কমিক্সের জনক নারায়ণ দেবনাথ। ছবি: সংগৃহীত

সোনার গয়নার ব্যবসা ছিল নারায়ণ দেবনাথের পরিবারের। বাংলাদেশের বিক্রমপুর থেকে তার পরিবার পাকাপাকিভাবে হাওড়া যায়। ছোটবেলা থেকেই তার আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল।

ভারতের কিংবদন্তি কার্টুনিস্ট, বাংলা কমিক্স সাহিত্যের জনক, বাটুল দ্য গ্রেট, নন্টে ফন্টের স্রষ্টা নারায়ণ দেবনাথ মারা গেছেন।

কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোম হাসপাতালে মঙ্গলবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর থেকে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার ভুগছিলেন। তখন থেকেই এই বর্ষীয়ান শিল্পী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

গত রোববার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে দেয়া হয়। সোমবার তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়, মঙ্গলবার সকালে আবার তার অবস্থার অবনতি হয়ে সকাল সোয়া ১০ নাগাদ তার মৃত্যু হয়।

বাংলা কমিক্স সাহিত্যের জনক নারায়ণ দেবনাথ ১৯২৫ সালের ২৫ নভেম্বর হাওড়ার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

সোনার গয়নার ব্যবসা ছিল নারায়ণ দেবনাথের পরিবারের। বাংলাদেশের বিক্রমপুর থেকে তার পরিবার পাকাপাকিভাবে হাওড়া যায়। ছোটবেলা থেকেই তার আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল।

নারায়ণ দেবনাথ তাদের পারিবারিক ব্যবসা গয়নার নকশা বানাতেন ছোট থেকেই। স্কুল শেষে তিনি ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজে ফাইন আর্টস নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। তিনি সে সময় তার ডিগ্রি কোর্স অসম্পূর্ণ রেখে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ শুরু করেন।

১৯৬২ সালে দেব সাহিত্য কুটিরের শুকতারা পত্রিকায় বাংলা কমিক্স সাহিত্য নারায়ণ দেবনাথের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করে ‘হাঁদা ভোঁদা’ নামে। টানা ৫৩ বছর ধারাবাহিকভাবে চলেছে এই কমিক্স স্ট্রিপ।

‘হাঁদা ভোঁদা’ ছিল সাদা কালো, কিন্তু ১৯৬৫ সালে শুকতারার পাতায় এলো রঙিন বাংলা কমিক্স স্ট্রিপ ‘বাটুল দ্য গ্রেট’। একে একে এসেছে নন্টে ফন্টে, বাহাদুর বেড়াল এবং অন্য সব বিখ্যাত চরিত্ররা। যারা কয়েক প্রজন্মের বাঙালির জীবনের সঙ্গে মননের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন প্রবাদপ্রতিম কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ। ২০০৭ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। ২০১৩ সালে বঙ্গ বিভূষণ পুরস্কার, ২০১৫ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট উপাধি দেয়। ২০২১ সালে শিল্পীকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার।

তার প্রয়াণে দেব সাহিত্য কুটিরের কর্ণধার রূপা মজুমদার বলেন, ‘তার সৃষ্টির জন্য আপামর বাঙালি তাকে চিরকাল মনে রাখবে। হাঁদা ভোঁদা, নন্টে ফন্টে, বাটুল দি গ্রেট, বাহাদুর বেড়াল, এদের বাঙালির সংস্কৃতি থেকে আলাদা করা যাবে না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাটুল দি গ্রেট আবাল বৃদ্ধবনিতাকে মানসিকভাবে চাঙা করে দিয়েছিল। নারায়ণ দেবনাথ বাঙালির মনের মণিকোঠায় থেকে যাবেন।’

শেয়ার করুন

আবার করোনা আক্রান্ত আসাদুজ্জামান নূর

আবার করোনা আক্রান্ত আসাদুজ্জামান নূর

আসাদুজ্জামান নূর। ছবি: সংগৃহীত

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘গতকাল (রোববার) তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আজ বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে আবার চেকআপের জন্য গিয়েছেন।’

দ্বিতীয়বারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

তিনি জানান, রোববার নূরের করোনা পরীক্ষা ফল পজিটিভ আসে।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘গতকাল (রোববার) তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আজ বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে আবার চেকআপের জন্য গিয়েছেন।’

সেখানে ভর্তি হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা পরে জানা যাবে। ডাক্তার কী বলে সেটার ওপর নির্ভর করছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।’

এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। সে সময় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

শেয়ার করুন

কত্থক পণ্ডিত বিরজু মহারাজের প্রয়াণ

কত্থক পণ্ডিত বিরজু মহারাজের প্রয়াণ

ভারতের কিংবদন্তী নৃত্যশিল্পী বিরজু মহারাজ। ছবি: সংগৃহীত

শাস্ত্রীয় সংগীতের একাধিক ধারার সঙ্গে যেমন যুক্ত ছিলেন বিরজু মহারাজ, সঙ্গে করেছেন অনেক সিনেমায় কোরিওগ্রাফারের কাজও। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্তর দশকের মাঝামাঝি সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’র কোরিওগ্রাফি।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভারতের শাস্ত্রীয় নৃত্য কত্থকের কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী পণ্ডিত বিরজু মহারাজের মৃত্যু হয়েছে।

দিল্লিতে রোববার রাতে তিনি নাতির সঙ্গে খেলা করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিরজু মহারাজের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বিরজু মহারাজ একাধারে নাচ, তবলা ও কণ্ঠসংগীতে সমান পারদর্শী ছিলেন। এমনকি তিনি ছবিও আঁকতেন।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বিরজু মহারাজ ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণ পেয়েছিলেন। তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন পণ্ডিতজি ও মহারাজজি হিসেবে।

কিছুদিন যাবৎ বিরজু মহারাজ কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। তার ডায়ালাইসিস চলছিল।

বিরজু মহারাজ ভারতের লক্ষ্নৌর মহারাজ পরিবারের সন্তান। তার বাবা অচ্চন মহারাজই ছিলেন তার গুরু। আর তার দুই চাচা শম্ভু মহারাজ এবং লচ্চু মহারাজও ছিলেন কত্থক নাচের প্রখ্যাত শিল্পী।

ভারতের প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতের পণ্ডিত রবিশঙ্কর বিরজুর নাচ দেখে বলেছিলেন, ‘তুমি তো লয়ের পুতুল।’

শাস্ত্রীয় সংগীতের একাধিক ধারার সঙ্গে যেমন যুক্ত ছিলেন বিরজু মহারাজ, সঙ্গে করেছেন অনেক সিনেমায় কোরিওগ্রাফারের কাজও। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্তর দশকের মাঝামাঝি সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’র কোরিওগ্রাফি।

সিনেমাটিতে দুটি গানের কোরিওগ্রাফি করেন বিরজু মহারাজ। তার মধ্যে একটা ছিল ‘কানহা মে তোসে হারি’।

তিনি গেয়েছেন ঠুমরি, দাদরা, ভজন, গজলের মতো গানও।

বিরজু মহারাজের দেশ-বিদেশে অসংখ্য শিক্ষার্থী রয়েছেন।

১৯৩৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিরজু মহারাজের জন্ম হয় ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসিতে।

শেয়ার করুন

এবারের বইমেলা শুরু ১৫ ফেব্রুয়ারি

এবারের বইমেলা শুরু ১৫ ফেব্রুয়ারি

অমর একুশে বইমেলার গতবারের প্রস্তুতিপর্বের চিত্র। ফাইল ছবি

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি জানি দুই সপ্তাহ পিছিয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হবে।’

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এবার দুই সপ্তাহ পিছিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি দুই সপ্তাহ পিছিয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হবে, তবে আমাদের কাছে এখনও মন্ত্রণালয় (সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়) থেকে অফিশিয়ালি চিঠি আসেনি।’

মেলা শুরুর সময় কেন পেছানো হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণেই।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।

নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর পয়লা ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা শুরু হয়, তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছর দেড় মাসেরও বেশি পিছিয়ে ১৮ মার্চ শুরু হয়েছিল মেলা।

শেয়ার করুন