বঙ্গ বিডিতে ডয়চে ভেলের সিরিজ ‘এশিয়ার নারীরা’

player
বঙ্গ বিডিতে ডয়চে ভেলের সিরিজ ‘এশিয়ার নারীরা’

‘এশিয়ার নারীরা’ সিরিজের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তাইওয়ানের নারীরা নিজেদের জীবনের নানা দিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন সিরিজে। অনলাইন ডেটিং, সৌন্দর্য, কর্মজীবন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং বিয়েসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো কীভাবে এশিয়ার নারীরা দেখছেন, তা পর্বগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলের নারীবিষয়ক পরিবেশনা ‘এশিয়ার নারীরা’ প্রচার হছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ বিডিতে।

এশিয়ার নারীদের অনুপ্রেরণামূলক বাস্তব জীবনের গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এ সিরিজ। ৬ পর্বের সিরিজের প্রতি পর্বের ব্যাপ্তি ১৫ মিনিট।

ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তাইওয়ানের নারীরা নিজেদের জীবনের নানা দিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন সিরিজে।

অনলাইন ডেটিং, সৌন্দর্য, কর্মজীবন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং বিয়েসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো কীভাবে এশিয়ার নারীরা দেখছেন, তা পর্বগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

এশিয়ায় ডয়চে ভেলের বিভিন্ন পার্টনারের (যেমন: ভারতে স্ক্রল মিডিয়া, পাকিস্তানের ডন মিডিয়া গ্রুপ এবং মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পিআইকে ফিল্ম) যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ সিরিজটি ২০টি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেখানো হচ্ছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডয়চে ভেলের এশিয়া শাখার বিতরণ ব্যবস্থাপক ম্যাক্সিমিলিয়ান পিকার্ট বলেন, ‘সামাজিক বৈচিত্র্য ও বহুমুখিতাকে উৎসাহ দেয়, এমন বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করি। আমরা নারীর ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, পরিবেশ-প্রযুক্তিসহ নানা বিষয় সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

ডয়চে ভেলের বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিতরণ প্রতিনিধি জয়া ওবেরয় বলেন, “নারীবিষয়ক সিরিজ ‘এশিয়ার নারীরা’র মাধ্যমে আমরা এশিয়ার সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীদের গল্প তুলে ধরেছি। এ সিরিজটি নারীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়কে তুলে ধরেছে।”

বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের বিতরণ প্রতিনিধি নাজিয়া আদনিন বলেন, “‘এশিয়ার নারীরা’ সিরিজটিতে এশিয়ার নারীদের অসাধারণ সব গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।অনুপ্রেরণাদায়ক গল্পগুলো নারীদের জীবন সংগ্রামের না বলা কথাগুলো পাঠকের সামনে মেলে ধরেছে। সিরিজটি বঙ্গ বিডিতে প্রচার করতে পেরে আমরা আনন্দিত। কারণ বঙ্গ বিডিই হলো বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত পৌঁছানোর সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম।”

ইংরেজিতে নির্মিত সিরিজটি বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য অনুবাদ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডয়চে ভেলে সিরিজের দ্বিতীয় সিজন চলতি বছরের শুরুতেই প্রচারের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় সিজনে এশিয়ার তিন দেশ থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও হংকংয়ের নারীদের গল্প বলার পরিকল্পনা রয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নাট্যকর্মীদের প্রতি রামেন্দুর খোলা চিঠি

নাট্যকর্মীদের প্রতি রামেন্দুর খোলা চিঠি

নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

নিউজবাংলাকে রামেন্দু মজুমদার লিখেছেন, ‘এখন নাটক নয়, তথাকথিত ক্ষমতার রাজনীতিই প্রধান হয়ে উঠেছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো ফেডারেশনের নির্বাচনে প্রার্থীরা দেশব্যাপী ঘুরে প্রচার চালান। প্রতিনিধিরা ঢাকায় এলে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। কেবল ভোটের আশায়। কী এমন মধু আছে ফেডারেশনে আমি বুঝতে পারি না।’

টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদকে শনিবার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এমন খবরে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন দেশের বরেণ্য নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। এ বিষয়ের উল্লেখ করে রোববার তিনি একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। তা প্রকাশ পেয়েছে থিয়েটার বিষয়ক পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’-এর ফেসবুক পেজে।

খোলা চিঠিতে রামেন্দু লেখেন-

প্রিয় স্বজন,

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যা ঘটছে, তা জানতে পেরে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। অনেকেই আমাকে টেলিফোন করে এ অবস্থার নিরসনে ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেছেন। সেই প্রেক্ষিতে আমি সংবাদপত্রে প্রকাশ করে জনসমক্ষে আমাদের নিজেদের অনাকাঙ্ক্ষিত চেহারাটা তুলে না ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় আপনাদের কাছে আমার ব্যক্তিগত মতামত ব্যক্ত করছি।

দীর্ঘদিন ধরেই আমি ফেডারেশনের ব্যাপারে নির্লিপ্ত। থিয়েটার পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে ১৯৮০ সালে আমার আহ্বানে নাট্যকর্মীরা সভায় মিলিত হয়ে ফেভারেশন গঠনে একমত হন এবং আমি প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। তাই সংকটকালে একটা দায়িত্ববোধ অনুভব করছি।

আমরা প্রতিষ্ঠাকালে যে ফেডারেশনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, আজকের পরিস্থিতি আমাদের কল্পনারও অতীত ছিল। অনেক কষ্ট করে সব মত ও পথের মানুষকে ফেডারেশনের পতাকাতলে এক করে সংগঠনকে নাট্যকর্মীদের একটি বিশাল শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। কোনো সরকারি আর্থিক অনুদান ছাড়া নিজেরা পরিশ্রম করে বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন ফেডারেশনের কাজকর্ম চালিয়েছি। আমরা সমবয়সী হলেও একে অন্যের সিদ্ধান্ত মেনে চলেছি, অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করেছি।

এখন দেখছি- নাটক নয়, তথাকথিত ক্ষমতার রাজনীতিই প্রধান হয়ে উঠেছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো ফেডারেশনের নির্বাচনে প্রার্থীরা দেশব্যাপী ঘুরে প্রচার চালান। প্রতিনিধিরা ঢাকায় এলে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। কেবল ভোটের আশায়। কী এমন মধু আছে ফেডারেশনে আমি বুঝতে পারি না।

বর্তমানে ফেডারেশনের কর্তা ব্যক্তিদের এই বিরোধ জনসমক্ষে নাট্যকর্মীদের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে কালিমালিপ্ত করেছে। এর দায় নাট্যকর্মীরা কেন নেবেন? তারা সুন্দর পরিবেশে নাটক করতে চান, নোংরা রাজনীতি চান না।

এমন অবস্থায় আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সব কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হোক। এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখা হোক। গঠনতান্ত্রিক উপায়ে কাজটি করার জন্য ফেডারেশনের একটি জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করে এসব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমান নির্বাহী ও কেন্দ্রীয় পরিষদ বাতিল করে ৭/৮ জনের একটি অ্যাডহক কমিটি করে দেয়া যেতে পারে, যারা বেশ কিছুদিন পর পরিস্থিতি শীতল হলে ফেডারেশনকে ঢেলে সাজিয়ে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করবেন।

আবারও বলছি, এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মত। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ফেডারেশনের সাধারণ সদস্যদের। আমরা কোনোভাবেই চাই না নাট্যকর্মীদের এমন একটি প্রতিষ্ঠান নষ্ট হয়ে যাক।

আসুন সবাই নিজ নিজ দলের নাট্যকর্মে মনোযোগ দেই। কারণ আমাদের প্রধান কাজ নাটক করা, নাটক নিয়ে রাজনীতি করা নয়। অতিমারিকালে সব সতর্কতা অবলম্বন করবেন। আপনাদের সবার মঙ্গল কামনা করি।

প্রীতি ও শুভেচ্ছান্তে,

রামেন্দু মজুমদার

শেয়ার করুন

সিনেমা হল নির্মাণে স্বল্প সুদে ঋণ দেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

সিনেমা হল নির্মাণে স্বল্প সুদে ঋণ দেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

রোববার জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রীসহ অতিথি ও আয়োজকরা। ছবি: নিউজবাংলা

২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতের ‘কুজহানগাল’ সেরা চলচ্চিত্র, ফিনল্যান্ডের ‘দ্য আদার সাইড অব দি রিভার’ সেরা প্রামাণ্যচিত্র, ফ্রান্সের ‘আ সামার প্লেস’ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য ও নারীনির্মাতা বিভাগে ইরানের ‘সাহারবানু’ সেরা ফিচার ফিল্মের পুরস্কার পায়। দর্শক পছন্দে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের ‘চন্দ্রাবতী কথা’ ও ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’। আর বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে ‘আজব কারখানা’।

সারাদেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলো পুনরায় চালু, পুরনো হলগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং নতুন হল নির্মাণে স্বল্প সুদে ঋণ দেবে সরকার৷ এ জন্য সরকার এক হাজার কোটি টাকার তবহিল গঠন করেছে।

রোববার রাজধানীতে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ১৫ জানুয়ারি প্রায় ৭০টি দেশের ২২৫টি সিনেমা নিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসবে জাতীয় জাদুঘর, গণগ্রন্থাগার, অলিয়ঁস ফ্রসেজসহ কয়েকটি স্থানে চলচ্চিত্র দেখানো হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার বিতরণ করেন মন্ত্রী ড. হাছান।

ভারতের ‘কুজহানগাল’ সেরা চলচ্চিত্র, ফিনল্যান্ডের ‘দ্য আদার সাইড অব দি রিভার’ সেরা প্রামাণ্যচিত্র, ফ্রান্সের ‘আ সামার প্লেস’ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য ও নারীনির্মাতা বিভাগে ইরানের ‘সাহারবানু’ সেরা ফিচার ফিল্মের পুরস্কার পায়। দর্শক পছন্দে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের ‘চন্দ্রাবতী কথা’ ও ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’। আর বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে ‘আজব কারখানা’।

তথ্যমন্ত্রী জানান, ‘সিনেমা হল নির্মাণ, পুরনো হল চালু কিংবা আধুনিকায়নে এমনকি মার্কেটের সঙ্গে সিনেপ্লেক্স নির্মাণেও মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫ শতাংশ হারে ব্যাংককে লভ্যাংশ দিয়ে একজন উদ্যোক্তা দশ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

‘এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলচ্চিত্র শিল্প যাতে ঘুরে দাঁড়ায় এবং বাংলা চলচ্চিত্র যেন বিশ্বময় জায়গা করে নিতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি।

‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণে বার্ষিক অনুদানের সংখ্যা ও পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আশা করি এসব উদ্যোগ আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য সুদিন বয়ে আনবে।’

অনুষ্ঠানে সুন্দর দেশ, সমাজ ও পৃথিবী গড়তে চলচ্চিত্র অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘এদেশের কালজয়ী চলচ্চিত্রগুলো আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনে, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীনতা-উত্তরকালে দেশ গঠনে ভূমিকা রেখেছে। একইসঙ্গে অনেক বিষয় যা সমাজ ও সমাজপতিরা ভাবে না, সেগুলোও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উঠে আসে, সমাজকে পথ দেখায়।’

উৎসবের মূল আয়োজক রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির বোর্ড সদস্য মফিদুল হকের সভাপতিত্বে ও উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামালের পরিচালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ও ঢাকা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল।

শেয়ার করুন

সারোগেসি: তসলিমার একের পর এক মন্তব্যের লক্ষ্য প্রিয়াঙ্কা?

সারোগেসি: তসলিমার একের পর এক মন্তব্যের লক্ষ্য প্রিয়াঙ্কা?

ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে কঠোর সমালোচনা করে দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা নাসরিন।

গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

গর্ভ ভাড়া নিয়ে সন্তানের জন্ম বা সারোগেসি নিয়ে এক উক্তি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন। এই সমালোচনার জবাবে তিনি আবার বলেছেন, তিনি পদ্ধতি নয় প্রথার বিরুদ্ধে।

সারোগেসির বিজ্ঞানের চমৎকার একটি আবিষ্কার উল্লেখ করে এই প্রথার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তসলিমা। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘এই প্রথার (সারোগেসি) মাধ্যমে সন্তানদানের প্রক্রিয়া ততদিন টিকে থাকবে, যতদিন সমাজে দারিদ্র্য টিকে থাকবে।’

শনিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন এ লেখিকা।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে এই দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা।

তাদের নাম উল্লেখ না করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু তারকা দম্পতিকে উদ্দেশ করেই এমন মন্তব্য তসলিমার।

তসলিমা লেখেন, ‘দারিদ্র্য নেই তো সারোগেসি নেই। দরিদ্র মেয়েদের জরায়ু টাকার বিনিময়ে নয় মাসের জন্য ভাড়া নেয় ধনীরা। ধনী মেয়েরা কিন্তু তাদের জরায়ু কাউকে ভাড়া দেবে না। কারণ, গর্ভাবস্থায় জীবনের নানা ঝুঁকি থাকে, শিশুর জন্মের সময়ও থাকে ঝুঁকি। দরিদ্র না হলে কেউ এই ঝুঁকি নেয় না।’

ধনী ও ব্যস্ত সেলিব্রেটিদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

টাকার বিনিময়ে নয়, ভালোবেসে যখন সারোগেট মা হবেন তখন এই পদ্ধতিকে সমর্থন করবেন উল্লেখ করে তসলিমা লেখেন, ‘সারোগেসিকে তখন মেনে নেব যখন শুধু দরিদ্র নয়, ধনী মেয়েরাও সারোগেট মা হবে, টাকার বিনিময়ে নয়, সারোগেসিকে ভালোবেসে হবে। ঠিক যেমন বোরখাকে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা ভালোবেসে বোরখা পরবে। মেয়েদের পতিতালয়কে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা নিজেদের পতিত-আলয় গড়ে তুলবে, মুখে মেকআপ করে রাস্তায় ত্রিভঙ্গ দাঁড়িয়ে কুড়ি-পঁচিশ টাকা পেতে নারী-খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করবে।

‘তা না হলে সারোগেসি, বোরখা, পতিতাবৃত্তি রয়ে যাবে নারী এবং দরিদ্রকে এক্সপ্লয়টেশানের প্রতীক হিসেবে।’

সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের নানা প্রতিক্রিয়ার পর তসলিমা আবার টুইট করেন বিষয়টি নিয়ে।

এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘সারোগেসির মাধ্যমে তাদের রেডিমেড বাচ্চা পেলে সেই মায়েরা কেমন অনুভব করেন? যে মায়েরা বাচ্চাদের জন্ম দেয় তাদের প্রতি কি তাদের একই অনুভূতি আছে?’

পরে আবার তিনি লেখেন, ‘আমার সারোগেসি সংক্রান্ত টুইটগুলো সারোগেসি সম্পর্কে আমার বিভিন্ন মতামত। এর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা-নিকের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এই জুটিকে ভালোবাসি।’

শেয়ার করুন

সুর নকল নয়, ‘নয়া নয়া ফুল’-এ সুরের ঐক্য: লাকী

সুর নকল নয়, ‘নয়া নয়া ফুল’-এ সুরের ঐক্য: লাকী

সাবেক ছাত্রনেতা ও অ্যাক্টিভিস্ট লাকী আক্তার। ছবি: নিউজবাংলা কোলাজ

লাকী আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফোক মানে হচ্ছে- মাটির গান। মাটির সঙ্গে আপনি একটা মিল পাবেনই। আর পৃথিবীর ফোক গানগুলোর ক্ষেত্রে আপনি যে অঞ্চলেই যান না কেন- সুরের সঙ্গে ঐক্য বলতে পারেন, সুরের সঙ্গে সুরের আত্মীয়তা বলতে পারেন, সেটা আপনি পাবেনই।’

সাবেক ছাত্রনেতা ও অ্যাক্টিভিস্ট লাকী আক্তারের দ্বিতীয় একক গান ‘নয়া নয়া ফুল’ প্রকাশ পেয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর। গানটি বেশ সাড়া ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে সুর নকলের অভিযোগে কিছু সমালোচনাও রয়েছে।

বলা হচ্ছে ‘নয়া নয়া ফুল’ গানটি তানজানিয়ার সংগীতশিল্পী বি কিদুদ-এর গাওয়া ‘মুহোগো ওয়া জাংওম্বে’ গানের সুর থেকে নেয়া।

রাজনৈতিক কর্মীর পাশাপাশি সংগীত চর্চা এবং ‘নয়া নয়া ফুল’ গানের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিউজবাংলার মুখোমুখি হয়েছেন লাকী।

নতুন প্রকাশিত গানে বিদেশি সুর অনুকরণের অভিযোগের বিষয়ে লাকী আক্তারের পরিষ্কার দাবি, এর কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, ‘আমি খুবই পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, আমি যখন এই গানটা লিখি বা কম্পোজ করি তখন কিন্তু এই গানটি (মুহোগো ওয়া জাংওম্বে) শুনিনি। আমি গানটা শুনেছি অনেক পরে। যখন শুনেছি তখনও কিন্তু মনে হয়নি, আমার গানটার সঙ্গে ওই গানের মিল পেয়েছি।

‘এখন ফোক মানে হচ্ছে- মাটির গান। মাটির সঙ্গে আপনি একটা মিল পাবেনই। আর পৃথিবীর ফোক গানগুলোর ক্ষেত্রে আপনি যে অঞ্চলেই যান না কেন- সুরের সঙ্গে ঐক্য বলতে পারেন, সুরের সঙ্গে সুরের আত্মীয়তা বলতে পারেন, সেটা আপনি পাবেনই।’

পৃথিবীর সব জায়গার ফোক গানের মাঝে একই ধরনের ধাঁচ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ব্লুজের গান শোনেন, বাংলাদেশের ব্লুজ আর আমেরিকার ব্লুজের গান শুনলে আপনার কাছে মনে হবে হ্যাঁ আপনি মিলটা পাচ্ছেন। ফলে এই জায়গা থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে, যারা সমালোচনা করছেন আমি তাদের খুবই সাধুবাদ জানাই, কারণ আমার গান নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।’

তবে এই সমালোচনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও মনে করছেন লাকী।

তিনি বলেন, ‘একটা বিষয় বলতে চাই, আসলে আমার গান নাকি রাজনীতি- কোনটা আসলে তাদের বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে সেটা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। তবে আমি মনে করি যে সুরের সঙ্গে সুরের কোনো বিরোধ নাই, এই জায়গা অনেক ঐক্যের, সংহতির এবং ভালোবাসার। গানের সঙ্গে গানের তো মিল থাকেই। অজস্র গানের সঙ্গে অজস্র গানের মিল আছে, কিন্তু সেটার মানে আমার গানের মৌলিকত্ব হারায় না। এটা আমি খুব কনফিডেন্ট আমার জায়গা থেকে।’

আফ্রিকান গানটির সঙ্গে নিজেও গাওয়া গানের কোথাও কোথাও মিল থাকার বিষয়টি লাকীও অকপটে স্বীকার করছেন।

লাকী বলেন, ‘আমার কাছেও মনে হয়েছে এই গানটার সঙ্গে কিছু কিছু জায়গায় মিল আছে। তাল-লয়ে হয়ত মিল নেই, কিন্তু কিছু জায়গায় মিল আমি নিজেও পেয়েছি। তবে আমি এটুকু বলতে চাই- গান তো আসলে সপ্তসুরের খেলা। আপনি সেই সাত সুরের বাইরে তো যেতে পারবেন না। আর আগেই তো বললাম, ফোকের ধাঁচে-ধরনে এক ধরনের মিল থাকে। ওই জায়গাতে আমার কাছে মনে হয়েছে, একটা সুরের ঐক্য ঘটেছে আমার অবচেতনে। সেটা হতে পারে।’

‘নয়া নয়া ফুল’-এর মিউজিক ভিডিও প্রসঙ্গে লাকী বলেন, ‘ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের টিকইল গ্রামে। এ গ্রামটি আলপনা গ্রাম নামেও পরিচিত। মিউজিক ভিডিও তৈরিতে গ্রামটির সাধারণ মানুষরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা করেছেন।’

গানটির মিউজিক ভিডিওর ডিরেকশন ও সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন জাহিদুল ইসলাম সজীব।

যৌথভাবে ‘নয়া নয়া ফুল’-এর সংগীত আয়োজন করেছেন তরুণ সংগীত পরিচালক অভিজিৎ কুণ্ডু ও অভি চৌধুরী পার্থ। মিক্স-মাস্টারিং ও সাউন্ড ডিজাইনে ছিলেন রেজওয়ান সাজ্জাদ। বাঁশি বাজিয়েছেন অয়ন ইসলাম ওলি, সারেঙ্গীতে ছিলেন শৌনক দেবনাথ ঋক, অ্যাকুস্টিক গিটারে কাইয়ুম রেজা, বেজ গিটারে রেজোয়ান সাজ্জাদ এবং হারমনিয়ামে অভিজিৎ কুণ্ডু।

এ ছাড়া ব্যাঞ্জোতে ফতেহ আলী খান আকাশ, বাংলা ঢোলে ছিলেন সৌরব দাস গুপ্ত, কাহন এবং পার্কেশন বাজিয়েছেন অভি চৌধুরী পার্থ।

সংগীত নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও নিউজবাংলাকে জানান সাবেক ছাত্রনেতা লাকী আক্তার।

তিনি বলেন, ‘গানটা আমি নিয়মিত করে যেতে চাই। লিখতে চাই, সুর করতে চাই। মার্চ মাসে আমার একটি নতুন গান আসছে, সেটার নাম আর্তনাদ। আমি মনে করি এটা একেবারেই একটি রাজনৈতিক গান।’

এই বাইরে বেশ কিছু গানের অনুবাদ করছেন লাকী। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের গান, যেগুলো আমাদের অনুপ্রাণিত করে সেই রকম গানের অনুবাদ করছি। পাকিস্তানি কবি হাবিব জ্বালিবের গজল দাস্তুরের বাংলা অনুবাদ আমরা করেছি। আমাদের ওই গানটি আগামী পহেলা মে চলে আসবে।’

‘নয়া নয়া ফুল’ বাদেও গত বছরের জুলাইয়ে নিজের সুরে ‘গাছেদের কান্না’ শিরোনামে প্রকাশ পায় লাকীর আরও একটি গান।

এছাড়া, একই বছর যৌথ ভাবে লেখক ও সংগীত শিল্পী শতাব্দী ভবর সঙ্গে লাকীর ‘বিপ্লবের ফুল’ শিরোনামের আরও একটি গান প্রকাশ পায়। এটি ইতালির সবচেয়ে বিখ্যাত গানগুলোর একটি ‘বেলা চাও’ এর ভাবান্তর।

শেয়ার করুন

১০১ টাকা দেনমোহরে পরী-রাজের বিয়ে

১০১ টাকা দেনমোহরে পরী-রাজের বিয়ে

হয়ে গেল পরীমনি ও রাজের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ছবি: সংগৃহীত

নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খুবই সুন্দর ও ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। গায়েহলুদের অনুষ্ঠানটাও অনেক সুন্দর ছিল। রাত ১০টার দিকে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এখন ১টার মতো বাজে, অনুষ্ঠান শেষ, এখন ছবি তোলা হচ্ছে।’

অভিনয়শিল্পী দম্পতি পরীমনি ও রাজের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো। শনিবার রাতে পরীর বাসাতেই হয় বিয়ের অনুষ্ঠান।

বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খুবই সুন্দর ও ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। গায়েহলুদের অনুষ্ঠানটাও অনেক সুন্দর ছিল। রাত ১০টার দিকে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এখন ১টার মতো বাজে, অনুষ্ঠান শেষ, এখন ছবি তোলা হচ্ছে।’

১০১ টাকা দেনমোহরে পরী-রাজের বিয়ে
হয়ে গেল পরীমনি ও রাজের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ছবি: সংগৃহীত


চয়নিকা আরও বলেন, ‘ওরা তো নিজেরা বিয়ে করেছিল, তখন ওদের সঙ্গে কেউ ছিল না। এ আয়োজন শুধুই পরিবারের সদস্যদের জন্য।’

বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের সদস্য এবং নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম, চয়নিকা চৌধুরী ও রেদওয়ান রনি।

১০১ টাকা দেনমোহরে পরী-রাজের বিয়ে
হয়ে গেল পরীমনি ও রাজের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ছবি: সংগৃহীত

নায়ক-নায়িকার বিয়ে বলে কথা। কাবিন থেকে শুরু করে খাবারের ব্যাপারেও সবার জানার আগ্রহ।

চয়নিকা জানান, বিয়ের কাবিন হয়েছে ১০১ টাকা। আর খাবারে ছিল মটরশুটি পোলাও, রোস্ট, খাসির রেজালা, গরুর মাংস, মাছ ভাজাসহ আরও কিছু।

১০১ টাকা দেনমোহরে পরী-রাজের বিয়ে
বিয়ের অনুষ্ঠানে পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে শুক্রবার রাতে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান করেন এই অভিনয়শিল্পী। পরীমনির বাসাতেই হয় এই আয়োজন। এতে উপস্থিত ছিলেন পরীমনি ও রাজের মিডিয়ার বন্ধুরা। দুই পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন আয়োজনে।

১০১ টাকা দেনমোহরে পরী-রাজের বিয়ে
হয়ে গেল পরীমনি ও রাজের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ছবি: সংগৃহীত

এদিন নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম নিউজবাংলাকে জানান, শনিবার রাতে পরী ও রাজের বিয়ের আয়োজন রয়েছে। মূলত সবাইকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকতা করতে এবং পরিবারের মানুষের পরিচয় করাতেই এ আয়োজন বলে জানান সেলিম।

শেয়ার করুন

অনন্যাকে নিয়ে আবেগপ্রবণ দীপিকা

অনন্যাকে নিয়ে আবেগপ্রবণ দীপিকা

বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাডুকোন ও অনন্যা পান্ডে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

‘গেহরাইয়া’তে কাজ করতে গিয়ে সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী তার সারা জীবনের মতো বন্ধু হয়ে গেছে বলে জানান দীপিকা। তবে অভিনেত্রী সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন অনন্যা পান্ডে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে।

এই মুহূর্তে জোর আলোচনা চলছে দীপিকা পাডুকোনের আসন্ন সিনেমা গেহরাইয়া নিয়ে। আগামী মাসেই মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে এর ট্রেলার। ত্রিকোণ প্রেম ও পরকীয়া নিয়ে সম্পর্কের জটিল ধাঁধার ইঙ্গিত মিলেছে এতে। বোঝা যায়, সিনেমায় দীপিকার চরিত্র প্রেম, ক্ষতি ও যন্ত্রণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এতে অভিনেতা সিদ্ধান্ত চতুর্বেদীর সঙ্গে দীপিকার অন্তরঙ্গ দৃশ্য ও রসায়ন নজর কেড়েছে দর্শকদের।

সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। এই সিনেমায় কার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন, সে কথাই দীপিকাকে বলতে শোনা যায় ওই ভিডিওতে।

এ নিয়ে ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী সম্পর্কে বলতে গিয়ে দীপিকা জানিয়েছেন অভিনেতার কাজের খুব ভক্ত তিনি।

অনন্যাকে নিয়ে আবেগপ্রবণ দীপিকা
‘গেহরাইয়া’র শুটিংয়ে দীপিকা ও সিদ্ধান্ত। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

সিদ্ধান্তকে নিয়ে দীপিকা বলেন, ‘সে নিজেকে কীভাবে বদলিয়েছে, তা এ সিনেমাটি দেখলে বোঝা যায়। আগামী দিনে সে অনেক দূর যাবে। এ সিনেমাটি করতে গিয়ে আমরা সারা জীবনের মতো বন্ধু হয়ে গেছি।’

তবে দীপিকা সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন অনন্যা পান্ডে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে। এই সিনেমায় তার তুতো বোন হিসেবে দেখা যায় অনন্যাকে।

অনন্যাকে নিয়ে আবেগপ্রবণ দীপিকা
‘গেহরাইয়া’র শুটিংয়ে দীপিকা ও অনন্যা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

অনন্যার চিন্তাভাবনা তাকে মুগ্ধ করেছে উল্লেখ করে দীপিকা বলেন, ‘অনন্যা একেবারে আমার বোনের মতো হয়ে গেছে।’

শাকুন বাত্রা পরিচালিত গেহরাইয়াতে আরও অভিনয় করেছেন নাসিরউদ্দিন শাহ, ধৈর্য কারওয়া, রজত কাপুরসহ অনেকে। ১১ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

শেয়ার করুন

উল্টোপথে শোয়ার্জনেগারের গাড়ি, সংঘর্ষে আহত নারী

উল্টোপথে শোয়ার্জনেগারের গাড়ি, সংঘর্ষে আহত নারী

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের গাড়ি ধাক্কা দেয় অন্য আরেকটি গাড়িকে। ছবি: টিএমজেড

পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাফিক সংকেত না মেনে উল্টো দিকে মোড় নিতে চাইছিলেন আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। আর এতেই ঘটে দুর্ঘটনা।

ট্রাফিক সংকেত না মেনে এক গাড়িকে ধাক্কা দিয়েছে হলিউড অভিনেতা ও ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের গাড়ি। এ সময় তিনিই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনায় এক নারী আহত হয়েছেন, সুস্থ আছেন ‘টার্মিনেটর’ তারকা।

টিএমজেডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ কর্মকর্তা ড্রেক ম্যাডিসন বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে হাইওয়েতে শোয়ার্জনেগারের এসইউভি গাড়ি অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা মারে। এ সময় তার গাড়িটি সামনের গাড়ির ওপর উঠে যায়। পেছনে থাকা গাড়িগুলোও একে অন্যকে ধাক্কা দেয়।’

এ দুর্ঘটনার জন্য শোয়ার্জনেগারকেই দায়ী ভাবছে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাফিক সংকেত না মেনে উল্টো দিকে মোড় নিতে চাইছিলেন ‘টার্মিনেটর’ তারকা। আর এতেই ঘটে দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টিএমজেডের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, শোয়ার্জনেগারের এসইউভি গাড়িটির সামনের অংশ লাল টয়োটার ওপরে উঠে গেছে।

এ সময় উল্টো দিকের গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক নারী আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনাটি অনেকটা হলিউড সিনেমার স্টান্টের মতো ছিল।

শোয়ার্জনেগারের প্রতিনিধি টিএমজেডকে জানান, অভিনেতা সুস্থ আছেন। আহত নারীর ব্যাপারে তিনি উদ্বিগ্ন।

শেয়ার করুন