হাশেম উৎসবে পদক পেলেন দুই শিল্পী

player
হাশেম উৎসবে পদক পেলেন দুই শিল্পী

হাশেম উৎসব উদ্বোধন করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে গুণীজন পদক ছাড়াও শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ জনকল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য ফাউন্ডেশনের জুরি বোর্ড মনোনীত ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের জনক অধ্যাপক মোহাম্মদ হাশেমের ৭৫তম জন্মজয়ন্তীতে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হাশেম উৎসব’।

এই উৎসবে বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হাসান মতিউর রহমান এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালক ও ছায়ানটের শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র শীলকে ‘মোহাম্মদ হাশেম পদক-২০২২’ প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে গুণীজন পদক ছাড়াও শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ জনকল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য ফাউন্ডেশনের জুরি বোর্ড মনোনীত ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

গুনিজনদের হাতে পদক তুলে দেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. দিদার-উল আলম।

এর আগে বিকাল পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে ‘গণমানুষের শিল্পী মোহাম্মদ হাশেম’ শিরোনামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপাচার্য প্রফেসর ড. দিদার-উল আলম। এতে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানছুরুল হক খসরু।

এবার উন্মুক্ত পরিবেশে সকাল সাড়ে ৯টায় হাশেম উৎসব উদ্বোধন করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। সকাল ১০টায় শুরু হয় মোহাম্মদ হাশেমের গানের প্রতিযোগিতা। দুপুর দেড়টায় শিল্পীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে বিকাল ৩টায় শোভাযাত্রা বের করা হয়।

উৎসব ঘিরে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে বসেছিল শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিসহ গণমানুষের মিলন মেলা। ছিল দিনব্যাপী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।

সন্ধ্যায় একই মঞ্চে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা। রাত ৮টায় হাশেমের সৃষ্টি ও বর্নাঢ্য জীবনের ওপর সাজ্জাদ রাহমান ও সানজিদা সুলতানা নির্মিত আলাদা দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর পরপরই সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

নোয়াখালীর প্রধান সংগীত খ্যাত ‘আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী, রয়্যাল ডিস্ট্রিক ভাই/হেনী মাইজদী চৌমুহনীর নাম কে হুনে নাই’ সহ হাজারও গানের গীতিকার ও সুরকার মোহাম্মদ হাশেমের জন্ম ১৯৪৭ সালের ১০ জানুয়ারি। সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে তার বাড়ি।

২০২০ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মোহাম্মদ হাশেম। মাইজদী শহরের বড় দিঘির উত্তর পাড়ে কোর্ট মসজিদের পাশে তিনি সমাহিত।

আরও পড়ুন:
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব
‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমার ঢাকা প্রিমিয়ারে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নায়করাজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ফিল্ম মিউজিয়ামে

নায়করাজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ফিল্ম মিউজিয়ামে

নায়করাজ রাজ্জাকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র রোববার বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের কাাছে হস্তান্তর করেন সম্রাট। ছবি: নিউজবাংলা

প্রয়াত রাজ্জাকের ব্যবহৃত ব্লেজার, চশমা, পাঞ্জাবি ও ক্যাপ হস্তান্তর করেন সম্রাট। এগুলো গ্রহণ করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. নিজামূল কবীর।

বাংলা চলচ্চিত্রের নায়করাজ রাজ্জাকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

নায়করাজ রাজ্জাকের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে রোববার তার ছোট ছেলে অভিনেতা সম্রাট পরিবারের পক্ষ থেকে এসব জিনিসপত্র মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। ফিল্ম আর্কাইভের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রয়াত রাজ্জাকের ব্যবহৃত ব্লেজার, চশমা, পাঞ্জাবি ও ক্যাপ হস্তান্তর করেন সম্রাট। এগুলো গ্রহণ করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. নিজামূল কবীর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ড. মোফাকখারুল ইকবাল, সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান, ফিল্ম অফিসার মো. ফখরুল আলম, গবেষক ও লেখক মীর শামসুল আলম বাবুসহ আরও অনেকে।

১৯৪২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন নায়করাজ রাজ্জাক। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ চলচ্চিত্রের মতো জনসংস্কৃতির সংরক্ষণের পাশাপাশি চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ক্যামেরা, সম্পাদনা মেশিন, সাউন্ড ফলোয়ার, স্টুডিওতে ব্যবহৃত সাউন্ডের যন্ত্রপাতি, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের ব্যবহৃত নানা ধরনের সামগ্রী ফিল্ম মিউজিয়ামে সংরক্ষণের জন্য সংগ্রহ করছে।

২০২০ সালে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের দ্বিতীয় তলায় ফিল্ম মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম, শ্রুতি রেকডিং স্টুডিও, চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রগ্রাহক এম এ সামাদ, সালাউদ্দিন, অভিনেত্রী সুলতানা জামান, চলচ্চিত্র পরিচালক-প্রযোজক চাষী নজরুল ইসলাম, অভিনেতা আজিম, অভিনেত্রী সুজাতাসহ চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব
‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমার ঢাকা প্রিমিয়ারে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

শেয়ার করুন

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ১৫ জন

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ১৫ জন

বাংলা একাডেমি। ফাইল ছবি

বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২২-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ১৫ জনকে এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা একাডেমি ২০২১ সালের জন্য পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন কবিতায় আসাদ মান্নান, বিমল গুহ, কথাসাহিত্যে ঝর্ণা রহমান, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রবন্ধ/গবেষণা হোসেনউদ্দীন হোসেন, অনুবাদে আমিনুর রহমান, রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, নাটকে সাধনা আহমেদ, শিশুসাহিত্যে রফিকুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় পান্না কায়সার, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় হারুন-অর-রশিদ, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞান/পরিবেশ বিজ্ঞানে শুভাগত চৌধুরী, আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনিতে সুফিয়া খাতুন, হায়দার আকবর খান রনো ও ফোকলোরে আমিনুর রহমান সুলতান।

বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২২-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পর ১৯৬০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সাহিত্য পুরস্কার দিয়ে আসছে বাংলা একাডেমি।

আরও পড়ুন:
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব
‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমার ঢাকা প্রিমিয়ারে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

শেয়ার করুন

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সম্পাদককে অব্যাহতি

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সম্পাদককে অব্যাহতি

কেন্দ্রীয় পরিষদ সভায় শনিবার কামাল বায়েজীদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

শনিবার রাতে গণমাধ্যমে ফেডারেশানের প্রচার সম্পাদক মাসুদ আলম বাবুর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে গণমাধ্যমে ফেডারেশনের প্রচার সম্পাদক মাসুদ আলম বাবুর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের গত তিন বছরের ব্যয় হওয়া এক কোটি ২৪ লাখ একান্ন হাজার ৩৭৩ টাকার হিসাব দিতে পারেননি কামাল বায়েজীদ। এ ছাড়া জনতা ব্যাংকে সংগঠনের অ্যাকাউন্ট থেকে ২০১৯ সালে নিজের অ্যাকাউন্টে সংগঠনের টাকা স্থানান্তর করেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় পরিষদের ৪১ জন সদস্যের লিখিত ২৯টি অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার কেন্দ্রীয় পরিষদ সভায় উপস্থিত ৪০ জন সদস্যের সম্মতিক্রমে কামাল বায়েজীদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় পরিষদের সভায় আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে সম্পাদক (অর্থ) রফিক উল্লাহ্ সেলিমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ৩০ দিনের মধ্যে সেলিমকে অর্থের যাবতীয় হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলা হলেও তিনি ব্যর্থ হন।

কামাল বায়েজীদের জায়গায় এখন থেকে দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী সম্পাদক চন্দন রেজা এবং অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন আন্তর্জাতিক সম্পাদক চঞ্চল সৈকত।

আরও পড়ুন:
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব
‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমার ঢাকা প্রিমিয়ারে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

শেয়ার করুন

‘মাসুদ রানা’ উপন্যাসের বাকি অংশ শেষ করবেন কাজীদার ছেলে

‘মাসুদ রানা’ উপন্যাসের বাকি অংশ শেষ করবেন কাজীদার ছেলে

তুমুল পাঠকপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা চরিত্র নিয়ে চলছে উপন্যাস লেখার কাজ।

মাসুদ রানা চরিত্রটির কী হবে? বুধবার কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর এ প্রশ্ন এখন অনেকের। প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তার বড় ছেলে।

তুমুল পাঠকপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা চরিত্র নিয়ে উপন্যাস লেখার কাজ শুরু হয়েছে; এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। তবে কাজটি শেষ করে যেতে পারলেন না তিনি।

মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেনের এই উপন্যাসের বাকি অংশ শেষ করবেন তার ছোট ছেলে কাজী মায়মুর হোসেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে বনানী কবরস্তানে কাজী আনোয়ার হোসেনের দাফন শেষে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান তার বড় ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন।

শাহনূর বলেন, ‘মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে একটি উপন্যাস লেখার কাজ চলছে। এ উপন্যাস লেখায় বাবা যুক্ত ছিলেন। এখন এটা আমার ছোট ভাই কাজী মায়মুর হোসেন শেষ করবেন।’

মাসুদ রানা চরিত্রটির কী হবে? বুধবার কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর এ প্রশ্ন এখন অনেকের।

এ ব্যাপারে কাজী আনোয়ার হোসেনের চাচাতো ভাই কাজী রওনাক হোসেন, ছেলে শাহনূর হোসেন এবং পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর হাসান নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন যে, মাসুদ রানা চরিত্রটির ‘ট্রেড মার্ক’ করা আছে।

কাজী রওনাক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চরিত্রটির ট্রেডমার্ক করা আছে। তাই চাইলেই চরিত্রটি নিয়ে কাজী আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে ছাড়া অন্য কারও লেখার সুযোগ নেই।

‘হ্যাঁ, অন্য কেউ মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে লিখতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে নিতে হবে পরিবারের অনুমতি। একই সঙ্গে কেউ যদি মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে সিনেমা বানাতে চান, অনুমতি লাগবে সেক্ষেত্রেও।’

কাজী রওনাক হোসেন বলেন, ‘অনুমতি নেয়ার বিষয়টি তো এতদিন প্রয়োজন হয়নি। যদি কেউ আবেদন করেন, সেক্ষেত্রে পরিবার বিষয়টি ভেবে দেখবে।’

এদিকে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের কপিরাইট অফিসার জাফর রাজা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাসুদ রানা চরিত্রটির কপিরাইট করা নেই। মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে ১১টি পর্ব কাজী আনোয়ার হোসেনের লেখা। সেক্ষেত্রে তিনি চরিত্রটির স্রষ্টা, তিনি যেহেতু আবেদন করেননি, এখন চাইলে তার ছেলেরা সেটা করতে পারবেন।’

জাফর রাজা চৌধুরী জানান, চরিত্রটির ‘ট্রেড মার্ক’ করা থাকতে পারে। তবে মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের উপন্যাস নিয়ে কপিরাইট ইস্যু নিয়ে যে ঝামেলা তৈরি হয়েছিল, সে সময় কাজী আনোয়ার হোসেন বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

কাজী আনোয়ার হোসেন প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন। বুধবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বারডেম হাসপাতালে মারা যান তিনি।

সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসেবে কাজী আনোয়ার হোসেন ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামের স্পাই চরিত্র সৃষ্টি করেন। মাসুদ রানার চরিত্রটি মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রের বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মাসুদ রানা সৃষ্টির কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নেয়। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম দুটি ব্যবহার করতেন। তবে সেবা প্রকাশনীর ভক্ত পাঠকের কাছে তিনি কাজীদা নামেই বেশি পরিচিতি পান।

কাজী আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায়। পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম ‘নবাব’। তার বাবা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মা সাজেদা খাতুন।

বেশ কয়েক বছর রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের সংগীতশিল্পী ছিলেন। ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে।

আরও পড়ুন:
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব
‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমার ঢাকা প্রিমিয়ারে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

শেয়ার করুন

কাজীদার শেষ শয্যা বনানীতে

কাজীদার শেষ শয্যা বনানীতে

মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন বলেন, ‘এখন ডেডবডি গোসল করানো হবে এবং রাতে বারডেমের মরচুয়ারিতে মরদেহ রাখা হবে। সকালে নিয়ে যাওয়া হবে সেগুনবাগিচার বাসায়। সেখানে জানাজা শেষে বাদ জোহর বা আসর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। কবরটি হবে কাজী আনোয়ার হোসেনের মায়ের কবরের ওপরে। এটাই তার শেষ ইচ্ছা ছিল।’

তুমুল পাঠকপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেনের দাফন হবে বনানীতে। এর আগ পর্যন্ত তার মরদেহ রাখা হবে শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের মরচুয়ারিতে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘এখন ডেডবডি গোসল করানো হবে এবং রাতে বারডেমের মরচুয়ারিতে মরদেহ রাখা হবে। সকালে নিয়ে যাওয়া হবে সেগুনবাগিচার বাসায়। সেখানে জানাজা শেষে বাদ জোহর বা আসর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। কবরটি হবে কাজী আনোয়ার হোসেনের মায়ের কবরের ওপরে। এটাই তার শেষ ইচ্ছা ছিল।’

একই সিদ্ধান্তের কথা জানান কাজী আনোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুরও। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাদ জোহর বনানীতে তাকে তার মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে। আমার কাছে তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন।’

প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত কাজী আনোয়ার হোসেন ১০ জানুয়ারি থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বুধবার তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

কাজীদার শেষ শয্যা বনানীতে

কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে বুধবার শেষ বিকেলের দিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন মাসুমা মায়মুর। তিনি লেখেন, ‘নিভে গেছে দীপ জনমের তরে জ্বলিবে না সে তো আর। দূর আকাশের তারা হয়ে গেছে আমার ছেলেটা। আমার ছোট্ট ছেলেটা। আর কোনো দিনও আমার পিছু পিছু ঘুরে খুঁজবে না মায়ের গায়ের মিষ্টি গন্ধ। কোনো দিনই না। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকবে কীভাবে, ওই অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেটা?

‘একা-শুধু একা? কী সব বকছি জানি না। আব্বা (কাজী আনোয়ার হোসেন) আর নেই। চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে।’

সেবা প্রকাশনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে তৌফির হাসান উর রাকিব নামে একজন লিখেছেন, ‘যার কাছ থেকে অপরিমেয় ভালোবাসা পেয়েছিলাম এবং যাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে বাধ্য হয়েছিলাম, সেই মানুষটি আর নেই! কাজী আনোয়ার হোসেন আঙ্কেল আর আমাদের মাঝে নেই!

‘মাসুদ রানার স্রষ্টা, এই নশ্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে আমাদের সবাইকে ছেড়ে অনেক দূরে কোথাও চলে গেছেন। আপনারা সবাই তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন, প্লিজ।’

সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসেবে কাজী আনোয়ার হোসেন ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামের স্পাই চরিত্র সৃষ্টি করেন। মাসুদ রানার চরিত্রটি মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রের বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মাসুদ রানা সৃষ্টির কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নেয়। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম দুটি ব্যবহার করতেন। তবে সেবা প্রকাশনীর ভক্ত পাঠকের কাছে তিনি কাজীদা নামেই বেশি পরিচিতি পান।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম ‘নবাব’। তার বাবা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মা সাজেদা খাতুন।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৫২ সালে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ এবং বিএ পাস করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন তিনি।

বেশ কয়েক বছর রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের সংগীতশিল্পী ছিলেন। ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের তিন বোন সনজীদা খাতুন, ফাহমিদা খাতুন ও মাহমুদা খাতুনও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৬৩ সালের মে মাসে বাবার দেয়া ১০ হাজার টাকা নিয়ে সেগুনবাগিচায় প্রেস চালু করেন। দুজন কর্মচারী নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রেসের নাম পরে পাল্টে হয় সেবা প্রকাশনী। সেবা প্রকাশনী বাংলাদেশে পেপারব্যাক বই প্রকাশ, বিশ্ব সাহিত্যের প্রখ্যাত উপন্যাসের অনুবাদ এবং কিশোর সাহিত্যের ধারা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন:
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব
‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমার ঢাকা প্রিমিয়ারে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

শেয়ার করুন

বিদায় কাজীদা

বিদায় কাজীদা

মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কাজী আনোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘নিভে গেছে দীপ জনমের তরে জ্বলিবে না সে তো আর।- দূর আকাশের তারা হয়ে গেছে আমার ছেলেটা। আমার ছোট্ট ছেলেটা। আর কোনো দিনও আমার পিছু পিছু ঘুরে খুঁজবে না মায়ের গায়ের মিষ্টি গন্ধ। কোনো দিনই না। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকবে কীভাবে, ওই অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেটা?’

পাঠকপ্রিয় থ্রিলার চরিত্র মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন।

তার পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মাসুদ রানার স্রষ্টার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ক্যানসারে আক্রান্ত তার শ্বশুর ১০ জানুয়ারি থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বুধবার তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

স্ট্যাটাসে মাসুমা লিখেছেন, ‘নিভে গেছে দীপ জনমের তরে জ্বলিবে না সে তো আর।- দূর আকাশের তারা হয়ে গেছে আমার ছেলেটা। আমার ছোট্ট ছেলেটা। আর কোনো দিনও আমার পিছু পিছু ঘুরে খুঁজবে না মায়ের গায়ের মিষ্টি গন্ধ। কোনো দিনই না। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকবে কীভাবে, ওই অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেটা?

‘একা-শুধু একা? কী সব বকছি জানি না। আব্বা (কাজী আনোয়ার হোসেন) আর নেই। চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে।’

তিনি জানান, গত অক্টোবর মাসের ৩১ তারিখ প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে আনোয়ার হোসেনের। মাঝে পাঁচবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

মাসুমা লিখেছেন, ‘চিকিৎসার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায়নি। একটা ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক হয়ে সব শেষ হয়ে গেল।’

বিদায় কাজীদা

সেবা প্রকাশনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে তৌফির হাসান উর রাকিব নামে একজন লিখেছেন, ‘যার কাছ থেকে অপরিমেয় ভালোবাসা পেয়েছিলাম এবং যাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে বাধ্য হয়েছিলাম, সেই মানুষটি আর নেই! কাজী আনোয়ার হোসেন আঙ্কেল আর আমাদের মাঝে নেই!

‘মাসুদ রানার স্রষ্টা, এই নশ্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে আমাদের সবাইকে ছেড়ে অনেক দূরে কোথাও চলে গেছেন। আপনারা সবাই তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন, প্লিজ।’

পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার শ্বশুরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাদ জোহর বনানীতে তাকে তার মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে। আমার কাছে তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন।’

সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসেবে কাজী আনোয়ার হোসেন ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামের স্পাই চরিত্র সৃষ্টি করেন। মাসুদ রানার চরিত্রটি মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রের বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মাসুদ রানা সৃষ্টির কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নেয়। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম দুটি ব্যবহার করতেন। তবে সেবা প্রকাশনীর ভক্ত পাঠকের কাছে তিনি কাজীদা নামেই বেশি পরিচিতি পান।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম ‘নবাব’। তার বাবা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মা সাজেদা খাতুন।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৫২ সালে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ এবং বিএ পাস করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন তিনি।

বেশ কয়েক বছর রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের সংগীতশিল্পী ছিলেন। ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের তিন বোন সনজীদা খাতুন, ফাহমিদা খাতুন ও মাহমুদা খাতুনও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৬৩ সালের মে মাসে বাবার দেয়া ১০ হাজার টাকা নিয়ে সেগুনবাগিচায় প্রেস চালু করেন। দুজন কর্মচারী নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রেসের নাম পরে পাল্টে হয় সেবা প্রকাশনী। সেবা প্রকাশনী বাংলাদেশে পেপারব্যাক বই প্রকাশ, বিশ্ব সাহিত্যের প্রখ্যাত উপন্যাসের অনুবাদ এবং কিশোর সাহিত্যের ধারা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন:
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব
‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমার ঢাকা প্রিমিয়ারে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

শেয়ার করুন

চলে গেলেন বাংলা কমিক্সের জনক

চলে গেলেন বাংলা কমিক্সের জনক

বাংলা কমিক্সের জনক নারায়ণ দেবনাথ। ছবি: সংগৃহীত

সোনার গয়নার ব্যবসা ছিল নারায়ণ দেবনাথের পরিবারের। বাংলাদেশের বিক্রমপুর থেকে তার পরিবার পাকাপাকিভাবে হাওড়া যায়। ছোটবেলা থেকেই তার আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল।

ভারতের কিংবদন্তি কার্টুনিস্ট, বাংলা কমিক্স সাহিত্যের জনক, বাটুল দ্য গ্রেট, নন্টে ফন্টের স্রষ্টা নারায়ণ দেবনাথ মারা গেছেন।

কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোম হাসপাতালে মঙ্গলবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর থেকে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার ভুগছিলেন। তখন থেকেই এই বর্ষীয়ান শিল্পী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

গত রোববার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে দেয়া হয়। সোমবার তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়, মঙ্গলবার সকালে আবার তার অবস্থার অবনতি হয়ে সকাল সোয়া ১০ নাগাদ তার মৃত্যু হয়।

বাংলা কমিক্স সাহিত্যের জনক নারায়ণ দেবনাথ ১৯২৫ সালের ২৫ নভেম্বর হাওড়ার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

সোনার গয়নার ব্যবসা ছিল নারায়ণ দেবনাথের পরিবারের। বাংলাদেশের বিক্রমপুর থেকে তার পরিবার পাকাপাকিভাবে হাওড়া যায়। ছোটবেলা থেকেই তার আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল।

নারায়ণ দেবনাথ তাদের পারিবারিক ব্যবসা গয়নার নকশা বানাতেন ছোট থেকেই। স্কুল শেষে তিনি ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজে ফাইন আর্টস নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। তিনি সে সময় তার ডিগ্রি কোর্স অসম্পূর্ণ রেখে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ শুরু করেন।

১৯৬২ সালে দেব সাহিত্য কুটিরের শুকতারা পত্রিকায় বাংলা কমিক্স সাহিত্য নারায়ণ দেবনাথের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করে ‘হাঁদা ভোঁদা’ নামে। টানা ৫৩ বছর ধারাবাহিকভাবে চলেছে এই কমিক্স স্ট্রিপ।

‘হাঁদা ভোঁদা’ ছিল সাদা কালো, কিন্তু ১৯৬৫ সালে শুকতারার পাতায় এলো রঙিন বাংলা কমিক্স স্ট্রিপ ‘বাটুল দ্য গ্রেট’। একে একে এসেছে নন্টে ফন্টে, বাহাদুর বেড়াল এবং অন্য সব বিখ্যাত চরিত্ররা। যারা কয়েক প্রজন্মের বাঙালির জীবনের সঙ্গে মননের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন প্রবাদপ্রতিম কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ। ২০০৭ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। ২০১৩ সালে বঙ্গ বিভূষণ পুরস্কার, ২০১৫ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট উপাধি দেয়। ২০২১ সালে শিল্পীকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার।

তার প্রয়াণে দেব সাহিত্য কুটিরের কর্ণধার রূপা মজুমদার বলেন, ‘তার সৃষ্টির জন্য আপামর বাঙালি তাকে চিরকাল মনে রাখবে। হাঁদা ভোঁদা, নন্টে ফন্টে, বাটুল দি গ্রেট, বাহাদুর বেড়াল, এদের বাঙালির সংস্কৃতি থেকে আলাদা করা যাবে না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাটুল দি গ্রেট আবাল বৃদ্ধবনিতাকে মানসিকভাবে চাঙা করে দিয়েছিল। নারায়ণ দেবনাথ বাঙালির মনের মণিকোঠায় থেকে যাবেন।’

আরও পড়ুন:
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব
‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমার ঢাকা প্রিমিয়ারে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

শেয়ার করুন