ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব

player
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জয়নুল উৎসবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে মেলা চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে জয়নুল স্মারক বক্তৃতা হবে।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী জয়নুল উৎসব।

অনুষদের বকুলতলায় বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উৎসবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক আহমেদ উল্লাহ এবং শিল্পাচার্যপুত্র খায়রুল আবেদিন।

এর আগে শিল্পাচার্যের সমাধিতে ফুল দিয়ে শুরু হয় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, চারুকলা অনুষদ, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

এরপর দুই প্রখ্যাত শিল্পী ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিব কুমার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুস শাকুর শাহকে জয়নুল সম্মাননা-২০২১ দেয়া হয়। অধ্যাপক শিব কুমারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘চারুকলা শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য ১৯৪৮ সালে ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। এই আর্ট ইনস্টিটিউট বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ হিসেবে সুপরিচিত। তার অনবদ্য সৃষ্টি এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতীয় উপমহাদেশে চারুকলা শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। অনাগত ভবিষ্যতের প্রজন্মকেও নানাভাবে অনুপ্রেরণা দিতে থাকবে এই প্রতিষ্ঠান।’

তিনি বলেন, ‘জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষের মর্মস্পর্শী ও মানবিক চিত্র এঁকে বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিলেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খ্যাতি এনে দিয়েছে। তার অনন্য অবদানের জন্যই বাংলাদেশের শিল্পচর্চা আজ ঈর্ষণীয় মানে পৌঁছেছে। শিল্পাচার্যের এসব কর্মপ্রয়াস শিল্পজগতে তাকে অমরত্ব এনে দিয়েছে।’

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে যৌথভাবে জয়নুল মেলার উদ্বোধন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে মেলা চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে জয়নুল স্মারক বক্তৃতা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ এতে সভাপতিত্ব করবেন।

‘কামরুলের শিল্পাদর্শ: লোক ঐতিহ্যের প্রতি অনুরাগ ও আধুনিকতা’ শীর্ষক বক্তৃতা উপস্থাপন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন ও অধ্যাপক ঢালী আল মামুন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লাকী ভাইয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেছে: বায়েজীদ

লাকী ভাইয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেছে: বায়েজীদ

রফিক উল্লাহ সেলিম (বাঁয়ে) ও কামাল বায়েজীদ। ছবি: নিউজবাংলা

লিয়াকত আলী লাকী প্রসঙ্গে বায়েজীদ আরও বলেন, ‘লাকী ভাই যেটা করেন, তার মর্জি মাফিক কিছু না হলেই তিনি হিংস্র হয়ে যান, কিন্তু এ হিংস্রতা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করে না। লাকী ভাইয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’

টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে ২২ জানুয়ারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত তিন বছরে ব্যয় হওয়া ১ কোটি ২৪ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৩ টাকার হিসাব দিতে পারেননি কামাল বায়েজীদ। এ ছাড়া জনতা ব্যাংকে সংগঠনের অ্যাকাউন্ট থেকে ২০১৯ সালে নিজের অ্যাকাউন্টে সংগঠনের টাকা স্থানান্তর করেন তিনি, এগুলোসহ ২৯টি অভিযোগ বায়েজীদের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় পরিষদের সভায় আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে সম্পাদক (অর্থ) রফিক উল্লাহ সেলিমকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয় কেন্দ্রীয় পরিষদকে অর্থের যাবতীয় হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু তিনি ওই হিসাব বুঝিয়ে না দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় পরিষদ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে রফিক উল্লাহ সেলিমের সদস্যপদ বাতিল করা হয়।

এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কামাল বায়েজীদ ও রফিক উল্লাহ সেলিম। বুধবার বেলা ৩টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের সাগর-রুনি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন দুজন।

কামাল বায়েজিদ বলেন, ‘আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, এসবের প্রমাণ কোথায়?’

লাকী ভাইয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেছে: বায়েজীদ
গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকী। ছবি: সংগৃহীত

বায়েজীদ বলেন, ‘আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে কিন্তু এখনও কোনো কাগজ পাই নাই। ২৯টি অভিযোগ কী তাও জানি না; কারা স্বাক্ষর করেছেন তাও জানি না। অর্থ সম্পাদককেও কোনো চিঠি দেয়া হয় নাই।’

তাহলে এমন ঘটনা কেন ঘটল, সংঘর্ষটা কার সঙ্গে?

বায়েজীদ জানান, তার ব্যক্তিগত ধারণা, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকী তার ওপর রেগে আছেন এবং সে কারণে তিনি বায়েজীদ ও সেলিমের সঙ্গে এমন কাজ করছেন।

বায়েজীদ বলেন, ‘গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনে একজন একটি পদে পরপর তিনবারের বেশি নির্বাচন করতে পারেন না। আমি এ কথাটি লাকী ভাইকে বলেছি। এ ছাড়া শিল্পকলায় তিনি প্রায় ১২ বছর ধরে রয়েছেন। সম্প্রতি তার দুর্নীতির খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এলে আমি একটি সভায় তাকে বলেছিলাম, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সম্মানে আপনার কিছুদিন পদ থেকে বিরত থাকা উচিত, তাহলে আমরা অনেক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে পারব।

’আমার ধারণা এই দুটি কারণে লিয়াকত আলী লাকি আমার ওপর রেগে আছেন এবং এমন মিথ্যে অভিযোগ এনে আমাদের দিকে বিভিন্ন দোষ দিতে চাচ্ছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক (অর্থ) রফিক উল্লাহ সেলিম তার নামে যে অভিযোগ, সেই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করতে ২০১৮ থেকে ২০ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী সবার সামনে পেশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যে ঠিক আছি, এই বিবরণী তার প্রমাণ। আর মিটিংয়ে আমাকে হিসাব দাখিলের সুযোগ দেয়া হতো না।’

লিয়াকত আলী লাকী প্রসঙ্গে বায়েজীদ আরও বলেন, ‘লাকী ভাই যেটা করেন, তার মর্জিমাফিক কিছু না হলেই তিনি হিংস্র হয়ে যান, কিন্তু এ হিংস্রতা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করে না। লাকী ভাইয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। শিল্পকলার ভার বহন করতে করতে, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, এসব কিছু নিয়ে মানুষ যখন উদভ্রান্ত হয়ে যায়, তখন তা প্রকাশ পায় চলনে-বলনে। আমি লাকী ভাইয়ের সুস্থতা কামনা করছি।’

শেষে বায়েজীদ নিজেকে সৎ দাবি করেন এবং সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।

শেয়ার করুন

নায়করাজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ফিল্ম মিউজিয়ামে

নায়করাজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ফিল্ম মিউজিয়ামে

নায়করাজ রাজ্জাকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র রোববার বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের কাাছে হস্তান্তর করেন সম্রাট। ছবি: নিউজবাংলা

প্রয়াত রাজ্জাকের ব্যবহৃত ব্লেজার, চশমা, পাঞ্জাবি ও ক্যাপ হস্তান্তর করেন সম্রাট। এগুলো গ্রহণ করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. নিজামূল কবীর।

বাংলা চলচ্চিত্রের নায়করাজ রাজ্জাকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

নায়করাজ রাজ্জাকের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে রোববার তার ছোট ছেলে অভিনেতা সম্রাট পরিবারের পক্ষ থেকে এসব জিনিসপত্র মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। ফিল্ম আর্কাইভের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রয়াত রাজ্জাকের ব্যবহৃত ব্লেজার, চশমা, পাঞ্জাবি ও ক্যাপ হস্তান্তর করেন সম্রাট। এগুলো গ্রহণ করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. নিজামূল কবীর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ড. মোফাকখারুল ইকবাল, সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান, ফিল্ম অফিসার মো. ফখরুল আলম, গবেষক ও লেখক মীর শামসুল আলম বাবুসহ আরও অনেকে।

১৯৪২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন নায়করাজ রাজ্জাক। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ চলচ্চিত্রের মতো জনসংস্কৃতির সংরক্ষণের পাশাপাশি চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ক্যামেরা, সম্পাদনা মেশিন, সাউন্ড ফলোয়ার, স্টুডিওতে ব্যবহৃত সাউন্ডের যন্ত্রপাতি, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের ব্যবহৃত নানা ধরনের সামগ্রী ফিল্ম মিউজিয়ামে সংরক্ষণের জন্য সংগ্রহ করছে।

২০২০ সালে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের দ্বিতীয় তলায় ফিল্ম মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম, শ্রুতি রেকডিং স্টুডিও, চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রগ্রাহক এম এ সামাদ, সালাউদ্দিন, অভিনেত্রী সুলতানা জামান, চলচ্চিত্র পরিচালক-প্রযোজক চাষী নজরুল ইসলাম, অভিনেতা আজিম, অভিনেত্রী সুজাতাসহ চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ১৫ জন

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ১৫ জন

বাংলা একাডেমি। ফাইল ছবি

বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২২-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ১৫ জনকে এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা একাডেমি ২০২১ সালের জন্য পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন কবিতায় আসাদ মান্নান, বিমল গুহ, কথাসাহিত্যে ঝর্ণা রহমান, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রবন্ধ/গবেষণা হোসেনউদ্দীন হোসেন, অনুবাদে আমিনুর রহমান, রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, নাটকে সাধনা আহমেদ, শিশুসাহিত্যে রফিকুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় পান্না কায়সার, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় হারুন-অর-রশিদ, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞান/পরিবেশ বিজ্ঞানে শুভাগত চৌধুরী, আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনিতে সুফিয়া খাতুন, হায়দার আকবর খান রনো ও ফোকলোরে আমিনুর রহমান সুলতান।

বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২২-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পর ১৯৬০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সাহিত্য পুরস্কার দিয়ে আসছে বাংলা একাডেমি।

শেয়ার করুন

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সম্পাদককে অব্যাহতি

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সম্পাদককে অব্যাহতি

কেন্দ্রীয় পরিষদ সভায় শনিবার কামাল বায়েজীদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

শনিবার রাতে গণমাধ্যমে ফেডারেশানের প্রচার সম্পাদক মাসুদ আলম বাবুর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে গণমাধ্যমে ফেডারেশনের প্রচার সম্পাদক মাসুদ আলম বাবুর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের গত তিন বছরের ব্যয় হওয়া এক কোটি ২৪ লাখ একান্ন হাজার ৩৭৩ টাকার হিসাব দিতে পারেননি কামাল বায়েজীদ। এ ছাড়া জনতা ব্যাংকে সংগঠনের অ্যাকাউন্ট থেকে ২০১৯ সালে নিজের অ্যাকাউন্টে সংগঠনের টাকা স্থানান্তর করেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় পরিষদের ৪১ জন সদস্যের লিখিত ২৯টি অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার কেন্দ্রীয় পরিষদ সভায় উপস্থিত ৪০ জন সদস্যের সম্মতিক্রমে কামাল বায়েজীদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় পরিষদের সভায় আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে সম্পাদক (অর্থ) রফিক উল্লাহ্ সেলিমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ৩০ দিনের মধ্যে সেলিমকে অর্থের যাবতীয় হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলা হলেও তিনি ব্যর্থ হন।

কামাল বায়েজীদের জায়গায় এখন থেকে দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী সম্পাদক চন্দন রেজা এবং অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন আন্তর্জাতিক সম্পাদক চঞ্চল সৈকত।

শেয়ার করুন

‘মাসুদ রানা’ উপন্যাসের বাকি অংশ শেষ করবেন কাজীদার ছেলে

‘মাসুদ রানা’ উপন্যাসের বাকি অংশ শেষ করবেন কাজীদার ছেলে

তুমুল পাঠকপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা চরিত্র নিয়ে চলছে উপন্যাস লেখার কাজ।

মাসুদ রানা চরিত্রটির কী হবে? বুধবার কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর এ প্রশ্ন এখন অনেকের। প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তার বড় ছেলে।

তুমুল পাঠকপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা চরিত্র নিয়ে উপন্যাস লেখার কাজ শুরু হয়েছে; এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। তবে কাজটি শেষ করে যেতে পারলেন না তিনি।

মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেনের এই উপন্যাসের বাকি অংশ শেষ করবেন তার ছোট ছেলে কাজী মায়মুর হোসেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে বনানী কবরস্তানে কাজী আনোয়ার হোসেনের দাফন শেষে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান তার বড় ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন।

শাহনূর বলেন, ‘মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে একটি উপন্যাস লেখার কাজ চলছে। এ উপন্যাস লেখায় বাবা যুক্ত ছিলেন। এখন এটা আমার ছোট ভাই কাজী মায়মুর হোসেন শেষ করবেন।’

মাসুদ রানা চরিত্রটির কী হবে? বুধবার কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর এ প্রশ্ন এখন অনেকের।

এ ব্যাপারে কাজী আনোয়ার হোসেনের চাচাতো ভাই কাজী রওনাক হোসেন, ছেলে শাহনূর হোসেন এবং পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর হাসান নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন যে, মাসুদ রানা চরিত্রটির ‘ট্রেড মার্ক’ করা আছে।

কাজী রওনাক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চরিত্রটির ট্রেডমার্ক করা আছে। তাই চাইলেই চরিত্রটি নিয়ে কাজী আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে ছাড়া অন্য কারও লেখার সুযোগ নেই।

‘হ্যাঁ, অন্য কেউ মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে লিখতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে নিতে হবে পরিবারের অনুমতি। একই সঙ্গে কেউ যদি মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে সিনেমা বানাতে চান, অনুমতি লাগবে সেক্ষেত্রেও।’

কাজী রওনাক হোসেন বলেন, ‘অনুমতি নেয়ার বিষয়টি তো এতদিন প্রয়োজন হয়নি। যদি কেউ আবেদন করেন, সেক্ষেত্রে পরিবার বিষয়টি ভেবে দেখবে।’

এদিকে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের কপিরাইট অফিসার জাফর রাজা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাসুদ রানা চরিত্রটির কপিরাইট করা নেই। মাসুদ রানা চরিত্রটি নিয়ে ১১টি পর্ব কাজী আনোয়ার হোসেনের লেখা। সেক্ষেত্রে তিনি চরিত্রটির স্রষ্টা, তিনি যেহেতু আবেদন করেননি, এখন চাইলে তার ছেলেরা সেটা করতে পারবেন।’

জাফর রাজা চৌধুরী জানান, চরিত্রটির ‘ট্রেড মার্ক’ করা থাকতে পারে। তবে মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের উপন্যাস নিয়ে কপিরাইট ইস্যু নিয়ে যে ঝামেলা তৈরি হয়েছিল, সে সময় কাজী আনোয়ার হোসেন বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

কাজী আনোয়ার হোসেন প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন। বুধবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বারডেম হাসপাতালে মারা যান তিনি।

সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসেবে কাজী আনোয়ার হোসেন ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামের স্পাই চরিত্র সৃষ্টি করেন। মাসুদ রানার চরিত্রটি মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রের বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মাসুদ রানা সৃষ্টির কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নেয়। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম দুটি ব্যবহার করতেন। তবে সেবা প্রকাশনীর ভক্ত পাঠকের কাছে তিনি কাজীদা নামেই বেশি পরিচিতি পান।

কাজী আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায়। পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম ‘নবাব’। তার বাবা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মা সাজেদা খাতুন।

বেশ কয়েক বছর রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের সংগীতশিল্পী ছিলেন। ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে।

শেয়ার করুন

কাজীদার শেষ শয্যা বনানীতে

কাজীদার শেষ শয্যা বনানীতে

মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন বলেন, ‘এখন ডেডবডি গোসল করানো হবে এবং রাতে বারডেমের মরচুয়ারিতে মরদেহ রাখা হবে। সকালে নিয়ে যাওয়া হবে সেগুনবাগিচার বাসায়। সেখানে জানাজা শেষে বাদ জোহর বা আসর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। কবরটি হবে কাজী আনোয়ার হোসেনের মায়ের কবরের ওপরে। এটাই তার শেষ ইচ্ছা ছিল।’

তুমুল পাঠকপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেনের দাফন হবে বনানীতে। এর আগ পর্যন্ত তার মরদেহ রাখা হবে শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের মরচুয়ারিতে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘এখন ডেডবডি গোসল করানো হবে এবং রাতে বারডেমের মরচুয়ারিতে মরদেহ রাখা হবে। সকালে নিয়ে যাওয়া হবে সেগুনবাগিচার বাসায়। সেখানে জানাজা শেষে বাদ জোহর বা আসর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। কবরটি হবে কাজী আনোয়ার হোসেনের মায়ের কবরের ওপরে। এটাই তার শেষ ইচ্ছা ছিল।’

একই সিদ্ধান্তের কথা জানান কাজী আনোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুরও। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাদ জোহর বনানীতে তাকে তার মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে। আমার কাছে তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন।’

প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত কাজী আনোয়ার হোসেন ১০ জানুয়ারি থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বুধবার তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

কাজীদার শেষ শয্যা বনানীতে

কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে বুধবার শেষ বিকেলের দিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন মাসুমা মায়মুর। তিনি লেখেন, ‘নিভে গেছে দীপ জনমের তরে জ্বলিবে না সে তো আর। দূর আকাশের তারা হয়ে গেছে আমার ছেলেটা। আমার ছোট্ট ছেলেটা। আর কোনো দিনও আমার পিছু পিছু ঘুরে খুঁজবে না মায়ের গায়ের মিষ্টি গন্ধ। কোনো দিনই না। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকবে কীভাবে, ওই অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেটা?

‘একা-শুধু একা? কী সব বকছি জানি না। আব্বা (কাজী আনোয়ার হোসেন) আর নেই। চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে।’

সেবা প্রকাশনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে তৌফির হাসান উর রাকিব নামে একজন লিখেছেন, ‘যার কাছ থেকে অপরিমেয় ভালোবাসা পেয়েছিলাম এবং যাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে বাধ্য হয়েছিলাম, সেই মানুষটি আর নেই! কাজী আনোয়ার হোসেন আঙ্কেল আর আমাদের মাঝে নেই!

‘মাসুদ রানার স্রষ্টা, এই নশ্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে আমাদের সবাইকে ছেড়ে অনেক দূরে কোথাও চলে গেছেন। আপনারা সবাই তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন, প্লিজ।’

সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসেবে কাজী আনোয়ার হোসেন ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামের স্পাই চরিত্র সৃষ্টি করেন। মাসুদ রানার চরিত্রটি মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রের বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মাসুদ রানা সৃষ্টির কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নেয়। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম দুটি ব্যবহার করতেন। তবে সেবা প্রকাশনীর ভক্ত পাঠকের কাছে তিনি কাজীদা নামেই বেশি পরিচিতি পান।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম ‘নবাব’। তার বাবা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মা সাজেদা খাতুন।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৫২ সালে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ এবং বিএ পাস করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন তিনি।

বেশ কয়েক বছর রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের সংগীতশিল্পী ছিলেন। ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের তিন বোন সনজীদা খাতুন, ফাহমিদা খাতুন ও মাহমুদা খাতুনও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৬৩ সালের মে মাসে বাবার দেয়া ১০ হাজার টাকা নিয়ে সেগুনবাগিচায় প্রেস চালু করেন। দুজন কর্মচারী নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রেসের নাম পরে পাল্টে হয় সেবা প্রকাশনী। সেবা প্রকাশনী বাংলাদেশে পেপারব্যাক বই প্রকাশ, বিশ্ব সাহিত্যের প্রখ্যাত উপন্যাসের অনুবাদ এবং কিশোর সাহিত্যের ধারা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শেয়ার করুন

বিদায় কাজীদা

বিদায় কাজীদা

মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কাজী আনোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘নিভে গেছে দীপ জনমের তরে জ্বলিবে না সে তো আর।- দূর আকাশের তারা হয়ে গেছে আমার ছেলেটা। আমার ছোট্ট ছেলেটা। আর কোনো দিনও আমার পিছু পিছু ঘুরে খুঁজবে না মায়ের গায়ের মিষ্টি গন্ধ। কোনো দিনই না। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকবে কীভাবে, ওই অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেটা?’

পাঠকপ্রিয় থ্রিলার চরিত্র মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন।

তার পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মাসুদ রানার স্রষ্টার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ক্যানসারে আক্রান্ত তার শ্বশুর ১০ জানুয়ারি থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বুধবার তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

স্ট্যাটাসে মাসুমা লিখেছেন, ‘নিভে গেছে দীপ জনমের তরে জ্বলিবে না সে তো আর।- দূর আকাশের তারা হয়ে গেছে আমার ছেলেটা। আমার ছোট্ট ছেলেটা। আর কোনো দিনও আমার পিছু পিছু ঘুরে খুঁজবে না মায়ের গায়ের মিষ্টি গন্ধ। কোনো দিনই না। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকবে কীভাবে, ওই অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেটা?

‘একা-শুধু একা? কী সব বকছি জানি না। আব্বা (কাজী আনোয়ার হোসেন) আর নেই। চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে।’

তিনি জানান, গত অক্টোবর মাসের ৩১ তারিখ প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে আনোয়ার হোসেনের। মাঝে পাঁচবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

মাসুমা লিখেছেন, ‘চিকিৎসার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায়নি। একটা ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক হয়ে সব শেষ হয়ে গেল।’

বিদায় কাজীদা

সেবা প্রকাশনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে তৌফির হাসান উর রাকিব নামে একজন লিখেছেন, ‘যার কাছ থেকে অপরিমেয় ভালোবাসা পেয়েছিলাম এবং যাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে বাধ্য হয়েছিলাম, সেই মানুষটি আর নেই! কাজী আনোয়ার হোসেন আঙ্কেল আর আমাদের মাঝে নেই!

‘মাসুদ রানার স্রষ্টা, এই নশ্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে আমাদের সবাইকে ছেড়ে অনেক দূরে কোথাও চলে গেছেন। আপনারা সবাই তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন, প্লিজ।’

পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার শ্বশুরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাদ জোহর বনানীতে তাকে তার মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে। আমার কাছে তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন।’

সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসেবে কাজী আনোয়ার হোসেন ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামের স্পাই চরিত্র সৃষ্টি করেন। মাসুদ রানার চরিত্রটি মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রের বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মাসুদ রানা সৃষ্টির কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নেয়। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র ও শামসুদ্দীন নওয়াব নাম দুটি ব্যবহার করতেন। তবে সেবা প্রকাশনীর ভক্ত পাঠকের কাছে তিনি কাজীদা নামেই বেশি পরিচিতি পান।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম ‘নবাব’। তার বাবা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মা সাজেদা খাতুন।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৫২ সালে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ এবং বিএ পাস করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন তিনি।

বেশ কয়েক বছর রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের সংগীতশিল্পী ছিলেন। ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের তিন বোন সনজীদা খাতুন, ফাহমিদা খাতুন ও মাহমুদা খাতুনও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৬৩ সালের মে মাসে বাবার দেয়া ১০ হাজার টাকা নিয়ে সেগুনবাগিচায় প্রেস চালু করেন। দুজন কর্মচারী নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রেসের নাম পরে পাল্টে হয় সেবা প্রকাশনী। সেবা প্রকাশনী বাংলাদেশে পেপারব্যাক বই প্রকাশ, বিশ্ব সাহিত্যের প্রখ্যাত উপন্যাসের অনুবাদ এবং কিশোর সাহিত্যের ধারা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শেয়ার করুন