জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আর নেই

player
জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রফিকুল ইসলামকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ২৬ নভেম্বর বিকেলে তাকে হাসপাতালের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আর নেই। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রফিকুল ইসলামকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ২৬ নভেম্বর বিকেলে তাকে হাসপাতালের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

সে সময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তিনি ‘ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে’ আছেন। নিউমোনিয়ার সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন।

পেটের ব্যথা নিয়ে গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হন ৮৭ বছর বয়সী জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ফুসফুসে পানি ধরা পড়ে। তখন থেকে তিনি সেখানেই বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি মেডিসিন) বিভাগের অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেনের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা রফিকুল ইসলামকে ভারতে নিয়ে যেতে চাইলেও তিনি রাজি হননি।

নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক এবং নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক ছিলেন।

৮৭ বছর বয়সী এই ভাষাবিজ্ঞানী, লেখক ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। সেই সময়ের দুর্লভ আলোকচিত্রও ধারণ করেন তিনি।

বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের এই প্রত্যক্ষ সাক্ষী সেই সব ইতিহাস গ্রন্থিত করেছেন তার লেখায়। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে প্রথম গ্রন্থ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাসের প্রথম গ্রন্থটিসহ প্রায় ৩০টি বই তার হাত দিয়ে এসেছে।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের সাবেক উপাচার্য রফিকুল ইসলাম একসময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক করে নেয়।

স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখক ড. রফিকুল ইসলাম বেশ কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২১ সালের ১৮ মে সরকার তাকে তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেয়।

এই বছর মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন, বিকাশ, চর্চা, প্রচার-প্রসারে অবদান রাখায় তাকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
লাইফ সার্পোটে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
বাংলা একাডেমির নতুন সভাপতি রফিকুল ইসলাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আবার করোনা আক্রান্ত আসাদুজ্জামান নূর

আবার করোনা আক্রান্ত আসাদুজ্জামান নূর

আসাদুজ্জামান নূর। ছবি: সংগৃহীত

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘গতকাল (রোববার) তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আজ বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে আবার চেকআপের জন্য গিয়েছেন।’

দ্বিতীয়বারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

তিনি জানান, রোববার নূরের করোনা পরীক্ষা ফল পজিটিভ আসে।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘গতকাল (রোববার) তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আজ বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে আবার চেকআপের জন্য গিয়েছেন।’

সেখানে ভর্তি হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা পরে জানা যাবে। ডাক্তার কী বলে সেটার ওপর নির্ভর করছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।’

এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। সে সময় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
লাইফ সার্পোটে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
বাংলা একাডেমির নতুন সভাপতি রফিকুল ইসলাম

শেয়ার করুন

কত্থক পণ্ডিত বিরজু মহারাজের প্রয়াণ

কত্থক পণ্ডিত বিরজু মহারাজের প্রয়াণ

ভারতের কিংবদন্তী নৃত্যশিল্পী বিরজু মহারাজ। ছবি: সংগৃহীত

শাস্ত্রীয় সংগীতের একাধিক ধারার সঙ্গে যেমন যুক্ত ছিলেন বিরজু মহারাজ, সঙ্গে করেছেন অনেক সিনেমায় কোরিওগ্রাফারের কাজও। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্তর দশকের মাঝামাঝি সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’র কোরিওগ্রাফি।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভারতের শাস্ত্রীয় নৃত্য কত্থকের কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী পণ্ডিত বিরজু মহারাজের মৃত্যু হয়েছে।

দিল্লিতে রোববার রাতে তিনি নাতির সঙ্গে খেলা করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিরজু মহারাজের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বিরজু মহারাজ একাধারে নাচ, তবলা ও কণ্ঠসংগীতে সমান পারদর্শী ছিলেন। এমনকি তিনি ছবিও আঁকতেন।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বিরজু মহারাজ ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণ পেয়েছিলেন। তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন পণ্ডিতজি ও মহারাজজি হিসেবে।

কিছুদিন যাবৎ বিরজু মহারাজ কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। তার ডায়ালাইসিস চলছিল।

বিরজু মহারাজ ভারতের লক্ষ্নৌর মহারাজ পরিবারের সন্তান। তার বাবা অচ্চন মহারাজই ছিলেন তার গুরু। আর তার দুই চাচা শম্ভু মহারাজ এবং লচ্চু মহারাজও ছিলেন কত্থক নাচের প্রখ্যাত শিল্পী।

ভারতের প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতের পণ্ডিত রবিশঙ্কর বিরজুর নাচ দেখে বলেছিলেন, ‘তুমি তো লয়ের পুতুল।’

শাস্ত্রীয় সংগীতের একাধিক ধারার সঙ্গে যেমন যুক্ত ছিলেন বিরজু মহারাজ, সঙ্গে করেছেন অনেক সিনেমায় কোরিওগ্রাফারের কাজও। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্তর দশকের মাঝামাঝি সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’র কোরিওগ্রাফি।

সিনেমাটিতে দুটি গানের কোরিওগ্রাফি করেন বিরজু মহারাজ। তার মধ্যে একটা ছিল ‘কানহা মে তোসে হারি’।

তিনি গেয়েছেন ঠুমরি, দাদরা, ভজন, গজলের মতো গানও।

বিরজু মহারাজের দেশ-বিদেশে অসংখ্য শিক্ষার্থী রয়েছেন।

১৯৩৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিরজু মহারাজের জন্ম হয় ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসিতে।

আরও পড়ুন:
লাইফ সার্পোটে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
বাংলা একাডেমির নতুন সভাপতি রফিকুল ইসলাম

শেয়ার করুন

এবারের বইমেলা শুরু ১৫ ফেব্রুয়ারি

এবারের বইমেলা শুরু ১৫ ফেব্রুয়ারি

অমর একুশে বইমেলার গতবারের প্রস্তুতিপর্বের চিত্র। ফাইল ছবি

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি জানি দুই সপ্তাহ পিছিয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হবে।’

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এবার দুই সপ্তাহ পিছিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি দুই সপ্তাহ পিছিয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হবে, তবে আমাদের কাছে এখনও মন্ত্রণালয় (সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়) থেকে অফিশিয়ালি চিঠি আসেনি।’

মেলা শুরুর সময় কেন পেছানো হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণেই।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।

নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর পয়লা ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা শুরু হয়, তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছর দেড় মাসেরও বেশি পিছিয়ে ১৮ মার্চ শুরু হয়েছিল মেলা।

আরও পড়ুন:
লাইফ সার্পোটে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
বাংলা একাডেমির নতুন সভাপতি রফিকুল ইসলাম

শেয়ার করুন

তর্ক বাংলায় সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতা

তর্ক বাংলায় সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতা

অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। ছবিটি ফেসবুক থেকে নেয়া।

স্বাস্থ্যবিধি ও জনসচেতনতার জন্য সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতাটি অনলাইনে সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

তর্ক বাংলার প্রথম সাহিত্য বক্তৃতা হবে শুক্রবার।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘মার্কিন প্রাচ্য ব্যবসায় ও বাঙালি মুসলমান’ বিষয়ে বিকেল ৪টায় বক্তৃতা দেবেন লেখক, গণবুদ্ধিজীবী ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।

দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়ার কারণে বক্তৃতাটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।

এটি গত ৭ জানুয়ারি বাংলামোটরের রাহাত টাওয়ারের সপ্তম তলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

স্বাস্থ্যবিধি ও জনসচেতনতার জন্য সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতাটি অনলাইনে সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় রয়েছে বই বিক্রি ও বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘বাছাই বই’।

অনলাইনে বক্তৃতাটি সরাসরি দেখা যাবে তর্ক বাংলার ফেসবুক পেজ, তর্ক বাংলার অফিশিয়াল পেজ, অধ্যাপক সলিমুল্লাহর ফেসবুক পেজ ও তার ইউটিউব পেজে

আরও পড়ুন:
লাইফ সার্পোটে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
বাংলা একাডেমির নতুন সভাপতি রফিকুল ইসলাম

শেয়ার করুন

হাশেম উৎসবে পদক পেলেন দুই শিল্পী

হাশেম উৎসবে পদক পেলেন দুই শিল্পী

হাশেম উৎসব উদ্বোধন করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে গুণীজন পদক ছাড়াও শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ জনকল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য ফাউন্ডেশনের জুরি বোর্ড মনোনীত ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের জনক অধ্যাপক মোহাম্মদ হাশেমের ৭৫তম জন্মজয়ন্তীতে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হাশেম উৎসব’।

এই উৎসবে বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হাসান মতিউর রহমান এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালক ও ছায়ানটের শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র শীলকে ‘মোহাম্মদ হাশেম পদক-২০২২’ প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে গুণীজন পদক ছাড়াও শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ জনকল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য ফাউন্ডেশনের জুরি বোর্ড মনোনীত ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

গুনিজনদের হাতে পদক তুলে দেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. দিদার-উল আলম।

এর আগে বিকাল পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে ‘গণমানুষের শিল্পী মোহাম্মদ হাশেম’ শিরোনামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপাচার্য প্রফেসর ড. দিদার-উল আলম। এতে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানছুরুল হক খসরু।

এবার উন্মুক্ত পরিবেশে সকাল সাড়ে ৯টায় হাশেম উৎসব উদ্বোধন করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। সকাল ১০টায় শুরু হয় মোহাম্মদ হাশেমের গানের প্রতিযোগিতা। দুপুর দেড়টায় শিল্পীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে বিকাল ৩টায় শোভাযাত্রা বের করা হয়।

উৎসব ঘিরে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে বসেছিল শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিসহ গণমানুষের মিলন মেলা। ছিল দিনব্যাপী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।

সন্ধ্যায় একই মঞ্চে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা। রাত ৮টায় হাশেমের সৃষ্টি ও বর্নাঢ্য জীবনের ওপর সাজ্জাদ রাহমান ও সানজিদা সুলতানা নির্মিত আলাদা দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর পরপরই সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

নোয়াখালীর প্রধান সংগীত খ্যাত ‘আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী, রয়্যাল ডিস্ট্রিক ভাই/হেনী মাইজদী চৌমুহনীর নাম কে হুনে নাই’ সহ হাজারও গানের গীতিকার ও সুরকার মোহাম্মদ হাশেমের জন্ম ১৯৪৭ সালের ১০ জানুয়ারি। সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে তার বাড়ি।

২০২০ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মোহাম্মদ হাশেম। মাইজদী শহরের বড় দিঘির উত্তর পাড়ে কোর্ট মসজিদের পাশে তিনি সমাহিত।

আরও পড়ুন:
লাইফ সার্পোটে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
বাংলা একাডেমির নতুন সভাপতি রফিকুল ইসলাম

শেয়ার করুন

নাচের মুদ্রার স্রষ্টাদের জানান ভালোবাসা

নাচের মুদ্রার স্রষ্টাদের জানান ভালোবাসা

কোরিওগ্রাফারের মননে তৈরি হয় একেকটি নাচের মুদ্র, আর সেটি বাস্তবে রূপ নেয় নৃত্যশিল্পীর মাধ্যমে। অন্তরালের সেই কোরিওগ্রাফারদের সম্মাননা জানাতে ৯ জানুয়ারি উদ্‌যাপন হয় আন্তর্জাতিক কোরিওগ্রাফার দিবস।

অসাধারণ সব মুদ্রায় সবাইকে মুগ্ধ করেন নৃত্যশিল্পী। কিন্তু যিনি এসব মনোমুগ্ধকর মুদ্রার স্রষ্টা, তিনি থেকে যান অন্তরালে। নৃত্যকলায় আড়ালে পড়ে থাকা সেই গুণীনকে বলা হয় কোরিওগ্রাফার।

কোরিওগ্রাফারদের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে তুলনা করলেও ভুল হবে না। রূপালি পর্দায় অভিনয় শিল্পীদের দেখে মানুষ হাসে, কাঁদে। অথচ তাদের অভিনয় দক্ষতা বের করে আনেন ক্যামেরা পেছনের পরিচালক। নাচের ক্ষেত্রে কোরিওগ্রাফারের ভূমিকাও অনেকটা একই রকম।

কোরিওগ্রাফারের আরেক পরিচয় ‘ড্যান্স রাইটার’ বা ‘নৃত্য রচয়িতা’। তাদের মননে তৈরি হয় একেকটি নাচ, আর সেটি বাস্তবে রূপ নেয় নৃত্যশিল্পীদের মাধ্যমে। অন্তরালের সেই কোরিওগ্রাফারদের সম্মাননা জানাতে ৯ জানুয়ারি উদ্‌যাপন হয় আন্তর্জাতিক কোরিওগ্রাফার দিবস

মানব ইতিহাসে ঠিক কবে থেকে নাচের শুরু, তার সঠিক কোনো হদিস নেই। প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে এই নৃত্যশিল্প।

গবেষণা বলছে, সভ্যতার শুরু থেকেই সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নাচের ব্যবহারও করছে মানুষ। এমনকি মানব সভ্যতার বিকাশেও সামাজিক উদযাপনের অংশ হয়েছে নাচ।

আজ থেকে ৯ হাজার বছর আগে ভারতীয় উপমহাদেশে নাচের জন্ম হয় বলে মনে করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। ভারতে পাওয়া ওই সময়ের গুহাচিত্র তেমন সাক্ষ্যই দিচ্ছে। ৫ হাজার ৩০০ বছরের পুরনো মিশরের সমাধি চিত্রেও নৃত্যকলার ছাপ পেয়েছেন গবেষকরা।

প্রাচীন গ্রিসে এমন এক আয়োজনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে সপ্তাহ জুড়ে মদ্যপানের পাশাপাশি নাচেরও প্রচলন ছিল।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নাচের মুদ্রার ধরন বদলেছে। নাচ, সংগীত এবং পারফরম্যান্সের যূথবদ্ধতায় দর্শক যখন বিমোহিত, তখন শিল্পীরাও কোরিওগ্রাফি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করলেন।

ঊনবিংশ শতকের দিকে ‘কোরিওগ্রাফি’ এবং ‘কোরিওগ্রাফার’ শব্দের ব্যবহার শুরু হয়। সময়ের চাহিদায় তৈরি হয় কোরিওগ্রাফির নতুন জগত। ‘কোরিওগ্রাফার’ শব্দের সুনির্দিষ্ট ব্যবহার ১৯৩৬ সালে।

ওই সময়ে ‘অন ইওর টুস’ শিরোনামে একটি ব্রডওয়ে শোর আয়োজন করেছিলেন জর্জ ব্যালানশাইন। তাকে কৃতিত্ব দিতেই শব্দটির প্রথম ব্যবহার। এর ঠিক ১৪ বছর পর ‘কোরিওগ্রাফি’ শব্দটিকে প্রথম আমেরিকান অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:
লাইফ সার্পোটে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
বাংলা একাডেমির নতুন সভাপতি রফিকুল ইসলাম

শেয়ার করুন

হাসান আরিফ আশঙ্কাজনক

হাসান আরিফ আশঙ্কাজনক

হাসান আরিফ। ফাইল ছবি

গোলাম কুদ্দুছ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসান আরিফ এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। কৃত্রিম উপায়েই তার সবকিছু চলছিল, এখনও চলছে। এখন স্বাভাবিকভাবে অল্প পালস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এটিকে উন্নতি বলা যায় না।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন হাসান আরিফ। এর মধ্যেই শনিবার বেলা ১১টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। এ ছাড়া জোটের সাবেক সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফও এ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

শনিবার রাতে গোলাম কুদ্দুছ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসান আরিফ এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। কৃত্রিম উপায়েই তার সবকিছু চলছিল, এখনও চলছে। এখন স্বাভাবিকভাবে অল্প পালস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এটিকে উন্নতি বলা যায় না।’

হাসান আরিফের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে একই কথা জানান নাসির উদ্দিন ইউসুফ।

হাসান আরিফ বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
লাইফ সার্পোটে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
বাংলা একাডেমির নতুন সভাপতি রফিকুল ইসলাম

শেয়ার করুন