তবুও খালেদাকে বিদেশে পাঠানোর পক্ষে তসলিমা

তবুও খালেদাকে বিদেশে পাঠানোর পক্ষে তসলিমা

বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার পক্ষে কথা বললেন তসলিমা নাসরিন। ছবি: নিউজবাংলা কোলাজ

১৩ নভেম্বর বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হসপিটালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

বেশ কিছুদিন ধরেই রাজধানীর এভারকেয়ার হসপিটালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বিদেশে তার উন্নত চিকিৎসার দাবিতে মাঠে আন্দোলনে নেমেছে বিএনপি।

এবার খালেদার বিদেশে চিকিৎসার পক্ষে কথা বললেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

এ নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

তসলিমা লেখেন, ‘খালেদা জিয়ার সরকার ১৯৯৪ সালে লোকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছি এই অভিযোগ করে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। আমার লেখা লজ্জা, উতল হাওয়া, ক, সেইসব অন্ধকার, একে একে নিষিদ্ধ করেছিল। ছলে বলে কৌশলে আমাকে দেশ থেকে বের করেছিল। দেশে আর প্রবেশ করতে দেয়নি।

‘তারপরও আমি চাই খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে চায় শুভাকাঙ্ক্ষীরা, নিয়ে যাক। তারপরও আমি চাই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।’

এদিকে বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে দলীয় প্রধানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা ভেরি ক্রিটিক্যাল। ডাক্তার সাহেব মনিটরিং করছেন। তারা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছেন।’

সরকারের কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুচিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘সরকার গত তিন বছরে তাকে (খালেদা জিয়াকে) কোনো চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, সরকার গণতন্ত্রকে হরণ করার জন্য এ ক্যারিশম্যাটিক নেত্রীকে বন্দি করে রেখেছে।’

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

আরও পড়ুন:
কারাগারে খালেদাকে স্লো পয়জনিং, সন্দেহ ফখরুলের
মাঝে মাঝে দুর্বল হয়ে পড়ছেন খালেদা: চিকিৎসক
খালেদাকে বিদেশ নিতে বিক্ষোভে যুবদল
রাজনীতির সুযোগ দিতেই খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর দাবি: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে কাল থেকে মাঠে নামছে বিএনপি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আমরা চাই খালেদা সুস্থ হোক, বিএনপি চায় মরে যাক: কাদের

আমরা চাই খালেদা সুস্থ হোক, বিএনপি চায় মরে যাক: কাদের

বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ঢাকা মহানগরের সংসদ সদস্যদের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা তো তার মৃত্যু কামনা করছি না। আমরা চাই তিনি আরোগ্য লাভ করুক। … তাদের (বিএনপি নেতা) বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে একজন জীবিত মানুষকে তারা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। তারা মনে হয় চাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু হোক। আমরা শুনতে পাচ্ছি, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, খালেদা জিয়া মরলে, বিএনপি কী পরিস্থিতি তৈরি করবে, কীভাবে এটা গণঅভ্যুত্থান তৈরি করবে, সে পরিকল্পনার নীলনকশা তারা তৈরি করছে।’

বিএনপি তার চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু কামনা করছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, তারা চান বিএনপি নেত্রী সুস্থ হয়ে উঠুন।

বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ঢাকা মহানগরের সংসদ সদস্যদের মতবিনিময় সভা শেষে এমন কথা বলেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঠিক করতে ওই সভা ডাকা হয়েছিল।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে রাখা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতা বেশি কথা বলেন বিএনপির আন্দোলনের হুমকি ও দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ইস্যুতে।

খালেদা জিয়া মারা গেলে রাজনীতি প্রভাব পরবে বলে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, ‘প্রভাব পরবে, কি না পরবে, সেটা তো পরের বিসয়। কিন্তু বেগম জিয়ার মৃত্যুর আগের কেন তারা এটা কামনা করছে? আমরা তো তার মৃত্যু কামনা করছি না। আমরা চাই তিনি আরোগ্য লাভ করুক।’

তিনি বলেন, ‘তাদের (বিএনপি নেতা) বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে একজন জীবিত মানুষকে তারা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। তারা মনে হয় চাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু হোক। আমরা শুনতে পাচ্ছি, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, খালেদা জিয়া মরলে, বিএনপি কী পরিস্থিতি তৈরি করবে, কীভাবে এটা গণঅভ্যুত্থান তৈরি করবে, সে পরিকল্পনার নীলনকশা তারা তৈরি করছে। ওই গণ অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে কীভাবে তারেক জিয়াকে টেমস নদীর ওপার থেকে দেশে ফিরিয়ে এসে এদেশে খমিনী স্টাইলে একটা বিপ্লব করার স্বপ্ন তারা দেখছে। সে স্বপ্ন তাদের দুঃস্বপ্নই থাকবে।’

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে আইন নয়, সরকার বাধা বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি যত না উদ্যোগী, তার চেয়ে বেশি হচ্ছে তারা স্বাস্থ্যকে কেন্দ্র করে তারা রাজনীতির ইস্যু খুঁজে বেরাচ্ছে।

‘এটার মধ্য দিয়ে তারা রাজনীতির মাঠ গরম করতে চায়। তাদের ঝিমিয়ে পড়া নেতা-কর্মীদের চাঙা করতে চায়। তারা দেশে একটা বিশৃঙ্খলার আবর্ত তৈরি করতে চায়। সে কারণে বেগম জিয়াকে নিয়ে তারা একেক সময় একেক কথা বলছে।’

খালেদা জিয়াকে বিষ দেয়ার বিষয়ে মির্জা ফখরুল যে অভিযোগ এনেছেন, সেটি নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘মির্জা ফখরুল কী করে বলেন স্লো পয়জনিং করে বেগম জিয়াকে মারা ষড়যন্ত্র করছে সরকার? ডাক্তার সব আপনাদের, আওয়ামী লীগের ডাক্তারদের তো ওখানে ‍ঢুকতে দেন না। গৃহপরিচালিকা আগেও ছিল, এখনও আছে, সঙ্গে মির্জা ফখরুলরা ঘুরঘুর করেন। স্লো পয়জনিং করলে তো আপনারাই করছেন।’

বিএনপি একটি অশুভ পরিস্থিতি তৈরির ‘প্রণান্তকর অপপ্রয়াস’ করছে বলেও মনে করেন সড়ক মন্ত্রী। কবলেন, ‘বিএনপি বিভিন্নভাবে সামাজিক আন্দোলগুলোতে, ছাত্রদের হাফভাড়ার দাবি, নিরাপদ সড়ক, গামেন্টর্স শ্রমিকদের আন্দোলনে বাতাস দিচ্ছে, উসকানি দিচ্ছে। মাঠে নামার জন্য বিভিন্নভাবে তারা একটা সহিংস বিশৃঙ্খলার আবর্ত তৈরি করার সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহিত রেখেছে।’

যে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যদি সহিংসতা করা হয়, তাহলে তারা কঠোর হবেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সরকার ঢাকা শহরকে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করতে চায় বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এখানে আলোকসজ্জা করবো। আমাদের কর্মসূচির মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর বিশেষভাবে রয়েছে, উৎসবমুখর বিজয়শোভা যাত্রা করব, যা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন থেকে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত যাব।’

আরও পড়ুন:
কারাগারে খালেদাকে স্লো পয়জনিং, সন্দেহ ফখরুলের
মাঝে মাঝে দুর্বল হয়ে পড়ছেন খালেদা: চিকিৎসক
খালেদাকে বিদেশ নিতে বিক্ষোভে যুবদল
রাজনীতির সুযোগ দিতেই খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর দাবি: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে কাল থেকে মাঠে নামছে বিএনপি

শেয়ার করুন

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

টিআইপিএস সাধারণ সম্পাদক ও বিএসএমএমইউ'র ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে তিনি লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় বিদেশে নিয়ে যে চিকিৎসা দেয়া হবে তা খালেজা জিয়ার জন্য ঝুঁকির বলে মত দিয়েছে লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ (এএসএলডিবি)।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পরবর্তী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের যথেষ্ট সচেষ্ট থাকারও পরামর্শ দিয়েছে এএসএলডিবি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চাইছেন আসলেই এই রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব কীনা। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।’

ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে খালেদা জিয়া লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন একজন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

চিকিৎসায় ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিআইপিএসের ক্ষেত্রে চিকিৎসা-পরবর্তী জটিলতা বিশেষ করে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি অর্থাৎ লিভার রোগজনিত অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়াও টিআইপিএস করার সময় হার্টের জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিরাপথে ডাই ব্যবহারে কিডনির জটিলতাও বহু মাত্রায় বাড়তে পারে। অর্থাৎ টিআইপিএস করার সময়ও হার্ট ডিজিজ বা কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের প্রসিডিউরজনিত জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এসব ঝুঁকি মাথায় রেখে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা আছে। তবে সব রোগীর জন্য সব চিকিৎসা নয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পোর্টাল হাইপারটেনশনজনিত বিভিন্ন কারণ, যেমন ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক এন্ট্রাল ভাসকুলার একটাশিয়া ইত্যাদি থেকে খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে রক্তপাত হতে পারে।

ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধে ইসোফেজিয়াল ভ্যারিসিয়াল লাইগেশন (ইভিএল) একটি বহুল ব্যবহৃত স্বীকৃত চিকিৎসা। বার বার রক্তক্ষরণ বন্ধের ক্ষেত্রেও ইভিএল করা যায়। এছাড়া পোর্টাল হাইপারটেনশনের কারণে বার বার রক্তক্ষরণ এবং যথাযথ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগের পরও বার বার আসা পেটের পানির (রিফ্র্যাক্টরি এসাইটিস) চিকিৎসার ক্ষেত্রেও টিআইপিএস করা যায়।

লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিএনপি নেত্রীর যকৃৎ বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা সেটি আবার সামাল দেয়া কঠিন হবে।

দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ বাংলাদেশে নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গত রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি নেত্রীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ব্রিফিং করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। তারা দাবি করেন, খালেদা জিয়ার যে রোগ হয়েছে তার চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত সেন্টারে সম্ভব। বাংলাদেশে এই চিকিৎসার কারিগরি সুযোগ-সুবিধা যেমন নেই, তেমনি ওষুধও নেই। আরও চার মাস আগে বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে তার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতো না বলেও দাবি করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিএনপির গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান।

এরপর সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এ রোগের বিশ্ব মানের চিকিৎসা সেবা দিতে সক্ষম। এবার লিভার বিশেষজ্ঞদের বিজ্ঞপ্তি এলো গণমাধ্যমে।

আরও পড়ুন:
কারাগারে খালেদাকে স্লো পয়জনিং, সন্দেহ ফখরুলের
মাঝে মাঝে দুর্বল হয়ে পড়ছেন খালেদা: চিকিৎসক
খালেদাকে বিদেশ নিতে বিক্ষোভে যুবদল
রাজনীতির সুযোগ দিতেই খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর দাবি: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে কাল থেকে মাঠে নামছে বিএনপি

শেয়ার করুন

খালেদাকে লন্ডনে নিয়ে অপরাজনীতির প্ল্যাটফর্ম খোলা হবে: মেয়র লিটন

খালেদাকে লন্ডনে নিয়ে অপরাজনীতির 
প্ল্যাটফর্ম খোলা হবে: মেয়র লিটন

টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতাশেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র লিটন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক জিয়া অজস্র অপকর্মের নায়ক। হত্যা, খুনসহ বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি এখন লন্ডনে আছেন। তিনি তার মাকে লন্ডনে নিয়ে গিয়ে আরেকটি অপরাজনীতির প্লাটফর্ম যে খুলবেন না সেটা বলা যায় না। তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা পানি ঘোলা করার একটি অপচেষ্টা।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাকে লন্ডনে নিয়ে গিয়ে অপরাজনীতির আরেকটি প্ল্যাটফর্ম খোলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মেয়র লিটন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক জিয়া অজস্র অপকর্মের নায়ক। হত্যা, খুনসহ বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি এখন লন্ডনে আছেন।

‘তিনি তার মাকে লন্ডনে নিয়ে গিয়ে আরেকটি অপরাজনীতির প্ল্যাটফর্ম যে খুলবেন না সেটা বলা যায় না। তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা পানি ঘোলা করার একটি অপচেষ্টা।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে যখন দৃশ্যমান উন্নয়ন চলছে, তখন একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করে দেশের মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। সেই কারণে একসঙ্গে থেকে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

দলের সদস্যদেরই বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে বিরোধিতা করার বিষয়ে লিটন বলেন, ‘দু-একটি জায়গায় এমন ঘটনা ঘটছে। সে বিষয়ে আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। আমরা দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় রয়েছি। দেশের কল্যাণে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী।

‘তিনি দলের দিকে নজর রাখলেও ফাঁক-ফোকর দিয়ে কোনো ব্যক্তি যারা অন্য চেতনায় বিশ্বাসী তারা যে দলে চলে আসেনি তা বলা যাবে না।’

এর আগে ফুল ‍দিয়ে বঙ্গবন্ধু সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। পরে বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

ওই সময় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, প্যানেল মেয়র সরিফুল ইসলাম বাবুসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
কারাগারে খালেদাকে স্লো পয়জনিং, সন্দেহ ফখরুলের
মাঝে মাঝে দুর্বল হয়ে পড়ছেন খালেদা: চিকিৎসক
খালেদাকে বিদেশ নিতে বিক্ষোভে যুবদল
রাজনীতির সুযোগ দিতেই খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর দাবি: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে কাল থেকে মাঠে নামছে বিএনপি

শেয়ার করুন

খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

‘খালেদা জিয়ার সুস্থ হওয়াকে তিনি বিপদ মনে করছেন। এই বিপদ দেখেই নানা টালবাহানা করছেন। কোনো টালবাহানা চলবে না, আপনি কিছুই করতে পারবেন না।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করে তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর অনুমতি দিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে রাজধানীর নয়াপল্টনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আপনাদের উদ্দেশ্য খারাপ। আপনারা খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) চান খালেদা জিয়ামুক্ত বিএনপিমুক্ত বাংলাদেশ। এইটা আপনার ইচ্ছা। সে কারণে যে করেই হোক খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে।’

বিএনপি নেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হুমকি মনে করেন বলে মন্তব্য রিজভীর। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সুস্থ হওয়াকে তিনি বিপদ মনে করছেন। এই বিপদ দেখেই নানা টালবাহানা করছেন। কোনো টালবাহানা চলবে না, আপনি কিছুই করতে পারবেন না।

‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে যে আগুন জ্বলবে, এই আগুন মিট মিট করে জ্বলবে না, এই আগুন ধিকি ধিকি করে জ্বলবে না। এই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলবে এবং অত্যাচারীদের সকল শৃঙ্খল ছারখার করে পুড়িয়ে দেবে।’

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে, তাদের নেত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, ভ্যারি ক্রিটিক্যাল। জরুরি ভিত্তিতে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানো দরকার।

তবে এ বিষয়ে কোনো সবুজ সংকেত নেই সরকার থেকে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে একবার সাজা শিথিল করায় খালেদাকে বিদেশ যেতে অনুমতি দেয়ার আর কোনো আইনি সুযোগ নেই।

আইনমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আপনি কোথা থেকে আইন পেয়েছেন। আপনি অসত্য কথা বলছেন, আপনি মিথ্যা কথা বলছেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে নির্যাতন করার জন্যই এই কথা বলছেন মিথ্যাবাদী আইনমন্ত্রী।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন বিএনপি নাকি চোরাগলি দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। কোথায় আমরা চেষ্টা করলাম? আমরা তো রাজপথে দাঁড়িয়ে আছি, রাজপথেই চেষ্টা করছি। আমাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন নেমে আসছে তার পরও আমরা রাজপথে আছি।

‘আজকে জাতীয়বাদী মহিলা দলের একটা মৌন মিছিল, যেখানে কোনো আওয়াজ হবে না সেই কর্মসূচিতেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে। আপনারা কী এমন করছেন যে আপনাদের এত ভয়। মহিলা দলের একটা প্রোগ্রাম ঠিকমতো করতে দেন না। কেন এত ভয়? ভয় থাকে চোরদের, যারা চোরাপথে ক্ষমতায় গিয়ে থাকে তাদের ভয় থাকে। বেগম খালেদা কিন্তু কোনো দিন চোরাগলির ভোট করেননি। তিনি কখনও নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রী হননি। তার বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি ভোটে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করেছে শেখ হাসিনার নেত্রীত্বে।’

মৌন সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, নিলুফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খানসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
কারাগারে খালেদাকে স্লো পয়জনিং, সন্দেহ ফখরুলের
মাঝে মাঝে দুর্বল হয়ে পড়ছেন খালেদা: চিকিৎসক
খালেদাকে বিদেশ নিতে বিক্ষোভে যুবদল
রাজনীতির সুযোগ দিতেই খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর দাবি: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে কাল থেকে মাঠে নামছে বিএনপি

শেয়ার করুন

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন

রোববারের ভোটে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করা আওয়ামী লীগ নেতারা। আরও বেশ কিছু ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন অন্তত ২৬৭ এলাকায়। সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, যারা জিতেছে ১৫টির মতো ইউনিয়নে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন নেতা জিতেছেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জন করলেও তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেশ ভালো ফল করেছেন বিএনপির নেতারা। রোববারের এই ভোটে সারা দেশে অন্তত ৯৬ জন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতে এসেছেন।

বিভাগওয়ারি হিসাব করলে বিএনপির এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে ভালো করেছেন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে। রংপুর বিভাগে জিতেছেন ২৪ জন আর রাজশাহী বিভাগে ২০ জন নেতা।

এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ১৩ জন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন করে এবং খুলনা বিভাগে জিতেছেন ৯ জন নেতা। কেবল বরিশাল বিভাগে কেউ জিততে পারেননি।

তৃণমূলের ভোটে বিএনপি নেতাদের জিতে আসার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সাধারণ জনগণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা জনগণের সরকার চায়। তারই প্রতিচ্ছবি এটা; এখন যার প্রমাণ আপনারাও পাচ্ছেন।’

গত কয়েক বছরে বিএনপি জাতীয় ও স্থানীয় যেসব নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নিয়েছে, তাতে তারা ভালো ফল করতে পারেনি। দলটির পক্ষ থেকে অবশ্য ভোট সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তাদের সমর্থকদের ভোট দিতে দেয়া হয় না, প্রচারেও বাধা দেয়া হয়।

চলতি বছর পৌরসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনার পর বর্তমান সরকার আর নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো ভোটে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ফলে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তাদের কোনো প্রার্থী নেই।

এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ভোট হয়েছে তিন ধাপে, যার মধ্যে সবশেষ ভোট হয় রোববার।

এই ধাপে নির্বাচন কমিশন ১ হাজার ৭টি ইউনিয়নে ভোটের তফসিল ঘোষণা করে। তবে রোববার ভোট হয় সাড়ে আটশর কিছু বেশি এলাকায়। এর আগেই বেশ কিছু এলাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে যান।

তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী না দিলেও বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতারা ভোটে অংশ নেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে। দলের পুরো সমর্থনও তারা পেয়েছেন নানা এলাকায়।

গত ২ নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যা বলেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে বিএনপি এই ভোটে না থেকেও আছে।

তিনি সেদিন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করাটা সঠিক নয়। তাই বিএনপি এ নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না। তবে বিএনপি থেকে কেউ স্বতন্ত্র হয়ে অংশ নিলে সেখানে বাধা নেই।’

রোববারের ভোটে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করা আওয়ামী লীগ নেতারা। আরও বেশ কিছু ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন অন্তত ২৬৭ জন। দলীয় প্রতীকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, যারা জিতেছে ১৫টির মতো এলাকায়।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র পরিচয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে জিতেছেন। এর মধ্যে রংপুর বিভাগে দুজন আর রাজশাহী বিভাগে আছেন ছয়জন।

এই ছয়জনের মধ্যে দুজন সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের। তিনজন আছেন রাজশাহীর নওগাঁর, দুজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আর একজন আছেন রাজশাহীর।

ইসলামী আন্দোলন, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ৩২ জন প্রার্থীও জিতে এসেছেন রোববারের ভোটে।

রংপুর বিভাগে জিতলেন বিএনপির যে নেতারা

এই জেলায় বিএনপির নেতারা সবচেয়ে ভালো করেছেন দিনাজপুরে। দুই উপজেলায় মোট ছয়টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন তারা।

এই জেলার ফুলবাড়ীর ১ নম্বর এলুয়াড়ী ইউনিয়নে নবিউল ইসলাম, বিরামপুর উপজেলায় ৪নং দিওড় ইউনিয়নে আব্দুল মালেক ও ৫নং বিনাইল ইউপিতে হুমায়ন কবীর বাদশা জয় পেয়েছেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২ নম্বর বিনোদনগড় ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম, ৪ নম্বর শালখুরিয়া ইউনিয়নে তারা মিয়া এবং ৫ নম্বর পুটিমারা ইউনিয়নে আনিছুর রহমান জয় পেয়েছেন।

বিএনপি ভালো করেছে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটেও। দুই জেলাতেই পাঁচজন করে নেতা জয় পেয়েছেন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ঘোগাদহ ইউনিয়নে আবদুল মালেক, ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে সাইদুর রহমান, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নে শফিউল আলম শফি, রায়গঞ্জ ইউনিয়নে আরিফুল ইসলাম দীপ ও নারায়ণপুর ইউনিয়নে মো. মোস্তফা পেয়েছেন জয়।

লালমনিরহাটে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে আব্দুল মজিদ মণ্ডল, কুলাঘাট ইউনিয়নে ইদ্রিস আলী, বড়বাড়ি ইউনিয়নে হবিবর রহমান হবি, দলগ্রাম ইউনিয়নে ইকবাল হোসেন এবং ভোটমারী ইউনিয়নে জিতেছেন ফরহাদ হোসেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে জিতেছেন বিএনপির তিন নেতা। এর মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে মোখলেছুর রহমান চৌধুরী, সেনগাঁওয়ে সাইদুর রহমান এবং বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থানের এই জেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৮টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে ১৪টিকে নৌকা আর একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা জিতেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও আওয়ামী লীগের মাহাবুবার রহমানের ভোট সমান হওয়ায় ফলাফল ড্র হয়েছে।

এই বিভাগের পঞ্চগড় ও গাইবান্ধায় জয় পেয়েছেন বিএনপির দুজন করে নেতা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে রবিউল ইসলাম ও আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে জিতেছেন আবদুস সামাদ, যাদেরকে বিএনপি মার্কা না দিলেও সমর্থন দিয়েছিল।

গাইবান্ধায় পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নে মাহাবুবুর রহমান মণ্ডল ও হরিনাথপুর ইউনিয়নে মো. কবির হোসাইন জাহাঙ্গীর জয় পেয়েছেন।

নীলফামারী জেলায় জিতেছেন বিএনপির একজন নেতা। কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে জিতেছেন মোস্তাকিনুর রহমান।

রাজশাহী বিভাগে বিএনপির যে নেতাদের জয়

এই বিভাগের মধ্যে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে বেশি জিতেছেন বগুড়ায়। দলটির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জেলাটিতে ১০ জন নেতা জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

এদের মধ্যে সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নে সহিদুল ইসলাম সরকার, সাবগ্রাম ইউনিয়নে ফরিদ উদ্দিন সরকার, লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নে জুলফিকার আবু নাসের আপেল মাহমুদ, শেখেরকোলা ইউনিয়নে জিতেছেন রশিদুল ইসলাম মৃধা।

ধনুট উপজেলায় জিতেছেন কালেরপাড়া ইউনিয়নে সাজ্জাদ হোসেন, চিকাশি ইউনিয়নে জাকির হোসেন, গোসাইবাড়ী ইউনিয়নে মাসুদুল হক বাচ্চু, ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বেলাল হোসেন, শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নে আতিকুর রহমান এবং মাদলা ইউনিয়নে আতিকুর রহমান।

এই বিভাগে চারজন করে বিএনপির নেতা জিতেছেন নাটোর ও নওগাঁয়।

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়ারদিয়ার ইউনিয়নে এসএম লেলিন, জামনগরে গোলাম রাব্বানী, লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নে আব্দুল আজিজ রঞ্জু আর বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে জিতেছেন সিদ্দিক আলী মিষ্টু।

নওগাঁর প্রসাদপুর ইউনিয়নে আব্দুল মতিন, বিষ্ণপুর ইউনিয়নে এসএম গোলাম আজম, গণেশপুর ইউনিয়নে শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরী এবং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নে আব্দুস সালাম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নে মাহমুদুল হক হায়দারী এবং পাঁকা ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল মালেক।

সিলেট বিভাগে বিএনপির যে নেতারা জিতলেন

গোটা বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে ভালো করেছেন সুনামগঞ্জে। এই জেলার সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৭টি ইউনিয়নে। এর ছয়টিতে জিতেছেন বিএনপি নেতারা। পক্ষান্তরে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ জিততে পেরেছে কেবল দুটি ইউনিয়নে।

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন



সদর উপজেলা রঙ্গারচর ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে জিতেছেন বিএনপি নেতা মো. আব্দুল হাই, মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে জিতেছেন নুরুল হক, লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল ওয়াদুদ৷

শান্তিগঞ্জে স্বতন্ত্র পরিচয়ে জয়ী বিএনপির নেতারা হলেন দরগাপাশা ইউনিয়নে ছুফি মিয়া, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে মাসুক মিয়া ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে লুৎফর রহমান জায়গীরদার খোকন।

লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে নির্বাচিত জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের জবাব দিয়েছে। আমাদের শঙ্কা ছিল ক্ষমতাসীনরা কিছু করে কি না। তবে সবকিছুকে হারিয়ে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে আমাকে জয়ী করেছে। আমি এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান হয়েছি। মানুষও জানে কাকে ভোট দিলে মেহনতি মানুষের উন্নয়ন হয়।’

হবিগঞ্জের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা হলেন সদর উপজেলার গোপায়া ইউনিয়নে আব্দুল মন্নান, নবীগঞ্জ উপজেলার দিঘলবাগ ইউনিয়নে মোহাম্মদ ছালিক মিয়া এবং বাউসা ইউনিয়নে সাদিকুর রহমান শিশু।

সিলেট ও মৌলভীবাজারে জয় পেয়েছেন বিএনপির দুজন করে নেতা। এদের মধ্যে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্তে বাহারুল আলম বাহার ও গোয়াইনঘাটের রুস্তমপুরে জিতেছেন শাহাব উদ্দিন।

মৌলভীবাজারের এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে জিতেছেন জয়নাল আবেদীন। কুলাউড়া উপজেলায় ভূকশিমইলে জিতেছেন আজিজুর রহমান। তিনি গতবারও জিতেছিলেন।

ঢাকা বিভাগে যারা জিতলেন

এই বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে টাঙ্গাইলে। এ জেলায় তিনজন সক্রিয় বিএনপি নেতা এবং একজন নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া নেতা জিতেছেন। এই জেলায় ভোট হয়েছে মোট তিনটি উপজেলায়। এর মধ্যে বিএনপি সম্পৃক্তরা জিতেছেন কেবল নাগরপুর ইউনিয়নে।

এরা হলেন গয়হাটা ইউনিয়নে সামছুল হক, ভাদ্রা ইউনিয়নে শওকত হোসেন ও সহবতপুর ইউনিয়নে তোফায়েল আহমেদ। পাকুটিয়া ইউনিয়নে জয়ী সিদ্দিকীকুর রহমানও বিএনপি করতেন। তবে সম্প্রতি তিনি দলীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান।

দ্বিতীয় দুজন করে নেতা জয় পেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ ও ফরিদপুরে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের তোতা মিয়া মুন্সী আর টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন রোকনুজ্জামান রিগ্যান।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নে ইয়াকুব আলী (বিএনপি সমর্থক), বর্তমানে কোনো পদে নেই) এবং চরহরিরামপুর ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর কবির (বিএনপি সমর্থক), বর্তমানে কোনো পদে নেই)।

কিশোরগঞ্জে কুলিয়ারচর, নিকলী ও সদর উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২৩টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে বিএনপি থেকে জিতেছেন একজন নেতা। সদর উপজেলায় চৌদ্দশত ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন দলটির নেতা আতহার আলী।

নরসিংদীতেও জয় পেয়েছেন বিএনপির একজন নেতা। চিনিশপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হয়েছেন মেহেদী হাসান ভূইয়া তুহিন।

চট্টগ্রাম বিভাগে জয় যাদের

এই বিভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলায় বিএনপির তিনজন করে নেতা জয় পেয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাকশিমুল ইউনিয়নে কাওসার হোসেন, সদর ইউনিয়নে আবদুল জব্বার, চুন্টা ইউনিয়নে জিতেছেন মনসুর আহমেদ।

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম, ঘাগটিয়া ইউনিয়নে মফিজুল ইসলাম গনি ও ঘারমোড়া ইউনিয়নে জিতেছেন শাহজাহান মোল্লা। বিএনপির এই তিন নেতার পক্ষে দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রচারে ছিলেন।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় জয় পেয়েছেন বিএনপির দুই নেতা। এরা হলেন ছাতারপাইয়া ইউনিয়নে আবদুর রহমান ও কাবিলপুর ইউনিয়নে বাহার হোসেন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ছিপাতলী ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপি নেতা নূরুল আহসান লাভু।

চাঁদপুরে মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম।

খুলনা বিভাগে বিজয়ী বিএনপির নেতারা

এই বিভাগে এক জেলায় বিএনপির সর্বোচ্চ তিনজন নেতা জিতেছেন সাতক্ষীরায়। এরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগরে জাহাঙ্গীর আলম, পারুলিয়ায় গোলাম ফারুক বাবু এবং দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা ইউনিয়নে আব্দুল মতিন।

বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুজন নেতা জয় পেয়েছেন যশোরে। এরা হলেন মনিরামপুর উপজেলায় মনিরামপুর সদরে নিস্তার ফারুক এবং মনোহরপুরে আকতার ফারুক মিন্টু।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে জিতেছেন খোয়াজ হোসেন মাস্টার।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল মান্নান।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নে বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটরসাইকেল) তোবারক হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।

মাগুরার শালিখা উপজেলার শালিখা ইউনিয়নে জিতেছেন ইউনিয়নে বিএনপির আহ্বায়ক হুসেইন শিকদার।

ময়মনসিংহ বিভাগের জয়ীরা

এই বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে বেশি জিতেছেন শেরপুরে। এই জেলায় দলটির পাঁচজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন।

তারা হলেন নকলা উপজেলার ৭ নম্বর টালকি ইউনিয়নের মোজাফফর আহমদ বুলবুল, নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের আতাউর রহমান, মরিচপুরান ইউনিয়নের আয়ুব আলী, কলসপাড় ইউনিয়নের আবদুল মজিদ ও নয়াবিল ইউনিয়নের মিজানুর রহমান।

নেত্রকোনায় জিতেছেন বিএনপির তিন নেতা। তারা হলেন কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের সাইদুর রহমান ভুইয়া, রংছাতি ইউনিয়নের আনিসুর রহমান খান পাঠান বাবুল ও দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আব্দুল আওয়াল।

ময়মনসিংহে জিতেছেন দুজন। তারা হলেন ত্রিশাল উপজেলার ৩ নম্বর কাঁঠাল ইউনিয়নের নূরে আলম সিদ্দিকী ও মুক্তাগাছা উপজেলার ৬ নম্বর মানকোন ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম।

এই বিভাগের অন্য জেলা জামালপুরে বিএনপির কোনো নেতা চেয়ারম্যান হতে পারেননি।

প্রতিবেদনটি প্রস্তুত হয়েছে সারা দেশে নিউজবাংলার প্রতিবেদকদের তথ্যে

আরও পড়ুন:
কারাগারে খালেদাকে স্লো পয়জনিং, সন্দেহ ফখরুলের
মাঝে মাঝে দুর্বল হয়ে পড়ছেন খালেদা: চিকিৎসক
খালেদাকে বিদেশ নিতে বিক্ষোভে যুবদল
রাজনীতির সুযোগ দিতেই খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর দাবি: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে কাল থেকে মাঠে নামছে বিএনপি

শেয়ার করুন

ইউপিতে বিদ্রোহীদের জয়ে ‘চিন্তিত নয়’ আওয়ামী লীগ

ইউপিতে বিদ্রোহীদের জয়ে ‘চিন্তিত নয়’ আওয়ামী লীগ

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোলার একটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই বড় দলে বিদ্রোহী প্রার্থী গতবারও ছিল, অনেক জায়গায় জয়লাভও করেছেন। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তারাও কিন্তু আওয়ামী লীগই করেন, অন্য দল করেন না। সার্বিকভাবে (এবার) বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। বড় দলের ক্ষেত্রে এটি হতেই পারে, গতবারও এমন হয়েছে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজয়ে ‘চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই’ বলে মনে করছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বেশির ভাগ জায়গায় নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আছেন। অন্যান্য দল কৌশল নিয়ে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে অংশ নিয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টির লোকজনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, নির্বাচনে তাদের সাফল্য নেই বললেই চলে।’

আওয়ামী লীগ একটি বড় দল মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই বড় দলে বিদ্রোহী প্রার্থী গতবারও ছিল, অনেক জায়গায় জয়লাভও করেছেন। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তারাও কিন্তু আওয়ামী লীগই করেন, অন্য দল করেন না। সার্বিকভাবে (এবার) বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। বড় দলের ক্ষেত্রে এটি হতেই পারে, গতবারও এমন হয়েছে।’

ইউপি নির্বাচনে তৃতীয় দফায় ভোট হয় গত রোববার। সারা দেশে যেসব ইউনিয়নে ভোট হয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটিতে ফলাফল স্থগিত আছে। বাকিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছে নৌকা মার্কা নিয়ে লড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬৭টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে লড়াই করা প্রার্থীরা।

এর আগের দুই ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও নৌকা ডুবিয়েছেন কয়েক শ আওয়ামী লীগ নেতা। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের পদক্ষেপ, ভবিষ্যতে আর কখনও মনোনয়ন না দেয়ার সতর্কতার পরেও বিদ্রোহী নেতারা সেসব গা করেননি।

রোববারের ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি ধরাশায়ী করেছেন খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতারা। সেখানে আওয়ামী লীগের যতজন জিতেছেন, তার প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে জয় পেয়েছেন মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা।

আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান থাকা ঢাকা ও রংপুর বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্রোহী নেতা হারিয়ে দিয়েছেন নৌকার প্রার্থীদের। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তুলনামূলক বিচারে কম ভালো করেছেন।

আরও পড়ুন:
কারাগারে খালেদাকে স্লো পয়জনিং, সন্দেহ ফখরুলের
মাঝে মাঝে দুর্বল হয়ে পড়ছেন খালেদা: চিকিৎসক
খালেদাকে বিদেশ নিতে বিক্ষোভে যুবদল
রাজনীতির সুযোগ দিতেই খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর দাবি: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে কাল থেকে মাঠে নামছে বিএনপি

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার খনি দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানি পেছাল

খালেদা জিয়ার খনি দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানি পেছাল

হাসপাতালে খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির নির্ধরিত দিন ছিল বুধবার। তবে মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকায় শুনানি পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় আভিযোগ গঠনের (চার্জ) বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়েছে।

বুধবার কেরানীগঞ্জে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরান আসামি পক্ষের সময় আবেদন গ্রহণ করে শুনানির জন্য ২০ জানুয়ারি নতুন তারিখ দেন।

মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির নির্ধরিত দিন ছিল বুধবার। তবে মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকায় শুনানি পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার।

পরে আদালত সময়ের আবেদন গ্রহণ করেন বলে নিশ্চিত করেন খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম ও ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আলম ১৩ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় এই মামলা করেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় ৬ আসামি মারা যান।

আরও পড়ুন:
কারাগারে খালেদাকে স্লো পয়জনিং, সন্দেহ ফখরুলের
মাঝে মাঝে দুর্বল হয়ে পড়ছেন খালেদা: চিকিৎসক
খালেদাকে বিদেশ নিতে বিক্ষোভে যুবদল
রাজনীতির সুযোগ দিতেই খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর দাবি: তথ্যমন্ত্রী
খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে কাল থেকে মাঠে নামছে বিএনপি

শেয়ার করুন