সঞ্জীবের চলে যাওয়ার ১৪

সঞ্জীবের চলে যাওয়ার ১৪

সঞ্জীব চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

১৯৯৬ সালে বাপ্পা মজুমদারসহ কয়েকজনকে নিয়ে সঞ্জীব তৈরি করেন গানের দল ‘দলছুট’, যা তাকে এনে দেয় খ্যাতি। তবে মিছিলে মিছিলে মুক্তির গান গাওয়া সঞ্জীব প্রায় অজানা এক মানুষ, কিন্তু তার ‘রাশপ্রিন্ট’- এ খুঁজে পাওয়া যায় সেই সঞ্জীবকে। তবে তিনি বেশি সাধারণের হয়ে উঠেছিলেন তার গানের মাধ্যমে।

‘গাড়ি চলে না’, ‘বায়োস্কোপ’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’র মতো লোকগানগুলোকে নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন তিনি। নব্বইয়ের দশক থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে টগবগে এ যুবক গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে রাজপথে গানে গানে বলে গেছেন গণমানুষের কথা।

তার গানে গানে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে প্রেম, বিরহ, সমাজ, রাজনীতি, বিদ্রোহ ও প্রতিবাদের কথা, তিনি সঞ্জীব চৌধুরী।

আজ সব্যসাচী সেই মানুষটির চলে যাওয়ার দিন। যিনি একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, সাংবাদিক, নাট্যকার ও সংগঠক।

১৯৯০ সালে প্রকাশিত সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিস্পর্ধী গদ্য ‘রাশপ্রিন্ট’। বলা উত্ত্যুক্তি হবে না যে বইটি সে সময়ের নথীকৃত দৃশ্যগাথা।

আশির দশকের স্বৈরাচারী সরকার রাষ্ট্র-ক্ষমতা দখল করে আমাদের সমাজ আর মগজে যে পৈশাচিক দখলদারত্ব কায়েম করেছিল ‘রাশপ্রিন্ট’ তারই গদ্য-কল্প।

১৯৯৬ সালে বাপ্পা মজুমদারসহ কয়েকজনকে নিয়ে সঞ্জীব তৈরি করেন গানের দল ‘দলছুট’, যা তাকে এনে দেয় খ্যাতি।

তবে মিছিলে মিছিলে মুক্তির গান গাওয়া সঞ্জীব প্রায় অজানা এক মানুষ, কিন্তু তার ‘রাশপ্রিন্ট’-এ খুঁজে পাওয়া যায় সেই সঞ্জীবকে।

তবে তিনি বেশি সাধারণের হয়ে উঠেছিলেন তার গানের মাধ্যমে। ৪৩ বছর বেঁচেছেন তিনি। কাজের হিসেবে এই সময়েই তার অর্জন বিশাল। যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই কাজ করেছেন এ ক্ষণজন্মা। সংগীতে নানাভাবে পাওয়া গেছে তাকে।

‘আমি ঘুরিয়া ফিরিয়া সন্ধান করিয়া, স্বপ্নের অই পাখি ধরতে চাই’ গানটিতে কোনো এক স্বপ্নবাজ সঞ্জীবকে খুঁজে পাওয়া যায়।

আবার ভালোবাসার মধুর স্মৃতি মনে করে তিনি গেয়ে ওঠেন ‘তোমার বাড়ির রঙের মেলায়’।

একজন প্রেমিক সঞ্জীবের দেখা বেশ ভালোভাবেই পাওয়া গেছে তার সৃষ্টিকর্মে। ‘সাদা ময়লা রঙ্গিলা পালে’, ‘হাতের উপর হাতের পরশ’, ‘চোখটা এত পোড়ায় কেন’, ‘তোমার ভাঁজ খোলো আনন্দ দেখাও’, ‘হৃদয়ের দাবি’, ‘আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ’সহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গান রয়েছে সঞ্জীবের।

এসব গানের মাধ্যমেই সঞ্জীবের বিভিন্ন স্বপ্ন ও কথা বয়ে বেড়ায় এ প্রজন্মের তরুণেরা। তাই তো এখনও কোনো তরুণ প্রাণের আড্ডায় বা মাঝরাতে ফাঁকা রাস্তায় কেউ গেয়ে ওঠে ‘আমি তোমাকেই বলে দেব/কী যে একা দীর্ঘ রাত আমি হেঁটে গেছি বিরাণ পথে/ছুঁয়ে কান্নার রং, ছুঁয়ে জ্যোছনার ছায়া’।

১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে জন্ম এই শিল্পীর। ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর বাই লেটারেল সেরিব্রাল স্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন:
ফেসবুকে স্মরণ করা হবে সঞ্জীব চৌধুরীকে
সঞ্জীব চৌধুরী বেঁচে আছেন তারুণ্যের স্বপ্ন ও গানে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘নেতা মোদের শেখ মুজিব’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

‘নেতা মোদের শেখ মুজিব’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

‘নেতা মোদের শেখ মুজিব’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গ্রন্থটির সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাঙালির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে গবেষণাধর্মী ‘নেতা মোদের শেখ মুজিব’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গণভবনে মঙ্গলবার বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এই গ্রন্থের সম্পাদক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

গ্রন্থটির সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল বিশ্বের সারিতে প্রবেশ করেছে। মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে উন্নয়নের সকল সূচকে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি মাথাপিছু আয়ের দেশ।’

গ্রন্থের সম্পাদক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে উপহাস করে বলা হয়েছিল তলাবিহীন ঝুড়ি। সেই বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল বিশ্বের রোল মডেল।’

সব অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কান্ডারি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছি স্বনির্ভর বাংলাদেশ।’

ছবিপ্রধান এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলের (১৯৪৯-১৯৭৫) আওয়ামী লীগের সচিত্র ইতিহাস।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা, আওয়ামী লীগে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং নেতৃত্বের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এতে। গ্রন্থটিতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত প্রতিটি সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নাম, নির্বাচনি ইশতেহারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল সন্নিবেশিত হয়েছে।

৫১৬ পৃষ্ঠার ‘নেতা মোদের শেখ মুজিব’ গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি পরিমার্জন এবং সংশোধন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থের সম্পাদনা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক, অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রধান গবেষক নাজমুল হোসেন এবং প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্সের আহমেদ মাহমুদুল হক।

গ্রন্থের সম্পাদনা পর্ষদে আরও আছেন মাহবুব উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এন আই খান, মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, ড. মো. হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, সৈয়দ বেলাল হোসেন ও মো. শরীফ মাহমুদ অপু।

গ্রন্থটির গবেষণায় যুক্ত ছিলেন রাজিব দাস, সৈয়দ মিজানুর রহমান, সাফিয়া তাসনিম খান প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
ফেসবুকে স্মরণ করা হবে সঞ্জীব চৌধুরীকে
সঞ্জীব চৌধুরী বেঁচে আছেন তারুণ্যের স্বপ্ন ও গানে

শেয়ার করুন

শিল্পকলা একাডেমিতে সপ্তাহব্যাপী যাত্রা উৎসব শুরু

শিল্পকলা একাডেমিতে সপ্তাহব্যাপী যাত্রা উৎসব শুরু

শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে ১৩তম যাত্রা উৎসব। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ইতোমধ্যে ১২টি যাত্রা উৎসবের মাধ্যমে ১৩০টি যাত্রাদলকে নিবন্ধন প্রদান করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ১২টি দলের নিবন্ধন বাতিল করেছে।

‘যাত্রাশিল্প উন্নয়ন নীতিমালা-২০১২’ বাস্তবায়ন ও যাত্রাদল নিবন্ধনের লক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হলো সপ্তাহব্যাপী যাত্রা উৎসব।

একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় মঙ্গলবার বিকেলে ১৩তম এ যাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

উদ্বোধনী দিনে মঞ্চস্থ হয় যাত্রা পালা ‘গুনাই বিবি’ (বরিশাল), ‘কলির ভগবান আসছে’ (পিরোজপুর), ‘কাজল রেখা’ (ময়মনসিংহ), ‘রক্তদিয়ে কেনা বাংলার স্বাধীনতা’ (ঝালকাঠি), ‘মেঘে ঢাকা তারা’ (সাতক্ষীরা)।

এদিন বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এম আব্দুল্যাহেল বাকী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আক্তার উননেছা শিউলী, আইন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এস মোহাম্মদ আলী, বাংলা একাডেমির উপপরিচালক আমিনুর রহমান সুলতান, যাত্রা ব্যক্তিত্ব তাপস সরকার ও মিলন কান্তি দে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যাত্রাশিল্প উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা যাত্রা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে যাত্রাপালা মূল্যায়ন করেন এবং তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে দলগুলোকে নিবন্ধন প্রদান করা হবে।

শিল্পকলা একাডেমিতে সপ্তাহব্যাপী যাত্রা উৎসব শুরু
শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে ১৩তম যাত্রা উৎসব। ছবি: সংগৃহীত

যাত্রাশিল্প উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা হলেন, জ্যোৎনা বিশ্বাস, আফসানা করিম, তাপস সরকার, মিলন কান্তি দে, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, মামুনুর রশীদ, রামেন্দু মজুমদার, ড. ইস্রাফিল শাহীন, ড. আমিনুর রহমান সুলতান, ড. তপন বাগচী, ড. আমিনুল ইসলাম, ইউসুফ হাসান অর্ক, তামান্না হক সিগমা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১জন করে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ইতোমধ্যে ১২টি যাত্রা উৎসবের মাধ্যমে ১৩০টি যাত্রাদলকে নিবন্ধন প্রদান করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ১২টি দলের নিবন্ধন বাতিল করেছে।

শিল্পকলা একাডেমিতে সপ্তাহব্যাপী যাত্রা উৎসব শুরু
যাত্রাপালা মঞ্চস্থের সময়সূচি। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই যাত্রা উৎসব। প্রতিদিন দুপুর ২টা হতে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ৩৮টি যাত্রাদলের যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হবে। যাত্রাপালাগুলো দর্শকদের জন্য উন্মক্ত থাকবে।

আরও পড়ুন:
ফেসবুকে স্মরণ করা হবে সঞ্জীব চৌধুরীকে
সঞ্জীব চৌধুরী বেঁচে আছেন তারুণ্যের স্বপ্ন ও গানে

শেয়ার করুন

আমার ‘আমি’ ধারণা নিয়ে জিন্নাতুনের চিত্র প্রদর্শনী ‘নাড়িসূত্র’

আমার ‘আমি’ ধারণা নিয়ে জিন্নাতুনের চিত্র প্রদর্শনী ‘নাড়িসূত্র’

‘নাড়িসূত্র’র প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

শিল্পকর্মগুলো নিয়ে জিন্নাতুন বলেন, ‘আমি আমার চারপাশের জগৎকে, সমাজকে কীভাবে দেখছি, অনুভব ও উপলব্ধি করছি, অন্যের বিভিন্ন কার্যকলাপে কীভাবে সাড়া দিচ্ছি, আমার অনুভূতি, আবেগ, স্মৃতি, প্রাপ্তি- এই সব কিছুর দৃশ্যমান উপস্থাপনা এই শিল্পকর্মগুলো।’  

‘নাড়িসূত্র’র শিল্পকর্মগুলো অনেকটাই আমার স্বতন্ত্র চেতনা ও আমার ‘আমি’ ধারণা নিয়ে। এখানে শিল্পের মাধ্যমে আমি নিজের ভেতরে গিয়ে নিজেকে চেনার চেষ্টা করেছি; এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন তরুণ চিত্রশিল্পী জিন্নাতুন জান্নাত।

সম্প্রতি রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে ‘নাড়িসূত্র- দ্য রুটস অফ দ্য সেলফ’ শিরোনামে শুরু হয়েছে জিন্নাতুনের প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী।

জিন্নাতুনের ‘নাড়িসূত্র’ সিরিজটি মানুষের ‘সত্ত্বা’ ও ‘সামাজিক সত্ত্বা’র মাঝের সংযোগকে ধরার এক অপার চেষ্টা। শুধু তাই নয়, মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও অভিব্যক্তিগুলো জানা বোঝার এক চিত্রবন্ধন বলা যাতে পারে এই শিল্পকর্মগুলোকে।

শিল্পকর্মগুলো নিয়ে জিন্নাতুন বলেন, ‘আমি আমার চারপাশের জগৎকে, সমাজকে কীভাবে দেখছি, অনুভব ও উপলব্ধি করছি, অন্যের বিভিন্ন কার্যকলাপে কীভাবে সাড়া দিচ্ছি, আমার অনুভূতি, আবেগ, স্মৃতি, প্রাপ্তি- এই সব কিছুর দৃশ্যমান উপস্থাপনা এই শিল্পকর্মগুলো।’

আমার ‘আমি’ ধারণা নিয়ে জিন্নাতুনের চিত্র প্রদর্শনী ‘নাড়িসূত্র’
নিবিড় মনে শিল্পকর্ম দেখছেন এক দর্শনার্থী। ছবি: সংগৃহীত

জিন্নাতুনের চিত্রকর্মে বলিষ্ঠ রেখা ও রঙের ব্যবহার বাংলার চিত্রকলার দেশজ ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণা নজর কাড়ছে প্রদর্শনীতে আগত শিল্পপ্রেমীদের।

প্রদর্শনীতে শিল্পীর ‘নাড়িসূত্র’ সিরিজের বাছাইকৃত প্রায় অর্ধশতাধিক শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪১টি চিত্রকর্ম ৮টি ভাস্কর্য।

আমার ‘আমি’ ধারণা নিয়ে জিন্নাতুনের চিত্র প্রদর্শনী ‘নাড়িসূত্র’
‘নাড়িসূত্র’র প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন আগত দর্শনার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টারে (বাড়ি-০৫, সড়ক-১৬, মাইডাস সেন্টার ভবন, ১০তম তলা) গত ৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

গ্যালারি খোলা থাকবে প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত। তবে শুক্রবার ও সরকারি ছুটিতে বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন:
ফেসবুকে স্মরণ করা হবে সঞ্জীব চৌধুরীকে
সঞ্জীব চৌধুরী বেঁচে আছেন তারুণ্যের স্বপ্ন ও গানে

শেয়ার করুন

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

বাউল সাধক হাসন রাজা। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের পরিচিতিও হয়ে উঠেছে ‘হাসন রাজার শহর’ হিসেবে। তবে নিজ শহরেই হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নেই কোনো আয়োজন। এতে ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

নামের সঙ্গে যুক্ত ‘রাজা’। উত্তরাধিকার সূত্রে ছিলেন জমিদার। কিন্তু কর্মে ও চিন্তায় ছিলেন আপাদমস্তক এক বাউল।

তিনি হাসন রাজা। নিজের কাছেই যার জিজ্ঞাসা ছিল- বাউলা কে বানাইলোরে/ হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে।

বাংলা গানের এই খেয়ালি রাজার ৯৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় তার। আর জন্মেছিলেন ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের লক্ষণশ্রীতে।

সুনামগঞ্জের তাই পরিচিতিও হয়ে উঠেছে ‘হাসন রাজার শহর’ হিসেবে। তবে নিজ শহরেই হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নেই কোনো আয়োজন। এতে ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

গানে গানে প্রেম, বিরহ, জীবনদর্শন, আধ্যাতিকতার কথা বলে গেছেন হাসন রাজা। গানকে তিনি নিয়েছিলেন সাধনা হিসেবে। বাংলা গানের যে মরমী ধারা, যুগের পর যুগ ধরে সংগীতপিপাসুদের তৃষ্ণা মিটিয়ে চলছে আর জিজ্ঞাসু করে তুলছে, সেই ধারার অন্যতম সাধক পুরুষ হাসন রাজা। যদিও গানে গানে তিনি নিজের সম্পর্কে বলে গেছেন- ‘আমি কিছু নয় রে, আমি কিছু নয়’।

নিজেকে ‘কিছু নয়’ বলে যাওয়া হাসন রাজা মৃত্যুর ৯৯ বছর পরও প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে বাংলার মাটিগন্ধা গান আর শেকড়ের সংস্কৃতিতে। জীবদ্দশায় প্রায় ২০০ গান লিখে গেছেন তিনি, যা আজও ঘুরে বেড়ায় লোকের মুখে মুখে। গীত হয় নানা শিল্পীর কণ্ঠে।

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

তবে হাসন রাজার সৃষ্টিকে সংরক্ষণ আর তার সংগীতের শুদ্ধ প্রচারের জন্যও এখন পর্যন্ত নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে হাসন রাজার নামে একটি একাডেমি গঠনের দাবি জানানো হলেও তা থেকে গেছে উপেক্ষিতই।

সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসন রাজাকে নিয়ে আমাদের চর্চা দিন দিন কমে যাচ্ছে আর সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ না নেয়া হলে আগামীতে এটি হারিয়ে যাবে। এ ছাড়া একটি হাসন রাজা একাডেমি যদি তৈরি করা হয় এবং সেখানে হাসন রাজার গানগুলো যদি শুদ্ধরূপে গাওয়ানো হয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তার গানের সুর ও কথাগুলোর সঠিক ধারণা পাবে।

হাসন রাজার নামে একটি একাডেমি গড়ার উদ্যোগ স্বাধীনতার পরপরই নেয়া হয়েছিল জানিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মী মলয় চক্রবর্তী রাজু বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই সময়েই হাসন রাজা একাডেমি তৈরির জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করার পর হাসন রাজা একাডেমি তৈরির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে টাকা এলেও সেটিকে একটি মহল শিল্পকলা একাডেমি নামকরণ করে নেয়।

তিনি বলেন, ইউনিসকো হাসন রাজা চর্চার ওপর কিছু টাকা দিয়েছিল, সেই টাকা দিয়েই আমরা হাসন রাজার শতাধিক গান আবারও নতুন করে গাওয়া হয় এবং হাসন রাজার প্রপৌত্র সামারীন দেওয়ান হাসন জীবনী ও গানের দুটি বই লেখেন। তবে সরকারি উদ্যোগে হাসন রাজার সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ ও প্রচারে তেমন উদ্যোগ নেই।

মলয় চক্রবর্তী আরও বলেন, সুনামগঞ্জে হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকী পালন হয় না এটি দুঃখের বিষয়। তবে আমরা তার জন্মশতবার্ষিকী বড় করে আয়োজন করব।

হাসন রাজা জন্ম ও মৃত্যবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, হাসন রাজার নামে সুনামগঞ্জ জেলার পরিচিতি গড়ে উঠলেও এখানে তার সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ ও চর্চার কোনো উদ্যোগ নেই। তার জীবনী, ইতিহাস ও গানগুলো ধরে রাখতে হলেও হাসন রাজাকে নিয়ে চর্চা করার জন্য একটি একাডেমির দরকার।

সরকারিভাবে মৃত্যুবার্ষিকীতে কোনো আয়োজন নেই জানিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল চৌধুরী বলেন, ৬ ডিসেম্বর কোনো আয়োজন নেই, তবে সামনে একটি উৎসব আছে ১১-১২ জানুয়ারি। সেখানে আমরা তাকে স্মরণ করব।

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না থাকলে পারিবারিক উদ্যোগে সুনামগঞ্জে গড়ে তোলা হয়েছে হাসন রাজা স্মৃতি জাদুঘর। সেখানে সংরক্ষিত তার স্মৃতিগুলো দেখতে অনেকেই আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।

আর তার গান তো ছড়িয়ে আছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে। যার কথা ও সুর সংসারি মানুষের মধ্যেও আচমকা জাগিয়ে তুলে বাউলা মন। আপন মনেই গেয়ে ওঠে- ‘পরের জায়গা পরের জমি/ ঘর বানাইয়া আমি রই/ আমি তো সেই ঘরের মালিক নই।’

আরও পড়ুন:
ফেসবুকে স্মরণ করা হবে সঞ্জীব চৌধুরীকে
সঞ্জীব চৌধুরী বেঁচে আছেন তারুণ্যের স্বপ্ন ও গানে

শেয়ার করুন

আবৃত্তি সংগঠন কজনা’র নতুন কমিটি

আবৃত্তি সংগঠন কজনা’র নতুন কমিটি

আবৃত্তি সংগঠন কজনা’র দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

আগামী ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল কজনা ৩২ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে কজনার নতুন প্রযোজনা অলোক বসু রচিত ও গ্রন্থিত ‘কমলা রঙের রোদ অথবা জীবনানন্দ’ পরিবেশিত হবে। এ ছাড়া বছরজুড়ে সাড়ম্বরে মুজিববর্ষ উদযাপন করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে কজনা।

দেশের অন্যতম আবৃত্তি সংগঠন কজনা’র নতুন কমিটি গঠন হয়েছে। রাজধানীর গুলশানে হোটেল বেঙ্গল ইনে শনিবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির দ্বিবার্ষিক সভায় এই কমিটি অনুমোদন পায়।

নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অলোক বসু, সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ কর।

সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন লুৎফুল আহমেদ লিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেরুননেছা ছোট, দপ্তর ও অর্থ সম্পাদক কামরুল হাসান ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মুরশিদ মিজান রাসেল।

কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ফারহানা ডোরা, সুমনা সিদ্দিকী, নাহিদা আনন্দ, বুশরা সারাজিন ও দেলোয়ারা নার্গিস‌।

সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তৌফিক রহমান, আহমেদ বদরুদ্দোজা মুশতাক, ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু, শারমিন রেজা ইভা, আহসান রাসেল, নাফিজুল কাদিম, ড. শিহাব শাহরিয়ার, ড. নিমাই মণ্ডল ও রিজাউল করিম মিন্টু।

আবৃত্তি সংগঠন কজনা’র নতুন কমিটি
নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অলোক বসু (ডানে) ও সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ কর। ছবি: নিউজবাংলা

সভায় তিন সদস্যের সাবজেক্ট কমিটি তাদের মনোনীত করলে সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন দেন কাউন্সিলররা।

বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সভা। এরপর অনিমেষ করের তোলা সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা করেন সদস্যরা।

আগামী ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল কজনা ৩২ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে কজনার নতুন প্রযোজনা অলোক বসু রচিত ও গ্রন্থিত ‘কমলা রঙের রোদ অথবা জীবনানন্দ’ পরিবেশিত হবে। নির্দেশনায় থাকবেন তৌফিক রহমান। এ ছাড়া বছরজুড়ে সাড়ম্বরে মুজিববর্ষ উদযাপন করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে কজনা।

আরও পড়ুন:
ফেসবুকে স্মরণ করা হবে সঞ্জীব চৌধুরীকে
সঞ্জীব চৌধুরী বেঁচে আছেন তারুণ্যের স্বপ্ন ও গানে

শেয়ার করুন

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি

চারণ কবি বিজয় সরকার

বিজয় সরকারের নাতি বিভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, ‘কবির বসতভিটা এলাকায় বর্তমানে আমার পরিবারই বসবাস করছে। অন্যরা ডুমদি ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন অনেক আগেই। কবির বসতভিটা এবং বাসভবন দেখার কেউ নেই। মেঝের টাইলস ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে এই ভবনটির বেশিরভাগ অংশ। খুবই এলোমেলো অবস্থা। থাকার-বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এখানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান।’

‘এ পৃথিবী যেমন আছে, তেমনই ঠিক রবে, সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে’, ‘নবী নামের নৌকা গড়’, ‘আল্লাহ নামের পাল খাটাও’, ‘বিসমিল্লাহ বলিয়া মোমিন’ কিংবা স্ত্রী বীনাপাণির মৃত্যুর খবরে ‘পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী’...এমনই অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা বিজয় সরকার।

প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও সুর, সঙ্গীত ও অসাধারণ গায়কীর জন্য ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেন। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। লিখেছেন ১৮ শর বেশি গান।

চারণ কবি হিসেবে পরিচিত এই সংগীত সাধকের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। বার্ধক্যজনিত কারণে ১৯৮৫ সালের এই দিনে কলকাতায় পরলোকগমন করেন তিনি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তাকে সমাহিত করা হয়।

বিজয় সরকারের জন্ম ১৩০৯ বঙ্গাব্দের ৭ ফাল্গুন নড়াইলের নিভৃতপল্লী ডুমদি গ্রামে। বাবার নাম নবকৃষ্ণ অধিকারী ও মা হিমালয়া দেবী। তার দুই স্ত্রী বীণাপানি ও প্রমোদা অধিকারীর কেউই বেঁচে নেই। সন্তানদের মধ্যে কাজল অধিকারী ও বাদল অধিকারী এবং মেয়ে বুলবুলি অধিকারী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন।

মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই সুরস্রষ্টার মৃত্যুর ৩৬ বছরের মাথায় তার বসতভিটা এখন অবহেলায় নষ্ট হওয়ার পথে। ২০০৯ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে বিজয় সরকারের বাড়ি নড়াইল সদরের ডুমদিতে ভবন ও বিজয় মঞ্চ নির্মিত হলেও অযত্ন আর অবহেলায় দিন দিন তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেহালদশা বিজয় মঞ্চেরও।

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি
বিজয় সরকারের বাড়িতে নির্মিত বিজয় মঞ্চের ভেতরের নোংরা অবস্থা

যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়ার পথে কবির ব্যবহৃত খাটসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। এসব যেন দেখার কেউ নেই। এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে।

বিজয় সরকারের নাতি বিভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, ‘কবির বসতভিটা এলাকায় বর্তমানে আমার পরিবারই বসবাস করছে। অন্যরা ডুমদি ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন অনেক আগেই। কবির বসতভিটা এবং বাসভবন দেখার কেউ নেই।

‘মেঝের টাইলস ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ভবনটির বেশিরভাগ অংশ। খুবই এলোমেলো অবস্থা। থাকার-বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এখানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান।’

চারণ কবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের যুগ্ম-আহবায়ক এসএম আকরাম শাহীদ চুন্নু বলেন, ‘কবিয়াল বিজয় সরকার বাংলার গর্ব। তাকে নিয়ে দুই বাংলায় কাজ শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বিজয় সরকারের অবদান রয়েছে। তিনি কবিগান গেয়ে যে টাকা উর্পাজন করতেন, তা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করতেন।

‘তাই ‘কণ্ঠযোদ্ধা’ হিসেবে বিজয় সরকারকে ‘স্বাধীনতা পদক’ দেয়ার দাবিসহ জাতীয় চারণকবির স্বীকৃতি প্রদান, বিজয় সরকারের নামে নড়াইলে ফোকলোর ইনস্টিটিউট নির্মাণ এবং পাঠ্যপুস্তকে কবির রচনা ও জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি
অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কবির ব্যবহৃত খাট

নড়াইল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য সচিব শরফুল আলম লিটুও স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় সরকারের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘স্বাধীনতা পদক’ দেয়ার দাবি জানান।

বিজয়ভক্তদের দাবি, পাঠ্যপুস্তকে কবির রচনা ও জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তার গান পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষণ ও তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী জন্মভূমি নড়াইলের ডুমদিতে পালন করতে হবে।

নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, বসতভিটা রক্ষণাবেক্ষণসহ তার স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতি সংগ্রহশালা অথবা জাদুঘর নির্মাণ, সামাজিক পরিবেশসহ নানা উন্নয়ন করার বিষয়টি তারা চিন্তা করছেন।

আরও পড়ুন:
ফেসবুকে স্মরণ করা হবে সঞ্জীব চৌধুরীকে
সঞ্জীব চৌধুরী বেঁচে আছেন তারুণ্যের স্বপ্ন ও গানে

শেয়ার করুন

শিল্পকলায় ১১ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু

শিল্পকলায় ১১ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা/ সাইফুল ইসলাম

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় অসামান্য ভূমিকা রাখা ৫০জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সংস্কৃতিজন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ বার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় ও প্রাঞ্জল করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হলো ১১ দিনব্যাপী ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব’।

মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের আয়োজনে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় অসামান্য ভূমিকা রাখা ৫০জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সংস্কৃতিজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরিয়ে এবং স্বারক দিয়ে সম্মান জানানো হয়। এরপর কামরুল হাসান ফেরদৌসের কোরিওগ্রাফিতে পরিবেশিত হয় গীতিআলেখ্যা ‘স্বরণে ৭১’।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা দুটি সমার্থক শব্দ। একটি থেকে আরেকটি আলাদা করা যায় না। আমরা যুদ্ধ করে যে সাম্প্রদায়িকতা রুখে দিয়েছিলাম, তা আবার একটি গোষ্ঠী ছড়িয়ে দিচ্ছে, কিন্তু এই যে আমাদের সংস্কৃতি। এর ফলে এখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ জাগ্রত হয়ে আছে। আমাদের নতুন যে প্রজন্ম, সেই তরুণদের এখন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশকে গড়ে তোলা।’

শিল্পকলায় ১১ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ছবি: নিউজবাংলা/সাইফুল ইসলাম

তিনি বলেন, ‘অস্ত্রের যুদ্ধের বিপরীত হচ্ছে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ। এটি খুব অল্প সময়ে মানুষকে শাণিত করতে পারে। তাই এই চেতনাকে উজ্জীবিত রাখতে হবে। আজকের যে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যৎসব, এই যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানো, তা আমাদের সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং তরুণরা এ থেকে প্রত্যয় খুঁজে পাবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর যে যার কাজে ফিরে গেছেন, কিন্তু যারা সংস্কৃতি ভালোবাসেন, তারা এখনও এর সঙ্গেই আছেন। এখন আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একসঙ্গে পালন করছি।

‘এই সময়টি যারা দেখছেন, তারা ভাগ্যবান। এটা ঠিক যে এদেশে এখনও মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ মাথা উঁচু করতে চাইছে, তবে তাদের পরাজিত করে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করব আমরা। আর আমাদের সঙ্গ দেবে আমাদের তরুণরা, যারা সংস্কৃতিকে ভালোবাসে, দেশকে ভালোবাসে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় মঞ্চস্থ করে নাটক ‘ঘুমনেই’।

আরও পড়ুন:
ফেসবুকে স্মরণ করা হবে সঞ্জীব চৌধুরীকে
সঞ্জীব চৌধুরী বেঁচে আছেন তারুণ্যের স্বপ্ন ও গানে

শেয়ার করুন