হাসান আজিজুলের শেষ উপন্যাস ‘তরলাবালা’ আসছে বইমেলায়

হাসান আজিজুলের শেষ উপন্যাস ‘তরলাবালা’ আসছে বইমেলায়

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। ছবি: সংগৃহীত

“এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা। তিনি চাচ্ছিলেন সেখানে আবার যাবেন। সে যাওয়াটা আর হয়নি ওনার। পরে সেটিকে ছোট আকারে আমাদের দিয়েছেন। ‘তরলাবালা’ আমাকে গত বছর দিয়েছেন স্যার। আমি চেয়েছিলাম স্যার যদি আর একটু সুস্থ হন, স্যারকে দিয়ে আর একটু লেখাব। সে জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম।”

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক গত প্রায় তিন বছর ধরেই সেভাবে লেখালেখি করতে পারছিলেন না। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার লেখালেখি সেভাবে হয়নি। মনের ভেতর অনেক ভাবনা উঁকি দিলেও তা লেখা হয়নি কাগজে।

এ সময়টাতে তিনি লিখেছেন ছোট ছোট কিছু লেখা। গভীর ভাবনার এই লেখক গত প্রায় দেড় দশক আগে একটি উপন্যাস লেখার কাজ শুরু করেছিলেন। চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন কিন্তু শেষ করতে পারেননি।

খারাপ শারীরিক অবস্থার কারণে বড় উপন্যাসের বদলে তিনি সেটিকে ছোট করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। উপন্যাসটির নাম ‘তরলাবালা’।

উপন্যাসের একটি পান্ডুলিপি তিনি জমা দিয়ে রেখেছেন ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশে। ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুণী এই লেখকের শেষ উপন্যাস ‘তরলাবালা’ আগামী বইমেলাতেই তারা প্রকাশ করবে।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের যেসব গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে, তার অধিকাংশই বেরিয়েছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ থেকে। হাসান আজিজুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস ‘আগুনপাখি’ও প্রকাশ করেছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ। বই প্রকাশের সূত্র ধরে ইত্যাদির সঙ্গে ছোটগল্পের বরপুত্র হাসান আজিজুল হকের একটা গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

অন্যদিকে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ এ পর্যন্ত যেসব লেখকের বই প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে সব থেকে বড় মাপের লেখক হাসান আজিজুল হক। গুণী এই লেখকের মৃত্যুর খবর শুনে রাজশাহীতে ছুটে আসেন ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের প্রকাশক জহিরুল আবেদীন জুয়েল। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে। সেখানেই কথা বলেন নিউজবাংলার সঙ্গে।

ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের প্রকাশক জহিরুল আবেদিন জুয়েল বলেন, ‘প্রথমেই বলতে হবে যে আমার প্রকাশনা সংস্থা একজন অভিভাবক হারাল। আমি প্রকাশনা শুরু করেছি ২০০৩ সালে। স্যারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ২০০৬ সাল থেকে। তার পর থেকে ওনার ২৪-২৫টি বই আমি ছেপেছি।

‘আমার সঙ্গে স্যারের বেশ আলোচনা হতো। প্রতিটি লেখার বিষয়ে আলোচনা হতো। স্যারের জন্ম ২ ফেব্রুয়ারি। প্রতিবছর আমার টার্গেট থাকত স্যারের নতুন বইটা আসবে ২ ফেব্রুয়ারি। সেভাবেই আমার প্রকাশনা থেকে রি-প্রিন্ট ছাড়া যতগুলো বই এসেছে, বেশির ভাগ বই-ই ২ তারিখে এসেছে।’

জহিরুল আবেদীন জুয়েল আরও বলেন, ‘আমি তো আগে প্রায়ই রাজশাহী আসতাম। একটা সময় ছিল স্যারের এখানে মাসে বা দুই মাসে একবার আসতেই হতো। দুপুরবেলায় আসতাম। স্যারের সঙ্গে খেতাম। রাতে যেতে যেতে ১০টা-১১টা পর্যন্ত বেজে যেত আমার। অনেক সময় স্যার ঢাকায় গেলে একই রকম আড্ডা হতো। আড্ডা দিতে ও গল্প করতে খুব পছন্দ করতেন তিনি।

“ওনার ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসটি নিয়ে স্যারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এত কঠিন ভাষা ব্যবহার করছেন, নতুন প্রজন্মের পাঠকের পড়তে একটু কঠিন হবে। তখন স্যার বলেন, কী করব বলো? এটাই ছিল আমাদের বর্ধমানের ভাষা। বর্ধমানের ভাষাটাকে তুলতে গিয়েই আমি এটি ব্যবহার করেছি। তিনি আমার কাছে স্বীকার করেছেন যে, ‘আগুনপাখি’ তার মায়ের আত্মজীবনী। স্যার বলেছিলেন, কীভাবে দেশ বিভাগের সময় তার মা মাটি আঁকড়ে ধরেছিলেন, সেই বিষয়টি এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

“এটি শোনার পর স্যারকে তার নিজের আত্মজীবনী শুরু করতে বলেছিলাম। স্যার সেটি শুরু করলেন। ওনার আত্মজীবনী প্রথম খণ্ড লিখলেন ‘ফিরে যাই ফিরে আসি’, তারপর লিখলেন ‘উঁকি দিয়ে দিগন্ত’, এরপর তৃতীয় খণ্ড লিখলেন ‘এই পুরাতন আখরগুলি’। শেষ খণ্ড লিখলেন ‘দুয়ার হতে দূরে’, এটিই শেষ। এই অংশ লিখেই স্যার বললেন, আর মনে হয় পারব না। এরপর আত্মজীবনীর কোনো অংশ লেখেননি।”

হাসান আজিজুল হকের স্মৃতিচারণামূলক লেখা ‘একাত্তর করতলে ছিন্ন মাথা’ প্রসঙ্গে প্রকাশক জুয়েল বলেন, “আমি মূলত প্রকাশনার আগে থেকেই তার ভক্ত। আমি যখন ওনার লেখা পড়া শুরু করি, তখন ওনার কোনো বড় উপন্যাস ছিল না, সবই ছোট উপন্যাস। ওনার ‘একাত্তর করতলে ছিন্ন মাথা’ বইটা পড়লে গা শিউরে ওঠে। আমার মনে হয় যে আমি প্রকাশ্যে দেখছি।’

তিনি বলেন, “স্যারের সবশেষ লেখা ছেপেছি তিন বছর আগে। স্যার একটি উপন্যাস লেখা শুরু করেছিলেন প্রায় ১৫ বছর আগে। উপন্যাসটির নাম ‘তরলাবালা’। সর্বশেষ এই পান্ডুলিপি তিনি আমাকে দিয়েছেন। এটি এখনও ছাপা হয়নি। আমি স্যারকে বলেছিলাম, উপন্যাসটা আরও একটু বড় হোক। উপন্যাসটা তিনি বড় প্লট নিয়েই লিখছিলেন কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর এগোতে পারেননি।

“এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা। তিনি চাচ্ছিলেন সেখানে আবার যাবেন। সে যাওয়াটা আর হয়নি ওনার। পরে সেটিকে ছোট আকারে আমাদের দিয়েছেন। ‘তরলাবালা’ আমাকে গত বছর দিয়েছেন স্যার। আমি চেয়েছিলাম স্যার যদি আর একটু সুস্থ হন, স্যারকে দিয়ে আর একটু লেখাব। সে জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। স্যার আমাকে বলেছেন, তুমি বের করে ফেলো। আগামী বইমেলায় স্যারের এই শেষ বই ‘তরলাবালা’ আসবে।”

বইটি প্রকাশের জন্য কাজও শুরু হয়ে গেছে বলে জানান প্রকাশক।

আরও পড়ুন:
হাসান আজিজুল হকের দীক্ষা
হাসান আজিজুল হক যে কারণে সমাহিত গ্রন্থাগারের সামনে
স্যার রোদে গেলেন
জাতিসত্তার মহিরুহ হাসান আজিজুল হক
বইয়ের মানুষ শায়িত গ্রন্থাগারের সামনে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি

চারণ কবি বিজয় সরকার

বিজয় সরকারের নাতি বিভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, ‘কবির বসতভিটা এলাকায় বর্তমানে আমার পরিবারই বসবাস করছে। অন্যরা ডুমদি ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন অনেক আগেই। কবির বসতভিটা এবং বাসভবন দেখার কেউ নেই। মেঝের টাইলস ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে এই ভবনটির বেশিরভাগ অংশ। খুবই এলোমেলো অবস্থা। থাকার-বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এখানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান।’

‘এ পৃথিবী যেমন আছে, তেমনই ঠিক রবে, সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে’, ‘নবী নামের নৌকা গড়’, ‘আল্লাহ নামের পাল খাটাও’, ‘বিসমিল্লাহ বলিয়া মোমিন’ কিংবা স্ত্রী বীনাপাণির মৃত্যুর খবরে ‘পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী’...এমনই অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা বিজয় সরকার।

প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও সুর, সঙ্গীত ও অসাধারণ গায়কীর জন্য ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেন। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। লিখেছেন ১৮ শর বেশি গান।

চারণ কবি হিসেবে পরিচিত এই সংগীত সাধকের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। বার্ধক্যজনিত কারণে ১৯৮৫ সালের এই দিনে কলকাতায় পরলোকগমন করেন তিনি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তাকে সমাহিত করা হয়।

বিজয় সরকারের জন্ম ১৩০৯ বঙ্গাব্দের ৭ ফাল্গুন নড়াইলের নিভৃতপল্লী ডুমদি গ্রামে। বাবার নাম নবকৃষ্ণ অধিকারী ও মা হিমালয়া দেবী। তার দুই স্ত্রী বীণাপানি ও প্রমোদা অধিকারীর কেউই বেঁচে নেই। সন্তানদের মধ্যে কাজল অধিকারী ও বাদল অধিকারী এবং মেয়ে বুলবুলি অধিকারী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন।

মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই সুরস্রষ্টার মৃত্যুর ৩৬ বছরের মাথায় তার বসতভিটা এখন অবহেলায় নষ্ট হওয়ার পথে। ২০০৯ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে বিজয় সরকারের বাড়ি নড়াইল সদরের ডুমদিতে ভবন ও বিজয় মঞ্চ নির্মিত হলেও অযত্ন আর অবহেলায় দিন দিন তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেহালদশা বিজয় মঞ্চেরও।

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি
বিজয় সরকারের বাড়িতে নির্মিত বিজয় মঞ্চের ভেতরের নোংরা অবস্থা

যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়ার পথে কবির ব্যবহৃত খাটসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। এসব যেন দেখার কেউ নেই। এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে।

বিজয় সরকারের নাতি বিভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, ‘কবির বসতভিটা এলাকায় বর্তমানে আমার পরিবারই বসবাস করছে। অন্যরা ডুমদি ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন অনেক আগেই। কবির বসতভিটা এবং বাসভবন দেখার কেউ নেই।

‘মেঝের টাইলস ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ভবনটির বেশিরভাগ অংশ। খুবই এলোমেলো অবস্থা। থাকার-বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এখানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান।’

চারণ কবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের যুগ্ম-আহবায়ক এসএম আকরাম শাহীদ চুন্নু বলেন, ‘কবিয়াল বিজয় সরকার বাংলার গর্ব। তাকে নিয়ে দুই বাংলায় কাজ শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বিজয় সরকারের অবদান রয়েছে। তিনি কবিগান গেয়ে যে টাকা উর্পাজন করতেন, তা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করতেন।

‘তাই ‘কণ্ঠযোদ্ধা’ হিসেবে বিজয় সরকারকে ‘স্বাধীনতা পদক’ দেয়ার দাবিসহ জাতীয় চারণকবির স্বীকৃতি প্রদান, বিজয় সরকারের নামে নড়াইলে ফোকলোর ইনস্টিটিউট নির্মাণ এবং পাঠ্যপুস্তকে কবির রচনা ও জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি
অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কবির ব্যবহৃত খাট

নড়াইল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য সচিব শরফুল আলম লিটুও স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় সরকারের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘স্বাধীনতা পদক’ দেয়ার দাবি জানান।

বিজয়ভক্তদের দাবি, পাঠ্যপুস্তকে কবির রচনা ও জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তার গান পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষণ ও তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী জন্মভূমি নড়াইলের ডুমদিতে পালন করতে হবে।

নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, বসতভিটা রক্ষণাবেক্ষণসহ তার স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতি সংগ্রহশালা অথবা জাদুঘর নির্মাণ, সামাজিক পরিবেশসহ নানা উন্নয়ন করার বিষয়টি তারা চিন্তা করছেন।

আরও পড়ুন:
হাসান আজিজুল হকের দীক্ষা
হাসান আজিজুল হক যে কারণে সমাহিত গ্রন্থাগারের সামনে
স্যার রোদে গেলেন
জাতিসত্তার মহিরুহ হাসান আজিজুল হক
বইয়ের মানুষ শায়িত গ্রন্থাগারের সামনে

শেয়ার করুন

শিল্পকলায় ১১ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু

শিল্পকলায় ১১ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা/ সাইফুল ইসলাম

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় অসামান্য ভূমিকা রাখা ৫০জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সংস্কৃতিজন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ বার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় ও প্রাঞ্জল করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হলো ১১ দিনব্যাপী ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব’।

মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের আয়োজনে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় অসামান্য ভূমিকা রাখা ৫০জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সংস্কৃতিজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরিয়ে এবং স্বারক দিয়ে সম্মান জানানো হয়। এরপর কামরুল হাসান ফেরদৌসের কোরিওগ্রাফিতে পরিবেশিত হয় গীতিআলেখ্যা ‘স্বরণে ৭১’।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা দুটি সমার্থক শব্দ। একটি থেকে আরেকটি আলাদা করা যায় না। আমরা যুদ্ধ করে যে সাম্প্রদায়িকতা রুখে দিয়েছিলাম, তা আবার একটি গোষ্ঠী ছড়িয়ে দিচ্ছে, কিন্তু এই যে আমাদের সংস্কৃতি। এর ফলে এখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ জাগ্রত হয়ে আছে। আমাদের নতুন যে প্রজন্ম, সেই তরুণদের এখন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশকে গড়ে তোলা।’

শিল্পকলায় ১১ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ছবি: নিউজবাংলা/সাইফুল ইসলাম

তিনি বলেন, ‘অস্ত্রের যুদ্ধের বিপরীত হচ্ছে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ। এটি খুব অল্প সময়ে মানুষকে শাণিত করতে পারে। তাই এই চেতনাকে উজ্জীবিত রাখতে হবে। আজকের যে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যৎসব, এই যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানো, তা আমাদের সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং তরুণরা এ থেকে প্রত্যয় খুঁজে পাবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর যে যার কাজে ফিরে গেছেন, কিন্তু যারা সংস্কৃতি ভালোবাসেন, তারা এখনও এর সঙ্গেই আছেন। এখন আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একসঙ্গে পালন করছি।

‘এই সময়টি যারা দেখছেন, তারা ভাগ্যবান। এটা ঠিক যে এদেশে এখনও মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ মাথা উঁচু করতে চাইছে, তবে তাদের পরাজিত করে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করব আমরা। আর আমাদের সঙ্গ দেবে আমাদের তরুণরা, যারা সংস্কৃতিকে ভালোবাসে, দেশকে ভালোবাসে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় মঞ্চস্থ করে নাটক ‘ঘুমনেই’।

আরও পড়ুন:
হাসান আজিজুল হকের দীক্ষা
হাসান আজিজুল হক যে কারণে সমাহিত গ্রন্থাগারের সামনে
স্যার রোদে গেলেন
জাতিসত্তার মহিরুহ হাসান আজিজুল হক
বইয়ের মানুষ শায়িত গ্রন্থাগারের সামনে

শেয়ার করুন

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির

ফটোগ্রাফার আজিম খান রনি। ছবি: সংগৃহীত

‘যে ফটোগ্রাফি কখনোই আমার শখ ছিল না, সে ফটোগ্রাফিই এখন আমার প্যাশন। অনেকটা জেদ নিয়ে ফটোগ্রাফিটা করি আমি। এর জন্য অনেক সেক্রিফাইস করেছি আমি। চাকরি করে, পরিবার সামলিয়ে, দিন-রাত এর পেছনে আমি সময় দিয়েছি। প্রচুর পড়াশোনা করেছি। অনেক মানুষের ছবি দেখেছি। কী ধরণের ছবি তুললে আমি ইন্টারন্যাশনালি বিট দিতে পারব। ওয়ার্ল্ডের ভালো ভালো ফটোগ্রাফার তাদের সঙ্গে ফাইট দিয়ে একটা পুরস্কার আনা অনেক কঠিন একটা বিষয়।’

পেশাদার ফটোগ্রাফার আজিম খান রনি। জন্ম ঢাকায়। বাবার চাকরির সুবাদে বেড়ে ওঠা বগুড়ায়।

২০১১ সালে ঢাকা কলেজে ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছেন। এর আগে অনার্স ফার্স্ট ইয়ার থেকেই করেন চাকরি। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে ভিডিওগ্রাফার হিসেবে।

পেশাদার ফটোগ্রাফার হিসেবে রনির যাত্রা ২০১৭ সালে। এরপর মাত্র ৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ‍শুধু আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ডই জিতেছেন ৫ শতাধিক। এর বেশিরভাগই প্রাইজমানি।

৬০ মাসের যাত্রার বিভিন্ন মুহূর্ত নিউজবাংলার সঙ্গে শেয়ার করেছেন নামী এ ফটোগ্রাফার।

কীভাবে ফটোগ্রাফিতে

ফটোগ্রাফি কখনোই আমার শখ ছিল না। আমি যেহেতু মিডিয়া জব করি ২০০৫ সাল থেকে, ভিজ্যুয়াল মিডিয়াতে, একজন ক্যামেরাপারসন হিসেবে, আমার কাছে মনে হয় হতো যে, ফটোগ্রাফির চেয়ে ক্যামেরাটাই ভালো, যেহেতু অনেক বেশি অপশন।

বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্টে গেলে ফটোগ্রাফার দেখতাম। আমার কখনো মনে হয়নি আমি ফটোজার্নালিস্ট বা ফটোগ্রাফার হব বা মনে হয় নাই ফটোগ্রাফার হব; ফটোগ্রাফি করব, কিন্তু বিভিন্ন সময় জায়গায় ঘুরতে যেতাম তখন একটা ডিএসএলআর মিস করতাম। মনে হতো একটা ডিএসএলআর থাকলে নিজের ছবিগুলো ভালো করে তুলতে পারতাম। সেই থেকে ভাবা, ভাবতে ভাবতে…একটা ডিএসএলআর কিনতে যে বাজেট লাগে তা আমার ছিল না। পরে ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আমার জন্মদিনে একটা ক্যামেরা কিনি। এটা মনে রাখার জন্য এই দিনে কেনা।

ওই সময় ডিএসএলআর মানে আমার কাছে অনেক কিছু। আমার কলিগদের দেখেছি ডিএসএলআর দিয়ে ছবি-টবি তুলছে, ফেসবুকে দিচ্ছে।

ক্যামেরা কেনা

ক্যামেরা কেনার পিছনে একটা গল্প আছে, আমার এক কলিগ আছে। তাকে আমি অনেক দিন বলছি, ভাই আমি একটা ক্যামেরা কিনব। আমাকে একটু হেল্প করেন, কী ক্যামেরা কিনব। সে আমাকে খুব নেগলেট করে বলেছিল তুমি ক্যামেরা কিনে কী করবে? সবার সামনে ভরা রুমে। খুব নেগলেট করে বলেছে। এটা আমার খুব ইগোতে লাগছে। আমি খুব জেদি টাইপের একটা ছেলে। একটা মানুষের জেদ যে তাকে কোন জায়গায় নিয়ে আসতে পারে তার একটা উদাহরণ আমি।

পরে আমি নেটে ঘাঁটাঘাঁটি করে আমার পছন্দ মতো ১ লাখ টাকা দামের ক্যানন সেভেনটি ডি, সাথে লেন্সসহ একটা ক্যামেরা কিনলাম। এরপর ছবি-টবি তুলতাম।

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির
কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত জেজু আন্তর্জাতিক ড্রোন ফ্লিম ফ্যাস্টিভালে প্রথম স্থান জয়ী ছবি।

শুরুতে আমার ন্যাচার ভালো লাগতো, পোকা-মাকড়, এগুলো ভালো লাগত। প্রকৃতির ছবি তুলতাম। বোটানিক্যাল গার্ডেনে চলে যেতাম। যেকোনো ন্যাচারের ছবি তুলতাম। আমার ফুলের ছবি তুলতে ভালো লাগত, ফুলের ছবি তুলতাম। পরে একটা ম্যাক্রো লেন্স কিনলাম। যেন আরও ক্লোজ আর ডিটেইল ছবিতে পাই। এই ছবিগুলো তোলা শুরু করলাম। ছবিগুলো তুলে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে সাবমিট করতাম। তখন অনেকগুলো জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ ছিল। সবাই অনেক ভালো ভালো প্রশংসা করত; ক্রিটিক করত। অনেকে আবার নেগেটিভ কমেন্ট করত যে, এই ছবি আমি তুলি নাই, অন্য কারো ছবি। এত ভালো হয়ে যেত দুই-একটা ছবি। এটা খুব নেগেটিভলি নিত তারা। বলত র ফাইল পাঠাও। এমন অনেক নেগেটিভ মন্তব্য করত। নতুন ফটোগ্রাফার এসে এই ছবি তোলার কথা না। তখন আমার ভিতরে আরও একটা জেদ কাজ করল। আমি একবার পাবলিকলি বলছিলাম, ১০ বছর ধরে মিডিয়াতে চাকরি করি, সিনে ফটোগ্রাফির ওপরে। আমার এর ওপর পড়াশোনাও আছে, একসময় ইচ্ছে ছিল বিজ্ঞাপন তৈরি করব। কখনো ফটোগ্রাফি করবো, ফটোগ্রাফার হব এই চিন্তা ছিল না।

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির
গ্রিসে চানিয়া ফটো ফ্যাস্টিভলে গ্র্যান্ড প্রাইজ জয়ী ছবি।

জেদ থেকে ফেসবুক স্ট্যাটাস

তখন ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, আমি ১০ বছর ধরে ক্যামেরার পেছনে কাজ করি। আমি যদি ১০ বছর ধরে ফটোগ্রাফি করতাম তাহলে আমি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে বেস্ট ফটোগ্রাফার হতাম। তখন আবেগ থেকে এই কথাটা বলেছিলাম। এটা নিয়ে অনেকে খুব হাসাহাসি করেছে, কিন্তু আমার এখনও ১০ বছর হয়নি ফটোগ্রাফিতে। আমি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে ওয়ান অব দ্য বেস্ট ফটোগ্রাফার হয়েছি কি না বলতে পারবো না, কিন্তু বলতে পারি বাংলাদেশের মধ্যে আমি ওয়ান অব দ্য বেস্ট ফটোগ্রাফার। কারণ আমার ইন্টারন্যাশনালি যত অ্যাওয়ার্ড, যত প্রাইস পেয়েছি, এটা কম ফটোগ্রাফারেরই আছে বাংলাদেশে। আমার বেশিরভাগ অ্যাওয়ার্ডই ছিল মানিটরি প্রাইজ। মানে প্রাইজমানি। ওখান থেকে আমার যাত্রা শুরু।

ন্যাচার থেকে ফেস্টিভ্যাল ফটোগ্রাফিতে

ধীরে ধীরে ডিভাইস আপডেট করলাম। পরে দেখলাম যে না, ন্যাচার ফটোগ্রাফি করে আসলে তেমন কিছু করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন কনটেস্টে এসব ছবি দিলে ওদের ওয়ার্ল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি এত ভালো ছবি যে, আমরা ফাইট দিয়ে পারছি না। মানে আমার ছবি হচ্ছে না ন্যাচারে।

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির
বেটার ফটোগ্রাফি ম্যাগাজিনের ফটো অব দ্যা ইয়ার, অস্ট্রেলিয়া জয়ী ছবি

পরে দেখলাম পরিচিত অনেক ফটোগ্রাফাররা বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে ছবি তোলে। পরে আমি আস্তে আস্তে ওদিকে সুইচ করলাম। বিভিন্ন ইভেন্টে যাই ফেস্টিভ্যালের ছবি তুলি এবং সেগুলো বিভিন্ন কনটেস্টে দেয়া শুরু করলাম। দেখলাম খুব দ্রুতই অনেকগুলো অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যাচ্ছি। তখনও আমি ফটোগ্রাফির অনেক কিছুই জানি না। কিন্তু লাকিলি বেশ ভালো ভালো কয়েকটা অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যাওয়াতে কনফিডেন্সটা বেড়ে গেল। তখন আমার মনে হলো সিরিয়ালি কিছু করতে হবে।

ফটোগ্রাফি এখন প্যাশন

যে ফটোগ্রাফি কখনোই আমার শখ ছিল না, সে ফটোগ্রাফিই এখন আমার প্যাশন। অনেকটা জেদ নিয়ে ফটোগ্রাফিটা করি আমি। এর জন্য অনেক সেক্রিফাইস করেছি আমি। চাকরি করে, পরিবার সামলিয়ে, দিন-রাত এর পেছনে আমি সময় দিয়েছি। প্রচুর পড়াশোনা করেছি। অনেক মানুষের ছবি দেখেছি। কী ধরণের ছবি তুললে আমি ইন্টারন্যাশনালি বিট দিতে পারব। ওয়ার্ল্ডের ভালো ভালো ফটোগ্রাফার তাদের সঙ্গে ফাইট দিয়ে একটা পুরস্কার আনা অনেক কঠিন একটা বিষয়। সেখানে বাংলাদেশ থেকে একটি ছেলে তার ছবি নিয়ে পার্টিসিপেট করে অ্যাওয়ার্ড আনা অনেক কঠিন। কারণ তাদের ছবি তোলার অনেক স্কোপ থাকে, সুযোগ-সুবিধা থাকে, অনেক দামি দামি ডিভাইস সেটআপ ব্যবহার করে। সেখানে আমাদের এই লিমিটেশনের মধ্যেও আমরা ইন্টারন্যাশনালি ভালো করতেছি। এটা অনেক বড় একটা বিষয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ছবি জমা

প্রথম ২০১৬ সালের শেষের দিকে ইন্টারন্যাশনাল একটা কনটেস্টে ছবি জমা দিই। সেটা ছিল চায়না-বাংলাদেশ একটা ইন্টারন্যাশনাল কনটেস্ট ছিল। ওটার রেজাল্ট ২০১৭ সালে দিয়েছিল। সেখানে আমি ফার্স্ট প্রাইজ ও থার্ড প্রাইজ পাই। সেখানে আমি পাঁচটি ছবি সাবমিট করেছিলাম। তখন একদম নতুন ফটোগ্রাফিতে। এ অ্যাওয়ার্ড ছিল আমার অনেক বড় প্রেরণা।

পুরস্কার

আসলে প্রত্যেকটা অ্যাওয়ার্ডের পর সেসব একটা এক্সেল শিটে লিখে রেখেছিলাম। সেই হিসাবে কয়েক দিন আগে তাকিয়ে দেখলাম, ৫ শতাধিক অ্যাওয়ার্ড পার হলো। আমি শুরু থেকেই যেসব কনটেস্টে অংশ নিতাম, অ্যাওয়ার্ড পেতাম, সেসব আমার ফেসবুকে সেভ করে রাখতাম। এর কারণ হলো নতুনরা যাতে অনুপ্রাণিত হয়। শুরুর দিকে আমি যাদের বলতাম, ভাই কীভাবে ছবি সাবমিট করব, কীভাবে অংশ নিব, তাদের কাছে ওভাবে সাপোর্ট পাইনি। অনেক সিনিয়রদের ভেতর দেখতাম কেমন গোঁড়ামি টাইপ একটা ভাব। নতুনদের কোনো অর্জন বা অ্যাওয়ার্ড পেলেও তারা ইন্সপায়ার তো করে না; বরং নেগেটিভলি এক্সপোজ করে। সেখান থেকে আমারও মনে হয়, আমিও তো নতুন, কিন্তু আর যারা ফটোগ্রাফিতে আসবে, তারা যেন উৎসাহিত হয়। এ কারণে সব কিছু ফেসবুকে দেই।

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে স্টেনিন প্রেস ফটো কন্টেস্ট অ্যাওয়ার্ড নিচ্ছেন আজিম খান রনি (বাঁয়ে)

ফটোগ্রাফি করতে করতে অনেকে হতাশ হয়ে যায়। আমরা একসঙ্গে যারা ফটোগ্রাফি শুরু করেছিলাম, তারা অনেকেই হারিয়ে গেছে। তার একটা কারণ হলো তারা এখান থেকে রিটার্ন পায়নি। ফটোগ্রাফির এক্সপেন্স যদি বহন করার সক্ষমতা না আসে, কতদিন কন্টিনিউ করা যায়।

ফটোগ্রাফি থেকে উপার্জন

দেখেন এভাবে বলা ঠিক কি না, তবে বলি ফটোগ্রাফি হলো হীরার খনি। এখানে অফুরন্ত হীরা আছে, আপনি যদি প্রপারলি জানেন হীরাটা কত নিচে গেলে তুলতে পারবেন, তাহলে ওই হীরাগুলো তুলে আনতে পারবেন। সেই একেকটি হীরা অনেক মূল্যবান। ফটোগ্রাফি করে যে একটা সাধারণ মানুষ কোথায় যেতে পারে কেউ চাইলে আমার কাছ থেকে সেই গল্প শুনতে পারে।

আমি দেখতাম এই শহরে লক্ষ লক্ষ ফ্ল্যাট, আমার একটা নাই। এই শহরে লক্ষ লক্ষ গাড়ি; আমার একটা পারসোনাল গাড়ি নাই। আমি যে চাকরি করি, তা দিয়ে এই শহরে একটা ফ্ল্যাট, একটা গাড়ি, কত বছর যে লাগত, আমি জানি না, কিন্তু আমি মাত্র দুই বছরের ফটোগ্রাফির প্রাইজমানি দিয়ে একটা ফ্ল্যাট কিনেছি। আমার এক মাসের ইনকাম দিয়ে আমি গাড়ি কিনতে পারি। সেটাও হয়েছে আমার। তো একজন ফটোগ্রাফার ফটোগ্রাফি করে কী পরিমাণ ইনকাম করতে পারে, সেটা অনেকেরই ধারণার বাইরে। এখানে তো মাল্টিপল ইনকাম। শুধু যে কনটেস্টের প্রাইজ মানি, তা নয়। ইন্টারন্যাশনাল ম্যাগাজিন, পত্রিকা, বিভিন্ন জায়গায় পাবলিশ হবে সেখান থেকে আর্ন হবে। আমি অনলাইনে ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিই। এখন বিভিন্ন কনটেস্টে জাজিংও করি। আসলে একজন ফটোগ্রাফারের অনেক দিক থেকে সুযোগ থাকে।

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির
আমেরিকান ফটোগ্রাফি ওপেন-২০২০ প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ড প্রাইজ জয়ী ছবি

নতুনদের উদ্দেশে বার্তা

নতুন যারা ফটোগ্রাফি করবেন তাদের উদ্দেশে বলব, কেন ফটোগ্রাফি করবেন, সেটা আগে ডিসাইড করেন। কেউ যদি ভাবেন শখেই করব, কেউ যদি ভাবেন শুধু শখ না, এখান থেকে রিটার্ন নিব, তাহলে তাকে অন্যভাবে ফটোগ্রাফি করতে হবে। তাকে ইনভেস্ট করতে হবে। এই ইনভেস্ট নট অনলি মানি, এখানে প্রচুর শ্রম দিতে হবে, সময় দিতে হবে, লেগে থাকতে হবে এবং ট্রাই করতে হবে এনিহাউ এখান থেকে ভালো কিছু করব।

আরও পড়ুন:
হাসান আজিজুল হকের দীক্ষা
হাসান আজিজুল হক যে কারণে সমাহিত গ্রন্থাগারের সামনে
স্যার রোদে গেলেন
জাতিসত্তার মহিরুহ হাসান আজিজুল হক
বইয়ের মানুষ শায়িত গ্রন্থাগারের সামনে

শেয়ার করুন

শিল্পী কামরুল হাসানের জন্মশতবার্ষিকীতে চারুকলায় নানা আয়োজন

শিল্পী কামরুল হাসানের জন্মশতবার্ষিকীতে চারুকলায় নানা আয়োজন

শিল্পী কামরুল হাসানের জন্মশতবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার তার প্রতিকৃতিতে শিল্পকলা একাডেমি পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

শিল্পী কামরুল হাসানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার দিনব্যাপী নানা আয়োজন রেখেছে চারুকলা অনুষদ। এর মধ্যে রয়েছে, সকাল ১০টায় আনন্দ শোভাযাত্রা, ১১টায় আলোচনা অনুষ্ঠান, বিকেল ৩টায় শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

নানা আয়োজনে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী পটুয়া কামরুল হাসানের জন্মশতবার্ষিকী।

২ ডিসেম্বর শিল্পীর জন্মদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ সংলগ্ন শিল্পীর সমাধিতে চারুকলা অনুষদ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এদিন দুপুর ১২টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্রাঙ্গণেও শিল্পীর অস্থায়ী বেদিতে একাডেমরি পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এছাড়া শিল্পীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার দিনব্যাপী নানা আয়োজন রেখেছে চারুকলা অনুষদ। এর মধ্যে রয়েছে, সকাল ১০টায় আনন্দ শোভাযাত্রা, ১১টায় আলোচনা অনুষ্ঠান, বিকেল ৩টায় শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এদিকে শিল্পী জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে গত ২৫ নভেম্বর থেকে রাজধানীর কলাকেন্দ্র গ্যালারিতে আয়োজন করা হয়েছে তার শিল্পকর্মের প্রদর্শনীর। এটি চলবে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
হাসান আজিজুল হকের দীক্ষা
হাসান আজিজুল হক যে কারণে সমাহিত গ্রন্থাগারের সামনে
স্যার রোদে গেলেন
জাতিসত্তার মহিরুহ হাসান আজিজুল হক
বইয়ের মানুষ শায়িত গ্রন্থাগারের সামনে

শেয়ার করুন

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বর।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে, 'জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান। উৎসবের প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা এবং পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে উৎসবের শুরু হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন করবেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর ও ১১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর দুই ধাপে এ কর্মসূচি পালিত হবে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি মো. আয়েন উদ্দিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ‘জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান।

উৎসবের প্রথম দিনে দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

এদিকে ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে শুরু হবে নাট্যোৎসব ও ১৪ ডিসেম্বর প্রামাণ্যচিত্র ‘বধ্যভূমিতে এক দিন’ প্রদর্শিত হবে।

আরও পড়ুন:
হাসান আজিজুল হকের দীক্ষা
হাসান আজিজুল হক যে কারণে সমাহিত গ্রন্থাগারের সামনে
স্যার রোদে গেলেন
জাতিসত্তার মহিরুহ হাসান আজিজুল হক
বইয়ের মানুষ শায়িত গ্রন্থাগারের সামনে

শেয়ার করুন

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রফিকুল ইসলামকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ২৬ নভেম্বর বিকেলে তাকে হাসপাতালের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আর নেই। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রফিকুল ইসলামকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ২৬ নভেম্বর বিকেলে তাকে হাসপাতালের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

সে সময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তিনি ‘ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে’ আছেন। নিউমোনিয়ার সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন।

পেটের ব্যথা নিয়ে গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হন ৮৭ বছর বয়সী জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ফুসফুসে পানি ধরা পড়ে। তখন থেকে তিনি সেখানেই বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি মেডিসিন) বিভাগের অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেনের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা রফিকুল ইসলামকে ভারতে নিয়ে যেতে চাইলেও তিনি রাজি হননি।

নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক এবং নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক ছিলেন।

৮৭ বছর বয়সী এই ভাষাবিজ্ঞানী, লেখক ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। সেই সময়ের দুর্লভ আলোকচিত্রও ধারণ করেন তিনি।

বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের এই প্রত্যক্ষ সাক্ষী সেই সব ইতিহাস গ্রন্থিত করেছেন তার লেখায়। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে প্রথম গ্রন্থ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাসের প্রথম গ্রন্থটিসহ প্রায় ৩০টি বই তার হাত দিয়ে এসেছে।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের সাবেক উপাচার্য রফিকুল ইসলাম একসময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক করে নেয়।

স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখক ড. রফিকুল ইসলাম বেশ কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২১ সালের ১৮ মে সরকার তাকে তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেয়।

এই বছর মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন, বিকাশ, চর্চা, প্রচার-প্রসারে অবদান রাখায় তাকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
হাসান আজিজুল হকের দীক্ষা
হাসান আজিজুল হক যে কারণে সমাহিত গ্রন্থাগারের সামনে
স্যার রোদে গেলেন
জাতিসত্তার মহিরুহ হাসান আজিজুল হক
বইয়ের মানুষ শায়িত গ্রন্থাগারের সামনে

শেয়ার করুন

প্রেম ও যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীর মৃত্যু

প্রেম ও যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীর মৃত্যু

জাকুশো সেতাওশি। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী হয়েও মদ্যপান এবং মাংস ভক্ষণ করতেন সেতাওশি। আর প্রত্যেক মানুষ বিশেষ করে নারীদের যৌন স্বাধীনতা থাকা উচিত বলে তিনি প্রকাশ্যেই মত দিতেন।

বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী হয়েও প্রেম আর যৌনতা নিয়ে জাকুশো সেতাওশি ছিলেন বেশ খোলামেলা। জীবদ্দশায় তিনি প্রায় চার শ উপন্যাস লিখেছেন। বলা হয়, প্রেম আর যৌনতায় ভরপুর এসব উপন্যাসের বেশিরভাগই ছিল তার নিজ জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। এ ছাড়া তার অনুবাদ করা একাদশ শতকের একটি জাপানি রোমান্টিক ক্ল্যাসিক কয়েক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে।

ব্যক্তিগত সহকারীর বরাত দিয়ে শনিবার নিউ ইয়র্ক টাইমস আলোচিত এই লেখিকার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করেছে। চলতি মাসেই জাপানের কিটো শহরে ৯৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন সেতাওশি।

যৌনতা নিয়ে বিতর্কিত বিভিন্ন লেখার জন্য সেতাওশির সমালোচকেরও অভাব ছিল না। সমালোচকরা তাকে ‘গদবাঁধা লেখিকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করতেন।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমালোচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- এক সন্তানসহ প্রথম স্বামীকে ত্যাগ করে নিজের চেয়ে কম বয়সী আরেকজনের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী হয়েও তিনি মদ্যপান এবং মাংস খেতেন। আর প্রত্যেক মানুষ, বিশেষ করে নারীদের যৌন স্বাধীনতা থাকা উচিত বলে তিনি প্রকাশ্যেই মত দিতেন।

যৌনতা বিষয়ে ১৯৯৯ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি এক্ষেত্রে স্বাধীন থাকাই ভালো। ইচ্ছা হলে, যে কোনো মানুষের সঙ্গেই সঙ্গম করা যেতে পারে।’

বয়স নব্বই হওয়ার পরও তিনি লেখালেখি চালু রেখেছিলেন। আর ওই বয়সে তিনি কিটোর একটি উপাসনালয়ে দর্শনার্থীদের ধর্মীয় উপদেশও দিতেন।

১৯৭৪ সালে উপাসনালয়টি তিনি নিজেই স্থাপন করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল তিন লাখের বেশি।

নিজের জীবনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি ইতিহাসের কুখ্যাত নারীদের জীবন নিয়েও তিনি লিখতেন। এসব কারণে কেউ কেউ তাকে ‘চটি লেখিকা’ হিসেবেও ডাকতেন।

সেতাওশির সবচেয়ে সাড়া জাগানো কাজ ছিল ‘দ্য টেল অব জেনঝি’-এর আধুনিক সংস্করণ বের করা। ২২০০ পৃষ্ঠার সুবিশাল এই উপন্যাসের আগের সংস্করণটি ছিল মূলত একাদশ শতকের একটি রোমান্টিক কাহিনি।

এই কাহিনীকে পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস হিসেবে আখ্যায়িত করা ছাড়াও জাপানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাসও বলে থাকেন অনেকে। সেতাওশির অনুবাদ সংখ্যাটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হলে এর ৩৫ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়।

প্রেম ও যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীর মৃত্যু
১৯৭২ সালে জাকুশো সেতাওশি। পরের বছরই ৫১ বছর বয়সে বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী জীবন বেছে নেন তিনি। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

১৯২২ সালের ১৫ মে জাপানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় তকুশিমায় জন্ম নেয়া সেতাওশির বাবা ছিলেন কাঠমিস্ত্রি এবং মা গৃহিনী।

টোকিওতে নারীদের একটি কলেজে জাপানি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করা সেতাওশি ১৯৪৩ সালে নয় বছরের সিনিয়র ইয়াসুশি স্যাকাওকে বিয়ে করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বেযুদ্ধের ডামাডোলে ১৯৪৪ সালে স্বামীকে চীনের বেইজিংয়ে নিযুক্ত করা হলে তিনিও সেখানেই অবস্থান করেন এবং কন্যা মিচিকোর জন্ম দেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগেই জাপানে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আমেরিকান বোমার আঘাতে মারা যান সেতাওশির মা।

জাপানের একটি পত্রিকায় মায়ের স্মরণে একটি লেখা দিয়েই লেখালেখির জীবন শুরু তার। ১৯৪৬ সালে জাপানে ফিরলেও পরের বছরই তার সংসার ভাঙে। স্বামী ও কন্যাকে রেখে সেসময়ই তিনি কমবয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। পরের দিকে কন্যাকে ছেড়ে যাওয়ার ব্যপারটিকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় অনুশোচনার কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

কম বয়সী প্রেমিকের সঙ্গেও খুব বেশিদিন ছিলেন না সেতাওশি। ১৯৫০ সালে তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে তিনি বেশ কয়েকজন বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হন। এসব সম্পর্কের ঘটনাপ্রবাহ ও যৌনতার বিষয়গুলো তার উপন্যাসগুলোতে উঠে এসেছে।

১৯৫৭ সালে একটি উপন্যাসের জন্য সাহিত্য পুরস্কার জিতে নেন সেতাওশি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দুই জাপানি নারীর মধ্যে সম্পর্ক নিয়েই মূলত উপন্যাসটি লেখা হয়।

পরের বছর ‘দ্য কোর অফ অ্যা ফ্লাওয়ার’ নামে একটি উপন্যাস প্রকাশিত হলে তা নিয়ে বেশ শোরগোল তৈরি হয়। উপন্যাসের কাহিনিটি ছিল- স্বামীর বসের সঙ্গে এক নারীর সম্পর্ক নিয়ে। পরে উপন্যাসটিকে সমালোচকরা ‘চটি বই’ আখ্যা দিলে তিনিও কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, ‘যারা এসব বলছে, তারা আসলে পুরুষত্বহীন, আর তাদের স্ত্রীরা নির্জীব।’

প্রেম ও যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীর মৃত্যু
জীবনের শেষ দিনগুলোতেও নিজের প্রতিষ্ঠিত উপাসনালয়ে দর্শনার্থীদের উপদেশ বাণী শুনিয়ে গেছেন সেতাওশি। ছবি: জাপান টাইমস

এভাবে নানা চড়াই উৎরাই শেষে ১৯৭৩ সালে ৫১ বছর বয়সে পুরোপুরিভাবে বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীর জীবন বেছে নেন সেতাওশি। সন্ন্যাসিনী হলেও মদ কিংবা মাংসের মতো পার্থিব কিছু সুখ তিনি কখনোই ছাড়েননি।

কিটোতে তিনি একটি উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা করলে সেখানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়। তবে এসব দর্শনার্থীর বেশিরভাগই ছিলেন নারী। সম্পর্ক এবং আত্মা নিয়ে সেতাওশির উপদেশ তারা মন দিয়ে শুনতেন।

আরও পড়ুন:
হাসান আজিজুল হকের দীক্ষা
হাসান আজিজুল হক যে কারণে সমাহিত গ্রন্থাগারের সামনে
স্যার রোদে গেলেন
জাতিসত্তার মহিরুহ হাসান আজিজুল হক
বইয়ের মানুষ শায়িত গ্রন্থাগারের সামনে

শেয়ার করুন