অভিনয়শিল্পীর জন্য যা জরুরি

অভিনয়শিল্পীর জন্য যা জরুরি

সাবেক মিস আয়ারল্যান্ড ও মিস আর্থ ইন্টারন্যাশনাল মাক্‌সুদা আখতার প্রিয়তী। ছবি: সংগৃহীত

‘একজন অভিনয়শিল্পীর স্পিরিচুয়ালি এবং মেন্টালি হেলদি অ্যান্ড কানেকটেড (আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি এবং সত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত) থাকা খুবই আবশ্যক। তা না হলে সেই শিল্পী তার স্বয়ং সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।’

একজন অভিনয়শিল্পীর স্পিরিচুয়ালি এবং মেন্টালি হেলদি অ্যান্ড কানেকটেড (আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি এবং সত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত) থাকা খুবই আবশ্যক। তা না হলে সেই শিল্পী তার স্বয়ং সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। আপনি আপনার দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে দেশের জন্য কেমন উদাহরণ নির্ধারণ করবেন, তার চয়েস অবশ্যই আপনার হাতে, কিন্তু সবকিছুর আগে আপনার প্রয়োজন আপনাকে আপনার সত্তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা।

আমাদের সবার জীবনে কোনো না কোনোভাবে নানান রকমের ঘটনা ঘটে যায়, যা হয়ত আমরা ডিজার্ভ (প্রাপ্য) করি না, যে ঘটনার বা পরিস্থিতির ওপর হয়ত আমাদের কোনো হাত থাকে না; নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আমরা হয়ে যাই ভিকটিম। সেইসব ঘটনা বা দুর্ঘটনা দিন দিন আমাদের নিজেদের সত্তা থেকে আস্তে আস্তে বিছিন্ন করে দেয়, আমরা টের পাই না।

সবকিছুই স্বাভাবিক চলছে, এমন হিসাব করে জীবন চালাতে থাকি। আপনার জীবনেও একটার পর একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছে, আর আপনি আপনার স্পিরিচুয়াল পাওয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থেকেছেন। আপনার সেই সত্তা, যেই সত্তা আপনার আত্মশক্তি বহন করে। কেউ সেটি তখনও কানেক্ট করার জন্য আপনাকে সাহায্য করেনি, এখনও নয় এবং হয়ত কখনও করবে না। সুতরাং আপনার সময় আপনার ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর করছে, আপনি নিজেকে হিল (আরোগ্য) করে অন্য উচ্চতায় পৌঁছাবেন নাকি মনের অজান্তেই অন্যদের আদর/ভালোবাসা/যত্ন/মনোযোগ পেতে অন্যদের অ্যাপ্রুভালের (সমর্থন) জন্য পথ চেয়ে বসে থাকবেন?

আমরা ভুলে যাই, আমরা যখন নিজের শক্তি (আত্মশক্তি) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই, তখন আমরা আরেকজনের অ্যাপ্রুভাল খুঁজি, ক্ষণস্থায়ী সুখী হবার আশায়, যেখানে আমাদের সারাক্ষণই সুখী থাকার কথা।

পরিচিত/অপরিচিত যে কোনো মানুষকে আমি যখন দেখি তার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেয় বিভিন্ন মাধ্যমে কিংবা কোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন করে, সেটি আমার দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। আমি তাদের আনন্দে আনন্দিত হই, যেন তাদের আনন্দের অনুভূতিগুলো অনুভব করতে পারি। আমি তাদের চোখে আনন্দগুলো যেন স্পর্শ করতে পারি।

নেট দুনিয়াতে যেই অভিনেত্রীর জন্মদিনের উদ্‌যাপনের ভিডিও/ছবি নানান ধরনের সাদাকালো ক্যাপশনের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমি আনন্দ খোঁজার চেষ্টা করেছি। যার জন্মদিন তার চোখে, আমি যেটা দেখেছি, সেটা হলো ওনার প্রয়োজন স্পিরিচুয়াল অ্যান্ড মেন্টাল হিলিং (আত্মিক ও মানসিক নিরাময়)। ওনার জীবনে অতীতে এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ওনার ন্যাচারাল (স্বাভাবিক) অবস্থান থেকে বিচ্যুত করে রেখেছে। তাই তিনি সব কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু যেহেতু তিনি বিচ্ছিন্ন, তাই ওনার কিছু কাজ প্রতিফলিত হচ্ছে বিক্ষিপ্তরূপে।

দুর্ভাগ্য এই যে, পুরো দেশ ওনাকে নিয়ে কথা বললেও ওনাকে হিল (নিরাময়) করার জন্য কোনো মানুষ নেই ওনার পাশে, যে ওনাকে ধরিয়ে দিয়ে মেন্টালি অ্যান্ড স্পিরিচুয়ালি হিল করতে সাহায্য করে ওনাকে ওনার ন্যাচারাল স্টেইটে (স্বাভাবিক অবস্থা) নিয়ে আসবে। হয়ত তিনি মনে করছেন ওনার কাউকে দরকার নেই। ওনার আসলে কারও দরকারও নেই, যদি তিনি নিজেকে ধরতে পারেন এবং হিল করার পদক্ষেপ নিজেই নেন।

আমরা ভুলে যাই, কাগজে-কলমের সার্টিফিকেটের শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে মনের শিক্ষার দিকে রিচ হওয়ার ইচ্ছা থাকা বেশি জরুরি। একজন অভিনেত্রীর তার অভিনয় দক্ষতা যেমনই হোক না কেন, ইনডোর/আউটডোর সেটে এত এত মানুষের ভিড়ে, তার চরিত্রের প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে, স্ক্রিপ্টের লাইন মনে রেখে, পরিচালকের নির্দেশনা মনে রেখে ক্যামেরার সামনে ডেলিভারি দেয়া সহজ বিষয় নয়।

এটা প্রতিভার বিষয়, যা দিন দিন চর্চার ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শার্প অ্যান্ড শাইনি (তীক্ষ্ণ ও উজ্জ্বল) হয়, কিন্তু আমরা আমাদের সেই প্রতিভাকে ছোট করে দেখতে থাকি; আপন শক্তির ওপর বিশ্বাস হারাতে থাকি যখন আমরা আমাদের নিজ সত্তার সাথে বিচ্ছিন্ন হতে থাকি। প্রতিক্রিয়াশীল না হয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, প্রশ্ন করুন। আপনার জগতে অনেক মানুষ আসবে আবার চলে যাবে।

কিন্তু আপনার আপন সত্তার মাঝে বসবাস চিরকাল আপনাকেই করতে হবে, যার সাথে হবে না কোনো প্রতিযোগিতা কিংবা প্রতিশোধের খেলা। সুতরাং তার সাথে যোগাযোগ স্থাপন আগে নিশ্চিত করুন, তাকে রিচ (সমৃদ্ধ) করুন। পরিস্থিতি আপনা আপনি বদলে যাবে।

লেখক: সাবেক মিস আয়ারল্যান্ড ও মিস আর্থ ইন্টারন্যাশনাল

আরও পড়ুন:
কোনো স্কেল দিয়ে সেরা হওয়ার সীমা নির্ধারণ করা যায় না: প্রিয়তী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘মাইলস’র কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে ব্যান্ড ছাড়লেন শাফিন

‘মাইলস’র কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে ব্যান্ড ছাড়লেন শাফিন

ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

নিজেরর প্রত্যাশা জানিয়ে শাফিন বলেন, ‘মাইলস এর যে পজিশন এখন, আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করতে না পারি তাহলে মাইলস এর কার্যক্রম এখানেই স্থগিত করা উচিত এবং এটাই আমি মনে করি বেস্ট ডিসিশন।’

দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল মাইলস থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন দলটির ভোকাল এবং বেজ গিটারিস্ট শাফিন আহমেদ। শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

ভিডিও বার্তায় শাফিন বলেন, ‘আমি শাফিন আহমেদ আজকে আপনাদের সামনে কিছু কথা বলতে এসেছি। মাইলস এর সঙ্গে আমার পথ চলা সেই ১৯৭৯ সাল থেকে। বহু বছর পার হয়ে গেছে, অনেক বছর সময় দিয়েছি, শ্রম দিয়েছি এবং অনেক ক্রিয়েটিভ কাজ হয়েছে।

‘মাইলস এর যে অবস্থান আজকে, এটার পেছনে আমার কতটুকু অবদান সেটা আপনাদের অনেকেই জানেন। তবে একটা সিদ্ধান্ত নিতে আমি বাধ্য হয়েছি সম্প্রতি। সেটা হচ্ছে, এ বছরের শুরুতে আমি সিদ্ধান্ত নেই যে, মাইলস এর বর্তমান লাইন-আপের সঙ্গে মিউজিকের কোনো কার্যক্রম করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।

‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি এই লাইন-আপের সঙ্গে মিউজিক করা থেকে বিরত থাকব। তবে সংগীতজগতে আমার পথ চলা খুব স্বাভাবিক এবং আগের মতোই থাকবে। আমাকে স্টেজেও পাওয়া যাবে, রেকর্ডিংয়েও পাওয়া যাবে।’

নিজেরর প্রত্যাশা জানিয়ে শাফিন বলেন, ‘আমার একটা প্রত্যাশা থাকবে, সেটা হচ্ছে যে মাইলস নামটার কোনো অপব্যবহার যেন না হয়। মাইলস কে নিয়ে আমরা ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছি খুব গ্লোরিয়াসভাবে, খুব রেসপেক্টফুলি। মাইলস এর যে পজিশন এখন, আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করতে না পারি তাহলে মাইলস এর কার্যক্রম এখানেই স্থগিত করা উচিত এবং এটাই আমি মনে করি বেস্ট ডিসিশন।

‘সুতরাং আমার প্রত্যাশা থাকবে অন্য কেউ যেন মাইলস নামটা ব্যবহার না করে। এটুকুই আমার বলার ছিল ভাল থাকবেন সবাই।’

শাফিন আহমেদ ছাড়া মাইলস ব্যান্ডের লাইন-আপ- হামিন আহমেদ (ভোকাল ও গিটার), মানাম আহমেদ (ভোকাল ও কি-বোর্ড), ইকবাল আসিফ জুয়েল (ভোকাল ও গিটার), সৈয়দ জিয়াউর রহমান তূর্য (ড্রামস)।

আরও পড়ুন:
কোনো স্কেল দিয়ে সেরা হওয়ার সীমা নির্ধারণ করা যায় না: প্রিয়তী

শেয়ার করুন

করোনা: হাসপাতালে ভর্তি রহমত আলী ও জলি

করোনা: হাসপাতালে ভর্তি রহমত আলী ও জলি

নাট্যব্যক্তিত্ব রহমত আলী ও ওয়াহিদা মল্লিকা জলি। ছবি: সংগৃহীত

অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম বলেন, ‘রহমত ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা এখন ভালো, তিনি কথাবার্তা বলছেন। জলি আপার অবস্থা একটু খারাপ, তিনি তেমনভাবে কথাবার্তাও বলতে পারছেন না। তবে সব মিলিয়ে তারা দুজনই আগের চেয়ে ভালো আছেন।’

বর্ষীয়ান অভিনয়শিল্পী দম্পতি রহমত আলী ও ওয়াহিদা মল্লিকা জলি করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটালে ভর্তি হয়েছেন।

খবরটি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম।

তিনি বলেন, ‘গত ১৭ নভেম্বর তাদের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। বাসা থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তারা, কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপের দিকে গেলে গত ২২ তারিখ তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।’

তাদের শারীরিক অবস্থা জানিয়ে নাসিম বলেন, ‘রহমত ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা এখন ভালো, তিনি কথাবার্তা বলছেন। জলি আপার অবস্থা একটু খারাপ, তিনি তেমনভাবে কথাবার্তাও বলতে পারছেন না। তবে সব মিলিয়ে তারা দুজনই আগের চেয়ে ভালো আছেন।’

নাট্যব্যক্তিত্ব রহমত আলী ও জলি দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক।

আরও পড়ুন:
কোনো স্কেল দিয়ে সেরা হওয়ার সীমা নির্ধারণ করা যায় না: প্রিয়তী

শেয়ার করুন

টিজারে এলো ব্ল্যাক জ্যাংয়ের ‘বাংলা হাইপ’

টিজারে এলো ব্ল্যাক জ্যাংয়ের ‘বাংলা হাইপ’

বাংলা হাইপ গানের পোস্টারে ব্ল্যাক জ্যাং। ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাপ গানের টিজার নিয়ে আসিফুল ইসলাম সোহান (ব্ল্যাক জ্যাং) বলেন, ‘বিশ্বের যেসব দেশে থার্ড জেনারেশনের বাঙালি রয়েছে, তাদের উৎসর্গ করে গানটি করা হয়েছে। ইয়াং জেনারেশনই আমাদেরকে সাপোর্ট দিয়ে থাকে।’

বাংলা র‌্যাপ গান এবং হিপ হপ জগতে জনপ্রিয় শিল্পী ব্ল্যাক জ্যাং। সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া মিশন এক্সট্রিম সিনেমার কইরা দেখা গানটি তারই লেখা।

এই শিল্পীর গান ‘বাংলা হাইপ’-এর মিউজিক ভিডিও আসছে শিগগিরই। বাংলা হাইম এন্টারটেইনমেন্টের ফেসবুক পেজে প্রকাশ পেয়েছে গানটির টিজার।

শিগগিরই ব্ল্যাক জ্যাংয়ের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যাবে গানটির পুরো ভিডিও। নিজস্ব প্রোডাকশনের গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন শাহান এ এইচ এম।

হিপ হপের র‌্যাপিং নিয়ে ১৩ বছর কাজ করছেন আসিফুল ইসলাম সোহান। দেশেই নয়, বিদেশেও ‌র‌্যাপিং করেছেন তিনি। দেশের হিপ হপ জগতে তিনি ব্ল্যাক জ্যাং নামে পরিচিত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় গানের মিউজিক ভিডিও করা হয়েছে ‘জীবন একটা সিনেমার মতো’ এই ধারণা থেকেই। টিজারে দেয়া হয়েছে তারই আভাস।

র‌্যাপ গানের টিজার নিয়ে আসিফুল ইসলাম সোহান (ব্ল্যাক জ্যাং) বলেন, ‘এরই মধ্যে নতুন গানটি গ্লোবাল মিউজিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে আমরা বেশ সাড়াও পেয়েছি। এখন আমরা গানটির টিজার নিয়ে আসছি। বিশ্বের যেসব দেশে থার্ড জেনারেশনের বাঙালি রয়েছে, তাদের উৎসর্গ করে গানটি করা হয়েছে। ইয়াং জেনারেশনই আমাদেরকে সাপোর্ট দিয়ে থাকে।’

আরও পড়ুন:
কোনো স্কেল দিয়ে সেরা হওয়ার সীমা নির্ধারণ করা যায় না: প্রিয়তী

শেয়ার করুন

ঢাবি ক্যাম্পাসে আসছেন পূর্ণিমা ও নচিকেতা

ঢাবি ক্যাম্পাসে আসছেন পূর্ণিমা ও  নচিকেতা

চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা ও গায়ক নচিকেতা।

তিন পর্বের এই অনুষ্ঠানের সর্বশেষ পর্বে বাংলাদেশের শিল্পীদের পাশাপাশি ভারতীয় শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী ও তার দল গান পরিবেশন করবে। সঞ্চালনা করবেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের আয়োজনে মার্কেটিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার রজতজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে থাকবেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা ও ভারতের জনপ্রিয় শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী।

আগামী ১৭ ডিসেম্বর তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

শনিবার মার্কেটিং বিভাগের সেমিনার রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

১৭ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

তিন পর্বের এই অনুষ্ঠানের সর্বশেষ পর্বে বাংলাদেশের শিল্পীদের পাশাপাশি ভারতীয় শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী ও তার দল গান পরিবেশন করবে। সঞ্চালনা করবেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো.আখতারুজ্জামান।

মার্কেটিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (এমএএ) সভাপতি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।

গেস্ট অফ অনার থাকবেন মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির উদ্দিন এবং ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও গোলাম মুর্শিদ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে 'বাংলাদেশে ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক আলোচনার আয়োজন রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যালামনাইয়ের চেয়ারম্যান ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংকে আমাদের ৭০ লাখ টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট) রয়েছে। এখান থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে আমরা প্রতিবছর নিয়মিতভাবে মার্কেটিং বিভাগের মেধাবী ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকি। নতুন ভর্তির ক্ষেত্রে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তাও দিই। এ বছর আমরা এই এফডিআর দেড় কোটি টাকায় রূপান্তর করতে চাই।’

আরও পড়ুন:
কোনো স্কেল দিয়ে সেরা হওয়ার সীমা নির্ধারণ করা যায় না: প্রিয়তী

শেয়ার করুন

এক বছর হলো

এক বছর হলো

আলী যাকেরের ড্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ছবি: সংগৃহীত

১৯৭৩ সালে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে তিনি প্রথম নির্দেশনা দেন বাদল সরকারের বাকি ইতিহাস নাটকে, যা ছিল বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনীর যাত্রা।

সারা যাকের। অভিনেত্রী, ব্যবসায়ী। প্রয়াত আলী যাকেরের স্ত্রী তিনি। ইরেশ যাকের এবং শ্রিয়া সর্বজয়ার মা।

পরিবারের পাশাপাশি বড় ব্যবসা সামলাতে হয় তাকে। আলী যাকের বেঁচে থাকতে অনেকটা ছাড় পেতেন তিনি, পেতেন আশ্রয়ও। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই।

শনিবার আলী যাকের চলে যাওয়ার এক বছর। সারা দিনটি স্মরণ করেছেন ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর লেখা তরিকুল লাভলুর কবিতা দিয়ে। কবিতাটির ওপর সারা লিখেছেন, ‘এক বছর হলো’।

কবিতা-

শেষ অঙ্কে ছিল না কিছুই সংলাপ।

নিরব তোমার উপস্থিতিও কম নয়।

আবহের সুরে বিরহবিধুর সন্তাপ,

যবনিকাতে এবারে ছিল না অভিনয়!

বেলা পড়ে এলে ছায়াটা দীর্ঘ হয়,

তোমার কায়াই দীর্ঘতর ছিল,

মঞ্চে তোমার কতই না পরিচয়,

আমাদের ছিলে তুমিই গ্যালিলিও!

এক জীবনে কতবার কত সাজ,

সংলাপ শেষে ফিরেওছো আপনাতে,

শেষ সাজটা নিলেই যখন আজ,

আমরা দাঁড়ালাম দেশময় গেলারিতে।

অভিবাদনের করতালি শুনছো কী?

আর আমাদের দেবে কী সাড়া, ডাকের?

আঁধারে যখন জ্বলে উড়বে জোনাকি,

আস্ফুটে যদি ডাক দেই, আলী যাকের?

ব্রেটল ব্রেশটের ‘দ্য লাইফ অব গ্যালিলিও গ্যালিলি’ অবলম্বনে গ্যালিলিও নামে অনুবাদ নাটকে নামচরিত্র ‘গ্যালিলিও’ হিসেবে অভিনয়ের জন্য আলী যাকেরকে ‘বাংলার গ্যালিলিও’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

আলী যাকেরের ছেলে ইরেশ যাকের। তিনি দেশের নামকরা অভিনেতা। শখে ফটোগ্রাফি করেন। ব্যবসায়ীও তিনি। বাবাকে স্মরণ করেছেন ইরেশ, তবে একটু ভিন্নভাবে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আলী যাকেরের বাড়ি রতনপুরের একটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি।

আলী যাকেরের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রতনপুরে জন্ম তার। বাবা মাহমুদ তাহের ও মা রেজিয়া তাহেরের চার সন্তানের মধ্যে আলী ছিলেন তৃতীয়। বাবার সরকারি চাকরির কারণে তার শৈশব কাটে কুষ্টিয়া ও মাদারীপুরে।

১৯৬০ সালে সেন্ট গ্রেগরিজ থেকে ম্যাট্রিক, নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করেন।

১৯৭২ সালে আলী যাকের আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে মামুনুর রশীদের নির্দেশনায় মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকটিতে প্রথম অভিনয় করেন যার প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে। ১৯৭২ সালের জুন মাসের দিকে আতাউর রহমান ও জিয়া হায়দারের আহ্বানে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে যোগ দেন। ওই দলে তিনি আতাউর রহমানের নির্দেশনায় বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন, যার প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ওয়াপদা মিলনায়তনে । ১৯৭৩ সালে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে তিনি প্রথম নির্দেশনা দেন বাদল সরকারের বাকি ইতিহাস নাটকে, যা ছিল বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনীর যাত্রা।

এরপর বহু টিভিনাটক ও সিনেমায় অভিনয় করেছেন আলী যাকের।

আলী যাকের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। গত বছরের ২৭ নভেম্বর সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন আলী যাকের। তাকে সমাহিত করা হয় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে।

আরও পড়ুন:
কোনো স্কেল দিয়ে সেরা হওয়ার সীমা নির্ধারণ করা যায় না: প্রিয়তী

শেয়ার করুন

সেই ‘প্রতারকের’ সঙ্গে জ্যাকলিনের ঘনিষ্ঠ ছবি প্রকাশ

সেই ‘প্রতারকের’ সঙ্গে জ্যাকলিনের ঘনিষ্ঠ ছবি প্রকাশ

বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জ্যাকলিন-সুকেশের এই অন্তরঙ্গ ছবিটি চলতি বছর এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে তোলা হয়েছে। সুকেশের হাতে যে ফোনটি রয়েছে, সেটি দিয়েই বিরাট অঙ্কের প্রতারণার কাজ সেরেছেন তিনি।

হাতে আইফোন, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের গালে চুমু খাচ্ছেন এক ব্যক্তি। এমনই এক ছবি ঘিরে তোলপাড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

কারণ এই ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি ২০০ কোটি রুপি আর্থিক প্রতারণা মামলার মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর। যে মামলায় বারবার ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর জেরার মুখে পড়েছেন জ্যাকলিন।

এই ছবি ভাইরাল হতেই জ্যাকলিনের সঙ্গে সুকেশের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয়েছে ফের চর্চা।

তবে সুকেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।

সেই ‘প্রতারকের’ সঙ্গে জ্যাকলিনের ঘনিষ্ঠ ছবি প্রকাশ
২০০ কোটি রুপি প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত সুকেশের সঙ্গে জ্যাকলিনের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের এই ছবিটি ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জ্যাকলিন-সুকেশের এই অন্তরঙ্গ ছবিটি চলতি বছর এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে তোলা হয়েছে। সুকেশের হাতে যে ফোনটি রয়েছে, সেটি দিয়েই বিরাট অঙ্কের প্রতারণার কাজ সেরেছেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই সুকেশের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডি। এর আগেই দিল্লি পুলিশ সুকেশ ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে।

এই মামলায় ইডির সাক্ষী তালিকায় নাম রয়েছে জ্যাকলিনের। একাধিকবার অভিনেত্রীকে জেরাও করেছে সংস্থাটি।

অভিযুক্ত সুকেশের আইনজীবীর দাবি, জ্যাকলিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সুকেশের।

সেই ‘প্রতারকের’ সঙ্গে জ্যাকলিনের ঘনিষ্ঠ ছবি প্রকাশ
বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। ছবি: সংগৃহীত

যদিও জ্যাকলিনের মুখপাত্র বলেন, ‘তদন্তকারীদের সঙ্গে সব রকম সহযোগিতা করছেন জ্যাকলিন, তিনি এই মামলার অভিযুক্ত নন। তাকে সাক্ষী দেয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। জ্যাকলিনের সঙ্গে অভিযুক্তের ব্যক্তিগত সম্পর্কের খবর ভুয়া ও ভিত্তিহীন।’

তবে সুকেশের সঙ্গে জ্যাকলিনের এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চারবার চেন্নাইতে জ্যাকলিনের সঙ্গে দেখা করেছেন সুকেশ। এমনকি অভিনেত্রীর জন্য প্রাইভেট জেটের বন্দোবস্তও করে দেন তিনি।

সুকেশ ও তার স্ত্রী লীনা পাল এর আগে ২০১১ সালে এক ব্যাংক জালিয়াতির মামলার অভিযুক্ত। সেই মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তারা। পরে জামিনে ছাড়া পান।

আরও পড়ুন:
কোনো স্কেল দিয়ে সেরা হওয়ার সীমা নির্ধারণ করা যায় না: প্রিয়তী

শেয়ার করুন

‘গল্প বোঝাটাই হয়তো আমার ওপর শাকিবের আস্থার কারণ’

‘গল্প বোঝাটাই হয়তো আমার ওপর শাকিবের আস্থার কারণ’

নির্মাতা হিমেল আশরাফ (বাঁয়ে) ও শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত

‘দেখেন শাকিব খানকে তো আমার নতুন করে কিছু শেখানোর নাই বা আমি তাকে কিছু শেখাইও নাই। তিনি যা পারেন, আমার মনে হয় তাও আমরা দেখাতে বা বের করে আনতে পারি নাই। তিনি চান ভালো কাজ, ভালো পরিকল্পনা এবং সর্বোপরি ভালো গল্প। আমার কাছে মনে হয় আমার গল্প বোঝার ব্যাপারটা শাকিব খানকে আস্থা রাখতে সাহায্য করেছে।’

দেশের সিনেমা অঙ্গনে যাকে নিয়ে চাপা উত্তেজনা এবং ‘হিংসা’ কাজ করছে, তিনি হিমেল আশরাফ। এ নির্মাতাকে দিয়ে তিনটি সিনেমা পরিচালনা করাচ্ছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান, তাও আবার নিজের টাকা দিয়ে।

বিষয়টি শাকিব খানের ভক্তসহ সিনেমার অনেকের মধ্যেই চাপা উত্তেজনা তৈরি করিয়েছে। নতুন পরিচালক নিশ্চয়ই শাকিব খানকে দিয়ে নতুন কিছু করিয়ে নেবে, এটাই অনেকের ভালোলাগা।

একই কারণে অনেকে ‘হিংসা’ও করছেন তাকে। মাত্র তো সুলতানা বিবিয়ানা নামের একটি সিনেমা নির্মাণ করেছেন হিমেল। এ অভিজ্ঞতা নিয়েই শাকিব খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে তিনটি সিনেমা তিনি কেন নির্মাণ করবেন।

সময় সর্বদা পরিবর্তিত, সময় নতুনের। তাই হয়তো তরুণ এ পরিচালকের ওপরেই ভরসা রাখছেন শাকিব খান।

পরিচালক হিমেল আশরাফ যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ২২ নভেম্বর দেশে এসেছেন। শরীয়তপুরের হিমেল ঢাকাতেই আছেন, থাকবেন ৩ অথবা ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সুযোগে হিমেল আশরাফের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। বিজয় সরণির একটি চা-শিঙাড়ার দোকানে বসে কথা হয় তার সঙ্গে।

৩ বছর ১ মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন হিমেল। তবে ঢাকার চা-শিঙাড়া থেকে ভক্তি ওঠেনি তার। বসতে বসতে শিঙাড়া ও লেবু চা চাইলেন হিমেল।

এ বছরের জানুয়ারিতেই একবার এসেছিলেন দেশে কিন্তু সেভাবে কারও সঙ্গে দেখা না করে আবার চলে যান। এবার সিনেমার কিছু প্রি-প্রোডাকশনের কাজ করছেন। সঙ্গে চলছে পরিচিতদের সঙ্গে আড্ডা, দেখা-সাক্ষাৎ।

‘পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করছি। পুরোনো বন্ধু, নির্মাতা বা মিডিয়ার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে অবশ্য ব্যক্তিগত আলাপই বেশি। সাংবাদিকদের সঙ্গেও আড্ডা দিচ্ছি। আর সিনেমার কিছু লোকেশন দেখা, সিনেমা নিয়ে কিছু মিটিংও চলছে।’ হিমেল এসব বলতে বলতে চলে এলো শিঙাড়া। চা তখনও আসেনি।

হিমেলের ঠান্ডা লেগেছে। অনেকে ভাবছেন আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য ঠান্ডা লেগেছে, না, সে জন্য নয়। এ দেশের বাতাসে ধুলার কারণে ঠান্ডা লেগে গেছে তার। তাই কথা বলার সময় বসতে চাইলেন লেবু চা নিয়ে।

‘গল্প বোঝাটাই হয়তো আমার ওপর শাকিবের আস্থার কারণ’
শাকিব খানের সঙ্গে পরিচালক হিমেল আশরাফ। ছবি: সংগৃহীত

শাকিব খানকে নিয়ে একাধিক সিনেমা করছেন হিমেল। অনেকে তো মনে করছেন শীর্ষ নায়ককে বশ করেছেন হিমেল আশরাফ।

‘দেখেন শাকিব খানকে তো আমার নতুন করে কিছু শেখানোর নাই বা আমি তাকে কিছু শেখাইও নাই। তিনি যা পারেন, আমার মনে হয় তাও আমরা দেখাতে বা বের করে আনতে পারি নাই। তিনি চান ভালো কাজ, ভালো পরিকল্পনা এবং সর্বোপরি ভালো গল্প। আমার কাছে মনে হয় আমার গল্প বোঝার ব্যাপারটা শাকিব খানকে আস্থা রাখতে সাহায্য করেছে।’ এতক্ষণে লেবু চায়ে চুমুক পড়ে গেছে হিমেলের।

অন্যভাবে ভাবলে হিমেলও কিন্তু শাকিব খানের ওপরে আস্থা রাখছেন। শাকিবের স্টারডম ব্যবহার না করে অন্য কাউকে নিয়ে কাজ করলে বোঝা যেত তার পরিচালনার মুনশিয়ানা।

‘আমি যখন যুদ্ধে যাব তখন তো চাইবই সবচেয়ে ভালো ঘোড়া, তলোয়ারটা নিয়ে যেতে। সে ক্ষেত্রে শাকিব খানের চেয়ে ভালো প্রযোজক, অভিনেতা কি আমি আর পাব? তা ছাড়া সুযোগ থাকলে সবাই চান শাকিব খানকে নিয়ে সিনেমা করতে। অনেকে পারেন না বাজেটের কারণে, অনেকের গল্পে হয়তো শাকিব খান যায় না, অনেকের গল্প হয়তো শাকিব খানের ভালো লাগে না।’

হিমেল লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পরিচালনা বিষয়ে লেখাপড়া করছেন। এখনও সে শিক্ষা নেয়া শেষ হয়নি। সপ্তাহে তার ২৫ ঘণ্টা ক্লাস করতে হয়। হিমেল জানান, যদি এমন হতো যে শিক্ষা নেয়াটা শেষ করলে হিমেল সিনেমা বানাতে পারবেন, তাহলে অনেক আগেই কোর্সটি শেষ করে ফেলতেন তিনি। সেই তাগিদটা তীব্র না হওয়ায় ধীরে ধীরেই কোর্সটি করছেন হিমেল।

আউট অব দ্য বক্স কিছু করতে চান না হিমেল। তিনি চান পরিপূর্ণ বিনোদন দিতে। যেখানে প্রয়োজনে শিক্ষাও থাকতে পারে। শাকিব খানকে নিয়ে নির্মিতব্য সিনেমাগুলোতে সেটাই করবেন পরিচালক।

‘সিনেমায় প্রেম, ইমোশন, অ্যাকশন, কমেডি সবই রাখতে চাই আমি। লোকেশনেও গুরুত্ব দিতে চাই। শাকিব খানকে নিয়ে সিনেমাগুলো বানাব সেখানে এসব পাবেন দর্শকরা। এখনকার দর্শকরা ভালো গল্প খোঁজেন, তাই সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে সেটি। তাছাড়া শাকিব খানও চান ভালো গল্পে কাজ করতে।’ বলেন হিমেল আশরাফ।

চা-শিঙাড়ার দোকানে আরও একটি অর্ডার দেয়ার সময় হয়েছে মনে করে এবার হিমেল চাইলেন লেবুর শরবত। শরবতটা তিনি আগেই চেয়েছিলেন কিন্তু দোকানটিতে মূল কারিগর না থাকায় এতক্ষণ লেবু চা দিয়ে সারছিলেন হিমেল।

সিনেমা আপডেট জানিয়ে হিমেল বলেন, ‘প্রথমেই নাম চূড়ান্ত না হওয়া সিনেমাটির কাজ আমরা শুরু করছি। যার অধিকাংশ কাজ হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর মায়া নামের সিনেমাটি করব, যার কাজ হবে বাংলাদেশে। তারপর শুরু হবে প্রিয়তমা। এই কাজটা দেরি হওয়ার কারণ হলো, সিনেমা তো শুধু দৃশ্যধারণেই হয় না, শুটিংয়ের আগে ও পরেও হয়। সিনেমাটির জন্য যে যে কাজ করতে চাচ্ছি তা হচ্ছে না। সে সময় আমি দেশের বাইরে চলে গেলাম, তখন একটা গ্যাপ হলো। সব মিলিয়ে সময় লাগছে।’

আগামী বছরের জানুয়ারিতে আবার আসবেন হিমেল। কাজ শুরু করলে নাকি প্রতি বছরের শীতকালে তাকে দেশে পাওয়া যাবে।

দেশের পরিচিত মিডিয়া ছেড়ে বিদেশে কেমন আছেন হিমেল আশরাফ? ‘ভালো আছি। জীবিকা ও জীবনযাত্রা খুবই ভালো। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমি যে টাকা ইনকাম করেছি, ওখানে এ তিন বছরে তার চেয়ে বেশি ইনকাম করেছি। জীবনযাত্রার মান নিয়ে কী বলব! করোনার মধ্যে সরকার আমাদের নানাভাবে আর্থিক সাহায্য করেছে। তবে হ্যাঁ, দেশকে মিস করি, মিডিয়া মিস করি। ভালো আছি বলেই হয়তো মিস করি। খারাপ থাকলে এসব মনে হতো না।’

‘গল্প বোঝাটাই হয়তো আমার ওপর শাকিবের আস্থার কারণ’
নির্মাতা হিমেল আশরাফ। ছবি: সংগৃহীত

আর কোর্স করে নতুন কিছু শিখছেন কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে হিমেল বলেন, ‘আমি যদি আগে থেকে এ দেশে নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত না থাকতাম, তাহলে বিস্মিত হতাম। আমি বিস্মিত হই, যখন দেখি যে কাজটা আমাদের দেশে ৫ জন দিয়ে করেছি, ওরা সেই কাজ আরও অনেক মানুষ দিয়ে করায়। এতে করে আরও পারফেকশন আসে। তাছাড়া ওদের বাজার বড় হওয়ায় খরচ করতে অসুবিধা হয় না। ওখানে একজন ক্রু প্রতি ঘণ্টায় ২৫০ ডলার পায়। সময়মতো আসে, সময়মতো কাজ করে চলে যায়। আমাদের এখানকার অবস্থা আর নাই বললাম।’

এখন পরিকল্পনাতেই ব্যস্ত হিমেল আশরাফ। নানা রকম গল্প লিখছেন, ভাবছেন। এরই মধ্যে কিছু প্রযোজক যুক্তরাষ্ট্রেই তার সঙ্গে আলাপ করেছেন সিনেমা নির্মাণ নিয়ে। কিন্তু হিমেলের কাছে আপাতত বিদেশের গল্প নেই, যা আছে সব বাংলাদেশের।

চা-শিঙাড়া আর শরবতের বিল দেয়া হয়ে গেলে হিমেল বলেন, ‘আগে হলে আমি এ কাজগুলো ছাড়তাম না কিন্তু এখন কাজ করতে চাই সন্তুষ্টি, যুক্তি ও কনফিডেন্ট নিয়ে। দেশে যখন নিয়মিত ছিলাম, তখন আমার টাকার চিন্তা ছিল। অনেক কাজ করতে হয়েছে কিন্তু এখন তো আমি আগের চেয়ে ভালো আছি, এখন সময় নিয়ে ভালো কাজই করতে চাই। কী চাই, সেটা বুঝে তারপর কাজে নামতে চাই।’

নাম চূড়ান্ত না হওয়া শাকিব খানের যে সিনেমাটি করতে যাচ্ছেন হিমেল, তার প্রথম লাইন তিনি লিখেছিলেন ২০২০ সালের মার্চ মাসে। সেটির চিত্রনাট্য এখনও শেষ হয়নি। এখনও রি-রাইট চলছে।

নতুন ভাবনায়, নতুন শক্তি নিয়ে পরিচালক হিমেল আশরাফ চলতে চান বাকিটা পথ। সমস্যা এবং সম্ভাবনা দুই তার কাঁধে। আগামীর কাজে বিফল হলে মুখ ফিরিয়ে নেবে দর্শক। প্রযোজক আস্থা হারাবে নতুন পরিচালকের ওপর থেকে। আর সফল হলে নতুন মাত্রা পাবে দেশের সিনেমা। হবে নতুন নতুন পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন:
কোনো স্কেল দিয়ে সেরা হওয়ার সীমা নির্ধারণ করা যায় না: প্রিয়তী

শেয়ার করুন