২৮ বছরে চিত্রা থিয়েটার

২৮ বছরে চিত্রা থিয়েটার

নড়াইলের নাট্য সংগঠন চিত্রা থিয়েটারের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

শোভাযাত্রা শেষে নড়াইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার গণকবর এবং জেলা জজ আদালতের পাশের বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

শোভাযাত্রা, পুষ্পমাল্য অর্পণসহ নানা আয়োজনে নড়াইলের নাট্য সংগঠন ‘চিত্রা থিয়েটার’ এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

চিত্রা থিয়েটার ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীরা বৃহস্পতিবার সকালে একটি শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শেষ হয়।

শোভাযাত্রা শেষে নড়াইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার গণকবর এবং জেলা জজ আদালতের পাশের বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নড়াইলের সভাপতি মলয় কুন্ড, সাধারণ সম্পাদক শরফুল আলম লিটু, জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীমূল ইসলাম টুলু, চিত্রা থিয়েটারের সাদারণ সম্পাদক ইমান আলী মিলন, সৈয়দ ওসমান আলীসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
জাপানের কানসাইয়ে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিকদের সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

‘একটি সম্প্রদায়ের উপর আঘাত মানে আপনার-আমার উপর আঘাত, বাংলাদেশের সংবিধানের উপর আঘাত। কারণ, মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তা, ভিন্নমতের মানুষ ও ভিন্ন ধর্মের মানুষের অধিকার যখন ক্ষুণ্ণ করা হয়, তখন লেখক হিসেবে আমার অধিকারও ক্ষুণ্ণ হয়। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারকে আন্তধর্মীয় সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিকদের সমাবেশ থেকে। সেই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে উসকানি ও ঘৃণার বক্তব্য সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে ভাঙচুর, তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

‘সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক’ এর ব্যানারে সমাবেশের সামনে রঙতুলি দিয়ে প্রতিবাদী স্লোগান লিখে প্রতিবাদ জানান চিত্রশিল্পীরা।

সমাবেশে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী-সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে লেখক স্বকৃত নোমান সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

দাবিগুলো হলো,

সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা;

রামু, নাসিরনগরসহ দেশে সংগঠিত প্রতিটি হামলার প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে প্রকাশ এবং এতে রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিচার করা;

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ওয়াজ মাহফিল থেকে সাম্প্রদায়িক এবং নারীবিদ্বেষমূলক বক্তব্য বন্ধের উদ্যোগ নেয়া;

স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তক থেকে সাম্প্রদায়িক পাঠ বিলুপ্ত করে৷ অসাম্প্রদায়িক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা;

সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সরকারি উদ্যোগে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আন্তধর্মীয় সংলাপের আয়োজন করা;

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সারাদেশে সংস্কৃতিচর্চার প্রসার ঘটানো এবং স্বাধীন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অনুপ্রাণিত করা;

এবং

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে পাঠাগার এবং সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করা।

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা আজ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত। লজ্জায় আমরা মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছি। তবে এ মাটি থেকেই আমাদের ওঠে দাঁড়াতে হবে।

‘কারণ, পরাজিত হওয়ার জন্য ৩০ লক্ষ শহিদ বাংলাদেশ স্বাধীন করেনি। দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের পূজামণ্ডপ এবং বাড়ি ঘরে যে হামলা হয়েছে এটা একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে ঘটতে পারে আমরা কল্পনাও করতে পারি না। আমরা চাই, দেশের সমস্ত মানুষ এক হয়ে এ দাঙ্গাবাজ, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমি মনে করি, একটি সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত হয়েছে। একে ইথনিক ক্লিঞ্জিং বলে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

‘একটি সম্প্রদায়ের উপর আঘাত মানে আপনার-আমার উপর আঘাত, বাংলাদেশের সংবিধানের উপর আঘাত। কারণ, মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তা, ভিন্নমতের মানুষ ও ভিন্ন ধর্মের মানুষের অধিকার যখন ক্ষুণ্ণ করা হয়, তখন লেখক হিসেবে আমার অধিকারও ক্ষুণ্ণ হয়। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।’

কথা সাহিত্যিক মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে যে সংখ্যালঘু শব্দের প্রচলন রয়েছে। আমরা চাই সেটি বন্ধ হোক। এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। যদি কোনো ধর্মের একজনও থেকে থাকে তাহলেও তিনি সংখ্যালঘু না। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকেও আমরা সংখ্যালঘু বলতে চাই না। এই দেশে প্রত্যেকের সমান অধিকার আছে।’

পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘কোনো মুসলমান মন্দিরে আজান দেবে না, কোনো হিন্দুও মন্দিরে কোরআন রাখতে পারে না। যারা এই কাজ করেছে, তারা মানুষরূপী অসুর। চলুন, আজ এই সমাবেশ থেকে ঘোষণা দিই—এসব মানুষরূপী অসুরদের বদ করতে হবে।’

কথাসাহিত্যিক রেজা ঘটক বলেন, ‘সরকার আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার করেনি। এই বিচারহীনতায় বারবার এ ঘটনাগুলোকে উসকে দিচ্ছে। যারা এসব হামলা করছে তারা ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী। কিন্তু সেই গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার কেনো বারবার ব্যর্থ হচ্ছে! এটি কি কোনো চক্রান্ত?’

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে কেন আজ আমার মূর্তির উপর আঘাত আসে? কেন আজ আমি আমার মাকে শান্তিতে বিসর্জন দিতে পারি না? এই দুঃখ কোথায় রাখব?’

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে সংগঠনটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনায় আমরা এখানে এসে দাঁড়াই। কিন্তু এই যে সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো হচ্ছে, এগুলোর কোনো বিচার হচ্ছে না? রামু থেকে নাসিরনগরের ঘটনাগুলোর বিচার যদি হতো, তবে আজকে চাঁদপুর-নোয়াখালী-কুমিল্লায় এই ধরনের ঘটনাগুলো ঘটতো না।’

একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক জুলহাস নুর বলেন, ‘আমি একজন সংবাদকর্মী। আমরা নিউজরুমে কাজ করি। যখন এই ধরনের হামলার ঘটনাগুলো আমাদের কাছে আসে এবং এগুলো নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়, তখন আমরা ভীষণভানে মুষড়ে পড়ি।

‘আমরা যখন এখানে দাঁড়িয়ে আছি, এর আগেই ঘটে গেছে হাজীগঞ্জ, চৌমুহনী, পীরগঞ্জের ঘটনা। এসব ঘটনা যারা ঘটাচ্ছেন, তারা বারবার ঘটিয়ে চলেছে। এই ঘটনাগুলো প্রতিরোধে যে গণপ্রতিরোধ হওয়া দরকার, সরকার-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনীতিবিদদের যা করা দরকার, আমরা কি তা ঠিকঠাক করছি?’

চারুশিল্পী সংসদের সাধারণ সম্পাদক চিত্রশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ কখনও পরাজিত হতে পারে না। এই দেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা আছে মানুষ আর পিশাচে। যারা এসব ঘটাচ্ছে, তারা পিশাচ আর আমরা মানুষ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, কবি আলতাফ শাহনেওয়াজ, গৌরব একাত্তরের সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীন, যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুস্তাফিজ বিপ্লব, কথাসাহিত্যিক আহমদ মোস্তফা কামাল, লেখক ও গবেষক চঞ্চল আশরাফ, অভিনয়শিল্পী মৌটুসী বিশ্বাস, চিত্রনির্মাতা মাসুদ প্রতীক, কবি লেখক শিক্ষক ঝর্ণা রহমান, কবি টোকন ঠাকুর, কথা সাহিত্যিক পারভেজ হোসেন, আবৃত্তিশিল্পী মাসুম আজিজুল বাশার, রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী মকবুল হোসেনও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
জাপানের কানসাইয়ে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

শেয়ার করুন

উজান বইয়ের সেরা আলোচক সরোজ, ইলিয়াস ও মাজেদা

উজান বইয়ের সেরা আলোচক সরোজ, ইলিয়াস ও মাজেদা

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জমা দেয়া আলোচনার মান যাচাই ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৩ জনের অবস্থান নির্ধারণ করেন পাঁচ সদস্যের বিচারক কমিটি। বিজয়ীদের হাতে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

‘উজান বই আলোচনা প্রতিযোগিতায়’ সেরা আলোচক হয়েছেন কবি ও প্রাবন্ধিক সরোজ মোস্তফা (গোলাম মোস্তফা)। দ্বিতীয় হয়েছেন ইলিয়াস বাবর, তৃতীয় স্থানে আছেন মাজেদা মুজিব।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা পাচ্ছেন যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার এবং ১০ হাজার টাকা অথবা সমমূল্যের বই। দেশের স্বনামধন্য সাহিত্যিক ও অনুবাদকদের নিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের বিচারক কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।

উজান থেকে প্রকাশিত অনুবাদ গ্রন্থ ‘কোরিয়ার কবিতা’ (ছন্দা মাহবুবের অনুবাদ) এবং ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ সম্পাদিত ‘কোরিয়ার গল্প’-এর ওপর এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। বই দুটির বাংলা অনুবাদ এবং প্রতিযোগিতা আয়োজনে সহযোগিতা করছে লিটারেচার ট্রান্সলেশন ইনস্টিটিউট অফ কোরিয়া। বই দুটি প্রকাশ করেছে উজান প্রকাশন।

আরও পড়ুন: উজান প্রকাশনের বই আলোচনা প্রতিযোগিতা

প্রতিযোগিতায় আলোচনা জমা দিয়ে নির্বাচিত আলোচক হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন আরও ১০ জন। তারা হলেন, মিলু হাসান, জাহিদ সোহাগ, সিরাজুম মুনিরা, সম্প্রীতি মল্লিক, অলাত এহসান, হারুন সুমন, রুম্মানা জান্নাত, ফাহাদ হোসেন, হাসান জামিল, আবিদা তাহসিন প্রমি। নির্বাচিত আলোচকদের প্রত্যেকে পাচ্ছেন পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের বই।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জমা দেয়া আলোচনার মান যাচাই ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই ১৩ জনের অবস্থান নির্ধারণ করেন পাঁচ সদস্যের বিচারক কমিটি। তারা হলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক সুব্রত বড়ুয়া, কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক কুমার চক্রবর্তী, অনুবাদক রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, কবি সোহেল হাসান গালিব এবং কোরিয়ান ভাষা বিশেষজ্ঞ ও অনুবাদক শিউলি ফাতেহা।

উজান বই আলোচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

আরও পড়ুন:
জাপানের কানসাইয়ে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

শেয়ার করুন

১৬ জেলায় হবে শিল্পকলা একাডেমির আধুনিকায়ন: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

১৬ জেলায় হবে শিল্পকলা একাডেমির আধুনিকায়ন: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী এ কে এম খালিদ বলেন, ‘মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি আধুনিক শিল্পকলা একাডেমিতে রূপান্তর হবে। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে আধুনিক বিভিন্ন সুবিধাসমৃদ্ধ ভবন।’

দেশের সংস্কৃতি রক্ষার্থে মাগুরাসহ ১৬ জেলায় শিল্পকলা একাডেমির আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম খালিদ।

মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে রোববার দুপুরে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঝ থেকে গ্রামীণ জারি-সারি গান, যাত্রাপালা, পালাগান হারিয়ে যেতে বসেছে। এগুলো আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ, তাই এগুলোকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এ জন্য মাগুরাসহ দেশের ১৬টি জেলায় আধুনিক সাংস্কৃতিক একাডেমি গড়ে তোলার কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। অচিরেই আধুনিক মানের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সংস্কৃতির মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি আধুনকি শিল্পকলা একাডেমিতে রূপান্তর হবে। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে আধুনিক বিভিন্ন সুবিধাসমৃদ্ধ ভবন।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরার জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুণ্ডু, জেলার সিভিল সার্জন শহিদুল্লাহ দেওয়ান, পৌর মেয়র খুরশিদ হায়দার টুটুল এবং জেলা তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী শহরের সৈয়দ আতর আলী গণগ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন। পরে শহরের সার্কিট হাউসে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, সুধীজন ও শিল্পী-কলাকুশলীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আরও পড়ুন:
জাপানের কানসাইয়ে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

শেয়ার করুন

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আড়ম্বরহীন কুষ্টিয়ার আখড়াবাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় বাউল মেলা হবে ধরে নিয়েই সাধু-ফকির, বাউল ভক্তরা আখড়ায় জড়ো হয়েছেন। লালন ধামে আখড়াবাড়ির ভেতরে এবং বাইরের মাঠের গাছতলায় অবস্থান নিয়েছেন তারা।

মরমী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩১তম তিরোধান দিবস রোববার। করোনার কারণে এবারও বাউল মেলার আয়োজন বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। তবে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়ি খোলা থাকায় জড়ো হয়েছেন সাধু-বাউল-ফকিররা। প্রথা অনুযায়ী তারা ভক্তি-শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সাইঁজির চরণে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৩০ বছরের রেওয়াজ ভেঙে গত বছরই প্রথম বাতিল করা হয় লালনের এই স্মরণোৎসব। সে সময় করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ পর্যায়ে থাকায় আখড়াবাড়ির গেটও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় বাউল মেলা হবে ধরে নিয়েই সাধু-ফকির, বাউল ভক্তরা আখড়ায় জড়ো হয়েছেন। লালন ধামে আখড়াবাড়ির ভেতরে এবং বাইরের মাঠের গাছতলায় অবস্থান নিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন অ্যাকাডেমির আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম গত ১২ অক্টোবার ঘোষণা দিয়েছেন, এবারও তিরোধান দিবস পালন হবে না। করোনার কারণে গণজমায়েত এড়িয়ে চলতে এ ঘোষণা দিতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

আখড়াবাড়ির বাইরে লালন অ্যাকাডেমির মাঠে নিজস্ব রেওয়াজে ভক্তি-শ্রদ্ধা দিতে দেখা গেছে লালন অনুসারীদের।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ফকির বাবু বলেন, ‘এতো দূর থেকে আসলাম। টাকায় মায়া করি নাই, ত্যাগ করেছি আরাম। এসে মনটাই ভেঙে গেল। এখন সাঁইজিকে ভক্তি জানিয়ে চলে যাব। মেলা না হওয়ায় আমরা পাগলরা না খেয়ে থাকার মতো অবস্থা।’

সাধু সঙ্গ ও বাউল মেলা না হওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে অনেক বাউল, ফকির এবং লালন ভক্ত।

তারপরও আখড়াবাড়ির ভেতরে ও বাইরে চলছে জাতপাতহীন-মানবতার লালন দর্শনের প্রচার। বরাবরের মতো দর্শন প্রচার হচ্ছে তারই গানের মাধ্যমে। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া এখন লালনের গানের সুরে প্রকম্পিত।

২০০ বছর আগে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় বাউল-ফকিরদের দল গঠন করেছিলেন ফকির লালন সাঁই। অহিংস, জাতপাতহীন ও মানবতাবাদী গান বেঁধে প্রচার করতেন তারা। দিনে দিনে তার দল বড় হতে থাকে। বাড়তে থাকে অনুসারী ও ভক্তের সংখ্যা। আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে লালনের গান, তার বাণী।

১২৯৭ বঙ্গাব্দের পয়লা কার্তিক দেহত্যাগ করেন ফকির লালন। এই ১৩১ বছর ধরে আখড়া বাড়িতে চলা রেওয়াজ হলো, পহেলা কার্তিক লালনের তিরোধান দিবসে তার মাজার ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে বাউল-ফকিরদের জন্য অধিবাস, বাল্যসেবা এবং পূর্ণসেবার (খাবার) আয়োজন।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

তিন দিন ধরে চলে মেলাসহ সরকারি অনুষ্ঠানমালা। দিন-রাত ধরে চলত গানে গানে লালন দর্শনের প্রচার। দেশ বিদেশের লাখ লাখ মানুষ এতে অংশ নিতেন।

করোনার বাস্তবতায় দুই বছর বন্ধ এসব আয়োজন। ফকির-বাউলরা নিজেদের মতো করে সাঁইজিকে স্মরণ করতে পারছেন, তাতেই অনেকে খুশি।

আখড়ায় এসে ফকির আলম বলেন, ‘ধরা আজ জরাক্রান্ত। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। সাঁইজির কৃপায় এসব কেটে যাবে। আবার সব স্বাভাবিক হবে।’

আরও পড়ুন:
জাপানের কানসাইয়ে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কবি-সাহিত্যিকদের উদ্বেগ ও প্রস্তাব

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কবি-সাহিত্যিকদের উদ্বেগ ও প্রস্তাব

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কবি-সাহিত্যিকদের উদ্বেগ ও প্রস্তাব। ছবি: নিউজবাংলা

‘এবারের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতায় আমরা উদ্বিগ্ন। এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ করা আবশ্যক। এ ব্যাপারে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন ও নিন্দনীয় বলে মনে করেন দেশের কাব-সাহিত্যিক-সাংবাদিকরা।

এই ভয়াবহ অমানবিক ঘটনায় তারা ভীষণ ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। শনিবার সন্ধ্যায় দেয়া এক বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে ‘কোরআন রাখার’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ঘটার পর প্রশাসন আরও সতর্ক হলে হাজীগঞ্জসহ অন্যত্র এর পুনরাবৃত্তি ঘটত না।

“‘কোরআন অবমাননার’ ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে আমাদের সন্দেহ। কোনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য এই ঘটনা সাজিয়ে থাকতে পারে। ঘটনা সাজিয়ে তারা সহিংসতার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। কিছু মানুষ ষড়যন্ত্রীদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। জনগণ সচেতন হলে ষড়যন্ত্রীরা কোনোভাবেই তাদের ষড়যন্ত্র সফল করতে পারত না।”

জনগণকে সচেতন করা, তাদের মননকে অসাম্প্রদায়িক হিসেবে গড়ে তোলার দায় রাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কুমিল্লার ঘটনায় আমরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

‘এবারের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতায় আমরা উদ্বিগ্ন। এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ করা আবশ্যক। এ ব্যাপারে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।’

প্রস্তাব জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রদায়িকতা একটি জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনে ধারাবাহিক জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা যেতে পারে। দেশের শিক্ষাবিদ, লেখক, কবি, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, আলেম, পুরোহিতসহ সব ধর্মের নেতাদের নিয়ে, সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে, আলোচনা করে এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল চিহ্নিত করা যেতে পারে। আমরা এমন একটি জাতীয় সংলাপ কামনা করি, যার মধ্য দিয়ে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে অনুযায়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিবৃতিদাতা লেখকরা হচ্ছেন ইমতিয়ার শামীম, শাহনাজ মুন্নী, আহমাদ মোস্তফা কামাল, কবির হুমায়ূন, শামীম রেজা, আলফ্রেড খোকন, চঞ্চল আশরাফ, টোকন ঠাকুর, রাজীব নূর, শাহেদ কায়েস, শোয়াইব জিবরান, ওবায়েদ আকাশ, জোবায়দা নাসরিন, রুমা মোদক, পাপড়ি রহমান, লোপা মমতাজ, ভাগ্যধন বড়ুয়া, হেনরী স্বপন, সাইমন জাকারিয়া, আফরোজা সোমা, রেজা ঘটক, মতিন রায়হান, বিধান রিবেরু, মোজাফফর হোসেন, পিয়াস মজিদ, মামুন খান, মনিরুজ্জামান মিন্টু, অঞ্জন আচার্য, অরবিন্দ চক্রবর্তী, সরকার আমিন, স্বকৃত নোমান।

বিবৃতির শেষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলা আছে, ‘আপনি কবি-সাহিত্যিক হলে এই বিবৃতিতে আপনার নামটি যুক্ত করে ফেসবুকে পোস্ট করতে পারেন। এই বিবৃতি যে কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
জাপানের কানসাইয়ে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

শেয়ার করুন

মৌলবাদবিরোধী সুর বজায় রাখুন: পরমব্রত

মৌলবাদবিরোধী সুর বজায় রাখুন: পরমব্রত

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

দীর্ঘ স্ট্যাটাসে পরমব্রত লেখেন, ‘গোঁড়ামি, মৌলবাদ, ইংরিজিতে যাকে বলে ফানাটিসিজম, সেটা সব ধর্মেই থাকে, থেকে এসেছে হাজার বছর ধরে। যখন যে ধর্মের মৌলবাদী জিগির সামনে আসে, তখন সেগুলোর থেকে বেরোনোর, সেগুলির সমালোচনা করার বা সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী শক্তি গুলিকে পরাস্ত করার দায়িত্ব কিন্তু সেই ধর্মের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকেই আরও বেশি করে নিতে হবে! 

কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। অভিনয় গুণে তিনি বাংলাদেশেও জনপ্রিয়। এদেশের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন।

এবার কলকাতায় দুর্গা পূজা বেশ ভালোই কাটিয়েছেন এ অভিনেতা। অন্তত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে সেই ধারণাই পাওয়া যায়। তবে বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সময় পূজা মণ্ডপে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ব্যথিত হয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে লেখা দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সে কথাই জানিয়েছেন পরমব্রত। তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশে আমার সমস্ত বন্ধুদের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ, কুমিল্লা বা নোয়াখালীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা করুণ কোনো দ্বিধা না রেখে। দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করুন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে সুবার্তা বলে উল্লেখ করে পরমব্রত লেখেন, ‘আপনাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে তার বক্তব্যের মাধ্যমে সুবার্তা দিয়েছেন, আপনারাও সেই মৌলবাদ বিরোধী সুর বজায় রাখুন। প্রতি বছরই প্রায় এরকম কিছু না কিছু ঘটে, সত্যি বলছি ভালো লাগে না।’

এসব ঘটনা উদারহণ হিসেবে থেকে যায় এবং রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার পথ মসৃণ হয় বলে মনে করেন এ অভিনেতা।

তিনি লেখেন, ‘প্রাণের উৎসবের উপর আক্রমণ বলে ভালো লাগে না তো বটেই, তা ছাড়াও আরও বড়ো একটা কারণ হলো, এই ঘটনাগুলি সীমানার এই পারে গোঁড়া হিন্দুত্ববাদীদের বড়ো সুবিধে করে দেয়। তাদের আস্ফালন বাড়ে, ধর্মের জিগির তুলে, এই উদাহরণ টেনে, মানুষের মনে অন্য সম্প্রদায় সম্বন্ধে ঘেন্না জন্মিয়ে রাজনৈতিক মুনাফা তোলার পথ মসৃণ হয়।’

দীর্ঘ স্ট্যাটাসে পরমব্রত লেখেন, ‘গোঁড়ামি, মৌলবাদ, ইংরিজিতে যাকে বলে ফানাটিসিজম, সেটা সব ধর্মেই থাকে, থেকে এসেছে হাজার বছর ধরে। যখন যে ধর্মের মৌলবাদী জিগির সামনে আসে, তখন সেগুলোর থেকে বেরোনোর, সেগুলির সমালোচনা করার বা সেই বিস্বাসে বিশ্বাসী শক্তিগুলিকে পরাস্ত করার দায়িত্ব কিন্তু সেই ধর্মের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকেই আরও বেশি করে নিতে হবে!

‘আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের ধর্মের অতিরিক্ততার বিরুদ্ধে কথা বলা আরম্ভ করি। ধর্ম মানে বিশ্বাস, কিছু মানুষের এক সঙ্গে হওয়া, অনেক বছর ধরে চলে আসা কিছু আচার, কিংবা সমাজকে এক রকমভাবে সংঘবদ্ধ রাখার জন্যে তৈরি করা কিছু নিয়ম বা হয়তো নানান উৎসব! যেটাই হোক, বিশ্বাস আর অতি বা অন্ধ বিশ্বাস (যা অন্য মানুষকে জোর করে, বা ক্ষতি করে) এর মধ্যে সূক্ষ্ম লাইনটা কোথায় সেটা আমাদেরই বুঝে নিতে হবে!

‘আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাস খুব জটিল। তাই আমাদের, মানে এই ভূমির বাসিন্দাদের দায়িত্বও অনেক বেশি। নিঃশ্বাস নেয়া যেমন দরকার, ঠিক তেমন দরকার এই বোধগুলো নিজেদের মধ্যে মোমবাতির মতো জ্বালিয়ে রাখা।’

পরমব্রত তার লেখা শুরু করেন এভাবে- ‘ফেসবুকে বড়ো একটা আসা হয় না, কিন্তু একটি বিশেষ কারণে এলাম। বাংলাদেশে কয়েক জায়গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে ইসলামি মৌলবাদীদের তাণ্ডব নিয়ে কিছু পোস্ট নবমীর দিন সকাল থেকে চোখ পড়লো।’

পরমব্রত দুজনের কথা উল্লেখ করে লেখেন, ‘আমাকে যে ছেলেটি শ্যুটে অ্যাটেন্ড করে, আমার স্পট বয়, তার নাম নাসির গাজী। পূজার পাঁচটা দিন নিয়ম করে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গেছে। শুভ ষষ্ঠী থেকে বিজয়া! প্রতিবারই জানায়। সরস্বতী পূজার দিন-ক্ষণ আমার না থাকলেও ওর মনে থাকে এবং মনে করিয়েও দেয়। বাইরে শ্যুট করতে গিয়ে কোনো দর্শনীয় মন্দিরের সন্ধান পেলে সেটাও নাসিরই আমাকে এনে দেয়।

“নবমীর দিনই সকালে আমার কাঠের মিস্তিরি সানোয়ার আলী ফোন করেছিলেন একটা কাজের কথা বলতে। ফোনালাপ শুরুই করলেন ‘শুভ নবমী, দাদা’ বলে।”

আরও পড়ুন:
জাপানের কানসাইয়ে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

শেয়ার করুন

রুদ্রর জন্মদিনে মোংলায় নানা আয়োজন

রুদ্রর জন্মদিনে মোংলায় নানা আয়োজন

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্মদিন আজ। ছবি সংগৃহীত

কবির জন্মদিন উপলক্ষে তার পৈতৃক বাড়ি মোংলার মিঠেখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের স্রষ্টা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ৬৫তম জন্মদিন আজ।

তারুণ্য ও সংগ্রামের প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে রেড ক্রস হাসপাতালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

কবির জন্মদিন উপলক্ষে তার পৈতৃক বাড়ি মোংলার মিঠেখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এদিন সকালে মোংলার মিঠাখালিতে শোভাযাত্রা এবং কবির সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে মিঠেখালি ফুটবল মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া সন্ধ্যায় মোংলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রুদ্র স্মৃতি সংসদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মোংলা শাখা স্মরণ সভার আয়োজন করেছে।

স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও গানের আয়োজন করা হবে।

১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ।

স্বল্প আয়ুর জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্যসহ অর্ধ শতাধিক গান লিখেছেন ও সুর করেছেন।

‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি থেকে ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।

‘উপদ্রুত উপকুল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য সাংস্কৃতিক সংসদ থেকে পরপর দুই বছর মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন রুদ্র।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আরও পড়ুন:
জাপানের কানসাইয়ে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

শেয়ার করুন