নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প

নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প

নীল মুকুট সিনেমার পোস্টার ও পরিচালক কামার আহমাদ সাইমন। ছবি: সংগৃহীত

‘এখন যে লাঠিচার্জ করে আর যে লাঠির বাড়ি খায়, দুজনই একই শ্রেণির মানুষ। কিন্তু আমরা যারা লাঠির বাড়ি খাই, তারা অলিক একটা কিছু ভেবে লাঠিচার্জকারীদের শত্রু বানিয়ে ফেলি।’

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আগস্ট মাসে মুক্তি পেয়েছে সিনেমা নীল মুকুট। সিনেমাটির মাধ্যমে চিত্রের নতুন ভাষায় কথা বলতে চেয়েছেন পরিচালক কামার আহমাদ সাইমন।

সিনেমাটি দেখার পর এর নির্মাণপদ্ধতি ও পরিকল্পনা নিয়ে জানার ইচ্ছা হয়েছে অনেকের। অনেক দর্শক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সিনেমাটির বিষয়বস্তু নিয়ে।

এমন কিছু বিষয় নিয়ে পরিচালক কামার আহমাদ সাইমনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

  • কামার আহমাদ সাইমন। আপনার নামে তিনটি শব্দ। আপনার কাছের মানুষরা কোন শব্দটি বেছে নেন আপনাকে ডাকার ক্ষেত্রে। আমরাও আপনাকে সেই নামে সম্বোধন করতে চাই। আপনার কাছের হওয়ার খায়েশ আছে আমাদের।

দশ-বারো বছর স্কুলের যে জীবনটা যায়, যেখানে আমার নাম কামার এবং কামার নামেই সেখানে সবাই আমাকে ডাকে। কামার একটি আরবি শব্দ এবং এটা নিয়ে অনেক সময় আজেবাজে কথা শুনতে হয়েছে। ছোটবেলায় বন্ধুরা যখন কামার বলে ক্ষ্যাপাত তখন খুব মন খারাপ হতো।

পরে বুয়েটে গিয়ে সাইমন নামটা আমি বেশি ব্যবহার করেছি। বুয়েট থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর একটা অন্য চিন্তায় কামার নামটি আবার ব্যাক করে। তখন আমি আবার কামার নামটি বলা শুরু করি।

যখন দেখলাম ছবি বানাতে যাচ্ছি, তখন দিনরাত যে অমানুষিক পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে যাই, তখন নিজেকে কামারবাড়ির সেই হাঁপর চালানো মানুষটার সঙ্গে মিল খুঁজে পাই। আমাদের চলচ্চিত্রযাত্রাটা অনেকটা সে রকমই।

কামারশালায় সিনেমা যাপন বলে একটি ব্লগ লেখা শুরু করি এবং কামার নামটাকে রি-ডিসকভার করা শুরু করি।

আমি ব্যক্তিগতভাবে খুশি হব যদি কেউ আমাকে কামার নামে ডাকে।

নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প
চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানে কথা বলছেন কামার আহমাদ সাইমন। ছবি: সংগৃহীত

  • আপনার সিনেমার প্রসঙ্গে আসি। আপনার পরিচালিত সদ্য মুক্তি পাওয়া সিনেমার নাম নীল মুকুট। নীল রঙের মুকুটটাই কেন পরাতে চাইলেন আপনি?

আমি সিনেমায় যে বর্গকে নিয়ে কাজ করেছি, তাদের পোশাকের মধ্যে নীল রঙের প্রাধান্য রয়েছে। তারা যে মিশনে গিয়েছে, সেখানেও একটি নীলের ব্যাপার আছে। এ দুটি বিষয় হলো আক্ষরিক অর্থে সিনেমার নামকরণ নীল মুকুট করার কারণ।

কিন্তু যদি একটু ভেতরের দিকে তাকাই। নীলের মধ্যে ব্যথার একটা প্রকাশ আছে, কবিতায় এই বিষয়টি প্রকট, ওই জায়গা থেকে আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল নীল মুকুটটা বেশি অ্যাপ্রোপিয়েট।

মুকুটটা যে আপনি পরলেন সেটা আনন্দে পরলেন, না বেদনায় পরলেন সেটার একটা ব্যাপার আছে। যে পাওয়ারের জন্য মুকুটটা পরা হলো, সেটা কি তিনি কনজিউম করলেন, এমন একটি প্রশ্ন আমার সিনেমার মধ্যেও আছে।

আমার কাছে মনে হয়েছে সিনেমাটি একটু বেদনাতুর, একটু নীলচে, সেখান থেকেই সিনেমার এমন নামকরণ।

  • পোস্টারে দেখেছি নীল মুকুট সিনেমাটিকে বলা হচ্ছে ডকু-ড্রামা।

না, পোস্টারে কোথাও মনে হয় এমন লেখা নাই। প্রেসে অনেক জায়গায় নীল মুকুটকে ডকু-ড্রামা বলা হয়েছে।

  • আপনি নীল মুকুটকে কী বলতে চান?

আমি এটাকে সিনেমা বলতে চাই। নীল মুকুট যেহেতু রানিং সিনেমা, এর অনেকগুলো মিথ আছে। সেগুলো আমি এখনও ভেঙে দিতে চাই না।

সিনেমা বানাতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে যে সিনেমার প্রয়োজনে যেখানে আমার ফিকশন লাগবে সেখানে ফিকশন, যেখানে ড্রামা লাগবে সেখানে ড্রামাটাইজ করব, যেখানে আমার ডকুমেন্ট্রি লাগবে, সেখানে আমি ডকুমেন্ট্রি ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করব।

  • প্রচলিত ধারণায় সিনেমা নির্মাণ করতে গেলে অবশ্যই তার একটি স্ক্রিপ্ট লাগবে। নীল মুকুটের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ছিল কি না?

প্রচলিত অর্থে সিনেমার যে সিন বাই সিন সাজানো, সংলাপ সেসব আমার শুনতে কি পাও, নীল মুকুট বা যে সিনেমাটি আসছে অন্যদিন বলে, সেখানে এমন স্ক্রিপ্ট নাই।

একই সঙ্গে উল্টোটাও বলি, কোনোটাই কাগজের বাইরে নয়। অনেক অনেক প্ল্যানিং, সেগুলো লেখা এবং শুট করার সময় আমরা চাচ্ছি যে এখানে এই আলোচনা থাকবে, এখানে চরিত্রগুলো এমন করবে।

মজাটা কিন্তু সেখানেই, যেখানে দর্শকের দেখে মনে হবে আমি কিছু করি নাই কিন্তু আমি মূলত অনেক কিছু করেছি। সাজানো তো সেটাই সুন্দর, যেটা দেখে আপনাকে সুন্দর লাগবে কিন্তু মনে হবে না যে আপনি সেজেছেন।

  • যদি ধারণা করে বলি, যে ঘটনা যেভাবে গেছে ক্যামেরা বা পরিচালক সেইভাবেই এগিয়ে গেছেন। সেখানে পরিচালকের আসলে কী করার ছিল?

যেটা ঘটছে সেটাই যদি আমি ক্যামেরায় ধরি, তাহলে তো আমার কোনো কাজ নাই।

নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প
শুটিং এর সময় কামার ও তার ইউনিট। ছবি: সংগৃহীত

  • এটা আমাদের বিস্ময় বলতে পারেন যে, কামার কি আসলে ঘটনার পেছনে দৌড়াল, নাকি ঘটনা তৈরি করে তার পেছনে দৌড়াল?

কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডেফিনেটলি আমি ঘটনার পেছনে দৌড়াইছি। যেমন সিনেমায় একটি ছাগলের সিকোয়েন্স আছে, সেটা শুট করতে আমি ছাগলের পেছন পেছন দৌড়াইছি।

এমন অনেক ব্যাপার আছে যা যেভাবে এসেছে আমি সেভাবে নিয়েছি। বলতে পারেন জীবনের রস চুরি করেছি। আর অনেক কিছু প্ল্যান করে নেয়া কিন্তু সেগুলো আমি বলতে পারব না কারণ সেই মিথটা আমি ভাঙতে চাই না।

  • নীল মুকুট সিনেমায় সচেতনভাবে আপনার কিছু ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল কি?

হ্যাঁ, একটা বিষয় তো সাংঘাতিকভাবে ছিল। এই পোশাক পরা মানুষগুলো সম্পর্কে সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে আমার যে পারসপেকটিভ, যেখান থেকে আমি একটা ধাক্কা খেয়েছিলাম।

এই গল্পটা অনেক জায়গায় বলেছি। আমি বিমানে হঠাৎ করে কান্নার আওয়াজ পাচ্ছিলাম। সেটা ট্র্যাক করে দেখলাম যে একজন ইউনিফর্ম পরা মানুষ কাঁদছেন। ওই দৃশ্যটা দেখে আমার সিনেমাটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত।

আমার মনে হয় সেটা আমারই সীমাবদ্ধতা যে, আমি ভেবে নিয়েছিলাম ইউনিফর্ম পরা একজন সে তো মানুষ না। সে কেন কাঁদবে বরং আমি তাকে দেখে কাঁদব। এই যে একটা ভুল ধারণা, সেটা আমাকে ভীষণভাবে ধাক্কা দিয়েছে।

ধরেন শাহবাগে যে পুলিশ আমাকে লাঠিচার্জ করে সে তো আসলে বাড়ি যাওয়ার জন্য অস্থির থাকে। সে তার পরিবারের কাছে যেতে চায়। পারে না, কারণ তাকে ওই কাজটি করতে বলা হয়েছে। যিনি বলেছেন, তিনি আবার তার ওপরের কারও কাছ থেকে সে কাজের নির্দেশ পেয়েছেন।

এখন যে লাঠিচার্জ করে আর যে লাঠির বাড়ি খায়, দুজনেই একই শ্রেণির মানুষ। কিন্তু আমরা যারা লাঠির বাড়ি খাই, তারা অলিক একটা কিছু ভেবে লাঠিচার্জকারীদের শত্রু বানিয়ে ফেলি।

কিন্তু তারা যে আমাদের মতোই, তাদের পরিবার আছে, হাসি-কান্না আছে, আমি সচেতনভাবে সেটাই দেখাতে চেয়েছি।

  • সে ক্ষেত্রে দেশের বাইরে যাওয়ার সুবিধা কী?

ঢাকা শহরে গত বিশ বছরে আমরা যারা বেড়ে উঠেছি, তারা তো এই বাস্তবতা মেনেই বড় হয়েছি যে চাইলেও পুলিশের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন না আপনি। এটা নির্মম বাস্তবতা। আমি কালকে যদি আরেকটি কাজের কথা বলি, পুলিশ সেই সুযোগ আমাকে চাইলেও দিতে পারবে না।

বাইরে যাওয়াটা আসলে একটা সুযোগ। কৌশলগতভাবে আমি সুযোগটা কাজে লাগিয়েছি। এসব অনুমতি পেতে অনেক কাঠ-খর পোড়াতে হইছে।

বাইরে যাওয়ার কারণে আরেক সুবিধা হইছে। সেটা হলো, আমি যে বিষয়টা তুলে ধরতে চাচ্ছিলাম, দূরত্বের কারণে সে পরিস্থিতিটা তৈরি করছে।

  • ইউনিফর্ম পরা মানুষগুলো বিদেশে গিয়েছে। সেখানে তাদের দক্ষতা বা চৌকস ভাবটাও তুলে আনার কোনো সুযোগ ছিল কি?

কোনো সিনেমা কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কোনো চিত্র দেয়ার জন্য তৈরি হয় না। যদি সেটা করা হয় তাহলে সেটা প্রপাগান্ডা সিনেমা। যদি আমি পূর্ণ চিত্র দেই তাহলে মনে হবে যে আমি পেইড। আমার সেটা উদ্দেশ্য ছিল না এবং আমি পেইডও নই। আমার ভিন্ন একটা অবজেকটিভ ছিল, সেটি আমি পূরণ করার চেষ্টা করেছি।

নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প
কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নবীন পরিচালকদের সঙ্গে কামার আহমাদ সাইমন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রেক্ষাগৃহে বসে সিনেমা দেখলে নিজেকেই যেন ছোট মনে হয়। আবার ছোট স্ক্রিনে কিছু দেখলে বড় বিষয়কেও তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। নীল মুকুটের ক্ষেত্রে এমন কিছু মিস হলো কি না দর্শকদের?

ঠিকই বলেছেন। থিয়েটারে বসে নীল মুকুট দেখলে আপনার ওপর যে আসরটা হবে সেটা তো ওটিটি দিয়ে সম্ভব না। এ ছাড়া এই কনটেন্টে ৫ দশমিক ১ সিস্টেমে সাউন্ড মিক্স করা। এটার তো কোনো কাজেই লাগল না। ওটিটিতে একটা স্টেরিও সাউন্ড হয়তো আপনারা পেয়েছেন।

  • ওটিটির কারণে নতুন দর্শক তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা এসেছে।

এটা ঠিক। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অনেক জায়গায় সিনেমাটি নিয়ে লাইভে যুক্ত হতে হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক যে চলচ্চিত্র সংসদ রয়েছে, সেই দর্শকরা আমাকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ওটিটির জন্য আরেকটি সুবিধা হয়েছে। যেহেতু সিনেমায় কোনো স্টার কাস্ট নেই, তাই নীল মুকুট চালানোর জন্য বেশি একটা হল পাওয়া যেত না। কিন্তু ওটিটিতে মুক্তি পাওয়ার কারণে অনেকে সিনেমাটি দেখতে পেয়েছেন।

  • চলচ্চিত্রের এমন ভাষায় বেশি সিনেমা আশা করছি না কিন্তু অল্প সিনেমাও দেখা যায় না। এভাবে ভাবা যাচ্ছে না, এটাই কি শুধু কারণ?

আমার চলচ্চিত্রযাত্রা খুব বেশি দিনের না, দশ-এগার বছরের একটা যাত্রা। আমি যখন কাজ শুরু করি, তখন আমি এই প্রশ্ন নিয়েই কাজ শুরু করেছিলাম। আমার জনপদের সিনেমা কেমন হবে বা আমার সময়ের সিনেমার ইমেজটা কেমন হবে। এটা বলতে আমার দ্বিধা নেই যে আমার চলচ্চিত্র প্রস্তুতিতে আমি সম্পূর্ণভাবে ঋণী আমার সাহিত্যের কাছে।

ধরেন আমি যদি সৈয়দ ওয়ালীউল্লার লাল সালু পড়ি বা অদ্বৈতমল্ল বর্মনের তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটা পড়ি বা আমি যদি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসটা পড়ি তাহলে যে ইমেজগুলো পাই, যে ম্যাটেরিয়াল পাই, সিনেমায় এই ইমেজগুলোর সাংঘাতিক সংকট ছিল এবং আছে এখনও।

আমাদের গল্পের শূন্যতার একটা মৌলিক কারণ হচ্ছে, আমার যেটা মনে হয়, গত দুই দশক ধরে যারা সিনেমার চর্চার মধ্যে এসেছেন, তাদের সবার ওপর ইরানিয়ান, কোরিয়ান বা লাতিন সিনেমার প্রভাব রয়েছে। সেটা আমার ওপরও আছে।

কিন্তু তারা আমার কাছে মনে হয়েছে যে একটা রি-প্রোডাকশনের দিকে চলে গেছেন। এমন হয়তো হয়েছে যে আমি অরেকটি ইরানিয়ান, কোরিয়ান বা লাতিন সিনেমা বানাব। কিন্তু প্রয়োজন ছিল আরেকটা বাংলাদেশি সিনেমা বানানো।

নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প
শুনতে কি পাও সিনেমা নির্মাণের পর কামার। ছবি: সংগৃহীত

  • নীল মুকুট দেখার পর অনেকেই আপনার কাজ খুঁজছেন হয়তো। নতুন কাজ কবে দেখতে পাবেন দর্শকরা?

আমার দুটি সিনেমার কাজ শেষ। একটি শিকলবাহা, আরেকটি অন্যদিন। এর মধ্যে অন্যদিনশুনতে কি পাও সিনেমাটি পরপর শুরু করি। অনেকের হয়তো এখন মনে নেই অন্যদিনের কথা।

শুনতে কি পাও, অন্যদিন এবং আরও কিছু জীবন এই তিনটি মিলে ট্রিলজির প্ল্যান ছিল এবং আমার পরিকল্পনা ছিল স্বাধীনতার পঞ্চাশতম বছরে তৃতীয় সিনেমাটি মুক্তি দেয়ার। সে অনুযায়ী আমি অন্যদিনের শুটিং শেষ করে ফেলেছিলাম ২০১৬-১৭ সালের দিকেই কিন্তু একটু বিচিত্র ঘটনার কারণে প্রায় পুরো শুটিংটা করার পরেও আমার রেখে দিতে হয়েছে। আশা করছি আগামীতে সিনেমাটি দর্শকরা দেখতে পাবেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘মরুভূমির বালিতে শুটিং করা এত কষ্টের, ধারণাও ছিল না’

‘মরুভূমির বালিতে শুটিং করা এত কষ্টের, ধারণাও ছিল না’

অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। ছবি: সংগৃহীত

মিশন এক্সট্রিম-এর জন্য দুবাইতে গিয়ে শুটিং করেছি। দুবাইতে দুপুরবেলা মরুভূমির বালিতে খালি পায়ে হাঁটা, তার ভেতরে শুটিং করা; আমার ধারণাও ছিল না এটা কত কষ্টের হতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। ২০১৮ সালে তার মাথায় ওঠে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট। তার পরের বছর থেকেই সিনেমায় অভিনয় করেন ঐশী।

আরও আগেই তার অভিষেক হওয়ার কথা ছিল বড় পর্দায়। অবশেষে সেই সুযোগ আসতে যাচ্ছে। ৩ ডিসেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে ঐশী অভিনীত সিনেমা মিশন এক্সট্রিম

সম্প্রতি সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ হয়েছে। সেই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ঐশী কথা বলেছেন তার অভিনীত মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমাগুলো নিয়ে।

‘মরুভূমির বালিতে শুটিং করা এত কষ্টের, ধারণাও ছিল না’
অভিনেত্রী, মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। ছবি: সংগৃহীত

ঐশী: কথা শুরু আগে সবাইকে শুভেচ্ছা, অনেক দিন পর সবার সঙ্গে দেখা। অনেক ভালো লাগছে।

মিশন এক্সট্রিম অনেক আগেই মুক্তির কথা ছিল কিন্তু দেরি করে মুক্তি পাচ্ছে। ট্রেলারও প্রকাশ পেয়েছে, কেমন লাগছে?

ভালো লাগছে। অনেক এক্সাইটেড। কারণ ২০১৯ সালের শুরুর দিকে শুরু করেছিলাম সিনেমাটির শুটিং। দুবার সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়েছে। মনে হয়েছিল আমার অভিষেকটা বুঝি হয়েই যাবে, কিন্তু হয়নি।

এখন ২০২১ সালের শেষের দিক। সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এক্সাইটেড এবং নার্ভাস।

ছোট ছিলাম তখন, কিছু বুঝতাম না, কী করেছি আমি জানি না, ভুল করে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আশা করছি, ভালো লাগবে কাজটি কিন্তু শুধু আমি একা তো নই, আমার অভিষেক হচ্ছে। অন্যরা যারা আছেন, প্রত্যেকে অনেক কষ্ট করেছেন। সবার কষ্ট যেন সফল হয়, সেই প্রার্থনা করবেন।

আরিফিন শুভ দেশের জনপ্রিয় একজন অভিনেতা। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

আমি এটা অনেকবার বলেছি এবং এখনও বলছি, আমার অভিষেক সিনেমার জন্য শুভ ভাইয়ার চেয়ে ভালো সহশিল্পী আমি আশা করতে পারতাম না। তার কাছে আমি প্রচুর সাহায্য পেয়েছি, গাইডেন্স পেয়েছি। এটা সত্যি বলতে ব্লেসিং।

সিনেমাটি অনেক বড় আঙ্গিকের। চরিত্রের জন্য কী ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল?

প্রতিদিন ক্যারেক্টার অ্যাডাপ্ট করা একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের তো বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে শুটিং করতে হয়। প্রতিটি জায়গার আলাদা চ্যালেঞ্জ থাকে।

যেমন, মিশন এক্সট্রিম-এর জন্য দুবাইতে গিয়ে শুটিং করেছি। দুবাইতে দুপুরবেলা মরুভূমির বালিতে খালি পায়ে হাঁটা, তার ভেতরে শুটিং করা; আমার ধারণাও ছিল না এটা কত কষ্টের হতে পারে। তখন অনেক কষ্ট হয়েছে, কিন্তু এখন মনে হয় যদি প্রজেক্টটা সফল হয়, তাহলে আর কষ্ট কিছুই না।

‘মরুভূমির বালিতে শুটিং করা এত কষ্টের, ধারণাও ছিল না’
বিভিন্ন লুকে অভিনেত্রী, মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। ছবি: সংগৃহীত

সিনেমাটির জন্য কোনো রেফারেন্স ছিল কি না? প্রস্তুতি জানতে চাই।

কোনো মুভি ঠিক দেখা হয়নি, মানে সিনেমা দেখে যে প্রস্তুতি নেয়ার বিষয় থাকে, সেটা করতে হয়নি। তখন আমি আসলে সানি ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

এখন আমি নিজে নিজে একটু চিন্তা করতে পারি বা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে বুঝে নিতে পারি যে এটা কীভাবে করব, কিন্তু তখন আমি জানতামও না যে এগুলো করা যেতে পারে।

তখন আমি কী করতাম, আমি সানি ভাইয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম যে, তিনি যা বলবেন আমি সেভাবেই কাজটা করার চেষ্টা করব। তারা যা করতে বলতেন, আমি তা-ই করতাম।

নূর সিনেমাতেও আপনি আরিফিন শুভর সঙ্গে কাজ করছেন। কেমন হচ্ছে কাজটি?

নূর সিনেমার কাজ খুবই ভালো হচ্ছে। যেহেতু ভাইয়ার সঙ্গে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, কাজ করাটা অনেক সহজ হয়েছে।

চরিত্রটা নিয়ে যদি কোনো ধারণা দেয়া যায়।

আমার তো অল্প সময়ের ক্যারিয়ার। শুভ ভাইয়ার আমার চেয়ে বেশি সময়ের ক্যারিয়ার। দুজনের ক্যারিয়ারের বয়স যেমনই হোক না কেন, আমাদের দুজনকে আগে কেউই এ লুকে বা এ ক্যারেক্টারে দেখেনি।

‘মরুভূমির বালিতে শুটিং করা এত কষ্টের, ধারণাও ছিল না’
অভিনেত্রী, মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। ছবি: সংগৃহীত

আদম সিনেমার আপডেট জানতে চাই।

আদম সিনেমাটি রেডি মুক্তির জন্য। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সিনেমায় আমি আশির দশকের গ্রামের এক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। চরিত্রটা আমার খুব পছন্দের। পা থেকে মাথা পর্যন্ত কালো রং দিয়ে শুটিং করেছি।

আর কী কী কাজ রয়েছে আপনার হাতে?

কয়েকটা স্ক্রিপ্ট নিয়ে কথা হচ্ছে, কিন্তু নূর-এর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি সেগুলো নিয়ে বসার সাহস পাচ্ছি না। মুক্তি অপেক্ষায় আছে মিশন এক্সট্রিম-এর দুটি পর্ব, আদম, রাত জাগা ফুল এবং নূর

গল্প সিলেক্ট করছেন কীভাবে?

গল্প এবং চরিত্রকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। এখন গল্পের কোন দিকটা ভালো লাগবে বা কোন চরিত্রটি ভালো লাগবে, সেটি আগে থেকে বলা যায় না।

‘মরুভূমির বালিতে শুটিং করা এত কষ্টের, ধারণাও ছিল না’
অভিনেত্রী, মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। ছবি: সংগৃহীত

ওটিটির কাজের কোনো পরিকল্পনা আছে?

ওটিটির কাজের প্রস্তাব তো বেশ কিছু পাওয়া হয়েছে, কিন্তু সুযোগ-সময় মেলেনি, সে জন্য কাজগুলো করা হয়নি। মিশন এক্সট্রিম মুক্তির পর দেখা যাক, সেগুলো করা যায় কি না।

‘মরুভূমির বালিতে শুটিং করা এত কষ্টের, ধারণাও ছিল না’
অভিনেত্রী, মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে। তাদের জন্য কী বলবেন?

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কাছে বরাবরই অনেক এক্সপেকটেশন থাকে। দোয়াও থাকে, ভালোবাসা থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। জিতলেও তারা আমাদের টাইগার, হারলেও তারা আমাদের টাইগার। অনেক দোয়া, তারা জিতুক।

শেয়ার করুন

যে অনাথ আশ্রমে জন্মদিনের দুপুর কেটেছে পরীমনির

যে অনাথ আশ্রমে জন্মদিনের দুপুর কেটেছে পরীমনির

জন্মদিনে অনাথ আশ্রমে শিশুদের সঙ্গে নাচছেন পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

পরীমনি তার জন্মদিনের বড় একটি সময় যে অনাথ আশ্রমে কাটিয়েছেন সেটির অবস্থান গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার দাহিন্দি গ্রামে। পরীমনির পোস্ট করা ভিডিওতে যে মেয়েটিকে নাচতে দেখা যায় তার নাম মুন্নি হেমব্রম। এছাড়া রীতা আক্তার নামে আরও একজন নেচেছিল সেদিন।

পাঁচতারা হোটেলে পরীমনির উচ্ছ্বসিত জন্মদিনের ভিডিও যখন সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে ভাইরাল, ঠিক তখনই নিজের ফেসবুক পেজে সম্পূর্ণ আলাদা মেজাজের আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন আলোচিত এই অভিনেত্রী।

জন্মদিনে ঢাকার অদূরে এক অনাথ শিশুদের সঙ্গে আনন্দমুখর সময় কাটিয়েছেন পরী। পরম মমতায় শিশুদের মুখে তুলে দিয়েছেন খাবার। কেটেছেন কেক, পরীর কাছ থেকে উপহারও পেয়েছে শিশুরা। শিশুদের সঙ্গে জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার এই ভিডিও প্রশংসিত হচ্ছে সবার কাছে।

মঙ্গলবার রাতে ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজে পোস্ট করেন পরীমনি। ভিডিওটি ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছিল, ‘তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে/মলিন মর্ম মুছায়ে’ রবীন্দ্র সংগীতটি।

ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, একটি সাদা প্রাইভেট কার থেকে অনাথ শিশুদের জন্য নামানো হচ্ছে উপহার ও খাবার। এরপর গ্রামের সরু পথ ধরে একটি অনাথ আশ্রমের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায় পরীমনিকে।

নিউজবাংলা খোঁজ নিয়ে জেনেছে, পরীমনি তার জন্মদিনের বড় একটি সময় যে অনাথ আশ্রমে কাটিয়েছেন সেটির অবস্থান গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার দাহিন্দি গ্রামে।

সেখানে রোববার দুপুর আড়াইটার দিক থেকে বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত শিশুদের সান্নিধ্যে কাটান তিনি।

ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ হাতে শিশুদের দুপুরের খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন পরীমনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরীর এক সঙ্গী নিউজবাংলাকে জানান, দুপুরের খাবারে ছিল মাটন বিরিয়ানি, চিকেন, ডিমের কোর্মা।

যে অনাথ আশ্রমে জন্মদিনের দুপুর কেটেছে পরীমনির
অনাথ আশ্রমে শিশুদের নিজ হাতে খাইয়ে দেন পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

খাওয়ার পর্ব সেরে বাচ্চাদের সঙ্গে কেক কাটেন অভিনেত্রী। এর আগে সব শিশুর মাথায় নিজে হাতে পরিয়ে দেন জন্মদিনের ক্যাপ। কেক কাটার সময় হাততালি আর গানে গানে শিশুরা শুভেচ্ছা জানায় পরীমনিকে।

ফিরে আসার আগে শিশুদের উপহারও দিয়েছেন পরীমনি। কী ছিল সেই উপহার, জানতে চাইলে পরীর ওই সঙ্গী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বই, ফাইল, জ্যামিতি বক্স, কালার পেন্সিল ছিল উপহারে।’

আশ্রম ভবনে পরীমনির জন্য নাচগানেও অংশ নেয় শিশুরা। উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রীও যোগ দেন তাদের সঙ্গে।

অনাথ আশ্রমটি পরিচালনা করে লিভ ফর লাইফ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। এর কর্ণধার প্রভুদান হালদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীমনি এখানে আসবে আমরা জানতাম না। ২২ তারিখে তামিম নামে একজন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিই বলেন আপনাদের ওখানে আমরা একটা জন্মদিনের অনুষ্ঠান করতে চাই। আমরা হ্যাঁ বলে দেই, কারণ আমাদের এখানে অনেকেই আসেন প্রোগ্রাম করেন, শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে যান। পরীমনির আসাতে শিশুরা বেশ আনন্দময় সময় কাটিয়েছে।’

যে অনাথ আশ্রমে জন্মদিনের দুপুর কেটেছে পরীমনির
অনাথ আশ্রমে এক শিক্ষার্থীর নাচ দেখছেন পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

পরীমনির পোস্ট করা ভিডিওতে যে মেয়েটিকে নাচতে দেখা যায় তার নাম মুন্নি হেমব্রম বলে জানান প্রভুদান। তিনি বলেন, ‘মুন্নি ছাড়াও সেদিন রীতা আক্তার নামে আরও একজন নেচেছিল। তারা দুজনেই এসএসসি পরীক্ষার্থী।’

প্রভুদান জানান, তাদের এনজিওটি অনাথ, পথশিশুদের খাদ্য ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করে। এ কাজে বেশির ভাগ অর্থই আসে নানাজনের অনুদানে। দাহিন্দি গ্রামে তাদের আশ্রমে এখন ৬০ জন শিশু রয়েছে। অষ্টম শ্রেণি পাসের পর এই শিশুদের নানা রকমের হাতের কাজ শেখায় লিভ ফর লাইফ।

শেয়ার করুন

নৌকাবাইচের বৈঠা হাতে ‘এক্সাইটেড’ শাকিব

নৌকাবাইচের বৈঠা হাতে ‘এক্সাইটেড’ শাকিব

গলুই সিনেমার শুটিংয়ে শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত

শাকিব খান বলেন, ‘আমি সামনাসামনি কখনও নৌকাবাইচ দেখিনি। সিনেমায় বা ভিডিওতে দেখলেও নিজের চোখে এটাই আমার প্রথমবার নৌকাবাইচ দেখা এবং এতে আমি অংশও নিয়েছি। আমি খুবই এক্সাইটেড ছিলাম।’

শাকিব খান টানা শুটিং করছেন গলুই সিনেমার। এস এ হক অলিক পরিচালিত সিনেমার শুটিং শুরু হয় ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে। শাকিব কাজ শুরু করেন ২৮ সেপ্টেম্বর।

সিনেমায় লালু চরিত্রে অভিনয় করছেন শাকিব আর মালা চরিত্রে পূজা চেরি। শাকিব জানান, গলুই মৌলিক গল্পের চমৎকার একটি সিনেমা। ১৯৭০ সালের সময়ের একটি গল্প এটি। লালু আর মালার প্রেম কাহিনি নিয়ে সিনেমা। দারুণ এক লাভস্টোরি।

সিনেমাটির দৃশ্যধারণ শেষ পর্যায়ে। পরিচালক নিউজবাংলাকে জানান, আর সপ্তাহখানেকের দৃশ্যধারণ বাকি রয়েছে।

সম্প্রতি নৌকাবাইচের শুটিংয়ে অংশ নেন শাকিব খান। নৌকাবাইচে সরাসরি অংশ নিয়ে কেমন লাগল তা জানিয়ে একটি ভিডিও তিনি প্রকাশ করেছেন তার ফেসবুক ও ইউটিউবে।

নৌকাবাইচের বৈঠা হাতে ‘এক্সাইটেড’ শাকিব
গলুই সিনেমার গানের দৃশ্যে শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত

শাকিব খান বলেন, ‘আমি সামনাসামনি কখনও নৌকাবাইচ দেখিনি। সিনেমায় বা ভিডিওতে দেখলেও নিজের চোখে এটাই আমার প্রথমবার নৌকাবাইচ দেখা এবং এতে আমি অংশও নিয়েছি। আমি খুবই এক্সাইটেড ছিলাম। আসল নৌকাবাইচের যে ফিল, সে ফিলেই ছিলাম।

‘আমি অবাক হয়েছি, একেকটা নৌকায় ৬০-৭০ জন করে মাঝি। এটা কিন্তু বিরাট খরচের একটা কাজ।’

শুটিং দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসেছে। পুরো উৎসবের মতো হয়ে গিয়েছিল শুটিং এলাকা। মেলা বসে গিয়েছিল সেখানে।

এ বিষয়ে শাকিব খান বলেন, ‘চারিদিকে মানুষ, লাখের ওপর মানুষ। এটা যে গ্রাম-বাংলার একটা ঐতিহ্য সেটা আবার প্রমাণিত হয়েছে। উৎসবের মতো হয়ে গেছে, মেলা বসেছে। দূর থেকে মানুষ এসেছে, নারী-পুরুষ-বাচ্চা, হৈ-হুল্লোড়, চিৎকার। মনে হয়নি যে শুটিং হচ্ছে।’

শাকিব খানের কাছে, এটাই সোনার বাংলা, এটাই বাংলাদেশ।

নৌকাবাইচের বৈঠা হাতে ‘এক্সাইটেড’ শাকিব
গলুই সিনেমার দৃশ্যে শাকিব খান ও পূজা চেরি। ছবি: সংগৃহীত

পরিচালক এস এ হক অলিক ও প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু সম্পর্কে শাকিব খান বলেন, ‘আমাদের পরিচালক এস এ হক অলিক, ভালো সিনেমা বানানোর জন্য তার অনেক সুনাম রয়েছে। ভালো কাজ করার চেষ্টা করেন সবসময়।

‘এই সিনেমার প্রযোজক খসরু ভাই, তার প্রোডাকশনে আমি অনেক সিনেমা করেছি। আমাদের মধ্যে একটা সুন্দর সম্পর্ক আছে। সব কিছু মিলিয়ে প্রজেক্টাই আমার চমৎকার লেগেছে। আমার মনে হয়েছে যতো কষ্টই হোক কাজটি আমি করব।’

শেয়ার করুন

সিজন ভিত্তিক পরিবেশনা জিফাইভে

সিজন ভিত্তিক পরিবেশনা জিফাইভে

এ এমন পরিচয় কনটেন্টে শ্যামল মাওলা ও আইশা খান। ছবি: সংগৃহীত

কনটেন্টটি মুক্তি পেয়েছে বুধবার। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, বাংলাদেশে এই প্রথম এমন দীর্ঘ সিরিজ ফরম্যাটের কনটেন্ট আনল প্ল্যাটফর্মটি। এই ফরম্যাটে প্রতিটি সিজনের ২০টি পর্ব থাকবে যা নির্দিষ্ট সময় পরপর মুক্তি পাবে।

শ্যামল মাওলা, আইশা খান, শহীদুজ্জমামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকী অভিনীত এ এমন পরিচয় মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়েব প্ল্যাটফর্ম জিফাইভে। এটি বাংলাদেশ থেকে জি-ফাইভের সিজন-ভিত্তিক প্রথম পরিবেশনা।

কনটেন্টটি মুক্তি পেয়েছে বুধবার। সম্প্রতি এর ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, বাংলাদেশে এই প্রথম এমন দীর্ঘ সিরিজ ফরম্যাটের কনটেন্ট আনল প্ল্যাটফর্মটি। এই ফরম্যাটে প্রতিটি সিজনের ২০টি পর্ব থাকবে যা নির্দিষ্ট সময় পরপর মুক্তি পাবে।

সিরিজের কাহিনি নয়নতারাকে ঘিরে; যিনি ভাই হত্যার প্রতিশোধ নিতে হাজির হন ঢাকার প্রখ্যাত মির্জা হাউজে।

কিন্তু ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয় যখন তিনি ভাই হত্যার সন্দেহভাজন রুদ্রের প্রেমে পড়েন এবং হত্যা রহস্যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় যা তাকে বাধ্য করে ভিন্ন পথে হাঁটতে।

‘সম্মিলিত শক্তি’ ভিশনটি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে জিফাইভ স্থানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং মেধাবী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সহযোগে বাছাইকৃত বাংলা কাহিনিগুলোর ওপর কনটেন্ট নির্মাণ করছে।

এর আগে কন্ট্রাক্ট, মাইনকার চিপায়যদি কিন্তু তবুও মক্তি পায় জিফেইভে। প্ল্যাটফর্মটির জন্য সিরিজ নির্মাণ করেছেন দেশের প্রখ্যাত পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

শেয়ার করুন

ক্যাট-ভিকির বিয়ে ডিসেম্বরে

ক্যাট-ভিকির বিয়ে ডিসেম্বরে

ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কুশল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ইটিটাইমস সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে, বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি এরইমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন দুজনে। জানা গেছে বিয়েতে লেহেঙ্গায় সাজবেন ক্যাট, সেই লেহেঙ্গার র সিল্ক ফ্যাবরিকও চূড়ান্ত করে ফেলেছেন অভিনেত্রী।

জল্পনা তো ছিলই। রটেছিল চলতি বছর অগস্টেই নাকি বাগদান সেরে ফেলেছেন ভিকি কুশল ও ক্যাটরিনা কাইফ।

সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম বলছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে বিয়ে করতে যাচ্ছেন ভিকি-ক্যাট।

সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে এখন পর্যন্ত কোনো কথা বলেননি দুজনে। এমনকি একসঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়েও আলাদা আলাদা ছবি পোস্ট করেছেন। তবে ক্যাটরিনার ফ্ল্যাটের বাইরে হামেশাই পাপারাজ্জিদের হাতে ধরা পরেছেন ভিকি। সম্প্রতি সর্দার উদম সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীতে আলিঙ্গনতর অবস্থায় ধরা দিয়েছিলেন দুজনে।

বয়সে ৫ বছরের ছোট ভিকির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে চলেছেন ক্যাটরিনা। বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে বলে শোনা যাচ্ছে। জানা গেছে বিয়ের পোশাকের ডিজাইন করছেন সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়। লাল বেনারসী নয় বরং লেহেঙ্গায় সাজবেন ক্যাটরিনা।

বছর কয়েক আগে কফি উইথ করন অনুষ্ঠানে ক্যাট জানিয়েছিলেন, তার মনে হয় ভিকির সঙ্গে তাকে ভালো মানাবে।

সেই ভিডিও ক্লিপ দেখে মূর্ছা যাওয়ার অবস্থা ভিকির! স্পষ্ট জানিয়েছিলেন ক্যাটরিনা কাইফের অনেক বড় ভক্ত তিনি। কে জানত একদিন এই ফ্যানের প্রেমেই হাবুডুবু খাবেন ক্যাটরিনা।

সম্পের্কে কোনো ফাঁটল নয়, কোনো ঝগড়া নয়, ব্রেক-আপ নয়, প্রেমের পরিণতি ঘটতে যাচ্ছে ছাদনা তলায়।

ভারতের ইটিটাইমস সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে, বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি এরইমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন দুজনে। জানা গেছে বিয়েতে লেহেঙ্গায় সাজবেন ক্যাট, সেই লেহেঙ্গার র সিল্ক ফ্যাবরিকও চূড়ান্ত করে ফেলেছেন অভিনেত্রী।

ক্যাটরিনার সঙ্গে ভিকি প্রেম করছেন কি না জানতে চাইলে ভিকি বছর খানেক আগে জানিয়েছিলেন, প্রেম কোনও খারাপ জিনিস না, একটা দুর্দান্ত অনুভূতি।

সালমান খানের সঙ্গে ক্যাটরিনার প্রেমের সম্পর্কের কথা শোরগোল ফেলেছিল বি-টাউনে। এরপর রণবীর কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ক্যাট। বছর তিনেক পর সেই প্রেমে ভাঙন ধরে।

অন্যদিকে ক্যাটরিনার আগে অভিনেত্রী হার্লিন শেঠির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন ভিকি। যদিও মাস কয়েক পরেই তা ভেঙে যায়।

শেয়ার করুন

সরে গেলেন নয়নতারা, শাহরুখের বিপরীতে সামান্থা

সরে গেলেন নয়নতারা, শাহরুখের বিপরীতে সামান্থা

‘লায়ন’ সিনেমায় শাহরুখের বিপরীতে নয়নতারার বদলে সামান্থা। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণের পরিচালক অ্যাটলির সিনেমা ‘লায়ন’-এ শাহরুখের বিপরীতে কাজ করার কথা দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারার। তবে এ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি।

গত আড়াই বছরেরও বেশি সময় বড় পর্দায় দেখা যায়নি বলিউড বাদশা শাহরুখ খানকে। কবে আবার পর্দায় দেখা যাবে এ নিয়ে উৎসাহের শেষ নেই তার ভক্তদের।

এরই মাঝে ছেলে আরিয়ানের বিরুদ্ধে মাদক মামলা নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন অভিনেতা। গত ৩ অক্টোবর মাদক মামলায় আরিয়ানকে গ্রেপ্তার করে এনসিবি। মঙ্গলবার পর্যন্ত জামিন পাননি তিনি।

ছেলের জন্যই বেশ কিছুদিন ধরে সমস্ত শুটিং পিছিয়ে দিয়েছেন শাহরুখ।

ছেলে গ্রেপ্তারের আগেই স্পাই থ্রিলার সিনেমাপাঠান-এর শুটিং করছিলেন শাহরুখ। এরই পাশাপাশি দক্ষিণের পরিচালক অ্যাটলির সিনেমা লায়ন-এরও শুটিং শুরু করেছিলেন কিং খান।

শাহরুখের সঙ্গে এতে অভিনয় করার কথা দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা নয়নতারার। পাশাপাশি এতে দেখা যাবে বলিউডের এ সময়ের জনপ্রিয় মুখ সানিয়া মালহোত্রাকে।

তবে এ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ালেন নয়নতারা।

ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই সিনেমার জন্য অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন রেখেছিলেন নয়নতারা। কিন্তু শাহরুখ শুটিং পিছিয়ে দেয়ায় সমস্যায় পড়েছেন অভিনেত্রী।

বাকি দিনে তার অন্যান্য কাজ থাকার কারণে বাধ্য হয়েই নাকি এই সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ালেন নয়নতারা। যদিও শাহরুখ ছাড়া বাকি অভিনেতাদের নিয়ে সিনেমাটির শুটিং চলছে।

শোনা যাচ্ছে, নয়নতারার পরিবর্তে শাহরুখের বিপরীতে দেখা যাবে সামান্থা রুথ প্রভুকে। যদিও এ বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি সামান্থা বা সিনেমার পরিচালক।

শেয়ার করুন

হৃদয় যা চায় তা পূরণ হোক, রিয়াজকে শাবনূর

হৃদয় যা চায় তা পূরণ হোক, রিয়াজকে শাবনূর

রিয়াজের জন্মদিনে নিজের ফেসবুক পেজে এই ছবিটি পোস্ট করেছেন শাবনূর। ছবি: সংগৃহীত

শাবনূর লেখেন, ‘শুভ জন্মদিন রিয়াজ। আশা করি তোমার বিশেষ দিনে তোমার হৃদয় যা চায় তা পূরণ হোক। চমকে ভরে যাক তোমার সারা দিন।’

১৯৯৫ সালে বাংলার নায়ক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক রিয়াজের।

এরপর দর্শকপ্রিয় ও ব্যবসাসফল অনেক সিনেমা উপহার দিয়েছেন রিয়াজ। তাই তো এখনো ভক্তদের হৃদয়ে ভালোবাসার আসনে বিরাজ করছেন রিয়াজ।

আজ জন্মদিন তার। ১৯৭২ সালের এই দিনে ফরিদপুর শহরে জন্ম রিয়াজের।

জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়াজকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনেক তারকা। তবে ভক্তদের নজর কেড়েছে রুপালি পর্দায় রিয়াজের অন্যতম জুটি চিত্রনায়িকা শাবনূরের শুভেচ্ছা।

নিজের ফেসবুক পেজ থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রিয়াজের সঙ্গে রোমান্টিক একটি ছবি পোস্ট করেছেন শাবনূর।

সেই ছবির ক্যাপশনে শাবনূর লেখেন, ‘শুভ জন্মদিন রিয়াজ। আশা করি তোমার বিশেষ দিনে তোমার হৃদয় যা চায় তা পূরণ হোক। চমকে ভরে যাক তোমার সারা দিন।’

সেই ছবির মন্তব্যেও রিয়াজকে শুভেচ্ছায় ভাসিয়েছেন তার ভক্তরা। দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে পাঁচ শতাধিকের বেশি কমেন্ট ও ১০ হাজারের বেশি রিয়্যাক্ট পড়েছে সেই ছবিতে।

কেউ লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন। এখনো আমার প্রিয় অভিনেতা।’

ছবি দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করে কেউ আবার লিখেছেন, ‘আমাদের সময়কার প্রিয় জুটি রিয়াজ-শাবনূর। জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

এ রকম নানা মন্তব্য পড়েছে শাবনূরের সেই পোস্টে।

রিয়াজ-শাবনূর জুটি বেঁধে মন মানে না, ভালোবাসি তোমাকে, প্রেমের তাজমহল, ও প্রিয়া তুমি কোথায়, শ্বশুর বাড়ি জিন্দাবাদ, হৃদয়ের বন্ধন, মোল্লাবাড়ীর বউসহ উপহার দিয়েছেন অনেক জনপ্রিয় সিনেমা। ২০১৩ সালে মুক্তি পায় রিয়াজ-শাবনূর জুটির সবশেষ চলচ্চিত্র শিরি ফরহাদ

দুই দুয়ারী, দারুচিনি দ্বীপকি যাদু করিলা এই তিন চলচ্চিত্রের জন্য তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন রিয়াজ।

শেয়ার করুন