করোনায় চলে গেলেন প্রখ্যাত তবলাবাদক শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

করোনায় চলে গেলেন প্রখ্যাত তবলাবাদক শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রখ্যাত তবলাবাদক শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

স্বজনরা জানিয়েছেন, ২০ জুন থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাইপাসের ধারে মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। তার ফুসফুসে বড় ধরনের ক্ষত হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে একমো সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

দুই ডোজ টিকা নিয়েও করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন প্রখ্যাত তবলাবাদক পণ্ডিত শুভঙ্কর বন্দ্যােপাধ্যায়। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।

স্বজনরা জানিয়েছেন, ২০ জুন থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাইপাসের ধারে মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। তার ফুসফুসে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে একমো সাপোর্টে রাখা হয়। দীর্ঘদিন তিনি একমো সাপোর্টে ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য অনুরাগীরা তহবিল সংগ্রহের চেষ্টাও করেন।

পণ্ডিত শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র তবলিয়া আর্চিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শুরুতে আমরা চাইনি বাবার নামে এমন একটা তহবিল চালু হোক। সেটি নিয়ে বিভ্রান্তিও ছড়ায়। পরে বিভিন্ন শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা এই তহবিলের ব্যাপারে সহমত হই।’

তহবিলের ত্রাণের টাকায় শুভঙ্করের চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো গেল না।

বুধবার সকালে শুভঙ্করপুত্র তার ফেসবুক পোস্টে একটি শব্দে লিখেছেন ‘হারালাম’। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুপুর ১টা ১০ মিনিটে তার একমো সাপোর্ট খুলে নেয়া হয়।

শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক বছর পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ওস্তাদ আমজাদ আলি খান, পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, পণ্ডিত বিরজু মহারাজের মতো শিল্পীদের সঙ্গে অনুষ্ঠান করেছেন ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে সংগীত সম্মান ও সংগীত মহাসম্মান পুরস্কার পেয়েছেন এই শিল্পী। দেশে-বিদেশে তার অসংখ্য অনুরাগী, ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন। তার প্রয়াণে সংগীত জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শেখ হাসিনার যে ছবিটি জয়ার মনে

শেখ হাসিনার যে ছবিটি জয়ার মনে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে স্মৃতিচারণ করলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। ছবি: সংগৃহীত

জয়া আহসান লেখেন, ‘শেখ হাসিনার আজ জন্মদিন। তার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে লেখার মানুষ কম নেই। আমার আছে মানুষ শেখ হাসিনাকে নিয়ে ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতি, একান্ত কিছু অনুভূতি…।’

দেশভাগের বছর অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের পূর্ব অংশের গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় ২৮ সেপ্টেম্বর জন্ম বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার। আজ তার ৭৫তম জন্মদিন।

জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী। অনেকেই তাকে নিয়ে লিখছেন নানান স্মৃতিকথা।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে দেয়া জয়া পোস্টে লেখেন, ‘শেখ হাসিনার আজ জন্মদিন। তার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে লেখার মানুষ কম নেই। আমার আছে মানুষ শেখ হাসিনাকে নিয়ে ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতি, একান্ত কিছু অনুভূতি…।’

এরপর ‘উজ্জ্বল চিরন্তন এক ছবি’ শিরোনামে দীর্ঘ একটি লেখা প্রকাশ করেছেন জয়া আহসান।

তিনি লিখেছেন- এত বছর আগের একটা দিন, কিন্তু শেখ হাসিনার সেই ছবিটি এখনও উজ্জ্বল হয়ে আছে মনে। কিশোরীবেলার অনেকগুলো ঝলমলে স্মৃতি একসঙ্গে মিলেমিশে আছে বলেই হয়ত। উত্তুঙ্গ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জেনারেল এইচএম এরশাদের সবেমাত্র পতন হয়েছে। প্রিয় স্বজনসহ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর সেনাশাসনের অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল পুরো দেশ, মানুষ তার সেই নিকষ কালো পর্ব থেকে বেরিয়ে এসেছে। দেড় দশক পরে ফুসফুস ভরে শ্বাস নিচ্ছে মুক্ত হাওয়ায়। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের এক মধুর পর্ব চলছে। নানা রকমের মানুষের মিলেমিশে এক হয়ে ওঠার মতো এত বড় ঘটনা তো মুক্তিযুদ্ধের পরে আর ঘটেনি।

এসব অবশ্য বুঝেছি পরে। রাজনীতির জটিল জ্যামিতি বোঝার মতো বয়স তখনও আমার নয়। বড়দের পৃথিবী থেকে টুকরো টুকরো কথা কানে ভেসে আসে। সেসব আবছা কথা কল্পনায় জোড়াতালি দিয়ে আর নানা রঙে মিশিয়ে এক রকমের ধারণা করে নিই। তবে খুব যে এক আনন্দের সময় বয়ে চলেছে, সেটা বুঝি বাবার চাঞ্চল্য দেখে। বারবার কারণে-অকারণে ঘরে-বাইরে ছুটোছুটি করছেন। সিগারেট খাওয়ার হারটাও বেড়েছে। বহুদিন বাবাকে এমন মধুর মেজাজে দেখিনি।

বাইরে থেকে বাবা এমনিতে ভীষণ কড়া মেজাজের মানুষ। ভেতরটা যদিও উল্টো। নিভৃত মুহূর্তে আপনমনে কাব্যচর্চা করেন। মনে পড়ে, আমাকে একবার কবি আল মাহমুদের কাছেও নিয়ে গিয়েছিলেন। বাংলা ভাষার এত বড় মাপের একজন কবি, কিন্তু সে গুরুত্ব বোঝার মনও কি আর তখন হয়েছে? যা হোক, মনের কোমল অংশটা কঠিন আবরণের আড়ালে ঢেকে রাখতে অভ্যস্ত বাবার মনটা স্বৈরাচারী সেনাশাসনের পতনের পরে হঠাৎ খোলামেলা হয়ে পড়ল।

না হওয়ার কথাও তো নয়। দেশটাকে যে বড় ভালোবাসতেন তিনি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। বাঙালির মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে প্রাণের টানে ছুটে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ করেছিলেন খালেদ মোশাররফের সঙ্গে ২ নম্বর সেক্টরে। মুক্তিযুদ্ধের আগেকার সেই উত্তাল বিদ্রোহী দিনে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে বিক্ষোভ চলল, তরুণ-বয়সী বাবা তাতে গিয়েও যোগ দিলেন। সামিল হলেন বেতার অফিসের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে। নিজের হাতে সেখানে উড়িয়ে দিলেন মুক্তিযুদ্ধের লাল-সবুজ-হলুদ পতাকা। বেতার অফিসের সামনে বাবার সেই ফুটেজটা খুঁজে পেয়েছি সম্প্রতি। আমার অমূল্য এক সংগ্রহ।

যে প্রত্যাশা নিয়ে বাবা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আরও অনেকের মতো তারও মনে হয়েছিল সে প্রত্যাশার মৃত্যু হয়েছে। সেনাশাসনের পতনের পর তার মনে হলো, বদ্ধ দরজা খুলে আবার আলো এল। বাবা বললেন, ‘চল, আমার সঙ্গে। তোদের একটা জায়গায় নিয়ে যাই।’ কোন জায়গায়? কার কাছে? কিছুই জানি না। আমি আর আমার ছোট বোন কান্তা চললাম বাবার সঙ্গে। কান্তা চড়ে বসল বাবার কাঁধে। আমি ধরলাম তার হাত।

বাবা আমাদের নিয়ে চললেন এখন যেখানে সচিবালয়, তার কাছে, পল্টনের মোড়ে। আগের দিনের লোকেরা জায়গাটাকে তখন ডাকে সেকেন্ড ক্যাপিটাল বলে। সেখানে পথে পথে উৎসব। মোড়ে মোড়ে জটলা। মানুষের মাথা মানুষে খাচ্ছে। আনন্দের বন্যা বয়ে চলেছে শহরের পথে পথে। পল্টনে বিরাট মঞ্চ পাতানো হয়েছে। বাবার হাতে এরশাদ ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের কার্টুন-ক্যারিকেচারভরা লিফলেট আর পুস্তিকা ধরিয়ে দিচ্ছে লোকেরা। বাবা খুব আগ্রহ নিয়ে দেখাচ্ছেন আমাদের।

মানুষের উজান ঠেলে বাবা এরপর আমাদের নিয়ে সোজা উঠলেন ৩২ নম্বর ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাসভরা বাড়িটিতে। যেন বেশ চেনা একটা আত্মীয়ের বাড়ি, এমনই নিশ্চিন্তে গিয়ে হাজির হলেন একটা ঘরের সামনে। দরজা ঠুকে বললেন, ‘বুবু, আসব?’ শেখ হাসিনা কে, কী, সেসব কিছু বুঝিনি। মনে মনে শুধু ভেবেছি, ও, ইনিই তাহলে বঙ্গবন্ধুর মেয়ে! বিছানায় দ-এর ভঙ্গিতে কিছুটা অর্ধশায়িত। ঘরোয়া মেজাজ। কিছুটা কি ক্লান্ত? আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে সেনাশাসনবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের ঝড়ঝাপ্টা বয়ে গেছে তার ওপর দিয়ে। কিন্তু কোথাকার কী? আমাদের দেখেই সস্নেহ একটা হাসির রেখা ফুটে উঠল মুখে। সোজা হয়ে বললেন, ‘কাকে নিয়ে এসেছ, বাবলা? তোমার মেয়ে বুঝি?’

সেই তাকে প্রথম দেখা। গায়ে সাধারণ একটা বেগুনি-ঘিয়ে রঙের ডুরে শাড়ি। মাথায় সামান্য ঘোমটা টানা। একেবারেই বাঙালি নারীর চিরচেনা আটপৌঢ়ে ছবি। শেখ হাসিনার চোখের রং আর দশজন সাধারণ বাঙালির মতো নয়। সে দিকে চোখ না পড়ে উপায়ই নেই। তবু সব ছাপিয়ে চোখ আঠার মতো আটকে গেল তার চুলে। ঘন কালো চুলের এক মোটা গোছা। ঘোমটার আড়াল থেকে বেরিয়ে পিঠ বেয়ে এঁকেবেঁকে নেমে গেছে কোমর পর্যন্ত। এমন দীর্ঘ আর চওড়া চুলের গোছাও হয় মানুষের? মনে খচিত হয়ে গেল উজ্জ্বল ও চিরন্তন সেই বাঙালি ছবিটি।

এর পর তো পদ্মানদী দিয়ে বহু পানিই গড়িয়ে গেছে। বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেত্রী থেকে তিনি এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন কয়েকবার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার নিজেরও বাহ্যিক রূপান্তর কম হয়নি। কিন্তু চুলের মোটা গোছাসহ তার যে ছবিটা সে দিন দেখেছিলাম, মনে গভীরে এখনও উজ্জ্বল হয়ে আছে সেই ছবিটিই। আমার কাছে সেটিই তার স্থায়ী রূপাবয়ব।

প্রধানমন্ত্রীর গুরুতর দায়িত্বভার তাকে বহন করতে হয়। ছোটখাটো বিষয়ে মন দেয়ার অবকাশ কোথায়? কিন্তু তার সঙ্গে ছোট ছোট দুয়েকটি অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সামান্য বিষয়ের দিকেও তিনি সযত্ন দৃষ্টি রাখেন। প্রধানমন্ত্রী নন, নিতান্ত আপনজনের মতো। সেসব তার না রাখলেও চলে, তার হয়ে অন্য কেউ রাখলেই যথেষ্ট। তবু তিনি রাখেন। এ তার অসামান্য এক গুণ। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব তার ভেতরের মানুষটিকে এখনও মোটেই পিষ্ট করে দিতে পারেনি।

একটা ঘটনা বলি। সেবার আমাকে জিরো ডিগ্রি ছবিটির জন্য সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কার সবার হাতে তুলে দেয়া হবে একটি অনুষ্ঠান করে। ঘটনাচক্রে সে বছর পশ্চিমবঙ্গেও আমাকে মহানায়ক উত্তম কুমার সম্মাননা দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সেবারই প্রথম কোনো নারী অভিনয়শিল্পীকে আয়োজকেরা এ পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই আলাদা একটা মর্যাদার ব্যাপার হয়ে উঠেছিল পুরস্কারটি। অর্থমূল্যও ছিল যথেষ্ট। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কার দেবেন।

ভালোই প্যাঁচ লেগে গেল। দুটো পুরস্কার দেয়ার তারিখ পড়ল একই দিনে। শুধু কি একই দিনে? পড়ল একই দিনের কাছাকাছি সময়ে, এক-দেড় ঘণ্টার এদিকে-ওদিকে। সকালে আর বিকেলে হলেও সামাল দেওয়া যেত। একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চলে যাওয়া যেত আরেকটি অনুষ্ঠানে। আয়োজকদের অনুরোধ করে সময়টাকে আগুপিছু নানা চেষ্টাচরিত্র করেও ফল হলো না। হবে যে না, সেটা এক রকম অনুমানও করেছিলাম। এত এত মানুষের সময়সূচি আবার মিলিয়ে সব ঠিক করা কি সহজ? কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার যে আমার দেশের সম্মাননা। তাছাড়া এর মর্যাদাও আলাদা। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে এ পুরস্কার শিল্পীকুশলীদের হাতে তুলে দেবেন। এই পুরস্কার না নিয়ে কি পারা যায়?

দেশেই রয়ে গেলাম। অনুষ্ঠানে যথারীতি আমার নাম ডাকা হলো। মঞ্চে উঠলাম পুরস্কার নিতে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেয়ার সময় কোমল গলায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘জয়া, তুমি কলকাতায় যাওনি?’

তার মুখে এই প্রশ্ন? এত ব্যস্ততার মধ্যে এই অকিঞ্চিৎকর তথ্যটুকু তিনি শুনেছেন, শুনে মনেও রেখেছেন? শুধু এখানেই তো শেষ নয়। আগে কয়েকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া সত্ত্বেও যে আন্তর্জাতিক একটা সম্মাননার মায়া ছেড়ে দিয়ে আমি রয়ে গেছি, বক্তৃতা দিতে উঠে বললেন সে কথা। বললেন, এই হলো দেশের প্রতি ভালোবাসা। আমি তো বাকরুদ্ধ।

আমি গভীরভাবে অভিভূত হয়েছিলাম আরও একটি ঘটনায়। প্রকৃতি আর প্রাণীর প্রতি আমার প্রাণের টান। প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করে, এমন কিছু সংগঠনের সঙ্গে তাই সক্রিয় যোগাযোগ রাখি। এ রকমই এক সংগঠন থেকে একবার খবর এল, গণভবনের লাগোয়া একটি জায়গা থেকে তারা একটি কুকুর উদ্ধার করেছে। গণভবনের চিফ সিকিউরিটি এসডিএন কবীর সাহেবের কাছে পরে শুনেছিলাম, গণভবনের বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে অর্ধশতাধিক কুকুর আছে। আছে বেড়ালেরও দল। পোষা নয়। স্বাধীন ও ছন্নছাড়া। এত গাছপালাভরা সবুজ একটা জায়গা। পাখপাখালিও সে কারণে এন্তার। যা হোক, দলছুট সারমেয় মহাশয় কোনো ফাঁকফোঁকর গলে গণভবনের বাইরে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে ছিল পথে।

সেই দলছুট মহাশয়ের একটা হিল্লে করা হলো। কিন্তু কবীর সাহেবের কাছ থেকে আরও যে তথ্য পেলাম, তাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় বুকটা ভরে গেল। সেই কুকুরগুলোর জন্য তিনি নিজেই খাবারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। ওদের জন্য ফার্ম থেকে মুরগির মাংস আসে। সেই মুরগির সঙ্গে চাল মিশিয়ে রোজ খাবার তৈরি হয়। বেড়ালগুলোর জন্য প্রতিদিনের বরাদ্দ ২০ লিটার করে দুধ। গণভবনের ভেতরের গাছগুলো থেকে ফল পাড়তে দেওয়া হয় না। ওইসব ফলপাকুড় পাখিদের ভোজ্য। তার নির্দেশে পশুপাখিগুলোর জন্য আলাদা একটা ব্যয়বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রাষ্ট্র নিয়ে যার শত ব্যস্ততা, তার মনের একটি ভাগ তিনি এদের জন্যও দিয়ে রেখেছেন। ভেতর থেকে উপচে আসা গভীর ভালোবাসা ছাড়া কি আর এটি সম্ভব?

রাষ্ট্র আর রাজনীতি কোটি মানুষকে নিয়ে কাজ করে। তার তাই হাজার পথ, হাজার মত। সে নিয়ে জটিল বিতর্কের শেষ হবে না কোনো দিন। কিন্তু যৎসামান্য স্মৃতির গুচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে মানুষী রূপ দেখেছি, তার তুলনা মেলা ভার। এখনো যখনই তাকে দেখি, তখনই মনে ফিরে আসে কিশোরবেলায় দেখা মোটা চুলের গোছায় উজ্জ্বল সেই সস্নেহ মুখটি। অন্তরঙ্গ, নিবিড়, মমতামাখা।

শেয়ার করুন

অবশেষে ‘৮৩’ আসছে

অবশেষে ‘৮৩’ আসছে

‘৮৩’ সিনেমার টিমের সঙ্গে রণবীর সিং। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেই সময়কার বিভিন্ন অবিস্মরণীয় কাহিনি নিয়েই নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। কপিল দেবের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রণবীর। এতে দীপিকা পাডুকোনকে দেখা যাবে কপিল দেবের স্ত্রী রোমার ভূমিকায়।

হিন্দি সিনেমা ও একই সঙ্গে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে গত বছর থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম রণবীর সিংয়ের আসন্ন সিনেমা ৮৩। কারণ ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ঘটনা নিয়ে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত এই সিনেমাটি।

বারবার পিছিয়েছে সিনেমাটি মুক্তির দিন। গত বছরের ১০ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা পিছিয়ে যায়। এরপরও একাধিকবার এই সিনেমার মুক্তির দিন পিছিয়েছে।

কিন্তু করোনা মহামারির রেশ একটু কমতেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খুলতে শুরু করেছে সিনেমা হলগুলো। তা দেখেই এবার সিনেমাটি মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্মাতা।

চলতি বছর ২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে ‌৮৩। ‌রণবীর সিং সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজে এই কথা ঘোষণা করেন।

নিজের ইনস্টগ্রাম অ্যাকাউন্টে সোমবার একটি ছবি পোস্ট করেন রণবীর। সেই ছবির মধ্যমণি হিসেবে দেখা যাচ্ছে হাস্যোজ্জ্বল রণবীরকে।

সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি জানান, ‘সময় শুরু‌… ৮৩ মুক্তি পাচ্ছে আগামী বড়দিনে।’

এ খবরে যে বেশ উচ্ছ্বসিত সিনেমাপ্রেমীরা, তা বোঝা যায় রণবীরের সেই পোস্টে রিয়্যাক্ট ও কমেন্ট দেখে।

১৯৮৩ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। কপিল দেবের নেতৃত্বে ভারত ক্রিকেট দল সেদিন ইতিহাস গড়েছিল।

অবশেষে ‘৮৩’ আসছে
‘৮৩’ -তে কপিল দেবের স্ত্রীর ভূমিকায় রণবীরের বিপরীতে অভিনয় করেছেন দীপিকা পাডুকোন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেই সময়কার বিভিন্ন অবিস্মরণীয় কাহিনি নিয়েই নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। কপিল দেবের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রণবীর। এতে দীপিকা পাডুকোনকে দেখা যাবে কপিল দেবের স্ত্রী রোমার ভূমিকায়।

শেয়ার করুন

বলিউড সিনেমায় বক্সিং লেজেন্ড মাইক টাইসন

বলিউড সিনেমায় বক্সিং লেজেন্ড মাইক টাইসন

বলিউড সিনেমা ‘লাইগার’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে বক্সিং লিজেন্ট মাইক টাইসনের। ছবি: সংগৃহীত

সেই টুইটে করণ লেখেন, ‘প্রথমবারের মতো, ভারতীয় সিনেমার বড় পর্দায় দেখা যাবে রিংয়ের রাজাকে! লাইগার টিমে মাইক টাইসনকে স্বাগত।’

বলিউডের বড় পর্দায় নাম লেখাতে যাচ্ছেন বক্সিং লেজেন্ড মাইক টাইসন। এক টুইট বার্তায় এ খবর জানিয়েছেন বলিউডের নির্মাতা করণ জোহর।

করণ জানান, তার আসন্ন সিনেমা লাইগার-এ অভিনয় করবেন মাইক। একই সঙ্গে এই সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করবেন দক্ষিণী তারকা বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে।

সেই টুইটে করণ লেখেন, ‘প্রথমবারের মতো, ভারতীয় সিনেমার বড় পর্দায় দেখা যাবে রিংয়ের রাজাকে! লাইগার টিমে মাইক টাইসনকে স্বাগত।’

পাশাপাশি সিনেমাটির একটি প্রমোশনাল ভিডিও পোস্ট করেন করণ। সাদা কালো ভিডিওতে লাইগার টিমের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা গর্বিত যে প্রথমবার ভারতীয় সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন ইতিহাস রচয়িতা, অপ্রতিরোধ্য আইকন, প্রবাদপ্রতিম মাইক টাইসন।’

ভিডিওটি দেখে অবশ্য কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না যে, সিনেমাটি বক্সিং কেন্দ্রীয় কোনো গল্প নিয়ে কিনা। বোঝা যাচ্ছে না যে আদৌ বিজয়ের বিপরীতে মাইক টাইসনকে বক্সিং রিংয়ে দেখা যাবে কিনা।

এই ভিডিওটি টুইট করে বিজয় দেবেরাকোন্ডা লিখেছেন, ‘আমরা পাগলামি দেখাব বলেছিলাম, এখান থেকেই তার শুরু। প্রথমবার ভারতীয় পর্দায় পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর লোক, বক্সিংয়ের ঈশ্বর, লেজেন্ড, সর্বকালের সেরা।’

এক হিসেবে বলিউডে মাইকের এটাই প্রথম বলা ভুল হবে। ২০০৭ সালে শাহিদ কাপুর অভিনীত ফুল অ্যান্ড ফাইনাল সিনেমায় একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তবে মুখ্য চরিত্রে এই প্রথম।

ভারতীয় একাধিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, এই সেপ্টেম্বরেই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল লাইগার। কিন্তু করোনার কারণে পিছিয়ে যায় মুক্তির তারিখ। গত মে মাসে প্রকাশ করা হয় এই সিনেমাটির টিজার।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই আগামী বছর মুক্তির পরিকল্পনা নিয়েছেন করণ জোহর।

লাইগার একই সঙ্গে, হিন্দি, তেলুগু, তামিল, কন্নড় ও মালায়ালাম ভাষায় মুক্তি পাবে।

শেয়ার করুন

সিঁদুরে মৌসুমী, ধুতিতে রুবেল

সিঁদুরে মৌসুমী, ধুতিতে রুবেল

নতুন সিনেমার শুটিংয়ে আহমেদ রুবেল, মৌসুমী। ছবি: ফেসবুক

গল্পটি নিয়ে পরিচালক এর আগে নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘মৌসুমী আপা আমাদের সিনেমায় কাজ করছেন। গল্পটিতে তাকেই সবচেয়ে বেশি মানায়। এটা একটা দেশপ্রেমের গল্প, নারী জাগরণের গল্প।’

নির্মাতা আশুতোষ সুজনের নতুন সিনেমা দেশান্তর-এর দৃশ্যধারণ শুরু করেছেন অভিনয়শিল্পী মৌসুমী ও আহমেদ রুবেল।

গাজীপুরে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনেমার শুটিং, চলবে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত। নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিচালক।

শুটিংয়ের একটি ছবি প্রকাশ পেয়েছে অনলাইনে। অভিনেতা ওমর সানী ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

সেখানে দেখা যাচ্ছে, মৌসুমীর মাথায় সিঁদুর ও আহমেদ রুবেলের পরনে ধুতি।

গল্পটি নিয়ে পরিচালক এর আগে নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘মৌসুমী আপা আমাদের সিনেমায় কাজ করছেন। গল্পটিতে তাকেই সবচেয়ে বেশি মানায়। এটা একটা দেশপ্রেমের গল্প, নারী জাগরণের গল্প।’

দেশান্তর সিনেমাটি অনুদান পেয়েছে ২০২০-২১ অর্থবছরে।

মৌসুমী আরও অভিনয় করছেন ভাঙনসোনার চর সিনেমায়। চলতি বছরেই মৌসুমী অভিনীত শেষ সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সৌভাগ্য নামের সিনেমাটি দর্শকরা দেখেছেন গত রোজার ঈদে।

অন্যদিকে আহমেদ রুবেল অভিনীত অলাতচক্র সিনেমাও মুক্তি পেয়েছে এ বছরের মার্চে। চিরঞ্জীব মুজিব নামের একটি সিনেমায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমাটি এখনও মুক্তি পায়নি।

শেয়ার করুন

‘কাইজার’ হয়ে উঠতে পারে ঢাকার গোয়েন্দা

‘কাইজার’ হয়ে উঠতে পারে ঢাকার গোয়েন্দা

কাইজার কনটেন্ট এর পোস্টার ও পরিচালক তানিম নূর। ছবি: সংগৃহীত

তানিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাইরের দেশে প্রতিষ্ঠিত গোয়েন্দা চরিত্র থাকলেও বাংলাদেশে কোনো গোয়েন্দা চরিত্র এখনও প্রতিষ্ঠা পায়নি। কাইজার চরিত্রটি দিয়ে আমি চেষ্টা করব একজন ঢাকার গোয়েন্দা চরিত্র তৈরি করতে। যে বিভিন্ন কেসের জট খুলবে।’

ঢাকায় কোনো গোয়েন্দা চরিত্র ভালোভাবে প্রতিষ্ঠা পায়নি বলে মনে করেন কাইজার চরিত্রটির স্রষ্টা ও পরিচালক তানিম নূর। তেমন একটি চরিত্র প্রতিষ্ঠা করতেই কাইজার গল্পটি নির্মাণের পরিকল্পনা তার।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের পঞ্চম সিজনে দেশের যে ৫টি অরিজিনাল তৈরি হতে যাচ্ছে; যার মধ্যে একটি হলো কাইজার

কাইজারকে অনেকে কায়সার বা কাইসার মনে করছেন। কিন্তু এটা কাইজার। কাইজার মূলত জার্মান সম্রাটদের উপাধি। শব্দটা সেখানে থেকেই নেয়া, জানালেন তানিম।

তানিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাইরের দেশে প্রতিষ্ঠিত গোয়েন্দা চরিত্র থাকলেও বাংলাদেশে কোনো গোয়েন্দা চরিত্র এখনও প্রতিষ্ঠা পায়নি। কাইজার চরিত্রটি দিয়ে আমি চেষ্টা করব একজন ঢাকার গোয়েন্দা চরিত্র তৈরি করতে। যে বিভিন্ন কেসের জট খুলবে।’

তানিমের পরিকল্পনা অনেকগুলো সিজন হবে কাইজারের। তবে তা নির্ভর করছে প্রথম সিজনের গ্রহণযোগ্যতার উপর। প্রথম সিজনে ৮টি পর্বের মাধ্যমে একটি কেস সমাধান দেখানো হবে বলে জানান তানিম।

কাইজার বা কাইজার চৌধুরী সম্পর্কে বলতে গিয়ে তানিম বলেন, ‘কাইজার চৌধুরীর বয়স ৩৭, তিনি ভিডিও গেম খেলতে ভালোবাসেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তা তিনি।’

এখানেই একটা খটকা। ঢাকার গোয়েন্দা চরিত্রটি প্রতিষ্ঠা করতে কেন কর্মকর্তার তকমা থাকতে হবে?

উত্তরে তানিম বলেন, ‘এটি ২০১৪ সালের দিকে লেখা একটি গল্প। প্রথম আমি প্রাইভেট ডিটেকটিভ বিষয়টি রেখেই লিখেছিলাম কিন্তু পরে দেখলাম প্রাইভেট ডিটেকটিভ বিষয়টি আমাদের এখানে প্রতিষ্ঠিত না। তাই মনে হলো কর্মকর্তা ট্যাগটা থাকুক।’

কাইজারের শুটিং শুরু হতে পারে জানুয়ারি থেকে। চিত্রনাট্যের কাজ এখনও চলছে। অভিনয়শিল্পী এখনও ঠিক করা হয়নি বলে জানান তানিম। সব ঠিক থাকলে ঢাকার দর্শকরাও পেতে যাচ্ছেন ঢাকার একজন জাঁদরেল গোয়েন্দা।

তানিম নূর এর আগে ফিরে এসো বেহূলা নামের সিনেমা নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া হইচইতে একক পরিচালনায় একাত্তর, যৌথ পরিচালনায় মানি হানি, জি-ফাইভে কনট্র্যাক্ট নির্মাণ করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

সব ক্ষেত্রে আমার চেয়ে এগিয়ে থাকো: জন্মদিনে ছেলেকে শাকিব

সব ক্ষেত্রে আমার চেয়ে এগিয়ে থাকো: জন্মদিনে ছেলেকে শাকিব

শাকিব খান ও তার ছেলে আব্রাম খান জয়। ছবি: সংগৃহীত

ছেলেকে নিজের সব স্বপ্নের সীমানা ছাড়িয়ে যাবার প্রত্যাশা জানিয়ে শাকিব লেখেন, ‘ছাড়িয়ে যাও আমার সকল স্বপ্নের সীমানা। বেঁচে থাকার পূর্ণ সার্থকতা অর্জন করো। ছাড়িয়ে যাও আমার সকল স্বপ্নের সীমানা।’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সন্তান আব্রাম খান জয়। সোমবার তার জন্মদিন। ৫ পেরিয়ে ৬ বছর বয়সে পা দিল জয়।

জন্মদিনে বাবা শাকিব খান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছেলেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। লিখেছেন কিছু অনুভূতির কথাও।

ছেলেকে কত ভালোবাসেন তা বোঝাতে শাকিব লেখেন, ‘পৃথিবীর প্রায় সব কিছুর শেষ আছে, কিন্তু তোমার প্রতি আমার ভালোবাসার কোনো শেষ নেই। কারণ তুমি আমার কাছে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত অমূল্য উপহার। শুধু জন্মদিনে নয়, তোমার জন্য আমার কাছে প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ।'

জয়ের ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে শাকিবের চেষ্টার কথা জানিয়ে লেখেন, ‘তোমার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য যা কিছু কল্যাণকর সব সময় পুরোটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। তোমার সঙ্গে আমি সব সময় ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব ইনশাআল্লাহ।’

ছেলেকে নিজের সব স্বপ্নের সীমানা ছাড়িয়ে যাবার প্রত্যাশা জানিয়ে শাকিব লেখেন, ‘ছাড়িয়ে যাও আমার সকল স্বপ্নের সীমানা। বেঁচে থাকার পূর্ণ সার্থকতা অর্জন করো। জীবনে সাফল্যের সব ক্ষেত্রে আমার চেয়ে এগিয়ে থাকো। বিশ্বাস করি, যেদিন আমি থাকব না, সেদিন তোমার মধ্যে বেঁচে থাকব আরও বহুকাল।’

ছেলেকে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়ে শাকিব বলেন, ‘শুভ জন্মদিন আব্রাম খান জয়।’

শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস দম্পতির ছেলে আব্রাম খান জয়। তারকা বাবা-মার কারণে জয়ও থাকে আলোচনায়।

শাকিব-অপুর বিয়ে হয় ২০০৮ সালে। ২০১৮ সালে হয় তাদের বিচ্ছেদ। জয়ের জন্ম ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর।

দীর্ঘদিন গোপন ছিল শাকিব-অপুর বিয়ের খবর। লোকচক্ষুর আড়ালেই হয় জয়ের জন্ম। ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল অপু বিশ্বাস তার বিয়ে ও সন্তানের খবর জানান।

শেয়ার করুন

অ্যানিমেশনে ‘পদ্মাপুরাণ’ সিনেমার টিজার

অ্যানিমেশনে ‘পদ্মাপুরাণ’ সিনেমার টিজার

পদ্মাপুরাণ সিনেমার অ্যানিমেশন টিজার প্রকাশ।

পরিচালক বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দর্শকদের নতুন কিছু দিতে। সিনেমা হলে গিয়ে দর্শক সিনেমা দেখবে, দেশের সিনেমা দেখবে, এটাই আমাদের আশা। পদ্মাপুরান আমাদের মাটি-জলের গল্প।’ 

রাশিদ পলাশের চলচ্চিত্র ‘পদ্মাপুরাণ’-এর অ্যানিমেশন টিজার প্রকাশ হয়েছে রোববার সন্ধ্যায়। পরিচালকের দাবি, বাংলাদেশে সিনেমার অ্যানিমেশন টিজার এটাই প্রথম।

২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের টিজারটি প্রকাশ পেয়েছে লাইভ টেকনোলজির ইউটিউব চ্যানেলে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পরিচালক বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দর্শকদের নতুন কিছু দিতে। সিনেমা হলে গিয়ে দর্শক সিনেমা দেখবে, দেশের সিনেমা দেখবে, এটাই আমাদের আশা। পদ্মাপুরান আমাদের মাটি-জলের গল্প।’

৮ অক্টোবর মুক্তি পেতে যাচ্ছে চলচ্চিত্রটি। বর্তমানে সিনেমার নির্মাতা ও কলাকুশলীরা ব্যস্ত আছেন ছবির প্রচারণার কাজে।

‘পদ্মাপুরাণ’-এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাদিয়া মাহি, প্রসূন আজাদ, শম্পা রেজা, জয়রাজ, সুমিত সেনগুপ্ত, কায়েস চৌধুরী, সূচনা শিকদার, রেশমী, হেদায়েত নান্নু, আশরাফুল আশিষ, সাদিয়া তানজিন।

নির্মাতা রাশিদ পলাশের হাতে রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সিনেমা ‘প্রীতিলতা’। যার এখন পর্যন্ত ৩৫ ভাগ দৃশ্যধারণ শেষ। আগামী মাসের শেষের দিকে সিনেমার বাকি অংশের শুটিং হবে বলে জানান রাশিদ পলাশ।

শেয়ার করুন