সৌম্য-নাইম ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে

সৌম্য-নাইম ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশের পক্ষে শতরানের ওপেনিং জুটি গড়েন নাইম ও সৌম্য। ছবি: এএফপি

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৫৩ রানের লক্ষ্যে ৭ বল আগেই পৌঁছে যায় সফরকারী দল। সৌম্য করেন ৫০ আর নাইমের ব্যাট থেকে আসে ৬৬*।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৫৩ রানের লক্ষ্যে ৭ বল অক্ষত রেখেই পৌঁছে যায় সফরকারী দল। হাফ সেঞ্চুরি আসে নাইম শেখ ও সৌম্য সরকারের ব্যাট থেকে।

মাঝারি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে, শুরু থেকেই স্ট্রোক খেলা শুরু করেন সৌম্য ও নাইম। এই দুইজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৪৩ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ।

সৌম্য ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক। দুটি চারের পাশাপাশি লুক জঙ্গওয়ে ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকান এই বাঁহাতি।

অন্যদিকে নাইমের ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার। ১০ ওভার শেষে সৌম্যর রান ছিল ৩৫ বলে ৩৬ রান নিয়ে আর নাইমের নামের পাশে ছিল ২৭ বলে ৩৭।

১৩ ওভারে ওপেনিং জুটিতে শতরান তুলে ফেলেন দুই ব্যাটসম্যান। ১০২ রান করার পর ১৪তম ওভারের প্রথম বলে রানআউট হন সৌম্য।

দুইরান নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর তৃতীয় রান নিতে যেয়ে আউট হন তিনি। তার আগে পূর্ণ করেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার চতুর্থ ফিফটি।

অন্যপ্রান্তে মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে জুটি গড়ে ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন নাইম। ৪০ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি।

অন্যপ্রান্তে অধিনায়ক বেশিক্ষণ টেকেননি। ১৭তম ওভারে ১৫ রান করে রানআউট হন মাহমুদুল্লাহ।

নুরুল হাসানকে নিয়ে বাকি কাজটুকু শেষ করে আসেন নাইম। ৫১ বলে ৬৬ রান করে অপরাজিত থাকেন নাইম। সোহান করেন ৮ বলে ১৬*। নিজেদের শততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ৮ উইকেটে জিতে যায় বাংলাদেশ।

এর আগে, টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৯ ওভারে ১৫২ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। চাকাবভার ব্যাট থেকে আসে স্বাগতিকদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩। অভিষিক্ত ডিওন মায়ার্স করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ বলে ৩৫।

সৌম্য-নাইম ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে
বাংলাদেশের হয়ে ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান। ছবি: এএফপি

প্রথম ১০ ওভারে দুই উইকেটে ৯১ রান সংগ্রহ করলেও ম্যাচের দ্বিতীয়ভাগে উইকেটের নিয়মিত পতন ঠেকাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।

ফলে নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই গুটিয়ে যায় তারা। মুস্তাফিজুর রহমান ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন। শরিফুল ইসলাম ও সাইফউদ্দিন দুটি করে উইকেট নেন।

ম্যাচসেরা হয়েছেন সৌম্য সরকার। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি হচ্ছে শুক্রবার। আর রোববার শেষ ম্যাচ দিয়ে শেষ হচ্ছে দুই দলের সিরিজ।

আরও পড়ুন:
সৌম্য ও নাইমের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের
১৫২ রানে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ
দ্রুত উইকেট তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১৮ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড

১৮ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড

ফাইল ছবি

সব কিছু ঠিক থাকলে ১১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে পা রাখবে উইলিয়ামসনরা। এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি তারা চলে যাবে হোটেলে। সেখানে ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর কোয়ারেন্টিনে থাকার পর ১৫ এবং ১৬ তারিখে অনুশীলনের সুযোগ পাবে সফরকারী দল।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি খেলতে পাকিস্তান যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

ওয়ানডে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে রাওয়ালপিণ্ডিতে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজটি লাহোরে।

সূচী অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে রাওয়ালপিন্ডির পিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। এরপর ১৯ এবং ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ।

এরপর লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ২৬, ২৯ সেপ্টেম্বর, ১ এবং ৩ অক্টোবর মাঠে গড়াবে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো।

সব কিছু ঠিক থাকলে ১১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে পা রাখবে উইলিয়ামসনরা। এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি তারা চলে যাবে হোটেলে। সেখানে ১২-১৪ সেপ্টেম্বর কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর ১৫ এবং ১৬ তারিখে অনুশীলনের সুযোগ পাবে সফরকারী দল।

এর আগে ২০০৩ সালে সর্বশেষ পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল ব্ল্যাক ক্যাপস। এরপর গত ১৮ বছরে আর পাকিস্তানে খেলতে যায়নি নিউজিল্যান্ড।

আরও পড়ুন:
সৌম্য ও নাইমের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের
১৫২ রানে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ
দ্রুত উইকেট তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

ভারতের পেইসে নাকাল রুট-বাটলাররা

ভারতের পেইসে নাকাল রুট-বাটলাররা

উইকেট শিকারের পর ভারতীয় দলের উল্লাস। ছবি: এএফপি

সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৮৩ রানে গুটিয়ে গেছে ইংলিশরা। জবাবে প্রথম দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২৩ রান।

ঘরের মাঠে ভারতের পেইস বিষে নাজেহাল ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৮৩ রানে গুটিয়ে গেছে ইংলিশরা। জবাবে প্রথম দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২৩ রান।

ট্রেন্ট ব্রিজে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্ভাগ্য ছিল স্বাগতিকদের কপালে। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার ররি বার্নস। জাসপ্রিত বুমরাহর বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

সেই ধাক্কা সামাল দিতে ইনিংস মেরামতের দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেন ডম শেলবি ও জ্যাক ক্রলি। ২২ ওভার এই দুইজন গড়েন ৪২ রানের জুটি।

জুটি ভাঙ্গেন মোহাম্মদ সিরাজ। ২৭ রান করা ক্রলিকে রিশাভ পান্টের তালুবন্দী করে ফেরান এই পেইসার।

লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরেই শেলবিকে হারায় স্বাগতিকরা। মোহাম্মদ শামির বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে লোকেশ রাহুলের হাতে বন্দী হন তিনি। আর তাতেই ৬৬ রানে তিন উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে এগিয়ে আসেন অধিনায়ক জো রুট। জনি বেয়ারস্টোকে নিয়ে গরে তোলেন প্রতিরোধ। কিন্তু সেটি বেশিক্ষণ সম্ভব হয়নি শামির কারণে।

রুট-বেয়ারস্টোর ৭২ রানের জুটি শামি ভাঙ্গেন ২৯ রান করা বেয়ারস্টোকে ফিরিয়ে। কিন্তু উইকেট আগলে রাখেন রুট। অপরপ্রান্তে তখন চলছে আশা যাওয়ার মিছিল।

১৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড স্কোরশিটে ৭ রান যোগ করতে গিয়ে হারিয়ে বসে আরও দুটি উইকেট। রানের খাতা খোলার আগেই ড্রেসিংরুমে ফিরে যান ড্যান লরেন্স, জস বাটলার।

সতীর্থরা দ্রুত ফিরলেও একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন রুট। তাকেও থামতে হয় ৬৭ রানে শার্দুল ঠাকুরের শিকার হয়ে।

এরপর স্যাম কারান বাদে আর কোনো ইংলিশ ব্যাটসম্যান ভারতের পেস তোপের সামনে টিকতে পারেননি। শেষতক ১৮৩ রানে থামে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান আসে রুটের ব্যাট থেকে। ভারতের হয়ে ৪ পেসার ভাগাভাগি করে নেন ১০ উইকেট।

আরও পড়ুন:
সৌম্য ও নাইমের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের
১৫২ রানে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ
দ্রুত উইকেট তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

অজিদের বিপক্ষে দুই জয়ে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের

অজিদের বিপক্ষে দুই জয়ে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের

জয়ের ইতিহাস গড়ে মাঠ ছাড়ছেন টাইগাররা ছবি: এএফপি

১৯৯০ সালে প্রথমবার ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ৩১ বছরে এসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার টানা দুটি জয়ের ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

মিরপুরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেল বাংলাদেশ। আর এতেই লেখা হলো আরেকটি ইতিহাস। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে অজিদের বিপক্ষে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে জয় পেল টাইগাররা।

টেস্টে ৩টি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। সবমিলে ৬টি ম্যাচ হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র একটি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে। সেটা ২০১৭ সালে। বাকি ৫টি ম্যাচেই হারের স্বাদ নিতে হয়েছে টাইগারদের।

ওয়ানডেতে সবমিলে ২১ ম্যাচ খেলা হয়েছে দুই দলের। ১৯ ম্যাচ জিতেছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একটা ম্যাচে শুধু জিতেছে বাংলাদেশ। আর চার ওয়ানডে সিরিজে এখনও কোনো জয়ের দেখা পায়নি লাল-সবুজ দল।

আগে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দেখা হলেও, ২০২১ সালে এসে প্রথমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্ট সিরিজ খেলছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমবার ২টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্বাগতিক দল। এর আগে চারবারের দেখায় বাংলাদেশকে হারের স্বাদ দিয়েছে অজিরা।

১৯৯০ সালে প্রথমবার ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ৩১ বছরে এসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার টানা দুটি জয়ের ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

দুই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। হাতে এখনও তিন ম্যাচ বাকি। সুযোগ রয়েছে সিরিজ বগলদাবা করার।

এক দিন বিশ্রামের পর শুক্রবার সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

আরও পড়ুন:
সৌম্য ও নাইমের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের
১৫২ রানে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ
দ্রুত উইকেট তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

হারের জন্য শেষ চার ওভারকে দুষছেন ওয়েড

হারের জন্য শেষ চার ওভারকে দুষছেন ওয়েড

ম্যাচ শেষে ম্যাথিউ ওয়েডের প্রতিক্রিয়া। ছবি: বিসিবি

শেষ চার ওভারে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১৮ রান। এ কারণে বাংলাদেশ ম্যাচ বের করে নিয়েছে বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাথিউ ওয়েড।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। শুরুটা দুর্দান্ত করেও শেষ দিকে টাইগার বোলারদের বোলিং তোপে ১২১ রানেই আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে জাস্টিন ল্যাঙ্গারের শিষ্যদের।

শেষ চার ওভারে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১৮ রান। এ কারণে বাংলাদেশ ম্যাচ বের করে নিয়েছে বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাথিউ ওয়েড।

ম্যাচ শেষে আক্ষেপ প্রকাশ করে এমনটাই মন্তব্য করেছেন ওয়েড। তিনি জানান, সহজেই ১৩০-১৪০ করা যেত, কিন্তু শেষ চার ওভারেই হয়েছে সর্বনাশ।

ওয়েড বলেন, ‘আমরা আজকে অনেক ভালো অবস্থানে ছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত শেষ চার ওভারে আমরা ধুঁকেছি। আমরা সহজেই ১৩০-১৪০ রান করার অবস্থানে ছিলাম। তাদের পেইসাররা বেশ ভালো করেছে।

‘দুই দলের বোলাররাই ভালো করেছে। আমরা বেশ খুশি তারা (বাংলাদেশ) যেভাবে আগাচ্ছে। এইগার বরাবরের মতোই দুর্দান্ত ছিল। আমাদের বোলিংয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। আগের ম্যাচে আমাদের টপ অর্ডার ব্যর্থ ছিল। আর এ ম্যাচে ব্যর্থ আমাদের লোয়ার অর্ডার।’

দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের ত্রুটি সারিয়ে নিতে এক দিন সময় হাতে পাচ্ছেন ম্যাথিউ ওয়েড ও হেড কোচ ল্যাঙ্গার। কাল দুই দলের বিশ্রাম। শুক্রবার তৃতীয় ম্যাচ।

ওই ম্যাচে হারলে উইন্ডিজের পর বাংলাদেশের কাছেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের তিতকুটে স্বাদ নিয়ে দেশে ফিরতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।

আরও পড়ুন:
সৌম্য ও নাইমের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের
১৫২ রানে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ
দ্রুত উইকেট তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

শান্ত থেকে খেলার পরিকল্পনা ছিল আফিফের

শান্ত থেকে খেলার পরিকল্পনা ছিল আফিফের

৩১ বলে ৩৭ রানের দুর্দান্ত সময়োপযোগী ইনিংস উপহার দেন আফিফ। ছবি: সংগৃহীত

৯ ওভার ৩ বলের সময় দলীয় ৫৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে টাইগাররা। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিদায়ের পর তখন ক্রিজে নামেন আফিফ।

হেইজলউডের লাফিয়ে ওঠা বলটা উইকেটকিপার ওয়েডের মাথার উপর দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। কী শান্ত, কী পরিণত। যেন জানতেন এভাবেই বলটা ধেয়ে আসবে। কী দুর্দান্তভাবেই ইনিংস শেষ করে জয়ীর বেশে ২২ গজ ছাড়লেন আফিফ হোসেন।

এক কথায় অসাধারণ। আর তাতেই আট বল হাতে রেখে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে টাইগাররা।

যদিও ম্যাচের তাড়া করতে নেমে চ্যালেঞ্জটা এতো সহজ ছিল না বাংলাদেশের জন্য।

মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ১২২ রানের টার্গেটে নেমে ৯ ওভার ৩ বলের সময় দলীয় ৫৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে টাইগাররা। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিদায়ের পর তখন ক্রিজে নামেন আফিফ।

পাহাড়সম চাপ আর রাজ্যের বোঝা তখন তার কাঁধে। কিছুক্ষণের মধ্যে মাহেদীও পথ ধরেন সাঁজঘরে। বিপদ তখন আরও প্রকট। ক্রিজে ব্যাট হাতে নামেন নুরুল হাসান সোহান।

তাকে সঙ্গে নিয়ে বলা যায় পাহাড় ঠেলে জয়ের বন্দরে বাংলাদেশকে নিয়ে যান ২১ বছরের তরুণ আফিফ।

ক্রিজে নেমেই মনে মনে কঠোর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ম্যাচটা জয় নিয়ে ২২ গজ ত্যাগ করবেন। ম্যাচের পরে চাপ সামলে কীভাবে জয়ের নোঙরে পৌঁছাবেন সেটা আগেই মনোস্থির করে রেখেছিলেন এই বাঁহাতি ড্যাশিং ব্যাটসম্যান।

ম্যাচ শেষে আফিফ সেই কথাই বলেন, ‘ইনিংসের মাঝে নেমে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে এমনটাই ভাবছিলাম। আমাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নক করে যাওয়াই প্ল্যান ছিল। চাপ কমাতে নুরুলও ভালো খেলেছে।’

৩১ বলে ৩৭ রানের দুর্দান্ত সময়োপযোগী ইনিংস উপহার দেন আফিফ। এমন কম বয়সে এতো বড় চাপ সামলানো একজন টগবগে তরুণের পক্ষে কতটা কঠিন ছিল জানালেন এ ম্যাচের নায়ক।

আফিফের কথায়, ‘আপনি তরুণ কি বুড়ো এটা ব্যাপার না। শুধু দলের স্বার্থে আপনার কাজটা করে আসতে হবে।’

দেশকে জয় উপহার দিয়ে আফিফ একটা বাহবা পেতেই পারেন।

আরও পড়ুন:
সৌম্য ও নাইমের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের
১৫২ রানে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ
দ্রুত উইকেট তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

আফিফ-সোহানের প্রশংসায় রিয়াদ

আফিফ-সোহানের প্রশংসায় রিয়াদ

ম্যাচ শেষ করে ফিরছেন আফিফ-সোহান। ছবি: এএফপি

আফিফ-সোহানের এমন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বেশ খুশি দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যার প্রমাণ মিলল ম্যাচ শেষে তার কথাতেই।

৬৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পরাজয় যখন বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছে, সে সময়ই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে।

উইকেট কামড়ে রেখে দলকে উপহার দেন ৫ উইকেটের বড় জয়। আর তাতেই অস্ট্রেলিয়ার দেখা হয়ে গেল বাংলাদেশের তারুণ্যের শক্তিমত্তা।

আফিফ-সোহানের এমন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বেশ খুশি দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যার প্রমাণ মিলল ম্যাচ শেষে তার কথাতেই।

রিয়াদ বলেন, ‘আফিফ ও সোহান যেভাবে দাঁড়িয়ে গেল আর শেষ করে এলো, তাতে বোঝা গেছে কতটা পরিণত তারা। আমাদের বোলাররাও অনেক ভালো বল করে ওদের ১২০-এ আটকে দিয়েছে। দ্রুত উইকেট পতনের কারণে ড্রেসিংরুমে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু আফিফ ও সোহানের ব্যাটিংয়ে সেটি মিটে গেছে।‘

একই সঙ্গে জয়ের কৃতিত্বে বোলারদেরও শামিল করছেন টাইগার দলপতি।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি মুস্তাফিজ দলের এমন অবস্থায় বেশ কার্যকরী। শরীফুলও বল ভালো করেছে এবং সব বোলাররাই মিতব্যয়ী ছিল। আমরা এটা সব খেলাতেই ধরে রাখতে সক্ষম হব আশা করি।’

এক দিন বিশ্রামের পর শুক্রবার সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

আরও পড়ুন:
সৌম্য ও নাইমের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের
১৫২ রানে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ
দ্রুত উইকেট তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের তারুণ্যে ফের নাস্তানাবুদ অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশের তারুণ্যে ফের নাস্তানাবুদ অস্ট্রেলিয়া

চাপে পড়া বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে পৌঁছে দুই তরুণ সোহান ও আফিফের ব্যাটে। ছবি: সংগৃহীত

সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ২-০তে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে টাইগার বাহিনী।

সিরিজের আগে ভাবাও যায়নি এমনটা। কখনও যাদের বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি টাইগাররা, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ছাড়া সেই অস্ট্রেলিয়াকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নাস্তানাবুদ করল বাংলাদেশ।

হিসাবি বোলিংয়ে ম্যাচের প্রথম ভাগেই অর্ধেক কাজটা সেরে রেখেছিলেন মুস্তাফিজ, শরিফুল, সাকিব, মেহেদী হাসানরা। আগের ম্যাচের বিস্ময় বালক নাসুম আহমেদ আজ আলো ছড়াতে না পারলেও সফরকারীদের আটকে রাখা গেছে ১২১ রানেই।

জবাবে শুরুতেই ব্যক্তিগত শূন্য ও দলীয় ৯ রানে সৌম্য এবং দলীয় ২১ রানে নাঈমের বিদায় চাপে পরিণত হতে দেননি সাকিব আল হাসান।

টানা তিন চার মেরে বড় কিছুর ইঙ্গিত দেয়া বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার যখন ক্রিজে ছিলেন, তখন ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার দশা সফরকারীদের।

৫৮ রানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মুখের বিদায়ের পর ছোটখাটো একটি ঝড় বয়ে যায়। রানের চাকা চালু না করেই ফিরে আসেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। আর যার ওপর ভরসা ছিল, সেই মেহেদী হাসানও ফিরে আসেন ২৩ রান করে।

তখন দলীয় রান ৬৭। আরও দরকার ৫৫ রান। উইকেটে অনভিজ্ঞরা। কিন্তু নুরুল হাসান সোহান আর আফিফ হোসেন অবলীলায় জিতে গেলেন এই চ্যালেঞ্জে। বাংলাদেশের তরুণদের শক্তি দেখল অস্ট্রেলিয়া।

৩৭ রানে আফিফ ও ২২ রানে সোহান অপরাজিত থেকে ৫ উইকেটের এক দুর্দান্ত জয় উপহার দেন বাংলাদেশকে।

সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ২-০তে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে টাইগার বাহিনী।

প্রথম ম্যাচে সফরকারীরা হেরেছিল পরে ব্যাট করে। বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর পর ১৩১ রান তুলতে পারে স্বাগতিকরা। ব্যাটসম্যানরা রীতিমতো হাঁসফাঁস করতে থাকে।

আপাত সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা মুখ থুবড়ে পড়ে ১০৮ রানে।

সেই স্মৃতি আর ফিরিয়ে আনতে চাননি বলে অজি অধিনায়ক ম্যাথিউ ওয়েড এবার টস জিতে নিলেন ব্যাট। কিন্তু সুবিধা করতে পারেনি ওপেনাররা।

তৃতীয় ওভারে দলীয় ১৩ রানেই সফরকারীদের শিবিরে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান। সাজঘরে ফেরান ওপেনার অ্যালেক্স ক্যারিকে।

এরপর অজি শিবিরে দ্বিতীয় আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। ওপেনার জশ ফিলিপেকে থামিয়ে দেন মাত্র ১০ রানেই।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস মেরামতের গুরুভার কাঁধে তুলে নেন মিচেল মার্শ। সঙ্গে নেন মোয়েজেস এনরিকেসকে। দুইজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া।

তাতে বাধা দেন সাকিব আল হাসান। দলীয় ৮৮ রানে ব্যক্তিগত ৩০ রানে এনরিকেসকে ফিরিয়ে আনেন ব্রেক থ্রু। এরপর নামে ধস।

উইকেট কামড়ে ধরে বসেছিলেন মার্শ। এগিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশতকের দিকে। কিন্তু তার সেই স্বপ্নভঙ্গ হয় শরিফুলের কারণে। ব্যক্তিগত ৪৫ ও দলীয় ৯৯ রানে বাংলাদেশের তরুণ এই পেইসারের প্রথম শিকার বনে উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মার্শ।

পরে টাইগার বোলারদের তোপের সামনে দাঁড়াতে পারেননি কোনো অজিই। শেষতক ৭ উইকেট খরচায় ১২১ রানে থামে সফরকারীদের চাকা।

শুরুতে চাপ, পরে তা উড়িয়ে দিয়ে ছুটে চলার মধ্যে হঠাৎ ছন্দপতন। এরপর দুই তরুণের ডরভয়হীন ক্রিকেটে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো যে কোনো ফরম্যাটে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে আন্ডারডগ বানিয়ে দিল বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
সৌম্য ও নাইমের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের
১৫২ রানে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ
দ্রুত উইকেট তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন