শাদমানের পর শান্তর ঝড়ো সেঞ্চুরি

শাদমানের পর শান্তর ঝড়ো সেঞ্চুরি

নাজমুল হোসেন শান্ত। ফাইল ছবি

শাদমানের মতো সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন শান্তও। তবে শাদমান যেখানে খেলেছেন রয়েসয়ে সেখানে শান্ত ছিলেন আক্রমণাত্মক। ১০৯ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া এই ব্যাটসম্যান।

চতুর্থ দিন সকালে যখন নাজমুল হোসেন শান্ত নামেন তখন অন্য প্রান্তে তার সঙ্গী শাদমান ইসলামের রান ৪৫।

দুই জনে মিলে ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে নিয়ে গেলেন ম্যাচ জয়ের জায়গায়। দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটে সফরকারী দলের লিড ছাড়াল ৪৫০।

আর শাদমানের মতো সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন শান্তও। তবে শাদমান যেখানে খেলেছেন রয়েসয়ে সেখানে শান্ত ছিলেন আক্রমণাত্মক।

৬০ বলে দ্বিতীয় টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এরপর বাকি ৫০ রান করতে খেলেন ৫৯ বল।

সবমিলিয়ে ১০৯ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া এই ব্যাটসম্যান।

তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কার মার। এর মধ্যে র কাইয়ার করা ৬৫তম ওভার থেকে তুলে নেন ১৪ রান।

৮৫ রান নিয়ে ওভার শুরু করে পৌছান ৯৯ রানে। পরের ওভারে মিল্টন শুম্বার বল লেগে ঠেলে দিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসেন শান্ত।

শান্ত-শাদমান মিলে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেছেন ১৮৯ রান। বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ৪৭০-এ।

বিনা উইকেটে ৪৫ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম ঘণ্টা সাইফ হাসানের সঙ্গে নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন ২২ রানে অপরাজিত থাকা শাদমান। ৮৮ রানের জুটি গড়ার পর বিচ্ছিন্ন হন দুই জন।

রিয়ার্ড এনগারাভার বলে গালিতে ক্যাচ দেন সাইফ। ৪৩ রান করে ফেরেন তিনি।

ওপেনিং জুটি ভাঙার পর ওয়ান ডাউনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি বাঁধেন শাদমান। প্রথম সেশনের বাকি সময়ে দলকে নিরাপদে রাখেন এই দুই জন।

লাঞ্চের আগেই শাদমান তুলে নেন তার তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। মধ্যাহ্ন বিরতিতে তিনি অপরাজিত ছিলেন ৭২ রানে।

এর আগে, জিম্বাবুয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৬ রানে অলআউট হয়। মাহমুদুল্লাহর ১৫০ ও তিন ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪৬৮।

আরও পড়ুন:
শাদমানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি
হারারে টেস্টে জয়ের ভিত গড়ছে বাংলাদেশ
মাহমুদুল্লাহর অবসরের গুঞ্জনে অসন্তুষ্ট বিসিবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নাসুমের নিষেধাজ্ঞা থাকছে না

নাসুমের নিষেধাজ্ঞা থাকছে না

ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে মঞ্চে নাসুম আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

২০২১ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার পর নাসুম এখন জাতীয় তারকা। সুনামগঞ্জ জেলাও চাইছে তাদের সেরা খেলোয়াড়ের সার্ভিস ফিরে পেতে। দ্রুতই তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে জানিয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নাসুম আহমেদের স্পিনে ঘায়েল হন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা। ক্যারিয়ার সেরা দুর্দান্ত বোলিংয়ে এই-বাঁহাতি স্পিনার পান ম্যাচ সেরা পুরস্কার।

অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়ের নায়কের অতীতে রয়েছে বড় একটি শাস্তির কালিমা। সেটি হল নিজ জেলায় ক্রিকেট খেলার ওপর আজীবন নিষেধাজ্ঞা। নিজ জেলা সুনামগঞ্জের হয়ে না খেলে, সিলেট জেলা দলের হয়ে খেলার শাস্তি হিসেবে ২০১৫ সালে তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। গেল ছয় বছর শিরোনামের আড়ালে ছিল বিষয়টি।

এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলা ক্রিকেট সংস্থার ক্রিকেট কমিটি জেলা পর্যায়ে জাতীয় লিগ শুরু হলে তাকে জেলা দলে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেশি সুযোগ সুবিধা পাওয়ায় সুনামগঞ্জের হয়ে না খেলে সিলেট জেলার হয়ে খেলা শুরু করে। এ কারণে তাকে ওই কমিটি তাকে আজীবন বহিষ্কার করে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর রীতিমতো নায়ক বনে গেছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগছে এখন কি কাটতে যাচ্ছে তার নিষেধাজ্ঞা? ফিরতে কি পারবেন তিনি চিরচেনা ঘরের মাঠে?সুনামগঞ্জ জেলাও চাইছে তাদের সেরা খেলোয়াড়ের সার্ভিস ফিরে পেতে। দ্রুতই তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে জানালেন ইমদাদ রেজা।

তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে আবারও ক্রিকেট খেলতে যখন সুনামগঞ্জে আসে তখন এই কারণে তাকে খেলতে দেওয়া হয়নি। তবে আগামী সভায় আমরা আলোচনা করে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেব। তাকে আবারও সুনামগঞ্জে মাঠে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হবে।’

সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা যদি সত্যিই তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তাহলে হয়তো জেলা পর্যায়ের ক্রিকেটে আবার নাসুমকে নিজ জেলার হয়ে বল হাতে দেখা যাবে খুব দ্রুত।

আরও পড়ুন:
শাদমানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি
হারারে টেস্টে জয়ের ভিত গড়ছে বাংলাদেশ
মাহমুদুল্লাহর অবসরের গুঞ্জনে অসন্তুষ্ট বিসিবি

শেয়ার করুন

১৮ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড

১৮ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড

ফাইল ছবি

সব কিছু ঠিক থাকলে ১১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে পা রাখবে উইলিয়ামসনরা। এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি তারা চলে যাবে হোটেলে। সেখানে ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর কোয়ারেন্টিনে থাকার পর ১৫ এবং ১৬ তারিখে অনুশীলনের সুযোগ পাবে সফরকারী দল।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি খেলতে পাকিস্তান যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

ওয়ানডে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে রাওয়ালপিণ্ডিতে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজটি লাহোরে।

সূচী অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে রাওয়ালপিন্ডির পিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। এরপর ১৯ এবং ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ।

এরপর লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ২৬, ২৯ সেপ্টেম্বর, ১ এবং ৩ অক্টোবর মাঠে গড়াবে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো।

সব কিছু ঠিক থাকলে ১১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে পা রাখবে উইলিয়ামসনরা। এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি তারা চলে যাবে হোটেলে। সেখানে ১২-১৪ সেপ্টেম্বর কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর ১৫ এবং ১৬ তারিখে অনুশীলনের সুযোগ পাবে সফরকারী দল।

এর আগে ২০০৩ সালে সর্বশেষ পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল ব্ল্যাক ক্যাপস। এরপর গত ১৮ বছরে আর পাকিস্তানে খেলতে যায়নি নিউজিল্যান্ড।

আরও পড়ুন:
শাদমানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি
হারারে টেস্টে জয়ের ভিত গড়ছে বাংলাদেশ
মাহমুদুল্লাহর অবসরের গুঞ্জনে অসন্তুষ্ট বিসিবি

শেয়ার করুন

ভারতের পেইসে নাকাল রুট-বাটলাররা

ভারতের পেইসে নাকাল রুট-বাটলাররা

উইকেট শিকারের পর ভারতীয় দলের উল্লাস। ছবি: এএফপি

সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৮৩ রানে গুটিয়ে গেছে ইংলিশরা। জবাবে প্রথম দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২৩ রান।

ঘরের মাঠে ভারতের পেইস বিষে নাজেহাল ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৮৩ রানে গুটিয়ে গেছে ইংলিশরা। জবাবে প্রথম দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২৩ রান।

ট্রেন্ট ব্রিজে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্ভাগ্য ছিল স্বাগতিকদের কপালে। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার ররি বার্নস। জাসপ্রিত বুমরাহর বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

সেই ধাক্কা সামাল দিতে ইনিংস মেরামতের দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেন ডম শেলবি ও জ্যাক ক্রলি। ২২ ওভার এই দুইজন গড়েন ৪২ রানের জুটি।

জুটি ভাঙ্গেন মোহাম্মদ সিরাজ। ২৭ রান করা ক্রলিকে রিশাভ পান্টের তালুবন্দী করে ফেরান এই পেইসার।

লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরেই শেলবিকে হারায় স্বাগতিকরা। মোহাম্মদ শামির বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে লোকেশ রাহুলের হাতে বন্দী হন তিনি। আর তাতেই ৬৬ রানে তিন উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে এগিয়ে আসেন অধিনায়ক জো রুট। জনি বেয়ারস্টোকে নিয়ে গরে তোলেন প্রতিরোধ। কিন্তু সেটি বেশিক্ষণ সম্ভব হয়নি শামির কারণে।

রুট-বেয়ারস্টোর ৭২ রানের জুটি শামি ভাঙ্গেন ২৯ রান করা বেয়ারস্টোকে ফিরিয়ে। কিন্তু উইকেট আগলে রাখেন রুট। অপরপ্রান্তে তখন চলছে আশা যাওয়ার মিছিল।

১৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড স্কোরশিটে ৭ রান যোগ করতে গিয়ে হারিয়ে বসে আরও দুটি উইকেট। রানের খাতা খোলার আগেই ড্রেসিংরুমে ফিরে যান ড্যান লরেন্স, জস বাটলার।

সতীর্থরা দ্রুত ফিরলেও একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন রুট। তাকেও থামতে হয় ৬৭ রানে শার্দুল ঠাকুরের শিকার হয়ে।

এরপর স্যাম কারান বাদে আর কোনো ইংলিশ ব্যাটসম্যান ভারতের পেস তোপের সামনে টিকতে পারেননি। শেষতক ১৮৩ রানে থামে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান আসে রুটের ব্যাট থেকে। ভারতের হয়ে ৪ পেসার ভাগাভাগি করে নেন ১০ উইকেট।

আরও পড়ুন:
শাদমানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি
হারারে টেস্টে জয়ের ভিত গড়ছে বাংলাদেশ
মাহমুদুল্লাহর অবসরের গুঞ্জনে অসন্তুষ্ট বিসিবি

শেয়ার করুন

অজিদের বিপক্ষে দুই জয়ে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের

অজিদের বিপক্ষে দুই জয়ে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের

জয়ের ইতিহাস গড়ে মাঠ ছাড়ছেন টাইগাররা ছবি: এএফপি

১৯৯০ সালে প্রথমবার ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ৩১ বছরে এসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার টানা দুটি জয়ের ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

মিরপুরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেল বাংলাদেশ। আর এতেই লেখা হলো আরেকটি ইতিহাস। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে অজিদের বিপক্ষে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে জয় পেল টাইগাররা।

টেস্টে ৩টি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। সবমিলে ৬টি ম্যাচ হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র একটি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে। সেটা ২০১৭ সালে। বাকি ৫টি ম্যাচেই হারের স্বাদ নিতে হয়েছে টাইগারদের।

ওয়ানডেতে সবমিলে ২১ ম্যাচ খেলা হয়েছে দুই দলের। ১৯ ম্যাচ জিতেছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একটা ম্যাচে শুধু জিতেছে বাংলাদেশ। আর চার ওয়ানডে সিরিজে এখনও কোনো জয়ের দেখা পায়নি লাল-সবুজ দল।

আগে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দেখা হলেও, ২০২১ সালে এসে প্রথমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্ট সিরিজ খেলছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমবার ২টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্বাগতিক দল। এর আগে চারবারের দেখায় বাংলাদেশকে হারের স্বাদ দিয়েছে অজিরা।

১৯৯০ সালে প্রথমবার ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ৩১ বছরে এসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার টানা দুটি জয়ের ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

দুই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। হাতে এখনও তিন ম্যাচ বাকি। সুযোগ রয়েছে সিরিজ বগলদাবা করার।

এক দিন বিশ্রামের পর শুক্রবার সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

আরও পড়ুন:
শাদমানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি
হারারে টেস্টে জয়ের ভিত গড়ছে বাংলাদেশ
মাহমুদুল্লাহর অবসরের গুঞ্জনে অসন্তুষ্ট বিসিবি

শেয়ার করুন

হারের জন্য শেষ চার ওভারকে দুষছেন ওয়েড

হারের জন্য শেষ চার ওভারকে দুষছেন ওয়েড

ম্যাচ শেষে ম্যাথিউ ওয়েডের প্রতিক্রিয়া। ছবি: বিসিবি

শেষ চার ওভারে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১৮ রান। এ কারণে বাংলাদেশ ম্যাচ বের করে নিয়েছে বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাথিউ ওয়েড।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। শুরুটা দুর্দান্ত করেও শেষ দিকে টাইগার বোলারদের বোলিং তোপে ১২১ রানেই আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে জাস্টিন ল্যাঙ্গারের শিষ্যদের।

শেষ চার ওভারে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১৮ রান। এ কারণে বাংলাদেশ ম্যাচ বের করে নিয়েছে বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাথিউ ওয়েড।

ম্যাচ শেষে আক্ষেপ প্রকাশ করে এমনটাই মন্তব্য করেছেন ওয়েড। তিনি জানান, সহজেই ১৩০-১৪০ করা যেত, কিন্তু শেষ চার ওভারেই হয়েছে সর্বনাশ।

ওয়েড বলেন, ‘আমরা আজকে অনেক ভালো অবস্থানে ছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত শেষ চার ওভারে আমরা ধুঁকেছি। আমরা সহজেই ১৩০-১৪০ রান করার অবস্থানে ছিলাম। তাদের পেইসাররা বেশ ভালো করেছে।

‘দুই দলের বোলাররাই ভালো করেছে। আমরা বেশ খুশি তারা (বাংলাদেশ) যেভাবে আগাচ্ছে। এইগার বরাবরের মতোই দুর্দান্ত ছিল। আমাদের বোলিংয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। আগের ম্যাচে আমাদের টপ অর্ডার ব্যর্থ ছিল। আর এ ম্যাচে ব্যর্থ আমাদের লোয়ার অর্ডার।’

দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের ত্রুটি সারিয়ে নিতে এক দিন সময় হাতে পাচ্ছেন ম্যাথিউ ওয়েড ও হেড কোচ ল্যাঙ্গার। কাল দুই দলের বিশ্রাম। শুক্রবার তৃতীয় ম্যাচ।

ওই ম্যাচে হারলে উইন্ডিজের পর বাংলাদেশের কাছেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের তিতকুটে স্বাদ নিয়ে দেশে ফিরতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।

আরও পড়ুন:
শাদমানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি
হারারে টেস্টে জয়ের ভিত গড়ছে বাংলাদেশ
মাহমুদুল্লাহর অবসরের গুঞ্জনে অসন্তুষ্ট বিসিবি

শেয়ার করুন

শান্ত থেকে খেলার পরিকল্পনা ছিল আফিফের

শান্ত থেকে খেলার পরিকল্পনা ছিল আফিফের

৩১ বলে ৩৭ রানের দুর্দান্ত সময়োপযোগী ইনিংস উপহার দেন আফিফ। ছবি: সংগৃহীত

৯ ওভার ৩ বলের সময় দলীয় ৫৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে টাইগাররা। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিদায়ের পর তখন ক্রিজে নামেন আফিফ।

হেইজলউডের লাফিয়ে ওঠা বলটা উইকেটকিপার ওয়েডের মাথার উপর দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। কী শান্ত, কী পরিণত। যেন জানতেন এভাবেই বলটা ধেয়ে আসবে। কী দুর্দান্তভাবেই ইনিংস শেষ করে জয়ীর বেশে ২২ গজ ছাড়লেন আফিফ হোসেন।

এক কথায় অসাধারণ। আর তাতেই আট বল হাতে রেখে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে টাইগাররা।

যদিও ম্যাচের তাড়া করতে নেমে চ্যালেঞ্জটা এতো সহজ ছিল না বাংলাদেশের জন্য।

মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ১২২ রানের টার্গেটে নেমে ৯ ওভার ৩ বলের সময় দলীয় ৫৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে টাইগাররা। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিদায়ের পর তখন ক্রিজে নামেন আফিফ।

পাহাড়সম চাপ আর রাজ্যের বোঝা তখন তার কাঁধে। কিছুক্ষণের মধ্যে মাহেদীও পথ ধরেন সাঁজঘরে। বিপদ তখন আরও প্রকট। ক্রিজে ব্যাট হাতে নামেন নুরুল হাসান সোহান।

তাকে সঙ্গে নিয়ে বলা যায় পাহাড় ঠেলে জয়ের বন্দরে বাংলাদেশকে নিয়ে যান ২১ বছরের তরুণ আফিফ।

ক্রিজে নেমেই মনে মনে কঠোর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ম্যাচটা জয় নিয়ে ২২ গজ ত্যাগ করবেন। ম্যাচের পরে চাপ সামলে কীভাবে জয়ের নোঙরে পৌঁছাবেন সেটা আগেই মনোস্থির করে রেখেছিলেন এই বাঁহাতি ড্যাশিং ব্যাটসম্যান।

ম্যাচ শেষে আফিফ সেই কথাই বলেন, ‘ইনিংসের মাঝে নেমে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে এমনটাই ভাবছিলাম। আমাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নক করে যাওয়াই প্ল্যান ছিল। চাপ কমাতে নুরুলও ভালো খেলেছে।’

৩১ বলে ৩৭ রানের দুর্দান্ত সময়োপযোগী ইনিংস উপহার দেন আফিফ। এমন কম বয়সে এতো বড় চাপ সামলানো একজন টগবগে তরুণের পক্ষে কতটা কঠিন ছিল জানালেন এ ম্যাচের নায়ক।

আফিফের কথায়, ‘আপনি তরুণ কি বুড়ো এটা ব্যাপার না। শুধু দলের স্বার্থে আপনার কাজটা করে আসতে হবে।’

দেশকে জয় উপহার দিয়ে আফিফ একটা বাহবা পেতেই পারেন।

আরও পড়ুন:
শাদমানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি
হারারে টেস্টে জয়ের ভিত গড়ছে বাংলাদেশ
মাহমুদুল্লাহর অবসরের গুঞ্জনে অসন্তুষ্ট বিসিবি

শেয়ার করুন

আফিফ-সোহানের প্রশংসায় রিয়াদ

আফিফ-সোহানের প্রশংসায় রিয়াদ

ম্যাচ শেষ করে ফিরছেন আফিফ-সোহান। ছবি: এএফপি

আফিফ-সোহানের এমন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বেশ খুশি দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যার প্রমাণ মিলল ম্যাচ শেষে তার কথাতেই।

৬৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পরাজয় যখন বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছে, সে সময়ই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে।

উইকেট কামড়ে রেখে দলকে উপহার দেন ৫ উইকেটের বড় জয়। আর তাতেই অস্ট্রেলিয়ার দেখা হয়ে গেল বাংলাদেশের তারুণ্যের শক্তিমত্তা।

আফিফ-সোহানের এমন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বেশ খুশি দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যার প্রমাণ মিলল ম্যাচ শেষে তার কথাতেই।

রিয়াদ বলেন, ‘আফিফ ও সোহান যেভাবে দাঁড়িয়ে গেল আর শেষ করে এলো, তাতে বোঝা গেছে কতটা পরিণত তারা। আমাদের বোলাররাও অনেক ভালো বল করে ওদের ১২০-এ আটকে দিয়েছে। দ্রুত উইকেট পতনের কারণে ড্রেসিংরুমে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু আফিফ ও সোহানের ব্যাটিংয়ে সেটি মিটে গেছে।‘

একই সঙ্গে জয়ের কৃতিত্বে বোলারদেরও শামিল করছেন টাইগার দলপতি।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি মুস্তাফিজ দলের এমন অবস্থায় বেশ কার্যকরী। শরীফুলও বল ভালো করেছে এবং সব বোলাররাই মিতব্যয়ী ছিল। আমরা এটা সব খেলাতেই ধরে রাখতে সক্ষম হব আশা করি।’

এক দিন বিশ্রামের পর শুক্রবার সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

আরও পড়ুন:
শাদমানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি
হারারে টেস্টে জয়ের ভিত গড়ছে বাংলাদেশ
মাহমুদুল্লাহর অবসরের গুঞ্জনে অসন্তুষ্ট বিসিবি

শেয়ার করুন