ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে মেজাজ হারিয়ে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন সাকিব আল হাসান। আউটের আবেদনে সাড়া না দেয়াতেই মূলত মেজাজ হারিয়ে স্টাম্পে লাথি মারেন তিনি। শুক্রবারের এই ঘটনার পর তর্ক-বিতর্কের ঝড় চলছে ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
প্রসঙ্গক্রমে আসছে ম্যাচ পাতানো ও বাজে আম্পারিংয়ের ধারাবাহিকতার কথাও। ঘরোয়া ক্রিকেটে বাজে আম্পারিংয়ের নজির কম নয়। পাতানো খেলার অভিযোগও এসেছে বেশ কয়েকবার।
এবারের ডিপিএলের সাত ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে একটিও এলবিডাব্লিউর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়াররা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের বারবার অনুরোধের পরও ঘরোয়া ক্রিকেটে ডিআরএস প্রযুক্তি ব্যবহার করছে না আয়োজক ক্রিকেট কমিটি অফ ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী জানালেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানো নতুন কোনো বিষয় নয়।
নিউজবাংলাকে এই ক্রিকেট সংগঠক বলেন, ‘পাতানো খেলার বিষয়টি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেলায় বাজে আম্পায়ারিং নিয়মিত হয়। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি। যারা খেলা পরিচালনা করেন তাদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে। আম্পায়ারকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আমরা আইসিসির অন্যতম সদস্য। ক্রিকেট বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
সাকিবের আচরণকে অবশ্য সমর্থন জানাননি সাবের।
সাকিবের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সাকিব মাঠে যা করেছে সেটা শোভন নয়। এটা খেলার নিয়মের পরিপন্থি। আমি এর প্রতিবাদ জানাই। ঘরোয়া ক্রিকেটের মান ধরে রাখতে না পারলে আইসিসিতে সম্মান থাকবে না।’
তার কথার প্রতিফলন পাওয়া গেল জাতীয় দলের সাবেক তারকা পেইসার হাসিবুল হোসেন শান্তর কথাতেও।
বর্তমানে বিসিবির কোচিংয়ে দায়িত্বে থাকা শান্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চারদিনের নিষেধাজ্ঞা ঠিকই আছে। আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিরা আইন অনুযায়ী দিয়েছেন। খেলার স্বার্থে শাস্তিটা দরকার ছিল।
‘ইচ্ছা করে তো আর কেউ এমনটা করবে না। খেলার মধ্যে হয়ে যায়। আগের ম্যাচে মোহামেডান হারায় তারা ব্যকফুটে ছিল। তারপর ওর বলে আউট না দেয়ায় হয়তো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সাকিব এমনিতেই আমার মনে হয়, একটু বদমেজাজী। কিন্তু বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়ে আসলে এমনটা করা ঠিক হয়নি।’
নিজের ক্যারিয়ারে মোহামেডানের অন্যতম সেরা তারকা ছিলেন শান্ত। খেলেছেন বহু হাই-ভোল্টেজ আবাহনী-মোহামেডান ডার্বি ম্যাচ। তার দৃষ্টিতেও সাকিব শুক্রবার যা করেছেন তা কিছুটা বাড়াবাড়ি।
শান্ত বলেন, ‘আমাদের সময়ে এতটা ওপেন হতো না। গ্যালারিতে দর্শকদের মারামারি হতো। অফশিয়ালদের মধ্যেও রেষারেষি চলত। কিন্তু মাঠে এতোটা উন্মুক্তভাবে কখনও হয়নি। আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে হয়তো মাঠের এক সাইডে এসে নিজেদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করতাম। কিন্তু আম্পায়ারকে সরাসরি চার্জ করার ঘটনা এতটা ঘটত না।’
সাকিব তিন ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ায় রাউন্ড রবিনের শেষ ম্যাচে খেলতে পারছেন তিনি। মোহামেডান যদি তাকে ছাড়াই তিন ম্যাচ জিতে সুপার লিগে কোয়ালিফাই করে সেক্ষেত্রে সাকিবের সুপার লিগে খেলাও হবে। ১১ রাউন্ড পর নির্ধারিত হবে সুপার লিগের সেরা ছয় দল।
ছবি: দৈনিক বাংলা
নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক সুস্থতা রক্ষায় সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক মানসিক সহায়তা সম্পর্কে ধারণা দিতে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Women's Mental Health: Awareness, Empathy and Practical Actions’ শীর্ষক দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মশালা।
গত বুধবার (২২ জুলাই) শহরের বেলপিয়াতো চাইনিজ রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে ফাউন্ডেশন ফর উইমেন পসিবিলিটিজের সহযোগিতায় SPACE Project-এর আওতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে নন্দিতা সুরক্ষা।
কর্মশালায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী নারী, তরুণ-তরুণী, যুব অ্যাক্টিভিস্ট, স্বেচ্ছাসেবক, নারী অধিকারকর্মী, সামাজিক উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ মোট ২৫ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট ব্লাস্টের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সুস্থতাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট মাহাপারা আলম । তিনি নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বর্তমান বাস্তবতা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বার্নআউট ও বিষণ্ণতার কারণ, প্রাথমিক লক্ষণ এবং এসব পরিস্থিতিতে সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ ও প্রাথমিক মানসিক সহায়তার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কর্মশালাটি অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এতে বিশেষজ্ঞের উপস্থাপনা, দলীয় আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং ব্যক্তিগত অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে বাস্তবধর্মী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি তরুণ ও অ্যাক্টিভিস্টদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও কমিউনিটিতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, ইতিবাচক বার্তা প্রচার এবং সহায়তামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত বলেন, ‘নারীর মানসিক স্বাস্থ্য একটি মৌলিক অধিকার। সুস্থ সমাজ গঠনে নারীর মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নন্দিতা সুরক্ষা ভবিষ্যতেও নারী ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’
কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেনিফিসিয়ারিজ ফ্রেন্ডশিপ ফোরাম বিএফএফের নির্বাহী পরিচালক আনম ফজলুল হাদী সাব্বির। তিনি বলেন, ‘নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত না হলে ব্যক্তি, পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়।’
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সেচপাম্পের পানি তোলার যন্ত্র (মটর) চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে সেচপাম্পের মটর চুরি হচ্ছে। এ ছাড়া একই ইউনিয়নের ঢোলভিটি কালীতলা বাজার এলাকা থেকে ১০ কেবি পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে কৃষক ও স্থানীয়রা। কষ্টে কেনা পাম্পের প্রধান অংশগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কৃষকরা। এতে একদিকে যেমন বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি আসন্ন বোরো আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এলাকায় চুরি বন্ধে নিয়মিত টহল জোরদার করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনাও করেছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, রামপুর ও মহিষাকান্দি গ্রামের শষ্যক্ষেতে থাকা কৃষকদের সেচপাম্পগুলো রাতের আঁধারে চুরি হচ্ছে। সেচপাম্পের পাশাপাশি একই ইউনিয়নের ঢোলভিটি কালীতলা বাজারের পাশে স্থাপিত ১০ কেবিএ পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারটি চুরি করে নিয়ে যায়। এ ছাড়ার উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ২টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় একাধিক সেচপাম্প বন্ধ রয়েছে এ ছাড়া ওসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে প্রতিনিয়ত মোটর চুরি হওয়ার কারণে চাষাবাদ বন্ধ করারও ঘোষণা দেন কৃষকরা। এদিকে একই ইউনিয়নে বসতঘরের জানালার গ্রিল কেটে মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রা।
রামপুর গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক ফরিদ মিয়া বলেন, ‘গত কয়েকদিনে আমার সেচপাম্পের ঘর থেকে দুবার দুটি মোটর চুরি হয়েছে। দুটা মোটর কিনেছি প্রায় ৬০ হাজার টাকা। একবার চুরি হওয়ার পর আবার নতুন মোটর কিনে লাগানোর ৩ দিন পরই চুরি হয়ে যায়। এভাবে মোটর চুরি হতে থাকলে আমি চাষাবাদ বন্ধ করে দেব।’
গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আশরাফুল আরেফিন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল, সেদিন আবার ফুটবল খেলাও ছিল। রাতে খেলা দেখে বাড়ি আসার সময় সেচ ঘরে মোটর দেখে এসে ঘুমিয়েছি। সকালে উঠে সেচপাম্পে মোটর চালাতে গিয়ে দেখি মোটর নাই। এভাবে চুরি হলে কৃষির আবাদে অনিহা বাড়বে।’
মহিষাকান্দি গ্রামের মানিক আহাম্মেদ বলেন, ‘আমার বাড়িতে সেদিন লোকজন না থাকার কারণে বৃষ্টির মধ্যে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে থাকা মোটর চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সকালে এসে জানালার গ্রিল কাটা দেখে ঘরে ঢুকে দেখি মোটর নেই।’
সরিষাবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘গত কয়েকদিনে ডোয়াইল ইউনিয়নের ঢোলভিটি কালিতলা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানের থাকা ৩টি ট্রান্সফার্মার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। চুরি হওয়া কিছু কিছু এলাকায় ট্রান্সফরমার না থাকায় সংযোগ বন্ধ রাখতে হয়েছে।’
সরিষাবাড়ী থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘চুরি রোধ করতে নিয়মিত আমাদের পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এ ছাড়া কিছু চোরকে ইতোমধ্যে আটকও করা হয়েছে।’
ছবি: সংগৃহীত
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ মার্কেটটি ছয় বছরেও চালু করা যায়নি। দোকান বরাদ্দ না হওয়ায়, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে অত্যাধুনিক সুবিধা সংবলিত এই মার্কেট। ফলে এর অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। আর প্রতি বছর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
জানা গেছে, দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই উপজেলার ময়দানদিঘী বাজারে একটি অত্যাধুনিক দ্বিতল মার্কেটের ভবন নির্মাণকাজ আরম্ভ হয়। ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্মাণকাজ করে। ২০২০ সালে ভবনটির কাজ সম্পন্ন হয়। এর দেড় বছর পর ২০২২ সালে মার্কেট ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
আরো জানা যায়, এই ভবনটিতে ১৪টি দোকান রয়েছে। এর নিচতলায় কাঁচা বাজার, মাছ-মাংস আর দোতলায় হার্ডওয়ার, গার্মেন্টস ও কসমেটিক্স প্রভৃতি দোকান বসার কথা।
এছাড়া মার্কেটটিতে রয়েছে পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও দোকান বরাদ্দ না হওয়ায়, তা জনগণের কোনো কাজেই আসছে না।
ময়দানদিঘী বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে এই মার্কেটটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু দোকান বরাদ্দ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তা তালাবদ্ধ রয়েছে। ফলে এর সুযোগ-সুবিধা থেকে স্থানীয়রা বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় মানিক খান বলেন, দেড় কোটি টাকার এই মার্কেট ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এটি শিগগির চালু করা দরকার। এতে স্থানীয় লোকজন উপকৃত হবেন। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায় হবে।
খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন মিঠু বলেন, এ বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সবাই বসে মার্কেটের দোকান বরাদ্দের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, মার্কেটটি চালু করতে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রণয়ের সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরীর এক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত আফতাব মজুমদার এনসিপির মহানগর কমিটির সংগঠক এবং বন্দর থানা যুবশক্তির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া গত মে মাসে দলীয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্যও করা হয়েছিল।
চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস পূর্বে ফেসবুকের মাধ্যমে আফতাবের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর পরিচয় হয়, যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। ওই নারী জানান, শুরুতে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে তিনি অসম্মতি জানালেও গত ১৪ জুলাই অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বন্দর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ডেকে নেন। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হলে আফতাব গড়িমসি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এর মধ্যেই ভুক্তভোগী জানতে পারেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে থেকেই বিবাহিত।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চান্দগাঁও থানার ডিউটি অফিসার রফিকুল ইসলাম বুধবার (২২ জুলাই) গণমাধ্যমকে জানান, ‘ধর্ষণ মামলার এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের নেতা আফতাব মজুমদারকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি হাজতে আছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’ তবে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য প্রদান করেননি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নগরীর হালিশহর বিডিআর মাঠ সংলগ্ন একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে ওই নেতার ব্যক্তিগত জীবন ও একাধিক বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন প্রচলিত থাকলেও এর সপক্ষে কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ মেলেনি। এই গ্রেফতারের বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে এ সময়ে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির আধিক্য বজায় থাকবে এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ পর্যায়ে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। পরবর্তী কয়েক দিনের আবহাওয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, শনিবার ও রোববার দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির দাপট বেশি থাকলেও অন্যান্য বিভাগে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে না।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সোমবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ বিভাগে বৃষ্টির ব্যাপকতা আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং দেশের বাকি বিভাগগুলোর অনেক স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগামী পাঁচ দিনও দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন যে পরবর্তী পাঁচ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। সামগ্রিকভাবে আগামী কয়েক দিন সারাদেশে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রার হেরফের খুব একটা প্রকট হবে না।
ছবি: সংগৃহীত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে ট্রাইব্যুনাল চত্বরে উপস্থিত করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে আজ এ সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে 'প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট' জারি করা হয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আজ তাঁকে এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করবে প্রসিকিউশন।
প্রায় দীর্ঘ সাড়ে চার দশক আত্মগোপনে থাকার পর গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। এর আগে গত ২১ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন বিভাগ।
এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফেনী অঞ্চলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও আজ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়েছে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিনে প্রসিকিউশন আরও সময় প্রার্থনা করলেও মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশের অভিযোগ থাকায় আদালত তাঁকে হাজির করার নির্দেশ দেন। এর ফলে উভয় সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া আজ একই দিনে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হলো।
ছবি: সংগৃহীত
মৃত্যুর প্রায় ২৫ বছর পর রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে প্রখ্যাত লেখক ও বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফার কবর। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ব্যবস্থাপনায় শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের যে অংশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন করা হয়, সেখানে তার দেহাবশেষ স্থানান্তর করা হয়।
একুশে পদকপ্রাপ্ত আহমদ ছফা ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মারা যান। সে সময় তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সাধারণ অংশে দাফন করা হয়েছিল। তার কবর নম্বর ছিল ১০৮০। বুদ্ধিজীবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও তখন তাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের অনুমতি মেলেনি।
আহমদ ছফার ভাতিজা নূরুল আনোয়ার জানালেন, তৎকালীন প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে ছফাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সাধারণ কবরে দাফন করা হয়েছিল। সাধারণ কবর নির্দিষ্ট সময় পর ভেঙে ফেলার নিয়ম রয়েছে। এ কারণে তার স্মৃতি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে কবর স্থানান্তরের আবেদন করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পুরনো কবর থেকে আহমদ ছফার দেহাবশেষ উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে ১টার মধ্যে স্থানান্তরের কাজ শেষ হয়।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত ১১ জানুয়ারি পরিবারের পক্ষে নূরুল আনোয়ার কবরটি শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় আহমদ ছফার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তার কবরটি সাধারণ কবরস্থান থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের অনুরোধ জানানো হয়।
পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল ডিএনসিসির ১৪তম বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে কবর স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের অনুমতি পাওয়ার পর বুধবার (২২ জুলাই) দেহাবশেষ স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
মন্তব্য