ম্যাচ পাতানো, বাজে আম্পায়ারিং নিয়মিত ঘটনা: সাবের

ম্যাচ পাতানো, বাজে আম্পায়ারিং নিয়মিত ঘটনা: সাবের

বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে সাকিব আল হাসান। ফাইল ছবি

নিউজবাংলাকে এই ক্রিকেট সংগঠক বলেন, ‘পাতানো খেলার বিষয়টি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেলায় বাজে আম্পায়ারিং নিয়মিত হয়। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি। যারা খেলা পরিচালনা করেন তাদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে।’ সাকিবের আচরণকে অবশ্য সমর্থন জানাননি সাবের।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে মেজাজ হারিয়ে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন সাকিব আল হাসান। আউটের আবেদনে সাড়া না দেয়াতেই মূলত মেজাজ হারিয়ে স্টাম্পে লাথি মারেন তিনি। শুক্রবারের এই ঘটনার পর তর্ক-বিতর্কের ঝড় চলছে ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

প্রসঙ্গক্রমে আসছে ম্যাচ পাতানো ও বাজে আম্পারিংয়ের ধারাবাহিকতার কথাও। ঘরোয়া ক্রিকেটে বাজে আম্পারিংয়ের নজির কম নয়। পাতানো খেলার অভিযোগও এসেছে বেশ কয়েকবার।

এবারের ডিপিএলের সাত ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে একটিও এলবিডাব্লিউর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়াররা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের বারবার অনুরোধের পরও ঘরোয়া ক্রিকেটে ডিআরএস প্রযুক্তি ব্যবহার করছে না আয়োজক ক্রিকেট কমিটি অফ ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী জানালেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানো নতুন কোনো বিষয় নয়।

নিউজবাংলাকে এই ক্রিকেট সংগঠক বলেন, ‘পাতানো খেলার বিষয়টি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেলায় বাজে আম্পায়ারিং নিয়মিত হয়। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি। যারা খেলা পরিচালনা করেন তাদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে। আম্পায়ারকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আমরা আইসিসির অন্যতম সদস্য। ক্রিকেট বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

সাকিবের আচরণকে অবশ্য সমর্থন জানাননি সাবের।

সাকিবের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সাকিব মাঠে যা করেছে সেটা শোভন নয়। এটা খেলার নিয়মের পরিপন্থি। আমি এর প্রতিবাদ জানাই। ঘরোয়া ক্রিকেটের মান ধরে রাখতে না পারলে আইসিসিতে সম্মান থাকবে না।’

তার কথার প্রতিফলন পাওয়া গেল জাতীয় দলের সাবেক তারকা পেইসার হাসিবুল হোসেন শান্তর কথাতেও।

বর্তমানে বিসিবির কোচিংয়ে দায়িত্বে থাকা শান্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চারদিনের নিষেধাজ্ঞা ঠিকই আছে। আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিরা আইন অনুযায়ী দিয়েছেন। খেলার স্বার্থে শাস্তিটা দরকার ছিল।

‘ইচ্ছা করে তো আর কেউ এমনটা করবে না। খেলার মধ্যে হয়ে যায়। আগের ম্যাচে মোহামেডান হারায় তারা ব্যকফুটে ছিল। তারপর ওর বলে আউট না দেয়ায় হয়তো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সাকিব এমনিতেই আমার মনে হয়, একটু বদমেজাজী। কিন্তু বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়ে আসলে এমনটা করা ঠিক হয়নি।’

ম্যাচ পাতানো, বাজে আম্পায়ারিং নিয়মিত ঘটনা: সাবের


নিজের ক্যারিয়ারে মোহামেডানের অন্যতম সেরা তারকা ছিলেন শান্ত। খেলেছেন বহু হাই-ভোল্টেজ আবাহনী-মোহামেডান ডার্বি ম্যাচ। তার দৃষ্টিতেও সাকিব শুক্রবার যা করেছেন তা কিছুটা বাড়াবাড়ি।

শান্ত বলেন, ‘আমাদের সময়ে এতটা ওপেন হতো না। গ্যালারিতে দর্শকদের মারামারি হতো। অফশিয়ালদের মধ্যেও রেষারেষি চলত। কিন্তু মাঠে এতোটা উন্মুক্তভাবে কখনও হয়নি। আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে হয়তো মাঠের এক সাইডে এসে নিজেদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করতাম। কিন্তু আম্পায়ারকে সরাসরি চার্জ করার ঘটনা এতটা ঘটত না।’

সাকিব তিন ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ায় রাউন্ড রবিনের শেষ ম্যাচে খেলতে পারছেন তিনি। মোহামেডান যদি তাকে ছাড়াই তিন ম্যাচ জিতে সুপার লিগে কোয়ালিফাই করে সেক্ষেত্রে সাকিবের সুপার লিগে খেলাও হবে। ১১ রাউন্ড পর নির্ধারিত হবে সুপার লিগের সেরা ছয় দল।

আরও পড়ুন:
সাত বছরে চারবার নিষিদ্ধ সাকিব
সাকিবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে: শিশির
চার নয় তিন ম্যাচে নিষিদ্ধ সাকিব

শেয়ার করুন

মন্তব্য