চার নয় তিন ম্যাচে নিষিদ্ধ সাকিব

চার নয় তিন ম্যাচে নিষিদ্ধ সাকিব

আবাহনীর ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে আবেদনে সাড়া না পেয়ে স্টাম্পে লাথি মারছেন সাকিব। ছবি: সিসিডিএম

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে অশোভন আচরণের জন্য তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।অখেলোয়াড়োচিত আচরণের জন্য সাকিবকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিসিডিএম।

বিতর্ককে সঙ্গী করে পথচলা সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ারে লাগলো আরেকটি দাগ। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে অশোভন আচরণের জন্য তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সংবাদ মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করেছেন ক্রিকেট কমিটি অফ ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) এর প্রধান কাজী ইনাম আহমেদ।

শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অখেলোয়াড়োচিত আচরণের জন্য সাকিবকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সিসিডিএম কমিটির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে সাকিব শাস্তি মেনে নিয়েছেন বলে জানান কাজী ইনাম।

সকালে সাকিবের শাস্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। তবে তারা জানায় চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছেন তিনি। সিসিডিএম ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই শাস্তি দেয়া হয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ককে।

ডিপিএলের বাই লজের লেভেল থ্রিয়ের দুটি ধারা ভঙ্গের জন্য তিন ম্যাচ খেলতে পারবেন না তিনি। ডিপিএলের হাই ভোল্টেজ আবাহনী লিমিটেড বনাম মোহামেডানের ম্যাচে ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।



মোহামেডানের বেঁধে দেয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা আবাহনী ইনিংসের পঞ্চম ওভারে প্রথমবার মেজাজ হারান সাকিব। সাকিবের করা ওভারের শেষ বলে মুশফিককে পরাস্ত করে তার প্যাড আঘাত হানে বল। লেগ বিফোরের জন্য সাকিবের জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। আর তাতেই সাকিব লাথি মেরে ভেঙে ফেলেন বোলিং প্রান্তের স্টাম্প।

ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলের পর বৃষ্টি নামলে আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত নেন খেলা বন্ধ করার। কিন্তু তা মানতে চাননি সাকিব। আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক করতে করতে ক্ষোভ দেখিয়ে বোলিং প্রান্তের তিনটি স্টাম্প তুলে মাটিতে ছুড়ে মারেন তিনি। রাগান্বিত ভঙ্গিতে তর্কও করতে থাকেন আম্পায়ারের সঙ্গে।

চার নয় তিন ম্যাচে নিষিদ্ধ সাকিব
আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে সাকিব আল হাসান। ছবি: সিসিডিএম


এরপর সাকিব বিবাদে জড়ান আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গেও। ম্যাচ শেষে আবাহনীর ড্রেসিংরুমে যেয়ে সুজনসহ সবার কাছেই দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। সুজনও মিমাংসা করে ফেলেন ঘটনাটি।

ম্যাচশেষে নিজের ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চান সাকিব। ম্যাচের মধ্যে মেজাজ হারানোর জন্য ক্ষমা চান তিনি। তাতে কাজ হয়নি। লেভেল থ্রি পর্যায়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি পেয়েছেন সাকিব।

লিগে সাত ম্যাচে চার জয়ে নিয়ে টেবিলের চারে আছে সাকিবের মোহামেডান। সাকিব তিন ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ায় রাউন্ড রবিনের শেষ ম্যাচে খেলতে পারছেন তিনি।

তবে মোহামেডান যদি তাকে ছাড়াই তিন ম্যাচ জিতে সুপার লিগে কোয়ালিফাই করে সেক্ষেত্রে সাকিবের সুপার লিগে খেলাও হবে। ১১ রাউন্ড পর নির্ধারিত হবে সুপার লিগের সেরা ছয় দল।

আরও পড়ুন:
ক্ষমা চাইলেন সাকিব
আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক: লাথিতে স্টাম্প ভাঙলেন সাকিব
সাকিবের বাজে সময় কাটছে না

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অজিদের বিপক্ষে দুই জয়ে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের

অজিদের বিপক্ষে দুই জয়ে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের

জয়ের ইতিহাস গড়ে মাঠ ছাড়ছেন টাইগাররা ছবি: এএফপি

১৯৯০ সালে প্রথমবার ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ৩১ বছরে এসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার টানা দুটি জয়ের ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

মিরপুরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেল বাংলাদেশ। আর এতেই লেখা হলো আরেকটি ইতিহাস। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে অজিদের বিপক্ষে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে জয় পেল টাইগাররা।

টেস্টে ৩টি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। সবমিলে ৬টি ম্যাচ হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র একটি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে। সেটা ২০১৭ সালে। বাকি ৫টি ম্যাচেই হারের স্বাদ নিতে হয়েছে টাইগারদের।

ওয়ানডেতে সবমিলে ২১ ম্যাচ খেলা হয়েছে দুই দলের। ১৯ ম্যাচ জিতেছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একটা ম্যাচে শুধু জিতেছে বাংলাদেশ। আর চার ওয়ানডে সিরিজে এখনও কোনো জয়ের দেখা পায়নি লাল-সবুজ দল।

আগে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দেখা হলেও, ২০২১ সালে এসে প্রথমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্ট সিরিজ খেলছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমবার ২টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্বাগতিক দল। এর আগে চারবারের দেখায় বাংলাদেশকে হারের স্বাদ দিয়েছে অজিরা।

১৯৯০ সালে প্রথমবার ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ৩১ বছরে এসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার টানা দুটি জয়ের ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

দুই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। হাতে এখনও তিন ম্যাচ বাকি। সুযোগ রয়েছে সিরিজ বগলদাবা করার।

এক দিন বিশ্রামের পর শুক্রবার সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

আরও পড়ুন:
ক্ষমা চাইলেন সাকিব
আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক: লাথিতে স্টাম্প ভাঙলেন সাকিব
সাকিবের বাজে সময় কাটছে না

শেয়ার করুন

হারের জন্য শেষ চার ওভারকে দুষছেন ওয়েড

হারের জন্য শেষ চার ওভারকে দুষছেন ওয়েড

ম্যাচ শেষে ম্যাথিউ ওয়েডের প্রতিক্রিয়া। ছবি: বিসিবি

শেষ চার ওভারে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১৮ রান। এ কারণে বাংলাদেশ ম্যাচ বের করে নিয়েছে বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাথিউ ওয়েড।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। শুরুটা দুর্দান্ত করেও শেষ দিকে টাইগার বোলারদের বোলিং তোপে ১২১ রানেই আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে জাস্টিন ল্যাঙ্গারের শিষ্যদের।

শেষ চার ওভারে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১৮ রান। এ কারণে বাংলাদেশ ম্যাচ বের করে নিয়েছে বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাথিউ ওয়েড।

ম্যাচ শেষে আক্ষেপ প্রকাশ করে এমনটাই মন্তব্য করেছেন ওয়েড। তিনি জানান, সহজেই ১৩০-১৪০ করা যেত, কিন্তু শেষ চার ওভারেই হয়েছে সর্বনাশ।

ওয়েড বলেন, ‘আমরা আজকে অনেক ভালো অবস্থানে ছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত শেষ চার ওভারে আমরা ধুঁকেছি। আমরা সহজেই ১৩০-১৪০ রান করার অবস্থানে ছিলাম। তাদের পেইসাররা বেশ ভালো করেছে।

‘দুই দলের বোলাররাই ভালো করেছে। আমরা বেশ খুশি তারা (বাংলাদেশ) যেভাবে আগাচ্ছে। এইগার বরাবরের মতোই দুর্দান্ত ছিল। আমাদের বোলিংয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। আগের ম্যাচে আমাদের টপ অর্ডার ব্যর্থ ছিল। আর এ ম্যাচে ব্যর্থ আমাদের লোয়ার অর্ডার।’

দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের ত্রুটি সারিয়ে নিতে এক দিন সময় হাতে পাচ্ছেন ম্যাথিউ ওয়েড ও হেড কোচ ল্যাঙ্গার। কাল দুই দলের বিশ্রাম। শুক্রবার তৃতীয় ম্যাচ।

ওই ম্যাচে হারলে উইন্ডিজের পর বাংলাদেশের কাছেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের তিতকুটে স্বাদ নিয়ে দেশে ফিরতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।

আরও পড়ুন:
ক্ষমা চাইলেন সাকিব
আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক: লাথিতে স্টাম্প ভাঙলেন সাকিব
সাকিবের বাজে সময় কাটছে না

শেয়ার করুন

শান্ত থেকে খেলার পরিকল্পনা ছিল আফিফের

শান্ত থেকে খেলার পরিকল্পনা ছিল আফিফের

৩১ বলে ৩৭ রানের দুর্দান্ত সময়োপযোগী ইনিংস উপহার দেন আফিফ। ছবি: সংগৃহীত

৯ ওভার ৩ বলের সময় দলীয় ৫৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে টাইগাররা। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিদায়ের পর তখন ক্রিজে নামেন আফিফ।

হেইজলউডের লাফিয়ে ওঠা বলটা উইকেটকিপার ওয়েডের মাথার উপর দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। কী শান্ত, কী পরিণত। যেন জানতেন এভাবেই বলটা ধেয়ে আসবে। কী দুর্দান্তভাবেই ইনিংস শেষ করে জয়ীর বেশে ২২ গজ ছাড়লেন আফিফ হোসেন।

এক কথায় অসাধারণ। আর তাতেই আট বল হাতে রেখে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে টাইগাররা।

যদিও ম্যাচের তাড়া করতে নেমে চ্যালেঞ্জটা এতো সহজ ছিল না বাংলাদেশের জন্য।

মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ১২২ রানের টার্গেটে নেমে ৯ ওভার ৩ বলের সময় দলীয় ৫৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে টাইগাররা। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিদায়ের পর তখন ক্রিজে নামেন আফিফ।

পাহাড়সম চাপ আর রাজ্যের বোঝা তখন তার কাঁধে। কিছুক্ষণের মধ্যে মাহেদীও পথ ধরেন সাঁজঘরে। বিপদ তখন আরও প্রকট। ক্রিজে ব্যাট হাতে নামেন নুরুল হাসান সোহান।

তাকে সঙ্গে নিয়ে বলা যায় পাহাড় ঠেলে জয়ের বন্দরে বাংলাদেশকে নিয়ে যান ২১ বছরের তরুণ আফিফ।

ক্রিজে নেমেই মনে মনে কঠোর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ম্যাচটা জয় নিয়ে ২২ গজ ত্যাগ করবেন। ম্যাচের পরে চাপ সামলে কীভাবে জয়ের নোঙরে পৌঁছাবেন সেটা আগেই মনোস্থির করে রেখেছিলেন এই বাঁহাতি ড্যাশিং ব্যাটসম্যান।

ম্যাচ শেষে আফিফ সেই কথাই বলেন, ‘ইনিংসের মাঝে নেমে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে এমনটাই ভাবছিলাম। আমাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নক করে যাওয়াই প্ল্যান ছিল। চাপ কমাতে নুরুলও ভালো খেলেছে।’

৩১ বলে ৩৭ রানের দুর্দান্ত সময়োপযোগী ইনিংস উপহার দেন আফিফ। এমন কম বয়সে এতো বড় চাপ সামলানো একজন টগবগে তরুণের পক্ষে কতটা কঠিন ছিল জানালেন এ ম্যাচের নায়ক।

আফিফের কথায়, ‘আপনি তরুণ কি বুড়ো এটা ব্যাপার না। শুধু দলের স্বার্থে আপনার কাজটা করে আসতে হবে।’

দেশকে জয় উপহার দিয়ে আফিফ একটা বাহবা পেতেই পারেন।

আরও পড়ুন:
ক্ষমা চাইলেন সাকিব
আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক: লাথিতে স্টাম্প ভাঙলেন সাকিব
সাকিবের বাজে সময় কাটছে না

শেয়ার করুন

আফিফ-সোহানের প্রশংসায় রিয়াদ

আফিফ-সোহানের প্রশংসায় রিয়াদ

ম্যাচ শেষ করে ফিরছেন আফিফ-সোহান। ছবি: এএফপি

আফিফ-সোহানের এমন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বেশ খুশি দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যার প্রমাণ মিলল ম্যাচ শেষে তার কথাতেই।

৬৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পরাজয় যখন বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছে, সে সময়ই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে।

উইকেট কামড়ে রেখে দলকে উপহার দেন ৫ উইকেটের বড় জয়। আর তাতেই অস্ট্রেলিয়ার দেখা হয়ে গেল বাংলাদেশের তারুণ্যের শক্তিমত্তা।

আফিফ-সোহানের এমন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বেশ খুশি দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যার প্রমাণ মিলল ম্যাচ শেষে তার কথাতেই।

রিয়াদ বলেন, ‘আফিফ ও সোহান যেভাবে দাঁড়িয়ে গেল আর শেষ করে এলো, তাতে বোঝা গেছে কতটা পরিণত তারা। আমাদের বোলাররাও অনেক ভালো বল করে ওদের ১২০-এ আটকে দিয়েছে। দ্রুত উইকেট পতনের কারণে ড্রেসিংরুমে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু আফিফ ও সোহানের ব্যাটিংয়ে সেটি মিটে গেছে।‘

একই সঙ্গে জয়ের কৃতিত্বে বোলারদেরও শামিল করছেন টাইগার দলপতি।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি মুস্তাফিজ দলের এমন অবস্থায় বেশ কার্যকরী। শরীফুলও বল ভালো করেছে এবং সব বোলাররাই মিতব্যয়ী ছিল। আমরা এটা সব খেলাতেই ধরে রাখতে সক্ষম হব আশা করি।’

এক দিন বিশ্রামের পর শুক্রবার সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

আরও পড়ুন:
ক্ষমা চাইলেন সাকিব
আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক: লাথিতে স্টাম্প ভাঙলেন সাকিব
সাকিবের বাজে সময় কাটছে না

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের তারুণ্যে ফের নাস্তানাবুদ অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশের তারুণ্যে ফের নাস্তানাবুদ অস্ট্রেলিয়া

চাপে পড়া বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে পৌঁছে দুই তরুণ সোহান ও আফিফের ব্যাটে। ছবি: সংগৃহীত

সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ২-০তে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে টাইগার বাহিনী।

সিরিজের আগে ভাবাও যায়নি এমনটা। কখনও যাদের বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি টাইগাররা, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ছাড়া সেই অস্ট্রেলিয়াকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নাস্তানাবুদ করল বাংলাদেশ।

হিসাবি বোলিংয়ে ম্যাচের প্রথম ভাগেই অর্ধেক কাজটা সেরে রেখেছিলেন মুস্তাফিজ, শরিফুল, সাকিব, মেহেদী হাসানরা। আগের ম্যাচের বিস্ময় বালক নাসুম আহমেদ আজ আলো ছড়াতে না পারলেও সফরকারীদের আটকে রাখা গেছে ১২১ রানেই।

জবাবে শুরুতেই ব্যক্তিগত শূন্য ও দলীয় ৯ রানে সৌম্য এবং দলীয় ২১ রানে নাঈমের বিদায় চাপে পরিণত হতে দেননি সাকিব আল হাসান।

টানা তিন চার মেরে বড় কিছুর ইঙ্গিত দেয়া বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার যখন ক্রিজে ছিলেন, তখন ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার দশা সফরকারীদের।

৫৮ রানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মুখের বিদায়ের পর ছোটখাটো একটি ঝড় বয়ে যায়। রানের চাকা চালু না করেই ফিরে আসেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। আর যার ওপর ভরসা ছিল, সেই মেহেদী হাসানও ফিরে আসেন ২৩ রান করে।

তখন দলীয় রান ৬৭। আরও দরকার ৫৫ রান। উইকেটে অনভিজ্ঞরা। কিন্তু নুরুল হাসান সোহান আর আফিফ হোসেন অবলীলায় জিতে গেলেন এই চ্যালেঞ্জে। বাংলাদেশের তরুণদের শক্তি দেখল অস্ট্রেলিয়া।

৩৭ রানে আফিফ ও ২২ রানে সোহান অপরাজিত থেকে ৫ উইকেটের এক দুর্দান্ত জয় উপহার দেন বাংলাদেশকে।

সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ২-০তে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে টাইগার বাহিনী।

প্রথম ম্যাচে সফরকারীরা হেরেছিল পরে ব্যাট করে। বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর পর ১৩১ রান তুলতে পারে স্বাগতিকরা। ব্যাটসম্যানরা রীতিমতো হাঁসফাঁস করতে থাকে।

আপাত সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা মুখ থুবড়ে পড়ে ১০৮ রানে।

সেই স্মৃতি আর ফিরিয়ে আনতে চাননি বলে অজি অধিনায়ক ম্যাথিউ ওয়েড এবার টস জিতে নিলেন ব্যাট। কিন্তু সুবিধা করতে পারেনি ওপেনাররা।

তৃতীয় ওভারে দলীয় ১৩ রানেই সফরকারীদের শিবিরে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান। সাজঘরে ফেরান ওপেনার অ্যালেক্স ক্যারিকে।

এরপর অজি শিবিরে দ্বিতীয় আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। ওপেনার জশ ফিলিপেকে থামিয়ে দেন মাত্র ১০ রানেই।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস মেরামতের গুরুভার কাঁধে তুলে নেন মিচেল মার্শ। সঙ্গে নেন মোয়েজেস এনরিকেসকে। দুইজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া।

তাতে বাধা দেন সাকিব আল হাসান। দলীয় ৮৮ রানে ব্যক্তিগত ৩০ রানে এনরিকেসকে ফিরিয়ে আনেন ব্রেক থ্রু। এরপর নামে ধস।

উইকেট কামড়ে ধরে বসেছিলেন মার্শ। এগিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশতকের দিকে। কিন্তু তার সেই স্বপ্নভঙ্গ হয় শরিফুলের কারণে। ব্যক্তিগত ৪৫ ও দলীয় ৯৯ রানে বাংলাদেশের তরুণ এই পেইসারের প্রথম শিকার বনে উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মার্শ।

পরে টাইগার বোলারদের তোপের সামনে দাঁড়াতে পারেননি কোনো অজিই। শেষতক ৭ উইকেট খরচায় ১২১ রানে থামে সফরকারীদের চাকা।

শুরুতে চাপ, পরে তা উড়িয়ে দিয়ে ছুটে চলার মধ্যে হঠাৎ ছন্দপতন। এরপর দুই তরুণের ডরভয়হীন ক্রিকেটে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো যে কোনো ফরম্যাটে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে আন্ডারডগ বানিয়ে দিল বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
ক্ষমা চাইলেন সাকিব
আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক: লাথিতে স্টাম্প ভাঙলেন সাকিব
সাকিবের বাজে সময় কাটছে না

শেয়ার করুন

অজি শিবিরে শুরুতেই আঘাত মেহেদীর

অজি শিবিরে শুরুতেই আঘাত মেহেদীর

মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সফরকারী অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ও টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে আগে হারাতে পারলেও টি-টোয়েন্টিতে জয় অধরাই ছিল এতদিন। এই জয়ে ৫ ম্যাচ সিরিজ নিয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বাংলাদেশের।

মাঝারি রান তাড়া করে বেশ বড় ব্যবধানে হারের স্মৃতি মাথায় রেখে এবার টসে দিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট খুইয়ে বসে আছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

তৃতীয় ওভারে দলীয় ১৩ রানেই সফরকারীদের শিবিরে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান। সাজঘরে ফেরান ওপেনার অ্যালেক্স ক্যারিকে।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সফরকারী অধিনায়ক ম্যাথিউ ওয়েড।

প্রথম টি-টোয়েন্টির একাদশ অপরিবর্তিত রেখেই দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামছে দুই দল।

মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সফরকারী অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ও টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে আগে হারাতে পারলেও টি-টোয়েন্টিতে জয় অধরাই ছিল এতদিন। এই জয়ে ৫ ম্যাচ সিরিজ নিয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ একাদশ: সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ নাঈম, সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, শামিম হোসেন, মেহেদী হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও নাসুম আহমেদ।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: জশ ফিলিপে, অ্যালেক্স ক্যারি, মিচেল মার্শ, মোয়জেস এনরিকেস, অ্যাস্টন টারর্নার, ম্যাথিউ ওয়াডে (অধিনায়ক), অ্যাস্টন এইগার, মিচেল স্টার্ক, অ্যান্ড্রু টাই, অ্যাডাম জ্যাম্পা ও জশ হেইজলউড।

আরও পড়ুন:
ক্ষমা চাইলেন সাকিব
আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক: লাথিতে স্টাম্প ভাঙলেন সাকিব
সাকিবের বাজে সময় কাটছে না

শেয়ার করুন

ফের ক্যাঙ্গারু বধ টাইগারদের

ফের ক্যাঙ্গারু বধ টাইগারদের

দারুণ বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বেশি সংগ্রহ গড়তে দেয়নি বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১২১ রান করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে হাতে আট বল ও পাঁচ উইকেট রেখে ১২৩ রান করে বাংলাদেশ।

ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট ছাড়া হয় ওপেনিং জুটি। মাঝের ব্যাটসম্যানরাও সুবিধা করতে পারেননি। এমন অবস্থায় দারুণ দৃঢ়তা দেখান দুই তরুণ আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তাদের ব্যাটে চড়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় টাইগাররা।

মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার হাতে আট বল ও পাঁচ উইকেট রেখেই জয়ের জন্য ১২২ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় মাহমুদুল্লাহ বাহিনী। একই ভেন্যুতে আগের দিন সফরকারীদের ২৩ রানে হারিয়েছিল তারা।

টানা দুই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে ২-০ ব্যবধানে।

আরও পড়ুন:
ক্ষমা চাইলেন সাকিব
আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক: লাথিতে স্টাম্প ভাঙলেন সাকিব
সাকিবের বাজে সময় কাটছে না

শেয়ার করুন