৩-০ করতে বাংলাদেশের চাই ২৮৭

সেঞ্চুরির পথে শট খেলছেন কুশল পেরেরা। ছবি: এএফপি

৩-০ করতে বাংলাদেশের চাই ২৮৭

সংক্ষিপ্ত স্কোর শ্রীলঙ্কা: ২৮৬/৬, ৫০ ওভার (পেরেরা ১২০, ধনঞ্জয় ৫৫*, গুনাথিলাকা ৩৯, তাসকিন ৪/৪৬, শরিফুল ১/৫৬)

আগের ম্যাচে একাদশে জায়গা হয়নি। তবে পরে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের কনকাশনে সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু উইকেট পাননি। তৃতীয় ম্যাচে অবশ্য তেমনটা আর হলো না তাসকিন আহমেদের জন্য। দারুণ বোলিং করে ৪৬ রানে তুলে নিলেন ৪ উইকেট। তাতে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে আটকে দিল ৬ উইকেটে ২৮৬ রানে। সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিততে টাইগারদের লক্ষ্য তাই ২৮৭।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল সফরকারীরা। দুই ওপেনার কুশল পেরেরা ও দানুশকা গুনাথিলাকা মিলে ১১ ওভারেই তুলে ফেলেছিলেন ৭৯ রান।

১২তম ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। ওভারের দ্বিতীয় বলে বোল্ড করেন গুনাথিলাকাকে। শেষ বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানান পাথুম নিসাঙ্কাকে।

তাতে তৃতীয় দ্রুততম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ৫০ উইকেট তুলে নেন তাসকিন। উইকেটের হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করতে তাসকিনের লেগেছে ৩৯ ম্যাচ।

এরপর তৃতীয় উইকেট হিসেবে কুশল মেন্ডিসকেও ফেরান তাসকিন। অন্য প্রান্তে অবশ্য অটল থেকে সেঞ্চুরি তুলে নেন পেরেরা। কিন্তু তাতে আছে বাংলাদেশ ফিল্ডারদের অবদান।

প্রথম বার পেরেরা জীবন পান ৬৬ রানে। সাকিব আল হাসানের বলে রিভার্স সুইপ খেলায় উঠে গিয়েছিল ক্যাচ। শর্ট থার্ড ম্যানে সেই ক্যাচে কেবল এক হাত লাগাতে পেরেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

পরের জীবন ৭৯ রানে, আবারও সাকিবের বলে। স্টেপ ডাউন করে সাকিবকে মারতে গিয়ে শূন্যে বল ভাসান পেরেরা। আফিফ হোসেন পেছনের দিকে দৌড়ে ধরতে পারেননি ক্যাচ।

শেষ বার জীবন পান ৯৯ রানে। মুস্তাফিজের দুর্দান্ত কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে মিড অফে ক্যাচ তুলে নিয়েছিলেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সহজ ক্যাচ ধরতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তার পরের বলেই সিঙ্গেল নিয়ে ৯৯ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন লঙ্কান অধিনায়ক।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য মাহমুদুল্লাহর ক্যাচ হয়েই ফেরেন কুশল। শরিফুল ইসলামের বলে যখন মিড অফে ক্যাচ হয়ে ফেরেন লঙ্কান অধিনায়ক, তার আগে করে ফেলেছেন ১২২ বলে ১২০। তাতে ১১ চারের সঙ্গে ছিল ১টি ছয়।

পেরেরার গড়ে দেয়া ভিত্তি অবশ্য কাজে লাগাতে পারেনি লঙ্কানরা। শেষদিকে ফিফটি তুলে নিয়েছেন ধনঞ্জয় ডি সিলভা, কিন্তু শেষ ১০ ওভার কাজে লাগাতে পারেননি তারা।

বাংলাদেশ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৬৯ রান নিতে পারে তারা, হারায় দুই উইকেট। সেটিও হতো না, যদি না শেষ ওভারে ১৮ রান দিতেন শরিফুল। শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন ধনঞ্জয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা: ২৮৬/৬, ৫০ ওভার (পেরেরা ১২০, ধনঞ্জয় ৫৫*, গুনাথিলাকা ৩৯, তাসকিন ৪/৪৬, শরিফুল ১/৫৬)

আরও পড়ুন:
চারবারের চেষ্টায় সেঞ্চুরিয়ান পেরেরাকে ফেরাল বাংলাদেশ
পেরেরার ব্যাটে ছুটছে শ্রীলঙ্কা
লঙ্কার ঝড়ো শুরুর পর তাসকিনের জোড়া আঘাত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাস্তি মেনে নিয়েছেন সাকিব

শাস্তি মেনে নিয়েছেন সাকিব

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর এক হোটেলে জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকা সাকিবকে এই বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। সাকিব শাস্তি মেনে নেন।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৫ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। আম্পায়ারের ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী নেয়া শাস্তির বিষয়ে চিঠি দেয়া হলে তা মেনে নিয়েছেন মোহামেডানের অধিনায়ক।

বিসিবি জানায়, দুইটা অভিযোগ ছিল। একটি ৪.৬ ওভারে এলবিডব্লিউর আবেদন, যার প্রতিক্রিয়া সাকিব লাথি মেরে উইকেট ভেঙে দেন। আরেকটা ছিল ৫.৫ ওভারের পর, বৃষ্টির কারণে উইকেট ঢাকার জন্য আম্পায়াররা যখন কভার ডাকে এবং সাকিব স্টাম্প তোলে ছুঁড়ে ফেলে দেন। দুই অপরাধের জন্য লেভেল-৩ সাকিবের বিরুদ্ধে গিয়েছে। এজন্য সাকিবের শাস্তি ৩ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা এবং জরিমানা ৫ লাখ টাকা।

শাস্তির বিষয়ে রাজধানীর এক হোটেলে জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকা সাকিবকে চিঠি পাঠানো হয়। সাকিব শাস্তি মেনে নেন।

ডিপিএলের বাই লজের লেভেল ফোরের দুটি ধারা ভঙ্গের জন্য তিন ম্যাচ খেলতে পারবেন না দেশসেরা এই ক্রিকেটার।

ডিপিএলের হাই ভোল্টেজ আবাহনী লিমিটেড বনাম মোহামেডানের ম্যাচে ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

মোহামেডানের বেঁধে দেয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা আবাহনী ইনিংসের পঞ্চম ওভারে প্রথমবার মেজাজ হারান সাকিব। সাকিবের করা ওভারের শেষ বলে মুশফিককে পরাস্ত করে তার প্যাড আঘাত হানে বল। লেগ বিফোরের জন্য সাকিবের জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। আর তাতেই সাকিব লাথি মেরে ভেঙে ফেলেন বোলিং প্রান্তের স্টাম্প।

ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলের পর বৃষ্টি নামলে আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত নেন খেলা বন্ধ করার। কিন্তু তা মানতে চাননি সাকিব। আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক করতে করতে ক্ষোভ দেখিয়ে বোলিং প্রান্তের তিনটি স্টাম্প তুলে মাটিতে ছুড়ে মারেন তিনি। রাগান্বিত ভঙ্গিতে তর্কও করতে থাকেন আম্পায়ারের সঙ্গে।

এরপর সাকিব বিবাদে জড়ান আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গেও। ম্যাচ শেষে আবাহনীর ড্রেসিংরুমে যেয়ে সুজনসহ সবার কাছেই দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। সুজনও মিমাংসা করে ফেলেন ঘটনাটি।

ম্যাচ শেষে নিজের ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চান সাকিব। ম্যাচের মধ্যে মেজাজ হারানোর জন্য ক্ষমা চান তিনি। তাতে কাজ হয়নি। লেভেল থ্রি পর্যায়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি পেয়েছেন সাকিব। খেলতে পারছেন না মোহামেডানের পরের চার ম্যাচে।

লিগে সাত ম্যাচে চার জয়ে নিয়ে টেবিলের চারে আছে সাকিবের মোহামেডান। সাকিব তিন ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ায় রাউন্ড রবিনের শেষ ম্যাচে খেলতে পারছেন তিনি।

তবে মোহামেডান যদি তাকে ছাড়াই তিন ম্যাচ জিতে সুপার লিগে কোয়ালিফাই করে সেক্ষেত্রে সাকিবের সুপার লিগে খেলাও হবে। ১১ রাউন্ড পর নির্ধারিত হবে সুপার লিগের সেরা ছয় দল।

আরও পড়ুন:
চারবারের চেষ্টায় সেঞ্চুরিয়ান পেরেরাকে ফেরাল বাংলাদেশ
পেরেরার ব্যাটে ছুটছে শ্রীলঙ্কা
লঙ্কার ঝড়ো শুরুর পর তাসকিনের জোড়া আঘাত

শেয়ার করুন

লিগের অনিয়ম নিয়ে ক্লাব ও অধিনায়কদের সঙ্গে বসবে বিসিবি

লিগের অনিয়ম নিয়ে ক্লাব ও অধিনায়কদের সঙ্গে বসবে বিসিবি

ঢাকা ডার্বিতে সাকিব কাণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

সিসিডিএমের চেয়ারম্যান কাজী এনাম আহমেদ বলেন, ‘বোর্ড সভাপতি আম্পায়ারিং নিয়ে অনেক গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন। তিনি পরিপূর্ণ রিপোর্ট চান, তদন্ত চান। তার কথা হল কেন এমন হচ্ছে যেখানে আমরা এত খেয়াল করে লিগটা চালাচ্ছি। আমরা সব ক্লাবের সাথে বসব এবং কথা বলব।’

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে স্টাম্পে সাকিব আল হাসানের লাথি মারার ঘটনায় বলা যায় নড়ে-চড়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাকিবের ঘটনায় লিগের অনিয়ম নিয়ে আবারও কথা উঠছে। এ বিষয়ে ক্লাব ও অধিনায়কদের সঙ্গে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।

বিষয়টি শনিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ।

সিসিডিএমের কাছে সাকিব কাণ্ডের মূল কারণ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানতে চেয়েছেন উল্লেখ করে ইনাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘আরেকটা জিনিস বলতে চাই- বোর্ড সভাপতি আমাদের ডেকেছিলেন, আমি এবং জালাল ইউনুস ভাই কথা বলেছি। উনি এটা নিয়ে ভাবছেন এবং পুরো বিষয় জানতে চেয়েছেন। উনি এই ঘটনার মূল কারণ জানতে চান।’

আগামী ১৫ জুন বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের আগেই সভাপতি এই বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান সিসিডিএম চেয়ারম্যান।

ইনাম বলেন, ‘৩ দিন পর আমাদের বোর্ড মিটিং আছে। তার আগেই উনি (বিসিবি সভাপতি) তদন্ত করতে বলেছেন। একটা কমিটি করে দিয়েছেন, সেই কমিটিতে আছি, জালাল ভাই আছেন, দুর্জয় আছেন, শেখ সোহেল আছেন এবং প্রধান ম্যাচ রেফারি রকিবুল হাসান আছেন।’

আগামী দুই দিনের মধ্যে লিগের অনিয়ম ও বিতর্ক নিয়ে ক্লাব ও অধিনায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চায় বিসিবি।

ইনামের কথায়, ‘আমরা সব ক্লাবের ম্যানেজার এবং অধিনায়কদের নিয়ে বসব আগামী দুই দিনের মধ্যে। যদি ডিপিএলের খেলার কোনো ইস্যু, পরিস্থিতি, সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ থাকে আমরা সেটা শুনব।’

এবারের ডিপিএলের সাত ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে একটিও এলবিডাব্লিউর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়াররা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের বারবার অনুরোধের পরও ঘরোয়া ক্রিকেটে ডিআরএস প্রযুক্তি ব্যবহার করছে না আয়োজক ক্রিকেট কমিটি অফ ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে লিগে অনিয়ম নিয়ে তদন্তের তাগিদ দেখছেন বিসিবি সভাপতি।

সিসিডিএমের এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘বোর্ড সভাপতি আম্পায়ারিং নিয়ে অনেক গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন। তিনি পরিপূর্ণ রিপোর্ট চান, তদন্ত চান। তার কথা হল কেন এমন হচ্ছে যেখানে আমরা এত খেয়াল করে লিগটা চালাচ্ছি। আমরা সব ক্লাবের সাথে বসব এবং কথা বলব।’

আরও পড়ুন:
চারবারের চেষ্টায় সেঞ্চুরিয়ান পেরেরাকে ফেরাল বাংলাদেশ
পেরেরার ব্যাটে ছুটছে শ্রীলঙ্কা
লঙ্কার ঝড়ো শুরুর পর তাসকিনের জোড়া আঘাত

শেয়ার করুন

সাকিবের আগে হোল্ডিং

সাকিবের আগে হোল্ডিং

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে স্টাম্পে লাথি মারেন মাইকেল হোল্ডিং। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট বিশ্বে এমন দৃশ্য নতুন কিছু নয়। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ কয়েকটি নজির থাকলেও সবচেয়ে বিখ্যাত স্টাম্প ভাঙ্গার ছবিটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি মাইকেল হোল্ডিংয়ের।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে স্টাম্পে লাথি মেরে নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে দেয়া হয়েছে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। সাকিব স্টাম্পে লাথি মারছেন এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে ভাইরাল হয়ে গেছে।

ক্রিকেট বিশ্বে এমন দৃশ্য নতুন কিছু নয়। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ কয়েকটি নজির থাকলেও সবচেয়ে বিখ্যাত স্টাম্প ভাঙ্গার ছবিটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি মাইকেল হোল্ডিংয়ের।

১৯৮০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে ঘটে ওই ঘটনা। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে জন পারকারকে কট বাহাইন্ড করেছেন ভেবে হোল্ডিং উদযাপন শুরু করেন সতীর্থদের সঙ্গে। ব্যাটিং ক্রিজ পেরিয়ে যাবার পর খেয়াল করেন আম্পায়ার আউট দেননি।

মেজাজ খারাপ করে কাছে থাকা স্টাম্পে লাথি মারেন এই কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার। সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তটিকে ক্যামেরাবন্দি করেন মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক অ্যামেচার ফটোগ্রাফার। সংবাদ মাধ্যমের কল্যাণে হোল্ডিংয়ের লাথিতে উড়ন্ত স্টাম্পের ছবিটি বিখ্যাত হয়ে পড়ে ক্রিকেট বিশ্বে।

ওই ছবি দেখে ম্যাচের পর হোল্ডিংয়ের সতীর্থ ও আরেক ফাস্ট বোলিং কিংবদন্তি কলিন ক্রফট মন্তব্য করেছিলেন, ‘হোল্ডিংকে চাইলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাদের ট্রায়ালে ডাকতে পারে।’

হোল্ডিংয়ের সেই আবেদনেই শুধু নয়, ম্যাচ শেষে উইন্ডিজ ম্যানেজার অভিযোগ করেন নিউজিল্যান্ডের আম্পায়াররা শেষ দুই ব্যাটসম্যানের আউটও দেননি।

যে কারণেই হোক জেন্টলসম্যানস গেমে এমন আচরণ বরাবরই ছিল অগ্রহণযোগ্য। ওই ঘটনার প্রায় বছর দশেক পর হোল্ডিং দুঃখপ্রকাশ করেন। তবে আইসিসির শৃঙ্খলা জনিত আইন শিথিল থাকায় কোনো শাস্তি পেতে হয়নি তাকে।

টেস্ট ক্রিকেটে স্টাম্পে লাথি মেরে শাস্তি না পেলেও, ঘরোয়া ক্রিকেটে সাকিবকে স্টাম্প উপড়ানোর জন্য পেতে হয়েছে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।

১৯৮০ সালের ওই সিরিজে নিজেদের মাঠে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ ও সিরিজ জেতে নিউজিল্যান্ড। ওই সিরিজের পর টানা ১৫ ম্যাচ কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আরও পড়ুন:
চারবারের চেষ্টায় সেঞ্চুরিয়ান পেরেরাকে ফেরাল বাংলাদেশ
পেরেরার ব্যাটে ছুটছে শ্রীলঙ্কা
লঙ্কার ঝড়ো শুরুর পর তাসকিনের জোড়া আঘাত

শেয়ার করুন

ম্যাচ পাতানো, বাজে আম্পায়ারিং নিয়মিত ঘটনা: সাবের

ম্যাচ পাতানো, বাজে আম্পায়ারিং নিয়মিত ঘটনা: সাবের

বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে সাকিব আল হাসান। ফাইল ছবি

নিউজবাংলাকে এই ক্রিকেট সংগঠক বলেন, ‘পাতানো খেলার বিষয়টি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেলায় বাজে আম্পায়ারিং নিয়মিত হয়। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি। যারা খেলা পরিচালনা করেন তাদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে।’ সাকিবের আচরণকে অবশ্য সমর্থন জানাননি সাবের।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে মেজাজ হারিয়ে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন সাকিব আল হাসান। আউটের আবেদনে সাড়া না দেয়াতেই মূলত মেজাজ হারিয়ে স্টাম্পে লাথি মারেন তিনি। শুক্রবারের এই ঘটনার পর তর্ক-বিতর্কের ঝড় চলছে ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

প্রসঙ্গক্রমে আসছে ম্যাচ পাতানো ও বাজে আম্পারিংয়ের ধারাবাহিকতার কথাও। ঘরোয়া ক্রিকেটে বাজে আম্পারিংয়ের নজির কম নয়। পাতানো খেলার অভিযোগও এসেছে বেশ কয়েকবার।

এবারের ডিপিএলের সাত ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে একটিও এলবিডাব্লিউর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়াররা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের বারবার অনুরোধের পরও ঘরোয়া ক্রিকেটে ডিআরএস প্রযুক্তি ব্যবহার করছে না আয়োজক ক্রিকেট কমিটি অফ ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী জানালেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানো নতুন কোনো বিষয় নয়।

নিউজবাংলাকে এই ক্রিকেট সংগঠক বলেন, ‘পাতানো খেলার বিষয়টি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেলায় বাজে আম্পায়ারিং নিয়মিত হয়। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি। যারা খেলা পরিচালনা করেন তাদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে। আম্পায়ারকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আমরা আইসিসির অন্যতম সদস্য। ক্রিকেট বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

সাকিবের আচরণকে অবশ্য সমর্থন জানাননি সাবের।

সাকিবের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সাকিব মাঠে যা করেছে সেটা শোভন নয়। এটা খেলার নিয়মের পরিপন্থি। আমি এর প্রতিবাদ জানাই। ঘরোয়া ক্রিকেটের মান ধরে রাখতে না পারলে আইসিসিতে সম্মান থাকবে না।’

তার কথার প্রতিফলন পাওয়া গেল জাতীয় দলের সাবেক তারকা পেইসার হাসিবুল হোসেন শান্তর কথাতেও।

বর্তমানে বিসিবির কোচিংয়ে দায়িত্বে থাকা শান্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চারদিনের নিষেধাজ্ঞা ঠিকই আছে। আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিরা আইন অনুযায়ী দিয়েছেন। খেলার স্বার্থে শাস্তিটা দরকার ছিল।

‘ইচ্ছা করে তো আর কেউ এমনটা করবে না। খেলার মধ্যে হয়ে যায়। আগের ম্যাচে মোহামেডান হারায় তারা ব্যকফুটে ছিল। তারপর ওর বলে আউট না দেয়ায় হয়তো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সাকিব এমনিতেই আমার মনে হয়, একটু বদমেজাজী। কিন্তু বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়ে আসলে এমনটা করা ঠিক হয়নি।’

ম্যাচ পাতানো, বাজে আম্পায়ারিং নিয়মিত ঘটনা: সাবের


নিজের ক্যারিয়ারে মোহামেডানের অন্যতম সেরা তারকা ছিলেন শান্ত। খেলেছেন বহু হাই-ভোল্টেজ আবাহনী-মোহামেডান ডার্বি ম্যাচ। তার দৃষ্টিতেও সাকিব শুক্রবার যা করেছেন তা কিছুটা বাড়াবাড়ি।

শান্ত বলেন, ‘আমাদের সময়ে এতটা ওপেন হতো না। গ্যালারিতে দর্শকদের মারামারি হতো। অফশিয়ালদের মধ্যেও রেষারেষি চলত। কিন্তু মাঠে এতোটা উন্মুক্তভাবে কখনও হয়নি। আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে হয়তো মাঠের এক সাইডে এসে নিজেদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করতাম। কিন্তু আম্পায়ারকে সরাসরি চার্জ করার ঘটনা এতটা ঘটত না।’

সাকিব তিন ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ায় রাউন্ড রবিনের শেষ ম্যাচে খেলতে পারছেন তিনি। মোহামেডান যদি তাকে ছাড়াই তিন ম্যাচ জিতে সুপার লিগে কোয়ালিফাই করে সেক্ষেত্রে সাকিবের সুপার লিগে খেলাও হবে। ১১ রাউন্ড পর নির্ধারিত হবে সুপার লিগের সেরা ছয় দল।

আরও পড়ুন:
চারবারের চেষ্টায় সেঞ্চুরিয়ান পেরেরাকে ফেরাল বাংলাদেশ
পেরেরার ব্যাটে ছুটছে শ্রীলঙ্কা
লঙ্কার ঝড়ো শুরুর পর তাসকিনের জোড়া আঘাত

শেয়ার করুন

সাত বছরে চারবার নিষিদ্ধ সাকিব

সাত বছরে চারবার নিষিদ্ধ সাকিব

মোহামেডানের জার্সিতে সাকিব আল হাসান। ফাইল ছবি

ক্রিকেট মাঠে নিষেধাজ্ঞা সাকিবের জন্য নতুন নয়। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে এর আগে মোট তিনবার নিষিদ্ধ হয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে মেজাজ হারিয়ে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। তিন ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ায় রাউন্ড রবিনের শেষ ম্যাচে খেলতে পারছেন তিনি।

মোহামেডান যদি তাকে ছাড়াই তিন ম্যাচ জিতে সুপার লিগে কোয়ালিফাই করে সেক্ষেত্রে সাকিবের সুপার লিগে খেলাও হবে। ১১ রাউন্ড পর নির্ধারিত হবে সুপার লিগের সেরা ছয় দল।

ক্রিকেট মাঠে নিষেধাজ্ঞা সাকিবের জন্য নতুন নয়। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে এর আগে মোট তিনবার নিষিদ্ধ হয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

২০১৪ সালে তিন ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা

২০১৪ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে চলার সময় টিভি ক্যামেরায় অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হন সাকিব। এই তিন ম্যাচ ছিল শ্রীলংকা, ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে। শেষ দুটি ম্যাচ ২০১৪ এশিয়া কাপের।

সাত বছরে চারবার নিষিদ্ধ সাকিব
পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৪ এশিয়া কাপে ব্যাটিংয়ে সাকিব। ফাইল ছবি



তিন ম্যাচেই হেরে যায় বাংলাদেশ। এমনকি তখন নবাগত আফগানিস্তানের কাছেও। আর নম্বর ম্যাচে ফেরেন সাকিব। তারপরও হারে বাংলাদেশ। ফেরার ম্যাচে সাকিব পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন ১৬ বলে ৪৪ রানের ইনিংস।

২০১৪ সালের আরও একবার ছয়মাসের নিষিধাজ্ঞা

বাংলাদেশ হেড কোচ চণ্ডিকা হাতুড়ুসিংহের সঙ্গে বাজে ব্যবহারের জন্য সাকিবকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিষিদ্ধ করে ছয় মাসের জন্য। সাকিবের নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম সিরিজ খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যায় বাংলাদেশ।

সিরিজে দুই টেস্টেই হারে সাকিববিহীন বাংলাদেশ। ওয়ানডে জেতে একটি। সিরিজের পর সাকিবের নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে আনা হয় তিন মাসে। সাকিব ফেরেন জিম্বাবুয়ে সিরিজে।

২০১৯ সালে আইসিসির এক বছরের নিষেধাজ্ঞা

২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর জুয়ারির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য গোপন করা এক বছরের স্থগিতাদেশ সহ সাকিবকে দুই বছরের জন্য সকল ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি।

তার নিষিদ্ধ হওয়ার পর ভারতে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজ খেলতে যায় বাংলাদেশ। দিল্লির প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সাত উইকেটের সহজ জয় পায় বাংলাদেশ। সাকিবের নিষিদ্ধাবস্থায় বাংলাদেশের প্রথম জয়। বাকি দুই ম্যাচ হেরে হারতে হয় সিরিজ।

টেস্টে ছিল পুরো উল্টো ছবি। সাকিবের জায়গায় অধিনায়কত্ব পাওয়া মুমিনুল হকের অধীনে দুই টেস্টই বাংলাদেশ হারে ইনিংস ব্যবধানে। দুটি ম্যাচই শেষ হয় তিন দিনে।

সাত বছরে চারবার নিষিদ্ধ সাকিব
২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বল করছেন সাকিব। ফাইল ছবি



ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সফরের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়লেও দ্বিতীয় ম্যাচে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ম্যাচই জিতে নেয় স্বাগতিক দল। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয় তৃতীয় ম্যাচ।

জিম্বাবুয়েকে ঘরের মাঠে ইনিংস ও ১০৬ রানে হারিয়ে সাকিবের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন একমাত্র টেস্ট জিতে নেয় বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
চারবারের চেষ্টায় সেঞ্চুরিয়ান পেরেরাকে ফেরাল বাংলাদেশ
পেরেরার ব্যাটে ছুটছে শ্রীলঙ্কা
লঙ্কার ঝড়ো শুরুর পর তাসকিনের জোড়া আঘাত

শেয়ার করুন

সাকিবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে: শিশির

সাকিবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে: শিশির

সাকিবের সঙ্গে শিশির। ছবি: ফেসবুক

মেজাজ হারানোর কারণে বিতর্কে পড়া সাকিব আল হাসানকে সমর্থন জানিয়েছেন তার স্ত্রী উম্মে শিশির। ম্যাচশেষে এক ফেসবুক পোস্টে শিশির লেখেন সাকিবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে।

আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে ম্যচে মেজাজ হারানোর কারণে বিতর্কে পড়া সাকিব আল হাসানকে সমর্থন জানিয়েছেন তার স্ত্রী উম্মে শিশির। ম্যাচশেষে এক ফেসবুক পোস্টে শিশির লেখেন সাকিবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে।

নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকে এক পোস্টে শিশির লেখেন, ‘মিডিয়ার মতোই আমি পুরো ঘটনাটা উপভোগ করছি। অবশেষে টিভিতে কোনো খবর আসলো! আজকের ঘটনায় প্রতিকূল স্রোতে দাঁড়ানো একজনের পক্ষে যারা পরিষ্কারভাবে ঘটনাটা বুঝতে পারতেন তাদের অনেকের সমর্থন দেখে ভালো লাগছে।’

শিশির এও মন্তব্য করেন যে সংবাদমাধ্যমে আসল খবর চাপা পড়ে যাচ্ছে। আসল ইস্যু তার মতে ম্যাচের দৃষ্টিকটু আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত।

‘দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে সংবাদ মাধ্যম শুধু ওর মেজাজ হারানোটাই দেখাচ্ছে আসল বিষয় বাদ দিয়ে। সত্যিকার ইস্যু হচ্ছে আম্পায়াররা চোখে পড়ার মতো যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন। শিরোনামগুলো আসলেই দুঃখ পাওয়ার মতো। আমার মতে এটা তার বিরুদ্ধে একটা চক্রান্ত যেটা দীর্ঘদিন যাবৎই তাকে খলনায়ক হিসেব তুলে ধরার জন্য করা হচ্ছে।’

ডিপিএলের হাই ভোল্টেজ আবাহনী লিমিটেড বনাম মোহামেডানের ম্যাচে শনিবার ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

মোহামেডানের বেঁধে দেয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা আবাহনী ইনিংসের পঞ্চম ওভারে প্রথমবার মেজাজ হারান সাকিব আল হাসান। সাকিব বোলিংয়ে আসলে দ্বিতীয় বলে তাকে ছয় মারেন আবাহনী অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, পরের বলেই চার। শেষ বলে অবশ্য মুশফিককে পরাস্ত করে তার প্যাড আঘাত হানে সাকিবের বল।

কিন্তু লেগ বিফোরের জন্য সাকিবের জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। আর তাতেই সাকিব লাথি মেরে ভেঙে ফেলেন বোলিং প্রান্তের স্টাম্প।

ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলের পর বৃষ্টি নামলে আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত নেন খেলা বন্ধ করার। কিন্তু তা মানতে চাননি সাকিব। আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক করতে করতে ক্ষোভ দেখিয়ে বোলিং প্রান্তের তিনটি স্টাম্প তুলে মাটিতে ছুড়ে মারেন তিনি। রাগান্বিত ভঙ্গিতে তর্কও করতে থাকেন আম্পায়ারের সঙ্গে।

এরপর সাকিব বিবাদে জড়ান আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গেও। তবে পরে দুজনে মিলে বিষয়টির মিমাংসা করেছেন বলে বিসিবি সূত্রে জানা গেছে।

ম্যাচশেষে নিজের ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চান সাকিব। ম্যাচের মধ্যে মেজাজ হারানোর জন্য ক্ষমা চান তিনি।

তবে তাতে কাজ হয়নি লেভেল থ্রি পর্যায়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি পেয়েছেন সাকিব। খেলতে পারছেন না মোহামেডানের পরের চার ম্যাচে।

আরও পড়ুন:
চারবারের চেষ্টায় সেঞ্চুরিয়ান পেরেরাকে ফেরাল বাংলাদেশ
পেরেরার ব্যাটে ছুটছে শ্রীলঙ্কা
লঙ্কার ঝড়ো শুরুর পর তাসকিনের জোড়া আঘাত

শেয়ার করুন

চার নয় তিন ম্যাচে নিষিদ্ধ সাকিব

চার নয় তিন ম্যাচে নিষিদ্ধ সাকিব

আবাহনীর ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে আবেদনে সাড়া না পেয়ে স্টাম্পে লাথি মারছেন সাকিব। ছবি: সিসিডিএম

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে অশোভন আচরণের জন্য তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।অখেলোয়াড়োচিত আচরণের জন্য সাকিবকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিসিডিএম।

বিতর্ককে সঙ্গী করে পথচলা সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ারে লাগলো আরেকটি দাগ। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে অশোভন আচরণের জন্য তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সংবাদ মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করেছেন ক্রিকেট কমিটি অফ ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) এর প্রধান কাজী ইনাম আহমেদ।

শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অখেলোয়াড়োচিত আচরণের জন্য সাকিবকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সিসিডিএম কমিটির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে সাকিব শাস্তি মেনে নিয়েছেন বলে জানান কাজী ইনাম।

সকালে সাকিবের শাস্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। তবে তারা জানায় চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছেন তিনি। সিসিডিএম ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই শাস্তি দেয়া হয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ককে।

ডিপিএলের বাই লজের লেভেল ফোরের দুটি ধারা ভঙ্গের জন্য তিন ম্যাচ খেলতে পারবেন না তিনি। ডিপিএলের হাই ভোল্টেজ আবাহনী লিমিটেড বনাম মোহামেডানের ম্যাচে ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

মোহামেডানের বেঁধে দেয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা আবাহনী ইনিংসের পঞ্চম ওভারে প্রথমবার মেজাজ হারান সাকিব। সাকিবের করা ওভারের শেষ বলে মুশফিককে পরাস্ত করে তার প্যাড আঘাত হানে বল। লেগ বিফোরের জন্য সাকিবের জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। আর তাতেই সাকিব লাথি মেরে ভেঙে ফেলেন বোলিং প্রান্তের স্টাম্প।

ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলের পর বৃষ্টি নামলে আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত নেন খেলা বন্ধ করার। কিন্তু তা মানতে চাননি সাকিব। আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক করতে করতে ক্ষোভ দেখিয়ে বোলিং প্রান্তের তিনটি স্টাম্প তুলে মাটিতে ছুড়ে মারেন তিনি। রাগান্বিত ভঙ্গিতে তর্কও করতে থাকেন আম্পায়ারের সঙ্গে।

চার নয় তিন ম্যাচে নিষিদ্ধ সাকিব
আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে সাকিব আল হাসান। ছবি: সিসিডিএম


এরপর সাকিব বিবাদে জড়ান আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গেও। ম্যাচ শেষে আবাহনীর ড্রেসিংরুমে যেয়ে সুজনসহ সবার কাছেই দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। সুজনও মিমাংসা করে ফেলেন ঘটনাটি।

ম্যাচশেষে নিজের ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চান সাকিব। ম্যাচের মধ্যে মেজাজ হারানোর জন্য ক্ষমা চান তিনি।
তাতে কাজ হয়নি। লেভেল থ্রি পর্যায়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি পেয়েছেন সাকিব। খেলতে পারছেন না মোহামেডানের পরের চার ম্যাচে।

লিগে সাত ম্যাচে চার জয়ে নিয়ে টেবিলের চারে আছে সাকিবের মোহামেডান। সাকিব তিন ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ায় রাউন্ড রবিনের শেষ ম্যাচে খেলতে পারছেন তিনি।

তবে মোহামেডান যদি তাকে ছাড়াই তিন ম্যাচ জিতে সুপার লিগে কোয়ালিফাই করে সেক্ষেত্রে সাকিবের সুপার লিগে খেলাও হবে। ১১ রাউন্ড পর নির্ধারিত হবে সুপার লিগের সেরা ছয় দল।

আরও পড়ুন:
চারবারের চেষ্টায় সেঞ্চুরিয়ান পেরেরাকে ফেরাল বাংলাদেশ
পেরেরার ব্যাটে ছুটছে শ্রীলঙ্কা
লঙ্কার ঝড়ো শুরুর পর তাসকিনের জোড়া আঘাত

শেয়ার করুন