করোনা আক্রান্ত সানরাইজার্সের সাহা

করোনা আক্রান্ত সানরাইজার্সের সাহা

সানরাইজার্সের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা মঙ্গলবার সকালে কোভিড পজিটিভ হয়েছেন। সানরাইজার্সের বিপক্ষে মুম্বাইয়ের আজ সন্ধ্যার ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএলে) বাড়ছে করোনার প্রকোপ। কলকাতা নাইট রাইডার্স, চেন্নাইস সুপার কিংসের পর এবারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে্ন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের খেলোয়াড়।

সানরাইজার্সের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা মঙ্গলবার সকালে কোভিড পজিটিভ হয়েছেন। সানরাইজার্সের বিপক্ষে মুম্বাইয়ের আজ সন্ধ্যার ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারতের ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো।

সোমবার আইপিএলের দুই অন্যতম ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ও চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) সদস্যরা কোভিড আক্রান্ত হন।

দুই খেলোয়াড় বরুণ চক্রবর্তী ও সানদিপ ওয়ারিয়রের কোভিড পজিটিভ হওয়ার কথা নিশ্চিত করে কেকেআর।

সিএসকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাসি বিশ্বনাথন ও বোলিং কোচ লাক্সমিপতি বালাজি ও একজন বাস ক্লিনার পজিটিভ হন সোমবার। তারপর থেকেই দলের সদস্যদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

কলকাতার বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচ খেলা দিল্লি ক্যাপিটালসের পুরো দলকেই আইসোলেশনে থেকে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছে বিসিসিআই।

কোভিডের প্রকোপের মধ্যে আইপিএল বন্ধ করতে দিল্লির হাইকোর্টে মামলা করেছেন স্থানীয় দুই আইনজীবী ও এক মানবাধিকার কর্মী। জনস্বাস্থ্যের চেয়ে আইপিএলকে কেন অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, তা তদন্তে রিট আদেশ বা নির্দেশনা জারি করতে আদালতের কাছে আবেদন করেছেন তারা।

তারপরও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। গত দুই দিনে দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্যাম্পে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির পর বিসিসিআই চিন্তা করছে পুরো টুর্নামেন্টটিকে একটি শহরে আয়োজন করার।

ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই কোটি। পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসাসেবা দিতে। দেখা দিয়েছে হাসপাতাল বেড ও অক্সিজেন সংকট।

এমন অবস্থায় টুর্নামেন্টকে আহমেদাবাদ, চেন্নাই, ও দিল্লি থেকে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো সরিয়ে মুম্বাইয়ে আনার পরিকল্পনা করছে বিসিসিআই। তবে, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ খেলোয়াড়দের বায়ো বাবলে রাখা।

বায়ো বাবল নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে বিসিসিআই মুম্বাইয়ের শীর্ষ হোটেলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ও জানতে চেয়েছে তারা বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে পারবে কিনা।

আরও পড়ুন:
আইপিএল শুধু মুম্বাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
এবারে চেন্নাই সুপার কিংসের ক্যাম্পে করোনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঢাকায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল

ঢাকায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল

বাংলাদেশে আসার আগে শ্রীলঙ্কা এয়ারপোর্টে ক্রিকেট দলের সদস্যরা। ছবি: এসএলসি

ঢাকায় টিম হোটেলে তিন দিনের কোয়ারেন্টিন করবে পুরো লঙ্কা স্কোয়াড। কোয়ারেন্টিন শেষে বুধবার থেকে অনুশীলন শুরু করবে সফরকারীরা।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে কুশাল পেরেরার নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের দল ঢাকায় পৌঁছায়।

ঢাকায় টিম হোটেলে তিন দিনের কোয়ারেন্টিন করবে পুরো লঙ্কা স্কোয়াড। কোয়ারেন্টিন শেষে বুধবার থেকে অনুশীলন শুরু করবে সফরকারীরা।

বাংলাদেশ সফরে আসা লঙ্কান স্কোয়াডে জায়গা হয়েছে তরুণ সদস্যদের। জায়গা পাননি সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ ও দিনেশ চান্দিমালের মতো অভিজ্ঞরা।

শ্রীলঙ্কার হয়ে অধিনায়কত্বের প্রথম অধ্যায়ে দলের কাছে ভয়ডরহীন ক্রিকেট চান কুশল। বাংলাদেশে আসার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হারের ভয় পাওয়া চলবে না।

‘আমাদের ম্যাচ জিততে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। আপনি হারের ভয় পেতে পারবেন না। যদি দলে আপনার জায়গা নিয়ে সন্দিহান হন, তাহলে শতভাগ দিতে পারবেন না,’ বলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক।

ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার ফর্মুলাও বলে দেন কুশল। বলেন, ‘খেলোয়াড়দের বলব তাদের সর্বোচ্চটা দিতে। যদি অনুশীলনে ভয়হীন ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে ম্যাচেও পারব। এটিই দলকে বলেছি। ভয় পেলে আরও পিছিয়ে পড়ব। এমন একটি সংস্কৃতি গড়তে চাচ্ছি যেখানে সবাই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর থাকবে।’

দুই দলের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ২৩ মে। তবে তার আগে ২১ মে বিকেএসপিতে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কা।

২৩ মে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচই হবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দিবারাত্রির ম্যাচ তিনটি হবে যথাক্রমে ২৩, ২৫ ও ২৮ মে।

সিরিজ শেষ করে ২৯ মে দেশে ফিরে যাবে সফরকারীরা।

আরও পড়ুন:
আইপিএল শুধু মুম্বাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
এবারে চেন্নাই সুপার কিংসের ক্যাম্পে করোনা

শেয়ার করুন

কোনো অভিষেক মনের মতো হয়নি শরিফুলের

কোনো অভিষেক মনের মতো হয়নি শরিফুলের

প্রথম টেস্ট উইকেটের পর উদযাপনে শরিফুল। ছবি: এএফপি

রূপকথার গল্প হলে, সিরিজের প্রথম ম্যাচটা বাংলাদেশকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়তেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে সেরকম হয় না। প্রথম ম্যাচে চার ওভারে ৫০ রান দেন তিনি। পাননি কোনো উইকেট।

পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা বাঁহাতি পেইসার শরিফুল ইসলামের স্বপ্ন ছিল, জাতীয় দলে খেলে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন। সেই স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছে যান ৪ জানুয়ারি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের প্রাথমিক দলে ডাক পেয়ে যান।

দুটি স্বপ্ন ছিল। সেগুলো পূরণের কাছাকাছি চলে এসেছি জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাক পেয়ে। চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দিয়ে দলে থাকার জন্য। যেভাবে খেলে আসছি, সেভাবেই খেলে, ভালো পারফর্ম করে জাতীয় দলে থাকা,’ নিউজবাংলাকে বলেন তরুণ এ পেইসার।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই সিরিজে অভিষেক হয়নি শরিফুলের। সেটি হয় দেশ থেকে হাজার মাইল দূরের নিউজিল্যান্ডে। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে।

রূপকথার গল্প হলে, সিরিজের প্রথম ম্যাচটা বাংলাদেশকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়তেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে সেরকম হয় না। প্রথম ম্যাচে চার ওভারে ৫০ রান দেন তিনি। পাননি কোনো উইকেট।

প্রথম ম্যাচে বাজে করার পর ভেঙে পড়েননি শরিফুল। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও নির্বাচক হাবিবুল বাশারের অনুপ্রেরণার পাশাপাশি নিজের বিশ্বাসও ছিল যে ফিরে আসতে পারবেন।

‘প্রথম ম্যাচ খেলার পর আমি নরমাল ছিলাম। পরে রিয়াদ ভাই এসে আমাকে বলল যে সমস্যা নেই, এরকম হয় প্রথম ম্যাচে। পরে সুমন স্যার (হাবিবুল বাশার) এসে আমাকে আরো কিছু ইতিবাচক কথা বলেছেন। তখন এসব খুব ভালোভাবে নিয়েছি। রিয়াদ ভাই বলেছেন যে বাংলাদেশকে লম্বা সময় সার্ভিস দিতে হবে। প্রথম ম্যাচে এমন হতেই পারে, সমস্যা নেই। পরের ম্যাচ ভালো হবে। পরের ম্যাচেই আমি কামব্যাক করি।’

পরের ম্যাচে দারুণ বোলিং করেন শরিফুল। নিউজিল্যান্ড ১৭৩ স্কোর করলেও শরিফুলের তিন ওভারে তারা নিতে পারে মাত্র ১৬ রান। সঙ্গে উইকেট পান ডেভন কনওয়ের।

ম্যাচে ভালো করার পর শরিফুলের মনে হতে থাকে, আরও ভালো কিছু করতে পারবেন তিনি।

২৮ মার্চ অভিষেকের আগের বছরটা অবশ্য গল্পের মতোই। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার পর করোনার কারণে তেমন খেলতে পারেননি। প্রেসিডেন্টস কাপে ঝলক দেখালেও দারুণ কিছু করতে পারেননি।

সেটি করলেন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে। গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের হয়ে নিজের আদর্শ মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে গড়েন দারুণ এক জুটি। ১০ ম্যাচে তুলে নেন ১৬ উইকেট। সেই টুর্নামেন্টের পর শরিফুলের মনে হতে থাকে, জাতীয় দলের ক্যাম্পে সুযোগ পাবেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে শরিফুল। ছবি: বিসিবি

‘যখন ওই টুর্নামেন্টে ভালো করেছি, তখন মনে করেছি যে আমাকে ক্যাম্পে ডাকবে। অন্যদের সঙ্গে থেকে আরও শেখার চেষ্টা করব। যখন ক্যাম্পে ডেকেছে তখন প্র্যাকটিসে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার এই আশা ছিল যে আমি ডাক পাব,’ আলাপচারিতায় বলেন শরিফুল।

টি-টোয়েন্টির পর টেস্ট অভিষেকও হয়ে গিয়েছে শরিফুলের। সেটিও দেশের বাইরে, শ্রীলঙ্কায়। সেখানেও অভিষেকটা ভালো হয়নি, দুই ইনিংস মিলিয়ে পেয়েছেন মাত্র এক উইকেট।

অভিষেক নিয়ে শরিফুলের মত, তার অভিষেকটাই কেনো যেন ভালো যায় না!

‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে আমার অভিষেক ম্যাচও ভালো যায়নি। চেষ্টা করি যে প্রথম থেকেই ভালো করার। সব অভিষেক ম্যাচই আসলে এরকম বাজে হয়ে গিয়েছে (হাসি)। কিন্তু আমি ওভাবে ভাবি না। প্রথম ম্যাচটা খারাপ খেলেছি তো পরে কী হবে। চেষ্টা থাকে প্রথম থেকেই ভালো করার।’

শরিফুলকে তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সাহায্য করে গেছেন তার কোচ ও বাংলাদেশের হয়ে দুটি টেস্ট খেলা সাবেক বাংলাদেশ পেইসার আলমগীর কবির। তার কোচের ভাগ্যে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে উইকেট জোটেনি। আর অভিষেকেই উইকেট পেয়েছেন শরিফুল। শিষ্যের খুশিতেই উচ্ছ্বসিত আলমগীর। এক জায়গায় অবশ্য মিলে গেছেন গুরু শিষ্য, দুজনের টেস্ট অভিষেকই শ্রীলঙ্কায়।

“আমার কোচ আলমগীর কবির টেস্ট প্লেয়ার ছিলেন। উনার যখন শ্রীলঙ্কায় অভিষেক হয়েছে তখন উনি উইকেট পাননি। তো আমার যখন অভিষেক হয় শ্রীলঙ্কায়, আমি তাকে ফোন দিয়েছিলাম। তখন উনি এত খুশি হয়েছে যে বলছিলেন যে ’আমার যেমন শ্রীলঙ্কায় হয়েছে, তোমারও হল। তুমি খেল। ভালো কিছু করবা।’”

সামনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ। শরিফুল আছেন ২৩ সদস্যের প্রাথমিক দলে। শরিফুল চান এই সিরিজেই অভিষেক হোক ওয়ানডেতেও। বাকি অভিষেক ম্যাচের মতো নয়, ওয়ানডে অভিষেকটা চান রাঙিয়ে রাখতে।

শেষ প্রশ্ন হিসেবে নিউজবাংলা শরিফুলের কাছে প্রশ্ন রেখেছিল ক্যারিয়ার নিয়ে তার স্বপ্নের ব্যাপারে। শরিফুল জানান, বিশ্বের সেরা বোলারদের একজন হতে চান তিনি। চান দেশের হয়ে লম্বা সময় খেলতে।

‘ফিট থেকে লম্বা সময় দেশকে সার্ভিস দিতে চাই। চাই বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হতে,’ বলেন এ বাঁহাতি পেইসার।

আরও পড়ুন:
আইপিএল শুধু মুম্বাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
এবারে চেন্নাই সুপার কিংসের ক্যাম্পে করোনা

শেয়ার করুন

‘উইলিয়ামসন ভারতের হলে তাকেই বিশ্বসেরা বলা হতো’

‘উইলিয়ামসন ভারতের হলে তাকেই বিশ্বসেরা বলা হতো’

ফাইল ছবি: এএফপি

ভারতীয় ও বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যান্য বিশ্লেষক সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তার লোভে কোহলিকে সেরা বলেন, এমনটাই দাবি ২০০৫ অ্যাশেজ জয়ী অধিনায়কের।

আধুনিক ক্রিকেটের গত এক দশকের সেরা ব্যাটসম্যানদের ‘বিগ ফোর’ তালিকায় ধরা হয় ভারতের ভিরাট কোহলি, অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথ, নিউজিল্যান্ডের কেইন উইলিয়ামসন ও ইংল্যান্ডের জো রুটকে। সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে এই তালিকার আশেপাশে আছেন পাকিস্তানের বাবর আজম।

টেস্টে বিগ ফোরের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তিন ফরম্যাট মিলিয়ে কোহলিকেই একবাক্যে বিশ্বসেরা মেনে নেন বিশেষজ্ঞরা। স্মিথ, উইলিয়ামসন ও রুটের টেস্ট পরিসংখ্যান কোহলির সঙ্গে তুলনীয় কিন্তু শর্টার ফরম্যাটে সমসাময়িকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে ভারতীয় অধিনায়ক।

তবে, কোহলিকে বিশ্বসেরা মানতে রাজি নন মাইকেল ভন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়কের মতে উইলিয়ামসনই বিশ্বের সেরা ব্যাটার। নিউজিল্যান্ডের ওয়েবসাইট স্পার্ক স্পোর্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভন বলেন উইলিয়ামসন ভারতীয় হলে, তাকেই বিশ্বসেরা বলতো সবাই।

‘যদি কেইন উইলিয়ামসন ভারতীয় হতেন তাহলে তাকেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় বলা হতো। কিন্তু সে তা নয়। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার আক্রমণ থেকে বাঁচতে ভিরাট কোহলিকে সেরা না বলার উপায় নেই।’

ভারতীয় ও বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যান্য বিশ্লেষক সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তার লোভে কোহলিকে সেরা বলেন, এমনটাই দাবি ২০০৫ অ্যাশেজ জয়ী অধিনায়কের।

‘কিছু ক্লিক ও লাইকের জন্য সবাই ভিরাটকে সেরা বলে। এতে কিছু ফলোয়ারও বাড়ে।’

ভনের মতে শুধু টেস্টেই নয় কঠিন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার দক্ষতার জন্য উইলিয়ামসন তিন ফরম্যাটেই সেরা। কোহলির মতো মিডিয়াকে আকর্ষণ করেন না দেখে তার উপর মনোযোগ কম মনে করেন সাবেক ইংলিশ তারকা।

‘কেইন উইলিয়ামসন সব ফরম্যাট মিলিয়েই সেরা। সে যেভাবে খেলে, তার শান্ত আচরণ, বিনয় সব মিলিয়ে সে সেরা। মাঠে যা করে সেটা নিয়ে সে চুপচাপ থাকে।’

ইংল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনে কোহলিকে রান পেতে সংগ্রাম করতে হয়েছে উল্লেখ করে ভন বলেন, ‘যদিও কোহলি ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে রান পেয়েছে। কিন্তু তার আগে প্রায় সবসময়ই তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। সেখানে উইলিয়ামসন রান পেয়েছে। আমি নিউজিল্যান্ডে আছি বলেই এমনটা বলছি না, আমি আসলেই মনে করি তিন ফরম্যাট মিলিয়ে উইলিয়ামসন কোহলির সমান।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় কোহলির জনপ্রিয়তা উইলিয়ামসনের চেয়ে বেশি হলেও, মাঠে ব্ল্যাক ক্যাপস অধিনায়ককে ধারাবাহিকতার জন্য এগিয়ে রাখছেন ভন। সামনের ইংলিশ গ্রীষ্মে উইলিয়ামসন কোহলির চেয়ে সফল হবেন বলে বিশ্বাস তার।

‘কোহলির মতো তার ইন্সট্যাগ্রামে ১০ কোটি ফলোয়ার তার নেই বা সে বিজ্ঞাপণ থেকে ৩-৪ কোটি ডলার আয় করে না। কিন্তু গুণগুত ভাবে মাঠে সে কি দিতে পারে ও ধারাবাহিকতার দিক থেকে সে এগিয়ে। আমার মতে এই গ্রীষ্মে কোহলির চেয়ে ইংল্যান্ডে উইলিয়ামসন রান বেশি পাবে।’

জুনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে কোহলির ভারত ও উইলিয়ামসনের নিউজিল্যান্ড। তার আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি অ্যাওয়ে টেস্ট খেলবে ব্ল্যাক ক্যাপস।

আরও পড়ুন:
আইপিএল শুধু মুম্বাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
এবারে চেন্নাই সুপার কিংসের ক্যাম্পে করোনা

শেয়ার করুন

ছুটিতে সিলভারউড, ইংল্যান্ডের দায়িত্বে কলিংউড-থর্প

ছুটিতে সিলভারউড, ইংল্যান্ডের দায়িত্বে কলিংউড-থর্প

ইংল্যান্ড কোচ ক্রিস সিলভারউড। ছবি: এএফপি

শ্রীলঙ্কা ও ভারত সফর করার সময় ক্রিকেটাররা ছুটি পেলেও কোনো ছুটি পাননি সিলভারউড। জৈব নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরেই থাকতে হয়েছে তাকে। সে কারণেই ছুটি নিচ্ছেন এ ইংলিশ কোচ। তার মতে, এসময় দায়িত্ব পালন করলেও শতভাগ দিতে পারবেন না তিনি।

সামনেই শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ আছে ইংল্যান্ড দলের। সেই দুই সিরিজে থাকছেন না ইংলিশদের হেড কোচ ক্রিস সিলভারউড।

শ্রীলঙ্কা ও ভারত সফর করার সময় ক্রিকেটাররা ছুটি পেলেও কোনো ছুটি পাননি সিলভারউড। জৈব নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরেই থাকতে হয়েছে তাকে। সে কারণেই ছুটি নিচ্ছেন এ ইংলিশ কোচ। তার মতে, এসময় দায়িত্ব পালন করলেও শতভাগ দিতে পারবেন না তিনি।

তার বদলে দুটি সিরিজে অদলবদল করে হেড কোচের দায়িত্ব সামলাবেন সিলভারউডের দুই সহকারী পল কলিংউড ও গ্রাহাম থর্প।

‘সবাইকে সতেজ রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা খেলোয়াড়দের জন্য ঠিক নয় যে তাদেরকে আমার শতভাগ দিতে পারব না। এটি আমার জন্যও ঠিক নয়। এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা সবাইকে দেখেশুনে রাখব,’ বলেন সিলভারউড।

ইংল্যান্ড হেড কোচের মতে, কলিংউড ও থর্পের জন্য এটি দারুণ এক অভিজ্ঞতা হবে। তিনি বলেন, ‘এটি তাদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। আমি এটি করতাম না যদি না আমি তাদের পুরোপুরি বিশ্বাস করতাম। আপনি যদি তাদের অভিজ্ঞতার দিকে তাকান, এটি আমার জন্য বিশাল বোনাস যে যেখানেই যাই দল নিয়ে তারা আমার সঙ্গে থাকে।’

ইংল্যান্ডের হয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৩০১টি ম্যাচ খেলেছেন কলিংউড। ২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে ১০০টি টেস্ট খেলা থর্প তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ওয়ানোডে সিরিজ শুরু হবে ২৯ জুন। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ৮ জুলাই।

আরও পড়ুন:
আইপিএল শুধু মুম্বাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
এবারে চেন্নাই সুপার কিংসের ক্যাম্পে করোনা

শেয়ার করুন

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনে খেলবেন সাকিব

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনে খেলবেন সাকিব

বাংলাদেশের অনুশীলনে সাকিব আল হাসান। ফাইল ছবি: এএফপি

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তিনি ফিরে পাচ্ছেন ওয়ান ডাউন স্পট। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে এক সাক্ষাৎকারে এমনটা নিশ্চিত করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন।

২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে তিন নম্বরে ব্যাট করেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ওয়ানডাউনে ব্যাট করে রীতিমত ঝড় তোলের বিশ্বকাপে। আট ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি সহ ৮৬.৫৭ গড়ে সংগ্রহ করেন টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬০৬ রান।

এমন পারফর্মেন্সের পর তিন নম্বর পজিশনটি সাকিবের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা। তেমনটি হয়নি। আইসিসির এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নিজের প্রথম সিরিজে উইন্ডিজের বিপক্ষে চার নম্বরে ব্যাট করেন সাকিব। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তিন নম্বরে খেলায় নাজমুল হোসেন শান্তকে।

সাকিবের পজিশনে ব্যর্থ হন শান্ত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে তিনে খেলেন সৌম্য সরকার। তার ব্যাটও হাসেনি প্রত্যাশামতো।

শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে সাকিবের জন্য সুসংবাদ দিয়েছে বিসিবি। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তিনি ফিরে পাচ্ছেন ওয়ান ডাউন স্পট। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে এক সাক্ষাৎকারে এমনটা নিশ্চিত করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন।

‘সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনে ব্যাট করবে। ওই পজিশনে ও সেট হতে সুয় পাবে তাই আমাদের মনে হয়েছে তিন নম্বরই ওর জন্য সেরা জায়গা। সাকিবও ওখানে ব্যাট করতে চায়। সবমিলিয়ে আমরা তাকে সুযোগটা আবার দিচ্ছি।’

শুধু বিশ্বকাপের আট ম্যাচেই নয় তিনে ব্যাট করে তার গড় ক্যারিয়ারে গড়ের চেয়ে অনেকটাই বেশি। ২৩ ম্যাচে ৫৮.৫৮ গড়ে ১,১৭৭ রান সাকিবের। যেখানে তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার গড় ৩৮.০৮।

করোনার কারণে আইপিএল স্থগিত হয়ে যাওয়ায় দেশে ফিরে কোয়ারেন্টিনে আছেন সাকিব। কোয়ারেন্টিন শেষ করে ২১ মে দলের অনুশীলনে ফেরার কথা দেশসেরা এই ক্রিকেটারের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু ২৩ মে।

পরের দুই ওয়ানডে ২৫ ও ২৮ মে। সাকিব প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারলে পরের দুই ম্যাচে তার থাকাটা নিশ্চিত।

ওয়ানডে সিরিজ শেষে সাকিবকে দেখা যাবে ঘরোয়া ক্রিকেটের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) আসরে। ডিপিএলের এবারেরআসর শুরু হচ্ছে ৩১ মে। চিরাচরিত ওয়ানডে ফরম্যাটের বদলে এবার খেলা হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। সেখানেই মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলবেন সাকিব।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ককে দলে ভেড়ানোর ব্যাপারে সাকিবের সইসহ একটি চিঠি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে মঙ্গলবার জমা দিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

আরও পড়ুন:
আইপিএল শুধু মুম্বাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
এবারে চেন্নাই সুপার কিংসের ক্যাম্পে করোনা

শেয়ার করুন

খাবারও জুটত না ঠিকমত: শরিফুল

খাবারও জুটত না ঠিকমত: শরিফুল

বাংলাদেশের জার্সিতে বোলিংয়ে শরিফুল। ছবি: এএফপি

জাতীয় পর্যায়ের পেইসার হওয়ার যাত্রাটা কোনোভাবেই সহজ ছিল না শরিফুলের। কৃষক বাবার সন্তান জানান ঠিকমতো খাবারও জুটতো না তাদের। সেখান থেকেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করেন তিনি। ক্রিকেট দিয়েই পরিবর্তন করবেন পরিস্থিতির। 

তারিখটা নয় ফেব্রুয়ারি, ২০২০। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে সাউথ আফ্রিকার পচেফসট্রুমে শিরোপা লড়াইয়ে বাংলাদেশ বনাম ভারত।

পুরো টুর্নামেন্টে ভারতের ব্যাটিং স্তম্ভ হয়ে থাকা ইয়াসসভি জসওয়ালকে ফেরালেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেইসার শরিফুল ইসলাম। ফিরিয়েই করলেন ভিন্ন এক উদযাপন।

প্রথমে ট্রাউজারের ডান পকেটের জিপারটা আটকে দিলেন। এরপর সেটাকে কিছুক্ষণ হাতে ঝেড়ে তর্জনীটা মুখের সামনে নিয়ে আসলেন, যার সার্বজনীন অর্থ, ‘চুপ করো!’

এমন উদযাপন কেনো? প্রশ্নই করা হয়েছিল শরিফুলকে। নিউজবাংলাকে শরিফুল বললেন, ঢাকায় ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনাল জেতার পর ভারতীয় দল তাদের ড্রেসিং রুমের সামনে এসে করেছিল নানা উদযাপন। সেটির বদলা নেওয়ার জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়ে ভালো মঞ্চ আর কী হতে পারে!

‘এশিয়া কাপের ফাইনালে জেতার পর আমাদের ড্রেসিং রুমের সামনে এসে খুব খুব বাজে বাজে সেলেব্রেশন করেছিল। আমরা সেটা নিতে পারিনি। আমার খুব আঁতে ঘা লেগেছিল বিশেষ করে। ভাবছিলাম, যে আমরা সুযোগ পেলে সেটার প্রতিশোধ নেব।’

হাসতে হাসতে পুরো পরিকল্পনার বিস্তারিত জানান এই তরুণ পেইসার।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে টিম মিটিং হওয়ার পরে আমার রুমমেট সাকিবকে বললাম, ‘ওরা তো আমাদের ছাড়বে না, স্লেজিং করবে, অনেক কিছু করবে। আমরা যখনই বোলিং পাই, তখনই আক্রমণাত্মক থাকতে হবে আর সেলেব্রেশন করতে হবে একটা স্পেশাল।’ তো ও খুঁজে পাচ্ছিল না, তখন আমি বলেছিলাম আমি এটা করব। এরপর গেলাম ফাইনাল খেলতে, উইকেট পাওয়ার পর উদযাপনও করলাম। তোমাদের দিন শেষ। তোমরা এখন পকেটের ভেতরে ঢুকে যাও- এইটাই মানে ছিল।”

উদযাপনটা শেষ পর্যন্ত আর উইকেটে আটকে থাকেনি সেদিন। প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের কোনো বৈশ্বিক শিরোপা এসেছিল বাংলাদেশে। শরিফুলদের হাত ধরেই। এতটা আনন্দিত ও উত্তেজিত ছিলেন তারা, ফাইনালের পর নাকি তিন-চার দিন ঘুমাতে পারেননি।

‘বিশ্বকাপ ফাইনালের পর প্রথম ৩-৪ দিন কোনো ঘুমই হয়নি। দিনেও না। রাতেও না। সব সময় চোখের সামনে ভাসছিল যে আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। একটা সফলতা অর্জন করেছি। পুরো বাংলাদেশের জন্য এত বড় একটা দিন, সেটার নায়ক আমরা। যখন দেশে ফিরেছি, এয়ারপোর্ট থেকেই পুরো রাস্তা সবাই আমাদের সাপোর্ট করছিল। ওটা দেখার পর মনে হয়েছে বাংলাদেশের জন্য কিছু একটা করতে পেরেছি। খুবই এক্সাইটেড ছিলাম। বলে বুঝানো যাবে না।’

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শরিফুলের উদযাপন
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শরিফুলের সেই উদযাপন। ছবি: আইসিসি

নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপে শরিফুল শোনান বিশ্বজয়ের আগের গল্প। পঞ্চগড়ে ছেলেবেলা কেটেছে তার। অভাবের সংসারে বড় হয়েছেন। স্বপ্ন ছিল পরিবারের অবস্থার পরিবর্তন করবেন ক্রিকেট দিয়েই। যে বাঁ হাতের ফাস্ট বোলিংয়ে এসেছেন এত দূর, সেটির কীভাবে শুরু, সেট তার নিজেরই মনে নেই!

‘শুরু থেকেই পেস বোলিং করতাম। যখন ছোট ছিলাম এমনি এমনি হাত ঘুরাতাম। বুঝতাম না কোনটা পেইস, কোনটা স্পিন। সেখান থেকেই আস্তে আস্তে ওরকম হয়ে গিয়েছে।’

জাতীয় পর্যায়ের পেইসার হওয়ার যাত্রাটা কোনোভাবেই সহজ ছিল না শরিফুলের। কৃষক বাবার সন্তান জানান ঠিকমতো খাবারও জুটতো না তাদের। সেখান থেকেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করেন তিনি। ক্রিকেট দিয়েই পরিবর্তন করবেন পরিস্থিতির।

‘আমাদের পরিবারের এমন অবস্থা ছিল যে খাবারও ঠিকমত জুটত না। যখন প্র্যাকটিস করতাম, তখন চিন্তা করতাম যে একদিন আমিই পরিবারের অবস্থায় পরিবর্তন আনব। এই লক্ষ্য ছিল যে পরিবারকে সুখে রাখব। জাতীয় দলে খেলব। অনেক পরিশ্রম করেছি। যে স্বপ্নটা আমার ছিল সেটা ধরে রেখেছি।’

ক্রিকেটকেই শরিফুল জীবনের লক্ষ্য বানাবেন, সেটিতে শুরুতে সায় ছিল না পরিবারের। শরিফুল বলেন, ‘আমার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার যাত্রাটা খুবই কঠিন ছিল। পরিবার শুরুতে একদমই সমর্থন করেনি। যখন ক্লেমন পেইস অ্যাকাডেমিতে নিয়ে গেলেন আমার কোচ (আলমগীর কবির), তখন একটু সমর্থন দেয়।’

প্রথম বার যখন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলেন শরিফুল প্রাইম ব্যাংকের হয়ে। চুক্তির টাকা পেলেন চেকের মাধ্যমে। কিন্তু টাকা তুলবেন কীভাবে? তার যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টই নেই!

‘২০১৭ সালে যখন আমি প্রথম বার আমি প্রাইম ব্যাংকে খেলি, ওরা আমাকে আমাকে চেক দিয়েছিল। আমার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টই ছিল না। টাকা উঠাতে পারছিলাম না। পরে এক পরিচিত কর্মকর্তার সহায়তায় একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে তারপর কোনোমতে উঠাতে পারি।’

শরিফুলের অধ্যাবসায়ের ফল মিলেছে। এরই মধ্যে গায়ে চাপিয়েছেন জাতীয় দলের জার্সি। তবে এখনও বাকি ওয়ানডে অভিষেক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই ওয়ানডে দলে জায়গা পাওয়ার প্রত্যাশা তার।

আছেন প্রাথমিক দলেও। ওয়ানডে অভিষেক হলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দেড় বছরের ভেতরই তিন ফরম্যাট খেলে ফেলবেন শরিফুল।

জাতীয় পর্যায়ে খেলার স্বপ্ন সফল হয়েছে তার তবে এখনও বাকি অনেক পথ। সেটি জানেন শরিফুল নিজেও। তার স্বপ্নটা এখন জাতীয় জার্সিতে বহুদূর যাওয়ার।

আরও পড়ুন:
আইপিএল শুধু মুম্বাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
এবারে চেন্নাই সুপার কিংসের ক্যাম্পে করোনা

শেয়ার করুন

পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দে টাইগাররা

পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দে টাইগাররা

ছবি: টুইটার

ছুটিতে একমাত্র সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান ছাড়া সব ক্রিকেটার ঈদের সময় কাটাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গে। করোনা মহামারির মাঝে ছুটি দিনটিতেও সতর্কতা পালন করতে হচ্ছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমদের।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিতে ক্রিকেটারদের জন্য আপাতত ঈদের ছুটির বিরতি। নিজ পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন অধিকাংশ টাইগার। তবে, করোনা মহামারির সময়ে সবাইকে থাকতে হচ্ছে সতর্কতা ও সাবধানতার সঙ্গে।

ছুটিতে একমাত্র সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান ছাড়া সব ক্রিকেটার ঈদের সময় কাটাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গে। করোনা মহামারির মাঝে ছুটি দিনটিতেও সতর্কতা পালন করতে হচ্ছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমদের।

বিশেষ দিনটিতে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজ নিজ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন ক্রিকেটাররা। ঈদের শুভেচ্ছার সঙ্গে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান অনেকে।

বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানের ছবি পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সকলকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা: ঈদ মোবারক। যে যেখানেই আছেন, সুস্থ থাকুন ও পরিবারের সাথে নিরাপদে ঈদ করুন।’

পেইসার তাসকিন আহমেদ ফেসবুকে বাবার সঙ্গে ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘সকলকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা: ঈদ মোবারক। যে যেখানেই আছেন, সুস্থ থাকুন ও পরিবারের সাথে নিরাপদে ঈদ করুন।’ নিজের ছেলের সঙ্গেও একই ডিজাইনের নীল রঙের পাঞ্জাবি পড়া ছবি পোস্ট করেন এই টাইগার।

তাসকিন

দুই অভিজ্ঞ তারকা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমও পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। রিয়াদ লিখেছেন, ‘ঈদের আনন্দে পরিপূর্ণ হোক আপনার ঘর। ফিরে আসুক আবার চিরায়ত উৎসবের ঈদ আমাদের জীবনে।’

মুশফিক লিখেছেন, ‘আল্লাহ আমাদের সবার প্রার্থনা কবুল করুণ। ঈদ মোবারক।’

ছেলে রাফসাদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন পেসার রুবেল হোসেন। বাবা-ছেলের ঈদ উৎসবের ছবির নীচে লিখেছেন ‘ঈদ মোবারক’।

ঈদের ছুটি শেষে ১৭ মে আবারও অনুশীলনে ফিরবেন ক্রিকেটাররা। ১৬ মে দেশে আসছে শ্রীলঙ্কা। দুই দলের তিনটি ওয়ানডে হবে ২৩, ২৫ ও ২৮ মে।

আরও পড়ুন:
আইপিএল শুধু মুম্বাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
এবারে চেন্নাই সুপার কিংসের ক্যাম্পে করোনা

শেয়ার করুন