২৬ ডিসেম্বর, ২০০৪। ক্রিকেট ইতিহাসের ২২০১ নম্বর ওয়ানডে। ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত।
সেই ম্যাচের আগে ওয়ানডেতে সর্বসাকুল্যে ছয় জয় বাংলাদেশের। অন্যদিকে ভারত সর্বশেষ বিশ্বকাপের রানার্সআপ। বাংলাদেশ জয় পাবে, সেটি হয়ত চরম আশাবাদী কোন বাংলাদেশ ভক্তও ভাবেনি।
অথচ হলো সেটিই। আফতাব আহমেদের ফিফটির পর মাশরাফি মোর্ত্তজার অলরাউন্ড নৈপুণ্য অঘটন ঘটিয়ে ১৫ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর বড় কোন দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয় ছিল সেটি।
পাকিস্তানকে হারানোর সেই ম্যাচের পর ৩৭ ম্যাচ জয়হীন ছিল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সেই ধারায় ছেদ আনার পর হংকংয়ের বিপক্ষে একটি জয়। এরপরই সেই ভারত বধ, যেখানে অধিনায়ক ছিলেন হাবিবুল বাশার।
নিউজবাংলাকে বাশার বলেন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের সময় তারা দেশের মাটিতে জয়ের কথা ভাবছিলেন।
‘১৯৯৯ এর চার বছর পর জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে আমরা সেই টানা হারের ধারা ভেঙেছিলাম। জিম্বাবুয়েতে যখন জিতি তখন আমরা বলাবলি করছিলাম যে বাংলাদেশের মাটিতে জিতলে অনেক আনন্দ করতে পারতাম, এখানে তো তেমন কোন বাঙালি ক্রাউডও নেই’-বলেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক।

তবে সেই আক্ষেপ মিটে যায় ভারতের সাথে ম্যাচে। সেদিন দর্শকে উপচে পড়ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। বাশার বলেন, ‘তারপর আসলো ভারতকে হারানোর উপলক্ষ, ঘরের মাটিতে। মাঠে গিয়ে দেখলাম ফুল হাউজ। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ভরা ছিল আর বাইরে মনে হয় দাঁড়ানো দশ হাজার। দেশের মাটিতে এত লোকের মাঝে কখনও খেলিনি। এত মানুষের মাঝে ভারতের মত দলকে হারানো ছিল খুব আনন্দের।’
ম্যাচের আগে অবশ্য জয়ের ব্যাপারে খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না বাশার। তবে জানতেন, ভালো ক্রিকেট খেললে ভারতকে পেছনের পায়ে ঠেলে দেয়া সম্ভব।
‘ভারত খুব বড় দল। তখন আমাদের খেলা এমন ছিল যে আমরা আমাদের সেরাটা চেষ্টা করব এবং যদি সুযোগ পাই, সেটা মিস করব না। আমরা এটিই চেষ্টা করতাম, কারণ তখন তো আমরা খুব বেশি ম্যাচ জিতিনি। খেলার আগে অত আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না। কিন্তু এটা জানতাম, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে ভারতকে পুশ করতে পারব’, বলেন বর্তমানে নির্বাচক বাশার।
সেই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের পথে কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মোহাম্মদ কাইফ। তাকে রান আউট করে বাংলাদেশের জয়ের পথ সুগম করেন রাজিন সালেহ।
নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ওই উইকেটেই আত্মবিশ্বাস পান তারা। রাজিন জানান, সেই রান আউটটি করে দেশের জন্য কিছু করার অনুভূতি পান তিনি।
‘ওই রান আউটটি যখন আমি করি, তখন নিশ্চিত ছিলাম না আউট কি না। ব্যাটসম্যানের চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল আউট। যখন কাইফ আউট হয়ে গেল, আমাদের আত্মবিশ্বাসটা বেড়ে গিয়েছিল যে আমরা ম্যাচটা জিততে পারব। আমি যে রান আউটটা করেছিলাম তখন মনে হয়েছিল যে দেশের জন্য কিছু করতে পেরেছি।’
সেই ম্যাচের পর থেকে বাংলাদেশকে অন্য নজরে দেখতে শুরু করে ক্রিকেট বিশ্ব বলে মনে করেন বাশার। তিনি বলেন, নিজেদের বিশ্বাসও বেড়েছিল সেই জয়ে।
মি.ফিফটি বলে পরিচিত এই সাবেক ব্যাটসম্যান বলেন, ‘বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অনেক বড় ব্যাপার ছিল। আমরা এত বিশ্বাসী ছিলাম না। জিম্বাবুয়েকে হারালাম, বাট আমাদের নিজেদের কাছেও প্রমাণ করার ব্যাপার ছিল যে আমরা বড় দলকে হারাতে পারি। ভারতের মত দলকে যখন হারিয়েছি, তখন সবাই বুঝতে পেরেছে যে এই দলটি আগের মত নেই, বাংলাদেশ সুগঠিত একটি দল। আগে যেমন আমাদের বিপক্ষে খেলার আগে অনেক দল চিন্তা করতো না, সেই ম্যাচের পর বাংলাদেশকে সবাই অন্যভাবে দেখা শুরু করল।’
সেই জয়ের পর বাংলাদেশ ভারতকে আরও হারিয়েছে চারবার। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে, এরপর ২০১২ সালে এশিয়া কাপে। এরপর ২০১৫ সালে টানা দুই জয়ে ভারতের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
On this day 16 years ago, Bangladesh picked up their first ODI win against India.#BCB #RiseOfTheTigers pic.twitter.com/9TOwL43A9U
— Bangladesh Cricket (@BCBtigers) December 26, 2020
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থী। ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপ বন্ধ থাকায় তাদের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সমাধানের খোঁজে দুই অধিদপ্তরে ধরনা দিয়েও কোনো কর্মকর্তার দেখা মেলেনি।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গত ১১ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন স্থগিত করে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর।
হাসপাতাল বন্ধ হওয়ায় ক্লিনিক্যাল ক্লাস বন্ধ হয়ে যায় আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের ইন্টার্নশিপ কোথায় হবে তাও নির্ধারিত হয়নি।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে মাইগ্রেশন নিয়ে একাডেমিক ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারলেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সেই পথও বন্ধ।
বিপাকে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা: কলেজের মোট ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৬ জন ইন্টার্ন এবং ২০৯ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী। তাদের প্রায় সবাই ভারতীয়।
ভারতের মেডিকেল সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, বিদেশে পড়া শিক্ষার্থীদের একই কলেজের অধীন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। অন্য কোথাও ইন্টার্ন করলে দেশে ফিরে ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা নাও মিলতে পারে।
ভারতের কাশ্মির থেকে আসা রেজা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখন অন্য হাসপাতালে মাইগ্রেশন নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। আমাদের কারিকুলাম অনুযায়ী এই হাসপাতাল থেকেই পড়াশোনা শেষ করতে হবে। আমি আট বছর ধরে এখানে আছি। পড়াশোনা শেষ পর্যায়ে। এখন যদি আমাদের পড়াশোনা আটকে যায়, তাহলে এই ডিগ্রি আমার কোনো কাজে আসবে না।’
অধিদপ্তর থেকে হতাশ হয়ে ফিরলেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা: নিজেদের শিক্ষাজীবনের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা। ডিগ্রির বৈধতার জন্য আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের অনুমতি চান তারা।
বিষয়টির সুরাহার জন্য সোমবার স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরে যান বিদেশি শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও দুই অধিদপ্তরের কোনো মহাপরিচালকের দেখা মেলেনি। ফলে হতাশ হয়েই ফিরতে হয় তাদের।
আরেক শিক্ষার্থী খুজাইমা বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে খুবই বিপাকে আছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য দূতাবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কোথাও থেকে সাড়া পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে এখানে এসেছি। এখন যদি তারা আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেন, তাহলে আমরা আরও সমস্যায় পড়ে যাব। আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি তাদের জানাতে এসেছি।’
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের গ্যাঁড়াকলে বিপাকে শিক্ষার্থীরা: বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেখছে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘শুনেছি তারা এসেছিল। তবে আমার অন্য একটি প্রোগ্রাম থাকায় বাইরে ছিলাম। আর হাসপাতাল খুলবে কি না তা মহাপরিচালকই বলতে পারবেন।’
একই কথা জানান অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।
স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘একটি অবহেলার ঘটনায় আইন অনুযায়ী অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিয়েছে। সেটি পুনরায় খোলার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। তাদের আপিলের সুযোগ রয়েছে, সেই সময় এখনো আছে। যদি তারা আপিল করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ একদিকে স্বাস্থ্য সচিব বরাবর আবেদন করেছে, অন্যদিকে আদালতে রিট করেছে। এতে বিষয়টি জটিলতার দিকে গেছে।’
বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদনের বিষয়ে প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘এটি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বলতে পারবে, তারা কী করবে।’
আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের অবস্থান: নিবন্ধন ফেরত পেতে এক মাসের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকলেও সেই পথে যেতে রাজি নয় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ। গত ১৭ জুন মানবিক বিবেচনায় হাসপাতাল খুলে দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুস সবুর বলেন, ‘লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল নয়, আমরা মানবিক দিক বিবেচনায় হাসপাতাল চালু করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছি। আশা করছি, রোগীদের কথা মাথায় রেখে তারা বিষয়টি দেখবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি। আশা করি সপ্তাহ দু-একের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। সরকার যেসব সংস্কারের কথা বলেছে, সেগুলো সম্পন্ন হওয়ার পথে। আশা করছি, দ্রুত খুলে যাবে।’
এর আগে গত ১৪ জুন শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চেয়ে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
দুশ্চিন্তা দেখছে না স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর: স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর। আমরা কলেজ বন্ধ করিনি। কলেজের সঙ্গে যেহেতু শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার বিষয়টি রয়েছে, সে জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, কাজেই এখনই দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পরিস্থিতি কোনদিকে যায় সেটি দেখতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যেহেতু হাসপাতাল থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ কী করছে তা আমরা জানতে চাই। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়ার কিছু নেই।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মেঘনা-গোমতী সেতুতে টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর মঙ্গলবার (২৩ জুন) এই তারিখ ধার্য করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আনিসুল হক, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে মেঘনা-গোমতী সেতুতে ২০১৬ সালে নীতিমালা উপেক্ষা করে ‘কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড’কে (সিএনএস) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। টাকার অঙ্কে কাজের মূল্য নির্ধারণ না করে বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল তুলেছে। দুদক বলছে, এ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় দুদক গত বছর ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকার পর মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোরে সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসসি) জানিয়েছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে।
বিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার ফলে এই সাফল্য এসেছে। এই অনিশ্চিত সময়ে সরকারের এই সমর্থন জাহাজের ক্রু সদস্যদের মনোবল ধরে রাখতে বিশেষ সহায়তা করেছে।
করপোরেশনটি এ ঘটনাকে বাংলাদেশের সামুদ্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, বড় ধরনের পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফলাফলই এ অর্জন।
বর্তমানে জাহাজটি জ্বালানি সংগ্রহ এবং তলার অংশ পরিষ্কার করার (বটম-ক্লিনিং) জন্য ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএসসি।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত ৬৩টি তাজিয়া মিছিল ও শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সোয়া ১১টায় পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার জানান, ১ থেকে ১০ মহররম পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুর বিভাগের ২৮টি ইমামবাড়া থেকে মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল হবে। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্ধারিত রুট ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি মিছিল ও সমাবেশস্থলে ব্যারিকেড, পিকেট, রুফটপ নজরদারি এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। হোসেনি দালানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ড্রোন ও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াট, ক্রাইম সিন টিম ও ডিবির বিশেষ টিম প্রস্তুত থাকবে।
ডিএমপি মোসলেহ্ উদ্দিন জানান, আগামী ২৬ জুন সকাল ১০টা থেকে হোসেনি দালান থেকে ধানমন্ডি লেকের কারবালা পর্যন্ত তাজিয়া মিছিলের নির্ধারিত রুটে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। যানজট এড়াতে নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি বলেন, মিছিলে কোনো ধরনের ধারালো অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ, লাঠি, ব্যাগ, স্যুটকেস বা সন্দেহজনক বস্তু বহন করা যাবে না। নিশানের উচ্চতা ১২ ফুটের বেশি রাখা যাবে না। আতশবাজি, পটকা, উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম এবং ঢাক-ঢোল ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
মোসলেহ্ উদ্দিন বলেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র্যাব এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্বারা প্রতিটি ভেন্যু ও রুটে তল্লাশি করা হবে। ইমামবাড়া বা সমাবেশস্থলগুলোতে আর্চওয়ে গেট ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ ডিজিটাল তল্লাশি এবং ম্যানুয়াল চেকিং নিশ্চিত করা হবে। হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় একটি অস্থায়ী সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, অনলাইন গুজব প্রতিরোধে সাইবার পেট্রোলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং চলবে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইমামবাড়ার নেতৃবৃন্দ, আয়োজক কমিটি, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় পবিত্র আশুরার সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।
এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন আর নেই।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
কবির হোসেনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) দক্ষিণ জোনের আওতাধীন শাহবাগ থানার নবাবপুর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
গত সোমবার (২২ জুন) রাতে নবাবপুর টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এবি ব্যাংকের একটি এসিতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা, পিসি মোক্তার হোসেন, এপিসি শাহীন মিয়া এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। একই সঙ্গে তারা ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে মাইকিং করে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তি ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন, নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সহায়তা করেন এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের শুরুতেই আনসার সদস্যদের দ্রুত উপস্থিতি, সতর্কতামূলক মাইকিং এবং নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের কারণে আগুন পার্শ্ববর্তী দোকান ও অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তারা আনসার সদস্যদের সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকে দিকনির্দেশনায় বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। নবাবপুর টাওয়ারের এ ঘটনাটি তাদের দায়িত্বশীলতা, সাহসিকতা এবং জননিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ফাইল ছবি
চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই আদেশ দেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত আনবে। ৩০ বছর পর মরদেহ উত্তোলন করে কিছুই পাওয়া যাবে না। শুধু শুধু শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আমরা এই মরদেহ উত্তোলনের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।’
আবেদনে বলা হয়, বহুল আলোচিত চিত্র নায়ক সালমান শাহ এর মৃত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেখানেই কবরস্থ আছে। ভিকটিমের মরদেহ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা হবে এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও বারবার লাশ উত্তোলনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি সহ সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাদী মো.আলমগীর কুমকুম এবং মা নিলুফাজামান চৌধুরী ওরফ নীলা চৌধুরীর ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। এজন্য আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহ এর মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্ব সুরতহাল প্রস্তুত এবং ময়না তদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতিসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গেল ২৪ মে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেন।
গত ২০ বছরের অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলে- সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বাদীর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বোন জামাই কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানসহ তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার কথা ছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলে আসেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।
ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়েই তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন। তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন। অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।
মন্তব্য