শহিদ মুশতাককে কিছু দেয়ার উপায় নেই

শহিদ মুশতাককে কিছু দেয়ার উপায় নেই

 নিজের প্রতিষ্ঠা করা সেই আজাদ বয়েজ ক্লাবেই মৃত্যু ঘটে মুশতাকের। ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী তাকে হত্যা করে।

শহিদ মুশতাক আহমেদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ক্রীড়া সংগঠক। ক্রিকেটার তৈরির সূতিকাগার হিসেবে বিখ্যাত ক্লাব আজাদ বয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত হন মুশতাক।

মুশতাকের জন্ম ভারতে। ভারত থেকে বাংলাদেশে (তখনকার পূর্ব পাকিস্তান) আসার পর ক্লাবে ক্লাবে ঘুরতেন মুশতাক। ক্লাব, ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের প্রতি নিখাঁদ ভালোবাসা ছিল তার।

মুশতাককে তার ক্রিকেট জীবনের গুরু মানেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান। আজাদ বয়েজে ক্যারিয়ার শুরু করা রকিবুল নিউজবাংলাকে জানান, মুশতাকের জীবন ছিল ক্রিকেটময়।

‘তার কোনো পরিবার ছিল না, সে বলতে গেলে ম্যারিড টু ক্রিকেট। কোনো লেখাপড়াও নাই। সারাদিন ক্লাবে ক্লাবে থাকতেন। উনি ক্রিকেট-পাগল ছিলেন’, জানান রকিবুল।

নিজের প্রতিষ্ঠা করা সেই আজাদ বয়েজেই মৃত্যু ঘটে মুশতাকের। কারফিউ শেষ হবার পর তার লাশ দেখতে গিয়েছিলেন রকিবুল। অবিচল রকিবুল সেদিন নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি।

‘আমি নিজে তার লাশ দেখেছি। ২৯ মার্চ কারফিউ ওঠার পর আমি গিয়েছিলাম। আমি জীবনে কোনদিন কাঁদিনি। কিন্তু ওনার লাশ দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি’, বলেন তিনি।

শহিদ মুশতাক স্মরণে মিরপুর শের-এ-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ড তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। তবে কৃতি এই মানুষটিকে কোনো রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার দেয়ারও উপায় নেই।

রকিবুল বলেন, ‘বিয়ে করেননি। তার কোনো পরিবার নেই। তার কোনো চিহ্নই নেই। এ কারণে তাকে রাষ্ট্রীয় পুরষ্কারও দেয়া যাচ্ছে না। কারণ রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার দেয়া হলে কে নেবে? তার কোনো উত্তরাধিকারী নেই। তার বাবা-মা কে কোথায় আছে কেউ জানে না’, হতাশা ঝড়ে পড়ে রকিবুলের কণ্ঠে।

তিনি অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানালেন শহিদ আব্দুল হামিদ চৌধুরি জুয়েল ও শহিদ মুশতাকের নামে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দুটি স্ট্যান্ড বানানোর জন্য। সঙ্গে তার কণ্ঠে ঝরলো আক্ষেপ। বললেন, তাদের পরিচিত করানোর জন্য যথেষ্ঠ করেনি বোর্ড।

‘দুঃখের বিষয় হচ্ছে, বিশাল বিশাল ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের নাম হওয়া উচিত এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের নামে। সেটা হচ্ছে না। তারপরও ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ যে তারা শহিদ জুয়েল ও শহিদ মুশতাকের নামে দুটি স্ট্যান্ড করেছে মিরপুর স্টেডিয়ামে। মানুষ চিনবে, শহিদ জুয়েল ও শহিদ মুশতাককে। ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব ছিল ঠিকভাবে তাদেরকে তুলে ধরা’, হতাশা প্রকাশ করেন রকিবুল।

প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা ছাড়াই মুশতাক ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ক্রিকেট প্রেম। মানুষের কাছে ধার করে ক্রিকেট সরঞ্জাম নিয়ে এসে চালাতেন ক্লাব। সেই ক্লাব থেকেই উঠে এসেছেন রকিবুল, শামিম কবিররা।

মুশতাকের মতো সংগঠক বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের ক্রিকেট সূচনালগ্নে আরেকটু এগিয়ে যেতে পারত বলেও মনে করেন রকিবুল।

কিন্তু সেটি হয়নি। হানাদার বাহিনীর নির্মমতার সাক্ষী হয়ে চলে গিয়েছেন মুশতাক, রয়ে গিয়েছে তার ক্লাব আজাদ বয়েজ, আর মিরপুর স্টেডিয়ামে একটি স্ট্যান্ড।

আরও পড়ুন:
বিজয় তাদের চোখেমুখে
স্বাধীন বাংলা ক্রিকেট দলের অসমাপ্ত গল্প

শেয়ার করুন

মন্তব্য