গ্রামটিতে প্রবেশ করলেই কানে ভেসে আসে বাঁশির মিষ্টি সুর। ‘গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ’, কিংবা ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নেই, সে যে ডাকাতিয়া বাঁশি’; কারিগররা কাজের ফাঁকে নিজেদের তৈরি বাঁশিগুলোতে তোলেন এমন সুর। সুরের মূর্ছনায় দূর হয় ক্লান্তি।
বাঁশির সুরের সে গ্রাম শ্রীমদ্দি। কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। ২০০ বছর ধরে এ গ্রামে বাঁশের বাঁশি বানানো ও বিক্রি করা হয়। এই গ্রামের বাঁশি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে ইউরোপ আমেরিকাতেও।
বছরজুড়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাঁশি বানায় গ্রামটির ৪০ পরিবারের সাড়ে তিন শ সদস্য।
শ্রীমদ্দি গ্রামের বাঁশি তৈরির কারিগর আবুল কাশেম। ৪০ বছর ধরে বাঁশি তৈরি করছেন তিনি।
আবুল কাশেম বলেন, বংশ পরম্পরায় এই বাঁশি তৈরি ও বিক্রি করে সন্তানদের লালনপালন করেছেন৷ গত ২০০ বছর ধরে চলে আসছে বাঁশি তৈরি ও বিক্রির কাজ।
আবুল কাশেম বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ এলে আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। রাত দিন সমানে চলে বাঁশি তৈরি ও রং করার কাজ৷ পাইকাররা ভোরবেলা বাড়িতে এসে বসে থাকেন অর্ডার করা বাঁশি নেয়ার জন্য।’
বাঁশ কোথা থেকে সংগ্রহ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল কাশেম বলেন, ‘চট্টগ্রাম, মিরসরাই, বান্দরবান থেকে বাঁশ সংগ্রহ করি। সংগ্রহ করা বাঁশগুলো প্রথমে রোদে দিতে হয়। তারপর আকার আকৃতি দিয়ে বাঁশগুলো কাটি। এরপর সেগুলো গরম পানিতে সেদ্ধ করা হয়। বাঁশ সেদ্ধ না করলে ঘুনে ধরে বাঁশি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
‘সেদ্ধ করার পর সেগুলো কেটে বাঁশি বানানো হয়। বাঁশির ছিদ্র করা হয় ব্যবহার হয় কয়লার আগুন ও লোহার শিক। আমাদের ঘরের বউ ঝিরাও বাঁশি তৈরির কাজে সহযোগিতা করে।’
শ্রীমদ্দি গ্রামের বাঁশির আরেক কারিগর আবদুল করিম জানান, শ্রীমদ্দি গ্রামে তৈরি হয় মোহন বাঁশি, বীণ বাঁশি, ক্যালেনর বাঁশি, পাখি বাঁশি, নাগিন বাঁশি, আড় বাঁশি, সোহন বাঁশি।
৫ টাকা থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে এসব বাঁশি বিক্রি করা হয়।
কারিগর আবুল কাশেম জানান, হোমনার শ্রীমদ্দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছায়ানটের শিল্পীরা যান পছন্দ করে বাঁশি কিনতে।
আবুল কাশেম স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বলেন, ‘আমাদের গ্রাম থেকে বাঁশি কিনে নিয়ে গেছেন শিল্পী বারী সিদ্দিকীসহ আরও বহু গুনি শিল্পীরা।’
বাঁশি কিনতে আসা জামালপুর জেলার ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার বলেন, ‘আমরা যেমন বাঁশি চাই ঠিক তেমন বাঁশি শ্রীমদ্দিতে পাই। বাঁশ সংগ্রহ থেকে শুরু করে বানানো পর্যন্ত সবকিছুতে গুনগত মান অক্ষুন্ন রাখেন এখানকার কারিগররা।’
ঢাকার সাভার থেকে বাঁশি কিনতে যাওয়া ব্যবসায়ী লুৎফুর বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে পহেলা বৈশাখ এলেই আমি চলে আসি শ্রীমদ্দিতে। এখানকার বাঁশি ঠোঁটে নিলেই যেন সুর বের হয়।’
শ্রীমদ্দি গ্রামের বাবুল বিশ্বাস বলেন, ‘গত ১৫-২০ বছর যাবৎ বেশ কয়েক বার এনজিওর মাধ্যমে শ্রীমদ্দির বাঁশি পৌঁছে গেছে সিঙ্গাপুর, লন্ডন, কানাডা, আমেরিকা, জার্মান, নেদারল্যান্ড, ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশে।
‘সেখানে বসবারত বাঙালিরা নিজেরা কেনেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অর্কেস্ট্রাতেও বাংলাদেশের হোমার বাঁশি বাজানো হয়।’
শ্রীমদ্দি গ্রামের বাঁশির কারিগর যতীন্দ্র বিশ্বাস ও তার স্ত্রী রিনা বিশ্বাস জানান, বাঁশি শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের সহযোগিতা লাগবে। সরকার যদি জ্বালানির খরচটা সরবরাহ করতো অথবা সহজ শর্তে ঋণ সরবরাহ করতো তাহলে বাঁশি শিল্পটাকে তারা আরও অনেক দূর নিয়ে যেতে পারতেন।
বাঁশি শিল্পীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমন দে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন যদি জ্বালানি হিসেবে গ্যাস সরবরাহ করা হয় তাহলে খুব ভালো হয়। আমি বাখরাবাদ গ্যাসের সাথে কথা বলেছি। হোমনায় লাইন আছে। এখন বাখরাবাদের ডিজিএমের সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলেছি। আশা করি খুব শিগগিরই ফিডব্যাক পাব।’
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে আক্রমণ শুরু করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের কার্যদিবসে তেলের দাম কমে গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছালেও বুধবার (১০ জুন) বাজার আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের সূচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার তথ্য বাজারে এই উর্ধ্বমুখী প্রভাব ফেলেছে। খবর রয়টার্সের।
বুধবার লেনদেন শুরুর পর লন্ডন বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৩ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.২৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৬৮ সেন্ট বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৮.৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতির নতুন তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা অষ্টম সপ্তাহের মতো হ্রাস পেয়েছে। গত ৫ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে তেলের মজুত ৯১.২ লাখ ব্যারেল এবং পেট্রোলের মজুত ১১.৯ লাখ ব্যারেল কমেছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া ও ইউরোপে জ্বালানি পণ্যের রফতানি বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ মজুত কমে আসায় সেই সক্ষমতা এখন হুমকির মুখে। রফতানি ব্যাহত হওয়ার এই আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের দামকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের (তেজাবী স্বর্ণ) মূল্য হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষিতে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা। এর আগে এ মানের স্বর্ণ ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪২৪ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি স্বর্ণের মূল্যে তৃতীয় দফা পতন। গত ২ জুন ও ৬ জুন দুই দফায় দাম কমানোর পর আজ আবারও মূল্য হ্রাস পাওয়ায় তিন দফায় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম মোট ১৫ হাজার ৩৩৯ টাকা কমেছে।
স্বর্ণের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রূপার দামও কমিয়েছে বাজুস। সবচেয়ে ভালো মানের রূপার দাম ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রূপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় বাজারের সমন্বয় এবং তেজাবী স্বর্ণের দাম হ্রাস পাওয়ার কারণেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাজুসের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন দাম বুধবার সকাল থেকেই সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
ফাইল ছবি
চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ও চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকেরা গত এক সপ্তাহে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন। এর ফলে টাকার সংকটে পড়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকের চাহিদা সামাল দিতে মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ব্যাংকটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে। তবে এখনো টাকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানায়, গত ৩১ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। এরপর গত দুই দিনে আমানতের পরিমাণ আরও কমেছে।
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। একই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর থেকে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে ব্যাংকটির দিলকুশার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে একদল গ্রাহক। গ্রাহকদের ‘যৌক্তিক’ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কয়েক দিনের টানা আন্দোলনে ব্যাংকটির গ্রাাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাতে আতঙ্কিত অনেক গ্রাহক টাকা তুলে নেন। গতকাল নবম দিনের মতো এই আন্দোলন চলে। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীরা বলেন, আর্থিক অনিয়ম ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তারা তাদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম ৮ দিনে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৯৭ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ১২ হাজার ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরিফ হোসেনের দেওয়া তথ্য মতে, গতকাল সোমবার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৩২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। গত বছরের জুন মাসের প্রথম ৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯০ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে সাত দশমিক ৯২ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৮ জুন পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে তিন হাজার ৩৭৩ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৮৪১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফলে নতুন অর্থবছরে বিড়ির দামে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসন-৩ এর সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।
রাশেদা বেগম হীরা জানতে চেয়েছিলেন, তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি, বিশেষ করে বিড়ির খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও এক শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রেখে অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হবে কিনা।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে বিড়ির ক্ষেত্রে মূল্য এবং করহার আগের বছরের ন্যায় অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিনা প্রযুক্তি জায়ান্ট শাওমি বাংলাদেশের বাজারে তাদের নতুন ট্যাবলেট 'রেডমি প্যাড টু' আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ডিভাইসটি মূলত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী, কন্টেন্ট স্ট্রিমার এবং গেমারদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর লক্ষে তৈরি করা হয়েছে। হালকা ও সহজে বহনযোগ্য এই প্যাডটি উন্নত কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের একটি প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। গত ৮ জুন থেকে সারা দেশে শাওমির অনুমোদিত স্টোরগুলোতে এটি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
ডিভাইসটির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর ৯.৭ ইঞ্চির টু-কে (2K) ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ডিসপ্লে। এতে ১২০ হার্জ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভিডিও স্ট্রিমিং ও স্ক্রলিংকে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলে। দিনের আলোতেও স্ক্রিনের দৃশ্যমানতা স্পষ্ট রাখতে এতে রয়েছে ৬০০ নিটস পর্যন্ত ব্রাইটনেস। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের ফলে চোখের ওপর চাপ কমানোর জন্য এতে টিইউভি রেইনল্যান্ড-সার্টিফায়েড আই কমফোর্ট প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য একটি আরামদায়ক ও নিরাপদ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।
শক্তিশালী পারফরম্যান্সের জন্য রেডমি প্যাড টুতে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন সিক্সএস ফোরজি সেকেন্ড জেনারেশন প্রসেসর। নতুন এই প্যাডটি শাওমির নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘হাইপারওএস ৩’-এ পরিচালিত হয়, যা মাল্টিটাস্কিংকে অনেক সহজ ও দ্রুত করে তোলে। বড় ডিসপ্লে ও শক্তিশালী ফিচারের পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ ব্যাকআপ নিশ্চিত করতে এতে ৭ হাজার ৬০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে। শাওমির ইন্টারকানেক্টিভিটি ফিচারের মাধ্যমে অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের সাথে এটি সহজেই যুক্ত করে নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব।
শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, অনবদ্য ডিসপ্লে ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফের কারণে পড়াশোনা, কাজ কিংবা বিনোদনের ক্ষেত্রে রেডমি প্যাড টু একটি আদর্শ ডিভাইসে পরিণত হবে। ট্যাবলেটটি বর্তমানে গ্রাফাইট গ্রে এবং সিলভার—এই দুটি আকর্ষণীয় রঙে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাহকদের ভিন্ন ভিন্ন কানেক্টিভিটির চাহিদা মেটাতে এটি ওয়াইফাই এবং ওয়াইফাই + সেলুলার (ফোরজি)—এই দুটি আলাদা সংস্করণে আনা হয়েছে। উভয় মডেলেই ৪ জিবি র্যাম এবং ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে।
দেশের বাজারে রেডমি প্যাড টু-এর ফোরজি সংস্করণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। অন্যদিকে, শুধুমাত্র ওয়াইফাই সংস্করণের দাম রাখা হয়েছে ২১ হাজার ৯৯৯ টাকা। সাশ্রয়ী মূল্যের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী হার্ডওয়্যারের সমন্বয় ট্যাবলেটটিকে বাজারে বেশ প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রাখবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা। মানসম্মত হার্ডওয়্যার ও নতুন সফটওয়্যারের মেলবন্ধনে রেডমি প্যাড টু গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন ঘটাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে শাওমি কর্তৃপক্ষ।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের ইলেকট্রনিক্স বাজারে ‘গোল্ডেন গোল অফার’ শীর্ষক একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে সনির আনুষ্ঠানিক পরিবেশক স্মার্ট টেকনোলজিস্ (বিডি) লিমিটেড। সোমবার রাজধানীর স্মার্ট টেকনোলজিসের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত চলমান এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের পছন্দের গৃহস্থালি ও প্রযুক্তি পণ্য ক্রয়ে বিশেষ আর্থিক সুবিধা এবং আকর্ষণীয় উপহার লাভের সুযোগ পাবেন। মূলত বিশ্বকাপের আমেজ সাধারণ মানুষের কেনাকাটায় ছড়িয়ে দিতেই এই বিশাল আয়োজন করা হয়েছে।
এই বিশেষ অফারের আওতায় গ্রাহকরা সনি, স্মার্ট, হায়ার, শার্প এবং শাওমির মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের টেলিভিশন, সাউন্ড সিস্টেম, হেডফোন, এয়ার কন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটর কেনার ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় ‘বিশেষ মূল্য সুবিধা’ পাবেন। বিশেষ করে ১০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয় করলে গ্রাহকদের একটি করে স্ক্র্যাচ কার্ড দেওয়া হবে। ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে প্রদান করা এই কার্ডটি ঘষলেই মিলবে ফিফা বিশ্বকাপের প্রিয় দলের জার্সি, ফুটবল, সনি হেডফোন, পাওয়ার ব্যাংক ও এয়ার কুলারের মতো নিশ্চিত সব পুরস্কার।
টেলিভিশন ক্রেতাদের জন্য সনি ব্রাভিয়া মডেলে রাখা হয়েছে আরও বড় চমক। ৫০ ইঞ্চি বা তার চেয়ে বড় সাইজের সনি ব্রাভিয়া টিভি কিনলে ক্রেতারা স্টকের ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিকভাবে একটি আকর্ষণীয় জার্সি উপহার পাবেন। এছাড়া ৬৫ ইঞ্চি বা তার বেশি বড় সাইজের প্রিমিয়াম মডেলের টিভি কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করলে রয়েছে প্রতি সপ্তাহে একটি বিশেষ লাকি ড্রতে অংশ নেওয়ার সুযোগ। এই ড্রয়ের বিজয়ীদের জন্য উপহার হিসেবে থাকবে আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের অফিশিয়াল জার্সি, কাস্টম ক্যাপ এবং বক্সসহ বিশেষ ফিফা বিশ্বকাপ ট্রেনিং বল। সনি-স্মার্ট ইতোমধ্যেই তাদের আউটলেটগুলোতে এই ডিজিটাল নিবন্ধনের জন্য কিউআর-কোড হাব স্থাপন করেছে।
ক্যাম্পেইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সনি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের বাংলাদেশ শাখার প্রধান যশুয়া কুয়েক। অনুষ্ঠানে তিনিসহ স্মার্ট টেকনোলজিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জানান, গ্রাহকদের জন্য উচ্চমানের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের পাশাপাশি বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও রঙিন করতে এই ক্যাম্পেইনটি ডিজাইন করা হয়েছে। সনি বাংলাদেশের এই বিশেষ উদ্যোগটি ফুটবল প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে সনি হোম এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান মাশচাভালিত কেমনুজ মিং এবং স্মার্ট টেকনোলজিসের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ফুটবল প্রেমীদের জন্য সনি-স্মার্টের এই সময়োপযোগী আয়োজন কেনাকাটায় নতুন এক উদ্দীপনা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্যের সাথে ফুটবল বিশ্বকাপের স্মারক উপহার গ্রাহকদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে। দেশজুড়ে বিস্তৃত সনি-স্মার্টের শোরুমগুলোতে বর্তমানে এই অফারটি পুরোদমে কার্যকর রয়েছে এবং গ্রাহকরা আগ্রহের সাথে অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে স্মার্ট টেকনোলজিস দেশীয় বাজারে তাদের শক্তিশালী অবস্থান আরও সংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
মন্তব্য