বোয়ালখালীতে ৭৪ রোহিঙ্গা আটক

বোয়ালখালীতে ৭৪ রোহিঙ্গা আটক

বোয়ালখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন কান্তি দে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বোয়ালখালীতে চলে আসে। তারা লেবু বাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা ৭৪ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানা পুলিশ।

উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের কালন্দর শাহ মাজার গেট এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসা থেকে সোমবার রাত ২টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

বোয়ালখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন কান্তি দে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বোয়ালখালীতে চলে আসে। তারা লেবু বাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম জানান, আটক হওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলার পর আদালতে তোলা হবে।

এর আগে চলতি বছরের ২৬ জুন দিবাগত রাতে বোয়ালখালীর কড়লডেঙ্গা থেকে ৩১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল পুলিশ।

আরও পড়ুন:
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১
বিড়ি কারখানায় নকল ব্যান্ডরোল, আটক ২
ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু, পল্লী চিকিৎসক কারাগারে

‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু, পল্লী চিকিৎসক কারাগারে

শিশুটির বাবা সাইদুল জানান, তার ৯ মাসের ছেলে ইয়ামিন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে রোববার বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক মাসুম তাকে হার্টের চিকিৎসা দিলে ওই দিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

বরগুনায় ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে এক পল্লী চিকিৎসককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বরগুনা আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার দুপুরে ওই চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার শিশুটির বাবা সাইদুল ইসলাম বরগুনা থানায় চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার মামলা করেন। ওই দিন রাতেই তাকে আটক করে পুলিশ।

বরগুনা সদর উপজেলার চালিতাতলী গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল জানান, তার ৯ মাসের ছেলে ইয়ামিন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে রোববার বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান। মাসুম প্রাথমিকভাবে দেখে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষা দেন।

তিন হাজার টাকায় পরীক্ষাগুলো করানোর পর মাসুম রিপোর্ট দেখে তাদের জানান, ইয়ামিনের হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। তাকে পরপর চার দিন চারটি ইনজেকশন দিতে হবে। পরে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৮টার দিকে মাসুম নিজ হাতে একটি ইনজেকশন দেন এবং ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তিনি আরও জানান, ইনজেকশান পুশ করার পর থেকেই ইয়ামিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসক মাসুমকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে তিনি ব্যবস্থাপত্র অনুসারে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন। পরে রাত ৯টার দিকে খিঁচুনি দিয়ে তার ছেলের মৃত্যু হয়।
সাইদুল বলেন, ‘আমার শিশু সন্তান মাসুম বিল্লাহর অপচিকিৎসায় মারা গেছে। আমি এবং আমার পরিবার ওই ডাক্তারের বিচার চাই।’

চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অবশ্য অপচিকিৎসার অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২২ জানুয়ারি বরগুনার নলটোনা এলাকার হাসান নামের একজন তার মায়ের হাত ভেঙে গেলে চিকিৎসক মাসুমের কাছে নিয়ে যান।

হাসানের অভিযোগ, মাসুম তার মায়ের অপচিকিৎসার করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে মাসুম উল্টো তাকে হুমকিধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। মাসুমের চিকিৎসায় তার মায়ের হাত প্রায় অচল হয়ে গেছিল। পরে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে তার মা সুস্থ হন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান জানান, শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসক মাসুমকে জেলার টাউন হল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। দুপুরের দিকে তাকে আদালতের মাধ্যম কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১
বিড়ি কারখানায় নকল ব্যান্ডরোল, আটক ২
ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন

শেয়ার করুন

ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আগুন

ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আগুন

আগুনে পুড়ে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের কাগজপত্র। ছবি: নিউজবাংলা

বরুমচড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর অভিযোগ, ‘আমার বদনাম ছড়ানোর জন্য দুষ্কৃতিকারীরা আমার অস্থায়ী কার্যালয়ের ভেন্টিলেটর দিয়ে কাগজপত্রে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কিছু কাগজপত্র পুড়ে যাওয়া ছাড়া প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেবো।’

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) অস্থায়ী কার্যালয়ে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, ইচ্ছা করে কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের চেষ্টায় আধ ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বরুমচড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ২ বছর স্থায়ী কার্যালয়ে অফিস করেছি। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেখানে আর বসা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ভবন যে তৈরি করব, তার জন্য জমি, বাজেটও নাই। তাই আমার বাসভবনে অস্থায়ী কার্যালয় করেছি।

তার অভিযোগ, ‘আমার বদনাম ছড়ানোর জন্য দুষ্কৃতিকারীরা আমার অস্থায়ী কার্যালয়ের ভেন্টিলেটর দিয়ে কাগজপত্রে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কিছু কাগজপত্র পুড়ে যাওয়া ছাড়া প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেবো।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের দুটি প্রিন্টার, একটি ফটোকপি মেশিন, একটি ল্যাপটপ, একটি ডিজিটাল ক্যামেরাসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পুড়ে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১
বিড়ি কারখানায় নকল ব্যান্ডরোল, আটক ২
ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন

শেয়ার করুন

তিন দিন অনশনের পর বিয়ে

তিন দিন অনশনের পর বিয়ে

স্ত্রী তানিয়া জানান, তিনি এবং হুমায়ুন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আড়াই বছর ধরে তারা ঢাকার একটি বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাস করছিলেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে হুয়ায়ুনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিন দিন অপেক্ষার পর ২১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে হুমায়ুনের বাড়ি এসে অনশন শুরু করেন।

প্রেমের টানে বরিশাল থেকে ছুটে এসেছেন ফরিদপুরে। বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা তিন দিন ছিলেন অনশনে। অবশেষে সেই দাবি মেনে নিলেন প্রেমিক ও তার পরিবার। ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে গাটছড়া বাঁধেন ওই জুটি।

ঘটনাটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের শুবদেবনগর গ্রামের।

স্ত্রী তানিয়া খানমের বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বড়করপাকর গ্রামে। স্বামী হুমায়ুন মোল্লা ফরিদপুরের চতুল ইউনিয়নের শুবদেবনগর গ্রামের।

তানিয়া জানান, তিনি এবং হুমায়ুন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আড়াই বছর ধরে তারা ঢাকার একটি বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাস করছিলেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে হুয়ায়ুনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিন দিন অপেক্ষার পর ২১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে হুমায়ুনের বাড়ি এসে অনশন শুরু করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ২৩ সেপ্টেম্বর নিজের বাড়িতে ফেরেন হুমায়ুন। এদিন রাত ১০টার দিকে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের বিষয়ে চতুল ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কারামত আলী খান বলেন, ‘ছেলের পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বিয়ে পড়িয়েছি। দেনমোহর ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বিয়ের পর হুমায়ুনের বাড়িতে আছেন নবদম্পতি।

আরও পড়ুন:
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১
বিড়ি কারখানায় নকল ব্যান্ডরোল, আটক ২
ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন

শেয়ার করুন

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

জামালপুর রেলওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে ট্রেনের নিরাপত্তার জন্য শুধু একজন কনস্টেবল আসেন। ১৬ থেকে ১৭টি বগি একজন কনস্টেবলের পক্ষে সামলানো মুশকিল।’

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে ‘লুট’, আঘাতে দুজনকে ‘হত্যা’। রাতে দূরের যাত্রায় নতুন নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হলো কি?

এই ঘটনায় পুলিশ যে বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে যাত্রীদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।

যাত্রীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি ময়মনসিংহ অতিক্রম করার পর ডাকাত দল লুটপাট শুরু করে। তারা কামরায় ওঠেনি, উঠেছে ছাদে। নির্বিঘ্নে লুটপাট করেছে তারা। এরপর নেমে গেছে। কেউ বাধাও দিতে পারেনি।

কেন বাধা দেয়া যায়নি, তার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল রেল পুলিশের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে।

জামালপুর রেলওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে ট্রেনের নিরাপত্তার জন্য শুধু একজন কনস্টেবল আসেন। ১৬ থেকে ১৭টি বগি একজন কনস্টেবলের পক্ষে সামলানো মুশকিল।

‘আর ট্রেন যখন চলে তখন অনেক শব্দ হয়। তাই ছাদে কী হচ্ছে বোঝা যায় না। আর ট্রেনটি যখন জামালপুর আসে তখন ছাদে শুধু আহতরাই ছিলেন। যদি ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠেন তাহলে অন্য স্টেশনে উঠেছেন। এই জায়গায় আমাদের করার কিছু নেই।’

ট্রেনের ছাদে ওঠা স্পষ্টত আইনবিরুদ্ধ। আর করোনাকালে আসনের বাইরে কোনো যাত্রী তোলাও নিষেধ। অথচ ট্রেনটিতে যাত্রী ছিল উপচে পড়া, কামরার পাশাপাশি ছাদেও চড়েছেন শত শত মানুষ। অথচ কোনো স্টেশনে তাদের সেখানে উঠতে বাধাও দেয়া হয়নি। এখানে রেলের কর্মীদের দায়িত্বহীনতার প্রসঙ্গটিও সামনে আসে।

এই বিষয়ে এক প্রশ্নে জামালপুর রেলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা তো নতুন কোনো ঘটনা নয়।’

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি ময়মনসিংহ শহর অতিক্রম করার সময় ছাদে দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত যাত্রী রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কমলাপুর থাইক্যা বিকাল ৪টায় কমিউটার ট্রেনে উঠি। টিকিট পাই নাই। আর অনেক ভিড় আছিল। তাই ছাদে উঠি। ছাদে অনেক লোক আছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন গফরগাঁওয়ে আসলাম, তখন ছাদে বেশ কয়েকজন উঠল। গফরগাঁও থাইকে ট্রেন ছাড়ার পর কমপক্ষে সাতজন ট্রেনের সামনে থাইকে ডাকাতি করা শুরু করে। আমি মাঝখানে আছিলাম।

‘পরে আমার এইখানে আইসেও ছুরির ভয় দেখায়ে আমার মোবাইল, মানিব্যাগ সব নিয়ে যায়। অন্ধকার আছিল। তাই ওরা মাস্ক না পরলেও চেহারা দেখা যায় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেনে প্রচুর ভিড় থাকায় আমরা অনেকে ছাদে উঠি। গফরগাঁও থেকে ডাকাতেরা ছাদে ওঠে। যার যা কিছু ছিলে সব নিয়ে গেছে।

‘পরে আমরা কয়েকজন মিল হয়ে কিছু মাল ফেরত চাইতে গেলে আমাদের অনেক মারধর করে। ওই জায়গায় অনেকজন ছিল, কিন্তু কেউ বাধা দেয় নাই। ওদের মাইরে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে আমার আর কিছু মনে নাই।’

মো. ফারুক নামে আরেকজন বলেন, ‘টঙ্গী থেকে ট্রেনের ছাদে উঠি। গফরগাঁওয়ে আসার পর আমাদের ২০-২৫ জনের সব মাল নিয়ে নেয় সাতজন। ওদের হাতে ছুরি ছিল। তাই আমি সব দিয়ে দিছি।

“ময়মনসিংহ আসার পর নাহিদ ভাই (আরেক যাত্রী) আমাদের ডাক দিয়ে বলে, ‘ভাই, চলো যায়ে বলি, টাকাগুলো নিয়ে নেন। মালগুলো দিয়ে দেন। পরে আমি যাই নাই। ওরা গেছে। ওরা যাওয়ার পরেই কারেন্ট চলে গেছে। এমন সময় অন্ধকারে দেহি মারামারি হইতাছে।

“পরে আমি চিৎকার মারলেও ট্রেনের শব্দে কেউ কিছু শুনে নাই। পরে একটা ব্রিজ আইছিল। তহন আমরা শুয়ে পড়ছিলাম। এরপরে উইঠে দেহি ডাকাতরা আর নাই। পরে জামালপুর আসলে আমরা নিচে নাইমে সবাইরে খবর দেই।“

এত যাত্রী মিলে কেন প্রতিহত করা গেল না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রেনের ছাদে অনেকজন ছিলাম। কিন্তু ওদের হাতে ছুরি ছিল। তাই কেউ আগায় নাই।’

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

মৃতদের পরিচয় শনাক্ত

গত রাতে জামালপুরে মৃত অবস্থায় যে দুজনকে পাওয়া যায়, তার একজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে সকালে।

তারা হলেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী মিতালী বাজার এলাকার ওয়াহিদের ছেলে নাহিদ ও জামালপুর শহরের বাগেড়হাটা বটতলা এলাকার হাফিজুর রহমানের ছেলে সাগর।

সাগরের বাবা হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার পুলা ওর বড় বোনকে ঢাকা রাখতে গেছিলে। আমরা জানতাম না যে এই ঘটনা ঘটছে। রাতে বাড়িতে আয় নাই। সারা রাত আমরা পুলারে খুঁজছি।

‘সকালে একজনের মুখে শুইনে আইসে দেখি আমার পুলার লাশ পইড়ে আছে। আমরা এডের বিচার চাই। আমার পুলার দুইডে সন্তান আছে। এহন ওদের কে দেখব।’

ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।’

এসব বিষয়ে ঢাকা জেলা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, কিছু দুষ্কৃতকারীর আক্রমণের আঘাতেই দুজন মারা যায়। আমরা এখন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। আশা করি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

আরও পড়ুন:
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১
বিড়ি কারখানায় নকল ব্যান্ডরোল, আটক ২
ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন

শেয়ার করুন

ঝুমনের মুক্তি কবে

ঝুমনের মুক্তি কবে

সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাস। ফাইল ছবি

আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ঝুমনের ভাই নুপুর দাস বলেন, ‘আদালতের জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে ঝুমন মুক্তি পাবে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববারের দিকে সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছাতে পারে।’

ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের বিতর্কিত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে গ্রেপ্তার ঝুমন দাস আপন জামিন পেলেও কারাগার থেকে এখনও মুক্ত হননি।

সুনামগঞ্জের শাল্লার এই যুবক এখনও আছেন জেলা কারাগারে।

ঝুমনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের জামিন আদেশ কারাগারে না পৌঁছানোয় তার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে অপেক্ষা বাড়ছে ঝুমনের পরিবারের।

আইনজীবীদের ধারণা, রোববার ঝুমনের জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছাতে পারে।

শর্তসাপেক্ষে বৃহস্পতিবার এক বছরের জন্য ঝুমনকে জামিন দেয় হাইকোর্ট।

আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ঝুমনের ভাই নুপুর দাস বলেন, ‘আদালতের জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে ঝুমন মুক্তি পাবে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববারের দিকে সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছাতে পারে। ফলে রোববারের আগে তার মুক্তি মিলছে না।’

সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শরীফুল আলম শুক্রবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঝুমন দাসের জামিনের খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে শুনেছি। তবে এখনও কোনো আদেশ পাইনি।

‘হাইকোর্টের জামিন আদেশ প্রথমে সুনামগঞ্জের নিম্ন আদালতে এসে পৌঁছবে। সেখান থেকে বেইল অর্ডার আসলে আমরা তার মুক্তির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

জেলা আদালতে ঝুমনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাশ।

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের জামিনের কাগজপত্র সুনামগঞ্জে আসার পর আমরা সংশ্লিষ্ট আদালতে জামিননামা দাখিলের আবেদন করব। আদালতের আদেশের কপি কারাগারে গেলেই তিনি মুক্তি পাবেন।’

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার ঝুমনের জামিনের আদেশ দেয়।

ঝুমনকে এক বছরের জন্য জামিন দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে শর্ত দেয়া হয়েছে। শর্তে আরও আছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি যেতে পারবেন না সুনামগঞ্জের বাইরেও।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, নাহিদ সুলাতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘শানে রিসালাত সম্মেলন’ নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। এতে হেফাজতের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বক্তব্য দেন।

এই সমাবেশের পরদিন ১৬ মার্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের ঝুমন দাস। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন।

মামুনুলের সমালোচনাকে ইসলামের সমালোচনা বলে এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন তার অনুসারীরা। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পরদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সকালে কয়েক হাজার লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে হামলা চালায় নোয়াগাঁও গ্রামে। তারা ভাঙচুর ও লুটপাট করে ঝুমন দাসের বাড়িসহ হাওরপাড়ের হিন্দু গ্রামটির প্রায় ৯০টি বাড়ি, মন্দির। ঝুমনের স্ত্রী সুইটিকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

এরপর ২২ মার্চ ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম।

শাল্লায় হামলার ঘটনায় শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম, স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল ও ঝুমন দাসের মা নিভা রানী তিনটি মামলা করেন। তিন মামলায় প্রায় ৩ হাজার আসামি। পুলিশ নানা সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তারা সবাই এখন জামিনে।

শুধু জামিন পাচ্ছিলেন না ঝুমন দাস। বিচারিক আদালতে পাঁচ দফা চার জামিন আবেদন নাকচ করেন বিচারক। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছিল।

এর মধ্যে জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন ঝুমন দাস, পেলেন জামিন।

ঝুমনের স্ত্রী সুইটি রানী দাস বলেন, ‘তার জামিনের খবরে আমরা খুশি। এখন তিনি কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসবেন, এটাই চাই।’

আরও পড়ুন:
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১
বিড়ি কারখানায় নকল ব্যান্ডরোল, আটক ২
ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন

শেয়ার করুন

এক দিনে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ

এক দিনে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদুর রহমান জামিল (বামে) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইমরুল কায়েস। ছবি: নিউজবাংলা

মৃতরা হলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তাহমিদুর রহমান জামিল এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ইমরুল কায়েস।

এক দিনে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

পাবনা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে একজনের ও যশোর থেকে রাত তিনটার দিকে আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার হয়।

মৃতরা হলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তাহমিদুর রহমান জামিল এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ইমরুল কায়েস।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, জামিলের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহীবাগে। তিনি পাবনা শহরের শালগাড়িয়া মেরিল বাইপাস এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, তিনি কোনো একটা বিষয় নিয়ে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন।

ওই ছাত্রাবাসে থাকা সহপাঠীরা বৃহস্পতিবার অনেকক্ষণ জামিলের কোনো সাড়া না পেয়ে তার ঘরের দরজা খুলে মরদেহ ঝুলতে দেখে।

ওসি বলেন, ‘জামিলের মরদেহ ফ্যানের হুকের সঙ্গে গলায় বেল্ট প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলছিল। তার ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে যাতে হতাশার কথা লেখা আছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’

মরদেহ সকালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইমরুলের বাড়ি যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দাপুর গ্রামে।

তার বাবা শহীদুল্লাহ নিউজবাংলাকে জানান, বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে ইমরুল নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত হলেও কোনো মামলা করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১
বিড়ি কারখানায় নকল ব্যান্ডরোল, আটক ২
ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন

শেয়ার করুন

ছুটির দিনেও পাটুরিয়ায় যানবাহনের লাইন

ছুটির দিনেও পাটুরিয়ায় যানবাহনের লাইন

পাটুরিয়ায় দীর্ঘ যানবাহনের সারি। ছবি: নিউজবাংলা

রাজবাড়ীর আকলিমা বেগম বলেন, ‘রোদের মধ্যে গাড়িতে বাচ্চা নিয়ে বসে থাকা কেমন লাগে কন। আমাদের কষ্ট হয় আর বাচ্চাদের অবস্থা তো আরও খারাপ। বিরক্ত হয়ে মাঝেমধ্যে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাহাঁটি করতেছি।’

সাপ্তাহিক ছটির দিনেও যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে। ফেরি পারে যানবাহন ও যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়।

তবে দুপুরের তুলনায় সকালে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনেকটাই কম ছিল।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ২০টি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাহাঙ্গীর নামের একটি রো রো (বড়) ফেরি পাটুরিয়ায় ভাসমান কারখানায় মেরামতে আছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাটুরিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালে প্রায় দুই শ গাড়ি অপেক্ষায়। ঘাট এলাকা থেকে নবগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে দেড় শ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথুলী সংযোগ মোড় এলাকায় প্রায় এক শ পণ্যবাহী ট্রাক পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে রয়েছে।

এ ছাড়া পাটুরিয়ার তিন ঘাটে ও ঘাট এলাকায় দুই শ যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত পরিবহন ফেরি পারের অপেক্ষায় আছে।

ফরিদপুরগামী আব্দুল হালিম বলেন, ‘বেলা দেড়টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে এসে ফেরির জন্য অপেক্ষা করতেছি। এই প্রচণ্ড গরমে বাসে বসে থাকা খুব কষ্টের। তার পরেও বসে আছি, বাড়িতে তো যেতে হবে।’

রাজবাড়ীর আকলিমা বেগম বলেন, ‘রোদের মধ্যে গাড়িতে বাচ্চা নিয়ে বসে থাকা কেমন লাগে কন। আমাদের কষ্ট হয় আর বাচ্চাদের অবস্থা তো আরও খারাপ। বিরক্ত হয়ে মাঝেমধ্যে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাহাঁটি করতেছি।’

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম মো.জিল্লুর রহমান জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তবে জরুরি কাজে নিয়োজিত পরিবহনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হচ্ছে এবং সে যানবাহনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত ছোট গাড়িও পারাপার করা হচ্ছে। জরুরি কাজে নিয়োজিত পরিবহন ও যাত্রীবাহী বাস পারাপারের পর পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়াল অনুযায়ী পার করা হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন:
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১
বিড়ি কারখানায় নকল ব্যান্ডরোল, আটক ২
ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪
ভাসানচর থেকে পালানোর সময় আটক ১১
নৌকাডুবিতে মৃত আরও ৭ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দাফন

শেয়ার করুন