বজ্রপাতে প্রাণ গেল চার শিশু ও তিন যুবকের

বজ্রপাতে প্রাণ গেল চার শিশু ও তিন যুবকের

ভারী বৃষ্টির কারণে এই মাচার নিচে আশ্রয় নিয়েছিল শিশুরা। তখনই বজ্রপাত হয় মাচার উপর। প্রাণ যায় চারজনের। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা সদর ও চিরিরবন্দরে সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বজ্রপাতের এই ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জেলা সদরে মারা গেছে চার শিশু ও চিরিরবন্দরে মৃত্যু হয়েছে তিন যুবকের।

বজ্রপাতে দিনাজপুরের দুই উপজেলায় শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলা সদর ও চিরিরবন্দরে সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বজ্রপাতের এই ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে জেলা সদরে মারা গেছে চার শিশু ও চিরিরবন্দরে মৃত্যু হয়েছে তিন যুবকের।

চার শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন।

তারা হলো ১০ বছরের মিম, ১২ বছরের হাসান, ১৩ বছরের সাজ্জাদ ও ১৬ বছরের আপন।

এ ঘটনায় আহত হয়েছে ১৫ বছরের সাজু এবং ১৬ বছরের মমিনুল ও আতিক।

হতাহতদের সবার বাড়ি ৮ নম্বর নিউটাউন ও রেলঘুন্টি এলাকায়।

কোতোয়ালি থানার এসআই মো. আসাদ জানান, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সদরের নিউটাউন ৮ নম্বর ব্লকের মাঠে ফুটবল খেলতে যায় এলাকার শিশুরা। সে সময় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। বৃষ্টি বেড়ে গেলে মাঠের পাশে একটি ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয় তারা। সেই ছাউনিতে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। আহত শিশুদের সদরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত শিশুদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মমিনুল ও আতিককে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রায় একই সময়ে জেলার চিরিরবন্দরের সুকদেবপুর গুড়িয়াপাড়ায় বজ্রপাতে প্রাণ গেছে তিন বন্ধু আব্দুর রাজ্জাক, আব্বাস আলী ও নুর ইসলামের।

বজ্রপাতে প্রাণ গেল চার শিশু ও তিন যুবকের

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দিকা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি সুব্রত বলেন, বৃষ্টির মধ্যেই দুপুরে গ্রামের একটি পুকুরে মাছ ধরতে যান ওই তিন যুবক। সে সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

তাদের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় আসামির ৭২ বছর কারাদণ্ড

অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় আসামির ৭২ বছর কারাদণ্ড

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুলিশ শুধুমাত্র মোমিনকে আসামি দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে আদালত রায় দেয়। রায়ে আসামি মোমিনকে অপহরণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ধর্ষণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় এক আসামিকে ৬০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক রুস্তম আলী এ রায় দেন। রায়ে আসামিকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

দণ্ডিত মোমিন আকন্দ সদর উপজেলার ধারকি বড়াইল পাড়ার মামুন আকন্দের ছেলে।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি মোমিন ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে রাজি না হওয়ায় ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় স্কুল গেটের সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে মোমিন ও তার ৬ সহযোগী অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট থানায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৩ মাস পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুলিশ শুধুমাত্র মোমিনকে আসামি দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে আদালত রায় দেয়। রায়ে আসামি মোমিনকে অপহরণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ধর্ষণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।

সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু আদালতের আইনজীবী ফিরোজা চৌধুরী। আর আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হেনা কবির।

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। ছবি: নিউজবাংলা

মিছিল শেষে ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁর সুন্দর জীবন, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। ৭৫’ পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার যে প্রক্রিয়া দেশে শুরু হয়েছিল, তার বিপরীতে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ।

আনন্দ মিছিলটি মঙ্গলবার সংসদ ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এসে শেষ হয়।

ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এতে অংশ নেন।

এ সময় নেতা-কর্মীরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল
মিছিলে নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন; ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয় এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

মিছিল শেষে তারা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় সংগঠনের সভাপতি আল-নাহিয়ান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁর সুন্দর জীবন, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। ৭৫’ পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার যে প্রক্রিয়া দেশে শুরু হয়েছিল, তার বিপরীতে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, দেশপ্রেম, সুদক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে আজ বাঙালি জাতি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গতিশীল নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু নিজেকেই নন, বিশ্ব দরবারে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল
সভাপতি আল-নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা এতে অংশ নেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘গণতন্ত্র, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বহু চড়াই-উতরাই, বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে বাঙালি জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে দেশে এসেছিলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

‘সেদিন তিনি এসেছিলেন বলেই আজ জাতির পিতার সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাঙালি জাতি। ভালোবাসা ও সহমর্মিতায় তিনি বাংলার মানুষের প্রিয় এক ভগিনী, অতি আপনজন এবং একজন মমতাময়ী মা।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নতিকে রাজনৈতিক ধ্যানে-জ্ঞানে রেখে তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। জাতির পিতার আদর্শকে বুকে ধারণ করে তাঁর নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে। ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক শেখ হাসিনার জন্মদিনে সুন্দর জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’

শেয়ার করুন

ভোটার হয়ে টিকা নিলেন সন্তু লারমা

ভোটার হয়ে টিকা নিলেন সন্তু লারমা

জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা। ফাইল ছবি

বলা হয়ে থাকে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবিতে এতোদিন ভোটার তালিকায় নাম লেখাননি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

বলা হয়ে থাকে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবিতে এতোদিন ভোটার তালিকায় নাম লেখাননি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

আর এই কারণে তুমুল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, হয়নি ভোটাধিকার প্রয়োগ।

করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থান থেকে সড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। ভাইরাসটির প্রতিষেধক নিতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক হওয়ায় ৭৭ বছর বয়সে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ইতোমধ্যে নিয়েছেন করোনার টিকাও।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘সন্তু লারমা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভোটার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময়ে নির্বাচন থাকায় তাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা যায়নি। পরে ২৯ আগস্ট রাঙামাটি জেলা নির্বাচন অফিসে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাননি। তবে ইতোমধ্যেই ভোটার হয়ে গেছেন।’

ভোটার হওয়ার পর সন্তু লারমা ইতোমধ্যে করোনা টিকা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলার সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা।

এ বিষয়ে সন্তু লারমা ও তার সংগঠনের কারোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য শান্তিচুক্তি হয়। এর শর্ত অনুযায়ী ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে শান্তিবাহিনীর গেরিলা জীবনের অবসান ঘটে সন্তু লারমার।

পরবর্তীতে পার্বত্য চুক্তির শর্তে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় সন্তু লারমাকে মনোনীত করে সরকার।

১৯৪৪ সালের রাঙামাটি নানিয়ারচর উপজেলার মহাপুরম গ্রামে সন্তু লারমার জন্ম।

শেয়ার করুন

নালায় পড়ে মৃত্যু: মেয়র দুষলেন সিডিএকে

নালায় পড়ে মৃত্যু: মেয়র দুষলেন সিডিএকে

সোমবার রাতে নালায় পড়ে নিখোঁজ সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়াস ফার্ভিস। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র বলেন, ‘অবহেলার জন্য, অসতর্কতার জন্য এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। নালার পাশে ফেন্সিং (নিরাপত্তা বেষ্টনি) থাকলে এ রকম দুর্ঘটনা ঘটত না। সিটি করপোরেশনের রেলিং ছিল নালার ওপরে। নালায় স্ল্যাবও ছিল, তবে সিডিএ কাজ করতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলছে। কিন্তু পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এ দুর্ঘটনা ঘটছে।’

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে নালায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী শেহেরীন মাহমুদ সাদিয়ার মৃত্যুর জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অবহেলকে দায়ী করছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

সাদিয়া যেখানে নালায় পড়ে যান সেই আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকা মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পরিদর্শন শেষে এই অভিযোগ করেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘অবহেলার জন্য, অসতর্কতার জন্য এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। নালার পাশে ফেন্সিং (নিরাপত্তা বেষ্টনি) থাকলে এ রকম দুর্ঘটনা ঘটত না। সিটি করপোরেশনের রেলিং ছিল নালার ওপরে। নালায় স্ল্যাবও ছিল, তবে সিডিএ কাজ করতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলছে। কিন্তু পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এ দুর্ঘটনা ঘটছে।’

সিটি মেয়র রেজাউল করিম বলেন, ‘যে কোনো উন্নয়ন কাজ করতে গেলে মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হবে। সিডিএর কাজের কারণে সব ময়লা গিয়ে নালায় পড়ছে। তাই নালায় ময়লা জমে ছিল।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করছে সিডিএ। এগুলো সিটি করপোরেশনের আওতায় নেই। তাই কাজের সময় সবকিছু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের।

‘যেসব সংস্থা উন্নয়ন কাজ করছে তাদের উচিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া। মানুষের জন্যই তো উন্নয়ন। মানুষকে রক্ষা করতে না পারলে উন্নয়ন কীভাবে হবে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে স্ল্যাব বসানোর এখন কোনো সুযোগ নেই। এসব স্থানে সিটি করপোরেশনের স্ল্যাব ছিল। কিন্তু সিডিএ ফুটপাত কেটে ফেলেছে। ফুটপাত ছিল ছয়ফুটের মতো। কিন্তু কেটে সিডিএ দুই-আড়াই ফুট করে ফেলছে। এখানে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু নালায় কোনো ধরনের স্ল্যাবও দেয়নি।

‘দুদিন আগেও কথা সিডিএর সঙ্গে হয়েছে। তাদের বলেছি দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত মানুষ চলাচল করতে পারতেছে না। রাস্তাটা সংস্কার করে দেন। তারা ইটের সুরকি ফেলার কথা বলছে।’

মেয়রের অভিযোগের বিষয়ে সিডিএর অথোরাইজ অফিসার মো. হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। এ সময় তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করে প্রধান ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকায় সোমবার রাত ১০টার দিকে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন শেহেরীন মাহমুদ সাদিয়া।

সাদিয়া নগরীর বড়পোল এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ত।

ফায়ার সার্ভিস রাত সোয়া ১০টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সাড়ে চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে রাত পৌনে ৩টার দিকে ওই নালা থেকেই মরদেহটি উদ্ধার করে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক নিউটন দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে নিখোঁজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেন আমাদের ডুবুরিরা। সন্ধ্যা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় ড্রেনে পানি জমে ছিল। তা ছাড়া ড্রেনটিতে ময়লার স্তূপ রয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সাদিয়ার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।’

নালায় পড়ে মৃত্যু: মেয়র দুষলেন সিডিএকে
সাদিয়াকে খুঁজতে নালায় নামে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সাদিয়ার চাচাতো ভাই মো. রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামা জাকির হোসেন আর নানার সঙ্গে ডাক্তার দেখাতে বের হয় সে। ফেরার সময় আগ্রাবাদ মাজার গেটের পাশে ড্রেনে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে মামা জাকির এবং নানাও লাফ দেন ড্রেনে। কিন্তু তারা উদ্ধার করতে পারেননি।’

মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মারধর করে মরদেহ ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন নিউটন দাশ।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের সদস্যদের মারধর করে মরদেহটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেছেন। এ সময় আমাদের এক কর্মীর মোবাইল ফোনও হারিয়ে গেছে।’

ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করতে দেরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাদিয়ার চাচা বেলাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘সাদিয়া পড়ে গেছে ১০টায়, আমি খবর পেয়েছি সাড়ে ১০টায়। আমরা আসার পরও দেখি ফায়ার সার্ভিস আসেনি। খোঁজাখুঁজি করছি নিজেরা, অনেকক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিস আসে। এখানকার কাউন্সিলরের অফিস খুব একটা দূরে না, তিনি পর্যন্ত একটু খবর নেননি।’

অভিযোগ নাকচ করে নিউটন দাশ বলেন, ‘আমরা সোয়া ১০টায় খবর পেয়ে দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। গণমাধ্যম কর্মীরা দেখেছেন, অনেকে লাইভেও ছিল। এখন বলেন, তারপরও কেউ যদি এভাবে বলে, আমাদের তো কিছুই করার নেই।’

এই ঘটনার আগে ২৫ আগস্ট নগরীর মুরাদপুর এলাকায় নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সবজি ব্যবসায়ী সালেহ আহমেদ। এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান মেলেনি।

তার আগে ৩০ জুন নগরীর ২ নম্বর গেইট এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা চশমা খালে পড়ে এক নারীসহ ২ জনের মৃত্যু হয়।

শেয়ার করুন

ডোবায় যুবকের মরদেহ

ডোবায় যুবকের মরদেহ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় ডোবায় পড়ে ছিল এক যুবকের মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

কামরুলের পরিবার জানায়, সোমবার রাতে কামরুল নয়াবাড়ির আলআমিনের দোকানে যায়। রাত ৯টায় তাকে কল দিলেও রিসিভ করেনি। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লায় তিতাস উপজেলায় দক্ষিণ বলরামপুর নয়াবাড়ি এলাকার পাশের একটি ডোবা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দুপুরের দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মৃত কামরুল ইসলামের বয়স ২৬ বছর। সে তিতাস উপজেলার উত্তর বলরামপুর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে।

কামরুলের পরিবার জানায়, সোমবার রাতে কামরুল নয়াবাড়ির আলআমিনের দোকানে যায়। রাত ৯টায় তাকে কল দিলেও রিসিভ করেনি। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তিতাস থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, কামরুলের মৃগী রোগের সমস্যা ছিল।

তিনি জানান, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহার করা মোবাইল পাওয়া গেছে।

শেয়ার করুন

‘ইব্রাহীম-তত্ত্ব’: ব্যাখ্যা না পেলে আইনি ব্যবস্থা

‘ইব্রাহীম-তত্ত্ব’: ব্যাখ্যা না পেলে আইনি ব্যবস্থা

মুফতি কাজী ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই মুফতি ইব্রাহীম উল্টা-পাল্টা কথা বলে যাচ্ছেন। তিনি প্রথমত করোনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব ছড়িয়েছেন। এরপর আবার ভ্যাকসিন নিয়েও বলেছেন, ছেলেরা ভ্যাকসিন নিলে মেয়ের কণ্ঠ হয়ে যাবে, আর মেয়েরা ছেলে। তিনি আরো বলেছেন, স্বপ্নের মাধ্যমে তিনি করোনাভাইরাসের সব কিছুই আগে থেকে জানতেন। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করছি, তিনি কীভাবে আগে থেকে এত কিছু জানতেন।’

বিভিন্ন সময়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচারের বিষয়ে মুফতি কাজী ইব্রাহীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসব বিষয়ে সদুত্তর না পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ মঙ্গলবার দুপুরে অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই মুফতি ইব্রাহীম উল্টা-পাল্টা কথা বলে যাচ্ছেন। তিনি প্রথমত করোনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব ছড়িয়েছেন। এরপর আবার ভ্যাকসিন নিয়েও বলেছেন, ছেলেরা ভ্যাকসিন নিলে মেয়ের কণ্ঠ হয়ে যাবে, আর মেয়েরা ছেলে। তিনি আরো বলেছেন, স্বপ্নের মাধ্যমে তিনি করোনাভাইরাসের সব কিছুই আগে থেকে জানতেন। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করছি তিনি কীভাবে আগে থেকে এত কিছু জানতেন।’

পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হারুন আরও বলেন, ‘উনি নানা সময়ে তার বক্তব্যে হিন্দুস্তানি দালালের এজেন্ট বলে অনেককে বোঝাতে চেয়েছেন। আমরা তার কাছে জানতে চাচ্ছি, তিনি কাদের দালাল আর এজেন্ট বলছেন। তারা কীভাবে তার দৃষ্টিতে দালাল হলো, কোন ভূমিকার জন্য তাদের দালাল বলা হচ্ছে, সেটাও আমরা তাকে জিজ্ঞেস করছি।

‘পাশাপাশি নানা সময়ে তিনি যেসব ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, অসত্য তথ্য প্রচার করে সাধারণদের বিভ্রান্ত করেছেন- এসব বিষয়েও তাকে প্রশ্ন করা হবে। এসব কারণেই তাকে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তিনি যদি এসবের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সোমবার রাত ১টার পর মুফতি ইব্রাহীম তার ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন। প্রায় ২০ মিনিটের লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, মোহাম্মদপুর জাকির হোসেন রোডে তার বাসায় সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। তিনি আশপাশের সবাইকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে বলেন।

মঙ্গলবার সকালে ডিবি থেকে জানানো হয়, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডিবির একটি বিশেষ দল ইব্রাহীমকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে আটক করেছে।

ফেসবুক লাইভে ইব্রাহীম জানান, দেশের সরকার ও জনগণের কল্যাণে, দেশের স্বাধীনতার জন্য গত দুই জুমার নামাজে খুতবা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে হিন্দুস্তানি রাজাকার ও তাদের এজেন্টরা তার পেছনে লেগেছে। মাঝরাতে বাসায় হামলা করেছে।

সেই লাইভে মুফতি ইব্রাহীম বঙ্গবন্ধুর মতো স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম দেশকে স্বাধীন করার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম দেশকে হিন্দুস্তানি রাজাকারমুক্ত করার সংগ্রাম।

‘দেশের পক্ষে কথা বললেই রাজাকাররা আমাদের ওপর হামলা করে, মামলা দিয়ে হয়রানি করে। দুই সপ্তাহ দেশের পক্ষে কথা বলেছি, আর সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে তারা বলে হুজুর আপনার নামে মামলা আছে। এরা সবাই হিন্দুস্তানি দালাল। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।’

শেয়ার করুন

কর্মসংস্থানে জোর দিন, বাংলাদেশকে আঙ্কটাড

কর্মসংস্থানে জোর দিন, বাংলাদেশকে আঙ্কটাড

প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় চাকরিপ্রার্থীরা। ফাইল ছবি

আঙ্কটাড প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতার সক্ষমতা বাড়ছে। এখন যে সক্ষমতা আছে, এটিকে দ্বিগুণ করতে হলে ১০ বছরে আরও ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে।

দারিদ্র্যকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হলে বাংলাদেশকে ৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে। এটা করতে হবে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাডের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার রাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত ৪৬টি দেশ নিয়ে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।

বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিতে বলেছে আঙ্কটাড।

সংস্থাটি বলেছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নতুন করে অসংখ্য মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। মহামারির বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশকে ওই অর্থ খরচের কথা বলেছে।

আঙ্কটাড প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতার সক্ষমতা বাড়ছে। এখন যে সক্ষমতা আছে, এটিকে দ্বিগুণ করতে হলে ১০ বছরে আরও ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে এ খাতে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে আঙ্কটাড।

অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করতে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি হাতে গোনা কিছু খাত ও পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য না আনতে পারলে বাংলাদেশকে একসময় বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।

তাই সীমিত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ গড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাইলে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি খাতে আগামী ১০ বছরে ১১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হবে, যা মোট জিডিপির ৩১ শতাংশ।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশের সংখ্যা বর্তমানে ৪৬টি। অন্যদিকে ছয়টি দেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। দেশগুলো হলো বতসোয়ানা, কেপভার্দে, মালদ্বীপ, সামোয়া, ভানুয়াতু ও ইকোয়েটরিয়াল গিনি।

বাংলাদেশ, ভুটান, সাও টোমে প্রিনসিপে, অ্যাঙ্গোলা, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ, কিরিবাতি ও টুভালু দেশগুলো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যেতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট (সিডিপি) সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা।

আঙ্কটাড প্রতিবেদনে বাংলাদেশের উন্নয়নে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অম্ভ্যন্তরীণ সম্পদ তথা রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদার করা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ করা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করা।

এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পনীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করে আঙ্কটাড।

শেয়ার করুন