চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথির অভিযোগ

চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথির অভিযোগ

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

‘খবর পেয়ে আমার অসুস্থ স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে ছুটে আসে। সে আসলে তার পেটে লাথি মারেন এক চিকিৎসক। অন্যরা তাকে কিল-ঘুষি মারেন। এ সময় পুলিশ সদস্যদেরও মারধর করেন চিকিৎসকরা।’

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুইমাসের অন্তঃসত্বা নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে।

রোগীর স্বজন ও পুলিশদেরও মারধর করা হয় বলে জানিয়েছেন শজিমেক পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রাকিবুল ইসলাম।

শনিবার রাত ৯টার দিকে শজিমেক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার অন্তঃসত্ত্বা জয়নব বেগম বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নন্দগ্রামের আছলামের স্ত্রী।

আছলাম জানান, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জয়নব বেগম বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার রাতে তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তিনি চিকিৎসকদের বিষয়টি জানান। আছলামের কথা হাসপাতালের কোনো চিকিৎসকই আমলে নিচ্ছিলেন না। এদিকে তার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তিনি আবারও চিকিৎসকদের কাছে ছুটে যান। এক পর্যায়ে চিকিৎসকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর জের ধরেই চিকিৎসকরা আছলামকে বেধড়ক মারধর করেন।

আছলাম বলেন, ‘আমাকে চিকিৎসকরা কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। ওই সময় আমার ছোট ভাই জাকির ছিল। তাকেও মারধর করেন চিকিৎসকরা। এক পর্যায়ে আমাকে একটি ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়েছেন তারা। ওরা (চিকিৎসক-ইন্টার্ন চিকিৎসক) ৫০ জনের মতো ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে অসুস্থ স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে ছুটে আসে। সে আসলে তার পেটে লাথি মারেন এক চিকিৎসক। অন্যরা তাকে কিল-ঘুষি মারেন। এ সময় পুলিশ সদস্যদেরও মারধর করেন চিকিৎসকরা।’

মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই। গিয়ে দেখি আছলাম ও তার স্ত্রীকে মারধর করা হচ্ছে। আমি তাদের বাঁচাতে গেলে চিকিৎসকরা আমাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। ওই সময় আমার সঙ্গে থাকা এটিএসআই আশরাফুল, কনস্টেবল শরীফ ও অরুপকেও মারধর করেন চিকিৎসকরা।’

মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের মারধর করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের হট্টগোল হয়েছিল। ওই সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তারাও হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েন। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি, শুধু ধস্তাধস্তি হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে লাথি মারার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য বগুড়া ইসলামীয়া হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার দেবর জাকির।

আরও পড়ুন:
বগুড়ার ডিসির ফোন নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবি
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ মেম্বারের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণনাশের অভিযোগ, পুলিশ বলছে সত্য নয়
মিঠাপুকুরে ‘জমি দখল’: হামলা-মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
কারখানা দখলের অভিযোগ নিয়ে লাইভে নারী উদ্যোক্তা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি

শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি

শিশুটির বাবা-মা জানান, জন্মের পরই দেখতে পান নবজাতক কন্যার হৃৎপিণ্ড শরীরের বাইরে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শে মেয়েকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে নেয়া হয় ঢাকায়। তবে চিকিৎসা ব্যয় শুনে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনেন বরিশালে।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুকে বাঁচানো গেল না।

স্থানীয় নিউ ডিজিটাল ডায়গনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেল ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এই ক্লিনিকে বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হয় শিশুটির। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়া হয়।

চিকিৎসকরা জানান, হৃৎপিণ্ড শিশুর শরীরের ভেতরে স্থাপন করা সম্ভব। তবে এ চিকিৎসা ব্যয়বহুল। প্রয়োজন হবে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

অর্থের অভাবে এই চিকিৎসা শুরু করতে পারেননি রমেন-অপু দম্পতি। সন্তানকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চেয়েছিলেন তারা।

শিশুটির বাবা-মা জানান, জন্মের পরই দেখতে পান নবজাতক কন্যার হৃৎপিণ্ড শরীরের বাইরে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শে মেয়েকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুটিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। শিশু হাসপাতাল থেকে তাদের পাঠানো হয় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে।

বারডেমের চিকিৎসকরা জানিয়েছিল, শিশুটিকে আইসিইউতে ভর্তিসহ অপারেশনের জন্য খরচ হবে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

চিকিৎসার জন্য এত টাকা না থাকায় পুনরায় শিশুটিকে রোববার ঢাকা থেকে বাড়িতে এনে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন:
বগুড়ার ডিসির ফোন নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবি
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ মেম্বারের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণনাশের অভিযোগ, পুলিশ বলছে সত্য নয়
মিঠাপুকুরে ‘জমি দখল’: হামলা-মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
কারখানা দখলের অভিযোগ নিয়ে লাইভে নারী উদ্যোক্তা

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

ডিনস কমিটির সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছরের ৭ অক্টোবর থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। তবে ৭ অক্টোবরের আগে এবং পূজার সময় ১১-১৬ অক্টোবর কোনো পরীক্ষা হবে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা এ বছরের ৭ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ৭ অক্টোবরের আগে এবং পূজার সময় ১১-১৬ অক্টোবর কোনো সেমিস্টার পরীক্ষা হবে না।

সোমবার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান।

তিনি জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

৭ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় চলতি বছরের ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরীক্ষা ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন বিভাগ সময়সূচি ঘোষণার সঙ্গে রুটিনও প্রকাশ করতে থাকে।

এতে দেখা যায় পূজার ছুটিতেও কিছু বিভাগের পরীক্ষার তারিখ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানান বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের বক্তব্য নিয়ে নিউজবাংলায় সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি আমলে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
বগুড়ার ডিসির ফোন নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবি
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ মেম্বারের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণনাশের অভিযোগ, পুলিশ বলছে সত্য নয়
মিঠাপুকুরে ‘জমি দখল’: হামলা-মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
কারখানা দখলের অভিযোগ নিয়ে লাইভে নারী উদ্যোক্তা

শেয়ার করুন

নির্যাতনের অভিযোগ আসামির, ওসির দাবি ‘হয়রানির শিকার’

নির্যাতনের অভিযোগ আসামির, ওসির দাবি ‘হয়রানির শিকার’

শফিকের অভিযোগ, ওসির বিরুদ্ধে তিনি সংবাদ সম্মেলন করার পর থেকে তার বাসায় প্রতিদিন পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তিনি ‍এখন ‍প্রাণনাশের ভয়ে ‍এলাকা ছাড়া। ‍‍তাকে মাদক ও ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর পায়তারা করছে ওসি। তবে ওসির দাবি, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শফিককে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি।

ওসির দাবি, অভিযোগকারীই তার পিছু লেগে আছেন। কেউ তাকে ব্যবহার করছে।

বরিশালের শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত প্রেসক্লাবে সোমবার বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গত ২৪ আগস্ট শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত প্রেসক্লাবে ও ২৯ আগস্ট মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে আমি ওসি নুরুল ইসলাম বাদলের বিরুদ্ধে হয়রানি ও এলাকার জেলেদের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করি। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ পাঠাই।

‘এরপর থেকে ‍আমার বাসায় প্রতিদিন পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। আমি ‍এখন ‍প্রাণনাশের ভয়ে ‍এলাকা ছাড়া। ‍‍আমাকে মাদক ও ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর পাঁয়তারা করছে ওসি।’

শফিকুল আরও বলেন, ‘আমি ওই ওসির বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশ পুলিশের ‍আইজপি, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি, পিরোজপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগের পর পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ‍আমাকে ডেকে পাঠালে ‍আমি তার কার্য‍ালয়ে যাই। সেখানে ‍আমার লিখিত জবানবন্দি রাখা হয়।

‘এরপর অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজিও আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে কোনো ব্যবস্থা নেননি।’

তবে ওসি বাদল বলছেন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শফিককে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শফিক একটি মামলার নিয়মিত আসামি। তখন থেকে তাকে চিনি। তিনি মারামারি করে একজনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। বাদীপক্ষ বিষয়টি মীমাংসা করতে রাজি না হয়ে মামলা করে। শফিক ওই মামলায় জামিনে আছেন।

‘এরপর থেকেই তিনি আমার পিছু লেগে আছেন। আমি এই থানার ওসি, এখানে অনেক রাজনৈতিক বিরোধ আছে। কেউ হয়তো তাকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।’

আরও পড়ুন:
বগুড়ার ডিসির ফোন নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবি
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ মেম্বারের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণনাশের অভিযোগ, পুলিশ বলছে সত্য নয়
মিঠাপুকুরে ‘জমি দখল’: হামলা-মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
কারখানা দখলের অভিযোগ নিয়ে লাইভে নারী উদ্যোক্তা

শেয়ার করুন

সেলিমা-আমান-শিমুলসহ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিচার শুরু

সেলিমা-আমান-শিমুলসহ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিচার শুরু

বিচার শুরু হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নেতা সেলিমা রহমান, আমান উল্লাহ আমান, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর সরাফত আলী সফু, আজিজুল বারী হেলাল, শওকত মাহমুদ এবং রাজিব আহসান।

রাজধানীর রামপুরা থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।

এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

সোমবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

বিচার শুরু হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নেতা সেলিমা রহমান, আমান উল্লাহ আমান, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর সরাফত আলী সফু, আজিজুল বারী হেলাল, শওকত মাহমুদ এবং রাজিব আহসান।

এ মামলার অন্যতম আসামি শফিকুল বারী বাবু মারা গেছেন। এ কারণে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২৯ অক্টোবর সাক্ষ্য নেয়ার তারিখ ঠিক করেছে আদালত।’

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ২০ দলের ডাকা হরতালের সমর্থনে অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৪৫ জন বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী রামপুরার ডিআইটি রোডের ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন।

তারা আব্দুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা প্রচেষ্টা পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেন। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। এসময় তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কর্তব্যেও বাধা দেন।

এ ঘটনায় রামপুরা থানার এসআই বাবুল শরীফ ওইদিনই মামলাটি করেন। মামলা তদন্ত করে খিলগাঁও জোনাল টিমের এসআই আশরাফুল আলম ৪১ জনকে অভিযুক্ত করে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে আদালতে দুটি আলাদা অভিযোগপত্র দেন।

আরও পড়ুন:
বগুড়ার ডিসির ফোন নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবি
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ মেম্বারের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণনাশের অভিযোগ, পুলিশ বলছে সত্য নয়
মিঠাপুকুরে ‘জমি দখল’: হামলা-মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
কারখানা দখলের অভিযোগ নিয়ে লাইভে নারী উদ্যোক্তা

শেয়ার করুন

কলমিলতা বাজার: ডিএনসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ চান নারী

কলমিলতা বাজার: ডিএনসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ চান নারী

জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে কলমিলতা বাজারের জন্য ক্ষতিপূরণ চান নুরতাজ আরা ঐশী নামের এক নারী। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে ঐশী বলেন, ‘বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। কিন্তু এটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অবৈধভাবে জবরদখল করে আছে। বিষয়টি সাবেক মেয়র আনিসুল হক সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর কারণে সেটি থেমে যায়।’

রাজধানীর বিজয় সরণির কলমিলতা বাজার দখলের অভিযোগ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন নুরতাজ আরা ঐশী নামের এক নারী।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন।

নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদেরের নাতনি পরিচয় দেয়া ঐশী বলেন, ‘বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। কিন্তু এটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অবৈধভাবে জবরদখল করে আছে। বিষয়টি সাবেক মেয়র আনিসুল হক সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর কারণে সেটি থেমে যায়।

‘সে সময় সুপ্রিম কোর্ট ডিএনসিসির পক্ষ থেকে আমাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দেন, কিন্তু বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম সেটি করছেন না। তিনি সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক আমাদেরকে আইন অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করছেন না। তিনি দীর্ঘ একটা সময় পার করছেন। মেয়র আতিকুল ইসলাম আদালতের রায় অমান্য করে চলেছেন। এই অবস্থায় আমরা নিজেরাও আর্থিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। তাই ক্ষতিপূরণটি দ্রুত প্রদানের দাবি আমাদের।’

ভাষানটেক প্রকল্প নিয়ে ঐশী বলেন, ‘ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পটি ২০০৩ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু করেন আমার বাবা। অন্যান্য যেকোনো প্রকল্প থেকে এই প্রকল্পটি এক্সেপশনাল (ব্যতিক্রম)। কেননা এখানে সরকারের একটা টাকা ইনভেস্ট করার প্রয়োজন নেই। প্রকল্পটির ভূমি সরকারি হলেও তার দখলদার ছিল সব বস্তিবাসী। এ সকল বস্তিবাসী নিয়ে সরকার নানাভাবে হিমশিম খাচ্ছিল। তখন আমার বাবা সপরিবারে প্রকল্প থেকে সকলকে কনভেন্স করলেন প্রজেক্টের ব্যাপারে। এরপর ২০১০ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ সম্পাদন করেছেন।

‘আমার দাদার রেখে যাওয়া পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রি করে ও সাধারণ মানুষের দেয়া কিছু অর্থ সহযোগিতায় কাজ করা হয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও প্রকল্পবিরোধী চক্র আমাদের পরিবার ও আমাদের প্রতিষ্ঠান এনএসপিডিএলকে অবৈধভাবে প্রজেক্টছাড়া ও দেশছাড়া করে ২০১০ সালে।’

ঐশীর দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু দাবি করেন ঐশী। এর মধ্যে রয়েছে ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রের দায়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দিতে হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, ভূমি মন্ত্রণালয় ও এনএসপিডিএলের যাবতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন চুক্তি অনুযায়ী সালিশি বোর্ডের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান, শহীদ পরিবার হিসেবে তাদের জানমাল ও সম্পদের সুরক্ষা দেয়া।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঐশীর বাবা ও এনএসপিডিএলের প্রধান আব্দুর রহিম।

আরও পড়ুন:
বগুড়ার ডিসির ফোন নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবি
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ মেম্বারের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণনাশের অভিযোগ, পুলিশ বলছে সত্য নয়
মিঠাপুকুরে ‘জমি দখল’: হামলা-মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
কারখানা দখলের অভিযোগ নিয়ে লাইভে নারী উদ্যোক্তা

শেয়ার করুন

মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, মরদেহ উদ্ধার ১ দিন পর

মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, মরদেহ উদ্ধার ১ দিন পর

রত্না নদীতে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে নিখোঁজ হন মোশারফ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

বানিয়াচং থানার ওসি প্রজিত কুমার দাশ জানান, রোববার সকালে রত্না নদীতে একাই নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যান মোশারফ চৌধুরী। মাছ ধরার একপর্যায়ে তিনি নৌকা থেকে পড়ে তলিয়ে যান। পরে সোমবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে রত্না নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজের ২৮ ঘণ্টা পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নদীর সুনামপুর এলাকা থেকে সোমবার বেলা ১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) প্রজিত কুমার দাশ।

উদ্ধার হওয়া মোশারফ চৌধুরীর বাড়ি উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামে।

ওসি জানান, রোববার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পাশের রত্না নদীতে একাই নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যান মোশারফ। মাছ ধরার একপর্যায়ে তিনি নৌকা থেকে পড়ে তলিয়ে যান।

স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। রোববার তাকে না পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উদ্ধারকাজ স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

ওসি প্রজিত আরও জানান, সোমবার দুপুরে নিখোঁজ হওয়া স্থানের প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে নদীর সুনামপুর এলাকায় যুবকের মরদেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
বগুড়ার ডিসির ফোন নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবি
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ মেম্বারের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণনাশের অভিযোগ, পুলিশ বলছে সত্য নয়
মিঠাপুকুরে ‘জমি দখল’: হামলা-মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
কারখানা দখলের অভিযোগ নিয়ে লাইভে নারী উদ্যোক্তা

শেয়ার করুন

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিন: দুদককে কাদের

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিন: দুদককে কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘দুদককে আহ্বান জানাচ্ছি, আমার মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে পারেন। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো আপত্তি করব না। কোনো হস্তক্ষেপ করব না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বলেছেন, মন্ত্রী হিসেবে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবেন না তিনি।

ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে সোমবার ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘দুদককে আহ্বান জানাচ্ছি, আমার মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো আপত্তি করব না। কোনো হস্তক্ষেপ করব না।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ সামনে এনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মন্ত্রীদেরও এটা অনুসরণ করতে হবে। দুর্নীতি যেন না হয় সে জন্য প্রত্যেকের জায়গা থেকে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। যারা দুর্নীতি করে, অনিয়ম করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অনিয়ম বন্ধে বিআরটিসি কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানে যেতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহারে দুর্নীতি কমে আসে। আমরা বিআরটিসির ক্ষেত্রে বেশ কিছু সেবা অনলাইনে চালু করেছি।

‘শেখ হাসিনা সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কাজেই বিআরটিসির মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি যেন বাসা বাঁধতে না পারে সে ব্যাপারে চেয়ারম্যানসহ সব কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকতে হবে।’

যেকোনো মূল্যে বিআরটিসিকে সুনামের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে বলেও জানান সড়কমন্ত্রী।

লকডাউন শেষে পরিবহনে আবারও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় যাত্রীদের সুবিধায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিআরটিসি রাজধানীর উত্তরায় চক্রাকার বাস সেবা চালু করেছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার পর ধানমন্ডি এলাকায় চক্রাকার বাস সেবা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
বগুড়ার ডিসির ফোন নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবি
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ মেম্বারের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণনাশের অভিযোগ, পুলিশ বলছে সত্য নয়
মিঠাপুকুরে ‘জমি দখল’: হামলা-মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
কারখানা দখলের অভিযোগ নিয়ে লাইভে নারী উদ্যোক্তা

শেয়ার করুন