পরিবেশের দায়িত্ব নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন

পরিবেশের দায়িত্ব নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন

আলোচিত এই আইনজীবী বলেন, ‘আমি এখন মানুষ তৈরির পাশাপাশি, মানুষকে শিক্ষিত করার পাশাপাশি, আমার এলাকার পরিবেশের দায়িত্ব নিতে চাই। যদি পরিবেশ ভালো না থাকে, তাহলে মানুষের মানসিকতা আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়। মানুষগুলোকে মানুষ করা আরও কঠিন হয়ে যায়।’

‘মানুষ তৈরির’ পাশাপাশি নিজ এলাকার পরিবেশের দায়িত্ব নিতে চান দেশের আলোচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

নিজের ফেসবুক পেজে ‘পরিবেশ বাঁচাতে না পারলে মানুষ বাঁচানো কঠিন হবে’ শিরোনামে আপলোড করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা জানান।

ভিডিও বার্তাটি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নিজের বাসভবনের সামনে থেকে ধারণ করেন সুমন। এ সময় নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘সুমন ফুটবল অ্যাকাডেমি’-এর শিশুদের মধ্যে দুটি করে গাছের চারা বিতরণ করেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘আমি এখন মানুষ তৈরি পাশাপাশি, মানুষকে শিক্ষিত করার পাশাপাশি, আমার এলাকার পরিবেশের দায়িত্ব নিতে চাই। যদি পরিবেশ ভালো না থাকে, তাহলে মানুষের মানসিকতা আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়। মানুষগুলোকে মানুষ করা আরও কঠিন হয়ে যায়।’

ব্যারিস্টার সুমন জানান, ফুটবল অ্যাকাডেমির সদস্যদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ২৫০টি গাছ কিনে এনেছেন। এর অর্থায়ন করেছেন তার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু কানাডাপ্রবাসী ব্যবসায়ী নাঈমা নাজারা রহমান।

সুমন বলেন, ‘নিজের এলাকার ছেলেপেলেদের সামনের দিকে মানুষ বানানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এইটার সঙ্গে একটা জিনিস যোগ দিতে চাই। শুধু মানুষ বানাইলেই হইবে না, নিজের এলাকার পরিবেশটা ঠিক রাখতে হইব। এটা ইসলামের দিক থেকেও বলা আছে। আপনে যদি নিশ্চিত হয়ে যান যে আপনে আর বাঁচবেন না, তাও মৃত্যুর আগের দিন পৃথিবীতে একটা গাছ লাগিয়ে যাবেন।’

‘আমরা আজকে অ্যাকাডেমির প্রায় সবগুলো মানুষ একত্রিত হয়েছি এবং অ্যাকাডেমির বাহিরেও লোকজন আছেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের উপজেলায় অনেক গাছ লাগাব।’

আলোচিত এই আইনজীবী বলেন, ‘একটা ছেলেরে যেভাবে মানুষ করা কঠিন, ঠিক একটা গাছকে বড় করা ততটাই কঠিন। আমি আমার অ্যাকাডেমির ছেলেদের দায়িত্ব দিতেছি নিজে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে নিজের এলাকায় গাছ লাগায়।

‘নিজের বাচ্চার মতো মনে করে যেন তারা এই গাছগুলোকে যত্ন করে।…এই আড়াই শ গাছ চুনারুঘাট উপজেলার জন্য কিছু না কিছু ফল দান করবে, ছায়া দান করবে।’

সবশেষে গাছ কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা দেয়ায় কানাডার প্রবাসী বন্ধুকে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:
মোশতাকের বেইমানির ফসল ঘরে তুলেছিলেন জিয়া: ব্যারিস্টার সুমন
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতন করতে ব্যারিস্টার সুমনের চেষ্টা
মায়ের টাকা ফুটবলারদের দিলেন ব্যারিস্টার সুমন
নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনের মামলা পিবিআইতে
সুমনের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল চায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ­

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লোকালয় থেকে উদ্ধার অজগর সুন্দরবনে অবমুক্ত

লোকালয় থেকে উদ্ধার অজগর সুন্দরবনে অবমুক্ত

খুড়িয়াখালী গ্রামের একটি বসতবাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার হয় ২০ ফুটের অজগরটি। ছবি: নিউজবাংলা

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘খুড়িয়াখালী গ্রামের জামাল গাজী নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। এটি সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী পার হয়ে লোকালয়ে চলে এসেছিল।’

বাগেরহাটের শরণখোলায় বসতবাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার ২০ ফুটের একটি অজগরকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

শরণখোলার সুন্দরবন অংশে শুক্রবার দুপুরে সাপটিকে অবমুক্ত করেন বন বিভাগের সদস্যরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন অফিসার আব্দুল মান্নান।

তিনি বলেন, খুড়িয়াখালী গ্রামের জামাল গাজী নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। এটি সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী পার হয়ে লোকালয়ে চলে এসেছিল।

সাপের অবস্থান টের পেয়ে স্থানীয়রা বন সুরক্ষা কমিটির (ওয়াইল্ড টিম ও টাইগার টিম) সদস্যদের খবর দেন। রাতেই তারা বন বিভাগের সহায়তায় সাপটিকে উদ্ধার করেন। শুক্রবার দুপুরে এটিকে অবমুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:
মোশতাকের বেইমানির ফসল ঘরে তুলেছিলেন জিয়া: ব্যারিস্টার সুমন
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতন করতে ব্যারিস্টার সুমনের চেষ্টা
মায়ের টাকা ফুটবলারদের দিলেন ব্যারিস্টার সুমন
নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনের মামলা পিবিআইতে
সুমনের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল চায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ­

শেয়ার করুন

পাহাড়ে ধসে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল

পাহাড়ে ধসে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে পাহাড়ি অঞ্চলে ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ছবি: আনন্দবাজার

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের পর উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি শুরু হয়, যার জেরে এমন পরিস্থিতি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এবং একের পর এক ভূমিধসের ফলে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় সমস্যায় পড়েছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল।

একটানা বৃষ্টির কারণে ভারতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ভূমিধস হয়েছে, বিপর্যস্ত জনজীবন।

বুধবারের পরে বৃহস্পতিবার ও নেমেছে ধস। এতে পাহাড় আর সমতলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ অবস্থায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগিয়েছে প্রশাসন।

ভূমিধসের জন্য শিলিগুড়ি থেকে সিকিম যাওয়ার ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ও শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ রয়েছে।

ফলে জায়গায় জায়গায় আটকা পড়েছেন বহু পর্যটক। অনেকেই মাঝপথে আটকে; যান চলাচল শুরুর অপেক্ষায় বসে আছেন।

দার্জিলিংয়ের ধোতরে, রিম্বিক, মানভঞ্জন, গোক, বিজনবাড়ি এলাকায় ধস নেমেছে। সড়কের একদিক খুলে পর্যটকদের নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। খুব ধীর গতিতে চলছে গাড়ি।

এ অবস্থায় আগামী তিনদিন পর্যটকদের পাহাড়ের দিকে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

শুক্রবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে বলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাসে জানিয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের পর উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি শুরু হয়, যার জেরে এমন পরিস্থিতি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এবং একের পর এক ভূমিধসের ফলে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় সমস্যায় পড়েছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল।

আগ্নেয় বা পাললিক- যে শিলা দিয়েই পাহাড় তৈরি হোক না কেন, মুষলধারে বৃষ্টি হলে পাহাড়ের ফাটলে পানি প্রবেশ করে এবং ভূমিধস অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।

তবে সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিধস বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, মানুষের লোভ আর অজ্ঞতার কারণে পাহাড়ি অঞ্চল হুমকির মুখে পড়েছে।

নির্বিচারে বন ধ্বংস আর পাহাড়ের গাছ কেটে ফেলার ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের সবুজ আচ্ছাদন সরে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচার প্রাকৃতিক ঢাল না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোটা পাহাড়।

নানা অবকাঠামো নির্মাণে জন্য পাহাড়ের মাটি কেটে, নদী-ঝরণার গতিপথে বাধা সৃষ্টি করে, পাহাড়ের প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট করে, মানুষই ধসের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

তারা বলছেন, এমনটাই ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে।

আরও পড়ুন:
মোশতাকের বেইমানির ফসল ঘরে তুলেছিলেন জিয়া: ব্যারিস্টার সুমন
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতন করতে ব্যারিস্টার সুমনের চেষ্টা
মায়ের টাকা ফুটবলারদের দিলেন ব্যারিস্টার সুমন
নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনের মামলা পিবিআইতে
সুমনের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল চায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ­

শেয়ার করুন

বসতবাড়িতে গোখরার ৮ বাচ্চা, বনে অবমুক্ত 

বসতবাড়িতে গোখরার ৮ বাচ্চা, বনে অবমুক্ত 

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকার হাট এলাকার এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে বুধবার রাতে সাপের বাচ্চাগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানান বন কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার গোখরা সাপের ৮টি বাচ্চাকে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ।

উপজেলার পশ্চিমে পাহাড়ি বনে বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে বাচ্চাগুলোকে অবমুক্ত করা হয়।

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকার হাট এলাকার এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে বুধবার রাতে সাপের বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান বন কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে হাটহাজারীর সরকার হাটের বালুরটাল নামক এলাকার একটি বাসা থেকে গোখরা সাপের বাচ্চাগুলো উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিমে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে বাচ্চাগুলো অবমুক্ত করা হয়।’

আরও পড়ুন:
মোশতাকের বেইমানির ফসল ঘরে তুলেছিলেন জিয়া: ব্যারিস্টার সুমন
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতন করতে ব্যারিস্টার সুমনের চেষ্টা
মায়ের টাকা ফুটবলারদের দিলেন ব্যারিস্টার সুমন
নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনের মামলা পিবিআইতে
সুমনের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল চায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ­

শেয়ার করুন

ভারত-নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২০০

ভারত-নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২০০

নেপালের বিরাটনগরে বন্যায় পানিবন্দি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরটিও। ছবি: এএফপি

চলতি বন্যায় ভারত ও নেপাল দুই দেশেই উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রস। নেপালে সংস্থাটির কর্মকর্তা আজমত উল্লা বলেন, ‘নেপাল ও ভারত করোনাভাইরাস মহামারি আর ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ চিড়েচ্যাপ্টা হচ্ছে। কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।’

অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে সোমবার থেকে দুইদিনে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৯৯ জনের। প্রতিবেশী ভারতেও মুষলধারে বৃষ্টির পর বন্যা ও ভূমিধসের ধ্বংসযজ্ঞে ছয়দিনের মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৮৮ জনে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতি মুহূর্তেই দেশ দুটিতে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, পানির তোড়ে ভেঙে গেছে সেতু, ভূমিধসে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বিপুলসংখ্যক বাড়িঘর।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটিতে কমপক্ষে ৪০ জন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে মাঠে রয়েছে উদ্ধারকর্মীরা। প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলেই শঙ্কা তাদের।

পুলিশের মুখপাত্র বসন্ত বাহাদুর কুনওয়ার জানিয়েছেন, নেপালে প্রাণহানির বেশিরভাগই ঘটেছে দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে অঞ্চলগুলোতে।

সন্ধান ও উদ্ধারকর্মীরা বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে এবং আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে। বৃষ্টি-বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কমপক্ষে ৩৫ জন চিকিৎসাধীন আছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর বৃহস্পতিবার বন্যাকবলিত পশ্চিমাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন এবং উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ত্রাণ কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনের শেষভাগ থেকে নেপালে বৃষ্টি কমা শুরু হতে পারে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে হতে প্রায় সপ্তাহখানেক লেগে যেতে পারে।

অন্যদিকে, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় গত শুক্রবার থেকে এবং উত্তরের উত্তরাখণ্ডে রোববার থেকে টানা বৃষ্টির পর বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পাহাড়ি ঢল আর ভূমিধসে কেরালায় কমপক্ষে ৪২ জন আর উত্তরাখণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দুটি রাজ্যেই সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

ভারত-নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২০০
উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে গঙ্গা নদীতে পানি বিপৎসীমার ওপরে। ছবি: এএফপি

ভারতে হিমালয়ের কোলঘেঁষা উত্তরাঞ্চল বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ। বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে হিমবাহ গলতে থাকায় অঞ্চলটিতে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা বাড়ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই উত্তরাখণ্ডে আকস্মিক বন্যায় প্রায় দুই শ মানুষের মৃত্যু হয়। ভেসে যায় অসংখ্য বাড়িঘর। ২০১৩ সালে একই রাজ্যে বন্যায় মারা গেছিল প্রায় ছয় হাজার মানুষ।

আর ২০১৮ সালে প্রলয়ংকরী বন্যার শিকার হয় কেরালা। সে বছর বর্ষার মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে রাজ্যটিতে প্রাণ যায় চার শতাধিক মানুষের, গৃহহীন হয় লাখো মানুষ।

এ বছর বর্ষার মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটিতে। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

চলতি বন্যায় ভারত ও নেপাল দুই দেশেই উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রস। নেপালে সংস্থাটির কর্মকর্তা আজমত উল্লা বলেন, ‘নেপাল ও ভারত করোনাভাইরাস মহামারি আর ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ চিড়েচ্যাপ্টা হচ্ছে। কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।’

আরও পড়ুন:
মোশতাকের বেইমানির ফসল ঘরে তুলেছিলেন জিয়া: ব্যারিস্টার সুমন
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতন করতে ব্যারিস্টার সুমনের চেষ্টা
মায়ের টাকা ফুটবলারদের দিলেন ব্যারিস্টার সুমন
নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনের মামলা পিবিআইতে
সুমনের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল চায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ­

শেয়ার করুন

ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি

ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি

ভারতের উত্তরাখন্ডে বন্যার তোড়ে ভেঙে পড়েছে সেতুটি। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে প্রতিবেশী নেপালেও দেখা গেছে এমন বন্যা। ছবি: এএফপি

এ বছর বর্ষা মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটিতে। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে এবং বন্যা ও ভূমিধসে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

ভারত ও নেপালে ভয়াবহ বন্যায় গত পাঁচ দিনে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১২৮ জনের। নিখোঁজ রয়েছে অনেক মানুষ।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা আর ভূমিধসে বিধ্বস্ত হয়েছে সড়ক, বাড়িঘরসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা।

নিখোঁজদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন কিংবা পানির তোড়ে ভেসে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরাখন্ডে গত তিন দিনে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। শুধু মঙ্গলবারই রাজ্যটিতে মারা গেছেন কমপক্ষে ৩০ জন।

প্রাণহানির বড় অংশই পর্যটন শহর নৈনীতালে হয়েছে। বড় ধরনের ভূমিধসে বাড়ি ভেঙে পড়ায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ গেছে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের। আলমোরা জেলায় বিশাল বিশাল পাথরের খণ্ড আর কাদার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন আরও পাঁচজন।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার আবহাওয়া সতর্কতার পরিসর বাড়ায় ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। তারা জানিয়েছে, অঞ্চলটিতে আরও অনেক বেশি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় সোমবার ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায় নৈনীতাল হ্রদের পানি।

ঋষিকেশে গঙ্গা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কোসি নদী থেকে উপচে পড়া পানির ঢলে বিভিন্ন রিসোর্টে আটকা পড়েছেন শত শত পর্যটক।

এ অবস্থায় রাজ্যটির সব স্কুল বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি সব ধরনের তীর্থযাত্রা ও পর্যটনকেন্দ্রিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পর্বতারোহণ, ক্যাম্পিংসহ সব ধরনের রোমাঞ্চযাত্রা।

সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রিনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রিনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ বলে ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বদ্রিনাথ মহাসড়ক। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি।

আর দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় শুক্রবার থেকে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩৯ ছুঁয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজয়ন। এর মধ্যে বুধবার থেকে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে রয়েছে শঙ্কা।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যের বড় অংশে দুই দিন ধরে জারি ছিল ইয়েলো অ্যালার্ট বা তৃতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। এটি একধাপ বাড়িয়ে অরেঞ্জ অ্যালার্ট বা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতায় উন্নীত করা হয়েছে বুধবার।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শবরীমালা মন্দিরে রাজ্যের সবচেয়ে বড় তীর্থোৎসব স্থগিত করা হয়েছে।

বন্যার তাণ্ডব চলছে প্রতিবেশী নেপালেও। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৪৩ জনের। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩০ জন।

পুলিশের বুধবারের বিবৃতি উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশজুড়ে বন্যা হলেও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে। অনেকেই আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশের মুখপাত্র বসন্ত কুনওয়ার জানান, অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে নেপালের পশ্চিমাঞ্চলের একটি গ্রামে পৌঁছাতে পারছেন না উদ্ধারকর্মীরা। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সেতি নামের গ্রামটিতে দুই দিন ধরে পানিবন্দি ৬০ জন বাসিন্দা।

বাড়িঘরের পাশাপাশি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক সেতু ও সড়ক; ভেঙেও গেছে বেশ কয়েকটি। এতে নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ শস্য।

আগামী কয়েক দিনে দেশটিতে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

এ বছর বর্ষার মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটিতে। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আরও পড়ুন:
মোশতাকের বেইমানির ফসল ঘরে তুলেছিলেন জিয়া: ব্যারিস্টার সুমন
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতন করতে ব্যারিস্টার সুমনের চেষ্টা
মায়ের টাকা ফুটবলারদের দিলেন ব্যারিস্টার সুমন
নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনের মামলা পিবিআইতে
সুমনের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল চায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ­

শেয়ার করুন

অস্তিত্বসংকটে বনমানুষ

অস্তিত্বসংকটে বনমানুষ

বাংলাদেশের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে সারা দেশে ১৩৫টি গ্রুপে প্রায় ৪৬৮টি উল্লুক আছে। ছবি: সাবিত হাসান

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক হাবিবুন নাহার জানান, ১৯৮০ সালের একটি গবেষণার সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৩ হাজার উল্লুক ছিল। এখন আছে ৪৬৮টি। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, মানুষের আগ্রাসনসহ নানা কারণে গত দুই দশকে উল্লুক প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্বে বিপন্ন এবং বাংলাদেশে মহাবিপন্ন উল্লুক। এলাকাভেদে এটিকে বনমানুষও ডাকা হয়। বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রামে এদের বসবাস।

চলতি মাসের ৬ তারিখে ডাইভারসিটি জার্নালে প্রকাশিত বাংলাদেশের উল্লুকবিষয়ক একটি গবেষণায় বলা হয়েছে সারা দেশে ১৩৫টি গ্রুপে প্রায় ৪৬৮টি উল্লুক আছে। সবচেয়ে বেশি উল্লুক আছে মৌলভীবাজারের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনে।

বন বিভাগের অনুমতি ও সহায়তায় আমেরিকার ইউএস ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের অর্থায়নে এই গবেষণা হয়েছে। গবেষকরা দেশের মোট ২২টি বনে এই গবেষণা করেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাবিবুন নাহারের নেতৃত্বে হওয়া এই গবেষণায় জানা গেছে, গত দুই দশকে দেশে উল্লুক কমেছে ৯০ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইউসিএন) তালিকায় বিপন্ন প্রাণী হিসেবে লাল তালিকায় আছে উল্লুক। এর ইংরেজি নাম Western Hoolock Gibbon ও বৈজ্ঞানিক নাম Hoolock hoolock

গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনে প্রায় ১২২টি, পাথারিয়া সংরক্ষিত বনে প্রায় ৯১টি, লাউয়াছড়ায় ৪০টি, সাগরনাল বনে ২টি, হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে ৫টি এবং সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ৯টি উল্লুক পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে উল্লুকের সংখ্যা নির্ণয়, উল্লুকের বসবাসযোগ্য বনের অবস্থা ও সম্ভাব্য বনের তথ্য জানার উদ্দেশ্যে এই গবেষণা করা হয় ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

অধ্যাপক ড. হাবিবুন নাহার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের (UAEU) জীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবির বিন মুজাফফারের নেতৃত্বে এই গবেষণায় অংশ নেন বাংলাদেশের বন্য প্রাণী গবেষক হাসান আল রাজী চয়ন, তানভীর আহমেদ, সাবিত হাসান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিজ জারাদাত।

অস্তিত্বসংকটে বনমানুষ

গবেষক দলের সাবিত হাসান জানান, বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার বন ছাড়াও ভারত (উত্তর-পূর্বাংশ), মিয়ানমার (পশ্চিমাংশ) এবং চীনে (দক্ষিণাংশে) উল্লুক দেখা যায়। নির্বিচারে বন ধ্বংসের কারণে উল্লুকের বাসস্থান, খাদ্যসংকট ও শিকার এদের সংখ্যা হ্রাসের প্রধান কারণ।

সাবিত আরও জানান, উল্লুকের খাবারের তালিকার বড় জায়গাজুড়ে রয়েছে ফল। তারা গাছের কচি পাতা, ফুল ও পোকামাকড় খেয়ে থাকে। গাছের ডালে ঝুলে ঝুলে চলতে পছন্দ করে। যেহেতু তাদের খাবারের বড় জায়গাজুড়েই রয়েছে নানান প্রজাতির ফল, সেহেতু তারা মনকালচার বা সমজাতীয় গাছের বনে থাকতে পারে না।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক প্রাকৃতিক বন কেটে একসময় সেগুন বাগান করা হয়েছে, যেসব বন থেকে উল্লুক হারিয়ে গিয়েছে। সরকারের উচিত এসব বনকে আবারও প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়া এবং যেসব জায়গায় এখনও উল্লুক টিকে আছে, সেসব জায়গাকে টিকিয়ে রাখা ও তদারকি করা।

‘এতে করে উল্লুকের সংখ্যা যেমন সারা দেশে বাড়বে, অন্য অনেক বন্য প্রাণীও সংরক্ষণের আওতায় আসবে।’

গবেষক দলের আরেক সদস্য বানর গবেষক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘যেসব বনে উল্লুক আছে তার বেশির ভাগেই চশমাপরা হনুমান ও লজ্জাবতী বানরসহ নানা বিপন্ন প্রাণীর বসবাস রয়েছে। আমাদের গবেষণা উল্লুক বসবাসকারী বনগুলোকে চিহ্নিত করেছে। সেসব বনে কী পরিমাণ উল্লুক টিকে থাকতে পারে সেটারও একটা স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে।

‘এখন ওই বনগুলোতে উল্লুক সংরক্ষণে সঠিক উদ্যোগ নেয়া হলে তা অন্য প্রাণীদের জন্যও আশীর্বাদ হবে। সে বিচারে সিলেট বিভাগের পাথারিয়া ও রাজকান্দি বনকে উল্লুক অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া জরুরি।’

এই গবেষণা প্রকল্পের ম্যানেজার ও গবেষক হাসান আল রাজি জানান, কিছু বনে উল্লুকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে ভালো থাকা আপাতদৃষ্টিতে ভালো মনে হলেও তা আসলে খুব বেশি খুশির খবর না। উল্লুক পাওয়া যায় এমন সব বনই আসলে ছোট ছোট দ্বীপের মতো, একটি অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন। এতে করে এক বনের উল্লুকের সঙ্গে অন্য বনের উল্লুকের কোনো রকম যোগাযোগ হয় না।

এ কারণে জিনগতভাবেও এক বনের উল্লুকেরা অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। জিন প্রবাহ না থাকায় টিকে থাকা উল্লুকদের মাঝে জিনগত বৈচিত্র্যতা কমে যাচ্ছে। এটি উল্লুকদের জন্য একসময় বড় ধরনের হুমকি হতে পারে।

হাসান জানান, জিনগত বৈচিত্র্যতা কম হলে যেকোনো ধরনের দুর্যোগে, যেমন রোগবালাই বা আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে, সব প্রাণীর একসঙ্গে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি বলেন, ‘এসব কারণে উল্লুকের জিনগত গবেষণা এখন সব থেকে জরুরি। সেই সঙ্গে আমাদের ভেবে দেখতে হবে কীভাবে এই বিচ্ছিন্ন উল্লুকের পপুলেশনের মাঝে একটা যোগাযোগ তৈরি করা যায়।’

গবেষক দলের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুন নাহার জানান, ১৯৮০ সালের একটি গবেষণার সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৩ হাজার উল্লুক ছিল। এখন আছে ৪৬৮টি। একসময় সিলেট বিভাগের হাজারিখিলসহ কয়েকটি বনে উল্লুক থাকলেও এখন নেই। সবচেয়ে বেশি উল্লুক পাওয়া গেছে মৌলভীবাজারের রাজকান্দি এবং পাথারিয়া রিজার্ভ ফরেস্টে।

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, মানুষের আগ্রাসনসহ নানা কারণে উল্লুকগুলো হয় অন্যত্র চলে গেছে, নয়তো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়েছে। তবে নিশ্চিত করে সেটা বলা কঠিন। নিশ্চিত করতে হলে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। সবচেয়ে জরুরি এদের সংরক্ষণ, কারণ গত দুই দশকে এর সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।’

এই গবেষণা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘মৌলভীবাজারের পাথারিয়া ও রাজকান্দিতে এত উল্লুক পাওয়া ভালো খবর। উল্লুক অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন। আমার অফিস থেকে এর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করা হবে।

‘আমরা উল্লুকের বিষয়ে সচেতন। কিছু দিন আগে লাউয়াছড়ায় উল্লুক চলাচলের জন্য বিশেষ ধরনের সেতু তৈরি করা হয়েছে। তাই উল্লুক রক্ষায় কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
মোশতাকের বেইমানির ফসল ঘরে তুলেছিলেন জিয়া: ব্যারিস্টার সুমন
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতন করতে ব্যারিস্টার সুমনের চেষ্টা
মায়ের টাকা ফুটবলারদের দিলেন ব্যারিস্টার সুমন
নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনের মামলা পিবিআইতে
সুমনের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল চায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ­

শেয়ার করুন

বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

উত্তরাখন্ডের কোসি নদীর পানিতে ডুবে আছে সড়ক ও যানবাহন, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা। ছবি: এনডিটিভি

বিখ্যাত মল রোড, নয়না দেবী মন্দির বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কেদারনাথ মন্দির থেকে ফেরার পথে আটকা পড়া ২২ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ অবস্থায় হিমালয়ের কোলঘেঁষা অঞ্চলটিতে প্রায় সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রীনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রীনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

ভারতের উত্তরাখন্ডে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৩৪ জনে। মৃত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি চার লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।

বন্যায় যারা বাড়িঘর হারিয়েছে, তাদের ১ লাখ ৯০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। গবাদিপশু ও কৃষিজমি হারানো ব্যক্তিদেরও সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে নিখোঁজ অনেকে, তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা তৃতীয় দিনের মতো বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যটিতে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় হেলিকপ্টারে চড়ে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। বন্যায় বাড়িঘর ও সেতুসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর তিনটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।’

ধামির সঙ্গে পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পাহাড়ি রাজ্যটিতে বন্যার তোড়ে সড়ক, ভবন ও সেতু তলিয়ে এবং ভেঙে গেছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বেশ কিছু নদীতে।

ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পর্যটন শহর নৈনীতালের। বন্যায় মৃতদের মধ্যে মঙ্গলবার শুধু নৈনীতালেই ভবনধসে প্রাণ গেছে কমপক্ষে সাতজনের, উধাম সিংনগরে বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন একজন। এদিন প্রাণ গেছে মোট ১১ জনের।

পাঁচজন মারা গেছেন সোমবার, যাদের মধ্যে তিনজন নেপাল থেকে আসা শ্রমিক।

২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে নৈনীতাল হ্রদের পানি। কালাধুঙ্গি, হালদোয়ানি ও ভাওয়ালিসংলগ্ন সড়কগুলোতেও ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বদ্রীনাথ মহাসড়কে।

রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনী এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিখ্যাত মল রোড, নয়না দেবী মন্দির বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি হোস্টেল। কেদারনাথ মন্দির থেকে ফেরার পথে আটকা পড়া ২২ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ অবস্থায় হিমালয়ের কোলঘেঁষা অঞ্চলটিতে প্রায় সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রীনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রীনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি।

বন্ধ রয়েছে রাজ্যের সব স্কুল। পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পর্বতারোহণ, ক্যাম্পিংসহ সব ধরনের রোমাঞ্চযাত্রা।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মোশতাকের বেইমানির ফসল ঘরে তুলেছিলেন জিয়া: ব্যারিস্টার সুমন
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতন করতে ব্যারিস্টার সুমনের চেষ্টা
মায়ের টাকা ফুটবলারদের দিলেন ব্যারিস্টার সুমন
নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনের মামলা পিবিআইতে
সুমনের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল চায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ­

শেয়ার করুন