দর্শনাথীদের জন্য খুলল বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

দর্শনাথীদের জন্য খুলল বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে খুলে দেয়া হয়েছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। ছবি: নিউজবাংলা

সাফারি পার্ক প্রকল্প পরিচালক ও উপপ্রধান বন সংরক্ষক জাহিদুল কবির বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও ধারণক্ষমতার অর্ধেক দর্শনার্থীর জন্য সুযোগ রেখে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক ও ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানসহ (ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক) বন বিভাগের সব বিনোদন কেন্দ্র শুক্রবার থেকে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।’

দীর্ঘ সাড়ে চার মাস বন্ধ থাকার পর শুক্রবার থেকে খুলে দেয়া হয়েছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে সকালে পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে গত ৩ এপ্রিল সাফারি পার্ক বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান শুক্রবার সকালে নিউজবাংলাকে পার্ক খোলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে চলতি বছরের ৩ এপ্রিল থেকে পার্কটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার থেকে পার্কটি আবারও খুলে দেয়া হয়েছে।

‘এখন থেকে দর্শনার্থীরা আগের নিয়মে পার্কে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে মানতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি।’

তবিবুর রহমান বলেন, গত বছরের ২০ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কারণে প্রথমবারের মতো পার্কটি বন্ধ রাখা হয়। পরে ১ নভেম্বর থেকে পার্কটি খুলে দেয়া হয়।

সাফারি পার্ক প্রকল্প পরিচালক ও উপপ্রধান বন সংরক্ষক জাহিদুল কবির বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও ধারণক্ষমতার অর্ধেক দর্শনার্থীর জন্য সুযোগ রেখে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক ও ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানসহ (ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক) বন বিভাগের সব বিনোদন কেন্দ্র শুক্রবার থেকে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।’

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পার্কটিতে দর্শনার্থীদের আসার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম
করোনায় ফের বন্ধ সাফারি পার্ক
সুমন-সুমনার ঘরে এলো চমক
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক খুলছে রোববার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

প্রতীকী ছবি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।’

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী একটি স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ‘জাতিসংঘ ফুড সিস্টেমস সামিট ২০২১’ শীর্ষক সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

ওই সময় একটি বৈশ্বিক জোট ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে খাদ্যের অপচয় কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত খাবার পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার, যা সকল নাগরিকের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সংযুক্ত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।’

শেখ হাসিনা তার পরামর্শে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি উন্নয়নের জন্য গবেষণা, বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই খাদ্যব্যবস্থা অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বর্ধিত তহবিল প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা টেকসই নিরাপত্তা অর্জনে প্রযুক্তি শেয়ারিংসহ জলবায়ুজনিত চরম ঘটনাগুলোর সঙ্গে অভিযোজনের জন্য প্রতিশ্রুত তহবিল ছাড়েরও পরামর্শ দেন।

এ শীর্ষ সম্মেলনে আয়োজনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামারি পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে এই অনুষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে আমাদের জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনায় সমন্বিত খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরকে একটি সমন্বিত কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, জাতীয় কৃষি নীতি-২০১৮, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি-২০২০ এবং এর কর্মপরিকল্পনা (২০২১-২০৩০) দেশের খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দেয়।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছি এবং আমরা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘনঘন চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ এই গতিবেগকে প্রভাবিত করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বৈশ্বিক নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আমরা সবার জন্য মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা জোরদার করেছি।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম
করোনায় ফের বন্ধ সাফারি পার্ক
সুমন-সুমনার ঘরে এলো চমক
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক খুলছে রোববার

শেয়ার করুন

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ 

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ 

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ৪০০ থেকে ৫০০ বছর আগের কুতুবশাহী মসজিদটিকে ১৯০৯ সালে সংরক্ষিত পূরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

মসজিদটিতে ৩৫ বছর ধরে খাদেমের দায়িত্ব পালন করছেন হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ। তিনি জানান, হযরত শাহ কুতুব ইয়ামিনী (র.) ৫৯০ হিজরিতে আরবের ইয়ামীন প্রদেশ থেকে ১২ জন সফরসঙ্গী নিয়ে এখানে আসেন ইসলাম প্রচারের জন্য। এখানে তার কবর রয়েছে। ধারণা করা হয় তার অনুসারীরা পরবর্তী সময়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হাওরের জন্য বিখ্যাত হলেও সেখানে আছে ঐতিহাসিক নানা স্থান। তার মধ্যে অন্যতম কুতুবশাহী মসজিদ।

৪০০ থেকে ৫০০ বছর আগের মসজিদটিকে ১৯০৯ সালে সংরক্ষিত পূরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে এত দিন ঐতিহাসিক নিদর্শনটি দেখতে যেত কম মানুষই।

সম্প্রতি হাওরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার পর সেখানে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। ২০২০ সালের ৪ আগস্ট মসজিদটিকে সংস্কারও করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে ময়মনসিংহসহ ওই এলাকার সবচেয়ে পুরোনো স্থাপনা হিসেবে ধরা হয়। এর নির্মাণশৈলীতে রয়েছে সুলতানি ও মোগল আমলের ছাপ।

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ

দুই সময়ের নির্মাণশৈলী ও কোনো নির্মাণফলক না থাকায় মসজিদটি নির্মাণের সময় নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মসজিদটি ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে বলে মনে করেন।

অন্যদের দাবি, এটি সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে নির্মিত হয়েছে বলেই মসজিদটিতে সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

হযরত শাহ কুতুব ইয়ামিনীর (র.) মাজার রয়েছে মসজিদটির পাশে। তার নামেই এ মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, তার অনুসারীরা মসজিদটি নির্মাণ করেন।

কারুকার্যখচিত আয়তকার মসজিদটির বাইরের দেয়ালে আছে পোড়ামাটির চিত্রফলক, প্যানেলে আছে কারুকাজ। মসজিদের ছাদে পাঁচটি গম্বুজের মধ্যে মাঝেরটি বড়। বাকি চারটি একটু ছোট। এর উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুটি করে চারটি এবং পূর্ব পাশে তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে। এগুলো সুলতানি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ।

এ ছাড়া মসজিদের পূর্ব পাশের প্রবেশপথের বিপরীতে তিনটি মেহরাব রয়েছে। মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে কুতুবশাহের কবর। মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে আরও পাঁচটি কবর। এগুলো কুতুবশাহের সফরসঙ্গীদের বলে কথিত আছে। মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে ২০ জন খাদেমের কবরও রয়েছে।

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ

মসজিদটিতে ৩৫ বছর ধরে খাদেমের দায়িত্ব পালন করছেন হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ। কিছুদিন আগে তিনি চেরাগী খাদেমের দায়িত্ব পেয়েছেন।

তিনি জানান, এই মসজিদে আরও ৭ খাদেম রয়েছেন। তারা সবাই বংশপরম্পরায় দায়িত্ব পেয়েছেন। বর্তমানে খাদেমদের মধ্যে সবার মুরব্বি মরসন্দ আলী শাহ ফকির। তিনি অসুস্থ থাকায় এখন দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল আজিজ।

আব্দুল আজিজ জানান, হযরত শাহ কুতুব ইয়ামিনী (র.) ৫৯০ হিজরিতে আরবের ইয়ামীন প্রদেশ থেকে ১২ জন সফরসঙ্গী নিয়ে এখানে আসেন ইসলাম প্রচারের জন্য। এখানে তার কবর রয়েছে। ধারণা করা হয়, তার অনুসারীরা পরবর্তী সময়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দাদাদের মুখ থেকে শুনেছি, ইংরেজ শাসনামলেও এই মসজিদে একটি শিলালিপি ছিল। পরে ইংরেজরা সেই শিলালিপিটি গায়েব করে ফেলে। ফলে এর সঠিক ইতিহাস কেউ বলতে পারে না।’

মসজিদের আরেক খাদেম হযরত মাওলানা আবদুস সামাদ শাহ ফকির জানান, ১৯০৯ সালে সরকার ঐতিহাসিক এই মসজিদটিকে সংরক্ষিত পূরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করলেও যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় স্থানীয় লোকজন ছাড়া সেখানে বাইরের কেউ তেমন যেত না। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় প্রতিদিনই দর্শনার্থী আসেন।

তিনি আরও জানান, প্রতিবছরের মাঘ মাসের শেষ শুক্রবারে এখানে ওরস শরিফ পালন করেন তারা। এ ছাড়া বুধবারে মাজারে কোরআন খতম এবং মাজারে গিলাফ ছড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার হয় ওয়াজ মাহফিল।

আবদুস সামাদ বলেন, ‘প্রতিবছরই এ অনুষ্ঠানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ এখানে জড়ো হন। অনেকে এখানে এসে মানত করে যান। মনের বাসনা পূরণ হলে মসজিদে এসে মানত পূরণ করেন। পুরো উপজেলার বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি এই মসজিদ জিয়ারতের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন।’

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট কুতুবশাহী মসজিদটি বাংলার সুলতানি ও মোগল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে নির্মিত।

বিখ্যাত দরবেশ কুতুব শাহের নামানুসারে আয়তকার মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণ দিকে দৈর্ঘ্য ৪৬ ফুট ১১ ইঞ্চি এবং পূর্ব-পশ্চিমে ২৭ ফুট ১১ ইঞ্চি। বাংলার চৌচালা ঘরের চেয়ে এর কার্নিশগুলো বেশি ঢালু। মসজিদের চার পাশে আট কোণ বিশিষ্ট চারটি মিনার রয়েছে।

অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল আলম বলেন, ‘কুতুবশাহী মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য। এই মসজিদের দেখভাল করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। তাদের নির্দেশনা ছাড়া আমরা মসজিদে কোনো কাজ করতে পারি না।

‘তবে মূল স্ট্রাকচারের বাইরে সৌন্দর্যবর্ধন বা রাস্তাঘাট, ওয়াশরুম বা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজগুলো করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আমার স্থান থেকে মসজিদটির সৌন্দর্যবর্ধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম
করোনায় ফের বন্ধ সাফারি পার্ক
সুমন-সুমনার ঘরে এলো চমক
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক খুলছে রোববার

শেয়ার করুন

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

খাগড়াছড়ি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসেছিলেন সুমন চাকমা। তবে সে আশা পূরণ হয়নি তার।

সুমন চাকমা বলেন, ‘রাঙামাটির কাছে খাগড়াছড়ি হলেও কম আসা হয়। সেতুতে ঘুরতে এসে দেখলাম পানির নিচে ডুবে গেছে। এত কষ্ট করে এসেও কোনো লাভ হলো না।’

প্রতি বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে ডুবে যায় রাঙামাটির পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। এ সময় সেতুর পাটাতনের প্রায় ছয় ইঞ্চি ওপরে উঠে আসে হ্রদের পানি। নিষেধাজ্ঞা দিতে হয় চলাচলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সেতু ডুবলে পারাপারের জন্য নৌকা ছাড়া উপায় থাকে না তাদের। কমে যায় পর্যটকের আনাগোনাও।

এসব কারণে প্রতিবছর স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকও বিপাকে পড়ছেন। তারা অপেক্ষায় থাকেন কখন সেতু থেকে পানি নেমে যাবে।

অভিযোগ উঠেছে, ১৯৮৬ সালে অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করায় এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্মাণের সময় যদি সেতুর উচ্চতা বাড়ানো হতো, তাহলে হয়তো এমন বেহাল হতো না ।

সোমবার গিয়ে দেখা যায়, রাঙামাটি তবলছড়ি এলাকার দুই দ্বীপের দুই পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঝুলন্ত সেতুটি। তবে কয়েক দিন টানা হালকা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়েছে। ডুবে গেছে সেতুটিও।

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’


এ কারণে হতাশ পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন । নৌকা দিয়ে এপার থেকে ওপারে পার হচ্ছেন তারা। একদিকে বেড়েছে ভোগান্তি, অন্যদিকে পারাপারে দিতে হচ্ছে টাকা।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানালেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেতু দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

তিনি বললেন, ‘পানি নেমে গেলে আবারও আগের মতো স্বাভাবিক করে দেয়া হবে।’

সেতু দেখতে ঢাকা থেকে এসেছেন তানজিদা ও রাসেল।

তানজিদা বলেন, ‘লকডাউন খুলে দেয়ায় অনেক আশা নিয়ে রাঙামাটিতে এসেছি। ঝুলন্ত সেতু দেখার ইচ্ছা ছিল খুব। এত সুন্দর রাঙামাটি। তবে সেতুটি এভাবে দেখব কখনও ভাবতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কার করে যদি সেতুটির উচ্চতা বাড়ানো যায়, তাহলে কোনো পর্যটক পরে বেড়াতে এসে হতাশ হবেন না।’

সেতু এলাকায় নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, ‘সেতুটির ডুবে যাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি সেতুটিতে বড় ধরনের কাজ করতে হয়, তাহলে আগামী বছর জেলা পরিষদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম
করোনায় ফের বন্ধ সাফারি পার্ক
সুমন-সুমনার ঘরে এলো চমক
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক খুলছে রোববার

শেয়ার করুন

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়াবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ চত্বরকে আরও সাজিয়ে তুলতে দেয়ালে কিছু কারুকাজ করার পরিকল্পনা আছে। আগামী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতেই এই চত্বর করা।

একপাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‍্যাল, আরেক পাশে শহীদ মিনার। মাঝখানে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এখন শোভা বাড়াচ্ছে এই স্থাপনাগুলো। এর নামে দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ চত্বর’।

সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের ফটক পার হলেই ডান দিকে এই চত্বর। উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় (ইউএনও) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক একর জমিতে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের অর্থায়নেই এটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রথমে খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ২৭ লাখ টাকা। পরে তা বেড়ে হয় প্রায় ৪১ লাখ টাকা।

এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি বাংলাদেশ চত্বর। স্থাপনাগুলোর পেছনের দেয়ালে কাজ বাকি আছে। দেয়াল ঘেঁষে লাগানো হয়েছে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু গাছ। সেগুলো এমনভাবে লাগানো যেন বেড়ে উঠলে আর ফুল ফুটলে বাংলাদেশের পতাকার মতো সবুজের মাঝে লাল দেখায়।

দৃষ্টিনন্দন এই চত্বর পেয়ে খুশি উপজেলাবাসী।

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

স্থানীয় বালিয়াটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান মিশু বলে, ‘আমাদের এখানে বাংলাদেশ চত্বর হইছে। আমরাও কিছু শিখতে পারব আর আমাদের ছোট ভাইবোন আছে, তারাও দেশের ইতিহাসের কিছু শিখতে পারবে।’

সাটুরিয়ার সৈয়দ কালু শাহ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আখি আক্তার লিজা জানান, আগে এখানে কেবল শহীদ মিনারটি ছিল। এখন নতুন স্থাপনা বসিয়ে জায়গাটি সাজানোয় তা আকর্ষণীয় হয়েছে।

বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর সোহেল চৌধুরী বলেন, ‘এখানে এক চত্বরেই শহীদ মিনার, স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি আছে। মোট কথা এখানে আসলে বাংলাদেশকে আমরা হাতের মুঠোয় পাই এবং বাংলাদেশের চিত্র আমাদের চোখে ফুটে ওঠে।’

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়াবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ চত্বরকে আরও সাজিয়ে তুলতে দেয়ালে কিছু কারুকাজ করার পরিকল্পনা আছে। আগামী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতেই এই চত্বর করা।

ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, ‘এতো বড় একটা উপজেলা আর এর ওয়ালে ছিল ছোট্ট একটা শহীদ মিনার। এটা দেখে আত্মসম্মানে লাগত। এরপর ভাবছিলাম কিছু করার।

‘এরপর যখন বঙ্গবন্ধুর মুর‍্যাল করার নির্দেশনা আসল, তখন চিন্তা করলাম। পুরো এরিয়াজুড়ে যদি আমরা এটা ডিজাইন করে রাখি, তাহলে পার্ট বাই পার্ট আমরা ধীরে ধীরে করতে পারব। কারণ এটা আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ন একটা অংশ।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম
করোনায় ফের বন্ধ সাফারি পার্ক
সুমন-সুমনার ঘরে এলো চমক
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক খুলছে রোববার

শেয়ার করুন

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

নীলফামারীর ‘বাঘমারা’ বটগাছটি ২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

নীলফামারীর ২০০ বছরের পুরোনো ‘বাঘমারা’ বটগাছ যেন ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বটগাছটি কে লাগিয়েছিলেন তার সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য নেই।

তবে স্থানীয় লোকজন জানান, ৫০ বছর আগে এই এলাকার একটি বাড়িতে বাঘ ঢুকেছিল। এ সময় বাঘটি পিটিয়ে হত্যা করে ওই বটগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই বটগাছটি ‘বাঘমারা’ নামে পরিচিতি পায়।

গাছটি লাগানোর বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুমতিবালা বলেন, ‘আমার শ্বশুরের দাদা গাছটি লাগিয়েছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জেনেছি। এখন এটির বয়স আনুমানিক ২০০ বছর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখে আসছে এই গাছটি।’

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

জেলার তিন উপজেলার সংযোগস্থলে বটগাছটির অবস্থান। গাছটির একদিক দিয়ে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন, অন্যদিকে জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়ন এবং আরেকদিকে ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নে চলাচল করা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশাল আকৃতির গাছটির ডালপালা দিন দিন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড গরমে যারা এই পথে চলাচল করেন তারা একটু হলেও বটগাছের নিচে জিরিয়ে নেন।

হরিণচড়া ইউনিয়নের শেওটগাড়ি গ্রামের শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এটি অনেক পুরোনো বটগাছ। গাছটি ঘিরেই চলাচলের এই পথ তৈরি হয়েছে। এটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমনী কান্ত বলেন, ‘বটপাকুরের বিয়েও হয়েছে অনেক আগে। এই বটগাছটির সঠিক বয়স কেউ বলতে না পারলেও সবার ধারণা ২০০ বছরের কম নয়। এখানে মানুষ আড্ডা দেন, বসে থাকেন, সময় কাটিয়ে আনন্দ পান।’

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘এত বড় বটগাছ এখন আর চোখে পড়ে না। স্থানীয় লোকজন ভালোভাবে গাছটির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম
করোনায় ফের বন্ধ সাফারি পার্ক
সুমন-সুমনার ঘরে এলো চমক
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক খুলছে রোববার

শেয়ার করুন

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বরগুনা বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের। 

বরগুনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসানুর রহমান ঝন্টু বেশির ভাগ সময়ই থাকেন ব্যস্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। এ কারণে পরিবারকে সময় দেয়া হয় কম।

স্ত্রী ও মেয়ের আবদারে তাদের নিয়ে গত রোববার ঝন্টু বেড়াতে যান বরগুনা-বরইতলা সড়কের ক্রোক এলাকায়, সদ্যঃসমাপ্ত বিসিক শিল্পনগরীতে। সেখানে এখন মাঠ ছেয়ে আছে শরতের কাশফুলে।

এলাকার লোকজন এই জায়গাটির নাম দিয়েছে ‘বরগুনার দিয়াবাড়ি’। রাজধানীর উত্তরায় কাশফুলের জন্য জনপ্রিয় স্পট দিয়াবাড়ির অনুকরণেই এই নামকরণ।

কাশফুল দেখে শৈশবে পড়া রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার কিছু লাইন আওড়ে নিলেন ঝন্টু।

“‘চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা/ একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা..’ এসব কাশফুল দেখেই তো বড় হয়েছি। নদীতীরে কাশবনের দোল খাওয়া দেখেছি। এখন আর তেমনটা নেই। এখন এ রকম কোথাও কাশফুলের দেখা পেলেই মানুষ ছুটে আসে। এখানে নিরানন্দ সময়টা কাশবনে এসে একটু উপভোগ করছি।”

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের বিকেলের স্নিগ্ধতা যেন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ছোটোখাটো এই কাশবন। বরগুনা শহর থেকে পশ্চিমে মাত্র পাঁচ মিনিট দূরে এই এলাকা।

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের।

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

সদরের ঢলুয়া এলাকার তানিয়া জামান পরিবারসমেত সেখানে বেড়াতে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে আসা। বাড়ির কাছেই এত সুন্দর প্রকৃতির রূপ না দেখে থাকা যায়!’

স্থানীয় সমাজকর্মী জাফর হোসেনও স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কাশবনে। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিতেই প্রকৃত শান্তি। শরতের আবহাওয়া এমনিতেই চমৎকার। এর মধ্যে শুভ্র কাশের বন, অন্যরকম এক ভালোলাগা।

‘আমি ঢাকার দিয়াবাড়িতেও ভ্রমণ করেছি। এই স্থানটি দেখে আমার মনে হয় এটা বরগুনার দিয়াবাড়ি। যারা এখানে আসি আমরাই এর নাম দিয়েছি- বরগুনার দিয়াবাড়ি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

নীল শাড়িতে সেজে বন্ধুদের সঙ্গে কাশবনে এসেছেন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর-ই জান্নাত।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ লকডাউনে ঘরে বন্দি প্রায়। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না। একঘেয়ে জীবন। তাই সবাই পরিকল্পনা করে কাশফুলের দোল খাওয়া দেখতে এখানে চলে এসেছি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

বিসিকের প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্পে এখন প্লট বরাদ্দের কাজ চলছে। যে স্থানে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে ওই স্থানে বালি ভরাট করে রাখা হয়েছে। সেখানেই এখন কাশফুলের সমারোহ।

‘প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এখানে। একটা জমজমাট পরিবেশ। বেশ ভালো লাগে। এখনও এখানে বিসিকের কলকারখানা স্থাপন শুরু হয়নি। তাই নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা হয় না।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম
করোনায় ফের বন্ধ সাফারি পার্ক
সুমন-সুমনার ঘরে এলো চমক
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক খুলছে রোববার

শেয়ার করুন

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস জানায়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদনে দেয়া স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পর্যটনের দেশ থাইল্যান্ড।

সোমবার থেকে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন নেয়া শুরু করছে বাংলাদেশে দেশটির দূতাবাস। রোববার ঢাকার থাই দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে গত ১০ মে থেকে ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল থাইল্যান্ড।

রোববার বিজ্ঞপ্তিতে থাই দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন চালু করার ঘোষণা করছে রয়েল থাই দূতাবাস। সোমবার থেকে দূতাবাস সব ভিসা এবং সিওই আবেদন নেয়া শুরু করবে।

এতে আরও বলা হয়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি থাইল্যান্ডে যায় পর্যটনের উদ্দেশ্যে। এ ছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্যও অনেকে দেশটিতে যান।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম
করোনায় ফের বন্ধ সাফারি পার্ক
সুমন-সুমনার ঘরে এলো চমক
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক খুলছে রোববার

শেয়ার করুন