হয়রানি করতে মামলা, বাদী কারাগারে

হয়রানি করতে মামলা, বাদী কারাগারে

আসামিপক্ষের আইনজীবী মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানির বিষয়টি বাদী স্বীকার করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। এতে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়বে।’

মাদারীপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মামলা করায় বাদীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে করা মামলার বাদী শাহ আলম শেখকে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এ নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে ওই মামলায় হাজতে থাকা দেলোয়ার মুন্সি, মজিবর মন্সি ও পলাশ মুন্সিকে জামিন দেয়া হয়।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার উত্তর বাঁশকান্দি গ্রামের শাহ আলমের সঙ্গে জমি-জমা নিয়ে একই এলাকার দেলোয়ার মুন্সীসহ অনেকের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষ আদালতে একাধিক মামলা করে।

এর মধ্যেই শাহ আলম তার শ্যালক ইসমাইলকে ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালিতে পাঠানোসহ মানবপাচারের অভিযোগ এনে প্রতিপক্ষের ৬ জনকে আসামি করে ২৪ মে মাদারীপুর আদালতে মামলা করেন।

আদালত মামলার তদন্ত করতে সদর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়। ৯ আগস্ট মামলার ৩ আসামি দেলোয়ার, মজিবর ও পলাশকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ১০ আগস্ট রাতে এ ঘটনার মীমাংসা করতে স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়। সালিশের রায় উভয়পক্ষ মেনে নেয়।

সালিশে মীমাংসা হলেও আদালত থেকে জামিন পাচ্ছিল না আসামিরা। বৃহস্পতিবার মীমাংসার নথিসহ আবার জামিন আবেদন করে আসামি পক্ষ। শুনানির সময় বাদী ও তার শ্যালক ইসমাইল আদালতে উপস্থিত হন।

জবানবন্দির সময় বাদী স্বীকার করেন প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে মামলা করা হয়েছিল। এর ভিত্তিতে বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা বাদীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানির বিষয়টি বাদী স্বীকার করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। এতে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়বে।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান সিং জানান, ‘এখন শাহ আলমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ২১১ ধারা মোতাবেক মামলা করা হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

ভুজপুর থানার ওসি আসহাব উদ্দিন জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে ওই তরুণী চারজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করে। রাতেই প্রধান আসামি আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জেলা জজ আদালতের মাধ্যমে মঙ্গলবার দুপুরে আসামি মো. আরিফকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরিফ উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের পূর্ব সোনাই এলাকার বাসিন্দা।

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সোমবার রাতে ওই তরুণী মামলা করেন। এর পরপরই অভিযান চালিয়ে আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এজাহারে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলার হেঁয়াকো এলাকায় এক বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যান ওই তরুণী। সেখানে স্থানীয় যুবক আরিফের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সোমবার বিকেলে আরিফ তার মায়ের সঙ্গে দেখা ও পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা বলে ওই তরুণীকে ডেকে নেন। পরে নিজ মোটরসাইকেলে করে তাকে রাবার বাগানে নেয়া হয়। সেখানে তাকে আরিফ ও তার দুই বন্ধু ধর্ষণ করেন।

ওসি আসহাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, এ ঘটনায় সোমবার রাত ৮টার দিকে ওই তরুণী চারজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন। পরে রাতেই আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন জাকির হোসেন, মো. মহিবুল ও নূর মিয়া।

বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন

বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!

বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!

আসামিপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর জানান, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার বাদী শিশুটির বাবা আশেক আলী দাবি করেন, এ ঘটনায় তার ভাই রাজ্জাক জড়িত নন। আরেক আসামি কবিরের কাছ থেকে পুলিশ জোর করে জবানবন্দি আদায় করেছে। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীর এই বক্তব্য ঠিক নয় বলে দাবি করছেন বাদীর আইনজীবী শাহিন গুলসান।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সাত বছর আগের শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলার রায়ে ১০ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছে আদালত।

জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক কে এম শহীদ আহমেদ মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় দেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামিরা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শাহিন গুলসান নাহার মুনমুন। এই রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু আলা মো. সিদ্দিকুর ইসলাম বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় বাদী মূল আসামিকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। পরে রায় আসামিদের পক্ষে যায়।

মূল আসামি আবদুর রাজ্জাক বাদী আশেক আলী মাস্টারের ভাই। আর আশেক আলী হলেন নিহত শিশুর বাবা।

এজাহারে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মীরগঞ্জ বালাপাড়ার আশেক আলী মাস্টারের পাঁচ বছরে ছেলে সাকিবুল ইসলাম শুভকে বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এর পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দুইদিন পর সন্দেহভাজন নয়জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যে ওই রাতেই গ্রামের ঈদগাঁ মাঠের কাছে একটি নালা থেকে শুভর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শুভর বাবা আশেক আলী মাস্টার পরদিন ৯ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

গ্রেপ্তারের পর আসামি কবির মিয়া হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনাকারী ওই শিশুর চাচা আবদুর রাজ্জাক। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় রাজ্জাককেও।

তদন্ত কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) জিন্নাত আলী সে বছরের ডিসেম্বরে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক মঙ্গলবার সবাইকে খালাস দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর জানান, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার বাদী শিশুটির বাবা আশেক আলী দাবি করেন, এ ঘটনায় তার ভাই রাজ্জাক জড়িত নন। আরেক আসামি কবিরের কাছ থেকে পুলিশ জোর করে জবানবন্দি আদায় করেছে।

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বাদীর আইনজীবী শাহিন গুলসান।

নিউজবাংলাকে তিনি জানান, জেরার সময় আশেক আলী বলেছেন, তার ভাই রাজ্জাক এই হত্যার পরিকল্পনাকারী- এমনটা তিনি সন্দেহ করেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই রায় দিলেন কি না তা জানতে রায়ের কপি হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

শেয়ার করুন

ট্রেন লাইনচ্যুত: উদ্ধার কার্যক্রম শুরু

ট্রেন লাইনচ্যুত: উদ্ধার কার্যক্রম শুরু

স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। কখন উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হবে ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

গাজীপুরের টঙ্গীতে মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার তিন ঘণ্টা পর উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা মঙ্গলবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। এরপর ২টা ৪০ মিনিটে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় রেলওয়ের উদ্ধারকারী ক্রেন।

টঙ্গী জংশনের স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানান।

তিনি জানান, টঙ্গীর তিস্তারগেট এলাকায় পুবাইল হোমলাইনের ৪ নম্বর সিগন্যালে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে বগি ও লাইনের স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেন চলাচল।

স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। কখন উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হবে ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ১ নম্বর লাইন দিয়ে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল চলাচল স্বাভাবিক আছে।’

শেয়ার করুন

রেস্টহাউসে ‘ধর্ষণ’, রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

রেস্টহাউসে ‘ধর্ষণ’, রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি মাহমুদুল হাসান সাগর। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি ইমদাদুল হক জানান, পুলিশ দরজা ভেঙে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে। আর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জানালা ভেঙে পালিয়ে যান সাগর। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রেলওয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ছাত্রীর ভাই সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন। ঘটনার পর থেকে আসামি মাহমুদুল হাসান সাগর পলাতক।

মাহমুদুল রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা। তিনি রেলও‌য়ের প্র‌কৌশল বিভা‌গে মাস্টাররোলে চাকরি করেন।

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বাদী জানান, সোমবার সন্ধ্যার দিকে কিছু বেলুন নিয়ে তাদের বাসায় আসেন সাগর। তার এক বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে রুম সাজাতে হবে বলে বাসা থেকে নিয়ে যান তার বোনকে।

বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় মেয়েটিকে খুঁজতে বের হন পরিবারের সদস্যরা। সে সময় সাগরের মোবাইল বন্ধ পেয়ে আরও দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তারা। স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তারা বুঝতে পারেন মেয়েটিকে স্টেশনের দ্বিতীয় তলায় ভিআইপি রেস্টহাউসের একটি কক্ষে নেয়া হয়েছে।

সেখানে গিয়ে একটি দরজা ভেতরে থেকে বন্ধ দেখে কক্ষের পাশে যেতেই মেয়েটির চিৎকার শুনতে পান তারা। পরে দরজা অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পরে উপায় না পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন।

ওসি ইমদাদুল হক জানান, পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে। আর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জানালা ভেঙে পালিয়ে যান সাগর।

এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

‌কি‌শোরগঞ্জ রেলও‌য়ে স্টেশ‌নের সহকা‌রী স্টেশনমাস্টার জয়নাল বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তা ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সাগরের সম্পৃক্তার সত্যতা পেয়েছি। এ ছাড়া বিষয়‌টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ‌কে জানিয়েছি।’

শেয়ার করুন

অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’

অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’

শিবচরে উদ্ধার হওয়া হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

শিবচর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন, ‘মরদেহের পা ও শরীর রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। আমরা বিভিন্ন থানায় ও গণমাধ্যমে বিষয়টি জানালে বগুড়ার কিছু লোক তাদের স্বজন বলে দাবি করেন। পরে তাদের ডিএনএ টেস্টের নমুনা নেয়া হয়। রিপোর্টে মিলে গেলে তাদের কাছে মরদেহ দেয়া হবে।’

মাদারীপুরের শিবচরে উদ্ধার হওয়া হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহটির পরিচয় মিলেছে।

পুলিশ বলছে, মরদেহটি বগুড়া সদর উপজেলার রেজাউল করিমের বলে তারা জেনেছেন। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে স্বজনদের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে।

সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরজানাজাত কালাই হাজিরকান্দি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে শিবচর থানা পুলিশ।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসাইন জানান, জেলার শিবচর উপজেলার পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়ক থেকে খানিকটা দূরে গাছ ও ঝোপ-ঝাড়ের পাশে কয়েক মাস আগে তৈরি করা হয় মোশারফ চৌদিকারের চৌচালা টিনের ঘর। সোমবার রাতে সেখান থেকে তীব্র গন্ধ পান কয়েকজন যুবক।

পরে আশপাশের লোকজন গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে প্রায় ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আরও জানান, মরদেহের মুখ আগুন বা পেট্রোল জাতীয় দ্রব্য দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ৭ থেকে ৮ দিন আগে কেউ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সেখানে রেখে গেছে।

মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শিবচর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন, ‘মরহের পা ও শরীর রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। কেউ হত্যা করে রেখে গেছেন, এটা বোঝা যাচ্ছে।

‘আমরা বিভিন্ন থানায় ও গণমাধ্যমে বিষয়টি জানালে বগুড়ার কিছু লোক তাদের স্বজন বলে দাবি করেন। পরে তাদের ডিএনএ টেস্টের নমুনা নেয়া হয়। রিপোর্টে মিলে গেলে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’

শেয়ার করুন

ভারতে যাওয়ার সময় দালালসহ গ্রেপ্তার ১৬

ভারতে যাওয়ার সময় দালালসহ গ্রেপ্তার ১৬

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বিজিবি। ছবি: নিউজবাংলা

৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে সীমান্তবর্তী কানাইডাংগা গ্রামের একটি ব্রিজ থেকে সোমবার রাতে ১৬ জনকে আটক করা হয়।

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করায় এক দালাল ও শিশুসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদবপুর বিওপির আওতাধীন কানাইডাংগা গ্রামের একটি ব্রিজ থেকে সোমবার রাতে তাদের আটক করা হয়।

মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, একজন নারী ও দুইজন শিশু।

এদের বাড়ি নড়াইল, ফেনী, খুলনা, কুষ্টিয়া ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়।

গ্রেপ্তার দালালের নাম আসাদুল ইসলাম। তার বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামে।

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান মঙ্গলবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে সীমান্তবর্তী কানাইডাংগা গ্রামের একটি ব্রিজ থেকে সোমবার রাতে ১৬ জনকে আটক করা হয়।

মহেশপুর থানায় বিজিবি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

খাগড়াছড়ি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসেছিলেন সুমন চাকমা। তবে সে আশা পূরণ হয়নি তার।

সুমন চাকমা বলেন, ‘রাঙামাটির কাছে খাগড়াছড়ি হলেও কম আসা হয়। সেতুতে ঘুরতে এসে দেখলাম পানির নিচে ডুবে গেছে। এত কষ্ট করে এসেও কোনো লাভ হলো না।’

প্রতি বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে ডুবে যায় রাঙামাটির পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। এ সময় সেতুর পাটাতনের প্রায় ছয় ইঞ্চি ওপরে উঠে আসে হ্রদের পানি। নিষেধাজ্ঞা দিতে হয় চলাচলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সেতু ডুবলে পারাপারের জন্য নৌকা ছাড়া উপায় থাকে না তাদের। কমে যায় পর্যটকের আনাগোনাও।

এসব কারণে প্রতিবছর স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকও বিপাকে পড়ছেন। তারা অপেক্ষায় থাকেন কখন সেতু থেকে পানি নেমে যাবে।

অভিযোগ উঠেছে, ১৯৮৬ সালে অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করায় এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্মাণের সময় যদি সেতুর উচ্চতা বাড়ানো হতো, তাহলে হয়তো এমন বেহাল হতো না ।

সোমবার গিয়ে দেখা যায়, রাঙামাটি তবলছড়ি এলাকার দুই দ্বীপের দুই পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঝুলন্ত সেতুটি। তবে কয়েক দিন টানা হালকা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়েছে। ডুবে গেছে সেতুটিও।

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’


এ কারণে হতাশ পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন । নৌকা দিয়ে এপার থেকে ওপারে পার হচ্ছেন তারা। একদিকে বেড়েছে ভোগান্তি, অন্যদিকে পারাপারে দিতে হচ্ছে টাকা।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানালেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেতু দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

তিনি বললেন, ‘পানি নেমে গেলে আবারও আগের মতো স্বাভাবিক করে দেয়া হবে।’

সেতু দেখতে ঢাকা থেকে এসেছেন তানজিদা ও রাসেল।

তানজিদা বলেন, ‘লকডাউন খুলে দেয়ায় অনেক আশা নিয়ে রাঙামাটিতে এসেছি। ঝুলন্ত সেতু দেখার ইচ্ছা ছিল খুব। এত সুন্দর রাঙামাটি। তবে সেতুটি এভাবে দেখব কখনও ভাবতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কার করে যদি সেতুটির উচ্চতা বাড়ানো যায়, তাহলে কোনো পর্যটক পরে বেড়াতে এসে হতাশ হবেন না।’

সেতু এলাকায় নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, ‘সেতুটির ডুবে যাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি সেতুটিতে বড় ধরনের কাজ করতে হয়, তাহলে আগামী বছর জেলা পরিষদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন