প্রকল্পের ঘর স্ত্রীকে দিয়ে চেয়ারম্যান বরখাস্ত

প্রকল্পের ঘর স্ত্রীকে দিয়ে চেয়ারম্যান বরখাস্ত

সিংগাইরের ধাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের ঘর স্ত্রীর নামে বরাদ্দ, রাস্তার কাজে অনিয়ম এবং সরকারি গভীর নলকূপ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সরকারি প্রকল্পের ঘর স্ত্রীর নামে বরাদ্দসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ধাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মানিকগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে উপসচিব আবু জাফর রিপনের সই করা একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের ঘর স্ত্রীর নামে বরাদ্দ, রাস্তার কাজে অনিয়ম এবং সরকারি গভীর নলকূপ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

কেনো স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না, সে বিষয়েও প্রজ্ঞাপনে জাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বরখাস্তের বিষয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানতে পারি। পরে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের কাছে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ইমেল এসেছে। জাহিদুল ইসলামের পরিবর্তে ইউপি সচিব আলী হোসেন আপাতত দায়িত্ব পালন করবেন।

সদ্য বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামের দাবি, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সামনে ইউপি নির্বাচন বলে রাজনৈতকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
হতদরিদ্রের অর্থ লোপাট, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
ভাতার জন্য স্ত্রীকে বিধবা সাজানো ইউপি সদস্য বরখাস্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে চালক নিহত

ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে চালক নিহত

চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মৃদুল কান্তি কুরি জানান, শনিবার রাতে সেনবাগ থেকে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিল। পথে অটোরিকশাটি নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক সড়কের জমিদারহাট এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে অটোরিকশার চালক মারা যান।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোরিকশার চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অটোরিকশার আরও তিন যাত্রী।

উপজেলার জমিদারহাট বাজারের ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কে শনিবার রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত অটোরিকশাচালকের পরিচয় এখনও জানতে পারেনি পুলিশ।

চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃদুল কান্তি কুরি জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেনবাগ উপজেলা থেকে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিল। পথে অটোরিকশাটি নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক সড়কের জমিদারহাট এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে অটোরিকশার চালক মারা যান।

পরে আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করলে চালক পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন দুটি চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, এ বিষয়ে কেউ থানায় কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
হতদরিদ্রের অর্থ লোপাট, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
ভাতার জন্য স্ত্রীকে বিধবা সাজানো ইউপি সদস্য বরখাস্ত

শেয়ার করুন

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় বসছেন লাখো শিক্ষার্থী

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় বসছেন লাখো শিক্ষার্থী

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন ১ লাখ ৩১ হাজার শিক্ষার্থী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সূচি অনুযায়ী, রোববার দেশজুড়ে ২৬টি কেন্দ্রে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হবে। এই ইউনিটে আবেদন করেছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী।

একসঙ্গে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধ শুরু হচ্ছে আজ। এতে অংশগ্রহণ করছেন লাখো শিক্ষার্থী।

সূচি অনুযায়ী, রোববার দেশজুড়ে ২৬টি কেন্দ্রে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হবে। এই ইউনিটে আবেদন করেছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী।

এক ঘণ্টার এই ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে বেলা ১২টায়, শেষ হবে দুপুর ১টায়।

২৪ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিট এবং ১ নভেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর।

কোন ইউনিটে আবেদন কত

দেশের ২০টি সাধারণ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা

দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা হবে। কেন্দ্রগুলো হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

পরীক্ষার মানবণ্টন

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটি জানিয়েছে, সব বিভাগেই ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হবে। মানবিক বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১০, রসায়নে ২০ ও পদার্থবিজ্ঞানে থাকবে ২০ নম্বর। বাকি ৪০ নম্বর আইসিটিতে।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞানে ২৫, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনায় ২৫, বাংলায় ১৩, ইংরেজিতে ১২ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

সব ইউনিটে ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে নম্বর। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ কাটা যাবে।

বিভাগ পরিবর্তন যেভাবে

বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদাভাবে কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না। একজন শিক্ষার্থী কেবল একটি পরীক্ষায়ই অংশ নেবেন। বিভাগ পরিবর্তন করতে চাইলে সেই পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে মাইগ্রেশন করে ভর্তি হতে পারবেন।

এসএসসি ও এইচএসসির ফল

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলও হিসাবে আনা হয়। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এসএসসি, এইচএসসিতে পাওয়া জিপিএর ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব শর্তে ভর্তির সুযোগ দেবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত ভিন্ন ভিন্নও হতে পারে।

২০১৯ ও ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ফার্স্ট টাইম ও সেকেন্ড টাইম নির্ধারণ করে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেবে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:
হতদরিদ্রের অর্থ লোপাট, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
ভাতার জন্য স্ত্রীকে বিধবা সাজানো ইউপি সদস্য বরখাস্ত

শেয়ার করুন

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আড়ম্বরহীন কুষ্টিয়ার আখড়াবাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় বাউল মেলা হবে ধরে নিয়েই সাধু-ফকির, বাউল ভক্তরা আখড়ায় জড়ো হয়েছেন। লালন ধামে আখড়াবাড়ির ভেতরে এবং বাইরের মাঠের গাছতলায় অবস্থান নিয়েছেন তারা।

মরমী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩১তম তিরোধান দিবস রোববার। করোনার কারণে এবারও বাউল মেলার আয়োজন বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। তবে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়ি খোলা থাকায় জড়ো হয়েছেন সাধু-বাউল-ফকিররা। প্রথা অনুযায়ী তারা ভক্তি-শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সাইঁজির চরণে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৩০ বছরের রেওয়াজ ভেঙে গত বছরই প্রথম বাতিল করা হয় লালনের এই স্মরণোৎসব। সে সময় করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ পর্যায়ে থাকায় আখড়াবাড়ির গেটও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় বাউল মেলা হবে ধরে নিয়েই সাধু-ফকির, বাউল ভক্তরা আখড়ায় জড়ো হয়েছেন। লালন ধামে আখড়াবাড়ির ভেতরে এবং বাইরের মাঠের গাছতলায় অবস্থান নিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন অ্যাকাডেমির আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম গত ১২ অক্টোবার ঘোষণা দিয়েছেন, এবারও তিরোধান দিবস পালন হবে না। করোনার কারণে গণজমায়েত এড়িয়ে চলতে এ ঘোষণা দিতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

আখড়াবাড়ির বাইরে লালন অ্যাকাডেমির মাঠে নিজস্ব রেওয়াজে ভক্তি-শ্রদ্ধা দিতে দেখা গেছে লালন অনুসারীদের।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ফকির বাবু বলেন, ‘এতো দূর থেকে আসলাম। টাকায় মায়া করি নাই, ত্যাগ করেছি আরাম। এসে মনটাই ভেঙে গেল। এখন সাঁইজিকে ভক্তি জানিয়ে চলে যাব। মেলা না হওয়ায় আমরা পাগলরা না খেয়ে থাকার মতো অবস্থা।’

সাধু সঙ্গ ও বাউল মেলা না হওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে অনেক বাউল, ফকির এবং লালন ভক্ত।

তারপরও আখড়াবাড়ির ভেতরে ও বাইরে চলছে জাতপাতহীন-মানবতার লালন দর্শনের প্রচার। বরাবরের মতো দর্শন প্রচার হচ্ছে তারই গানের মাধ্যমে। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া এখন লালনের গানের সুরে প্রকম্পিত।

২০০ বছর আগে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় বাউল-ফকিরদের দল গঠন করেছিলেন ফকির লালন সাঁই। অহিংস, জাতপাতহীন ও মানবতাবাদী গান বেঁধে প্রচার করতেন তারা। দিনে দিনে তার দল বড় হতে থাকে। বাড়তে থাকে অনুসারী ও ভক্তের সংখ্যা। আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে লালনের গান, তার বাণী।

১২৯৭ বঙ্গাব্দের পয়লা কার্তিক দেহত্যাগ করেন ফকির লালন। এই ১৩১ বছর ধরে আখড়া বাড়িতে চলা রেওয়াজ হলো, পহেলা কার্তিক লালনের তিরোধান দিবসে তার মাজার ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে বাউল-ফকিরদের জন্য অধিবাস, বাল্যসেবা এবং পূর্ণসেবার (খাবার) আয়োজন।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

তিন দিন ধরে চলে মেলাসহ সরকারি অনুষ্ঠানমালা। দিন-রাত ধরে চলত গানে গানে লালন দর্শনের প্রচার। দেশ বিদেশের লাখ লাখ মানুষ এতে অংশ নিতেন।

করোনার বাস্তবতায় দুই বছর বন্ধ এসব আয়োজন। ফকির-বাউলরা নিজেদের মতো করে সাঁইজিকে স্মরণ করতে পারছেন, তাতেই অনেকে খুশি।

আখড়ায় এসে ফকির আলম বলেন, ‘ধরা আজ জরাক্রান্ত। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। সাঁইজির কৃপায় এসব কেটে যাবে। আবার সব স্বাভাবিক হবে।’

আরও পড়ুন:
হতদরিদ্রের অর্থ লোপাট, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
ভাতার জন্য স্ত্রীকে বিধবা সাজানো ইউপি সদস্য বরখাস্ত

শেয়ার করুন

ওয়ারীতে যুবককে কুপিয়ে আহতের অভিযোগ

ওয়ারীতে যুবককে কুপিয়ে আহতের অভিযোগ

আহত দোকান মালিক শেখ সানি। ছবি: নিউজবাংলা

আহতের খবর নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে ওয়ারী থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা ঘটনা তদন্ত করছেন।

রাজধানীর ওয়ারী থানার কাপ্তান বাজার এলাকায় এক যুবককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়।

আহতের নাম শেখ সানি। ৩৪ বছর বয়সী সানির ওই এলাকায় একটি দোকান আছে।

আহত শেখ সানি জানান, কাপ্তান বাজার এলাকায় শাহানা ইন্টারন্যাশনাল নামে তাদের একটি ইলেক্ট্রিকের দোকান আছে। সেখানে কাজ করতো নাহিদ নামে এক যুবক। দেড় মাস আগে তাকে কাজ থেকে বাদ দেয়া হয়। পরে সে অন্য দোকানে কাজ শুরু করে। কিন্তু কিছুদিন পর সেখান থেকেও তাকে বাদ দেয়া হয়।

সানি বলেন, ‘এরপর থেকেই নাহিদের ধারনা আমার কারণেই তার চাকরি চলে গেছে। এ কারণে সে আমাকে প্রায়ই মোবাইলে হুমকি দিতো। এ ঘটনা বাজারের অনেকেই জানেন।

‘শনিবার সকালে নাহিদকে বাজারে দেখে স্থানীয় কয়েকজন আটক করে। পরে পুলিশ এসে বিষয়টি মীমাংসা করে। এরপর নাহিদ চলে যায়। রাতে আমি দোকান বন্ধ করে বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে বাজারের এক নম্বর গেটে গেলে নাহিদ আমার ওপর অতর্কিত হামলা করে। রামদা দিয়ে আমাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা।

সানি আরও জানান, তার দোকানে কাজ করার সময় নাহিদের আচরণ দেখে মনে হত সে কর্মচারী আর নাহিদ দোকানের মালিক। নাহিদ মাদকাসক্ত ছিল বলেও জানায় সানি।

আহতের খবর নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে ওয়ারী থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা ঘটনা তদন্ত করছেন।

আরও পড়ুন:
হতদরিদ্রের অর্থ লোপাট, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
ভাতার জন্য স্ত্রীকে বিধবা সাজানো ইউপি সদস্য বরখাস্ত

শেয়ার করুন

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বাইসাইকেল চলছে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ছবি: সংগৃহীত

রপ্তানির ক্ষেত্রে ওষুধ শিল্পকে প্রায় ধরে ফেলেছে বাইসাইকেল। সারা বিশ্বে সাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন অষ্টম; ইউরোপে তৃতীয়। রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি হয়ে দেখা দিচ্ছে সাইকেল। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদাও পূরণ করে চলেছে; কমছে আমদানি নির্ভরতা। কর্মসংস্থান বাড়ছে এ খাতে।

ওষুধের মতো নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে আরেক খাত বাইসাইকেল। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্যেও এ পণ্য শক্ত অবস্থান করে নিচ্ছে দিন দিন; আনছে বিদেশি মুদ্রা। করোনাভাইরাস মহামারি এ খাতের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। পরিবেশবান্ধব বলে সবাই এখন এর দিকে ঝুঁকছেন; দেশে-বিদেশে সবখানে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি করে ১ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা দেশে এনেছে বাংলাদেশ। আর বাইসাইকেল রপ্তানি করে এসেছে ১ হাজার ১২১ কোটি টাকা।

ওষুধের চেয়ে একধাপ এগিয়ে গেছে সাইকেল। বেশ কিছুদিন ধরেই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বাইসাইকেল চলছে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাস্তায় রাস্তায়।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ দেশে বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে এখন তৃতীয় অবস্থানে উঠে গেছে। এখানেই শেষ নয়, গোটা বিশ্বে বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।

পরিবেশবান্ধব বলে ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বে সাইকেল জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় গত কয়েক বছর ধরেই দুই চাকার এ বাহন রপ্তানি আশা দেখাচ্ছিল বাংলাদেশকে। রপ্তানি বাজার ধরতে উদ্যোক্তারা মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন; গড়ে তুলেছেন বিশ্বমানের কারখানা।

এর সুফল আসতে শুরু করেছে। রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি হয়ে দেখা দিচ্ছে সাইকেল। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদাও পূরণ করে চলেছে; কমছে আমদানি নির্ভরতা। কর্মসংস্থান বাড়ছে এ খাতে।

মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। সাইকেলের চাকায় আরও উপরে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের পুরো চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা অর্জন করেছেন তারা। স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষার অংশ হিসেবে সরকার অন্যান্য খাতের মতো সাইকেলের ক্ষেত্রে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিলে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা মহামারির কারণে দেশে-বিদেশে বাড়ছে সবচেয়ে সহজ ও তুলনামূলক কম দামের ব্যক্তিগত বাহন সাইকেলের ব্যবহার। করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন ‘সামাজিক দূরত্ব’ রক্ষা করে চলাচলসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর। তাই চলাচলে পারতপক্ষে গণপরিবহন এড়িয়ে চলছেন অনেকে; বেছে নিচ্ছেন ব্যক্তিগত যানবাহনকে।

আর তাতেই রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিয়ে নতুন আশা জাগাচ্ছে বাইসাইকেল। রপ্তানি বাড়াতে সরকার ও উদ্যোক্তারা নতুন ছক কষছেন।

দেশের চাহিদার অর্ধেকের মতো পূরণ করে এখন রপ্তানিও বাড়ছে। প্রতি বছরই অল্প অল্প করে বাড়ছিল রপ্তানি। গত অর্থবছরে সাইকেল রপ্তানি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আরও বাড়াতে ১ জুলাই থেকে ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা ঘোষণা করেছে সরকার। অর্থাৎ কোনো রপ্তানিকারক ১০০ টাকার সাইকেল রপ্তানি করলে সরকারের কোষাগার থেকে তাকে ৪ টাকা দেয়া হবে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাইসাইকেল রপ্তানি করে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ১২১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৮ শতাংশ বেশি।

গত বছরের সেই ইতিবাচক ধারা চলতি অর্থবছরেও অব্যাহত রয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সাইকেল রপ্তানি থেকে ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। টাকার হিসাবে সংখ্যাটা ৩৩১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এ অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরে বাইসাইকেল রপ্তানি থেকে প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা (১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আসবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার।

রপ্তানিকারকরা আশা করছেন, এবার সাইকেল রপ্তানি থেকে লক্ষ্যের চেয়ে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ২০০০ সাল থেকে বাইসাইকেল রপ্তানি শুরু হয়। প্রথম দিকে এ খাত থেকে তেমন আয় না হলেও ২০০৮ সাল থেকে বাড়তে শুরু করে রপ্তানি।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে তৈরি পোশাকের মতো গোটা ইউরোপের বাজারও দখল করে নেবে বাংলাদেশের সাইকেল।

বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া বাইসাইকেলের ৮০ শতাংশই যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। বাকিটা যায় ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশে।

সাইকেলে বিশ্ববাজার দখলের একটি সুযোগ বাংলাদেশের সামনে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে শ্রমের মজুরি কম। আমরা যে দামে সাইকেল রপ্তানি করতে পারব, তা কেউ পারবে না। মানের দিকটি মাথায় রেখে এই সুযোগটিই আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

সাইকেল রপ্তানি বাড়লেও তার গতি এখনও ধীর বলে মনে করেন ফরাসউদ্দিন। গতি বাড়াতে সরকার এবং উদ্যোক্তাদের এখনই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

‘করোনার কারণে এই যে পরিবেশবান্ধব যানবাহন সাইকেলের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে, এই সুযোগটি ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে।’

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

শুরু থেকে এখন

২০ বছর আগে ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে তাইওয়ানের কোম্পানি আলিতা বাংলাদেশ লিমিটেড স্বল্প পরিসরে বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল রপ্তানি শুরু করে। পরে এ ধারায় যুক্ত হয় মেঘনা গ্রুপ। বর্তমানে দেশের মোট বাইসাইকেল রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশই রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। আর ২০১৪ সালে ‘দুরন্ত’ ব্র্যান্ড নিয়ে আসে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।

মেঘনা, প্রাণ-আরএফএল ছাড়াও জার্মান বাংলা, আলিতা ও নর্থবেঙ্গল নামের প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে তাদের কারখানা থেকে উৎপাদিত সাইকেল রপ্তানি করছে।

রপ্তানিকারকরা জানান, বর্তমানে ফ্রিস্টাইল, মাউন্টেন ট্র্যাকিং, ফ্লোডিং, চপার, রোড রেসিং, টেন্ডমেড (দুজনে চালাতে হয়) ধরনের বাইসাইকেল রপ্তানি হচ্ছে।

এসব সাইকেল তৈরির জন্য কিছু যন্ত্রাংশ বাংলাদেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হলেও বেশির ভাগ যন্ত্রাংশই দেশে তৈরি হচ্ছে। বিশেষত চাকা, টিউব, হুইল, প্যাডেল, হাতল, বিয়ারিং, আসন তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

১৯৯৬ সালে তেজগাঁওয়ে সরকারি বাইসাইকেল তৈরির প্রতিষ্ঠানটি কিনে নেয় মেঘনা গ্রুপ। এরপর ১৯৯৯ সাল থেকে রপ্তানি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে রেড, ফেরাল ও ইনিগো ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ইউরোপ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার কঙ্গো, গ্যাবন ও আইভরি কোস্টে সাইকেল রপ্তানি করছে তারা।

প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০২১ সালে মেঘনা গ্রুপের বাইসাইকেল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১০ লাখ পিস। ৪০০ থেকে শুরু করে ৬০০ ডলার মূল্যের সাইকেল রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি।

২০০৩ সালে রপ্তানি শুরু করে মেঘনা গ্রুপ। বাইসাইকেল ছাড়াও তাদের কারখানায় উৎপাদিত টায়ার ও টিউব বিশ্বের ১৮ দেশে সরাসরি রপ্তানি হচ্ছে।

৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের বাইসাইকেলও রয়েছে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর। ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাইসাইকেল রপ্তানি হয় জার্মানিতে। এরপর ডেনমার্ক ও যুক্তরাজ্যে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, ইতালি, বুলগেরিয়া ইত্যাদি দেশে বেশি বাইসাইকেল রপ্তানি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বাইসাইকেল অ্যান্ড পার্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও মেঘনা গ্রুপের পরিচালক লুৎফুল বারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন ইউরোপের বাজারেই বাইসাইকেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ইউরোপে আগের চেয়ে বাহন হিসেবে সাইকেলের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। সরকারও উৎসাহ দিচ্ছে এসবের ব্যবহার বৃদ্ধিতে, যার প্রতিফলন হিসেবে সড়কগুলোতে বাইসাইকেলের আলাদা লেন দেখা দিচ্ছে।

‘অতিমারি করোনায় সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি বিবেচনায় অনেকেই এখন ব্যক্তিগত যানবাহন হিসেবে সাইকেলকেই বেছে নিচ্ছেন। সে কারণে চাহিদা বেড়েছে; বেশ ভালো অর্ডার পাচ্ছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য আমাদের আলাদা ইউনিট আছে। বিদেশি বায়াররা বেশি দামের সাইকেল অর্ডার দিলে আমরা তা তৈরি করে দিই। তবে মূলত আমরা ৪০০ থেকে ৬০০ ডলার দামের সাইকেল রপ্তানি করে থাকি।’

সরকারের সহায়তা পেলে বাইসাইকেল খাতটি আরও টেকসই করা সম্ভব উল্লেখ করে লুৎফুল বারী বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে কিছু নীতি সহায়তা চেয়েছিলাম। যেমন: বন্ড ফ্যাসিলিটি পেলে এ খাতের অনেক উপকার হবে। বন্ড ফ্যাসিলিটির পাশাপাশি নগদ সহায়তা চেয়েছিলাম। সরকার আমাদের অনুরোধ রেখেছে। চলতি অর্থবছরে সাইকেল রপ্তানির ওপর ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

‘আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এই ঘোষণা রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এবার বাইসাইকেল রপ্তানি থেকে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘মোটা দাগে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে একটি কথা বলতে চাই, পোশাক রপ্তানিতে যে নীতি সহায়তাগুলো দেয়া হয়, সেগুলো দেয়া হলে বাইসাইকেলেও তৈরি হতে পারে নানা সফলতার গল্প।’

মেঘনা গ্রুপের সঙ্গে জার্মানির একটি যৌথ অংশীদারত্বভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাইসাইকেল প্রস্তুতকারক ওই কোম্পানিটির নাম টিউব।

ঢাকার কাছে গাজীপুরে ছয়টি কারখানায় মেঘনা সাইকেল তৈরি করা হয়। এসব কারখানায় উৎপাদিত সাইকেল রপ্তানি করা হয়। মাঝে কিছুদিন স্থানীয় বাজারে বাজারজাত বন্ধ রাখা হলেও এখন আবার তা পুরোদমে চালু করা হয়েছে।

সাইকেলের রপ্তানি ও স্থানীয় বাজার সামনে রেখে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বড় বিনিয়োগ করেছে প্রাণ-আরএফএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত এই কারখানাটিতে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এই কারখানায় উৎপাদিত ‘দুরন্ত’ বাইসাইকেল দেশের বাজারে বিক্রির পাশাপাশি রপ্তানিও হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এ মুহূর্তে বিশ্বের ১০টি দেশে এ কোম্পানির বাইসাইকেল রপ্তানি হয়। এর মধ্যে প্রধান বাজারগুলো হলো যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও বেলজিয়াম।

আন্তর্জাতিক বাজারে যে বাইসাইকেলগুলো যাচ্ছে, তা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি হয়ে (কাস্টমাইজড) রপ্তানি হয়। এসব পণ্য তৈরি হয় বাজারভিত্তিক। সে হিসেবে লো-এন্ড বাইসাইকেলগুলো দেশের বাজারে বিক্রি হয়। অন্যদিকে বহির্বিশ্বে যায় উচ্চমানের বা হাই-এন্ড বাইসাইকেলগুলো, যেগুলোর দামই শুরু হয় ১ লাখ টাকা থেকে।

এ বিষয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে করোনাকালে সাইকেলের চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে। অনেক সময় চাহিদা মেটানোও সম্ভব হচ্ছে না। তবে এখন আমরা সক্ষমতা বাড়িয়েছি।

‘সব মিলিয়ে বছরে সাত লাখ পিস বাইসাইকেল তৈরির সক্ষমতা এখন আমাদের। আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে চাহিদাও বেশ ভালো।’

চাহিদা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তরুণদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ার প্রবণতার কথা জানিয়ে কামাল বলেন, ‘রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২২ সাল থেকে আমরা বছরে ১০ লাখ পিস সাইকেল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছি।’

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

ইউরোপের বাজার

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৯ সালে যেখানে ইউরোপের বাজারে বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল নবম, সেখানে ২০১০ সালে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে উঠে আসে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সেই পঞ্চম স্থানেই ছিল বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে এক ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার রপ্তানির মধ্য দিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

২০০৮ ও ২০০৯ সালে বাংলাদেশ যথাক্রমে ৩ লাখ ৭১ হাজার ও ৪ লাখ ১৯ হাজারটি বাইসাইকেল রপ্তানি করে। ২০০৭ সালে সে সংখ্যাটি ছিল ৩ লাখ ৫৫ হাজার।

২০১০ সালে রপ্তানি বেড়ে ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। ২০১১ ও ২০১২ দুই বছরেই সাড়ে ৫ লাখের মতো সাইকেল রপ্তানি হয় ইউরোপের দেশগুলোতে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে রপ্তানি ছাড়িয়ে যায় ৬ লাখ।

২০২০-২১ অর্থবছরে সেই রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ১০ লাখ পিসে পৌঁছেছে।

ইউরোপের বাজারে রপ্তানির শীর্ষে আছে তাইওয়ান। এর পরের অবস্থানে আছে থাইল্যান্ড। গত কয়েক বছরে শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ।

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

থেমে নেই আমদানি

রপ্তানি বাড়লেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে থেমে নেই সাইকেল আমদানি। এখনও দেশের চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করে বিদেশি সাইকেল। এ জন্য আগের প্রবণতাকে দায়ী করেছেন উৎপাদকরা।

মেঘনা গ্রুপের লুৎফুল বারী বলেন, ‘আমদানি করা সাইকেলের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় সেগুলোর চাহিদা বেশি। এ ছাড়া আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমদানি করা সাইকেল বিক্রি করা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’

ঢাকায় মেঘনা সাইকেলের বিক্রয়কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, সাড়ে ১৩ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা দামের সাইকেল বিক্রি হচ্ছে।

ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে সোমবার দুপুরে মেঘনা গ্রুপের সাইকেল লাইফ এক্সক্লুসিভ বিক্রয়কেন্দ্রের একজন এক্সিকিউটিভ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের শোরুমে মেঘনার ভেলোস ব্র্যান্ডের ছয় ধরনের সাইকেল বিক্রি হয়। এগুলোর দাম ১৩ হাজার ৫০০ থেকে ২৪ হাজার ৫০০ টাকা।’

লায়ন গ্রুপ স্থানীয় বাজারের জন্য সাইকেল তৈরি করে। এখন পর্য‌ন্ত তারা কোনো সাইকেল রপ্তানি করেনি।

ধানমন্ডি লায়ন সাইকেল স্টোরের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, তাদের সাইকেলের দাম সাড়ে ১১ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা।

মূলত পুরান ঢাকার বংশালের ব্যবসায়ীরা দেশের বাইরে থেকে বাইসাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করে তা সংযোজন করে বিক্রি করেন।

বংশালে সাইকেলের বড় প্রতিষ্ঠান ‘সাইকেল হ্যাভেন’। প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মোট বিক্রি তেমন বাড়েনি। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে করোনার কারণে ছোটদের সাইকেল বিক্রি অনেক কমে গেছে। তবে দৈনন্দিন প্রয়োজনে যেসব সাইকেল ব্যবহার হয়, সেগুলোর বেচাকেনা বেড়েছে।’

দেশের অনেক ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানের সাইকেল থাকতে কেন আমদানি করেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমদানি করা সাইকেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সেগুলোই বেশি বিক্রি হয়। চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা আমদানি করি।’

বর্তমানে মূলত চীন ও ভারত থেকেই সাইকেল আমদানি হয়ে থাকে।

‘আমাদের রাস্তাঘাট, আবহাওয়া ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর লক্ষ রেখে আমরা সাইকেল আমদানি করি’, বলেন জাহিদ।

দেশের বাজারের কথা চিন্তা করে উদ্যোক্তারা যদি কম মূল্যের টেকসই সাইকেল তৈরি করেন, তাহলে আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে মনে করেন তিনি।

অভ্যন্তরীণ বাজার

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বাজারে বাইসাইকেলের চাহিদা বেড়েছে। একসময় চলাচল, হালকা পণ্য পরিবহনের প্রয়োজনেই মানুষ সাইকেল ব্যবহার করতেন। সময় বদলাচ্ছে। শৌখিন ও স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই এখন সাইকেলকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করছেন।

বর্তমানে দেশে শৌখিন সাইকেলচালকের সংগঠনও গড়ে উঠেছে। ‘বিডি সাইক্লিস্ট’ নামের একটি সংগঠনের সদস্য লাখখানেক। এ ধরনের সাইকেলপ্রেমীদের জন্য কোম্পানিগুলোও নতুন ডিজাইনের ও আধুনিক প্রযুক্তির সাইকেল নিয়ে আসছে।

বাইসাইকেল ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে দেশে সাইকেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০১৪ সালে বার্ষিক চাহিদা ছিল ৫ লাখ পিস। বর্তমানে তা ২০ লাখের বেশি। টাকার হিসাবে বাজারের আকার ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

স্থানীয় বাজারের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ জোগান দিচ্ছেন দেশীয় উৎপাদকরা। ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশের বাজারের পুরোটাই ছিল আমদানিনির্ভর। ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে সাইকেল কিংবা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করে বাজারজাত করতেন।

চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ২০১১ সাল থেকে দেশীয় প্রতিষ্ঠান মেঘনা ইনোভা রাবার কোম্পানি দেশের বাজারে বিভিন্ন ধরনের সাইকেল বাজারজাত শুরু করে। অবশ্য অনেক আগে থেকেই তারা বিদেশে বাইসাইকেল রপ্তানি করে আসছিল। ১৯৯৬ সালে সরকারি সাইকেল তৈরির একটি কারখানা কেনার মাধ্যমে এ খাতে প্রথম বেসরকারি উদ্যোক্তা হিসেবে নাম লেখায় মেঘনা। ১৯৯৯ সাল থেকে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি শুরু করে তারা। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বেশি বাইসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এই কোম্পানি।

অন্যদিকে ১৯৯৫ সালে প্রথম বিদেশি কোম্পানি হিসেবে মালয়েশিয়ার আলিটা (বিডি) চট্টগ্রাম ইপিজেডে কারখানা স্থাপন করে। এটি পুরোপুরি রপ্তানিমুখী একটি প্রতিষ্ঠান। এরপর তাইওয়ানের কোম্পানি ‘করভো’ ওই ইপিজেডে কারখানা করতে বিনিয়োগ করে। তাদের তৈরি সাইকেল রপ্তানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও বিক্রি হচ্ছে।

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

রপ্তানিতে ইউরোপে তৃতীয় বাংলাদেশ

মেঘনা ও আরএফএল ছাড়াও জার্মান বাংলা, আলিটা, করভো নামের তিন প্রতিষ্ঠান ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে রপ্তানিমুখী সাইকেল তৈরির কারখানা করেছে। করোনার কারণে অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি কমে এলেও সাইকেল রপ্তানি বেড়েছে।

বর্তমানে ইউরোপের বাজারে বছরে ৬ কোটি ইউনিট বাইসাইকেল বিক্রি হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ৮ লাখ ইউনিট রপ্তানি করে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগামীতে শুধু স্থানীয় নয়, রপ্তানি বাজারেও বাংলাদেশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ চীনের পণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক থাকায় ইউরোপের কয়েকটি দেশের ক্রেতারা বর্তমানে কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কা থেকে সাইকেল কিনতে আগ্রহী। এসব দেশের মধ্যে অবকাঠামোগত দিক থেকেও বাংলাদেশ সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকার বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানির সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঁচামাল

সাইকেল তৈরিতে ব্যবহত কাঁচামালের ৫০ শতাংশ আসে চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে। মূলত চেইন, হুইল ও ব্রেকের উপকরণ আমদানি করা হয়। দেশে এখন ফ্রেম, ফর্ক, রিং, টায়ার, টিউবসহ বিভিন্ন উপকরণ পুরোদমে উৎপাদন হচ্ছে। বাইসাইকেলে ব্যবহৃত রং আমদানিতে প্রায় ৯০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। উৎপাদকরা বলছেন, এই শুল্কহার অস্বাভাবিক। স্থানীয় শিল্পের বিকাশ চাইলে এ শুল্কহার কমাতে হবে। তা না হলে আমদানিনির্ভরতা কমানো যাবে না। রপ্তানি বাজারেও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে না।

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোই সক্ষম

দেশের বাজারে বছরে বাইসাইকেলের চাহিদা কত, তার সঠিক কোনো তথ্য নেই কারও কাছে। বাংলাদেশ বাইসাইকেল অ্যান্ড পার্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল ও মেঘনা গ্রুপের পরিচালক লুৎফুল বারী বলেন, ‘আমাদের কাছে আসলেই কোনো তথ্য নেই দেশে বছরে সাইকেলের চাহিদা কত, তবে এটা বলতে পারি, এখনও অর্ধেকের মতো আমদানি করা সাইকেল দিয়ে মেটানো হয়।

‘আমাদের মেঘনাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনের যে ক্ষমতা রয়েছে, তা দিয়ে রপ্তানির পাশাপাশি দেশীয় চাহিদার পুরোটাই মেটানো সম্ভব।’

একই কথা বলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল। তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ বাইসাইকেল রপ্তানিতে শাপে বর হয়েছে। রপ্তানির পাশাপাশি দেশীয় বাজারের চাহিদা মেটানোরও ক্ষমতা রয়েছে আমাদের।’

ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়ার পেছনে জিএসপি সুবিধা পাওয়াকে অন্যতম কারণ বলে মনে করেন কামাল।

আরও পড়ুন:
হতদরিদ্রের অর্থ লোপাট, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
ভাতার জন্য স্ত্রীকে বিধবা সাজানো ইউপি সদস্য বরখাস্ত

শেয়ার করুন

রাঙ্গামাটিতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

রাঙ্গামাটিতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

গুলিতে নিহত চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেথোয়াই মারমা। ছবি: নিউজবাংলা

কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী বলেন, ‘শনিবার নেথোয়াই মারমা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সে কারণে রাতে তার বাড়িতে ঢুকে সন্তু লারমার জেএসএসের সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে।’

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে বাড়িতে ঢুকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নে শনিবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী।

৫৬ বছর বয়সী নিহত নেথোয়াই মারমা ১১ নভেম্বর চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১টার দিকে একদল অস্ত্রধারী লোক নেথোয়াইয়ের বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

এই হত্যায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছেন কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘শনিবার নেথোয়াই মারমা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সে কারণে রাতে তার বাড়িতে ঢুকে জেএসএসের সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে।’

এ বিষয়ে জেএসএসের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতবর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আমি জেলার আওয়ামী লীগের সব পদপ্রার্থীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাই।’

ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মরদেহ আনতে পুলিশের টিম রওনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
হতদরিদ্রের অর্থ লোপাট, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
ভাতার জন্য স্ত্রীকে বিধবা সাজানো ইউপি সদস্য বরখাস্ত

শেয়ার করুন

কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

কাশ্মিরে ভারতীয় সেনা

পুঞ্চ-রাজৌরির ডেরা কি গালি এলাকার ঘন জঙ্গলে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সোমবার ভারতীয় সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছিল। অভিযানের শুরুতেই একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারসহ (জেসিও) পাঁচ জওয়ান নিহত হন।

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দেশটির দুই সেনা নিখোঁজ হন। গত বৃহস্পতিবার নিখোঁজের এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর সৈন্যদের খুঁজতে সেনাবাহিনী ঘন জঙ্গলে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছিল।

নিখোঁজের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর, শনিবার পুঞ্চ এবং রাজৌরির জঙ্গলে রাইফেলম্যান যোগম্বর সিং এবং রাইফেলম্যান বিক্রম সিং নেগির মরদেহ পাওয়া গেছে।

এই এলাকাতেই গত চার দিন আগে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর আরও পাঁচ সৈনিক নিহত হন।

পুঞ্চ-রাজৌরির ডেরা কি গালি এলাকার ঘন জঙ্গলে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সোমবার ভারতীয় সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছিল। অভিযানের শুরুতেই একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারসহ (জেসিও) ওই পাঁচ জওয়ান নিহত হন। পরে সেখানে আরও সৈন্য পাঠানো হয়। এরপর থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনী ওই এলাকায় এক দীর্ঘতম সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করেছে।

পরে গত শুক্রবার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। আগের দিন সন্ধ্যায় নার খাস বন এলাকায় অভিযানের সময় এক জেসিও ও এক সৈনিক গুরুতর আহত হন। এই আঘাতের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়।

সোম থেকে শনিবার পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী সেনা অভিযানে দেশটির মোট ৯ সেনার মৃত্যু হয়েছে।

তবে শনিবার অভিযানের ষষ্ঠ দিন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। গত কয়েক বছরে এই প্রথম দেশটির সেনাবাহিনীর একক অভিযানে এত সৈন্য নিহত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে পুঞ্চ জম্মু হাইওয়ে বন্ধ রেখেছে।

আরও পড়ুন:
হতদরিদ্রের অর্থ লোপাট, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
ভাতার জন্য স্ত্রীকে বিধবা সাজানো ইউপি সদস্য বরখাস্ত

শেয়ার করুন