রেলের গোডাউন থেকে উধাও ৬০ টন ফিসপ্লেট

player
রেলের গোডাউন থেকে উধাও ৬০ টন ফিসপ্লেট

২০ জুন গোডাউনে থাকা ফিসপ্লেটসহ অন্য মালপত্র রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনের পর ফের তালাবদ্ধ করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজেদুল ইসলাম গোডাউনের দায়িত্ব বুঝে নিতে গিয়ে চুরির ঘটনা বুঝতে পারেন। 

গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলস্টেশনের গোডাউন থেকে লাইনের ৬০ টন ফিসপ্লেট চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুরি যাওয়া সাড়ে সাত হাজার পিস ফিসপ্লেটের আনুমানিক দাম প্রায় ২০ লাখ টাকা।

স্টেশনের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মাজেদুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে গোডাউনের দায়িত্ব বুঝে নেয়ার সময় চুরির ঘটনাটি নজরে আসে। ওই সময় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

গোডাউন থেকে ফিসপ্লেট উধাওয়ের ঘটনায় পরে বগুড়ার বিভাগীয় প্রকৌশলী সাইদুর রহমানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

বোনারপাড়া রেলওয়ে (জিআরপি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাপস চন্দ্র পণ্ডিত জানান, স্টেশনে আইডব্লিউআই ও পিডব্লিউআই নামে দুটি গোডাউন রয়েছে। এরমধ্যে পিডব্লিউআই গোডাউনের দায়িত্বে থাকা সহকারী অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দীপক কুমার সিংহ সম্প্রতি অবসরে যান। তখন থেকে গোডাউনটি তালাবদ্ধ ছিল।

তিনি আরও জানান, ২০ জুন গোডাউনে থাকা ফিসপ্লেটসহ অন্য মালপত্র রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনের পর ফের তালাবদ্ধ করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজেদুল ইসলাম গোডাউনের দায়িত্ব বুঝে নিতে গিয়ে চুরির ঘটনা বুঝতে পারেন।

খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গোডাউন থেকে সাড়ে ৭ হাজার পিস ফিসপ্লেট চুরির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রায় ৬০ টন ওজনের এসব ফিসপ্লেটের আনুমানিক বাজারদর ২০ লাখ টাকা।

দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ফিসপ্লেট চুরি হলো তা এখনও বের করা যায়নি বলে জানান তিনি।

রেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মাজেদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা গোডাউনটি সার্বক্ষণিক পাহারা দেয়। তারপরও কীভাবে বিপুল পরিমাণের ফিসপ্লেট চুরির ঘটনা ঘটেছে তা বোধগম্য নয়।

আরও পড়ুন:
রেলওয়ের সম্পত্তিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাবার মৃত্যু সইতে পারেনি ছেলেও

বাবার মৃত্যু সইতে পারেনি ছেলেও

বাবা-ছেলের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন, ‘ছেলে জুলমত আলী সিঙ্গাপুর থেকে ১৮ দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে তার বাবা ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যান। আজ (রোববার) তার কাবিন হওয়ার কথা ছিল।’

ময়মনসিংহের ফুলপুরে বাবার মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে প্রবাসফেরত ছেলে জুলমত আলীর মৃত্যু হয়েছে। ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের গাইরা গ্রামের বাসিন্দা তারা।

শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা আব্দুল জলিল আকন্দ ও রোববার ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ছেলে জুলমত।

রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে পঁচাত্তর বছর বয়সী আব্দুল জলিল আকন্দ নিজ এলাকায় ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিল শুনে বাড়িতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান।

পরে জলিলের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসলে কান্নাকাটি করে অজ্ঞান হয়ে যান তার পঁচিশ বছর বয়সী ছেলে জুলমত আলী।

এ অবস্থায় জুলমতকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে তারও মৃত্যু হয়।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘ছেলে জুলমত আলী সিঙ্গাপুর থেকে ১৮ দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে তার বাবা ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যান। আজ (রোববার) তার কাবিন হওয়ার কথা ছিল।’

চেয়ারম্যান জানান, বাবা-ছেলের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার বিকেলে আসরের পর একসঙ্গে জানাজা শেষে বাবা-ছেলের মরদেহ দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন:
রেলওয়ের সম্পত্তিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

ঝিনাইদহ সদরে গরুর গাড়িদৌড়ে দুই প্রতিযোগী। ছবি: নিউজবাংলা

গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামে গরুর গাড়িদৌড়ের এই প্রতিযোগিতা হয় প্রতি বছরই। কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে গ্রাম হয় ওঠে উৎসবমূখর।

কনকনে ঠান্ডা সত্ত্বেও নিজ নিজ গরু ও গরুর গাড়ি নিয়ে সকাল থেকে ঝিনাইদহ সদরে বেতাই গ্রামে জড়ো হতে থাকেন কয়েক হাজার প্রতিযোগী। গরুর গাড়ির দৌড়ের আয়োজন হয় সেখানে।

রোববার দিনভর প্রতিযোগিতা শেষে জয়ী হন যশোরের বাঘারপাড়া থেকে যাওয়া নজরুল মুন্সি। পুরস্কার হিসেবে পেয়ে যান একটি টেলিভিশন।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ঝিনাইদহের মহেশপুরে দোলন হোসেন ও যশোরের রহমত আলী পান বাইসাইকেল ও ফ্যান।

গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামে গরুর গাড়িদৌড়ের এই প্রতিযোগিতা হয় প্রতি বছরই। এবারেরটি আয়োজন করেছেন ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আতিকুল হাসান মাসুম। কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে গ্রাম হয় ওঠে উৎসবমূখর।

কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রাম থেকে প্রতিযোগিতা দেখতে যান কলেজছাত্র রাব্বি হোসেন।

তিনি বলেন, ‘গ্রাম বাংলার ঐহিত্য এই গরুর গাড়ির দৌড়। সত্যিই খুব মনোমুগ্ধকর। মানুষের মাঝে এক ধরনের আনন্দ কাজ করছে। প্রতি বছর এই আয়োজন অব্যাহত রাখা উচিত।’

ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রতিযোগিতা দেখতে যাওয়া অন্তর মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে দেখতে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে খেলা দেখতে। গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। খেলাটা সত্যিই উপভোগ্য। এ জন্য আয়োজকদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

ঝিনাইদহ সদরের জিয়ালা গ্রাম থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসেন কবির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সারা বছর চাষাবাদ করি। বছরের এই সময়টা অপেক্ষায় থাকি এই খেলায় অংশ নেয়ার জন্য। মানুষ আমাদের খেলা দেখে আনন্দ পায়। তা দেখে আমরাও আনন্দ পাই। আনন্দের জন্যই আমরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিই।’

চেয়ারম্যান আতিকুলও জানান, গ্রামবাসীর আনন্দের জন্যই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। আগামীতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন হবে বলে তিনি আশা করেছেন।

আরও পড়ুন:
রেলওয়ের সম্পত্তিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

উপাচার্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চায় শাবি শিক্ষক সমিতি

উপাচার্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চায় শাবি শিক্ষক সমিতি

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহিত

শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দা জানিয়েছি। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছি আমরা।’

উপাচার্যের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে শাবি শিক্ষক সমিতি।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার না হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে রোববার বেলা ৩টার দিকে বৈঠকে বসেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।

টানা পাঁচ ঘণ্টা বৈঠক শেষে রাত ৮টার পরে তুলসী কুমার দাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দা জানিয়েছি। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছি আমরা।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে প্রশাসনকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে তুলসী কুমার দাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। উপচার্যের পদত্যাগের বিষয়টি যেহেতু সরকারের এখতিয়ার, আমরা এ ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করছি।’

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতিও পাঠানো হয়েছে। শিক্ষকদের এই অবস্থানে উল্লাস প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘এটা আমাদের আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়। আমরা চূড়ান্ত বিজয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিও।

রাজধানীর হেয়ার রোডে মন্ত্রীর বাসায় শাবি শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘শাবিতে পুলিশি আচরণ (অ্যাকশন) দুঃখজনক। কিন্তু শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। দুটোই অনভিপ্রেত।

মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন আরিফুল ইসলাম ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন খায়রুল ইসলাম।

পরে শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই বৈঠক শেষ হয়।

বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধি দলের সদস্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অনশন নিয়ে চিন্তিত শিক্ষামন্ত্রী। তাই তিনি অনুরোধ করেছেন এই কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা যেন সরে আসেন। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী অ্যাকাডেমিক বা আইনি হয়রানির শিকার যেন না হয় সেই বিষয়টি দেখা হবে।’

এর আগে হামলার ঘটনায় প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের’ নেতারা।

আরও পড়ুন:
রেলওয়ের সম্পত্তিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

১৭ ইটভাটাকে ৪৩ লাখ টাকা জরিমানা

১৭ ইটভাটাকে ৪৩ লাখ টাকা জরিমানা

ভেড়ামারায় রোববার সকাল থেকে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভীন জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী এসব ভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে। ভাটাগুলো অবৈধ জায়গায় স্থাপিত এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১৭টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৪৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

রোববার সকাল থেকে সারা দিন অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভীন।

তিনি জানান, অভিযানে এমএইচটি ইটভাটাকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আরএমবিকে ২ লাখ ৫০ হাজার, এমআরআই ইটভাটাকে ২ লাখ ৫০ হাজার, মানিক ব্রিকসকে ২ লাখ, এমএইচ ব্রিকসকে ১ লাখ, মা ব্রিকসকে ১ লাখ, এএমবি ব্রিকসকে ৪ লাখ, বিবিএফ ব্রিকসকে ২ লাখ, এমবিএফ ব্রিকসকে ৪ লাখ, বিবিএফ ব্রিকসকে ৪ লাখ, ফোর স্টারকে দেড় লাখ, এএমবি ব্রিকসকে ২ লাখ, কেঅ্যান্ডবিকে ৩ লাখ, এমআরএম ব্রিকসকে ৩ লাখ, এমএসএস ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা, এসআরবিকে ২ লাখ ৬০ হাজার এবং একতারা ইটভাটাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় বিবিএফ নামের ইটভাটার চুলার আংশিক ভেঙে ফেলা হয়েছে।

অভিযানের সময় সরেজমিন দেখা যায়, অধিকাংশ ভাটা মালিক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কিছু ইটভাটায় জ্বালানি কাঠের স্তূপ এক দিন আগে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অনেক ভাটায় অভিযান পরিচালনাকারীদের জন্য বসার চেয়ার এনে পরিষ্কার করে রাখা হয়। আর অধিকাংশ জরিমানার টাকা প্রস্তুত ছিল, কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা টাকা বের করে দেন।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া অফিসের কর্মকর্তা, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা অংশ নেন।

কুষ্টিয়ার পরিবেশবাদী খলিলুর রহমান মজু জানান, এভাবে অভিযান চালিয়ে প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে না। অভিযান শেষে ভাটাগুলো আবার কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করতে থাকবে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সঠিকভাবে অভিযান চালিয়ে ভাটাগুলোকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আনা সম্ভব।

কুষ্টিয়া নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু পরিষদের জেলা সভাপতি মতিউর রহমান লালটু জানান, সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় অ্যাসোসিয়েশন করে ইটভাটা পরিবেশবান্ধব উপায়ে ইট পোড়ানোর ব্যবস্থা করতে পারে। এতে কৃষিজমি রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে। ভাটা মালিকরাও লাভ করতে পারবেন।

কুষ্টিয়া পরিবেশ ক্লাবের সভাপতি রাশিদুল ইসলাম বিপ্লব জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে প্রত্যেকটি ভাটা থেকে অ্যাসোসিয়েশনের নামে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা করে তোলা হয়েছে। যেসব ভাটা এসব টাকা দেয়নি সেখানেই পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভীন জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী এসব ভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে। ভাটাগুলো অবৈধ জায়গায় স্থাপিত এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘এভাবে অভিযান চালিয়ে একসময় ভাটাগুলোকে আমরা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আনতে পারব বলে আশা করি। অধিকাংশ ভাটা মালিকেরই উচ্চ আদালতে রিট করা আছে। সে কারণে আদালতের নির্দেশনার বাইরে আমরা যেতে পারছি না।’

কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতাউর রহমান জানান, কুষ্টিয়া জেলায় ১৬১টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি ভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে। অন্য সব ইটভাটা মালিক দীর্ঘদিন ধরে আইন লঙ্ঘন করে দিনের পর দিন ভাটা পরিচালনা করে আসছেন। অনেকে আবার হাইকোর্টে রিট করে স্থগিতাদেশ এনে ইটভাটা পরিচালনা করছেন।

অবৈধ এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, একটি অভিযান পরিচালনা করতে গেলে প্রশাসনের অনেকগুলো উইং সংযুক্ত করতে হয়। এ কারণে যেকোনো জায়গা থেকে ভাটা মালিকদের কাছে আগে তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে।

ভাটা মালিকদের পক্ষ থেকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
রেলওয়ের সম্পত্তিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

করোনায় কাবু আদালত, আক্রান্ত ১০ বিচারক

করোনায় কাবু আদালত, আক্রান্ত ১০ বিচারক

সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়ালেও হবিগঞ্জের আদালত পাড়ায় নেই স্বাস্থ্যবিধি। ছবি: নিউজবাংলা

শুধু বিচারকই নন, অনেক আইনজীবী, আইনজীবীর সহকারীসহ আদালতের কাজে নিয়োজিত আরও অনেকেই করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

হবিগঞ্জ আদালতের ১০ বিচারক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

রোববার বিকেলে হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হবিগঞ্জ জেলার বিচার বিভাগে মোট ২৮ জন বিচারক দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ১০ জনই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গত কয়েক দিনে তাদের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

আক্রান্ত বিচারকদের মধ্যে রয়েছেন ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিরাজাম মুনীরা, সিনিয়র সহকারী জজ তানিয়া ইসলাম, সহকারী জজ অভিজিৎ চৌধুরী, সাজিদ-উল-হাসান চৌধুরী, মো. আব্দুল হামিদ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সুলতান উদ্দিন প্রধান ও মো. জাকির হোসাইন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম, রাহেলা পারভীন ও তাহমিনা হক।

আক্রান্ত বিচারকরা বর্তমানে নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন।

এদিকে প্রায় অর্ধেক বিচারক করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে জেলার বিচারকাজ।

শুধু বিচারকই নন, অনেক আইনজীবী আইনজীবীর সহকারীসহ আদালতের কাজে নিয়োজিত আরও অনেকেই করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে ১০ বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হলেও হবিগঞ্জ আদালত পাড়ায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

রোববার হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বিচারপ্রার্থীর মুখে নেই মাস্ক। বহুতল ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের বারান্দায় বিচারপ্রার্থীদের ভিড়। একে অপরের শরীর ঘেঁষে জটলা পাকিয়ে আছেন তারা।

এ অবস্থায় ওই আদালত পাড়া থেকেই করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হবিগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘১০ জন বিচারক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন জানতে পেরেছি। তাই আদালত পাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কোর্ট পুলিশ কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
রেলওয়ের সম্পত্তিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

অন্তঃসত্ত্বাকে ‘হত্যা’, স্বামী-শাশুড়ি কারাগারে

অন্তঃসত্ত্বাকে ‘হত্যা’, স্বামী-শাশুড়ি কারাগারে

এজাহারে বলা হয়েছে, মাদক কেনার টাকা জোগাড়ে চুলা বিক্রি করতে চান সজিব। এতে বাধা দেয়ায় তিনি স্ত্রী প্রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

বগুড়ার ধুনটে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ধুনট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের সজিব হোসেন ও তার মা সাজেদা বেগম।

এজাহারের বরাতে থানা পুলিশ জানায়, প্রায় ৫ বছর আগে জোড়খালি গ্রামের পিয়ারা খাতুন প্রিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সজিবের। প্রিয়া বিয়ের পর জানতে পারেন সজিব মাদকাসক্ত। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত শনিবার সকালে মাদক কেনার জন্য গ্যাসের চুলা বিক্রি করতে চান সজিব হোসেন। এতে বাধা দেয়ায় প্রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য মরদেহ ঘরে ঝুলিয়ে রাখেন সজিব। পরে পরিবারসমেত পালিয়া যান তিনি।

প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ শনিবার বিকালে উদ্ধার করে পুলিশ। সে রাতেই প্রিয়ার বাবা হোসেন আলী মামলা করেন।

ধুনট থানার পরিদর্শক জাহিদুল হক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে সজিব হোসেন।

আরও পড়ুন:
রেলওয়ের সম্পত্তিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

১০০ গ্রাম হেরোইনের মামলায় ১০ বছর পর যাবজ্জীবন

১০০ গ্রাম হেরোইনের মামলায় ১০ বছর পর যাবজ্জীবন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ফাইল ছবি

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ছাড়াও শরিফুলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক মামলায় শরিফুল ইসলাম (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

১০ বছর আগে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক ও মামলার পর রোববার এর রায় হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর পশ্চিম পাঠানপাড়া এলাকার মোস্তাবের হোসেনের ছেলে।

রোববার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রবিউল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে ওই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ছাড়াও শরীফুলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আঞ্জুমান আরা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২০১১ সালের ১৬ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর অক্ট্রয় মোড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয় শরিফুলকে। পরে ওই দিনই তার নামে সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম মামলা করেন।

সাইফুল ইসলাম মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল শরিফুলকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ ও শুনানি শেষে শরিফুলকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছর পর দণ্ড দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
রেলওয়ের সম্পত্তিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন