বাল্যবিবাহ: ম্যাজিস্ট্রেট দেখে জানালা দিয়ে পালালেন বর

বাল্যবিবাহ: ম্যাজিস্ট্রেট দেখে জানালা দিয়ে পালালেন বর

কিশোরীর বিয়ের অনুষ্ঠানে হঠাৎ হাজির হন সহকারী কমিশনার মনিরুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা

বিয়েবাড়িতে আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাতে থাকেন বরযাত্রীরা। বর-কনে পালিয়ে আশ্রয় নেয় প্রতিবেশীর বাড়িতে। তবে সেখানেও প্রশাসন গেলে ঘরের জানালা ভেঙে পালিয়ে যান বর।

অষ্টম শ্রেণির কিশোরীর সঙ্গে ২২ বছরের যুবকের বিয়ে। আনুষ্ঠানিকতা এবং বরযাত্রীদের খাওয়ার পর্বও শেষ। এমন সময় বিয়েবাড়িতে হঠাৎ হাজির ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাতে থাকেন বরযাত্রীরা। বর-কনে পালিয়ে আশ্রয় নেয় প্রতিবেশীর বাড়িতে। তবে সেখানেও প্রশাসন গেলে ঘরের জানালা ভেঙে পালিয়ে যান বর।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার করমজা গ্রামে রোববার বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বর ইব্রাহিম হোসেন সাঁথিয়ার ফকিরপাড়া গ্রামের ফজর প্রামাণিকের ছেলে।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম জামাল আহমেদ জানান, করমজায় ১৪ বছরের কিশোরীর বিয়ের তথ্য পেয়ে সহকারী কমিশনার মনিরুজ্জামান পুলিশ নিয়ে মেয়ের বাবা রিপন আলীর বাড়িতে যান।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই সময় বর-কনে ও অতিথিরা পালিয়ে যান। তবে ঘটককে আটক করে পুলিশ। পরে ঘটকের দেয়া তথ্যে বর-কনেকে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে পাওয়া যায়। ওই সময় বর ঘরের জানালা ভেঙে পালিয়ে যান।

বর পালালেও পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কনের অভিভাবক, ঘটক ও বর-কনেকে আশ্রয়দানকারীদের ১৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই
বিয়ের চেষ্টা: সংশোধনাগারে কিশোর-কিশোরী
এক মাসে বন্ধ হলো ১২ বাল্যবিয়ে
৯৯৯-এ ফোন, নিজের বিয়ে ঠেকাল কিশোরী
বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ফেরির দিন শেষ কাল

বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ফেরির দিন শেষ কাল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার পায়রা নদীর ওপর নির্মিত সেতু উদ্বোধন করবেন। ছবি: নিউজবাংলা

উদ্বোধনের পরপরই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। সেতু উদ্বোধনের জন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সাজ সাজ রব সেতুর উভয় পারে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হতে যাচ্ছে রোববার। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন পায়রা নদীর ওপর নির্মিত সেতু।

উদ্বোধনের পরপরই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

পায়রা সেতু প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল হালিম জানান, সেতুটি উদ্বোধনের জন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সাজ সাজ রব সেতুর উভয় পারে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিশাল প্যান্ডেল প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে পটুয়াখালী জেলার পাঁচ সংসদ সদস্য ছাড়াও বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

পায়রা সেতু প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর লেবুখালী নদীর ওপর পায়রা সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, যার ৮২ ভাগ অর্থ বহন করেছে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভলপমেন্ট এবং অ্যাপেক ফান্ড।

২০১৬ সালের ২৪ জুলাই শুরু হওয়া এ সেতুর এরই মধ্যে ৯৯ ভাগ কাজ সম্পন্ন। ১ হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ এবং ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থের এ সেতুর উভয় পারে প্রায় সাত কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক রয়েছে।

বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ফেরির দিন শেষ কাল

পায়রা সেতু প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল হালিম জানান, এই সেতুতে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ভূমিকম্প, বজ্রপাতসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা অতিরিক্ত ওজনবাহী গাড়ির কারণে ক্ষতি এড়াতে পূর্বাভাস মিলবে মনিটরিং সিস্টেম থেকে। পায়রা সেতু নির্মাণে নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল, যা দেশে সর্ববৃহৎ।

বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ফেরির দিন শেষ কাল

৩২টি স্প্যানের মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলসহ দশটি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত। এ ছাড়া ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট রয়েছে এটিতে, যার ফলে দূর থেকে সেতুটিকে ঝুলন্ত মনে হবে। জোয়ারের সময় নদী থেকে সেতুটি ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচুতে থাকবে।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই
বিয়ের চেষ্টা: সংশোধনাগারে কিশোর-কিশোরী
এক মাসে বন্ধ হলো ১২ বাল্যবিয়ে
৯৯৯-এ ফোন, নিজের বিয়ে ঠেকাল কিশোরী
বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

শেয়ার করুন

সম্বন্ধীর ছুরিকাঘাতে ভগ্নিপতি খুন

সম্বন্ধীর ছুরিকাঘাতে ভগ্নিপতি খুন

পাবনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ভগ্নিপতিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, নিহত বিশালের সম্বন্ধীর নামও বিশাল। পেশায় তারা দুজনই সুইপার। পারিবারিক বিরোধের জেরে শনিবার সকালে তাদের দুজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভগ্নিপতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যান বিশাল।

পাবনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সম্বন্ধীর বিরুদ্ধে ভগ্নিপতিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শহরের অনন্ত বাজার এলাকার হরিজন কলোনিতে শনিবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ২২ বছর বয়সী বিশাল রায়ের বাড়ি পৌর শহরের অনন্ত বাজারের দক্ষিণ রামপুর মহল্লায়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, নিহত বিশালের সম্বন্ধীর নামও বিশাল। পেশায় তারা দুজনই সুইপার। পারিবারিক বিরোধের জেরে শনিবার সকালে তাদের দুজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভগ্নিপতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যান বিশাল।

এ সময় গুরুতর আহত ভগ্নিপতিকে স্থানীয় লোকজন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হবে। অভিযুক্ত বিশালকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই
বিয়ের চেষ্টা: সংশোধনাগারে কিশোর-কিশোরী
এক মাসে বন্ধ হলো ১২ বাল্যবিয়ে
৯৯৯-এ ফোন, নিজের বিয়ে ঠেকাল কিশোরী
বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

শেয়ার করুন

যশোর শিক্ষা বোর্ডে আরও আড়াই কোটি টাকার জালিয়াতি

যশোর শিক্ষা বোর্ডে আরও আড়াই কোটি টাকার জালিয়াতি

নতুন জালিয়াতির বিষয়ে বলা হয়েছে, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন সচিব থাকার সময় এসব জালিয়াতি করেছেন। ২০১৭ সাল থেকে শিক্ষা বোর্ডের মোট পাঁচ কোটি টাকা চেক জালিয়াতি করে তুলে নেয়া হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনার রেশ কাটতে না-কাটতে একই পরিমাণ অর্থের আরও জালিয়াতি ধরা পড়েছে।

৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও ২ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৮৭৮ টাকা তুলে নেয়ার প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দুদকে নতুন অভিযোগও দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ৮ অক্টোবর চেকের মুড়ি বইয়ের (গ্রাহকের কাছে থাকা চেকের অংশ) সঙ্গে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট মেলানোর সময় ১০ হাজার ৩৬ টাকার বিপরীতে মোট ৯টি চেকে জালিয়াতি করে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা তোলার ঘটনা ধরা পড়ে।

ওই ঘটনায় ১৮ অক্টোবর দুদক পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করে।

মামলার আসামিরা হলেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব অধ্যাপক এ এম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম, যশোর রাজারহাটের ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটী জামরুলতলার শাহী লাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলম।

নতুন জালিয়াতির বিষয়ে বলা হয়েছে, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন সচিব থাকার সময় এসব জালিয়াতি করেছেন। ২০১৭ সাল থেকে শিক্ষা বোর্ডের মোট পাঁচ কোটি টাকা চেক জালিয়াতি করে তুলে নেয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট বিজনেস আইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আয়কর বাবদ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা তুলে নেয়া হয়। একই সালের ৪ অক্টোবর শহরের জামে মসজিদ লেনের নূর এন্টারপ্রাইজের নামে ৫৯ হাজার ৩৫ টাকা তোলা হয়।

২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেসের নামে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা এবং নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে ৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও ২ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৮৭৮ টাকা তুলেছেন হিসাব সহকারী আবদুস সালাম।

এ ছাড়া সেকশন অফিসার আবুল কালাম আজাদের নামে ৯৪ হাজার ৩১৬ টাকা এবং আবদুস সালামের নিজ নামে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা তোলা হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকার চেক জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। দুদকে ২১ অক্টোবর আরও একটি অভিযোগ জমা দিয়েছি।

‘বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন বোর্ডের সচিব থাকাবস্থায় প্রথম জালিয়াতি হয়েছে। আবদুস সালাম তখন হিসাব শাখার দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক যশোরের শরিফুল ইসলাম বাবু এসব জালিয়াতি করেছেন বলে আমরা জেনেছি। দুদক বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’

দুদকের যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ‘আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছি। এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে।’

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই
বিয়ের চেষ্টা: সংশোধনাগারে কিশোর-কিশোরী
এক মাসে বন্ধ হলো ১২ বাল্যবিয়ে
৯৯৯-এ ফোন, নিজের বিয়ে ঠেকাল কিশোরী
বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

শেয়ার করুন

জানুয়ারি থেকে বাড়বে ক্লাসের সংখ্যা: শিক্ষামন্ত্রী

জানুয়ারি থেকে বাড়বে ক্লাসের সংখ্যা: শিক্ষামন্ত্রী

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে জানুয়ারি থেকে ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য এত পরিমাণ জায়গা আমাদের নেই। তাই আগামী জানুয়ারিতে যদি করোনার পরিস্থিতি এমন থাকে তাহলেই আমরা চিন্তা করব শ্রেণিকক্ষে ক্লাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করার।’

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায় শনিবার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নবনির্মিত কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর জানুয়ারিতে যখন ক্লাস শুরু হবে, তখন ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

‘এই মুহূর্তে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’

বিশ্বের কিছু দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ লক্ষ্য করা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। শ্রেণিকক্ষে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য এত পরিমাণ জায়গা আমাদের নেই।

‘তাই আগামী জানুয়ারিতে যদি করোনা পরিস্থিতি এমন থাকে, তাহলেই আমরা চিন্তা করব শ্রেণিকক্ষে ক্লাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করার।’

দেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিষয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগের এ নেতা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য, দেশকে উন্নত করার জন্য নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

‘সেখানে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জামায়াত ও তাদের দোসররা এই সরকারের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করছে। আজকে তা বিভিন্নভাবে প্রমাণিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘অশুভ শক্তি যতই সংঘবদ্ধ হোক না কেন, আমরা শুভশক্তির মানুষ সবাই যদি একজোট হই, তাহলে অশুভ কোনো শক্তি কিছুই করতে পারবে না। যেমন একাত্তরেও পারেনি। তাই আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাইকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম দেব কুমার, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী ও মজিবুর রহমান ভূঁইয়া।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই
বিয়ের চেষ্টা: সংশোধনাগারে কিশোর-কিশোরী
এক মাসে বন্ধ হলো ১২ বাল্যবিয়ে
৯৯৯-এ ফোন, নিজের বিয়ে ঠেকাল কিশোরী
বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

শেয়ার করুন

লঞ্চের কেবিনে নারীর মরদেহ, বাবুর্চি আটক 

লঞ্চের কেবিনে নারীর মরদেহ, বাবুর্চি আটক 

পটুয়াখালীতে লঞ্চের কেবিন থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, লঞ্চ কর্তৃপক্ষের উচিত প্রথম শ্রেণির কেবিনের মতো স্টাফ কেবিনে ওঠা যাত্রীদেরও পরিচয়পত্র লিপিবদ্ধ করা। যদি তা করা হতো, তাহলে সহজেই ওই নারীর পরিচয় পাওয়া যেত।

পটুয়াখালীতে লঞ্চের কেবিন থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এমভি সম্রাট লঞ্চের স্টাফ কেবিনের তালা ভেঙে শনিবার সকাল ৮টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

লঞ্চের বাবুর্চি সোহেল মিয়ার বরাত দিয়ে তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাট থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে লঞ্চটি। এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই নারী এবং তার সঙ্গে থাকা আরেকজন পুরুষ রুমটি (স্টাফ কেবিন) ১ হাজার ৩০০ টাকায় ভাড়া নেন।

রাত ১২টার পর লঞ্চের নিচের ক্যানটিন বন্ধ করে সোহেল সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে সব যাত্রী নামার পর তিনি রুমের সামনে গিয়ে দেখেন তালা দেয়া। অথচ লঞ্চ থেকে নামার আগে কেবিন বয়দের কাছে চাবি দেয়ার নিয়ম রয়েছে।

নিয়ম না মানার বিষয়টি সোহেল ঘাটের সাবেক ইজারাদার ফারুক মিয়াকে জানান। এ সময় তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তালা ভেঙে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার সঙ্গী পলাতক। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লঞ্চের বাবুর্চি সোহেল মিয়াকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তার আঙুলের ছাপ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লঞ্চ কর্তৃপক্ষের উচিত প্রথম শ্রেণির কেবিনের মতো স্টাফ কেবিনে ওঠা যাত্রীদেরও পরিচয়পত্র লিপিবদ্ধ করা। যদি তা করা হতো, তাহলে সহজেই ওই নারীর পরিচয় পাওয়া যেত।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই
বিয়ের চেষ্টা: সংশোধনাগারে কিশোর-কিশোরী
এক মাসে বন্ধ হলো ১২ বাল্যবিয়ে
৯৯৯-এ ফোন, নিজের বিয়ে ঠেকাল কিশোরী
বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

শেয়ার করুন

দক্ষিণ সুরমায় কলেজছাত্র খুন: ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দক্ষিণ সুরমায় কলেজছাত্র খুন: ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ফটকের সামনে বৃহস্পতিবার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় আরিফুল ইসলাম রাহাতকে। ছবি: নিউজবাংলা

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘রাহাতের চাচা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে সাতজনকে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আরিফুল ইসলাম রাহাত খুনের ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

নিহতের চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শুক্রবার রাত দুইটার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় এই মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার।

মামলার তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘রাহাতের চাচা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং বাকি সাতজনকে অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে।’

তবে আসামিদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি ওসি।

বাদীপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানা এলাকার সিলাম পশ্চিম পাড়ার সামসুদ্দোহা সাদীকে। অপর দুই আসামি হলেন একই এলাকার তানভীর আহমদ ও দক্ষিণ সুরমার তেতলি ইউনিয়নের মো. সানী।

তাদের মধ্যে সাদী ছাত্রলীগ কর্মী। তিনি সিলেট ছাত্রলীগের কাশ্মীর গ্রুপের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। দক্ষিণ সুরমা কলেজের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। কলেজে পড়ার সময় একবার তাকে বহিষ্কারও করা হয়। বাকি দুজনও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ফটকের সামনে বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় আরিফুল ইসলাম রাহাতকে।

ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহাত দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকার সুরমান আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সেদিন একটি পালসার মোটরসাইকেলে করে দুই তরুণ এসে পেছন থেকে রাহাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে রাহাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে কী কারণে তাকে খুন করা হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই
বিয়ের চেষ্টা: সংশোধনাগারে কিশোর-কিশোরী
এক মাসে বন্ধ হলো ১২ বাল্যবিয়ে
৯৯৯-এ ফোন, নিজের বিয়ে ঠেকাল কিশোরী
বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা দিতে মুহিবুল্লাহ হত্যা: পুলিশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা দিতে মুহিবুল্লাহ হত্যা: পুলিশ

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ। ছবি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

এসপি নাঈমুল হক বলেন, মুহিবুল্লার হত্যার দুই দিন আগে মরগজ পাহাড়ে কিলিং মিশনের জন্য বৈঠক করে দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে ৫ জনকে অস্ত্রসহ মোট ১৯ জনকে মিশন শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (এপিবিএন) এসপি নাইমুল হক।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় অংশ নেন ১৯ জন। এর মধ্যে পাঁচজন ছিলেন অস্ত্রধারী। গ্রেপ্তার আজিজুল হক কিলিং মিশনে অংশ নেন সরাসরি।

উখিয়া ১৪ এপিবিএনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এসব কথা বলেন তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা দিতে মুহিবুল্লাহ হত্যা: পুলিশ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুলের স্বীকারোক্তির কথা জানিয়ে এসপি নাঈমুল হক বলেন, মুহিবুল্লার হত্যার দুই দিন আগে মরগজ পাহাড়ে কিলিং মিশনের জন্য বৈঠক করে দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে ৫ জনকে অস্ত্রসহ মোট ১৯ জনকে মিশন শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এসপি আরও জানান, পূর্ব পরিকল্পিত এ হত্যা মাত্র দুই মিনিটে শেষ হয়। আজিজুলকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. রসিদ, মো. আনাস ও নূর মুহাম্মদ।

২৯ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে তার নিজ কার্যালয়ে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গারা জানান, লম্বাশিয়া ক্যাম্প ওয়ান ওয়েস্টে বাসার সামনে প্রতিদিনের অফিস করছিলেন মুহিবুল্লাহ। ওই সময় একদল লোক এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়।

পরে অন্যরা দ্রুত উদ্ধার করে পাশের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মুহিবুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই
বিয়ের চেষ্টা: সংশোধনাগারে কিশোর-কিশোরী
এক মাসে বন্ধ হলো ১২ বাল্যবিয়ে
৯৯৯-এ ফোন, নিজের বিয়ে ঠেকাল কিশোরী
বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

শেয়ার করুন