রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: আগুনের জন্য দায়ী মালিকের অনিয়ম

রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: আগুনের জন্য দায়ী মালিকের অনিয়ম

রূপগঞ্জে হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেছে ৫২ জনের। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা প্রশাসক জানান, ওই কারখানার পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ ও বিল্ডিং কোড ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের এনওসি পাওয়া যায়নি। ছিল না ফায়ার সেফটিও। এগুলোসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে মালিকের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া আগুনের পেছনে কারখানার মালিকের অনিয়ম দায়ী উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।

কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী ৫ আগস্ট রাতে ৪৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেন। এতে কারখানার মালিকের অনিয়মসহ সরকারি সংস্থার গাফলতির বিষয়টি উল্লেখের পাশাপাশি ২০টি সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ রোববার রাতে নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ওই কারখানার পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ ও বিল্ডিং কোড ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের এনওসি পাওয়া যায়নি। ছিল না ফায়ার সেফটিও। এগুলোসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে মালিকের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট যদি ঠিকঠাকভাবে মনিটরিং করত তাহলে সেখানে শিশুশ্রম থাকত না। বিল্ডিং কোডের অসঙ্গতি থাকত না। পর্যাপ্ত ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা থাকত। তাদের মনিটরিংয়ে কমতি আছে।

‘যেহেতু তারা অন্য মিনিস্ট্রিতে কাজ করে, তাই আমরা এই বিষয়গুলোতে আমাদের কনসার্ন মিনিস্ট্রিকে বলব। আমরা এগুলো কেবিনেট, লেবার মিনিস্ট্রি ও কনসার্ন মিনিস্ট্রিতে পাঠাব। তারা এগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যদি আমাদের প্রতিবেদন ওই মামলায় যুক্ত করতে চান তাহলে তাকে প্রতিবেদনটি দেয়া হবে।’

রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: আগুনের জন্য দায়ী মালিকের অনিয়ম

তদন্ত প্রতিবেদনের ২০টি সুপারিশের মধ্যে বলা হয়েছে, সেখানে শিশুশ্রম ছিল। এ ধরনের কারখানায় যেন শিশুশ্রম যেন বন্ধ করা হয়। যারা মারা গেছে শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা ও আহতদের আড়াই লাখ টাকা করে মালিকপক্ষ থেকে দেয়া হয়।

এ ছাড়া বিল্ডিং কোড মানা, অগ্নিনিবার্পন যন্ত্র আরও বেশি রাখা ও প্রশিক্ষিত অগ্নিনিবার্পন দল কারখানায় রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিসি আরও জানান, নিচতলার সেন্ট্রাল রুমে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গত ৮ জুলাই রাতে হাশেম ফুড লিমিটেডের কারখানায় আগুন লাগে। শুরুতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরের দিন উদ্ধার করা হয় ৪৯ জনের মরদেহ। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২ জনে।

৮ তারিখ আগুন লাগলেও ৯ তারিখ রাতের আগে পুরোপুরি আগুন নেভানো যায়নি।

বেশির ভাগের মরদেহই পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তের জন্য স্বজনদের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। এরপর ৪ আগস্ট ২৪টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: আগুনের জন্য দায়ী মালিকের অনিয়ম
ডিএনএ পরীক্ষার পর ২৪টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়

আগুন নেভাতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণ মনে করা হয় কারখানার প্রতি ফ্লোরে মজুত করা দাহ্য পদার্থ। ছিল বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক, যা আগুন আরও ছড়িয়ে যেতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

মালিকপক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই আগুনের সূচনা। তবে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনার পেছনে কারখানা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা দায়ী বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংস্থা।

এ ঘটনায় পুলিশ কারখানার মালিক আবুল হাশেম, তার চার ছেলেসহ আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে। রিমান্ড শেষে হাশেম ও তার চার ছেলেকে জামিন দিয়েছে আদালত।

আগুনের ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, শ্রম মন্ত্রণালয় এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি করে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবন নির্মাণের আগে ফায়ার সার্ভিস থেকে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা নিয়ে নকশার অনুমোদন নিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
আগুনে পোড়া আরও ২১ লাশ পেল পরিবার
আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন
২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে রূপগঞ্জের কারখানার আগুন
রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ
রূপগঞ্জে এবার লেদার কারখানায় আগুন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাঙ্গামাটিতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

রাঙ্গামাটিতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

গুলিতে নিহত চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেথোয়াই মারমা। ছবি: নিউজবাংলা

কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী বলেন, ‘শনিবার নেথোয়াই মারমা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সে কারণে রাতে তার বাড়িতে ঢুকে সন্তু লারমার জেএসএসের সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে।’

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে বাড়িতে ঢুকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নে শনিবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী।

৫৬ বছর বয়সী নিহত নেথোয়াই মারমা ১১ নভেম্বর চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১টার দিকে একদল অস্ত্রধারী লোক নেথোয়াইয়ের বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

এই হত্যায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছেন কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘শনিবার নেথোয়াই মারমা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সে কারণে রাতে তার বাড়িতে ঢুকে জেএসএসের সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে।’

এ বিষয়ে জেএসএসের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতবর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আমি জেলার আওয়ামী লীগের সব পদপ্রার্থীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাই।’

ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মরদেহ আনতে পুলিশের টিম রওনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
আগুনে পোড়া আরও ২১ লাশ পেল পরিবার
আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন
২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে রূপগঞ্জের কারখানার আগুন
রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ
রূপগঞ্জে এবার লেদার কারখানায় আগুন

শেয়ার করুন

দাঁড়ানো ট্রাকে বাইকের ধাক্কা, নিহত দুই

দাঁড়ানো ট্রাকে বাইকের ধাক্কা, নিহত দুই

প্রতীকী ছবি।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক জানান, রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে রাজাবাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন কাজল ও কালাম। ইকো কয়েল কারখানার সামনে সড়কের ওপর একটি ট্রাক দাঁড়ানো ছিল। মোটরসাইকেলটি সেই ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।

শ্রীপুর-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের জয়নারায়ণপুর এলাকায় শনিবার রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শ্রীপুরের মালিপাড়া গ্রামের ৩০ বছরের কাজল সরদার ও ভিটিপাড়া গ্রামের ৪০ বছরের আবুল কালাম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে রাজবাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন কাজল ও কালাম। ইকো কয়েল কারখানার সামনে সড়কের ওপর একটি ট্রাক দাঁড়ানো ছিল। মোটরসাইকেলটি সেই ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।

এতে সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মোটরসাইকেলচালক কাজল। হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় আরোহী কালামের।

নিহতদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আগুনে পোড়া আরও ২১ লাশ পেল পরিবার
আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন
২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে রূপগঞ্জের কারখানার আগুন
রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ
রূপগঞ্জে এবার লেদার কারখানায় আগুন

শেয়ার করুন

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার দুই

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার দুই

ওসি কাওসার আলী জানান, শুক্রবার ওই তরুণীর সঙ্গে সদরে দেখা করতে আসেন তার প্রেমিক মাহবুব। সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু পলাশ। একপর্যায়ে কাশবনে ছবি তোলার কথা বলে ওই তরুণীকে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া চরে নিয়ে আসেন মাহবুব ও তার বন্ধু।

গাইবান্ধায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সাঘাটা উপজেলার ভাঙামোড় এলাকা থেকে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন সাঘাটা উপজেলার ২১ বছরের মাহবুব ও ২০ বছরের পলাশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী।

মামলার এজাহারের বরাতে তিনি জানান, সদরের এক তরুণীর সঙ্গে সাঘাটা উপজেলার মাহবুব নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার ওই তরুণীর সঙ্গে সদরে দেখা করতে আসেন মাহবুব। সঙ্গে ছিল তার বন্ধু পলাশ।

একপর্যায়ে কাশবনে ছবি তোলার কথা বলে ওই তরুণীকে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া চরে নিয়ে যান মাহবুব ও তার বন্ধু।

সেখানে প্রেমিক মাহবুব তাকে ধর্ষণ করেন। পরে এতে যুক্ত হন পলাশও। ধর্ষণ শেষে তরুণীকে ফেলে পালিয়ে যান দুজন। পরে স্থানীয়রা তরুণীকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

শুরুতে বিষয়টি গোপন রাখলেও শনিবার সন্ধ্যায় তরুণীর পরিবার সব জানতে পারে। তরুণীর মা রাতেই ফুলছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর কিছু সময় পর গ্রেপ্তার করা হয় দুই অভিযুক্তকে।

ওসি কাওসার আলী আরও জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার দুজনকে আদালতে তোলা হবে।

আরও পড়ুন:
আগুনে পোড়া আরও ২১ লাশ পেল পরিবার
আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন
২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে রূপগঞ্জের কারখানার আগুন
রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ
রূপগঞ্জে এবার লেদার কারখানায় আগুন

শেয়ার করুন

বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন নিউজবাংলাকে জানান, সকালে শিশুটি নিখোঁজের খবর পেয়ে ডুবুরি দল বুড়িগঙ্গা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৫টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর আতিফ আফনান নামে পঞ্চম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

সদর উপজেলার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জের শাহিন কোলস্টোর ঘাট এলাকা থেকে শনিবার বিকেল ৫টার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সকাল ৯টার দিকে নদীর তীরে থাকা একটি বাল্কহেড থেকে অন্যটিকে লাফ দিয়ে যাওয়ার সময় নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয় শিশুটি।

লক্ষীপুর জেলার দোলাকান্দী মাওলানা বাড়ির শাহাদাত হোসেনের ছেলে আতিফ আফনানের বয়স ১২ বছর। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে ফতুল্লার হরিহরপাড়া আমতলা এলাকায় বসবাস করেন এবং ধর্মগঞ্জ ইসলামিয়া আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন নিউজবাংলাকে জানান, সকালে শিশুটি নিখোঁজের খবর পেয়ে ডুবুরি দল বুড়িগঙ্গা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৫টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান জানান, সন্ধ্যার দিকে শিশুটির মরদেহ তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা কোনো মামলা হয়নি।

আফনানের বাবা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সকালে জানতে পারি আফনান নদীতে পড়ে গেছে। আমরা নদীর তীরে গিয়ে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করছি, কিন্তু পাইনি। আফনান সাঁতার জানে না। পরে জানতে পারি আফনান সকাল ৯টায় দিকে তার মাদ্রাসার সহপাঠীদের সঙ্গে নদীর তীরে ঘুরতে গিয়েছে সেখানে।’

আরও পড়ুন:
আগুনে পোড়া আরও ২১ লাশ পেল পরিবার
আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন
২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে রূপগঞ্জের কারখানার আগুন
রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ
রূপগঞ্জে এবার লেদার কারখানায় আগুন

শেয়ার করুন

মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি

মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি

বরিশালের গৌরনদীতে ফেসবুকে কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের মন্দির ও বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

গৌরনদীর ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ বৈদ্য জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে একদল উত্তেজিত জনতা লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে মন্দিরের প্রতিমা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

বরিশালের গৌরনদীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের তিনটি মন্দির ও কিছু বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার বিকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী থানার ওসি আফজাল হোসেন।

তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতের ঘটনায় যে বাড়িতে হামলা হয়েছে সেই বাড়ির বাসিন্দা সুভাষ বৈদ্য বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬০ জনের নামে মামলা করেছেন। এই মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও অভিযান অব্যহত রয়েছে।

ওসি বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে। সেই মামলায় মহানন্দ বৈদ্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযোগ আছে, পবিত্র কোরআন নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করেন মহানন্দ। শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিষয়টি স্থানীয় কিছু মুসলিমের নজরে এলে মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরে স্থানীয় মুসলিমরা মহানন্দকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

কিন্তু ওই রাতেই স্থানীয় কয়েকজন মিলে ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, হরি মন্দির এবং জগদীশ বৈদ্যর বাড়ির হরি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ওই এলাকার হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ বৈদ্য জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে একদল উত্তেজিত জনতা লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে মন্দিরের প্রতিমা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

আরও পড়ুন:
আগুনে পোড়া আরও ২১ লাশ পেল পরিবার
আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন
২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে রূপগঞ্জের কারখানার আগুন
রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ
রূপগঞ্জে এবার লেদার কারখানায় আগুন

শেয়ার করুন

বাসের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

বাসের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা। ছবি: নিউজবাংলা

বুড়িচংয়ের দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জহিরুল ইসলাম জানান, সিলেটগামী তিশা গোল্ডেন পরিবহনের একটি বাস অটোরিকশাকে চাপা দেয়ার পর গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে রুমির মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় সাইদকে ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিল্লায় বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন আদর্শ সদর উপজেলার রত্নবতী গ্রামের আবু সাইদ ও রুমি আক্তার। তারা স্বামী-স্ত্রী।

বুড়িচংয়ের দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জহিরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, সিলেটগামী তিশা গোল্ডেন পরিবহনের একটি বাস অটোরিকশাকে চাপা দেয়ার পর গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।

এতে ঘটনাস্থলে রুমির মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় সাইদকে ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বাস ও অটোরিকশার অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘বাসচালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা যায়নি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
আগুনে পোড়া আরও ২১ লাশ পেল পরিবার
আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন
২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে রূপগঞ্জের কারখানার আগুন
রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ
রূপগঞ্জে এবার লেদার কারখানায় আগুন

শেয়ার করুন

কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসতিয়াক আসফাত রাসেল বলেন, ‘পুলিশের কাজে বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এ মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রোববার আদালতে তোলা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

মাদারীপুরে কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শনিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন, সাদ্দাম, রশিদ, মোস্তফা ও রবিউল। তারা সবাই কালকিনি উপজেলার বাসিন্দা।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে কালকিনি পৌর এলাকার ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে শুক্রবার আসর নামাজ শেষে তৌহিদী জনতার ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক শ্লোগান দেয়া ওই মিছিল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ।

মিছিল বন্ধ না করায় একপর্যায়ে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় মিছিলকারীরা। এতে কালকিনি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসিরউদ্দিনসহ আহত হন দুই পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসতিয়াক আসফাত রাসেল বলেন, ‘পুলিশের কাজে বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রোববার আদালতে তোলা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

আরও পড়ুন:
আগুনে পোড়া আরও ২১ লাশ পেল পরিবার
আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন
২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে রূপগঞ্জের কারখানার আগুন
রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ
রূপগঞ্জে এবার লেদার কারখানায় আগুন

শেয়ার করুন